ভূমিহীন-আশ্রয়হীনের আশ্রয় ও অগ্রযাত্রা

ভূমিহীন-আশ্রয়হীনের আশ্রয় ও অগ্রযাত্রা

বাংলাদেশের আজকে অনেক সূচকে পরিবর্তনের যেসব স্বীকৃতি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে আমরা পাচ্ছি এর মূলে দেশকে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বস্তির জায়গায় নিয়ে আসার সরকারি দূরদর্শিতারই সাফল্য। বাংলাদেশ এরই মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার মর্যাদা লাভে যে স্বীকৃতি অর্জন করেছে এর মূলে দেশকে বিদ্যুতায়ন অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে কোনো গৃহহীন, আশ্রয়হীন ও বাস্তুচ্যুত মানুষ থাকবে না- এমন ঘোষণা দেয়ার পর অনেকেই এটিকে বিশ্বাস করতে চাননি। না চাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে গৃহহীন, আশ্রয়হীন ও বাস্তুচ্যুত মানুষের যে বিপুল সংখ্যা বাংলাদেশে বিরাজ করছে তা বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য যে অর্থনৈতিক সক্ষমতা আমাদের প্রয়োজন সেটি আগে ছিল না। তবে স্বপ্নচারী দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্ব মানুষকে তার লক্ষ্য ও গন্তব্য যত দূরেই হোক না কেন তা দেখাতে মোটেও পিছপা হন না।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ওপর দাঁড়িয়ে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সেই গন্তব্যের কথাই উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি তার লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাননি। তার কন্যা শেখ হাসিনা দায়িত্বগ্রহণ করার পর এই লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সেভাবেই গড়ে তুলছেন। এখন তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে সেই অসম্ভবপ্রায় কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন। কীভাবে এটি সম্ভব হচ্ছে সেই বিষয়ই তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের পরিবর্তনের ধারায় ২০০৯ সাল থেকে এগিয়ে চলছে। শেখ হাসিনার সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনের ইশতেহারে যে রূপকল্প উপস্থাপন করেছিল সেটি ছিল অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি মাত্র। কিন্তু দায়িত্বভার গ্রহণের পর সরকার জাতীয় অর্থনীতির কয়েকটি খাতের যুগান্তকারী পরিবর্তনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিল। ওইসব চ্যালেঞ্জ গ্রহণব্যতীত বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক পরিবর্তন, জনগণের জীবনের মান উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আধুনিক প্রযুক্তি আত্মস্থ করার কোনো লক্ষ্যই পূরণ করার বাস্তব ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব ছিল না।

সরকার বিশ্ব অভিজ্ঞতা থেকে উন্নয়নের ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার আশু করণীয় ও পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিয়েই যাত্রা শুরু করে। সেই মুহূর্তে ২০০৯ সালের সরকারের সম্মুখে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে অগ্রাধিকার পেয়েছিল দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা। সেই লক্ষ্যেই সরকার দেশকে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল করতে ছোট, মাঝারি ও মেগা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে হাত দেয় । এছাড়া প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানিরও ব্যবস্থা করা হয় ফলে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকট কেটে যেতে থাকে, অর্থনীতির চাকা সচল ও গতিময়তা লাভ করতে থাকে।

বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা ২০০৯ সালে ছিল মাত্র ৩২০০ মেগাওয়াট। বাংলাদেশের আজকে অনেক সূচকে পরিবর্তনের যেসব স্বীকৃতি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে আমরা পাচ্ছি এর মূলে দেশকে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বস্তির জায়গায় নিয়ে আসার সরকারি দূরদর্শিতারই সাফল্য।

বাংলাদেশ এরই মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার মর্যাদা লাভে যে স্বীকৃতি অর্জন করেছে এর মূলে দেশকে বিদ্যুতায়ন অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। উন্নয়নের এই গতিধারা সৃষ্টি করার ফলেই শেখ হাসিনার সরকার দেশে কিছু বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করার নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে। বেশিরভাগ মেগাপ্রকল্পই নিজস্ব অর্থায়নে করা হচ্ছে।

২০০৯ সালের আগে বাংলাদেশের কেউই এত বিদ্যুৎ উৎপাদন, এত রেমিট্যান্স আহরণ, এত বড় মেগা প্রকল্প, এত বিশাল অঙ্কের বাজেট এবং এত দ্রুত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহজলভ্যতা আশা করতে পারেনি। একই সঙ্গে গৃহহীন ও আশ্রয়হীন মানুষের জন্য এক খণ্ড ভূমি ও একটি পাকা বাড়ির ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব এটিও কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি।

যদিও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে নোয়াখালীতে গৃহহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম স্থাপন করতে গিয়ে দেশে আশ্রয়হীন পরিবারকে আশ্রয় দেয়ার স্বপ্নের কথা তখন ঘোষণা করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা ঘোষণা করার পাশাপাশি আশ্রয়ণ প্রকল্প নামে ভূমিহীনদের গৃহদানের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া হতদ্ররিদ্র নারী, পুরুষ ও বিধবা ভাতা চালু করার মাধ্যমে তিনি সমাজের হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষদের পাশে রাষ্ট্র ও সরকারের ভূমিকা রাখার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

এই উদ্যোগ পরবর্তী সরকারগুলো ততটা গুরত্বের সঙ্গে নেয়নি। কিন্তু শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় আসার পর দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য হিসেবে সমাজের ওইসব পিছিয়ে পড়া মানুষের কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের বিষয়টি গুরত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন। এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী শিশু ও মানুষের সুযোগ-সুবিধা ধীরে ধীরে প্রবর্তন ও বাড়ানো অব্যাহত রাখেন। বিশেষভাবে তিনি গুরত্ব দেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীন ভূমিহীন ও আশ্রয়হীন মানুষদের জীবনজীবিকা ও থাকার ব্যবস্থা করার মতো মানবতাবাদী কর্মসূচি গ্রহণের ওপর। স্বাধীনতার ৫০ বছর ও মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দেশে কোনো পরিবারই যেন ভূমিহীন ও গৃহহীন না থাকেন সেই লক্ষ্য পূরণের ঘোষণা তিনি প্রদান করেন। এটি তার আরেকটি মহা-মেগা প্রকল্প যা দেশ ও বিদেশে অনেকের কাছেই অকল্পনীয়, অভাবনীয় এবং বাস্তবায়নযোগ্য কি না- তা নিয়ে সন্দেহ ছিল।

কারণ বাংলাদেশে কত মানুষের ভূমি নেই, গৃহ নেই- তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। কিন্তু সবার মধ্যেই ধারণা আছে যে, এই দুই পর্যায়ের মানুষের সংখ্যা অগণিত। সুতরাং বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের পক্ষে এত মানুষের ভূমিসহ গৃহ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা মোটের ওপর কল্পনাতীত।

কল্পনাতীত এই বিষয়টিই শেখ হাসিনা বাস্তবায়নে হাত দিয়েছেন। পৃথিবীর কোনো দেশেই এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে গৃহদানের মাধ্যমে শুধু মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দেয়নি, দারিদ্র্য থেকে গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রকে মুক্ত করে আনার এমন অভিনব উদ্যোগও কেউ নিতে পারেনি। শেখ হাসিনা এই প্রকল্প সমাপ্তির মাধ্যমে যেদিন সব মানুষকে আশ্রয়দানের ফলে আত্মকর্মসংস্থানে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেবেন সেদিনের পর থেকে বাংলাদেশে দরিদ্র শব্দটি শুধু বইয়ের পাতায় হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে, সমাজে অস্তিত্ব থাকবে না।

সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল গত জানুয়ারিতে। ৬৬ হাজার ১৮৯টি গৃহহীন এবং ভূমিহীন পরিবারকে ২ শতক জমির ওপর একটি আধা-পাকা দুই কামরা, টয়লেট, রান্নাঘর ও বারান্দা সংবলিত একটি থাকার বাড়ি প্রদানের মাধ্যমে। এতে বাদ যায়নি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষও। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যারাকের মতো ঘর স্থাপনের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ রেখে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর ফলে ভবঘুরে এই মানুষগুলো এখন শুধু মাথাগোঁজার ঠাঁই-ই পেল না, উৎপাদনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখারও সুযোগ পেয়েছে। অপরদিকে গৃহহীন, আশ্রয়হীন পরিবারগুলোও তাদের গৃহের চারপাশে তরিতরকারি, হাঁসমুরগি, গরুছাগল ইত্যাদি লালন-পালনের মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ লাভ করেছে ও করতে যাচ্ছে। তাদের সন্তানরা লেখাপড়ার অনুকূল পরিবেশ লাভ করেছে। এসব গৃহহীন পরিবারের গৃহ নির্মাণে সরকার স্থানীয় প্রশাসন, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা এবং জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা গ্রহণ করেছে।

মাত্র ১ লাখ ৭১ হাজার টাকায় প্রতিটি গৃহ নির্মাণের যেই মিতব্যয়িতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তাও নজিরবিহীন। তবে কোথাও কাজের নির্মাণের মান খারাপ হওয়ার অভিযোগ ওঠায় প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক্ষেত্রে যারা মানসম্মত গৃহস্থাপনে নজির স্থাপন করতে পেরেছেন তাদেরকে প্রশংসা এবং যারা ব্যর্থ হয়েছেন তাদেরকে তিরস্কারসহ শাস্তি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানা গেছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ এরই মধ্যে কাজ শেষ করে এনেছে। ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫৩ হাজার ৪৩৪টি পরিবারের মধ্যে একই ধরনের গৃহ প্রদানের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছেন। এবারের বাসস্থানগুলোর ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ টাকা করে। মালামাল ক্রয় ও পরিবহণব্যয় আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়। ফলে আশা করা যাচ্ছে এবারের বাড়িগুলো মানের ভিত্তিতে আরেকটু উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এবারের বণ্টন করা বাসস্থানগুলোর ৭ হাজার ২৮০টি ঢাকা বিভাগ, ২ হাজার ৫১২টি ময়মনসিংহ বিভাগ, ১০ হাজার ৫৬২টি চট্টগ্রাম বিভাগ, ১২ হাজার ৩৯২টি রংপুর বিভাগ, ৭ হাজার ১৭২টি রাজশাহী বিভাগ, ৩ হাজার ৯১১টি খুলনা বিভাগ, ৭ হাজার ৬২৭টি বরিশাল বিভাগ এবং ১ হাজার ৯৭৯টি সিলেট বিভাগে। এই বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরও ১ লাখ পরিবার অনুরূপভাবে আশ্রয় ও গৃহ পেতে যাচ্ছে। সেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

দেশে গৃহহীন ও আশ্রয়হীনদের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু রাষ্ট্রের অর্থ নয়, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুদানও সাদরে গ্রহণ করছেন। এর মধ্যে অনেকেই অনুদানের অর্থ প্রদান করছেন। বিষয়টি আরও ব্যাপক প্রচার পেলে দেশ-বিদেশে অবস্থানগত সচ্ছল ব্যক্তিরা আশ্রয়ণ প্রকল্পে অবদান রাখার জন্য এগিয়ে আসবেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

দেশে প্রতিবছর নদীভাঙনের ফলে অসংখ্য মানুষ বাড়িঘর-ভিটেমাটি হারাচ্ছে। সেসব মানুষের স্থায়ী আশ্রয় এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা দরকার। একই সঙ্গে নদীভাঙনের হাত থেকে আমাদের উর্বর জমি ও মানুষের বাড়িঘর ও নানা ধরনের স্থাপনা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রক্ষায় বাঁধ নির্মাণও জরুরি।

সরকার নতুন করে জেগে ওঠা চরগুলোকে দখলদারমুক্ত রাখার জন্য সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিতে পারে। তাতে জেগে ওঠা চরগুলো মানুষের স্থায়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য বিবেচিত হতে পারে। এছাড়া ভূমিহীন ও আশ্রয়হীনের সংখ্যা যদি বেশি হয়, খাসজমির সংস্থান যদি না হয় তাহলে ভাসানচর অঞ্চলে থাকা কর্মসংস্থান, শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে যদি আশ্রয়হীন ও কর্মহীনদের কাজে লাগানো যায় তাহলে আশ্রয়ণ প্রকল্প শুধু শেষই হবে না, আশ্রয়প্রাপ্ত মানুষ ও তাদের সন্তানরা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার মতো দক্ষ জনসম্পদে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ ২০১৭ সালে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের লক্ষ্যমাত্রায় ১৫৭টি দেশের মধ্যে ১২০তম স্থানে অবস্থান করছিল। ২০২০ সাল থেকে বৈশ্বিক করোনা মহামারির দুর্যোগ সত্ত্বেও সম্প্রতি বাংলাদেশ ১০৯তম স্থানে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ গত ১২ বছরে মাথাপিছু আয় ৫০০ ডলার থেকে ২২০০ ডলারে উন্নীত করেছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে বলেই এসডিজি অর্জনে যেমন সফল হচ্ছে, একইভাবে মাথাপিছু আয় ৫ শতাংশের ওপরে এবং করোনা মোকাবিলায় শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করে এখন নিজস্ব শক্তিতে সর্বত্র চিকিৎসায় ঘুরে দাঁড়াতে অনেকটাই সক্ষম হচ্ছে। সেই অবস্থায় গৃহহীন, আশ্রয়হীন ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের শুধু বসবাসের জায়গা ও গৃহপ্রদানই নয়, কর্মক্ষম জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার যে উদ্যোগ সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা নিয়েছেন সেটিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই তিনি নিয়েছেন। এটি শেষ হলে বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনৈতিক জীবনে হতদরিদ্র মানুষের অবস্থান পরিবর্তিত হয়ে অপেক্ষাকৃত সম্পদের অধিকারী কর্মক্ষম উৎপাদনশীল শক্তি হিসেবে এরা এবং তাদের উত্তরসূরি অচিরেই আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দরিদ্রপীড়িত দেশের গ্লানিকর অমর্যাদার জায়গা থেকে মুক্তির নতুন স্তরে উন্নীত হতে দেখা যাবে।

এই কাজটি একটি কল্যাণবাদী রাষ্ট্রের দর্শন। সেই দর্শন যে নেতা, তার দল ও সরকার ধারণ এবং বাস্তবায়ন করেন, তিনি, তার দল ও সরকার জনকল্যাণবাদী রাষ্ট্র নির্মাণের প্রবক্তা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে এই রাষ্ট্র নির্মাণের সূচনা করেছিলেন। শেখ হাসিনা এর বাস্তব প্রয়োগ ঘটাচ্ছেন। আমরা বাংলাদেশের এই বিশাল পরিবর্তনটি প্রত্যক্ষ করছি। প্রয়োজন সকল দেশপ্রেমিক মানুষের উপলব্ধি করা, এর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করা।

লেখক: গবেষক, অধ্যাপক

আরও পড়ুন:
বিশ্ব শরণার্থী দিবস ও শেখ হাসিনার ভূমিকা
মানবাধিকারে অ্যালার্জি
একুশ দফা-ছয় দফা ও স্বাধীনতা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে এখনই ভাবা জরুরি
এসডিজি অর্জনে সাফল্য

শেয়ার করুন

মন্তব্য