মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাকে দিয়ে শুরু করছি। আইইডিসিআরের এ পরিচালক করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জনসমক্ষে এসে অনলাইনে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ফেসবুকে তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও ট্রল করা হয়েছে অগুণতি। তার যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য শাড়ির সংখ্যা গোনা থেকে শুরু করে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে নানারকম গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।
আরেকজন চিকিৎসক সাবরিনা চৌধুরী করোনা নিয়ে বাণিজ্য ও দুর্নীতির দায়ে ধরা পড়েন। সাবরিনার অপরাধের চেয়ে প্রাধান্য পেয়েছিল তার সাজপোশাক, ব্যক্তিগত জীবন, বিয়ে, মডেলিংয়ে আগ্রহ ইত্যাদি।
ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের শিশুকন্যাও এই সাইবার হেনস্তার হাত থেকে রেহাই পায়নি। সূর্যমুখী ফুলের বাগানে ফুলের মতো ফুটফুটে একটি মেয়েকে নিয়ে নানা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ছুঁড়তে দ্বিধা করেনি সাইবার অপরাধীরা। রেহাই পায়নি তার স্ত্রীও, যখন তিনি জানিয়েছিলেন যে কন্যার ছবিতে এসব নোংরা মন্তব্যে ভাবিত নন তারা।
কক্সবাজারে দুর্ভাগ্যজনক হত্যার শিকার হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। কিন্তু ঘটনা মোড় নিল অন্যখাতে। শুরু হলো তার সহকর্মী শিপ্রার জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক পোস্টমর্টেম। হত্যার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেল তার ব্যক্তিগত অভ্যাস। ফেসবুক ঘেঁটে বের করা হলো কবেকার সিগারেট বা এলকোহল পানের ছবি ইত্যাদি।
হালের মিডিয়া ক্রেজ মিথিলা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন কলকাতার চলচ্চিত্রকার সৃজিত মুখার্জীর সঙ্গে। আর যায় কোথা! তাদের পিছু লাগলেন অসংখ্য অনলাইন ব্যবহারকারী। মিথিলা যাই করেন তাতেই তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন তারা।
দেখা যাচ্ছে, ঘটনা যাই হোক না কেন তাতে কোনো নারী জড়িত থাকা মানেই তা রগরগে হতে বাধ্য। নারীর সামাজিক অবস্থান যাই হোক না কেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিবেচিত হয়েছেন তাদের লৈঙ্গিক পরিচয় দিয়ে।
সাইবার অপরাধ সচেতনতায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সাইবার ক্রাইম এওয়ারনেস ফাউন্ডেশনে’র জরিপে দেখা গেছে, দেশে ৬৮ শতাংশ সাইবার অপরাধের শিকার হয় নারী। বিশেষ করে কিশোরীরা এই নির্যাতনের সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার কারা করেন? কেন করেন?
পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, মন্তব্যের বেশিরভাগই এক ধরনের আধিপত্যবাদী ধারণাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এই আধিপত্য লৈঙ্গিক, যেখানে ধরে নেয়া হয় নারী মাত্রেই পুরুষের তুলনায় নিন্মবর্গের। ফলে অধিপতি পুরুষের অধিকার বা হক হলো নারীকে হেয় করা।
এক্ষেত্রে নারীর জন্য ‘মানানসই’ একটি জীবনধারণকে ‘মান’ হিসাবে মাথায় রেখে সেই মানের আলোকে ‘সঠিক’ পথ বাতলে দেয়াকে নিজেদের দায়িত্ব মনে করে অধিপতি পুরুষ। ফলে নির্দেশনা দেয়া হয়ে দাঁড়ায় অধিপতি পুরুষের অভীষ্ট লক্ষ্য।
কেবল পুরুষই নয় পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য প্রশ্নহীনভাবে মেনে নেয়া যে কোনো ব্যক্তিই এমন কাজ করেন। এটা এক ধরনের অনলাইন সামাজিক পুলিশি কর্মকাণ্ড যা লৈঙ্গিক শ্রেণিবাদকে বাস্তব জীবন থেকে অনলাইনে প্রতিস্থাপন করেছে।
এই আধিপত্যবাদী চিন্তায় মানুষের লৈঙ্গিক পরিচয়ই মুখ্য, এমনকি একজন শিশুরও। অনলাইনে কোনো ব্যক্তিকে জানার সুযোগ বাস্তবের চেয়ে কম, সেহেতু নারীর লৈঙ্গিক পরিচয়ই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এই সামান্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একজন অচেনা-অজানা নারীকে তার ব্যক্তি জীবন পরিচালনা করার ব্যাবস্থাপত্র (কী করতে পারবে বা পারবে না) দিতে থাকেন আধিপত্যবাদীরা।
যারা এই ব্যবস্থাপত্রের বাইরে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরতে চান, তাদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে অনলাইনের পরিবেশ সাফসুতরো রাখাই থাকে অধিকাংশ অনলাইন পুলিশি তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য। যার ফলে ছড়িয়ে পড়ে নারীর প্রতি ঘৃণা।
নারীর বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং শুধু যে আধিপত্যের ধারণা থেকেই আসে এমন নয়। যেহেতু অনলাইন এক ধরনের সামাজিক সমাগমস্থলে পরিণত হয়েছে সেহেতু আমরা আমাদের স্বর ছড়িয়ে দিতে চাই। এই স্বর তৈরি করতে চাওয়া এক ধরনের অস্তিত্ববাদী আকাঙ্ক্ষা।
ফেসবুক, টুইটার বা ইনস্টাগ্রাম – মাধ্যম যাই হোক না কেন, এগুলো একজন ব্যক্তির জন্য ভার্চুয়াল স্পেস তৈরি করে। এই স্পেসের মাধ্যমে ব্যক্তি তার চিন্তাভাবনা, বিশ্বাস, অনুভূতি, ব্যক্তিত্ব, প্রতিভা প্রভৃতি প্রকাশ করতে সক্ষম হয়। ফলে আশেপাশের সবাই যখন ভার্চুয়ালি নিজেকে তুলে ধরতে থাকে, তখন স্বভাবতই ব্যক্তি এতে এক ধরনের চাপ বোধ করেন। অংশগ্রহণ করতে না পারলে বিচ্ছিন্নতাবোধ করেন এবং এ থেকে নিজের স্বতন্ত্র সত্তা তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ হন।
এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যক্তি এক ধরনের সামজিক স্তরায়নে যুক্ত হয়। ব্যক্তি মনে করতে থাকে আমিও তো কিছু না কিছু করছি, আমি কেন এই সামজিকতায় অংশগ্রহণ করব না? আমারও তো প্রতিভা আছে। এই স্তরায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তি আকর্ষণীয় অথবা আক্রমণাত্মক এই দুই ধরণের কৌশল অবলম্বন করে।
ব্যক্তি ক্রমাগত এটা করতে থাকে ‘নিজ’কে নির্মাণের তাগিদ থেকে। অনেক সময় অনলাইনে ব্যক্তি এমন এক ধরনের ‘নিজ’ তৈরি করে, যে ‘নিজ’ অফলাইন ব্যক্তির সাথে সাংঘর্ষিকও হয়ে দাঁড়ায়। ব্যাপারটি অনেকটা ডক্টর জেকিল ও মিস্টার হাইডের কাহিনির বাস্তবতার মতো। অর্থাৎ ব্যক্তিচরিত্র প্রেক্ষিতভেদে একেবারে বিপরীতমুখী বৈশিষ্ট্যকেও ধারণ করতে সক্ষম। যা মোটাদাগে ভালো-মন্দ বনাম অনলাইন-অফলাইন এ রকম বৈপরীত্যকে হাজির করে।
বেশিরভাগ সময় অনলাইন বাস্তবতা আমাদের মধ্যে এক ধরনের মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশের চাপ তৈরি করে। সমাজ ও রাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে চায়। অনলাইনে যোগাযোগ স্থাপন সহজ হওয়ায় ব্যক্তি নিজের ভিতরের অস্থিরতা কমাতেও সেখানে প্রশান্তি খোঁজে।
অনলাইন কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যক্তির কারও কাছে জবাবদিহির বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে অনলাইন আচরণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির দায়দায়িত্ব নেই বললেই চলে। মানুষ এমন কিছু হয়তো করে বা বলে যা অফলাইনে চট করে করতে বা বলতে চাইবে না। কারণ ব্যক্তির মাথায় থাকে যে একটি পোস্ট দিয়ে বা কমেন্ট করে সেটি মুছে ফেলা যায়। এভাবে ব্যক্তিগত অস্থিরতা কমাতে গিয়ে মানুষ এমন অনলাইন ব্যবহারকারীকেও আঘাত করে, যার সঙ্গে তার পরিচয় নেই।
অনলাইনে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি একটি জনপ্রিয় প্রবণতা হলো নারীর বিরুদ্ধে ঘৃণা উগড়ে দেয়া। এটি করা হয় দীর্ঘদিনের লৈঙ্গিক ভিন্নতা ও সামাজিক নির্মিতি এবং পুরুষতান্ত্রিক ভাবাদর্শকে পুঁজি করে। সচেতনভাবে অথবা অসচেতনভাবে হোক আমরা অনেকেই এটা করে থাকি।
ফলে একজন নারীও যখন অন্য নারীকে সাইবার হেনস্তা করে, তখন তার মাথায় দীর্ঘদিনের জেঁকে বসা সামাজিক উচ্চক্রমের পুনরুৎপাদন ঘটে। যেমন, সাকিব আল হাসানের শিশুকন্যাকে নিয়ে যারা আপত্তিকর মন্তব্য করলেন, তাদের ব্যাপারে সাকিবের স্ত্রী শিশির যখন জানালেন যে তারা বিষয়টি নিয়ে মোটেই মাথা ঘামাচ্ছেন না। অনেকেই ক্ষেপে গিয়ে মন্তব্য করলেন, শিশির স্বার্থপর, অকর্মণ্য গৃহিণী, ঘিলুহীন নারী বা স্বামীর আলোয় আলোকিত ইত্যাদি।
অথচ এসব মন্তব্যের মাধ্যমে তারাও তাদেরই মতো আচরণ করলেন যারা সাকিবকন্যার প্রতি আজেবাজে মন্তব্য ছুঁড়ে দিয়েছিল। দুই পক্ষের কেউই কোনো অংশে কম নেতিবাচকতা প্রকাশ করলেন না। প্রকৃতপক্ষে ঘৃণা যে রূপেই প্রকাশিত হোক না কেন তা ঘৃণাই।
অনলাইন ব্যবহারকারীরা সাধারণত এক ধররনের ভাবনা বা দৃষ্টিভঙ্গিকে মান ধরে নিয়ে এই ঘৃণা প্রকাশ করে। কোনো দৃষ্টিভঙ্গি পছন্দ না হলে সাথে সাথে আঘাত করে, ঘৃণাযুক্ত মেসেজ, হুমকিযুক্ত ইমেল, মিথ্যা তথ্য সাজিয়ে গুজব ছড়িয়ে দিয়ে, আপত্তিকর ছবি, ভিডিও তৈরি ও প্রচার করে সাইবার হেনস্তা ঘটায়। এটি মূলত আন্তঃব্যক্তিক হেনস্তার এক সাম্প্রতিক ধরন।
নারীর প্রতি অনলাইন হেনস্তার চিত্র তুলে ধরতে কিছু শব্দমালা ব্যবহার করা হয়, যেমন, ‘কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য,’ ‘বিকৃত রুচির পোস্ট,’ ‘নোংরা মানসিকতার ফেসবুক ব্যবহারকারী,’ ‘যেনতেন লোকজন ব্যবহারের ফলে অনলাইন পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে’ ইত্যাদি।
লক্ষ্যণীয়, এসব শব্দমালা ব্যবহার করা মূলত অনলাইনকে অফলাইন বাস্তবতা থেকে আলাদা করে দেখতে চাওয়ার প্রবণতা। এতে করে আমরা বোঝাতে চাই যে অনলাইন হবে ‘ভালো’, ‘সুন্দর’ ও ‘সুশীল’ মননধারীদের জায়গা। কিন্তু আদতে অনলাইন কুরুচি, বিকৃতি, নোংরামি – এসব বিষয়কে অফলাইন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিদিনই এটা ঘটছে।
বিশেষ করে, নারীর প্রতি কুরুচি বা বিকৃতি বা ঘৃণা যেভাবে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে নানাভাবে ছড়িয়ে আছে, চর্চিত হচ্ছে, তার অনলাইন সংস্করণ হচ্ছে সাইবার হেনস্তা বা হয়রানি। অফলাইন বাস্তবতার চাইতে অনলাইনে বরং এসব আচরণ অনেক সহজ। কেননা অনলাইনে সহজে নামহীন হওয়া যায়, পরিচয় লুকিয়ে ফেলা যায়, চাইলে আইডিও মুছে ফেলা যায়। এই যে নাম-পরিচয়হীন হয়ে যাওয়ার সুযোগ এটিও ব্যক্তিকে নারীর বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
ঘটনা অনলাইনে ঘটলেও তার প্রভাব অফলাইন বা বাস্তব জীবনেও পড়ে। বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা গেছে, সাইবার হেনস্তার শিকার নারীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও ভয়ংকর চাপ তৈরি হয়। বয়ে আনে হতাশা, বিষণ্ণতা, অনিদ্রা ইত্যাদি। একটি মিথ্যা গুজব ডেকে আনে অসহনীয় বিপর্যয়।
বিশেষ করে শিশু-কিশোরীরা, যারা ব্যক্তিত্ব গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অনলাইনে পড়াশোনা, গেইমিং, চ্যাট করতে গিয়ে তারা নানা ধরনের অনুপোযুক্ত ভাষা ও বিষয়ের মুখোমুখী হচ্ছে। যেমন, গালাগালি, বর্ণবাদ বা যৌনতা, যা তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সামনে ফেলছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় তারা তা জানে না। বাবা-মা-অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করতে ভয় পায়। কারও কাছে বলতে না পেরে, চাপ সামলাতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যা করে বা আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালায়।
এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪৬ শতাংশ অভিভাবক সন্তানের সঙ্গে অনলাইন ব্যবহার ও আচরণ নিয়ে আলোচনা করেন। তবে অনেক অভিভাবকই জানেন না যে তার সন্তানরা অনলাইনে কী করে।
করোনা পরিস্থিতিতে স্কুলগামী ছেলেমেয়েরা অনলাইন ক্লাসের জন্য দিনের বেশিরভাগ সময়ই কম্পিউটারে কাটাচ্ছে। জেনে, না জেনে অথবা কৌতুহলের বশে তারা অনলাইন প্রতারণা, হেনস্তা, নির্যাতনের শিকার হতে পারে। খুব সচেতনতার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে।
পিতামাতা এবং অভিভাবকদের সবসময় নজর রাখতে হবে ছেলেমেয়েরা কম্পিউটারে কী করছে। সন্তানের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। ‘বাবা-মা জানলে বকা দেবে বা কষ্ট পাবে’ এসব ভেবে তারা যেন বিষয়টিকে নিজেদের মধ্যে চেপে না রাখে। এ বিষয়ে বাবা-মাকেই এগিয়ে আসতে হবে।
সাইবার হেনস্তা-অপরাধ কী বা এ থেকে কীভাবে মুক্ত থাকা যায়, এ বিষয়ে সন্তানের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলতে হবে অভিভাবকদের। সন্তানদের আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হবে। তারা যেন একা একা কোনো সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করতে না যায়। শিশু-কিশোরী বা নারী প্রত্যেককেই ইন্টারনেট ব্যবহারের আগে অনলাইন আচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
অনলাইন যে একটি আলাদা জগত সেটি বুঝতে হবে। এখানে হেঁয়ালি করার সুযোগ নেই। এখানেও ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা, আচরণ জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়। ফলে নিজের আচরণের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।
কিছু একটা লিখলে বা করলে একসাথে অনেক ব্যবহারকারী দেখতে পায়, সেটি রেফারেন্স হিসাবে থেকে যায়, কোনো পোস্ট বা কমেন্ট মুছে ফেললেও তা যে চিরতরে মুছে যায় না বরং রেকর্ড থেকে যায় সেটিও বুঝতে হবে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের অনেকেই হয়তো জানে না যে সাইবার হয়রানির ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন ওমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনে রিপোর্ট করা যায়। সাইবার হয়রানির শিকার যে কেউ সরাসরি কথা বলতে পারেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়াটার্সে। এছাড়া কাউন্টার টেরোরিজম ডিভিশনের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন অথবা ইমেইলে অভিযোগ করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।
এছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১০৯২১ নম্বরে নারীর প্রতি যে কোনো নির্যাতন-সহিংসতার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা যায়। অথবা সরকারের ৯৯৯ ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন নম্বরেও সেবা পাওয়া যাবে।
আশার কথা বাংলাদেশে সাইবার হয়রানি প্রতিরোধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে নারীর প্রতি পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আচরণের বদল না আসা পর্যন্ত অনলাইন বা অফলাইনে হয়রানি বা নির্যাতন বন্ধ হবে না। এজন্য প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা ও দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন।
সাদিয়া আফরিন: নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক
ছবি: দৈনিক বাংলা
সেবা খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সভাপতি পদে দৈনিক আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার শাহজাহান মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক কালের কন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার জহিরুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি হোটেলে বার্ষিক সাধারণ সভায় সদস্যদের ভোটগ্রহণ শেষে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। পরে তিনি নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার জিলানী মিলটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার একলাছ হক, সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলা ট্রিবিউনের স্টাফ রিপোর্টার আতিক হাসান শুভ, অর্থ সম্পাদক পদে দৈনিক আমার দেশের স্টাফ রিপোর্টার জাহিদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ঢাকা স্ট্রিমের স্টাফ রিপোর্টার তৌফিক হাসান, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে বাংলানিউজ২৪ডটকমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মিরাজ মাহবুব ইফতি, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক পদে এনটিভির স্টাফ করেসপন্ডেন্ট নাজিবুর রহমান।
এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন, ভোরের কাগজ সিনিয়র রিপোর্টার মো. রুহুল আমীন, বিজনেস মিররের বিশেষ প্রতিনিধি বারেক কায়সার, ইনডিপেনডেন্ট টিভির বিশেষ প্রতিনিধি হাসিফ মাহমুদ শাহ্, জাগো নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার মুসা আহমেদ, ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার নিলয় মামুন ও ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার আবির হাকিম। নতুন এই কমিটি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরে একটি প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন চেম্বার থেকে ১৫ কেজি গাঁজাসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহনের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে মাদক বহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে জামালপুর-শেরপুর মহাসড়কের উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় একটি নিয়মিত পুলিশ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বড়টোডা বিশনাউড়ি এলাকার আক্তার হোসেন, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুরুয়া ভাটিপাড়া এলাকার মিন মোক্তার ওরফে মনির হোসেন, বিল্লাল হোসেন এবং প্রাইভেটকারচালক সাগর।
পুলিশ জানায়, শেরপুর থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা জামালপুরে আনা হচ্ছে—এমন একটি গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এ সময় নির্দিষ্ট কারটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে এর ভেতরে থাকা আরোহীরা গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে ধাওয়া করে তাঁদের চারজনকেই ধরে ফেলেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সন্দেহভাজন গাড়িটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে লোহা ও স্টিল দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বারের সন্ধান মেলে। সেই চেম্বার খুলে খাকি কাগজে নিখুঁতভাবে মোড়ানো ছয়টি বড় প্যাকেটে থাকা মোট ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া এই গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চালানের মূল উৎস, সরবরাহকারী চক্র এবং এর পেছনে থাকা অন্যান্য প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এই অভিযানের বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, জেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এমন কঠোর অভিযান ও নজরদারি সর্বদা জারি থাকবে এবং মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ছবি: সংগৃহীত
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগে প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা। কীভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লায়ন্স ক্লাব।
শুক্রবার (২৬ জুন) খুলনা লায়ন্স আই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কাজ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে হলে দৃঢ় অঙ্গীকার অপরিহার্য। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা গেলে সেবাগ্রহীতার কখনো অভাব হবে না।
তিনি চক্ষু সেবার পাশাপাশি লায়ন্স ক্লাবের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং অটিজম বিষয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। মানবতার সেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, লায়ন্স এ কে এম গোলাম ফারুক, সাবিনা সিদ্দিকা ও ডা. মো: বোরহান উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র লায়ন্স ড. রনঞ্জিত কুমার নাথ। স্বাগত বক্তৃতা করেন লায়ন্স ডা. মনোজ কুমার দাস।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান তাজিয়া শোক মিছিল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টায় পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসাইনী দালান ইমামবাড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শোক মিছিলটি শুরু হয়। কারবালার ঐতিহাসিক ও শোকাবহ স্মৃতি স্মরণে হাজারো শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ ও ভক্তরা খালি পায়ে বুক চাপড়িয়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে মাতম করে মিছিলে অংশ নেন। সুশৃঙ্খল এই মিছিলটি পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান থেকে শুরু হয়ে বকশি বাজার লেন, আলিয়া মাদ্রাসা মোড়, বকশী বাজার মোড়, উমেশ দত্ত রোড, উর্দু রোড মোড়, হরনাথ ঘোষ রোড এবং লালবাগ চৌরাস্তা মোড় অতিক্রম করে।
এরপর গোর-এ শহীদ মাজার মোড়, এতিমখানা মোড়, আজিমপুর চৌরাস্তা মোড়, ইডেন কলেজ ও নীলক্ষেত মোড় হয়ে মিছিলটি মিরপুর রোড ধরে ঢাকা কলেজ এবং সাইন্সল্যাব মোড় পার হয়। সর্বশেষ ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোড, বিজিবির ৪ নম্বর গেট ও সাত মসজিদ রোড হয়ে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে অবস্থিত প্রতীকী ‘কারবালা’ প্রান্তে গিয়ে দুপুর আড়াইটায় মিছিলটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
ঐতিহাসিক এই বড় শোক মিছিলটি নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে পূর্ব থেকেই অত্যন্ত কঠোর ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে মিছিলে যেকোনো ধরনের দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি ও লাঠির মতো ধারালো বা ভারী অস্ত্রশস্ত্র বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।
মিছিলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো রুটজুড়ে ডিএমপির বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা নজরদারি মোতায়েন ছিল। ডিএমপি কমিশনারের সরাসরি নির্দেশনায় সব স্তরের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা মাঠপর্যায়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন, যার ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই এবারের তাজিয়া মিছিলটি সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১০ মহররম পবিত্র আশুরা মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত শোকাবহ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন; আর এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান ও বড় কাটারা ইমামবাড়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন ইমামবাড়ায় দিনব্যাপী বিশেষ শোকানুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ৫ দিন বজ্রসহ ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া এক বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিনপটিক অবস্থায় জানিয়েছে, বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। এমন আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন বিভাগে আগামী পাঁচ দিন টানা ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া এই নির্দিষ্ট সময়ে দেশের সব কটি বিভাগেই কম-বেশি বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সংস্থাটি তাদের পূর্বাভাসে স্পষ্ট করেছে।
আবহাওয়ার এই বিশেষ বার্তায় অঞ্চলভিত্তিক বৃষ্টিপাতের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে প্রথম ৩ দিন এবং পরবর্তী দুই দিন রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে দেশের কোথাও কোথাও বর্ষণের তীব্রতা বাড়লেও কিছু অঞ্চলে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজশাহী ও নীলফামারী জেলাসহ সমগ্র খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরও কিছুকাল অব্যাহত থাকতে পারে।
তাপমাত্রার ওঠানামার বিষয়ে অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে শনিবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার ও সোমবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আবার কিছুটা কমতে পারে।
এ ছাড়া আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বর্ধিত দিনগুলোর আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ দিন পার হওয়ার পরও দেশে বৃষ্টিপাতের এই বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হবে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা অসাধু চক্রের তৎপরতার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কর্মপরিবেশ যেন আন্দোলন বা বিভিন্ন দাবি দাওয়ার কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষা প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমরা একদলীয় রাষ্ট্র বা একদলীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। এক সময় সবাই আওয়ামী লীগ করতো, এখন অনেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হচ্ছে—এটা আমরা বুঝতে পারি, আমরা জানি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার দেশের ডলার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চুরি করেছে। পৃথিবীতে এমন চুরির নজির নেই, শুধু বাংলাদেশেই এটা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ, শিক্ষা বোর্ড সচিব নূর মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, রংপুর বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: নিউজবাংলা
‘২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’উপলক্ষে পিরোজপুরে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে পিরোজপুর সদর উপজেলা চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে টাউন ক্লাব মাঠে আলোচনা সভা ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর (এমপি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী (এমপি), জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মাদক শুধু একটি জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দেয়। আমাদের তরুণ সমাজই দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি। এই প্রজন্মকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। কেবল প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়, যদি না আমরা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সচেতন হই। প্রত্যেক অভিভাবককে তাদের সন্তানদের বন্ধু-বান্ধব ও চলাফেরার বিষয়ে অধিকতর যত্নশীল হতে হবে।”
প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “আমরা পিরোজপুরকে একটি আদর্শ ও মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা সমাজের শত্রু, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আসুন, আমরা সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলি।”
অনুষ্ঠান শেষে মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সভায় বক্তারা পিরোজপুর জেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখতে প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য