চতুর্থ দফায়ও আ.লীগ আর স্বতন্ত্র

চতুর্থ দফার পৌরসভার নির্বাচনে কেন্দ্রে কেন্দ্রে দেখা গেছে ভোটারদের এমন ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

চতুর্থ দফায়ও আ.লীগ আর স্বতন্ত্র

মেয়র পদে নৌকার প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৪৮টিতে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মেয়র হয়েছেন চার পৌরসভায় এবং বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয় পেয়েছেন মাত্র একটি পৌরসভায়। নির্বাচনি সহিংসতার কারণে দুই পৌরসভার ফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে।

কোথাও বর্জন, কোথাও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, কোথাও সংঘাতের মধ্য দিয়ে চতুর্থ ধাপের পৌর নির্বাচনেও গেল তিন ধাপের মতোই বড় জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

রোববার দিবাগত রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত ৫৫ পৌরসভার মধ্যে ৫৩টিরই বেসরকারি ফল পাওয়া যায়। এতে দেখা গেছে, মেয়র পদে নৌকার প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৪৮টিতে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মেয়র হয়েছেন চার পৌরসভায় এবং বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয় পেয়েছেন মাত্র একটি পৌরসভায়। নির্বাচনি সহিংসতার কারণে দুই পৌরসভার ফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে।

এর আগে ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপের ভোটে ৬২ পৌরসভার মধ্যে ৪৫টিতেই মেয়র হন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিএনপি জয় পায় কেবল তিনটিতে।

১৪টিতে জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যাদের ১০ জনই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন।

প্রথম দুই দফায় পরিবেশ ছিল অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ। বিতর্কও ছিল কম। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় ভালো ভোট হওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের বাধা দেয়া, সহিংসতাও দেখা গেছে।

তবে গত কয়েক বছরের মধ্যে তৃণমূলের এই ভোটে কেন্দ্রে ভোটার ফেরা নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

চার ধাপে বিএনপির ৩৫ জনের মতো প্রার্থী কারচুপিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন।

চতুর্থ দফা ভোটের আগে দুটি এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাদের ‘নৌকায় ভোট না দিলে কেন্দ্রে’ না যাওয়ার হুমকি নিয়ে ছড়ায় উত্তাপ, উৎকণ্ঠা। যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা আশা করেন, ভোট হবে শান্তিপূর্ণ।

চতুর্থ ধাপে ৫৫টি পৌরসভায় মোট মেয়র প্রার্থী ২২৩ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৯৯ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২৬৯ জন প্রার্থী লড়েন।

মোট ভোটার ১৭ লাখ ৬২৪। এর মধ্যে পুরুষ ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৬ ও নারী ভোটার ৮ লাখ ৫১ হাজার ২২৭।

পঞ্চম ধাপে ৩১ পৌরসভায় ভোট হওয়ার কথা ২৮ ফেব্রুয়ারি। দেশের তিন শতাধিক পৌরসভার বাকিগুলোর ভোট হতে পারে আগামী ৭ এপ্রিল।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সৈয়দপুরে নির্বাচনি ‘সহিংসতায়’ নিহত ১

সৈয়দপুরে নির্বাচনি ‘সহিংসতায়’ নিহত ১

হাসপাতালে ছোট অধিকারীর মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

ভোট শুরুর পর সকালে মহিলা কলেজ কেন্দ্রের বাইরে কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলামের সঙ্গে কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ মোহনের সমর্থকদের মধ্যে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন ছোটন অধিকারী। হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

রোববার বেলা সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহতের নাম ছোট অধিকারী। তিনি কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলামের সমর্থক ছিলেন বলে জানা গেছে।

কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় তার আরও দুই কর্মী আহত হয়েছেন। তারা হলেন আযম আলী সরকার ও সবুজ হোসেন।’

অবশ্য সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কেন্দ্রের বাইরে ধাক্কাধাক্কির কারণে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

তার বয়স ৫৫ বছরের বেশি। কোনো পক্ষের হয়ে মারামারি করার সক্ষমতা তার ছিল না- যোগ করেন ওসি।

ভোট শুরুর পর সকালে মহিলা কলেজ কেন্দ্রের বাইরে কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলামের সঙ্গে আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ মোহনের সমর্থকদের মধ্যে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন ছোটন অধিকারী।

এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোটযুদ্ধে নামেন সাতজন। এর মধ্যে ছয়জনই ভোট বর্জন করেন।

শেয়ার করুন

কালীগঞ্জে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ৪

কালীগঞ্জে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ৪

ওসি জানান, পুলিশ ও বিজিবি তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

কালীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুই কাউন্সিলর প্রার্থী মেহেদী হাসান সজল ও আরিফুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই প্রার্থীর সমর্থকরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু করে।

পুলিশ ও বিজিবি তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহত তিনজনকে স্থানীয়ভাবে এবং একজনকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, ভোটকেন্দ্রের বাইরে এই ঘটনা ঘটেছে। এতে ভোটে কোনো প্রভাব পড়েনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি কাজ করছে।

শেয়ার করুন

চারঘাটে বিএনপির ভোট বর্জন; ককটেল বিস্ফোরণ

চারঘাটে বিএনপির ভোট বর্জন; ককটেল বিস্ফোরণ

রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভার বিএনপির প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম বিকুল নির্বাচন বর্জন করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভার বিএনপির প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম বিকুল নির্বাচন বর্জন করেছেন। আর আগে সকালে সারদা থানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভার বিএনপির প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম বিকুল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

মিঞাপুরের নিজ বাড়িতে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নির্বাচন বর্জন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘সরকার প্রহসনের নির্বাচন করছে। সব কেন্দ্র থেকে আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রে বিএনপির সমর্থক ও ভোটারদের আঙুলের ছাপ নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।’

তার ওপর ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় সংশয় প্রকাশ করেন। ভোট বর্জনের পর তার ও তার পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র দখলে নিতে আমার সামনেই হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। প্রশাসন নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা হচ্ছে না।’

এর আগে সারদা থানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ১০টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

ঘটনার সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী একরামুল হক ও বিএনপির প্রার্থী বিকুল ওই কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি ককটেলের মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়। অন্যটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় ছিল। পরে পুলিশ সেটি নিষ্ক্রিয় করে।

বিস্ফোরণের সময় অনেক ভোটার ওই কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সারদা থানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ১০টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের এই ঘটনার জন্য প্রধান দুই প্রার্থী একে অন্যকে দুষছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী একরামুল হক বলেন, ‘এটা বিএনপি ও জামায়াত ক্যাডারদের কাজ। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতেই এ হামলা ঘটিয়েছে।’

চারঘাট পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৈয়দা সামিরা বলেন, ‘ককটেল বিস্ফোরণের কারণে ভোট বন্ধ ছিল না। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। ভালোভাবেই ভোট হচ্ছে। আর বিএনপির ভোট বর্জনের বিষয়টা আমি এখনও জানি না।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল আলম বলেন, ‘কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা বলতে পারব না। তবে এ ধরনের একটা ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

শেয়ার করুন

কারচুপির অভিযোগে মহেশপুরে বিএনপির ভোট বর্জন

কারচুপির অভিযোগে মহেশপুরে বিএনপির ভোট বর্জন

ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন মহেশপুরের বিএনপি প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান। ছবি: নিউজবাংলা

মহেশপুর পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান চুন্নু অভিযোগ করেন, ‘আমি বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখেছি ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে গোপন কক্ষ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভোট দেয়ানো হচ্ছে।’

কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছেন ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান চুন্নু। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তার কাছে আসেনি।

শহরের দুলারী সিনেমা হল সড়কের বিএনপির কার্যালয়ে সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘ভোট শুরুর পর থেকেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সমর্থকরা নির্দিষ্ট প্রতীকে জোরপূর্বক ভোট নিচ্ছে। শুরু থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্ট বের করে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখেছি ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে গোপন কক্ষ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভোট দেয়ানো হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।’

মহেশপুর পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তা শাশ্বতী শীল বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হচ্ছে। এখানে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। বিএনপির প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন এটা আমি জানি না। অনিয়মের ব্যাপারে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার কাছে তিনি অভিযোগ দেননি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আব্দুর রশিদ খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

কেন্দ্রের বাইরে ককটেল, আতঙ্কে কমল ভোটার

কেন্দ্রের বাইরে ককটেল, আতঙ্কে কমল ভোটার

ককটেল বিস্ফোরণের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের চিত্র। ছবি: নিউজবাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের পাশের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ হওয়ার পর ওই কেন্দ্রে ভোট কমে গেছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি, ভোটও স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে জানান কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

পৌর এলাকার সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের পাশের সড়কে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

সেখানে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্রের কাছেই সড়কে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এতে কিছুক্ষণের জন্য আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ভোটার ও পথচারীরা।

এ ঘটনার পর কেন্দ্রটিতে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা যায়। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের বাইরে রাস্তায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে কেন্দ্রে কোনো সমস্যা হয়নি।’

তিনি জানান, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ২১৮ জন হলেও বিস্ফোরণের পর দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ৫২০টি।

এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইছ বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের কোনো খবর তিনি পাননি। তার দাবি, সব ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

শেয়ার করুন

জামালপুরে ভোট বর্জন বিএনপির

জামালপুরে ভোট বর্জন বিএনপির

নিজস্ব কার্যালয়ে ভোট বর্জন করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। ছবি: নিউজবাংলা

ওয়ারেছ আলী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘পৌরসভার সব কটি কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। ভোটাররা নিজের ভোট নিজে দিতে পারছেন না। তাই ভোট বর্জন করলাম।’

জামালপুর সদর পৌরসভায় ভোট বর্জন করেছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।

শহরের সরদারপাড়াস্থ নিজস্ব কার্যালয়ে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।

ওয়ারেছ আলী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘পৌরসভার সব কটি কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। ভোটাররা নিজের ভোট নিজে দিতে পারছেন না। তাই ভোট বর্জন করলাম।’

এ ছাড়া তিনি পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন ছানু বলেন, ‘নিশ্চিত পরাজয় জেনে বিএনপির প্রার্থী এসব মিথ্যা অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছে। এবারের নির্বাচনে প্রচারে অংশ নেয়নি বিএনপির প্রার্থী। নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। ইভিএমে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই।’

১৮৬৯ সালে স্থাপিত হয় জামালপুর পৌরসভা। ‘ক’ শ্রেণির এই পৌরসভায় মেয়র পদে তিনজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১২টি ওয়ার্ডের ৪২টি কেন্দ্রের ৩৪১টি বুথে ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেমে (ইভিএম) ভোট চলছে। এই পৌরসভার মোট ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৭২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫২ হাজার ১৫১ জন ও নারী ভোটার ৫৬ হাজার ৫৭৬ জন।

শেয়ার করুন

সৈয়দপুরে জাপা প্রার্থীর ভোট বর্জন

সৈয়দপুরে জাপা প্রার্থীর ভোট বর্জন

সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম। ছবি: নিউজবাংলা

সিদ্দিকুলের স্ত্রী ইয়াসমিন আলম বলেন, ‘আজ সৈয়দপুরবাসী একটি প্রহসনের নির্বাচন দেখল। সাধারণ মানুষকে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করছে সরকারের গুন্ডা বাহিনী। মনিরুজ্জামান নামের এক পুলিশ আমাকে এবং আমার শাশুড়িকে হেনস্তা করেছে।’

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দিতে বাধা প্রদান, কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ভোট বর্জন করেছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী।

সৈয়দপুরে জাতীয় পার্টির প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টির সিদ্দিকুল আলম।

সিদ্দিকুল বলেন, ‘আমার নিজের বৃদ্ধ মা ভোট দিতে পারেন নাই। গোপন কক্ষের কাছে যাওয়ামাত্র মাকে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করলে উনি কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য হন। বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে আমার নির্বাচনি এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া তার স্ত্রীকেও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সিদ্দিকুল আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার কোনো কর্মী-সমর্থককে কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। মহিলাদের গায়েও হাত তোলা হচ্ছে। সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে তাদের নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।’

সিদ্দিকুলের স্ত্রী ইয়াসমিন আলম বলেন, ‘আজ সৈয়দপুরবাসী একটি প্রহসনের নির্বাচন দেখল। সাধারণ মানুষকে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করছে সরকারের গুন্ডা বাহিনী। মনিরুজ্জামান নামের এক পুলিশ আমাকে এবং আমার শাশুড়িকে হেনস্তা করেছে।’

এই পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাকি চার প্রার্থী হলেন নৌকা প্রতীকের রাফিকা আখতার জাহান, ধানের শীষ প্রতীকের রশিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের নুরুল হুদা ও মোবাইল ফোন প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল আওয়াল।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg