৪ মেয়র প্রার্থীর ২ জনই আ. লীগের বিদ্রোহী

৪ মেয়র প্রার্থীর ২ জনই আ. লীগের বিদ্রোহী

কুলাউড়া পৌরসভায় এর আগে চারবার ভোট হয়েছে। এতে একবার আওয়ামী লীগের আব্দুল মালিক, দুই বার বিএনপির কামাল আহমেদ জুনেদ মেয়র হন। সর্বশেষ নির্বাচনে মেয়র হন সফি আলম ইউনুছ, যিনি এবারও স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচনের বাকি আর মাত্র দুই দিন। এ নির্বাচন সামনে রেখে শেষ সময়ের প্রচারে ব্যস্ত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

১৬ জানুয়ারির এ নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন চার জন, তাদের মধ্যে দুই জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।

চার মেয়র প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত সিপার উদ্দিন আহমদ, দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী বর্তমান মেয়র সফি আলম ইউনুছ, আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাহান মিয়া (স্বতন্ত্র) ও বিএনপির কামাল আহমেদ জুনেদ।

কুলাউড়া পৌরসভায় এর আগে চারবার ভোট হয়েছে। এতে একবার আওয়ামী লীগের আব্দুল মালিক, দুই বার বিএনপির কামাল আহমেদ জুনেদ মেয়র হন। সর্বশেষ নির্বাচনে মেয়র হন সফি আলম ইউনুছ, যিনি এবারও স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন।

মেয়র প্রার্থী

নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক সিপার উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা ভোটে বিশেষ ক্ষতি করতে পারবেন না।’

বর্তমান মেয়র তেমন কোনো কাজ করেননি অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বলেন, শহরে যানজট, ময়লা, ভাঙাচোরা রাস্তা-ঘাটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন তিনি।

বর্তমান মেয়র ও বিদ্রোহী প্রার্থী সফি আলম আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কেউই একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। তিনি পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছেন। আবার নির্বাচিত হলে অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করার চেষ্টা করবেন।

জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাহান মিয়ার শঙ্কার সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে। তিনি বলেন, ‘ফেয়ার নির্বাচন নিয়ে আমি সন্দিহান। ফেয়ার নির্বাচন হলে জয় হবে আমার।’

দলের একক প্রার্থী হিসেবে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন বিএনপির কামাল আহমেদ জুনেদ।

সাবেক এ মেয়র নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার আমলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আমি সন্দিহান। মানুষ ভোট দিতে পারলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’

কুলাউড়া পৌরসভা ঘুরে দেখা গেছে, কিছু কিছু ওয়ার্ডে এখনও রয়েছে কাঁচা রাস্তা, কোনো কোনো ওয়ার্ডে ড্রেনের জায়গা না রেখেই রাস্তা করা হয়েছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু জায়গা ইউনিয়নের চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে ঘর থেকে বের হওয়া যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ পৌরসভায় কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারের সংখ্যা ২০ হাজার ৭৫৯ জন।

সিলেটের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিঞা বলেন, ‘সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন পৌরসভার নয়টি কেন্দ্রে নয় জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।’

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আহসান ইকবাল বলেন, ‘তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। যারা আইন লঙ্ঘন করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য