শৈলকুপায় প্রার্থীর ভাই হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত কাউন্সিলর প্রার্থীর ভাই নিহত লিয়াকত আলী বল্টু।

শৈলকুপায় প্রার্থীর ভাই হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নিহত লিয়াকত আলী বল্টুর বড় ভাই কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত আলী ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর প্রধান আসামি বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার নির্বাচনি সহিংসতায় কাউন্সিলর প্রার্থীর ভাই নিহতের ঘটনায় প্রধান আসামি বাপ্পী হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পৌর এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর হোসেনের সমর্থক বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নিহত লিয়াকত আলী বল্টুর বড় ভাই কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত আলী ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে জানান, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বুধবার রাত আটটার দিকে পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত আলী ও আলমগীর খান বাবুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

এতে বল্টুসহ পাঁচ জন আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক বল্টুকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কুমার নদ থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন:
মনোহরদীতে আ. লীগ প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ
অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আ. লীগ থেকে বহিষ্কার
খাগড়াছড়ি পৌরসভায় চলছে মক ভোটিং
বরগুনায় আ. লীগ সমর্থকদের মারধর, আটক ৩
সুনামগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আইনমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংঘর্ষে আ. লীগের দুই পক্ষ

আইনমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংঘর্ষে আ. লীগের দুই পক্ষ

কসবায় সংঘর্ষে জড়ায় আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সমর্থকরা। ছবি: নিউজবাংলা

কসবায় আইনমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে মেয়র ও উপজেলা যুবলীগ নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান মেয়র ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এমরান উদ্দিন জুয়েল এবং উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি এম এ আজিজের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাঁধে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দুই মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

সদর উপজেলা পরিষদের সামনে শুক্রবার সকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর ভূঞা এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান মেয়র ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এমরান উদ্দিন জুয়েল এবং উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি এম এ আজিজ। তদের সমর্থকদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এই সংঘর্ষ।

সংঘর্ষে ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ তা নিশ্চিত করেনি।

কসবা থানার ওসি আলমগীর ভূঞা জানান, উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের ভেতরে স্মার্টকার্ড বিতরণী অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাস্থলে আসছিলেন। এর মধ্যে জুয়েল ও আজিজের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

সে সময় কড়া নিরাপত্তায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার নিজ বাড়ি উপজেলার কাইয়ূম ইউনিয়নের পানিয়ারূপ গ্রামে চলে যান। এর পরপরই দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। পাঁচটি মোটরসাইকেলে ভাঙচুর করে আগুন দেয়া হয়। ভাঙা হয় সভাস্থলের চেয়ার-টেবিল ও আশপাশের কিছু দোকানের গ্লাস। পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এখনও সেখানে মোতায়েন আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল।

জানতে চাইলে বর্তমান মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইনমন্ত্রীকে স্বাগতমে আমার সমর্থকদের নিয়ে আনন্দ মিছিল করে সভাস্থলে গিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। তখন যুবলীগের সভাপতি আজিজের ভাই শিশুর এক সমর্থক আমার লোকের ওপর মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা দেয়। এরই জের ধরে আমার সমর্থক ও আজিজের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।’

তবে যুবলীগ সভাপতি আজিজ বলেন, ‘মন্ত্রীর আগমনে আমরা মোটরসাইকেল মিছিল করেছি। একপর্যায়ে সভাস্থলের সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়ালে মেয়রের সমর্থকরা আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করে। আমার সমর্থকদের ১০-১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।’

কসবা পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে দলের মনোনয়ন পেতে সেখানে দৌড়ঝাঁপ চলছে আওয়ামী লীগ নেতাদের।

আরও পড়ুন:
মনোহরদীতে আ. লীগ প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ
অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আ. লীগ থেকে বহিষ্কার
খাগড়াছড়ি পৌরসভায় চলছে মক ভোটিং
বরগুনায় আ. লীগ সমর্থকদের মারধর, আটক ৩
সুনামগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী

শেয়ার করুন

সৈয়দপুর নির্বাচন নিয়ে নাখোশ জাপা

সৈয়দপুর নির্বাচন নিয়ে নাখোশ জাপা

চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে জাতীয় পার্টি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলটির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। ছবি: নিউজবাংলা

জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘আমরা দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামে বসব। আগামীতে যে নির্বাচনগুলো আসছে, সেগুলো যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয় তাহলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেব, নির্বাচনে যাব কি না।’

সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা) । একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনগুলোতেও অংশ নেয়ার বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুসারে নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা সাহেবের সঙ্গে ফোনে দুই বার কথা বলেছি। উনি বলেছেন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। কিন্তু কিছুই হলো না।’

পৌরসভা নির্বাচনের পঞ্চম দফায় রোববার নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভায় নির্বাচন হয়। এতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জাপার মেয়র প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাফিকা জাহান আকতার বেবী। তিনি পৌরসভাটির প্রথম নারী মেয়র।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামে বসব। আগামীতে যে নির্বাচনগুলো আসছে, সেগুলো যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয় তাহলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেব, নির্বাচনে যাব কি না।’

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বাবলু বলেন, ‘আমরা এখন আর মহাজোটে নেই। আমরা মহাজোট থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমরা জনগণের পক্ষে আছি। আমরা ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে। তাই আগামীতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের বাধ্য করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি কঠোর সিদ্ধান্ত নিই, আপনারা রাজনীতির ময়দানে কাউকে পাবেন না। কেউ ভোট কেন্দ্রে যাবে না, কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না। আপনাদের মতো করে আপনারা করবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়েও কথা বলেন জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

তিনি বলেন, ‘এখন তো কথাই বলতে পারছি না। যে আইন মানুষের বাক অধিকারকে লঙ্ঘণ করে আমরা অবশ্যই তার পরিবর্তন চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে জাপা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেন, ‘নির্বাচনে দলীয় প্রচারে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতারা আমাদের হুমকি দিয়েছে।’

সৈয়দপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মহিলাদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে।’

প্রেসিডিয়াম সদস্য রানা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘নির্বাচনে উৎসব আনন্দ ছিল। তবে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তাণ্ডবে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। প্রধান নির্বাচনি এজেন্টকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। প্রহসনের নির্বাচন এদেশের মানুষ মেনে নেবে না।’

জাপার ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় যুব সংহতির আহবায়ক এইচএম আসিফ শাহরিয়ার বলেন, ‘সৈয়দপুর নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রশাসন যে আশ্বাস দিয়েছিল বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে তাতে গণতন্ত্রের অধঃপতন হয়েছে। ওই আসনে জাতীয় পার্টি সবসময় বিজয়ী হয়। তাই ভোট ডাকাতি ছাড়া আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প ছিল না।’

ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন জাপার

নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাপা মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় উঠেছে, ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব? তার মানে এই ব্যবস্থাকে ত্রুটিপূর্ণ করা হয়েছে। ব্যবস্থার কোনো দোষ আমরা দিচ্ছি না। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন একে ত্রুটিপূর্ণ করছেন। তারাই এর জন্য দায়ী।’

আরও পড়ুন:
মনোহরদীতে আ. লীগ প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ
অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আ. লীগ থেকে বহিষ্কার
খাগড়াছড়ি পৌরসভায় চলছে মক ভোটিং
বরগুনায় আ. লীগ সমর্থকদের মারধর, আটক ৩
সুনামগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির ভরাডুবি যে কারণে

হবিগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির ভরাডুবি যে কারণে

দলীয় কোন্দল থাকার কারণে অনেকেই বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। আবার যারা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু পাননি, তারাও বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। যে কারণে তাদের হোম সেন্টারগুলোতেও বিএনপি প্রার্থী চরমভাবে পরাজিত হয়েছেন।

হবিগঞ্জে পৌরসভাকে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবেই ধরা হয়। ২০০৪ সাল থেকে পৌরসভাটি বিএনপির দখলে ছিল। ২০১৫ সালের নির্বাচনে কারাগারে থেকেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী জিকে গউছ।

কিন্তু এই পৌরসভাতেই এবার জামানত হারানোর লজ্জায় পড়েছে বিএনপি। এর আগে হবিগঞ্জ পৌরসভায় এমন ভরাডুবি দেখেনি দলটি। জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এনামুল হক সেলিম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ২৪২ ভোট।

অবশ্য এই ভরাডুবির জন্য দলের শীর্ষ নেতাদের দুষছেন দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষোভ আর কোন্দলের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

নেতা-কর্মীদের ভোট কোথায় গেল?

জেলা বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, হবিগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির ৯টি ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। প্রতি কমিটি ৭১ সদস্যের। সেই হিসাবে ওয়ার্ড বিএনপির মোট সদস্যসংখ্যা ৬৩৯ জন। পরিবারের অন্যদের বাদ দিয়ে শুধু এসব কমিটির সদস্য ও তাদের স্ত্রীদের ভোট পড়লে ওয়ার্ড কমিটি থেকে তাদের ভোট আসত ১ হাজার ২৭৮টি। সেই সঙ্গে জেলা, উপজেলা ও পৌর কমিটি তো আছেই।

এদিকে ছাত্রদলের ৫১ সদস্যের ওয়ার্ড কমিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থাৎ ৯টি ওয়ার্ড কমিটির সদস্যসংখ্যা হবে ৪৩৯ জন। একই অবস্থা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনেরও। প্রতিটিতে রয়েছে ৫ শতাধিক সদস্য। এর বাইরে কর্মী-সর্মথকরা তো রয়েছেনই।

হিসাব অনুযায়ী সব মিলিয়ে অন্তত ৫ হাজার সদস্য রয়েছেন দলটিতে। এ ছাড়া দলকে শক্তিশালী করতে প্রতিটি পাড়ায়ও আলাদা কমিটি রয়েছে তাদের। অথচ এখানে বিএনপি ভোট পেয়েছে মাত্র ৩ হাজার ২৪২টি।

শীর্ষ নেতাদের নিজ কেন্দ্রে লজ্জার হার

হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিজ এলাকার কেন্দ্রেও হেরেছেন বিএনপি প্রার্থী। ২০১৫ সালের নির্বাচনে যেখানে বিএনপির বাক্সে ভোট পড়ত হাজারের ওপর, সেখানে এবার ভোট পড়েছে ২০০/২৫০টি। কোনোটিতে আরও কম।

নাতিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমদের নিজ এলাকার কেন্দ্র (হোম সেন্টার)। ২০১৫ সালে বিএনপির প্রার্থী কারাগারে থেকে নির্বাচন করলেও এই কেন্দ্রে পেয়েছিলেন ১ হাজার ২১২ ভোট। অথচ এবার এই কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী সেলিম পেয়েছেন মাত্র ১৯৬ ভোট।

হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রটি যুবদল সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াছের নিজের এলাকার। ২০১৫ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিএনপি ভোট পেয়েছিল ৫০৮টি। এবার এই কেন্দ্রে পড়েছে মাত্র ১৫৭টি।

২০১৫ সালের নির্বাচনে কারাগারে থেকেও মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জিকে গউছ। তার এলাকার গাউছিয়া প্রি ক্যাডেট একাডেমি কেন্দ্রে ২০১৫ সালে তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১ হাজার ১৮৭ ভোট। কিন্তু এবার শীর্ষ এই নেতার হোম সেন্টারে বিএনপির বাক্সে ভোট পড়েছে মাত্র ৪৫০টি। অথচ এই ওয়ার্ডে জিকে গউছের সবচেয়ে আস্থাভাজন (ডান হাত খ্যাত) হিসেবে পরিচিত শফিকুর রহমান সিতু কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

১নং ওয়ার্ডটি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাসিমের হোম সেন্টার। তিনি ওই ওয়ার্ডের টানা তিনবারের কাউন্সিলর। এবারও তিনি ১ হাজার ৪৭৯ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ জেলা বিএনপির অভিভাবকের এই ওয়ার্ডে দলের প্রার্থী ভোট পেয়েছেন মাত্র ১৭৬টি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, দলীয় কোন্দল থাকার কারণে অনেকেই বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। আবার যারা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু পাননি, তারাও বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। যে কারণে তাদের হোম সেন্টারগুলোতেও বিএনপি প্রার্থী চরমভাবে পরাজিত হয়েছেন।

মনোনয়ন চেয়েও না পাওয়া জেলা যুবদল সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াছের হোম সেন্টারে নিজের দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অন্য সময় জনগণ বিএনপিকে চেয়েছিল, এবার হয়তো চায়নি। যে কারণে বিএনপির ভোট কমেছে। এ ছাড়া নির্বাচনে ডিজিটাল কারচুপি হয়েছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, ভোট দিতে গিয়ে একটি মাত্র মার্কা পেয়েছেন। সব মিলিয়েই বিএনপি প্রার্থীর ভোট কম হয়েছে।’

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাসিম বলেন, ‘এর আগে হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন জিকে গউছ। তিনি একজন জনপ্রিয় নেতা এবং জনগণের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছাতে পেরেছেন। যে কারণে জনগণও তাকে ভোট দিয়েছেন। এবারের প্রার্থী হয়তো জনগণের কাছে খুব একটা পৌঁছাতে পারেননি। যে কারণে ভরাডুবি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এবার বিএনপি প্রার্থী ছিলেন এনামুল হক সেলিম। তিনি একটি গ্রুপের রাজনীতি করতেন। যে কারণে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী তার সাথে ছিল না।’

তবে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই প্রার্থী এনামুল হক সেলিমের। তিনি দাবি করেন, সরকার, প্রশাসন ও ইভিএম মেশিন তার বিপক্ষে ছিল। যে কারণে তার ভরাডুবি হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ১৩ হাজার ৩২২ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলীয় বিদ্রোহী মিজানুর রহমান মিজান নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৯০ ভোট।

নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ছয়জন। মোট ভোটার ৫০ হাজার ৯০৩ জন। তবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২৯ হাজার ৬ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২৮ হাজার ৯১৬টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৯০টি। হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
মনোহরদীতে আ. লীগ প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ
অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আ. লীগ থেকে বহিষ্কার
খাগড়াছড়ি পৌরসভায় চলছে মক ভোটিং
বরগুনায় আ. লীগ সমর্থকদের মারধর, আটক ৩
সুনামগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী

শেয়ার করুন

পঞ্চম দফায় পড়েছে ৫৯ শতাংশ ভোট

পঞ্চম দফায় পড়েছে ৫৯ শতাংশ ভোট

পঞ্চম দফার পৌরসভা নির্বাচনে জামালপুর পৌরসভায় ভোট দিতে নারীদের দীর্ঘ লাইন। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চম দফার নির্বাচনে ২৯ পৌরসভায় ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮২০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৮ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৩ জন।

পৌরসভা নির্বাচনের পঞ্চম দফায় রোববার মেয়র পদে ৫৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। মাঠপর্যায় থেকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যে ফল এসেছে তা পর্যালোচনা করে এই হিসাব পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া এই দফায় ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮২০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৮ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৩ জন।

ইসির উপ-সচিব আতিয়ার রহমান জানান, রোববার ৩২টি পৌরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রামের মিরসরাই ও রাউজান এবং মাদারীপুরের শিবচরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ২৯টি পৌরসভায় ভোট হয়েছে। সবগুলোতেই ভোট হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে।

পৌরসভার পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে ২৯টির মধ্যে মেয়র পদে একটিতে বিএনপি ও একটি স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীও আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি দল থেকে মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হলে বিদ্রোহী প্রার্থী হন।

এ ছাড়া ২৭টিতেই জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এর আগের কয়েকটি ধাপেও প্রায় সবগুলোতেই জিতেছেন আওয়ামী লীগ ও দলের বিদ্রোহীরা। সেসব নির্বাচনেও ভোট পড়ার হার বেশ ভালো।

সোমবার ইসিতে আসা ফলের ওই হিসাব থেকে দেয়া গেছে, শতকরা হারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। পৌরসভাটিতে ভোট পড়েছে ৮১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এখানে মোট ১৫ হাজার আট জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১২ হাজার ২৩৭ জন। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে। সেখানে ভোট পড়েছে ৪৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এখানে ২৩ হাজার ৬৩১ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১০ হাজার ৩৪২ জন।

নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর প্রথম পৌরসভার নির্বাচন হয় ২৮ ডিসেম্বর। প্রথম দফায় ভোট পড়ে ৬৫ শতাংশ, ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় পড়ে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ, ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় পড়ে ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ দফায় ভোট পড়ে ৬৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
মনোহরদীতে আ. লীগ প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ
অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আ. লীগ থেকে বহিষ্কার
খাগড়াছড়ি পৌরসভায় চলছে মক ভোটিং
বরগুনায় আ. লীগ সমর্থকদের মারধর, আটক ৩
সুনামগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী

শেয়ার করুন

বগুড়ায় বিএনপির বাদশা

বগুড়ায় বিএনপির বাদশা

বগুড়া পৌরসভায় মেয়র পদে জয়ী বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাদশার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দ জগ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯০ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওবায়দুল হাসান পান ২০ হাজার ৮৯ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী পেয়েছেন ৬ হাজার ১৯১ ভোট।

বগুড়া পৌরসভায় মেয়র পদে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলে ৮২ হাজার ২১৭ ভোট পেয়েছেন তিনি।

বগুড়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে এ ফল ঘোষণা করেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাদশার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দ জগ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯০ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওবায়দুল হাসান পান ২০ হাজার ৮৯ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী পেয়েছেন ৬ হাজার ১৯১ ভোট।

২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭০ ভোটারের এ পৌরসভায় ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ১১২ জন। সেই হিসাবে ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ২০১৫ সালে জয় পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা একেএম মাহবুবর রহমান।

রোববার সকাল ৮টায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট শুরু হয়। পৌরসভার ২১ সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩০ এবং ৭টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৫০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে শাহ্ মো. মেহেদী হাসান হিমু, ২ নম্বরে তৌহিদুল ইসলাম বিটু, ৩ নম্বরে তরুণ কুমার চক্রবর্তী, ৪ নম্বরে মতিন সরকার, ৫ নম্বরে রেজাউল করিম ডাব্লুউ, ৬ নম্বরে পরিমল চন্দ্র দাস, ৭ নম্বরে দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু, ৮ নম্বরে এরশাদুল বারী এরশাদ, ৯ নম্বরে আলহাজ্ব শেখ, ১০ নম্বরে আরিফুর রহমান আরিফ।

এ ছাড়া ১১ নম্বর ওয়ার্ডে সিপার আল বখতিয়ার, ১২ নম্বরে এনামুল হক সুমন, ১৩ নম্বরে আল মামুন, ১৪ নম্বরে এম আর ইসলাম রফিক, ১৫ নম্বরে আমিনুর ইসলাম, ১৬ নম্বরে আমীন আল মেহেদী, ১৭ নম্বরে ইকবাল হোসেন রাজু, ১৮ নম্বরে রাজু হোসেন পাইকার, ১৯ নম্বরে লুৎফর রহমান মিন্টু, ২০ নম্বরে রোস্তম আলী ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে রুহুল কুদ্দুস ডিলু কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।

সকাল থেকেই সবকেন্দ্রে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোটার উপস্থিতিও ছিল অনেক বেশি ছিল।

ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ছিল সতর্ক অবস্থানে। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্যের পাশাপাশি ছিল ১৬ প্লাটুন বিজিবি।

আরও পড়ুন:
মনোহরদীতে আ. লীগ প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ
অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আ. লীগ থেকে বহিষ্কার
খাগড়াছড়ি পৌরসভায় চলছে মক ভোটিং
বরগুনায় আ. লীগ সমর্থকদের মারধর, আটক ৩
সুনামগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী

শেয়ার করুন

রাজশাহীর দুই পৌরসভা নৌকার

রাজশাহীর দুই পৌরসভা নৌকার

চারঘাট পৌরসভায় মেয়র পদে জয়ী একরামুল হক ও দুর্গাপুর পৌরসভায় জয়ী তোফাজ্জল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

চারঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী একরামুল হক ১৪ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। দুর্গাপুরে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন।

দেশে পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে রাজশাহীর চারঘাট ও দুর্গাপুরে মেয়র পদে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

চারঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী একরামুল হক ১৪ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম বিকুল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৮১২ ভোট। ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রোববার দুপুরে অবশ্য ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিকুল।

দুর্গাপুর পৌরসভায় আবারও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন। বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে ২ হাজার ৪০৭ ভোট বেশি পেয়ে মেয়র হন তিনি। এ নিয়ে পরপর তিনবার তিনি মেয়র নির্বাচিত হলেন তোফাজ্জল।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, তোফাজ্জল হোসেন নৌকা প্রতীকে পান ৮ হাজার ৮০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জার্জিস হোসেন সোহেল পেয়েছেন ৬ হাজার ৪০১ ভোট।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসানুজ্জামান সান্টু মোবাইল ফোন প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২০৭ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীর লাঙ্গল প্রতীকে পান ১৩৪ ভোট। এ পৌরসভায় ভোটের হার ৭৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
মনোহরদীতে আ. লীগ প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ
অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আ. লীগ থেকে বহিষ্কার
খাগড়াছড়ি পৌরসভায় চলছে মক ভোটিং
বরগুনায় আ. লীগ সমর্থকদের মারধর, আটক ৩
সুনামগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী

শেয়ার করুন

নরসিংদী পৌরসভার ছয় কেন্দ্রে পুনঃভোট

নরসিংদী পৌরসভার ছয় কেন্দ্রে পুনঃভোট

রোববার পঞ্চম ধাপে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ভোট হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাইকোর্টে রিট আবেদনে অভিযোগ করেছেন, এ সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি কর্মকর্তার কাছে থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারা হয়েছে।

নরসিংদী পৌরসভার ছয়টি কেন্দ্রে আবার ভোট নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আবার ভোট গ্রহণ না করা পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

ওই পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এস এম কাইয়ুমের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

নরসিংদী পৌরসভার বাশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা-ই গাউছিয়া শরিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসা, বামন্দি কে কে এম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাগদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মীর ইমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়, সাতিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কামারগাও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালসহ সাতটি কেন্দ্রের পুনঃভোট গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। তার সঙ্গে ছিলেন মোকাররামুছ সাকলান ইমন।

আইনজীবী সাকলান ইমন বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী পৌরসভার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন এই সাতটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়। তখন কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বে থাকা নির্বাচনি কর্মকর্তার কাছে থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারা হয়।

তখন এ অভিযোগ প্রিজাইডিং অফিসার এবং রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হয়। তারা সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানায়। কিন্ত সেখান থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। পরে আদালত ওই রিটের শুনানি নিয়ে আজকে এ আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
মনোহরদীতে আ. লীগ প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ
অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আ. লীগ থেকে বহিষ্কার
খাগড়াছড়ি পৌরসভায় চলছে মক ভোটিং
বরগুনায় আ. লীগ সমর্থকদের মারধর, আটক ৩
সুনামগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg