যশোর পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণে বাধা নেই

যশোর পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণে বাধা নেই

রিটে বলা হয়েছিল, যশোর পৌরসভার সীমানা বর্ধিত করা হয়েছে। নতুন ৯টি মৌজা যশোর পৌরসভার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট হয়েছে। গেজেট হওয়ার পরও নতুন মৌজাগুলোকে কোনো ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ এই ৯ মৌজার অধিবাসীদের কাছ থেকে টাক্স নেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বেআইনি। এটা সম্পূর্ণ আইনের লঙ্ঘন।

সীমানা জটিলতা-সংক্রান্ত এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করায় যশোর পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট বাতিলে চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগও।

এর ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার নির্বাচনের ভোট গ্রহণে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আপিল বিভাগ সোমবার এই আদেশ দেয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস কে মোরশেদ। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু ও পংকজ কুমার কুণ্ডু।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোর্শেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেছিল চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগ চেম্বার আদালতের আদেশটি বহাল রেখেছেন। ফলে এই পৌরসভার নির্বাচনে আর কোনো বাধা রইল না।’

এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করেছিল হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হলে চেম্বার আদালত সেটি স্থগিত করে আপিল বিভাগে পাঠায়। এরপর আপিল বিভাগও সেটি বহাল রাখে।

রিটে বলা হয়েছিল, গত বছর যশোর পৌরসভার সীমানা বর্ধিত করা হয়েছে। নতুন ৯টি মৌজা যশোর পৌরসভার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট হয়েছে। গেজেট হওয়ার পরও নতুন মৌজাগুলোকে কোনো ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ এই ৯ মৌজার অধিবাসীদের কাছ থেকে টাক্স নেয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বেআইনি। এটা সম্পূর্ণ আইনের লঙ্ঘন।

তাই যশোর পৌরসভায় নতুন সংযুক্ত হওয়া এলাকার বাসিন্দা মো. আবদুল্লাহসহ তিন জন নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন।

যশোর সদর পৌরসভায় পঞ্চম ধাপে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ঠিক করা হয়েছে। এই ধাপে ৩১ পৌরসভায় ভোট হওয়ার কথা।

এর আগে ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ২৪টি পৌরসভায়, ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৬০টি পৌরসভায় ও তৃতীয় ধাপে ৬২টি পৌরসভায় ৩০ জানুয়ারি ভোট হয়।

ষষ্ঠ দফার ভোটের মাধ্যমে দেশের তিন শতাধিক পৌরসভার নির্বাচন শেষ হওয়ার কথা আগামী ৭ এপ্রিল।

আরও পড়ুন:
রঙিন পোস্টার: ৪ প্রার্থীর এজেন্টকে জরিমানা
ক্যাম্পে ককটেল ‘বিস্ফোরণ’, সভায় বাধার অভিযোগ
নির্বাচনি পোস্টারের আবর্জনা ১১.৭২ টন!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের আরও ৬ নেতা বহিষ্কার
নির্বাচনি প্রচার শেষে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জামালপুরে নৌকার জোয়ার, ধানের শীষ নিষ্প্রভ

জামালপুরে নৌকার জোয়ার, ধানের শীষ নিষ্প্রভ

এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন ছানু। বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন। এ ছাড়া রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মুফতি মোস্তফা কামাল।

জামালপুর পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এককাট্টা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তাদের প্রচারে জোয়ার চলছে।

তবে নানা প্রতিকূলতা আর বিভক্তির কারণে হতাশা চলছে বিএনপিতে। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে অনেকটাই নীরব নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।

এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন ছানু। বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন। এ ছাড়া রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মুফতি মোস্তফা কামাল।

২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ সব অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতা-কর্মী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।

প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় এবারই সব চেয়ে কম বয়সে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ছানোয়ার হোসন ছানু। তিনি পাথালিয়া এলাকার বাসিন্দা। নিজ এলাকার কয়েক শ মানুষ তার সমর্থনে মাঠে নেমেছেন। তারা নিজ উদ্যোগে যার যার অবস্থান থেকে নৌকার পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তা ছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীরা তো আছেনই। এতে গোটা পৌর এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নৌকার জোয়ার চলছে।

ছানু করোনা মহামারির সময় পৌর এলাকায় দলমতনির্বিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যাপক ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। এতে তার জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে গেছে।

