পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থী লুকাচ্ছে জামায়াত

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াত নেতা মোশাররফ হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও দল বলছে তারা নির্বাচন বর্জন করেছে। ছবি: নিউজবাংলা

পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থী লুকাচ্ছে জামায়াত

বিএনপির শরিক দল জামায়াতে ইসলামী পৌরসভা নির্বাচন বর্জন করলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলটির প্রার্থী রয়েছে। তারা বলছেন, দলের অনুমতি নিয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। যদিও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করছেন উল্টো কথা।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, পৌরসভা নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ নেই।

অথচ দ্বিতীয় ধাপে আলোচিত বসুরহাট পৌরসভায় মেয়র পদে জামায়াত নেতা মোশাররফ হোসেন লড়াই করে তৃতীয় হয়েছেন। ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৪৫১টি।

গত ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের আরও প্রার্থী ছিল। দিনাজপুরের বীরগঞ্জে লড়াই করেছেন মোহাম্মদ হানিফ। মেয়র পদে তার প্রতীক ছিল জগ মার্কা। ভোট পেয়েছেন এক হাজার ৯০০।

এর আগে প্রথম ধাপে রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় প্রার্থী ছিলেন জামায়াত নেতা মাজেদুর রহমান। তার জগ প্রতীকে ভোট পড়ে ৮৬৭ ভোট।

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াতের দলীয় প্রতীকে ভোট করার সুযোগ নেই। হয় জোটবদ্ধ নির্বাচনে শরিক দলের প্রতীক নিতে হবে তাদের, নয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে হবে। দলের নেতারা দ্বিতীয়টিই করছেন।

একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষে অস্ত্র ধরা দলটির ছয় জন শীর্ষ নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসিতে ঝোলার পর দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি কী, সেটা বোঝা যাচ্ছে এবার। প্রথম দুই ধাপে ৮৪টি পৌরসভায় ভোট হলেও মেয়র পদে জামায়াতের প্রার্থী পাওয়া গেছে কেবল তিনটিতে।

এই তিন প্রার্থী জানিয়েছেন, দলের অনুমতি নিয়ে তারা ভোটে দাঁড়িয়েছেন।

দ্বিতীয় ধাপে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে লড়া জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হানিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি যে নির্বাচন করেছি এ জন্য আমার দল জামায়াতের মৌন সমর্থন ছিল।’

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় প্রার্থী ছিলেন জামায়াত নেতা মাজেদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দল থেকে স্থানীয় নির্বাচনের ব্যাপারে অপশন ছিল যে, দলের কেন্দ্র কোন দায়-দায়িত্ব নেবে না। যদি কেউ নির্বাচন করতে চায় তাহলে করতে পারেন।

‘নির্বাচনে দলের কেন্দ্র কোনো দায়-দায়িত্বও নেয় নি। কোন পরামর্শ ও টাকাও দেয়নি। শুধু বলেছে, আমরা নিজ দায়িত্বে নির্বাচন করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন না করলে যারা জনপ্রতিনিধি ছিলেন তাদের জনশক্তি থাকে না, হারিয়ে যায়। আমি আমার শক্তিকে সংগঠিত রাখার জন্যই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

তৃতীয় ধাপে ৬৪ পৌরসভায় জামায়াতের কয়জন নেতা প্রার্থী হয়েছেন, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অন্তত একটি পৌরসভায় জামায়াতের প্রার্থী খুঁজে পেয়েছে নিউজবাংলা। রাজশাহীর কেশরহাটে জগ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন দলের স্থানীয় নেতা হাফিজুর রহমান আকন্দ।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা পৌর নির্বাচন করেছেন তারা ব্যক্তিগত, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেছেন। আমাদের কোনো মনোনীত প্রার্থী আমরা কোথাও দেইনি।’

যারা নির্বাচন করেছে তারা তো দলের সমর্থনের কথা বলেছেন। এই বিষয়টি জানালে পরওয়ার বলেন, ‘এ কথা কেউ বললে তো আমরা জানি না। অনেকেই অনেক কথা বলতে পারবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি মনে করে, তিনি দলের সম্মতি ছাড়া নির্বাচন করবেন তাহলে তাকে বাধা দিতে পারবে কে?’

