কী করে একজন ধর্ষক হয়ে ওঠে

অনেকে মনে করেন, রাজনৈতিক কমিটমেন্ট ছাড়া ধর্ষণ বন্ধ হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরকারের রাজনৈতিক কমিটমেন্ট আছে বলেই তো আইন কঠোর করা হলো। কিন্তু তারপরও ধর্ষণ বন্ধ হচ্ছে না কেন? তার মানে কি অসুখের কারণ অনুসন্ধান না করে কেবল ওষুধের গুণগত মান বাড়ানো হচ্ছে?

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে জাতীয় সংসদে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করার (১৭ নভেম্বর ২০২০) দুই মাস না যেতেই গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর কলাবাগানে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধ প্রমাণিত হলে হয়ত তার সর্বোচ্চ সাজা হবে।

প্রশ্ন হলো, কেন একজন তরুণ তার বন্ধুকে ধর্ষণ করল এবং কেনই বা খুন করল? এই তরুণ কীভাবে ধর্ষক ও খুনি হয়ে উঠল? এ রকম অপরাধী হয়ে ওঠার পেছনে তার পরিবারের ভূমিকাই বা কতটুকু? ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যে মৃত্যুদণ্ড, তা কি সে জানত না? জানলে সে কেন ভয় পেল না? নাকি অপরাধ করার সময় আইন এবং পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান বা নিয়ম-নীতির কথা মাথায় থাকে না? আইনে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোও কি তাহলে ধর্ষণের মতো অপরাধ দমনের জন্য যথেষ্ট নয়?

অনেকে মনে করেন, রাজনৈতিক কমিটমেন্ট ছাড়া ধর্ষণ বন্ধ হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরকারের রাজনৈতিক কমিটমেন্ট আছে বলেই তো আইন কঠোর করা হলো। কিন্তু তারপরও ধর্ষণ বন্ধ হচ্ছে না কেন? তার মানে কি অসুখের কারণ অনুসন্ধান না করে কেবল ওষুধের গুণগত মান বাড়ানো হচ্ছে?

মামলার বিবরণী উল্লেখ করে গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ফারদিন ইফতেখার দিহান নামে এক তরুণ গত বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে তার পূর্ব পরিচিত ওই স্কুলছাত্রীকে মোবাইল ফোনে বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় প্রচুর রক্তক্ষরণে মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়ে। তখন দিহান ধর্ষণের বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার জন্য মেয়েটিকে নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যায়। সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা হয় এবং দিহান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

গণমাধ্যমের খবর বলছে, ধর্ষণের শিকার হয়ে নিহত মেয়েটির সঙ্গে অভিযুক্ত দিহানের বন্ধুত্ব ছিল এবং সেই বন্ধুত্বের বিশ্বাস থেকেই হয়ত সে বাসায় গিয়েছিল। বাসায় তখন কেউ আছেন কি নেই বা বাসাটি ফাঁকা কি না- সেই প্রশ্নও হয়তো মেয়েটি করেনি। বাসা ফাঁকা থাকলেই যে তার বন্ধু তাকে ধর্ষণ করবে- এই ভাবনাও নিশ্চয়ই তার ছিল না। থাকলে সে ওখানে যেত না। কেননা শারীরিক সম্পর্কে মেয়েটির সম্মতি ছিল না বলেই যে দিহান তাকে ধর্ষণ করেছে, তা স্পষ্ট। যদিও ঘটনার দিন আসলেই কী হয়েছিল- সেটি আদালতে তথ্যপ্রমাণ হাজির ও তার ভিত্তিতে রায়ের পরেই জানা যাবে।

এ রকম ঘটনার পরে অনেক সময় ভিকটিম নারীর প্রতিও অভিযোগের আঙুল ওঠে যে, মেয়েটি কেন সেখানে গিয়েছিল? রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এরকম প্রশ্ন তুলেছিলেন, মেয়ে দুটি কেন রাতে হোটেলে গেলো? এইসব অভিযোগ উত্থাপনের মধ্য দিয়ে অনেক সময় মূল অপরাধ আড়াল হয়ে যায়। কেননা, একজন নারী বন্ধুত্বের খাতিরে কিংবা ধরা যাক কোনো প্রলোভনে পড়েই কোনো বাসায় কিংবা হোটেলে গিয়েও যদি ধর্ষণের শিকার হন, তাতেও ধর্ষণ জায়েজ হয়ে যায় না বা অপরাধ লঘু হয় না। কারণ কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক মানেই সেটি ধর্ষণ। তাতে সেই সম্পর্কটি অভিযুক্ত পুরুষ তার বান্ধবীর সঙ্গে করলেন নাকি তার স্ত্রীর সঙ্গে-সেটি বিবেচ্য নয়। সুতরাং, মেয়েটি কেন ফাঁকা বাসায় গেলো কিংবা রাতের বেলায় কেন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে হোটেলে গেলো- এই কথা বলে ধর্ষণের অপরাধ থেকে তাকে মুক্তি দেয়ার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন হলো, একজন দিহান কীভাবে ধর্ষক হয়ে উঠল?

মেয়েটির সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল- এটি পরিবারের বরাতে পুলিশও জানিয়েছে। কিন্তু সেই বন্ধুত্বের খাতিরে তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর একটা পরিকল্পনাও নিশ্চয়ই দিহানের ছিল। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সে বাসাটি ফাঁকা হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। ফলে ধরে নেয়া যায় যে, এটা পূর্বপরিকল্পিত। কিন্তু মেয়েটি হয়তো জানত না যে বাসায় কেউ নেই, অথবা কেউ না থাকলেও যে দিহান তাকে ধর্ষণ করবে- এমনটি হয়তো তার ভাবনায় ছিল না। ফলে এখানে প্রশ্ন ওঠে, আরও অসংখ্য নারী-পুরুষের মধ্যে বন্ধুত্ব আছে। সব পুরুষই কি তার মেয়ে বন্ধুর সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় বা তাকে ধর্ষণের জন্য সুযোগের অপেক্ষায় থাকে? নিশ্চয়ই না। তার মানে এখানে অন্য পুরুষের চেয়ে একজন ধর্ষক পুরুষের মধ্যে কিছু মৌলিক তফাৎ রয়েছে। কী সেই তফাৎ ও কীভাবে একজন তরুণ ধর্ষক হয়ে ওঠে, সেটি মেডিকেল ও সমাজবিজ্ঞানের বড় গবেষণার বিষয়। দিহানকে নিয়েও এ রকম গবেষণা হতে পারে। তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেয়া যেতে পারে। তার বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে চলতেই সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীদের একটি দল এ বিষয়ে কাজ করতে পারে।

অনেকে মনে করেন, একজন তরুণের বা যুবকের ধর্ষক হয়ে ওঠার পেছনে তার পরিবারের বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ পরিবারে যদি শৈশব থেকেই তাকে মানবিক মূল্যবোধ এবং নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব এবং অপরাধের বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে শেখানো না হয় বা তাকে যদি অপরাধের ইহকালীন ও পরকালীন (সব ধর্ম অনুযায়ী) শাস্তি সম্পর্কে অবহিত করা না হয়, তাহলে যে কোনো অপরাধ করার আগে এর সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে তার মনে ভয় তৈরি হবে না।

দিহান শৈশব থেকে কোন পরিবেশে বেড়ে উঠেছে- সেটি অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করলে তার ধর্ষক হয়ে ওঠার পেছনে কিছুটা কারণ হয়ত জানা যাবে। গণমাধ্যমের খবর বলছে, দিহানের বাবা আবদুর রউফ সরকার রাজশাহী জেলার অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার রাতুগ্রাম গ্রামে তার বাড়ি। তিনি একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি। এই বাড়ি ছাড়াও জেলার বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে তাদের আরও একটি বাড়ি আছে। রাজশাহী শহরেও আছে দুটি বাড়ি। ঢাকায়ও রয়েছে ফ্ল্যাট।

গণমাধ্যমের খবরে আরও জানা যাচ্ছে, দিহানের পরিবার ও তার বড় ভাই সুপ্ত সরকারের বিরুদ্ধেও হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। পারিবারিক কলহের জেরে সুপ্তর স্ত্রীকে মুখে জোর করে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছিল দিহানের বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। মামলার সাক্ষীদের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে মামলাটি আপস করেছেন সুপ্তর বাবা।

এসব অভিযোগ সত্য হলে বোঝা যাচ্ছে, দিহান খুব ভালো কোনো পারিবারিক পরিবেশে বড় হয়নি। তার অবসরপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার বাবার যে সহায় সম্পত্তির বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে, তা তার চাকরির বৈধ পয়সায় হওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং বাবা যদি অসৎ পথে উপার্জন করেন, সেই সন্তানের পক্ষে আদর্শবান, সৎ ও মানবিক হওয়া কঠিন। দিহানের বাবা নিশ্চয়ই তাকে ধর্ষক হতে বলেননি। কিন্তু একজন ন্যায়পরায়ণ ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে তিনি যে সন্তানকে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেটি এই ঘটনায় প্রমাণিত। সুতরাং সন্তান যে বখে গেলো এবং শেষ পর্যন্ত ধর্ষক ও খুনি হিসেবে গ্রেপ্তার হলো, বাবা হিসেবে তিনি তার তার দায় এড়াতে পারেন না। এই প্রসঙ্গে তার সহায় সম্পত্তি ও বিত্তবৈভব অর্জনের রহস্যও উন্মোচন করা দরকার। তিনি কি তার বেতনের পয়সায় এইসব বাড়ি করেছেন নাকি ঘুষের পয়সায়, সেটি জানা দরকার।

তবে শুধু অবৈধ পথে উপাজর্ন করলেই যে সন্তান খারাপ হবে এমনটি নয়। অসৎ লোকের সন্তানও যেমন ভালো হতে পারে, তেমনি সৎ লোকের সন্তানও খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে যারা সন্তানকে কোয়ালিটি সময় দেন না কিংবা ক্যারিয়ার ও সামাজিকতা সামাল দিতে দিতে যারা পরিবারের সন্তান কীভাবে বেড়ে উঠছে, কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে- এসব খোঁজ নেয়ার সময় পান না, তাদের সন্তানও বখে যেতে পারে। ভেতরে ভেতরে ধর্ষক ও খুনি হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং একজন সৎ লোকের সন্তানও যদি ধর্ষক বা খুনি হয়ে ওঠে, সেই দায়ও বাবা এড়াতে পারেন না। কারণ সন্তানের এই ধর্ষক ও খুনি হয়ে ওঠার পেছনে নিশ্চয়ই তার অবহেলা বা উদাসিনতাও দায়ী।

সন্তানকে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি আর চাহিবামাত্র তার সব চাহিদা পূরণই একজন অভিভাবকের একমাত্র দায়িত্ব যে নয়, সেটি অনেকেই খেয়াল করেন না। ফলে সন্তান পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে ভালো চাকরি পেলেও ভেতরে ভেতরে সে যে একজন অসৎ মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠেছে এবং চাকরিতে ঢোকার পর থেকেই ঘুষ খাচ্ছে, অসৎ পথে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্নের বিভোর হয়ে যাচ্ছে, রঙিন জীবনের লোভ যে তাকে তরুণ বয়সেই আক্রান্ত করে ফেলেছে, প্রাচুর্য এবং দুনিয়াটা মস্ত বড় খাও দাও ফূর্তি করো থিওরিতে ডুবে সে যে মানুষ হওয়ার মন্ত্রটিই ভুলে গেছে—সেই খবর কতজন অভিভাবক রাখেন? নাকি তারা সন্তানের ভালো ফলাফল আর ভালো চাকরিতেই সন্তুষ্ট?

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই কি সমাধান?

অনেক সময় বলা হয়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরাধের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারে। কিন্তু এটি নিয়েও বিতর্ক আছে। কারণ অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলেই যে সেই অপরাধ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় না তার অনেক উদাহরণ আছে। ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যার সপক্ষেও যে জনমত রয়েছে, তাতে এই প্রশ্নটিও এখন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই যে, বছরের পর বছর ধরেই ক্রসফায়ারে মানুষ মারা হচ্ছে; ধরা যাক ক্রসফায়ারে নিহতদের অধিকাংশই বড় অপরাধী; কিন্তু তাই বলে সমাজ তো অপরাধমুক্ত হয়নি।

ক্রসফায়ারে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তও অনেকে নিহত হয়েছেন। কিন্তু তারপরও তো ধর্ষণ বন্ধ হয়নি। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও তো ধর্ষণ চলছে। তার মানে কি এই যে, যখন কেউ অপরাধ করে, তখন সেই অপরাধের পরিণতি নিয়ে সে ভাবে না বা সেটি তার বিবেচনায় থাকে না?

শুধু ধর্ষণই নয়, যখনই বড় কোনো অপরাধ হয়, সাধারণ মানুষের তরফে এর দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পরপর কয়েকটি ধর্ষণ ও গণধর্ষণের খবর গণমাধ্যমের শিরোনাম হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে লিখেছেন, ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়া হোক, প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হোক, ক্রসফায়ার দেওয়া হোক ইত্যাদি। অর্থাৎ মানুষ এমন শাস্তি চায় যাতে এ ধরনের অপরাধ করতে ভবিষ্যতে কেউ সাহস না পায়। কিন্তু একটি বর্বরতার শাস্তি আরেকটি বর্বরতার মাধ্যমে হয় কি না, সেটিও প্রশ্ন।

বিশ্বের বহু দেশ ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করেছে। পক্ষান্তরে বিচারের মানদণ্ডটি যদি ভুক্তভোগীর জায়গায় বসে দেখা হয় তখন এটির ডাইমেনশন আলাদা। যেমন যার সন্তান ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বা যিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তিনি ধর্ষকের হয়তো আরও বড় শাস্তি চান। তার কাছে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়া বা তাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলাও হয়ত যথেষ্ট নয়। কারণ অপরাধীর চূড়ান্ত শাস্তি হলেও যে নারী সম্ভ্রম হারিয়েছেন তিনি সেটি কোনোদিন ফিরে পাবেন না। তার ক্ষতিপূরণের কোনো ব্যবস্থা নেই। ওই নারীর পরিবার সারা জীবন যে ট্রমার ভেতর দিয়ে যাবে, তা থেকে বেরিয়ে আসার কোনো ব্যবস্থা নেই। সুতরাং ধরা পড়ার পরে আপনি ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন নাকি প্রকাশ্যে ফাঁসি দিলেন অথবা ক্রসফায়ার- তাতে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার হয়তো কিছুটা মানসিক শান্তি পাবেন, আখেরে যেসব কারণে মানুষ ধর্ষক হয়ে ওঠে বা উঠতে পারে, সেই পথগুলো বন্ধ করা না গেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও কোনো সমাধান নয়।

দিহান কেন ধর্ষক হয়ে উঠলো- তার সঠিক কারণ চিহ্নিত করে ওষুধ প্রয়োগ করা না হলে আজ দিহান তো কাল আরেকজন তরুণ এভাবে ফাঁকা বাসায় নিয়ে তার বন্ধুকে ধর্ষণ করবে ও গ্রেপ্তার হবে। তাতে সমাজের একটি বিশাল ব্যাধির কোনো নিরাময় হবে না। সুতরাং সেই অসুখের কারণ চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজন সমাজ ও মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণা- যার সঙ্গে যুক্ত থাকবে চিকিৎসাবিজ্ঞানও। আর সেই গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকৃত ওষুধও প্রয়োগ করতে হবে।

লেখক: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর, নেক্সাস টেলিভিশন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য