পিবিআইর সাফল্য, প্রত্যাশা ও শঙ্কা

পিবিআইর সাফল্য, প্রত্যাশা ও শঙ্কা

প্রশ্ন হলো, কী এমন রহস্য লুকিয়ে আছে যে, পুলিশ-ডিবি-র‌্যাব সবাই ব্যর্থ হচ্ছে সাগর-রুনি ঘটনার জট খুলতে? জনমনে এ প্রশ্নও আছে যে, এই তদন্ত প্রতিবেদন আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না? কী এমন রহস্য বা কত বড় শক্তি এই ঘটনার পেছনে রয়েছে যে, তদন্তকারীরা কিছুই বুঝতে পারছেন না?

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলাটি নাটকীয় মোড় নিয়েছে। এই ঘটনায় প্রথমে হত্যা মামলা করেছিলেন মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার। ঘটনার পরে স্ত্রীশোকে বাবুল আক্তারের আহাজারির যে দৃশ্য গণমাধ্যমে এসেছে, তাতে কারও মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ তৈরির অবকাশ ছিল না যে, স্ত্রীকে তিনিই খুন করিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইর তদন্ত বলছে ভিন্ন কথা।

এখন স্বামী বাবুল আক্তারই প্রধান আসামি। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। বাবুল আক্তারকে ‘পাকা অভিনেতা’ বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। যদিও এই মামলায় এখনও রায় হয়নি।

মিতু হত্যার এই ইস্যুটি আরও অনেকগুলো প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলা—যার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে এ পর্যন্ত ৭৯ বার সময় নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়ও পেছাতে পেছাতে প্রায় অর্ধশত। প্রশ্ন উঠেছে, পিবিআই যদি অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা বা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে, তাহলে অন্য বাহিনী কেন পারে না?

আবার পিবিআইর যেহেতু সক্ষমতা রয়েছে, সুতরাং সাগর-রুনি হত্যা এবং রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনাগুলো তদন্তভার কেন পিবিআইকে দেয়া হয় না? সবশেষ সচিবালয়ে স্বাস্থ্যসচিবের একান্ত সচিবের কক্ষে প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামকে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রেখে নাজেহাল করা এবং তারপর মধ্যরাতে শাহবাগ থানায় নিয়ে বিতর্কিত অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর যে ঘটনা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড়, সেই ঘটনাটিরও তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়া যায় কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। তবে সেই আলোচনায় যাওয়ার আগে বাবুল আক্তারের বিষয়ে নজর দেয়া যাক।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার নিজে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কজনকে আসামি করে মামলা করেন।

ওই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। এরপর গত ১০ মে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয় পিবিআই। বাবুলসহ আটজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। ওই মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পিবিআই।

প্রশ্ন হলো, এত দিন পরে কেন খুনের ঘটনাটি অন্যদিকে মোড় নিল এবং স্বামী কেন আসামি হলেন? গণমাধ্যমের খবর বলছে, বাহিনীর ‘ইমেজ রক্ষায়’ বাবুলকে ছাড় দিয়েছিলেন তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তারা। স্ত্রী হত্যার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গিয়েছিল পাঁচ বছর আগেই।

এ জন্য বাবুলকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ঢাকার গোয়েন্দা কার্যালয়ে ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর দুটি ‘অপশন’ দেয়া হয়েছিল; হয় তাকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়তে হবে, তা না হলে মামলার আসামি করা হবে। বাবুল প্রথম অপশনটি বেছে নেন।

প্রশ্ন হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অপরাধের অভিযোগ উঠলে সব সময়ই বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যক্তির অপরাধের দায় বাহিনী নেবে না। তাহলে বাবুল আক্তারের অপরাধ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে— এমন ধারণা থেকে কেন তাকে ‘ছাড়’ দেয়া হলো? যারা তাকে ছাড় দিয়েছিলেন, এখন তাদেরও কি বিচারের আওতায় আনা হবে?

দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, পিবিআইকে তদন্তের ভার না দিলে কি আদৌ এই খুনের রহস্য জানা যেত? বলা হয়, আইন সবার জন্য সমান। কিন্তু পিবিআইর এই তদন্তে এটি প্রমাণিত যে, বাবুল আক্তারের বিষয়ে আইনকে সঠিক পথে চলতে দেয়া হয়নি। তার গতিপথ নির্ধারণ করা হয়েছে বাহিনীর কথিত ভাবমূর্তি রক্ষার আলোকে— যেটি অবিচারের পথ প্রশস্ত করেছে।

শুধু মিতু হত্যাই নয়, চৌকস পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গঠিত পিবিআই এর বাইরে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। মামলার রহস্য উদঘাটনে দ্রুত সুনাম অর্জন করায় অনেক সময় ভুক্তভোগীরাও বিভিন্ন সময় পিবিআইর কার্যালয়ে ভিড় করেছেন।

পিবিআইর এই সাফল্যের মূল কারণ তাদের দায়িত্ব নিবিড়ভাবে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া; যা অন্যান্য বাহিনীর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ অন্যান্য বাহিনীকে তদন্তের বাইরে আরও নানাবিধ কাজ করতে হয়। আবার আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত কাজের জন্য পিবিআইর সদস্যদের দেশ-বিদেশে বিশেষ প্রশিক্ষণও দেয়া হয়। সেই সঙ্গে পিবিআইর তদন্তে সাধারণত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের খুব একটা চাপ থাকে না বা চাপ দিলেও পিবিআই সেটি আমলে নেয় না।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে পুলিশের এই বিশেষায়িত ইউনিট যতগুলো বড় ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে, তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করা যায়।

১. চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় আলোচিত শহীদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি চার বছরেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি থানা-পুলিশ। কিন্তু পিবিআইর হাতে তদন্তের দায়িত্ব আসার এক মাসের মধ্যেই ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।

২. নামের মিলের কারণে চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দি ছিলেন নূর আলম ওরফে ভুট্টো। বিনা অপরাধে আড়াই বছর ধরে জেল খাটার এ তথ্য পিবিআইর অধিকতর তদন্তে উঠে আসে। এরপর গত বছরের ৩১ অক্টোবর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আসল ভুট্টোকে।

৩. বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহচর ছিলেন সুলতান আহম্মদ চৌধুরী; তার বড় ছেলে জালাল উদ্দিন সুলতানের বস্তাবন্দি লাশ পাওয়া যায় গত বছরের ১৯ নভেম্বর। আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার নালায় লাশ পাওয়ার ১৮ ঘণ্টার মধ্যে চার হত্যাকারীকে ধরে রহস্য উদ্ঘাটন করে পিবিআই।

৪. রাঙ্গামাটির লংগদুর যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম ওরফে নয়ন হত্যার পরদিন কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। গুনবালা চাকমা নামের একজন বয়স্ক নারী আগুনে পুড়ে মারা যান। অশান্ত হয়ে ওঠে পাহাড়। টানা সাত দিন অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী রোনেল চাকমা ও সহযোগী জুনেল চাকমাকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে পিবিআইর চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট।

৫. ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের শনাক্ত ও দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তারের বিষয়ে অসামান্য দক্ষতা ও সাফল্য দেখায় পিবিআই।

৬. প্রায় ত্রিশ বছর পর নাটকীয়ভাবে উন্মোচিত হয় সগিরা মোর্শেদ সালাম নামে এক নারীর হত্যারহস্য। এটিও পিবিআইর সাফল্য।

এত সাফল্যের কারণেই পিবিআইর প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে এবং মিতু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের পরে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি তুলেছেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্তও যাতে পিবিআইকে দেয়া হয়।

কেননা, সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ এ পর্যন্ত ৭৯ বার পিছিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় হয়তো এটি শততম মাইলফলক স্পর্শ করবে— যা শুধু একটি হত্যা মামলাই শুধু নয়, বরং দেশের পুরো বিচারব্যবস্থার জন্য একটি খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি করবে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় নির্মমভাবে খুন হন এই সাংবাদিক দম্পতি। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন পুলিশের একজন এসআই।

চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হলে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় র‌্যাবের কাছে।

তারাও এই ঘটনার কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না। প্রশ্ন হলো, কী এমন রহস্য লুকিয়ে আছে যে, পুলিশ-ডিবি-র‌্যাব সবাই ব্যর্থ হচ্ছে সাগর-রুনি ঘটনার জট খুলতে? জনমনে এ প্রশ্নও আছে যে, এই তদন্ত প্রতিবেদন আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না? কী এমন রহস্য বা কত বড় শক্তি এই ঘটনার পেছনে রয়েছে যে, তদন্তকারীরা কিছুই বুঝতে পারছেন না? প্রযুক্তির এত উৎকর্ষ সাধিত হলো; আমাদের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনী এত আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হলো— অথচ তারা একটি হত্যা মামলার কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না!

কেন এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া যাচ্ছে না, তার একটি কারণ হতে পারে এই যে, তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তে যা পেয়েছেন সেটি বললে বা আদালতে উপস্থাপন করলে মানুষের কাছে হয়তো বিশ্বাসযোগ্য হবে না। বাস্তবতা যদি এ রকম হয় তাহলে তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়া উচিত। কারণ, এরই মধ্যে এই বাহিনীর যে সুনাম ছড়িয়েছে এবং মানুষের মনে যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে তারা সাগর-রুনি হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করে যে প্রতিবেদন দেবে, আশা করা যায় মানুষ সেটি বিশ্বাস করবে।

বিভিন্ন সময় নিজ থানা এলাকায় আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ অনেক সময়ই নিরপেক্ষ থাকতে পারেনি। তাদের বিরুদ্ধে পয়সা নিয়ে অপরাধীকে আড়াল করা এবং নিরপরাধ লোককে ফাঁসিয়ে দেয়া; রাজনৈতিক চাপে তদন্ত প্রতিবেদন লেখার মতো অভিযোগও নতুন নয়। এসব কারণে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে।

সবশেষ সচিবালয়ে প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে; তাকে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মতো একটি কালাকানুনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে; কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর আশ্বাসের পরেও নির্ধারিত দিনে যে তার জামিন হলো না, তার পেছনে আসলে কী রহস্য লুকিয়ে আছে, তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া বের করা কঠিন।

যদিও এই তদন্তের ভার দেয়া হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশকে। কিন্তু তারা কত দিনে এই ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে এবং সেই প্রতিবেদন কতটা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত থাকবে; যে গোপন নথি সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ‘চুরি’ করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই গোপন নথিতে আসলে কী ছিল এবং রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাতে তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলার বৈধতাই বা কতটুকু— এসব প্রশ্নের জবাব গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিবেদনে থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

সেই বাস্তবতার নিরিখে দেশের ইতিহাসে প্রথম একজন সাংবাদিককে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো এবং এর আগে সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাকে আটকে রেখে লাঞ্ছিত করার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য এই তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়া যায় কি না, সেটি বিবেচনার দাবিও সাংবাদিকদের অনেকে তুলেছেন। তবে এটিও বিবেচনায় রাখতে হবে যে, গুরুত্ব বা চাঞ্চল্যকর সব মামলার তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়া হলে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা আরও কমবে। তখন পিবিআই ছাড়া অন্য কোনো বাহিনী বা পুলিশের অন্য কোনো ইউনিটের তদন্তে মানুষের আস্থা থাকবে না।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলা যেমন সাগর-রুনি হত্যা বা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনাগুলোর তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়া হলেও অন্যান্য বাহিনীও যাতে দক্ষতা ও সততার সঙ্গে এবং কোনো ধরনের চাপ ও প্রভাবমুক্ত থেকে তদন্ত করতে পারে— রাষ্ট্রকে সেই নিশ্চয়তাও দিতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রহারা দুখী ফিলিস্তিনিদের কান্না
বয়কট এবং একটি বিজ্ঞাপনের মর্মাহত প্রতিক্রিয়া
করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট: সংক্রমণ কমাতে আগাম সতর্কতা জরুরি
চীনের বন্ধুত্ব কি নিখাদ?
রক্তভেজা ১৯ মে: বাংলাভাষার জন্য আত্মদানের ষাট বছর

শেয়ার করুন

মন্তব্য