তাহলে দলের ওপর আপনাদের নিয়ন্ত্রণ নেই?- এমন প্রশ্নে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা তো দলীয়ভাবে নির্বাচন করিনি। কেউ বললে তো হবে না যে সমর্থন ছিল। আমরাই তো জানি না, বিষয়টি আমাদের নলেজে নেই।

‘আমাদের ওপরে আমাদের পুরো নিয়ন্ত্রণই আছে। আমরা দলীয় পলিসির ওপরের আছি। কোন ব্যক্তি নির্বাচন স্বতন্ত্রভাবে করলে সেটা তার ব্যাপার।‘

এই পৌর নির্বাচনে যেখানে জামায়াতের প্রার্থী নেই, সেখানে বিএনপিকেও সমর্থন দেয়নি দলটি। এই দূরে দূরে থাকার কারণ হিসেবে মিয়া গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি নিউজবাংলাকে বলেন, তারা ভোট বর্জন করেছেন।

কেবল পৌরসভা নির্বাচন নয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বিএনপির পাশে নেই জামায়াতে ইসলামী।

আরও পড়ুন:
পৌর নির্বাচনে নেই জামায়াত, বিএনপি থেকেও ‍দূরে
গোপন বৈঠক: জামায়াতের ২৫ নারীকর্মী কারাগারে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হবিগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির ভরাডুবি যে কারণে

হবিগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির ভরাডুবি যে কারণে

দলীয় কোন্দল থাকার কারণে অনেকেই বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। আবার যারা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু পাননি, তারাও বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। যে কারণে তাদের হোম সেন্টারগুলোতেও বিএনপি প্রার্থী চরমভাবে পরাজিত হয়েছেন।

হবিগঞ্জে পৌরসভাকে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবেই ধরা হয়। ২০০৪ সাল থেকে পৌরসভাটি বিএনপির দখলে ছিল। ২০১৫ সালের নির্বাচনে কারাগারে থেকেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী জিকে গউছ।

কিন্তু এই পৌরসভাতেই এবার জামানত হারানোর লজ্জায় পড়েছে বিএনপি। এর আগে হবিগঞ্জ পৌরসভায় এমন ভরাডুবি দেখেনি দলটি। জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এনামুল হক সেলিম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ২৪২ ভোট।

অবশ্য এই ভরাডুবির জন্য দলের শীর্ষ নেতাদের দুষছেন দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষোভ আর কোন্দলের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

নেতা-কর্মীদের ভোট কোথায় গেল?

জেলা বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, হবিগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির ৯টি ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। প্রতি কমিটি ৭১ সদস্যের। সেই হিসাবে ওয়ার্ড বিএনপির মোট সদস্যসংখ্যা ৬৩৯ জন। পরিবারের অন্যদের বাদ দিয়ে শুধু এসব কমিটির সদস্য ও তাদের স্ত্রীদের ভোট পড়লে ওয়ার্ড কমিটি থেকে তাদের ভোট আসত ১ হাজার ২৭৮টি। সেই সঙ্গে জেলা, উপজেলা ও পৌর কমিটি তো আছেই।

এদিকে ছাত্রদলের ৫১ সদস্যের ওয়ার্ড কমিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থাৎ ৯টি ওয়ার্ড কমিটির সদস্যসংখ্যা হবে ৪৩৯ জন। একই অবস্থা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনেরও। প্রতিটিতে রয়েছে ৫ শতাধিক সদস্য। এর বাইরে কর্মী-সর্মথকরা তো রয়েছেনই।

হিসাব অনুযায়ী সব মিলিয়ে অন্তত ৫ হাজার সদস্য রয়েছেন দলটিতে। এ ছাড়া দলকে শক্তিশালী করতে প্রতিটি পাড়ায়ও আলাদা কমিটি রয়েছে তাদের। অথচ এখানে বিএনপি ভোট পেয়েছে মাত্র ৩ হাজার ২৪২টি।

শীর্ষ নেতাদের নিজ কেন্দ্রে লজ্জার হার

হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিজ এলাকার কেন্দ্রেও হেরেছেন বিএনপি প্রার্থী। ২০১৫ সালের নির্বাচনে যেখানে বিএনপির বাক্সে ভোট পড়ত হাজারের ওপর, সেখানে এবার ভোট পড়েছে ২০০/২৫০টি। কোনোটিতে আরও কম।

নাতিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমদের নিজ এলাকার কেন্দ্র (হোম সেন্টার)। ২০১৫ সালে বিএনপির প্রার্থী কারাগারে থেকে নির্বাচন করলেও এই কেন্দ্রে পেয়েছিলেন ১ হাজার ২১২ ভোট। অথচ এবার এই কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী সেলিম পেয়েছেন মাত্র ১৯৬ ভোট।

হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রটি যুবদল সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াছের নিজের এলাকার। ২০১৫ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিএনপি ভোট পেয়েছিল ৫০৮টি। এবার এই কেন্দ্রে পড়েছে মাত্র ১৫৭টি।

২০১৫ সালের নির্বাচনে কারাগারে থেকেও মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জিকে গউছ। তার এলাকার গাউছিয়া প্রি ক্যাডেট একাডেমি কেন্দ্রে ২০১৫ সালে তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১ হাজার ১৮৭ ভোট। কিন্তু এবার শীর্ষ এই নেতার হোম সেন্টারে বিএনপির বাক্সে ভোট পড়েছে মাত্র ৪৫০টি। অথচ এই ওয়ার্ডে জিকে গউছের সবচেয়ে আস্থাভাজন (ডান হাত খ্যাত) হিসেবে পরিচিত শফিকুর রহমান সিতু কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

১নং ওয়ার্ডটি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাসিমের হোম সেন্টার। তিনি ওই ওয়ার্ডের টানা তিনবারের কাউন্সিলর। এবারও তিনি ১ হাজার ৪৭৯ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ জেলা বিএনপির অভিভাবকের এই ওয়ার্ডে দলের প্রার্থী ভোট পেয়েছেন মাত্র ১৭৬টি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, দলীয় কোন্দল থাকার কারণে অনেকেই বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। আবার যারা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু পাননি, তারাও বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। যে কারণে তাদের হোম সেন্টারগুলোতেও বিএনপি প্রার্থী চরমভাবে পরাজিত হয়েছেন।

মনোনয়ন চেয়েও না পাওয়া জেলা যুবদল সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াছের হোম সেন্টারে নিজের দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অন্য সময় জনগণ বিএনপিকে চেয়েছিল, এবার হয়তো চায়নি। যে কারণে বিএনপির ভোট কমেছে। এ ছাড়া নির্বাচনে ডিজিটাল কারচুপি হয়েছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, ভোট দিতে গিয়ে একটি মাত্র মার্কা পেয়েছেন। সব মিলিয়েই বিএনপি প্রার্থীর ভোট কম হয়েছে।’

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাসিম বলেন, ‘এর আগে হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন জিকে গউছ। তিনি একজন জনপ্রিয় নেতা এবং জনগণের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছাতে পেরেছেন। যে কারণে জনগণও তাকে ভোট দিয়েছেন। এবারের প্রার্থী হয়তো জনগণের কাছে খুব একটা পৌঁছাতে পারেননি। যে কারণে ভরাডুবি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এবার বিএনপি প্রার্থী ছিলেন এনামুল হক সেলিম। তিনি একটি গ্রুপের রাজনীতি করতেন। যে কারণে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী তার সাথে ছিল না।’

তবে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই প্রার্থী এনামুল হক সেলিমের। তিনি দাবি করেন, সরকার, প্রশাসন ও ইভিএম মেশিন তার বিপক্ষে ছিল। যে কারণে তার ভরাডুবি হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ১৩ হাজার ৩২২ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলীয় বিদ্রোহী মিজানুর রহমান মিজান নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৯০ ভোট।

নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ছয়জন। মোট ভোটার ৫০ হাজার ৯০৩ জন। তবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২৯ হাজার ৬ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২৮ হাজার ৯১৬টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৯০টি। হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
পৌর নির্বাচনে নেই জামায়াত, বিএনপি থেকেও ‍দূরে
গোপন বৈঠক: জামায়াতের ২৫ নারীকর্মী কারাগারে

শেয়ার করুন

পঞ্চম দফায় পড়েছে ৫৯ শতাংশ ভোট

পঞ্চম দফায় পড়েছে ৫৯ শতাংশ ভোট

পঞ্চম দফার পৌরসভা নির্বাচনে জামালপুর পৌরসভায় ভোট দিতে নারীদের দীর্ঘ লাইন। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চম দফার নির্বাচনে ২৯ পৌরসভায় ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮২০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৮ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৩ জন।

পৌরসভা নির্বাচনের পঞ্চম দফায় রোববার মেয়র পদে ৫৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। মাঠপর্যায় থেকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যে ফল এসেছে তা পর্যালোচনা করে এই হিসাব পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া এই দফায় ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮২০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৮ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৩ জন।

ইসির উপ-সচিব আতিয়ার রহমান জানান, রোববার ৩২টি পৌরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রামের মিরসরাই ও রাউজান এবং মাদারীপুরের শিবচরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ২৯টি পৌরসভায় ভোট হয়েছে। সবগুলোতেই ভোট হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে।

পৌরসভার পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে ২৯টির মধ্যে মেয়র পদে একটিতে বিএনপি ও একটি স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীও আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি দল থেকে মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হলে বিদ্রোহী প্রার্থী হন।

এ ছাড়া ২৭টিতেই জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এর আগের কয়েকটি ধাপেও প্রায় সবগুলোতেই জিতেছেন আওয়ামী লীগ ও দলের বিদ্রোহীরা। সেসব নির্বাচনেও ভোট পড়ার হার বেশ ভালো।

সোমবার ইসিতে আসা ফলের ওই হিসাব থেকে দেয়া গেছে, শতকরা হারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। পৌরসভাটিতে ভোট পড়েছে ৮১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এখানে মোট ১৫ হাজার আট জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১২ হাজার ২৩৭ জন। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে। সেখানে ভোট পড়েছে ৪৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এখানে ২৩ হাজার ৬৩১ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১০ হাজার ৩৪২ জন।

নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর প্রথম পৌরসভার নির্বাচন হয় ২৮ ডিসেম্বর। প্রথম দফায় ভোট পড়ে ৬৫ শতাংশ, ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় পড়ে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ, ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় পড়ে ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ দফায় ভোট পড়ে ৬৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
পৌর নির্বাচনে নেই জামায়াত, বিএনপি থেকেও ‍দূরে
গোপন বৈঠক: জামায়াতের ২৫ নারীকর্মী কারাগারে

শেয়ার করুন

বগুড়ায় বিএনপির বাদশা

বগুড়ায় বিএনপির বাদশা

বগুড়া পৌরসভায় মেয়র পদে জয়ী বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাদশার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দ জগ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯০ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওবায়দুল হাসান পান ২০ হাজার ৮৯ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী পেয়েছেন ৬ হাজার ১৯১ ভোট।

বগুড়া পৌরসভায় মেয়র পদে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলে ৮২ হাজার ২১৭ ভোট পেয়েছেন তিনি।

বগুড়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে এ ফল ঘোষণা করেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাদশার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দ জগ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯০ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওবায়দুল হাসান পান ২০ হাজার ৮৯ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী পেয়েছেন ৬ হাজার ১৯১ ভোট।

২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭০ ভোটারের এ পৌরসভায় ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ১১২ জন। সেই হিসাবে ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ২০১৫ সালে জয় পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা একেএম মাহবুবর রহমান।

রোববার সকাল ৮টায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট শুরু হয়। পৌরসভার ২১ সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩০ এবং ৭টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৫০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে শাহ্ মো. মেহেদী হাসান হিমু, ২ নম্বরে তৌহিদুল ইসলাম বিটু, ৩ নম্বরে তরুণ কুমার চক্রবর্তী, ৪ নম্বরে মতিন সরকার, ৫ নম্বরে রেজাউল করিম ডাব্লুউ, ৬ নম্বরে পরিমল চন্দ্র দাস, ৭ নম্বরে দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু, ৮ নম্বরে এরশাদুল বারী এরশাদ, ৯ নম্বরে আলহাজ্ব শেখ, ১০ নম্বরে আরিফুর রহমান আরিফ।

এ ছাড়া ১১ নম্বর ওয়ার্ডে সিপার আল বখতিয়ার, ১২ নম্বরে এনামুল হক সুমন, ১৩ নম্বরে আল মামুন, ১৪ নম্বরে এম আর ইসলাম রফিক, ১৫ নম্বরে আমিনুর ইসলাম, ১৬ নম্বরে আমীন আল মেহেদী, ১৭ নম্বরে ইকবাল হোসেন রাজু, ১৮ নম্বরে রাজু হোসেন পাইকার, ১৯ নম্বরে লুৎফর রহমান মিন্টু, ২০ নম্বরে রোস্তম আলী ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে রুহুল কুদ্দুস ডিলু কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।

