পোস্টার ছেঁড়ার বদলা নিতে খুন?

পোস্টার ছেঁড়ার বদলা নিতে খুন?

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মুখোমুখি আওয়ামী লীগের দুই জন। মঙ্গলবার রাতে গুলিতে নজরুল ইসলাম বাহাদুরের কর্মী আজগর আলী নিহত হয়েছেন। আগের তিন নজরুলের সমর্থকরা প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল কাদেরের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। এই ঘটনার বদলা নিতেই সংঘর্ষ বাধে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পোস্টার ছেঁড়ার বদলা নিতেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ কর্মী আজগর আলী প্রকাশ বাবুলকে গুলি করে হত্যার তথ্য মিলেছে।

মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটার দিকে পাঠানটুলি ওয়ার্ডের মগপুকুর পাড় এলাকায় গুলিতে নিহত হন তিনি। এই ঘটনায় মাহাবুব নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

আজগর আলী ও মাহাবুবকে নিজের সমর্থক বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর। তার দাবি, বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরের সমর্থকদের গুলিতে এই ঘটনা ঘটেঝে।

সোমবার রাতে মতিয়ারপোল আবেদিয়া স্কুল সংলগ্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা তার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ করেন কাদের। এর একটি ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েও পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, রাত আটটা ৪৫ মিনিটের দিকে পথচারীদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলেন নজরুল ইসলাম বাহাদুর। এ সময় তার এক সমর্থক কাদেরের পোস্টার টেনে ছিঁড়ে ফেলছেন।

শুধু ওই স্কুলের পাশে নয়, পুরো পাঠানটুলিতেই সোমবার রাতে পোস্টার ছেঁড়া হয় বলে অভিযোগ কাদেরের। মঙ্গলবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তিনি লিখিত অভিযোগও দেন।

অভিযোগে বলা হয়, নজরুল ইসলাম বাহাদুরের কর্মীরা পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি প্রচারে বাধা ও হামলা চালিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যে রাত সোয়া আটটার দিকে মগপুকুর পাড় এলাকায় গুলি হয়। নিহত হন আজগর। মাহাবুবের চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার পর কাদের বলেন, তিনি আবু শাহ মাজার এলাকায় গণসংযোগ করছিলাম। তাদের আচমকা ধাওয়া করে নজরুলের অনুসারীরা। তারা গুলি ছুঁড়লে তিনি বাসায় অবস্থান নেন। কীভাবে আজগর মারা গেছেন, তা তিনি জানেন না।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, গণসংযোগকালে কাদেরের অনুসারীরা সশস্ত্র হামলা চালায়।

ঘটনার পর পরই ডবলমুরিং থানা পুলিশ নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় পাঠানটুলিতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কাদেরসহ ২৬ জনকে আটক করে।

বুধবার সকালে থানায় মামলা করেছেন আজগরের ছেলে সেজান মাহমুদ সেতু।

ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ রানা বলেন, ‘মামলায় আবদুল কাদেরসহ ১৩ জনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এটি তদন্ত করবে গোয়েন্দা পুলিশ।’

উৎসবের আমেজে এই সহিংসতার ঘটনা গোটা নির্বাচনে নিয়ে এসেছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সংঘাত এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপু কুমার দাশ।

দুই প্রার্থী আব্দুল কাদের ও নজরুল ইসলাম বাহাদুর দুই জনই ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।

কাদের চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের অনুসারী। আর নজরুল শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

শেয়ার করুন

মন্তব্য