তিনি সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের খুবই ঘনিষ্ঠ।

ছানোয়ার হোসেন ছানু নিউজবাংলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃতে সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। জামালপুরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলমান। আরও অনেক বড় বড় প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচিত হলে মির্জা আজমের নেতৃত্বে জামালপুর পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তরিত করব।’

এদিকে বিএনপি প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন পর পর দুইবার জামালপুর পৌরসভার যথাক্রমে চেয়ারম্যান ও মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। তবে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মির্জা সাখাওয়াতুর আলম মণির কাছে পরাজিত হন। এবারও তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে প্রচারে অনেকটাই নিষ্প্রভ। দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে তেমন নেই।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা নানাভাবে বাধা দিচ্ছেন। তার কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি ও মারধর করা হচ্ছে। রিটার্নিং অফিসারকে একাধিকবার লিখিতভাবে অবিহিত করেছেন। কিন্তু প্রতিকার পাননি। এখানে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ পৌরসভায় তিনজন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও ১২টি ওয়ার্ডে ১৩ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও ৪১ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিল প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

মোট ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৭২৭ জন। এর মধ্যে ৫২ হাজার ১৫১ জন পুরুষ ও ৫৬ হাজার নারী। এবার তারা ইভিএমের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

আরও পড়ুন:
রঙিন পোস্টার: ৪ প্রার্থীর এজেন্টকে জরিমানা
ক্যাম্পে ককটেল ‘বিস্ফোরণ’, সভায় বাধার অভিযোগ
নির্বাচনি পোস্টারের আবর্জনা ১১.৭২ টন!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের আরও ৬ নেতা বহিষ্কার
নির্বাচনি প্রচার শেষে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

শেষ মুহূর্তে প্রচারে জমজমাট জয়পুরহাট

শেষ মুহূর্তে প্রচারে জমজমাট জয়পুরহাট

জয়পুরহাট পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক (বামে) ও বিএনপির প্রার্থী শামছুল হক (ডানে)। ছবি: নিউজবাংলা

প্রফেসর পাড়ার এক ভোটার বলেন, ‘যখনই নির্বাচন আসে, প্রার্থীরা আমাদের কাছে এসে ভোট চান আর বলতে থাকেন এটা দেব সেটা দেব। যা করতে পারবেন তাও দিতে চান, আবার যা পারবেন না তাও দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচিত হলেই সব ভুলে যান।’

এগিয়ে আসছে পৌরসভা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপের ভোটের দিন। সব কিছু ঠিক থাকলে আর মাত্র দুই দিন পরই ভোট নেয়া হবে জয়পুরহাট পৌরসভায়।

এই হিসেবে প্রার্থীদের হাতে প্রচারের সময় কম। শনিবার মধ্যরাতের পর আর গণসংযোগ করতে পারবেন না তারা। শেষ মুহূর্তের আগে তাই প্রচারে মুখর নির্বাচনি এলাকা।

জয়পুরহাটে শান্তিপূর্ণভাবে চলছে প্রচার। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নেই প্রার্থীদের তেমন কোনো অভিযোগ।

সারা শহর ছেয়ে গেছে নির্বাচনি পোস্টারে। একটু পরপরই চলছে বিভিন্ন প্রার্থীর মিছিল। ভোট চেয়ে ভোটারদের দরজায় কড়া নাড়ছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

জয়পুরহাট পৌরসভায় এবার মেয়র পদে লড়ছেন পাঁচ প্রার্থী। নেই কোনো দলের বিদ্রোহী প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে জয়পুরহাট পৌরসভার জনগণ আমাকে মেয়র নির্বাচিত করেছিল। আমি গত পাঁচ বছরে যে উন্নয়ন করেছি, বিগত ৪০ বছরেও তা হয়নি। আমি আশা করি, জনগণ এসব বিচার করে এবং আগামীতে জয়পুরহাট পৌরসভার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আমাকে আবারও জয়যুক্ত করবে।’

বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শামছুল হকও তার জয়ের বিষয়ে আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছি। মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। যদি সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট হয় তাহলে আমি নির্বাচিত হবো।’

মেয়র পদের বাকি তিন প্রার্থী হলেন জগ মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিবুল আলম, ইসলামী শাসনতন্ত্রের জহুরুল ইসলাম এবং নারকেল গাছ প্রতীকের স্বতন্ত্র বেদারুল ইসলাম বেদিন।

২৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রথম শ্রেণির এই নির্বাচনে ভোট দেবেন ৫২ হাজার ২৭৩ জন।

পৌরসভার আমতলী এলাকার ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক জানান, সব দল যেন সুন্দরভাবে নির্বাচন করতে পারে এটাই তার আশা।

প্রফেসর পাড়ার এক ভোটার বলেন, ‘যখনই নির্বাচন আসে, প্রার্থীরা আমাদের কাছে এসে ভোট চান আর বলতে থাকেন এটা দেব সেটা দেব। যা করতে পারবেন তাও দিতে চান, আবার যা পারবেন না তাও দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচিত হলেই সব ভুলে যান।’

তাজুর মোড় এলাকার আরেক ভোটারেরও একই অভিযোগ, ভোট শেষে প্রার্থীরা সব অঙ্গীকার ভুলে যান।

জয়পুরহাট পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৭০ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ১৬ জন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সার্বক্ষণিক টহল থাকবে। আশা করি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’

আরও পড়ুন:
রঙিন পোস্টার: ৪ প্রার্থীর এজেন্টকে জরিমানা
ক্যাম্পে ককটেল ‘বিস্ফোরণ’, সভায় বাধার অভিযোগ
নির্বাচনি পোস্টারের আবর্জনা ১১.৭২ টন!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের আরও ৬ নেতা বহিষ্কার
নির্বাচনি প্রচার শেষে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

কালকিনির মেয়র প্রার্থীকে ‘অপহরণ’ তদন্তে কমিটি

কালকিনির মেয়র প্রার্থীকে ‘অপহরণ’ তদন্তে কমিটি

নির্বাচন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটি প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ করবে।

মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনের আগে মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজকে পুলিশের গাড়িতে ‘তুলে নেয়ার ঘটনা’ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন।

তিন সদস্যের এই কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক হুমায়ুন কবিরকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন নির্বাচন কমিশনের শৃঙ্খলা ও আপিল বিভাগের উপসচিব খোরশেদ আলম এবং আইনবিষয়ক শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব আবু ইব্রাহীম।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি কালকিনি পৌর এলাকায় প্রচারের সময় মশিউরকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নেয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান তার সমর্থকরা।

নিখোঁজের ১৩ ঘণ্টা পর মশিউর বাড়ি ফিরে আসেন। সেসময় তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে তাকে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও পুলিশ জানায়, মশিউর ঢাকায় যেতে চাইলে তাকে সহায়তা করা হয়।

নির্বাচন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটি প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ করবে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তবে বুধবার তা জানতে পারেন জেলার সাংবাদিকরা।

প্রথম শ্রেণির কালকিনি পৌরসভায় ভোট হওয়ার কথা ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। তবে ভোট গ্রহণের তিনদিন আগে তা স্থগিত করা হয়।

আরও পড়ুন:
রঙিন পোস্টার: ৪ প্রার্থীর এজেন্টকে জরিমানা
ক্যাম্পে ককটেল ‘বিস্ফোরণ’, সভায় বাধার অভিযোগ
নির্বাচনি পোস্টারের আবর্জনা ১১.৭২ টন!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের আরও ৬ নেতা বহিষ্কার
নির্বাচনি প্রচার শেষে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

বিএনপির প্রচারে আ. লীগের বাধার অভিযোগ

বিএনপির প্রচারে আ. লীগের বাধার অভিযোগ

বিএনপি প্রার্থী মে. জহিরুল হক বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নানা অভিযোগ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

মোট পাঁচটি নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনের বিধি থাকলেও নৌকার পক্ষে ৫০টির বেশি ক্যাম্প স্থাপনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তা ছাড়া নৌকার পক্ষে শত শত হোন্ডা নিয়ে মিছিল করার অভিযোগ আছে। বিএনপি মনোনীত এজেন্টদের বাড়ি গিয়ে পুলিশ হয়রানি করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর প্রচারে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএনপির প্রার্থী মে. জহিরুল হক বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, পৌরসভার নির্বাচন বিধিমালার ৩ ধারা লঙ্ঘন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল চত্বরে বিরাটাকার নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করে নৌকার প্রচার চালানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনি আচরণ বিধিমালার-১১-এর ২ ধারা লঙ্ঘন করে দলীয় নেতা-কর্মীদের ব্যবহার করে প্রশাসনের সহযোগিতায় মিছিল ও হোন্ডা মিছিল করছেন নৌকার প্রার্থী।