সকাল থেকেই সবকেন্দ্রে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোটার উপস্থিতিও ছিল অনেক বেশি ছিল।

ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ছিল সতর্ক অবস্থানে। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্যের পাশাপাশি ছিল ১৬ প্লাটুন বিজিবি।

আরও পড়ুন:
পৌর নির্বাচনে নেই জামায়াত, বিএনপি থেকেও ‍দূরে
গোপন বৈঠক: জামায়াতের ২৫ নারীকর্মী কারাগারে

শেয়ার করুন

রাজশাহীর দুই পৌরসভা নৌকার

রাজশাহীর দুই পৌরসভা নৌকার

চারঘাট পৌরসভায় মেয়র পদে জয়ী একরামুল হক ও দুর্গাপুর পৌরসভায় জয়ী তোফাজ্জল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

চারঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী একরামুল হক ১৪ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। দুর্গাপুরে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন।

দেশে পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে রাজশাহীর চারঘাট ও দুর্গাপুরে মেয়র পদে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

চারঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী একরামুল হক ১৪ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম বিকুল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৮১২ ভোট। ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রোববার দুপুরে অবশ্য ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিকুল।

দুর্গাপুর পৌরসভায় আবারও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন। বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে ২ হাজার ৪০৭ ভোট বেশি পেয়ে মেয়র হন তিনি। এ নিয়ে পরপর তিনবার তিনি মেয়র নির্বাচিত হলেন তোফাজ্জল।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, তোফাজ্জল হোসেন নৌকা প্রতীকে পান ৮ হাজার ৮০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জার্জিস হোসেন সোহেল পেয়েছেন ৬ হাজার ৪০১ ভোট।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসানুজ্জামান সান্টু মোবাইল ফোন প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২০৭ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীর লাঙ্গল প্রতীকে পান ১৩৪ ভোট। এ পৌরসভায় ভোটের হার ৭৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
পৌর নির্বাচনে নেই জামায়াত, বিএনপি থেকেও ‍দূরে
গোপন বৈঠক: জামায়াতের ২৫ নারীকর্মী কারাগারে

শেয়ার করুন

নরসিংদী পৌরসভার ছয় কেন্দ্রে পুনঃভোট

নরসিংদী পৌরসভার ছয় কেন্দ্রে পুনঃভোট

রোববার পঞ্চম ধাপে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ভোট হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাইকোর্টে রিট আবেদনে অভিযোগ করেছেন, এ সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি কর্মকর্তার কাছে থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারা হয়েছে।

নরসিংদী পৌরসভার ছয়টি কেন্দ্রে আবার ভোট নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আবার ভোট গ্রহণ না করা পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

ওই পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এস এম কাইয়ুমের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

নরসিংদী পৌরসভার বাশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা-ই গাউছিয়া শরিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসা, বামন্দি কে কে এম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাগদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মীর ইমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়, সাতিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কামারগাও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালসহ সাতটি কেন্দ্রের পুনঃভোট গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। তার সঙ্গে ছিলেন মোকাররামুছ সাকলান ইমন।

আইনজীবী সাকলান ইমন বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী পৌরসভার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন এই সাতটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়। তখন কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বে থাকা নির্বাচনি কর্মকর্তার কাছে থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারা হয়।

তখন এ অভিযোগ প্রিজাইডিং অফিসার এবং রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হয়। তারা সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানায়। কিন্ত সেখান থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। পরে আদালত ওই রিটের শুনানি নিয়ে আজকে এ আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
পৌর নির্বাচনে নেই জামায়াত, বিএনপি থেকেও ‍দূরে
গোপন বৈঠক: জামায়াতের ২৫ নারীকর্মী কারাগারে

শেয়ার করুন

মাদারীপুরে মেয়র হলেন খালিদ হোসেন ইয়াদ

মাদারীপুরে মেয়র হলেন খালিদ হোসেন ইয়াদ

মাদারীপুর পৌরসভায় নির্বাচিত মেয়র আওয়ামী লীগের মো. খালিদ হোসেন ইয়াদ

নৌকার প্রার্থী মো. খালিদ হোসেন ইয়াদ পেয়েছেন ২২ হাজার ৫৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান পেয়েছেন পাঁচ হাজার ২৫৬ ভোট।

মাদারীপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগে প্রার্থী মো. খালিদ হোসেন ইয়াদ।

রোববার রাত ৯টার দিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, নৌকার প্রার্থী মো. খালিদ হোসেন ইয়াদ পেয়েছেন ২২ হাজার ৫৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান পেয়েছেন পাঁচ হাজার ২৫৬ ভোট।

ক শ্রেণির এই পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

১৪ দশমিক পাঁচ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ২৩টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ হয়েছে।

এই পৌরসভায় মোট ভোটার ৫১ হাজার ৪৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৪ হাজার ৭২৩ জন এবং নারী ভোটার ২৬ হাজার ৭৫৫ জন।

আরও পড়ুন:
পৌর নির্বাচনে নেই জামায়াত, বিএনপি থেকেও ‍দূরে
গোপন বৈঠক: জামায়াতের ২৫ নারীকর্মী কারাগারে

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের তিন পৌরসভায় নৌকার জয়

চট্টগ্রামের তিন পৌরসভায় নৌকার জয়

রাঙ্গুনিয়া, মিরসরাই ও বারইয়ারহাটে মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন যথাক্রমে শাহজাহান শিকদার, গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিম খোকন। ফাইল ছবি

রাঙ্গুনিয়া, মিরসরাই ও বারইয়ারহাট পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। এরা হলেন শাহজাহান শিকদার, গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিম খোকন। এদের মধ্যে বিএএনপি সমর্থিত প্রার্থী ভোট বর্জন করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন গিয়াস উদ্দিন।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, মিরসরাই ও বারইয়ারহাট পৌরসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা।

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের শাহজাহান শিকদার। তিনি পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪০৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির হেলাল উদ্দিন শাহ পেয়েছেন ২৮৯ ভোট।

রোববার সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরে নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন শাহজাহান শিকদার।

চট্টগ্রাম জেলা সদর থেকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার। এর

২০০০ সালে এক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা গঠিত হয়।

চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন। এ পৌরসভায় বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী নূর মোহাম্মদ ভোট বর্জন করায় গিয়াস উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

মিরসরাই পৌরসভায় ১ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দেলোয়ার হোসেন খোকন, ২ নং ওয়ার্ডে এবাদুর রহমান, ৩নং ওয়ার্ডে নুর নবী, ৪ নং ওয়ার্ডে শাখের ইসলাম রাজু, ৫ নং ওয়ার্ডে মো. জহির উদ্দিন, ৬ নং ওয়ার্ডে জামাল উদ্দিন লিটন, ৭ নং ওয়ার্ডে ওসমান গনি, ৮ নং ওয়ার্ডে আল ফায়হাত সংগ্রাম এবং ৯ নং ওয়ার্ডে ইলিয়াছ হোসেন লিটন জয়ী হয়েছেন।

এছাড়া সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে রিজিয়া বেগম এবং ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে ফেরদৌস আরা লাকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বারইয়ারহাট পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম খোকন। তিনি ৪ হাজার ৮৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির মনোনিত প্রার্থী দিদারুল আলম মিয়াজী পেয়েছেন ১৩১ ভোট।

বারইয়ারহাট পৌরসভায় ১ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আজিজুল হক মান্না, ২ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর রফিকুজ্জামান বাবুল, ৩ নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর রসুল আহম্মদ নবী, ৪ নং ওয়ার্ডে মো. মাসুদ, ৫ নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর রতন দত্ত, ৬ নং ওয়ার্ডে মো. আলমগীর, ৭ নং ওয়ার্ডে আব্দুল খালেক, ৮ নং ওয়ার্ডে নিজাম উদ্দিন এবং ৯ নং ওয়ার্ডে এজাহার উদ্দিন জয়ী হয়েছেন।

এ ছাড়া সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে শাহানাজ বেগম, ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে শিল্পী ভৌমিক এবং ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে সেলিনা আক্তার নির্বাচিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
পৌর নির্বাচনে নেই জামায়াত, বিএনপি থেকেও ‍দূরে
গোপন বৈঠক: জামায়াতের ২৫ নারীকর্মী কারাগারে

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg