করোনায় শিক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ

করোনায় শিক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ

গ্রামীণ-নগর ও ধনী-দরিদ্র পরিবারের মধ্যে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশাল বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ডিজিটাল বিভাজন বা বৈষম্য, আশাপ্রদ প্রতিক্রিয়ার অভাব এবং কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে অনলাইন শিক্ষাও অনেকটা গতি হারিয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবং বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন হলেও এর সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাশিত সময়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অতএব, বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত পদক্ষেপ না নিয়ে করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের বড় ক্ষতি কাটাতে কার্যকর এবং সুচিন্তিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

কোভিড-১৯ মহামারি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এই ভাইরাসে বিধ্বস্ত। বিশ্বব্যাপী এই মহামারি আমাদের প্রতিদিনের কাজ, আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, আমাদের শিক্ষা, সামাজিক কার্যকলাপকে আমূল বদলে দিয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোও বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে বিশ্বকে আরও অনেক সময় দিতে হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য মানুষ ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে, লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরে, দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ১৬ মার্চ থেকে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তারপরেও অনলাইনে সব শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পিএসসি, জেএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটোপ্রমোশন দেয়া হয়। আবার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও অটোপ্রমোশন দেয়া হতে পারে, যা আমাদের সবার ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে যাচ্ছে। যদি এভাবে চলতে হয় তবে আমাদের ভবিষ্যৎ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি অযোগ্য জাতিতে পরিণত হবার আশঙ্কা রয়েছে। সংক্রমণ বেড়ে যাবার কারণে বিকল্প এখনও কিছু বের করা সম্ভব হয়নি ফলে চ্যালেঞ্জ বেড়েই চলেছে।

বর্তমানে অনলাইনে যে শিক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে তা কোনোভাবেই আমাদের সাধারণ শিক্ষার কার্যক্রমের সমমানের হতে পারছে না। কারণ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা যেভাবে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে মুখোমুখি শিক্ষণ করতেন তা আর সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ যেহেতু এই শিক্ষা ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ নতুন, তাই এই অনলাইন সিস্টেম নিয়ে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৮৯.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দূরশিক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।

দেশে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে প্রায় ১৬ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান চলছে। তবে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এটি থেকে প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ ধাপে ধাপে বিলম্বিত হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রতিশ্রুতি শিক্ষা খাতে আশা জাগিয়ে তোলে। চলমান করোনা পরিস্থিতি এই অবস্থার মারাত্মক অবনতির কারণে আবারও লকডাউন দেয়ার পরেও এই সংক্রমণ বাড়ছে। এই প্রসঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আবারও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বর্তমান শিক্ষাবর্ষও যে ঝুঁকির মধ্যে থাকবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা পর্যন্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা কম। অতএব, এখন থেকে প্রাথমিক কাজগুলো করা গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাস খোলার আগে মৌলিক কাজগুলো সম্পন্ন করা জরুরি।

গত বছর যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, তখন বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। প্রথম থেকেই অনলাইন এবং টেলিভিশন-ভিত্তিক শিক্ষামূলক সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গত শিক্ষাবর্ষে, অষ্টম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়েছিল।

এবার ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট ও নির্ধারিত কাজের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে ডিভাইস এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্ত শিক্ষার্থী অনলাইনে সঠিকভাবে অংশ নিতে পারে না। শহুরে প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে ক্লাস নিলেও, গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার্থীরা এবং স্বল্প-আয়ের পরিবারের শিশুরা এখনও এ পদ্ধতির বাইরে। ফলস্বরূপ, গ্রামীণ-নগর ও ধনী-দরিদ্র পরিবারের মধ্যে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশাল বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ডিজিটাল বিভাজন বা বৈষম্য, আশাপ্রদ প্রতিক্রিয়ার অভাব এবং কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে অনলাইন শিক্ষাও অনেকটা গতি হারিয়েছে।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবং বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন হলেও এর সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাশিত সময়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অতএব, বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত পদক্ষেপ না নিয়ে করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের বড় ক্ষতি কাটাতে কার্যকর এবং সুচিন্তিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

শিক্ষার হার বৃদ্ধি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১০০ ভাগ ভর্তির হার এবং শিশুর ব্যবধান হ্রাসসহ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা শিক্ষা খাতে প্রকৃতপক্ষে অনেক উল্লেখযোগ্য অর্জন দেখেছি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি এই অর্জনগুলোকে নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আর ফিরে না-ও আসতে পারে বা স্কুলে যেতে ভয় বা দ্বিধায় থাকতে পারে। দারিদ্র্যের কারণে অনেক শিক্ষার্থী তাদের পিতামাতার সঙ্গে আয়-উপার্জনে জড়িত হয়ে যেতে পারে। ফলে শিশুশ্রম এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার বাড়তে পারে।

বিশেষত মেয়ে বা নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে বাল্যবিবাহের শিকার হতে পারে এবং অনেক কিশোরীর অল্প বয়সে মা হবার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। এটি শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার বাড়িয়ে তুলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এমনটা বাড়ার খবরও মিলছে। যদি এগুলো প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তবে আমরা আশঙ্কা করছি যে আমাদের এরকম অনেক নতুন কিছু নেতিবাচক অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে আসতে পারে।

বেশির ভাগ পরিবারের আয় কমে যাওয়ায় এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুরা এখন আরও বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকি, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম, পরিবারের সদস্যদের দ্বারা শারীরিক সহিংসতা, সামাজিক সমস্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করা ২০২১ সালের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

অনলাইন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা অংশ নিলেও শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন হয়নি। চেষ্টা করা হচ্ছে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে সেটা করার। এ ছাড়া দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোদৈহিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের সামাজিকীকরণ করা সামনের দিনে বড় চ্যালেঞ্জ। করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয়ে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা খুব সহজ হবে না। এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে আমাদের।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২১ সালে বিদ্যালয় খুলে দেয়া হলেও করোনার প্রভাবমুক্ত হতে সময় লাগবে। ফলে আইসিটি-ভিত্তিক শিক্ষা জরুরি। কিন্তু ২০২০ সালের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আইসিটি শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও নাজুক অবস্থায়।

করোনার কারণে আইসিটি-ভিত্তিক শিক্ষা শুরু করেছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয়ভাবে আইসিটি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু নেই। বিচ্ছিন্নভাবে অনলাইনে যে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে তা সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। ফলে আইসিটি শিক্ষায় ২০২১ সালে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়ে অভিজ্ঞ করে তোলা। শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বই প্রদান করা হয়। বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন ডিভাইস দিয়ে অনলাইন ক্লাসে সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

শেখ রাসেল আইসিটি ল্যাবকে আরও কার্যকর করতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কী হবে তা ঠিক করতে হবে। উপজেলাভিত্তিক শিক্ষা পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে। করোনার কারণে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে সেকেন্ড চান্স এডুকেশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটে আমাদের পর্যাপ্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকের অভাব রয়েছে। শুধু তাই নয়, গ্রামীণ স্কুলগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা প্রদানের অনেক উপকরণের সংকট রয়েছে।

এমনকি খোদ রাজধানী শহর ঢাকাতেও ইন্টারনেট সংযোগ এবং পর্যাপ্ত বিদ্যুতের অভাবে অনেক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তদুপরি, আরও অনেক মৌলিক কারণ রয়েছে, যা এড়িয়ে কোনো উপায় নেই এবং এটি হলো এই করোনাকালের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেকেই শহর থেকে গ্রামে চলে গেছেন। একজন শিক্ষার্থী কীভাবে এমন একটি গ্রামে গিয়ে সেই সুবিধা আশা করতে পারে যে সুবিধাগুলো শহরে পাওয়া গিয়েছিল? শহর ছেড়ে চলে যাওয়া এবং অনেকে স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি।

যদিও বাংলাদেশে বছরের শুরুতে করোনার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক ছিল, সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে এটি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সহসা খোলা যাবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ থাকছে। কারণ সংক্রমণ এখন গ্রাম-গঞ্জে সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে, তাই চ্যালেঞ্জ এখন চারদিক থেকে।

সরকার চায় আমরা যেন সবাই নিরাপদে থাকি। এই সময়ে, সবার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে, সুতরাং এই পরিস্থিতিতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব নয়। আমাদের সকলকে এখনই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে, আমাদের নিয়মিত মাস্ক পরতে, সচেতন হতে হবে, প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া, আমাদের শারীরিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে, আমাদের মানতে হবে সরকারি আদেশ-নিষেধ, লকডাউন। করোনার এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বিপর্যয়ের সময়।

স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মতে, কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বাধিক মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমান সময়টি আমাদের সবার জন্য ভয়াবহ, সচেতনতার মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ হ্রাস করে আমাদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে হবে।

আমাদের শিক্ষামূলক কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও মানসম্পন্ন করার জন্য কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। অনলাইন শিক্ষামূলক কার্যক্রমকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি, জনমুখী এবং সবার জন্য শিক্ষার প্রয়োজনের বিষয়টি মাথায় রেখে শিক্ষা খাতে বরাদ্দই কাম্য। অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা এবং বই মূল্যায়ন ব্যবস্থায় যে ত্রুটিগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে সেগুলোর আরও উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া উচিত এবং প্রতিটি টিভি চ্যানেলে রুটিন-মাফিক পাঠদানকে এক ঘণ্টা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এ সূচিগুলো সংবাদপত্র, বেতার ও টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা যেতে পারে। গ্রামের প্রতিটি স্কুলকে শক্তিশালী মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে এবং বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

সরকার এবং অভিভাবকদেরও শিক্ষাগত সুযোগগুলো সরবরাহ করার জন্য দ্রুত এবং ব্যবহারিক বিষয়গুলোর ওপর জোর দিতে হবে। কোভিড-১৯ মহামারি অবশ্যই আমাদের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-৪, মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে আমাদের সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

লেখক: প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন:
‘বিধ্বস্ত শহর ছেড়ে যেতে যেতে’
রাজনীতিবিদ ও সংসদের মর্যাদা এবং রাষ্ট্রের কর্মচারী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ‘পাচার হওয়া’ মেধা ফিরে আসুক
মাদকে সর্ষের ভূত আগে তাড়ান
পত্রিকা পড়ার গল্প

শেয়ার করুন

মন্তব্য