কালকিনিতে নির্বাচনি উত্তাপ : সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা

player
কালকিনিতে নির্বাচনি উত্তাপ : সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা

শনিবার দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সড়ক অবরোধ করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার রাতে নৌকার প্রার্থী এসএম হানিফের ভাতিজা আয়নাল সরদার মামলাটি করেন। এতে ৫৭ জনের নামসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মাদারীপুরের কালকিনিতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

রোববার রাতে নৌকার প্রার্থী এসএম হানিফের ভাতিজা আয়নাল সরদার মামলাটি করেন। এতে ৫৭ জনের নামসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে সোমবার বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) আব্দুল হান্নান নিউজবাংলাকে জানান, আসামি ধরতে অভিযান চলছে। শিগগিরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

নির্বাচনের কয়েক দিন আগে মামলা করে বাড়তি সুবিধা নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নৌকার প্রার্থী এস এম হানিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামলা করেছে আমার ভাতিজা। এ বিষয়ে তার সঙ্গেই কথা বলেন।’

প্রতিক্রিয়া জানতে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় বিদ্রোহী প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজের সঙ্গে। তবে কলটি রিসিভ হয়নি।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সবুজ শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন তাকে মেসেজ দেন, যাতে লেখা ছিল, ‘মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) তাকে (মশিউরকে) দেখা করতে বলেছেন।’

পরে এসপির সঙ্গে দেখা করতে যান সবুজ। এর পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানায় পরিবার।

এদিকে সবুজের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থকরা কালিকিনি থানা ঘেরাও করে। তারা বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।

সবুজের সমর্থকদের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা চালায় নৌকার প্রার্থী এসএম হানিফের সমর্থকরা। এর মধ্য দিয়ে দুই পক্ষে শুরু হওয়া সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৫০ জন।

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়ে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল ও কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে বেশ কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

এদিকে নিখোঁজের ১৩ ঘণ্টা পর কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ কৃষ্ণনগরের নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন সবুজ। সে সময় তিনি জানান, এসপি মাহবুব হাসানের সঙ্গে ফেরির কেবিনে ছিলেন তিনি।

পরের দিন সবুজ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‌‌‌‘এসপি আমাকে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে নিয়ে যান। সেখানে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে আমাকে বলা হয়।’

যদিও মশিউরের এই দাবি নাকচ করেন এসপি মাহবুব।

আরও পড়ুন:
কানাইঘাটে বিদ্রোহীর ভারে টালমাটাল নৌকা
ইভিএমে ভয় লালমনিরহাটের প্রার্থীদের
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় বহিষ্কার
ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে, বললেন বিএনপি প্রার্থী
আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাইলেন সংসদ সদস্য

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পৌর ভোট: আদালতের রায়ে ফল স্থগিত

পৌর ভোট: আদালতের রায়ে ফল স্থগিত

ঝিকরগাছায় ২১ বছর পর ভোট দিতে পেরে খুশি ভোটাররা। ছবি: নিউজবাংলা

যশোরের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, ফলাফল ঘোষণা ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়। সোমবার এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

২১ বছর পর যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভায় নির্বাচন হলেও মেয়র পদে চূড়ান্ত ফলাফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

উচ্চ আদালতের রায়ে একটি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, ফলাফল ঘোষণা ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দিয়েছে আদালত। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়। সোমবার এই বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। তবে অন্যান্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচনে ১৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল নৌকা প্রতীকে ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ কম্পিউটার প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৭১২ ভোট। ফলাফলে মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল ১২০১ ভোট বেশি পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। স্থগিত খাদিমুল ইনসান দাতব্য চিকিৎসালয় কেন্দ্রে মোট ভোট এক হাজার ৪৫৯টি।

যশোর জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, স্থগিত কেন্দ্রসহ ১৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে মেয়র আনোয়ার পাশার মোট ভোট ৭ হাজার ৩৭৫। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান পেয়েছেন ৬ হাজার ১২৬ ভোট। কিন্তু ফলাফল প্রস্তুত করার মুহূর্তে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোটগ্রহণের তিন দিন আগে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্র পরিবর্তন করে খাদিমুল ইনসান দাতব্য চিকিৎসালয়কে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করে।

কেন্দ্রটি কাউন্সিলর প্রার্থী একরামুল হক খোকনের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান। তাই সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকার পরও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে ভোটগ্রহণ করায় উচ্চ আদালতে রিট করায় ফলাফল ঘোষণা নিয়ে এ জটিলতার সৃষ্টি হয়।

এর আগে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা যায়। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

দীর্ঘসময় পর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। অনেক কেন্দ্রে ভোটাররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দেন।

কেন্দ্রগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেট, স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ বিপুলসংখ্যক বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ঝিকরগাছার নির্বাচনি ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা।

নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬৬ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আরও পড়ুন:
কানাইঘাটে বিদ্রোহীর ভারে টালমাটাল নৌকা
ইভিএমে ভয় লালমনিরহাটের প্রার্থীদের
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় বহিষ্কার
ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে, বললেন বিএনপি প্রার্থী
আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাইলেন সংসদ সদস্য

শেয়ার করুন

পৌর ভোট: কেন্দ্রে ভোটারদের উৎসব

পৌর ভোট: কেন্দ্রে ভোটারদের উৎসব

দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পেরে খুশি ভোটাররা। ছবি: নিউজবাংলা

ঝিকরগাছা ইউএনও মাহবুবুল হক বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর ভোট হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেই উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আছে। আশা করছি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হবে।’

সীমানা জটিলতার কারণে দীর্ঘ ২১ বছর পর যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ভোট হওয়ায় কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের মধ্যে উৎসব ছিল চোখে পড়ার মতো। উপস্থিতিও ছিল অনেক।

রোববার সকাল ৮টা থেকে অনুষ্ঠিত ভোটের প্রথম ৬ ঘণ্টায় গড়ে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে। একটানা ভোট হয়েছে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

দীর্ঘদিন পর ভোট হওয়ায় ভোটদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবের জোয়ার দেখা গেছে। একই সঙ্গে তাদের বাড়তি আগ্রহও দেখা গেছে। তাই কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ভিড় জমে ভোটারদের। নির্বাচন ঘিরে পৌরসভাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

সকাল থেকে পৌরসভার একাধিক ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন। ভোটে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে ইভিএমে ভোট হওয়ায় তরুণ ভোটারদের মধ্যেও বেশ উৎসাহ দেখা গেছে।

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রিসাইডিং অফিসার শামসুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘ ২১ বছর পর এই নির্বাচন হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।’

পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রিসাইডিং অফিসার এস এম শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘সকাল থেকেই ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দেন। তবে ইভিএমে ভোট দিতে বয়স্কদের কিছুটা দেরি হলেও তরুণদের খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না।’

কৃর্তিপুর খাদেমুন ইনসান কেন্দ্রে মো. তৈয়ব নামে এক ভোটার জানান, ব্যালটে ভোট দেয়ার চেয়ে ইভিএমে ভোট দেয়ার মজা আলাদা। খুব দ্রুত তারা ভোট দিতে পেরেছেন।

রেশমা নামে আরেক ভোটার জানান, ভোট দিতে গিয়ে তাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। কোনো বাধা ছাড়াই তারা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর ভোট হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেই উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আছে। আশা করছি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হবে।’

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা পৌরসভায় মোট ভোটার ২৫ হাজার ৯৩৯ জন। এর মধ্যে ১২ হাজার ৪৮২ জন পুরুষ এবং ১৩ হাজার ৪৫৭ জন নারী।

ইভিএম পদ্ধতিতে ১৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন, ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬৬ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়াার্ডে ১৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পৌর ভোট: কেন্দ্রে ভোটারদের উৎসব
পৌরসভার ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। ছবি: নিউজবাংলা

পৌরসভা তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে ৪ এপ্রিল উপজেলা সদরের ৯ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ঝিকরগাছা পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। তখন নবগঠিত পৌরসভার প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল। ২০০১ সালের ২ এপ্রিল ঝিকরগাছা পৌরসভায় প্রথম নির্বাচন হয়। তখন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল।

২০০৬ সালের প্রথম দিকে পৌরসভার সীমানা বাড়ানো হয়। এতে সদর ইউনিয়নের মল্লিকপুর, ফারাসাতপুর, পদ্মপুকুর পানিসারা ইউনিয়নের পুরন্দপুর, কাউরিয়া ও গদখালী ইউনিয়নের বারবাকপুর ও বামনআলী গ্রামের অংশবিশেষ পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

অভিযোগ আছে, এসব অঞ্চল বিএনপির ভোটার অধ্যুষিত হওয়ায় নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিএনপি সরকার এ অঞ্চলকে পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু এসব অঞ্চল প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত না হতে এলাকাবাসী কর্মসূচি পালন করে।

একপর্যায়ে কাউরিয়া গ্রামের শাহিনুর রহমান, বামনআলী গ্রামের শাহাদৎ হোসেন ও মল্লিকপুর গ্রামের সাইফুজ্জামান পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত না হতে হাইকোর্টে আলাদা তিনটি রিট করেন। আর এতেই আটকে যায় ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচন। ২০০৬ সালের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা স্থগিত করে হাইকোর্ট।

এরপর দুই দশক পর গত ৩০ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে। সে ঘোষণা অনুযায়ী রোববার ঝিকরগাছায় ভোটগ্রহণ চলছে।

আরও পড়ুন:
কানাইঘাটে বিদ্রোহীর ভারে টালমাটাল নৌকা
ইভিএমে ভয় লালমনিরহাটের প্রার্থীদের
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় বহিষ্কার
ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে, বললেন বিএনপি প্রার্থী
আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাইলেন সংসদ সদস্য

শেয়ার করুন

করোনার মধ্যেই সুজানগর পৌরসভার ভোট

করোনার মধ্যেই সুজানগর পৌরসভার ভোট

সকাল থেকেই কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ ও নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে ভোট চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট নেয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশে পাবনার সুজানগর পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ভোট চলছে।

রোববার সকাল আটটা থেকে ভোট শুরু হয়। চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত।

করোনার মধ্যে ভোটগ্রহণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ভোটারদের মধ্যে। অনেকে বলছেন, তিন দফা স্থগিত হওয়ায় ভোট নিয়ে সংশয়ে ছিলেন তারা। এছাড়া করোনার মধ্যে ভোট দেয়া নিয়েও ছিল দ্বিধা।

অন্যদিকে কমিশন থেকে সব নির্বাচন স্থগিত করা হলেও সুজানগর পৌরসভায় ভোট হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ ও নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে ভোট চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট নেয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

সুজানগর পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২০ হাজার ৪৪৮। নির্বাচনে ৯ ওয়ার্ডে সংরক্ষিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩২ জনসহ ৪১ প্রার্থী লড়ছেন।

এ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র কামরুল হুদা কামাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম রেজা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

সীমানা ও ভোটাধিকার জটিলতায় উচ্চ আদালতে দ্বারস্থ হওয়া পক্ষ-বিপক্ষের রিটের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন থেকে পরপর তিন বার স্থগিত করা হয় সুজানগর পৌরসভা নির্বাচন।

আরও পড়ুন:
কানাইঘাটে বিদ্রোহীর ভারে টালমাটাল নৌকা
ইভিএমে ভয় লালমনিরহাটের প্রার্থীদের
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় বহিষ্কার
ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে, বললেন বিএনপি প্রার্থী
আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাইলেন সংসদ সদস্য

শেয়ার করুন

যশোরে এবং কালকিনিতে নৌকার জয়জয়কার

যশোরে এবং কালকিনিতে নৌকার জয়জয়কার

(বাঁয়ে) যশোর পৌর মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ এবং মাদারীপুরের কালকিনি পৌর মেয়র এসএম হানিফ

যশোরে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের হায়দার গণি খান পলাশ। অন্যদিকে মাদারীপুর জেলার কালকিনিতে মেয়র হয়েছেন নৌকা মার্কার এসএম হানিফ।

যশোর ও মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় হয়েছে।

যশোরে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের হায়দার গণি খান পলাশ। অন্যদিকে মাদারীপুর জেলার কালকিনিতে মেয়র হয়েছেন নৌকা মার্কার এসএম হানিফ।

বুধবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার হুমায়ুন কবীর ও মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান এ ফলাফল নিশ্চিত করেন।

হুমায়ুন কবীর জানান, ৩২ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন হায়দার গণি খান পলাশ। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মাদ আলী সরদার পেয়েছেন ১২ হাজার ৯৪৭ ভোট।


নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো বিএনপির মারুফুল ইসলাম পেয়েছেন ৭ হাজার ৩০২টি ভোট।

নির্বাচন কর্মকর্তা আরও জানান, এক নম্বর ওয়ার্ডে সাইদুর রহমান রিপন, দুই নম্বর ওয়ার্ডে রাশেদ আব্বাস রাজ, তিন নম্বর ওয়ার্ডে মোকসিমুল বারী অপু, চার নম্বর ওয়ার্ডে জাহিদ হোসেন মিলন, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে রাজিবুল আলম, ছয় নম্বর ওয়ার্ডে আলমগীর কবীর সুমন, সাত নম্বর ওয়ার্ডে শাহেদ হোসেন নয়ন, আট নম্বর ওয়ার্ডে প্রদীপ কুমার বাবলু, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আসাদুজ্জামান কাউন্সিলর হিসেবে জয়ী হয়েছেন।

এ ছাড়া সংরক্ষিত এক নম্বর ওয়ার্ডে আইরিন পারভীন, দুই নম্বর ওয়ার্ডে নাসিমা আক্তার জলি, তিন নম্বর ওয়ার্ডে শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি কাউন্সিলর হয়েছেন।

মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ৯ হাজার ১৪১ ভোট পেয়ে মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের এসএম হানিফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মশিউর রহমান সবুজ পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৯৭ ভোট।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামাল হোসেন বেপারী গত ২১ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

যশোর পৌরসভায় প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে গ্রহণ হয়েছে ইভিএমে। পৌরসভার ৫৫টি কেন্দ্রের ৪৭৯টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। মেয়র পদে তিনজন, কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। এ পৌরসভায় মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯২ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭২ হাজার ৪৫ এবং নারী ভোটার ৭৪ হাজার ৫৪৯ জন।

কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ভোট চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৮৬৬ এবং নারী ভোটার ১৬ হাজার ৪৪১ জন। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ৯টি ওয়ার্ডের ১৮টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কানাইঘাটে বিদ্রোহীর ভারে টালমাটাল নৌকা
ইভিএমে ভয় লালমনিরহাটের প্রার্থীদের
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় বহিষ্কার
ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে, বললেন বিএনপি প্রার্থী
আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাইলেন সংসদ সদস্য

শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে জহুরুল ইসলামকে মেয়র ঘোষণা বাতিল

বোয়ালখালীতে জহুরুল ইসলামকে মেয়র ঘোষণা বাতিল

ওই পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইদ্রিস আলমের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে আদালত। পাশাপাশি তাকে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জহুরুল ইসলামকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র ঘোষণার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে ওই পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইদ্রিস আলমের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে আদালত। পাশাপাশি তাকে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সঙ্গে ছিলেন মো. আক্তার রসুল (মুরাদ)। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি বিপুল বাগমার। আর জহুরুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন মো. নাজমুল হুদা।

আইনজীবী মো. আক্তার রসুল (মুরাদ) নিউজবাংলাকে বলেন, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভা নির্বাচনে গত ৭ মার্চ তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র প্রার্থী হন মো. জহুরুল ইসলাম জহুর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান মেয়র আবুল কালাম আবু এবং যুবলীগ নেতা মো. ইদ্রিস আলম।

এরপর ঋণখেলাপির অভিযোগে আবুল কালাম আবু এবং আয়কর রিটার্নিংয়ের প্রাপ্তিতা স্বীকার ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দাখিল না করায় মো. ইদ্রিস আলমের প্রার্থিতা গত ১৯ মার্চ রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেন।

এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২১ মার্চ আপিল করেন মো. ইদ্রিস আলম। তার আপিলের শুনানি নিয়ে ২৩ মার্চ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটি খারিজ করে দেয়। এরপর হাইকোর্টে আবেদন করে মো. ইদ্রিস আলম।

এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. জহুরুল ইসলাম জহুরকে মেয়র ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুন নাহার।

আগামী ১১ এপ্রিল এ পৌরসভার ভোটগ্রহণের তারিখ ধার্য আছে।

আরও পড়ুন:
কানাইঘাটে বিদ্রোহীর ভারে টালমাটাল নৌকা
ইভিএমে ভয় লালমনিরহাটের প্রার্থীদের
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় বহিষ্কার
ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে, বললেন বিএনপি প্রার্থী
আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাইলেন সংসদ সদস্য

শেয়ার করুন

কালকিনিতে ভোট: দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষ

কালকিনিতে ভোট: দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষ

এই কেন্দ্রে ভোটের সময় হয় সংঘর্ষ। ছবি: নিউজবাংলা

কেন্দ্রগুলোর পরিদর্শক সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল সি, নারায়ণগঞ্জ) আবির হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এসএম হানিফের সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী সোহেল রানা মিঠুর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিজিবি মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, ভোটও চলছে।’

মাদারীপুরের কালকিনিতে পৌরসভা নির্বাচনের ভোট চলাকালে দুইটি কেন্দ্রে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। একটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণও হয়েছে।

পাঙ্গাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিকারমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টা ও দুপুর সাড়ে ১২টায় এই সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

কেন্দ্রগুলোর পরিদর্শক সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল সি, নারায়ণগঞ্জ) আবির হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এসএম হানিফের সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী সোহেল রানা মিঠুর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়।

‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিজিবি মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, ভোটও চলছে।’

তবে কী কারণে সংঘর্ষ, তা জানা যায়নি।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানার জন্য দুই প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারও পক্ষে সাড়া মেলেনি।

কালকিনিতে চলছে স্থগিত হওয়া পৌরসভা নির্বাচনের ভোট।

মেয়র হতে এখানে লড়ছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন আওয়ামী লীগের এস এম হানিফ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান সবুজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, বিএনপির কামাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লুৎফার রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রুবেল রানা।

এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী কামাল হোসেন ২১ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘ভোট কারচুপি, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড, পৌরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন বর্জন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি।’

এই পৌরসভায় ভোটের নির্ধারিত দিন ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি।

এর আট দিন আগে ৬ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজের নিখোঁজ হওয়ার জেরে কালকিনিতে তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে।

এরপরই ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন থেকে কালকিনির ভোট স্থগিতের আদেশ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
কানাইঘাটে বিদ্রোহীর ভারে টালমাটাল নৌকা
ইভিএমে ভয় লালমনিরহাটের প্রার্থীদের
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় বহিষ্কার
ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে, বললেন বিএনপি প্রার্থী
আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাইলেন সংসদ সদস্য

শেয়ার করুন

যশোর পৌরসভায় চলছে ইভিএমে ভোট

যশোর পৌরসভায় চলছে ইভিএমে ভোট

১৮ মার্চ বিএনপির প্রার্থী মারুফুল ইসলাম মারুফ ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে শুধু নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হায়দার গণি খান পলাশ ও হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মাদ আলী সরদারের মধ্যে।

প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট চলছে যশোর পৌরসভায়।

পৌরসভা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে স্থগিত হওয়া যশোরে বুধবার সকাল আটটা থেকে ভোট শুরু হয়। চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির নিউজবাংলাকে জানান, ৫৫টি কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। ১ হাজার ৪৫০ জন নির্বাচনি কর্মকর্তা আছেন। শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১ হাজার ২০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তিন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু ১৮ মার্চ বিএনপির প্রার্থী মারুফুল ইসলাম মারুফ ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে শুধু নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হায়দার গণি খান পলাশ ও হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মাদ আলী সরদারের মধ্যে।

এ ছাড়া কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯২ জন ভোটার প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোরে ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে পৌরসভার নতুন সীমানা নিয়ে জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে সাতজন নাগরিক রিট করেন।

৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ ভোট স্থগিতের আদেশ দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ বাতিল করে নির্বাচনের অনুমতি দেয়।

কিন্তু তত দিনে ভোটের প্রস্তুতি না থাকায় ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা জানান, ২৮ তারিখ ভোট নেয়া সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:
কানাইঘাটে বিদ্রোহীর ভারে টালমাটাল নৌকা
ইভিএমে ভয় লালমনিরহাটের প্রার্থীদের
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় বহিষ্কার
ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে, বললেন বিএনপি প্রার্থী
আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাইলেন সংসদ সদস্য

শেয়ার করুন