তিনি আরও বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি ১২ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি এলাকায় মাত্র পাঁচটি নির্বাচনি ক্যাম্প বা অফিস স্থাপনের কথা। কিন্তু নৌকার পক্ষে ৫০টির বেশি ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে পৌর শহরের ৩নং ওয়ার্ডে ৫টি, ৫নং ওয়ার্ডে ৬টি, ৭নং ওয়ার্ডে শুধু গোকর্ণঘাটেই ৬টি ক্যাম্প করে বেআইনিভাবে নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছে।

তার আরও অভিযোগ, আচরণ বিধিমালার ১৫ ধারা লঙ্ঘন করে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বরাত দিয়ে ভোটারদের নৌকায় প্রকাশ্যে ভোট দিতে বলছেন। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সরাসরি ইন্ধনে ও নির্দেশে পুলিশ ইতিমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে বিএনপির মনোনীত এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থীকে নিয়ে সমর্থকরা নিয়মতান্ত্রিক প্রচার ও গণসংযোগ করছেন। তারপরও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা শত শত লোক নিয়ে মিছিল করলেও মোবাইল কোর্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি প্রার্থী জহিরুল হক বলেন, বর্তমান এই অবস্থায় কোনোভাবেই সুষ্ঠু ভোটের লক্ষণ দেখছেন না তিনি। নিজের জীবন রক্ষা নিয়ে সংশয়ে আছেন তিনি। সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নৌকার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচন বিধিমালা ২০১৫ এর বিধি ২ (১২) ধারা লঙ্ঘন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী নির্বাচনি এলাকার আশপাশে নৌকার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে এই আইন অনুযায়ী সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে প্রচারে অংশ নিয়ে তিনি নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘন করছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি পৌরসভার ৬নং নৌকা মার্কার নির্বাচনি প্রচার সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নৌকার পক্ষে ওপেন ভোট দেয়ার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। যা পৌরসভা নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০১০-এর বিধি ২ (২৭) ধারা লঙ্ঘন।

এ ছাড়া নৌকার নির্বাচনি অবৈধ ক্যাম্প, নির্বাচনি প্রচারণায় বাধাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নৌকায় ওপেন ভোট দেয়ার কথা কিছুই বলি নাই। তবে অন্য কোনো সমর্থক যদি বলে থাকে, তা আমার জানা নাই।’

তিনি আরও বলেন, যে ক্যাম্পগুলো অভিযোগে দেখানো হয়েছে, তা নৌকার নয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এরই মধ্যে বিএনপি প্রার্থীর বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রতিকারও করা হচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুল হকও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
রঙিন পোস্টার: ৪ প্রার্থীর এজেন্টকে জরিমানা
ক্যাম্পে ককটেল ‘বিস্ফোরণ’, সভায় বাধার অভিযোগ
নির্বাচনি পোস্টারের আবর্জনা ১১.৭২ টন!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের আরও ৬ নেতা বহিষ্কার
নির্বাচনি প্রচার শেষে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

নৌকার প্রচারে অর্ধশতাধিক মাইক্রোবাস ও ৫০০ বাইক

নৌকার প্রচারে অর্ধশতাধিক মাইক্রোবাস ও ৫০০ বাইক

বেলা দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মাইকিং করা যাবে বলে উল্লেখ আছে। শুধু তাই নয়, রাত আটটার পর কোনো প্রার্থী গণসংযোগও চালাতে পারবেন না। কিন্তু পৌর এলাকার অনেক স্থানেই দেখা যাচ্ছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ করছেন প্রার্থীরা। এ ছাড়া প্রচারে মোটরসাইকেল ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও তাও মানছেন না অনেকে।

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নৌকার প্রচার চালাতে শনিবার বিজয়নগর উপজেলা থেকে অর্ধশতাধিক মাইক্রোবাস ও ৫০০ মোটারসাইকেল নিয়ে নেতা-কর্মীরা ঢোকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায়।

কেউ কেউ ছোট পিকআপ ভ্যানে করে নৌকা প্রতীকের মিছিল নিয়ে শহরে আসেন। জোরে জোরে মোটরসাইকেলে হর্ন বাজিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা দাবড়ে বেড়ান পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা।

আচরণবিধির ২০-এ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনো প্রকার প্রচার চালাতে পারবেন না। এ বিধিও মানছেন না প্রার্থীরা।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর প্রায় প্রত্যেক প্রার্থীই মসজিদেরর ভেতরে প্রচার চালান। ভোটারদের সঙ্গে কোলাকুলিসহ তাদের কাছে ভোট চান।

তা ছাড়া বেলা দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মাইকিং করা যাবে বলে উল্লেখ আছে। শুধু তাই নয়, রাত আটটার পর কোনো প্রার্থী গণসংযোগও চালাতে পারবেন না। কিন্তু পৌর এলাকার অনেক স্থানেই দেখা যাচ্ছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ করছেন প্রার্থীরা। এ ছাড়া প্রচারে মোটরসাইকেল ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও তাও মানছেন না অনেকে।

এ পৌরসভায় মেয়র পদে মোট ছয় জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের নায়ার করিব, বিএনপির জহিরুল হক খোকন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল কারীম, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মাহমুদুল হক ভূঁইয়া ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নজরুল ইসলাম।

প্রথম ধাপ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও চতুর্থ ধাপে আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে দুটিতেই মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র নায়ার কবির।

উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শেখ এমরান শনিবার বলেন, ‘বিজয়নগর থেকে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করতে এসেছি। উপজেলা অধিকাংশ নেতা-কর্মী আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সকলেই পৌর এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চেয়েছেন নৌকা প্রার্থীর পক্ষে। তা ছাড়া উপজেলা থেকে প্রায় ৩০০ মোটরসাইকেল মিছিল করতে করতে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।’

তাদের এই কার্যকলাপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সম্মিলিত সংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক আব্দুন নুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিজয়নগর থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে যেভাবে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে নেতা-কর্মীরা এসেছেন, তাতে শহরের ভেতর ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া মোটরসাইকেলে বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে মিছিল করা হয়। এতে এলাকাবাসীর কান ঝালাপালা হয়ে যায়। প্রতিনিয়ত এভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা কার্যক্রম দেখেও প্রশাসন নীরব।’

অন্যদিকে দলের চেয়ে এখানে ব্যক্তি, আঞ্চলিকতা ও গোষ্ঠীভিত্তিক বিভাজন জয়-পরাজয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন।

মাহমুদুল হক ভূঁইয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকমিটির সদস্য ছিলেন। তবে কিছু দিন আগে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে তাকে অস্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তবে তিনি একাধিকবার মেয়র পদে দাঁড়ানোয় এবং করোনাকালে মানবসেবামূলক নানা কার্যক্রমের সুবাদে অনেকের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি ভোটারের সঙ্গে তার বেশ সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নায়ার কবির বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আমার কোনো সমস্যা হবে না। নৌকার বিরোধিতা করায় জেলা আওয়ামী লীগ থেকে তাকে (মাহমুদুল হক ভূঁইয়া) অস্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের কেউই তার সঙ্গে নেই। আমি নিজের বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’
15

এ বিষয়ে মাহমুদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু সুকৌশলে আমাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে দলমত-নির্বিশেষে পৌরবাসী আমাকে এখন ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। আমার বিজয় সুনিশ্চিত।’

ভোটারদের অনেকে বলছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে অনেকটা চাপে আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নায়ার কবির। আর আওয়ামী লীগের এই ভোট-ভাগবাঁটোয়ারার কল্যাণে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী।

ধানের শীষের প্রার্থী মো. জহিরুল হক খোকন বলেন, ‘যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই পৌরবাসী মেয়র নির্বাচন করবেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আমার অনেকটা সুবিধা হয়েছে, বিষয়টা তেমন নয়। পৌরবাসীর কল্যাণে যোগ্যতা ও দক্ষতার দিক বিবেচনা করে পৌরবাসী আমাকে নির্বাচিত করবেন বলে আমি মনে করি। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা জরিমানা করছেন। তা ছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে আমরা তা গ্রহণ করে ব্যবস্থা নিব।’

তিনি আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় ১২টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ১ লাখ ২০ হাজার ৫০৪ জন।

এখানে মেয়র পদে ছয় জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আরও পড়ুন:
রঙিন পোস্টার: ৪ প্রার্থীর এজেন্টকে জরিমানা
ক্যাম্পে ককটেল ‘বিস্ফোরণ’, সভায় বাধার অভিযোগ
নির্বাচনি পোস্টারের আবর্জনা ১১.৭২ টন!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের আরও ৬ নেতা বহিষ্কার
নির্বাচনি প্রচার শেষে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

রায়পুরে আচরণবিধি ‘মানছে না’ আ. লীগ

রায়পুরে আচরণবিধি ‘মানছে না’ আ. লীগ

প্রার্থীদের প্রচারে সরগরম পৌর এলাকা। ছবি: নিউজবাংলা

পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অলিতে গলিতে ঝুলছে সাদাকালো পোস্টার। নৌকার পোস্টার প্রচুর দেখা গেলেও ধানের শীষের পোস্টার নেই বললেই চলে। তবে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন বিএনপি-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করে’ ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ, তার প্রচার মাইক ভাঙচুর ও গণসংযোগে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ভয়ে তার কর্মী-সমর্থকরা প্রচারে নামতে পারছেন না।

২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন ছয় জন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট, বিএনপির এবিএম জিলানী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল খালেক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির আহম্মদ প্রতীক (মোবাইল ফোন), নাছির উদ্দিন প্রতীক (জগ) ও মো. মাসুদ উদ্দিন প্রতীক (নারিকেল গাছ)।

পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অলিতে গলিতে ঝুলছে সাদাকালো পোস্টার। নৌকার পোস্টার প্রচুর দেখা গেলেও ধানের শীষের পোস্টার নেই বললেই চলে।

তবে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন বিএনপি-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালচ্ছেন সাবেক সাংসদ হারুনুর রশীদ, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন নৌকার কর্মী-সমর্থকরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রায়পুর মৎস্য গবেষণা ও সংরক্ষণ দপ্তরের সভাকক্ষে রোববার বিকেলে আলেচনা সভার আয়োজন করে জেলা আওয়ামী লীগ। সভায় পৌর মেয়র এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডের কাউন্সিলদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এতে আওয়ামী লীগসমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য দলের কাউন্সিলর প্রার্থীরা অংশ নেন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌর এলাকায় মেয়র-কাউন্সিলররা দিনরাত চালাচ্ছেন প্রচার। ছবি: নিউজবাংলা

আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্রিক বিভিন্ন আলোচনা করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী নিশ্চিত করেছেন।

তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনি কোনো আলোচনা হয়নি, সভায় শুধুমাত্র সাংগঠনিক আলোচনা করা হয়েছে। সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষে নির্বাচনি আলোচনাকে কেন্দ্র করে পৌরবাসীর মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের এই অনুষ্ঠানে চিহ্নিত জামায়াত-শিবিরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাইন উদ্দিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ডালিম প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন এক সময়ের দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার সোহাগ। কিন্তু আজ আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ এই সভাতে তিনিও যোগ দিয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের সমর্থন দাবি করেন। জেলা বা উপজেলা নেতারা কোনো প্রতিবাদ করেননি। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক।’

এদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী এবিএম জিলানী বলেন, ‘আমি এর আগে দুই বার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। এবারও দল আমাকে সমর্থন করেছে। বর্তমানে সরকার দলীয় লোকজন আমাকে প্রচার চালাতে দিচ্ছেন না। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আমার লোকদের ভয় দেখাচ্ছেন। এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোথাও কোনো লাভ হয়নি।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট বলেন, ‘আমরা কাউকে প্রচার চালাতে নিষেধ করিনি। কেউ বাধা দিচ্ছে না। সবাই সবার প্রচার চালাচ্ছে। তাদের যেসব অভিযোগ, সেসবের কোনো ভিত্তি নেই। জামায়াত-বিএনপি মিলে আমাদের বিরুদ্ধে গুজব রটাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ উন্নয়নের পক্ষে থাকবে। আমি যেখানে যাচ্ছি, ভোটাররা বলছেন আমার সঙ্গে থাকবেন। দলের সবার সর্বাত্মক সহযোগিতাও পাচ্ছি।’

রায়পুরকে ১৯৯৪ সালে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। ৯.০৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভার মোট ভোটার ২৩ হাজার ৬৩১ জন।

পৌর মেয়র পদে ছয় জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫১ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ছয় জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টার্নিং অফিসার মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি। ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্বহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বলা হয়েছে। নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জেলা আওয়ামী লীগ রায়পুর মৎস্য গবেষণা ও সংরক্ষণ দপ্তরে সভার আয়োজন করার বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
রঙিন পোস্টার: ৪ প্রার্থীর এজেন্টকে জরিমানা
ক্যাম্পে ককটেল ‘বিস্ফোরণ’, সভায় বাধার অভিযোগ
নির্বাচনি পোস্টারের আবর্জনা ১১.৭২ টন!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের আরও ৬ নেতা বহিষ্কার
নির্বাচনি প্রচার শেষে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

প্রত্যাশা আকাশচুম্বী, প্রাপ্তিতে হতাশা

প্রত্যাশা আকাশচুম্বী, প্রাপ্তিতে হতাশা

হবিগঞ্জ পৌরসভার চেয়ার বদল হয়েছে অনেকবার। কিন্তু বদলায়নি পৌরবাসীর ভাগ্য। নানা সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে বসবাস করতে হচ্ছে প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার বাসিন্দাদের।

স্বপ্নের শহর হবে হবিগঞ্জ পৌরসভা, এমন প্রত্যাশা ছিল বাসিন্দাদের। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ তো দূরের থাক, পৌরবাসীকে বাঁচতে হচ্ছে হাই-হুতাশ করে।

পৌরসভার চেয়ার বদল হয়েছে অনেকবার। কিন্তু বদলায়নি পৌরবাসীর ভাগ্য। নানা সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে বসবাস করতে হচ্ছে প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভার বাসিন্দাদের।

২৮ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ সদর পৌরসভায় ভোট সামনে রেখে ভোটাররা জানিয়েছেন তাদের চাওয়াপাওয়ার কথা।

বছর বছর কর বাড়লেও, বাড়েনি সুযোগসুবিধা। অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট, যানজট, অকেজো ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনার স্তূপ, অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা নিয়েই বাস করতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

১৮৮১ সালে ৯.৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে হবিগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয়। পরে ১৯৯০ সালে হবিগঞ্জ পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। এ পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ৯৫ হাজার।

যানজটে নাকাল পৌরবাসী

হবিগঞ্জ পৌরসভার সবচেয়ে বড় সমস্যা যানজট। এই পৌরসভার সড়কগুলো সরু হওয়ায় দিনের পর দিন যানজট লেগেই থাকে। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে থেকে চৌধুরী বাজার পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটারের রাস্তা। অথচ এই সড়কে প্রতিদিন চলাচল করে পাঁচ হাজারেরও বেশি টমটম ইজিবাইক। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার রিকশা।

নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, ছোট শহর হবিগঞ্জে ১ হাজার ২০০ টমটম-ইজিবাইকের বেশি চলাচল করা সম্ভব নয়। অথচ পাঁচ হাজারের বেশি টমটম-ইজিবাইকের অনুমোদন দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে নতুন করে আরও শতাধিক টমটম-ইজিবাইকের অনুমোদন দিয়েছে পৌরসভা। এ কারণে যানজটের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকেই দুষছেন তারা।

হবিগঞ্জ পৌরসভার শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা পল্লব চৌধুরী বলেন, ‘শহরের যানজটের অবস্থা কী বলব। প্রতিবছর ট্যাক্স বেড়ে দ্বিগুণ হয়। বাড়ি বানাতে ট্যাক্স লাগে, গাছ কাটতে ট্যাক্স লাগে। কিন্তু এত টাকা ট্যাক্স দিয়েও আমাদের সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি পায়নি। যানজটের কারণে শহরে বের হওয়া যায় না।’

মামুনুর রহমান নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘হবিগঞ্জ ছোট্ট একটা শহর। অথচ এই শহরে প্রতিদিন যত টমটম চলে তার জন্য এই যানজট। তার জন্য কে দায়ী? অবশ্যই পৌর কর্তৃপক্ষ। তারা অনুমোদন না দিলে এগুলো চলাচল করতে পারত না।’

অকেজো ড্রেনেজ ব্যবস্থা

হবিগঞ্জ শহরে ৫৩.৬ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ড্রেনের অবস্থাই নাজুক। হবিগঞ্জ শহরের প্রধান দুটি সড়কের দুই পাশের ড্রেনগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। কোথাও ড্রেন ভেঙে গেছে, কোথাও ভরাট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনগুলো সংস্কার ও পরিষ্কার না করার কারণে পানিনিষ্কাশন হয় না। যে কারণে অল্প বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডের ছোট ছোট ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। এ ছাড়া পৌরসভার চিড়িয়াকান্দি, কর্মকার পট্টি ও ইনাতাবাদ এলাকায় বড় বড় ড্রেনগুলোর অবস্থাও একই রকম। ড্রেনগুলোতে ময়লা পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

অকেজো ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টি হলে পানিতে তলিয়ে যায় সার্কিট হাউস, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরও। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে যায়।

স্থানীয়রা বলছেন, পৌর এলাকায় গত ১০ বছরে ৫০টির বেশি পুকুর, জলাশয় ও খাল ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বাসাবাড়িসহ নানা স্থাপনা। ফলে বৃষ্টির পানি যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে কর্মকার পট্টির বাসিন্দা বিপ্লব রায় সুজন বলেন, ‘অনেক বছর ধরে ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে। আমরা কাউন্সিলরসহ মেয়রকে বারবার বললেও তারা ড্রেনগুলো পরিষ্কারের কোনো ব্যবস্থাই নেননি।’

চিড়াকান্দি এলাকার বাসিন্দা এলাকার সৈয়দ ইব্রাহী বলেন, ‘মাত্র ১ ঘণ্টা সময় বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়। এ সময় ড্রেনের যত ময়লা আবর্জনা রাস্তায় উঠে পড়ে। কোনো কোনো বাসা বাড়িতেও ময়লা পানি ঢুকে যায়। আমরা কতটা কষ্টে আছি, সেটা কেবল আমরাই জানি।’

গলার কাঁটা ময়লার স্তূপ

শহরের যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। পাশাপাশি শহরের ময়লা ফেলা হচ্ছে খোয়াই নদীর পার ও বাইপাস সড়কের দুই পাশে। কয়েক বছর আগে জমি কিনেও নানা জটিলতায় থমকে আছে পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ।

ময়লার দুর্গন্ধে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বাইপাস সড়কটি। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে জেলা আধুনিক স্টেডিয়াম, জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, আদালত, আনসার ভিডিবি ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকায়। এতে ক্ষোভের অন্ত নেই স্থানীয় বাসিন্দাদের।

বাইপাস সড়কের দুই পাশে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে কয়েকবার চিঠি দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। সেই সঙ্গে পরিবেশবাদীদের আন্দোলন তো আছেই। তাতেও কোনো ফল মিলছে না।

এ ব্যাপারে জেলা বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘পৌরসভার বিভিন্ন স্থানের হাজার হাজার টন ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে শহরের বাইপাস সড়কে। রাস্তার দুই পাশের সরকারি খালও পৌরসভার ময়লা ফেলে ভরাট করে ফেলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ময়লার দুর্গন্ধে নান সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। মাঝেমধ্যে এই ময়লা স্তূপে পৌরসভার কর্মীরা আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন। এতে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে এলাকার পরিবেশ আরও বিষাক্ত করে তুলছে।’

15

লেখক তাহমিনা বেগম গিনি বলেন, ‘হবিগঞ্জ একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। অথচ এ পৌরসভার নাগরিকদের সমস্যার শেষ নেই। বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে প্রতিদিন লড়তে হয় পৌরসভার বাসিন্দাদের। অথচ সমস্যাগুলো সমাধানে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথাই দেখা যায় না।’

এ ব্যাপারে মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘উপনির্বাচনের পাস করার পর আমি মাত্র ১৮ মাস সময় পেয়েছি। কিন্তু এই সময়েও হবিগঞ্জ পৌরসভার ২১ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করেছি।

‘শহরের জলাবদ্ধতা অনেকটা কমিয়ে এনেছি। যানজট নিরসনে রাস্তা প্রশস্তে কাজ ও ড্রেন নির্মাণ চলমান রয়েছে। আশা করি এবার নির্বাচনে জয়ী হলে দ্রুত একটি আধুনিক পৌরসভা উপহার দিতে পারব।’

আরও পড়ুন:
রঙিন পোস্টার: ৪ প্রার্থীর এজেন্টকে জরিমানা
ক্যাম্পে ককটেল ‘বিস্ফোরণ’, সভায় বাধার অভিযোগ
নির্বাচনি পোস্টারের আবর্জনা ১১.৭২ টন!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের আরও ৬ নেতা বহিষ্কার
নির্বাচনি প্রচার শেষে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg