20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
চিঠি লেখে না কেউ, ডাকবাক্স এখন অপাংক্তেয়

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘর।

চিঠি লেখে না কেউ, ডাকবাক্স এখন অপাংক্তেয়

রাজবাড়ী জেলায় প্রধান ডাকঘর ছাড়াও তিনটি উপজেলা ডাকঘর, চারটি সাব ডাকঘর ও ৫৭টি শাখা ডাকঘর রয়েছে।  

একটা সময় ছিল যখন এ দেশের মানুষ চিঠির জন্য ব্যাকুল প্রতীক্ষায় থাকত। তখন চিঠিই ছিল যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু এখন চিঠির জায়গা দখল করে নিয়েছে মুঠোফোন, ই-মেইল, ফেসবুকসহ নানা সামাজিক মাধ্যম। এখন সচরাচর কেউ চিঠি লেখে না। হারিয়ে যাচ্ছে চিঠি, ডাকবাক্স।

রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘরটি শহরের প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিনই এই ডাকঘরে মানুষের ভিড় দেখা যায়। তবে এ ভিড় চিঠি আদান-প্রদানের জন্য নয়। বেশির ভাগ মানুষই আসেন সঞ্চয় বা জমা তুলে নিতে।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের তথ্যমতে, এ জেলায় প্রধান ডাকঘর ছাড়াও তিনটি উপজেলা ডাকঘর, চারটি সাব ডাকঘর ও ৫৭টি শাখা ডাকঘর রয়েছে। উপজেলা ও সাব ডাকঘরে ডাকসেবার পাশাপাশি অন্যান্য সেবা দেয়া হয়। শাখা ডাকঘরে শুধুমাত্র ডাকসেবা দেয়া হয়। এসব ডাকঘরে একজনক পোস্টমাস্টার থাকেন। তাদের মাস শেষে কিছু সম্মানী দেয়া হয়।

তবে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শাখা ডাকঘরগুলোর গুরুত্ব এখন আর নেই বললেই চলে। ডাকঘরগুলো বেশির ভাগের কার্যক্রম চলে মানুষের বাড়িতে অথবা দোকানে। ডাক বাক্সগুলোও আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে।
envelop

সদর উপজেলার রামকান্তপুর ডাকঘরের ডাকবাক্সটি স্থান পেয়েছে খাটের নিচে। ডাকঘরটির মাস্টার শহিদুল ইসলাম একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। তার দোকানেই চলে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম।

তিনি জানান, এখন আর মানুষ চিঠিপত্র আদান-প্রদান করে না। অফিসিয়াল কিছু চিঠি আসে। সেগুলো নিজের হেফাজতে রেখে প্রধান ডাকঘরে পাঠিয়ে দেন। ডাকবাক্সটিতে কেউ চিঠি ফেলে না বলে সেটি খুলে রেখেছেন।

রাজবাড়ী রেলস্টেশনের ১ নম্বর প্লাটফর্মে ইট সিমেন্টের গাঁথুনি দিয়ে একটি ডাকবাক্স স্থাপন করা ছিল। তবে চিঠির আদান-প্রদান না থাকায় মাস দুই আগে সেটি তুলে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সামনে একটি ডাকবাক্স আছে। কিন্তু এর সামনে প্রাইভেট কার আর মাইক্রোবাসের সারি। বোঝার উপায় নেই সেখানে একটি ডাকবাক্স আছে।

চিঠি লেখা প্রসঙ্গে নতুন কয়েকজন ছেলেমেয়ের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে, চিঠি কীভাবে লিখতে হয়, কোথায় দিতে হয়, এ বিষয়ে তারা ভালো জানে না। মূলত এখন চিঠি লেখার দরকার হয় না। তারা প্রয়োজনে মুঠোফোনে কথা বলে। ফেসবুকে যোগাযোগ করে।

রাজবাড়ীর ধুঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা নেহাল আহমেদ জানান, এক সময় প্রচুর চিঠি লিখেছেন। পেয়েছেনও প্রচুর। রাত জেগে চিঠি লিখতেন। প্রিয়জন, আত্মীয়স্বজন, দূরের বন্ধুদের ঠিকানায় পাঠাতেন। চিঠি যখন পেতেন, তখন খুব আনন্দ হতো। একটা ঘোরের মধ্যে থাকতেন। একটা চিঠি পাওয়ার পর আরেকটি চিঠির জন্য অপেক্ষা করতেন। ডাক পিওনকে দেখলেই ভাবতেন এই বুঝি তার চিঠি এসেছে। চিঠি না পেলে মন খারাপ হতো তার। আবার চিঠি পেলে খুব আনন্দ পেতেন।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার বিএম নাজমুল হুদা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত চিঠি আদান-প্রদান একেবারেই কমে গেছে। তবে অফিসিয়াল চিঠিপত্র আসে। এই ডাকঘর থেকে প্রতিদিন গড়ে দিনে ৩০০ রেজিস্ট্রি করা চিঠি আদান-প্রদান হয়।

তিনি আরও বলেন, তারা নতুন নতুন সেবা চালু করেছেন। মানি অর্ডার, ই মানি অর্ডার, ইএমও ইস্যু, ক্যাশকার্ড, এসবি, এফডি, সঞ্চয়পত্র, মুনাফা সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্র, অনলাইন সঞ্চয়পত্র, পোস্টাল অর্ডারসহ নানা কার্যক্রম রয়েছে তাদের।

শেয়ার করুন

মন্তব্য