৪২তম বিসিএসে নেয়া হচ্ছে আরও ২ হাজার ডাক্তার

৪২তম বিসিএসে নেয়া হচ্ছে আরও ২ হাজার ডাক্তার

করোনা আক্রান্ত রোগীকে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক। ছবি: সংগৃহীত

কোডিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন চলমান ৪২তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও দুই হাজার চিকিৎসক (সহকারি সার্জন) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

করোনা রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবায় আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৪২তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে সহকারি সার্জন পদে দুই হাজার শূন্য পদ ঘোষণা করেছে সরকার।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে সোমবার দেয়া এক চিঠিতে এ কথা বলা হয়েছে। যা মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমের হাতে আসে।

শূন্য পদ মঞ্জুর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রোকেয়া বেগম।

এতে বলা হয়েছে, ‘কোডিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) চলমান ৪২তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও দুই হাজার চিকিৎসক (সহকারি সার্জন) নিয়োগের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় নবম গ্রেডের দুই হাজার চিকিৎসকের (সহকারী সার্জন) পদ রাজস্বখাতে স্থায়ীভাবে সৃজনে সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করছি।’

করোনা মোকাবিলায় দেশে দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিতে গত বছর ৪২তম (বিশেষ) বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি।

করোনাভাইরাস মহামারিতে চিকিৎসা সেবার মান বাড়াতে কোনো ইন্টারভিউ ছাড়াই ৪ হাজার চিকিৎসক ও ৪ হাজার নার্স নিয়োগে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন চার হাজার ডাক্তার নিচ্ছি। নার্সও চার হাজার নেয়া হচ্ছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নেয়া হচ্ছে।’

গত দেড় বছর ধরে চিকিৎসক নার্সরা ছোটাছুটি করে ক্লান্ত হয়ে গেছেন বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তাই এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শিথিল করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের ইন্টারভিউও আমরা বাদ দিয়েছি। অনুরোধ করেছি, ইন্টারভিউ যেন না নেয়া হয়। পুলিশ ভেরিফিকেশনের দরকার নেই, তাদের তাড়াতাড়ি কাজে যোগ দেয়ার সুযোগ দেয়া হোক।’

আরও পড়ুন:
৪২তম বিসিএস থেকেই ৪ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ চায় উত্তীর্ণরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঘাট পারাপারে ৪০ গ্রামের ভরসা একটি খেয়া

ঘাট পারাপারে ৪০ গ্রামের ভরসা একটি খেয়া

জয়পুরহাটের ছোট যমুনা নদীর মাধবঘাটে একটি খেয়া নৌকা দিয়ে পারাপার হয় ৪০ গ্রামের মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

নামা বুধইল গ্রামের বিকাশ চন্দ্র জানান, তিনি ছোটবেলা থেকে শুনে আসছেন এখানে একটি সেতু হবে, হচ্ছে করে আজও হয়নি। তাদের বাপ-দাদারাও তাই শুনেছেন।

জয়পুরহাট সদরের ছোট যমুনা নদীর মাধবঘাট দিয়ে পারাপার হয় দুপারের প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ। অথচ এ ঘাটে রয়েছে মাত্র একটি খেয়া নৌকা, যা আবার সব সময় চলে না।

সদর উপজেলার মোহাম্মাদাবাদ ইউনিয়নের বুধইল গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদীটি। এ নদীর মাধবঘাট থেকে জয়পুরহাট শহরের দূরত্ব ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার। সড়ক পথে গেলে ঘুরতে হয় ১৪ থেকে ১৫ কিলোমিটার।

নদীর এক পাশে জয়পুরহাট সদরের মোহাম্মদাবাদ, ধলাহার ও দোগাছী ইউনিয়ন অন্য পাশে পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ও আয়মারসুলপুর ইউনিয়ন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা বারবার সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আর কর্তৃপক্ষ বলছে, স্থানীয়রা এতদিন সেখানে সেতু নির্মাণের জন্য কিছু বলেনি।

ঘাট পারাপারে ৪০ গ্রামের ভরসা একটি খেয়া

নামা বুধইল গ্রামের বিকাশ চন্দ্র জানান, তিনি ছোটবেলা থেকে শুনে আসছেন এখানে একটি সেতু হবে, হচ্ছে করে আজও হয়নি। তাদের বাপ-দাদারাও তাই শুনেছেন।

উঁচা বুধইল গ্রামের হাসানুজ্জামান আলম জানান, বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে এলাকার মানুষ পড়ে চরম ভোগান্তিতে। এ ছাড়া প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই ছোট নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। তারাও চায় স্কুলে যাতায়াতের জন্য দ্রুত সেতুটি নির্মাণ হোক।

বুধইল গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী দৃষ্টি রানী জানায়, সে জয়পুরহাট শহরসহ মাধবঘাটের দুপাশের বেশ কয়েকটি স্কুলে লেখাপড়া করছে। সেতু তো নেই, সব সময় নৌকাও পাওয়া যায় না।

মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, জরুরি সময় বিকল্প পথে অনেক রাস্তা ঘুরে শহরে যাওয়া বেশ কষ্টদায়ক রোগী ও প্রসূতিদের জন্য। এ ছাড়া একটি নৌকা থাকায় সময় মতো ব্যবসায়িক ও কৃষি পণ্য বাজারে নেয়াও সম্ভব হয়ে ওঠে না।

ঘাট পারাপারে ৪০ গ্রামের ভরসা একটি খেয়া

আয়মা রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহেদুল আলম বেনু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষ ১৫ কিলোমিটার রাস্তার বদলে মাত্র ৩ কিলোমিটার রাস্তা পার হয়ে শহরে যেতে পারবেন। রোগী, শিক্ষার্থীদের সুবিধার পাশাপাশি কৃষি ও ব্যাবসার সুবিধাসহ সব মানুষই উপকৃত হবেন।’

সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন বলেও জানান তিনি।

জয়পুরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, ‘নদীটির দুই পাশে দুই উপজেলার অনেক বাসিন্দা। স্থানীয় এলজিইডি জনগণের সেতুর দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে। তাই স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে সেতুটির প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
৪২তম বিসিএস থেকেই ৪ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ চায় উত্তীর্ণরা

শেয়ার করুন

কোটা ছাড়া সরকারি নিয়োগ হচ্ছে যেভাবে

কোটা ছাড়া সরকারি নিয়োগ হচ্ছে যেভাবে

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগে এখন কোনো কোটা নেই। ফাইল ছবি

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার পর দেশের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরোটাই এখন হচ্ছে মেধার ভিত্তিতে। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে এখনও বহাল আছে কোটা পদ্ধতি। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ করাটা জরুরি। না হলে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন।

দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করে কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য সুবিধা দিতে সারা বিশ্বে সংরক্ষণ করা হয় কোটা। কিন্তু কোটা পদ্ধতির সংস্কার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রথা বাতিল করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর থেকে দেশের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরোটাই হচ্ছে মেধার ভিত্তিতে। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে এখনও বহাল আছে কোটা পদ্ধতি।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর শারিরীক প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ করাটা জরুরি। না হলে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন। সুযোগ না পেলে অনগ্রসররা আরও পিছিয়ে যাবে বলেও মনে করেন তারা।

কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়ে নানা সময় দেশে আন্দোলন দেখা গেলেও ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এ দাবির পক্ষে বাড়তে থাকে জনমত। ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ’-এর ব্যানারে শুরু হওয়া আন্দোলনে যোগ দিতে থাকেন বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। শিক্ষাঙ্গনে শুরু হয় অচলাবস্থা। অবরুদ্ধ সড়কে শুরু হয় তীব্র যানজট। দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে।

এমন বাস্তবতায় ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই দিন সরকারদলীয় সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানকের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কার সংস্কার বলে...সংস্কার করতে গেলে আরেক দল এসে বলবে আবার সংস্কার চাই। কোটা থাকলেই সংস্কার। আর কোটা না থাকলে সংস্কারের কোনো ঝামেলাই নাই। কাজেই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই।’

ওই বছরের ৪ অক্টোবর কোটা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘৯ম গ্রেড (পূর্বতন প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হইবে।

‘৯ম গ্রেড (পূর্বতন প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হইল।’

কোটা ছাড়া সরকারি নিয়োগ হচ্ছে যেভাবে
সরকারি চাকরিতে কোটার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে দেশজুড়ে গড়ে উঠেছিল কঠোর আন্দোলন। ছবি: সংগৃহীত

এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘কোটার যে বিষয়টি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার করেছেন। সেভাবেই কিন্তু আমরা কোটা পদ্ধতি বাস্তবায়ন করছি। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির চাকরি, সেটা নবম গ্রেড থেকে শুরু করে ত্রয়োদশ গ্রেড পর্যন্ত মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া করে থাকি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘বিসিএস ক্যাডার হয়ে যারা ঢুকছেন তারা কিন্তু নবম গ্রেডে ঢোকেন। সেখান থেকে শুরু করে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণি চাকরির ক্ষেত্রে কোটার কোনো বিষয় নেই। এটা পুরোপুরি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ কাজ সম্পন্ন হয়।’

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দ্বিতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণি অর্থ্যাৎ ১৪ থেকে ২০তম গ্রেডে কোটা পদ্ধতি বহাল আছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

১৩ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কোটা পদ্ধতির বিন্যাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এতিম এবং প্রতিবন্ধী যারা রয়েছেন তাদের জন্য ১০ শতাংশ রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা সেখানে ৩০ শতাংশ আছে। নারী কোটা ১৫ শতাংশ। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যদি কেউ থাকেন, সেটা ৫ শতাংশ এবং আনসার ভিডিপির জন্য ১০ শতাংশ। অবশিষ্ট যা আছে ৩০ শতাংশ।’

উদাহরণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো জেলায় যদি ২০ জন নিয়োগ হয়, একজন এতিম ও একজন প্রতিবন্ধী মিলিয়ে দুই জন। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হবে ছয় জন। তারপর নারী কোটায় তিন জন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যদি কেউ থাকে, সেখান থেকে এক জন। আনসার ভিডিপি থেকে থাকবে দুই জন এবং অন্যান্য সাধারণ যারা, যারা মেধার সঙ্গে আছেন তারা থাকবেন ছয় জন। ২০ জন এভাবেই বিভক্তি হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন বলেন, ‘সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের জন্য অবশ্যই কোটা থাকা উচিত। কারণ মূলধারার সঙ্গে তাদেরকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ থাকতে হবে।’

তাদেরকে মূল স্রোতের সঙ্গে মেশাতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মনে করেন এই শিক্ষাবিদ।

বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি বলেন, ‘আপাতত যেটা আছে, সেটা তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির ক্ষেত্রে আমরা রেখেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে যদি সেরকম কোনো নির্দেশনা আগামীতে পাওয়া যায়, আমরা অবশ্যই সেভাবে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করব।’

আরও পড়ুন:
৪২তম বিসিএস থেকেই ৪ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ চায় উত্তীর্ণরা

শেয়ার করুন

সমুদ্রসীমা নিয়ে জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তি

সমুদ্রসীমা নিয়ে জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তি

বঙ্গোপসাগর

মহিসোপান নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিতর্ক শুরু ২০০৯ সালে। সেবার ভারত তাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য যে বেইজ পয়েন্ট নির্ধারণ করে, তার দুটি নিয়ে আপত্তি ছিল বাংলাদেশের।

সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের দাবির বিরোধীতা করে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে।

২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতের রায়ে বাংলাদেশ নতুন প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা পেয়েছে। কিন্তু গত এপ্রিলে বাংলাদেশের দাবির উপরে আপত্তি এবং নিজেদের কিছু দাবি দাওয়া জানিয়ে চিঠি দেয় ভারত। চিঠিতে বলা হয়- বাংলাদেশ যে মহীসোপান নিজেদের বলে দাবি করছে, তা ভারতের মহীসোপানের অংশ।

সেই সময়ই বাংলাদেশ জানিয়ে দেয় যে, ভারতের ওই আপত্তির কোন আইনগত ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণ কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্যও তুলে ধরে বাংলাদেশ।

এবার সরাসরি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

মহিসোপান নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিতর্ক শুরু ২০০৯ সালে। সেবার ভারত তাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য যে ভিত্তিরেখা বা বেইজ পয়েন্ট নির্ধারণ করে, তার একটি ছিল বাংলাদেশের জলসীমার ভেতরে। আরেকটি ছিল সাড়ে দশ নটিক্যাল মাইল সমুদ্রের ভেতরে।

ওই দুটি বেইজ পয়েন্টের ক্ষেত্রে ভারত কোনো নিয়ম মানেনি বলে দাবি করে বাংলাদেশ। তাই এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সংশোধনের অনুরোধ করা হয় এবং ২০১১ সালে জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণ বিষয়ক কমিশনেও যাওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশের পক্ষে রায় আসে।

আদালতের রায় নিয়ে সেই সময় কোনো উচ্চ বাচ্য না করলেও পরে দ্বিপক্ষীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে জল ঘোলা করতে থাকে ভারত। সাত বছর এমন চলার পর সর্বশেষ গত এপ্রিলে জাতিসংঘে নিজেদের দাবি দাওয়া উপস্থাপন করে তারা। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো ছাড় না দেওয়ার মনোভব বাংলাদেশের।

আরও পড়ুন:
৪২তম বিসিএস থেকেই ৪ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ চায় উত্তীর্ণরা

শেয়ার করুন

সৌদিতে শুল্ক ছাড়াই ১৩৭ পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

সৌদিতে শুল্ক ছাড়াই ১৩৭ পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে সৌদি আরবে সফররত বাংলাদেশি দল

সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আওতায় দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়েও অনুরোধ সালমান এফ রহমান।

সৌদি আরবে ১৩৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী আল কাসাবির কাছে এই অনুরোধ করেন।

শনিবার আল কাসাবির সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন সালমান এফ রহমান। সরকারি সফরে তিনি এখন সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব বর্তমানে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত ও প্লাস্টিক পণ্য, হিমায়িত মাছ ও ওষুধ আমদানি করে উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান হালাল মাংস রপ্তানিতেও আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে জোরদার করতে সৌদি আরবে রপ্তানি হয় এমন ১৩৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চান তিনি। এ ছাড়া সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাবসা করার সুযোগ দেওয়ারও অনুরোধ করেন।

সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তার দেশ বিদেশিদের বৈধভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়। বাংলাদেশিরা এ ব্যপারে সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহায়তা পাবে।

সৌদি আরব চাইলে বাংলাদেশ সৌদি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করে বিশেষ সুবিধা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও আল কাসাবিকে জানান সালমান এফ রহমান। সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়েও অনুরোধ জানান তিনি। এ ব্যপারে ইতিবাচক মনোভব দেখান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীও।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ এবং কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করতে পারে।

এ ছাড়া ২০১৯ সালে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরের সময় দুই বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা দ্রুত কার্যকর করারও অনুরোধ জানান তিনি। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন কাসাবি।

সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান। এই আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেন আল কাসাবি।

এর আগে বৈঠকের শুরুতেই সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন সালমান এফ রহমান। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সৌদি সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলে জানান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী।

ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন, পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ এবং সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
৪২তম বিসিএস থেকেই ৪ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ চায় উত্তীর্ণরা

শেয়ার করুন

তুরাগে যাত্রীসহ প্রাইভেটকার, নিহত ১

তুরাগে যাত্রীসহ প্রাইভেটকার, নিহত ১

প্রতীকী ছবি।

উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মনির হোসেন জানান, প্রাইভেটকারটি ঢাকা থেকে আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে তুরাগ নদে পড়ে যায়। এসময় গাড়ি থেকে দুইজন বেরিয়ে আসতে পারলেও, আটকা পড়েন একজন।

ঢাকার সাভারে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তুরাগ নদে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুইজন।

তাদের আশুলিয়ার নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম ভোলা দাশ। আহত দুইজনের নাম জানা যায়নি।

উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মনির হোসেন জানান, প্রাইভেটকারটি ঢাকা থেকে আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে তুরাগ নদে পড়ে যায়। এসময় গাড়ি থেকে দুইজন বেরিয়ে আসতে পারলেও, আটকা পড়েন একজন।

‘ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গাড়ির ভেতর থেকে একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। আহত দুইজনকে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।’

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ বলেন, ‘পানিতে তলিয়ে যাওয়া প্রাইভেটকারের আহত দুই যাত্রীকে আশুলিয়ার নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। মরদেহ থানায় নেয়া হয়েছে। পানির নিচে থাকা প্রাইভেটকারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
৪২তম বিসিএস থেকেই ৪ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ চায় উত্তীর্ণরা

শেয়ার করুন

গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিল শিশু

গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিল শিশু

ওবায়দুর রহমান বলেন, এলাকার একটি হাওরে কয়েকজন লোক মাছ ধরছিলেন। এ সময় তারা একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তখন আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পান হাওরের পাশে নির্জন স্থানে ক্ষতবিক্ষত এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। পাশে বসে শিশুটি কাঁদছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ইয়াসমিন নামে এক গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গাঙাইল ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে মদনপুর-যুগের হাওর নামক স্থান থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন নান্দাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শ্রীরামপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামের ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক কলহ ছিল। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পারিবারিক কলহে গৃহবধূ ইয়াসমিন তার বাপের বাড়িতে চলে গেলেও দুই দিন আগে স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।

ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘এলাকার একটি হাওরে কয়েকজন লোক মাছ ধরছিলেন। এ সময় তারা একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তখন আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পান হাওরের পাশে নির্জন স্থানে ক্ষতবিক্ষত এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। পাশে বসে শিশুটি কাঁদছে।

‘জেলেদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।’

পুলিশের ওই এসআই বলেন, ‘তিন বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার নামের শিশুটি নিহত গৃহবধূর মেয়ে। গৃহবধূর বুকে, পিটে ও হাতে ছুরির আঘাত রয়েছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে।’

মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার পর থেকে ওই নারীর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা লাপাত্তা বলে জানায় পুলিশ।

আরও পড়ুন:
৪২তম বিসিএস থেকেই ৪ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ চায় উত্তীর্ণরা

শেয়ার করুন

স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান

স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান

স্কুলের মাঠ দখল করে সেখানে রোপন করা হয় কলাগাছ। ছবি: নিউজবাংলা

করোনায় বন্ধ থাকার সুযোগে স্কুলের মাঠে কলাগাছের চারা রোপন করেন ওই স্কুলের জমিদাতার নাতিরা। তাদের দাবি, জমির মালিকানা তাদের দাদি পিয়ারজান বিবির ছিল না। তাই তিনি জমি লিখে দিতে পারেন না। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও জমিদাতার স্বজনদের মধ্যে।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে কলাগাছের বাগান করেছেন জমিদাতার পরিবারের সদস্যরা। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে পাঠদান চললেও, মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবিভাবকসহ স্থানীয়রা।

উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের কুতুবপুর পিয়ারজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে কলাগাছ লাগানোর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ জানালেও, লাভ হয়নি। সালিশে বসেও সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে বিদ্যালয়ের নামে জমি লিখে দেন পিয়ারজান বিবি নামের এক নারী। তিনি বর্তমানে বেঁচে নেই।

৪৭ বছর পর জমিদাতার নাতিরা দাবি করছেন, জমির মালিকানা পিয়ারজান বিবির ছিল না। তাই তাদের দাদি জমি লিখে দিতে পারেন না। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জমিদাতার স্বজনদের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এ সময়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে কম আসতেন। এই সুযোগে বিদ্যালয় মাঠে কলাগাছের চারা রোপন করে জমিদাতার স্বজনরা।

খবর পেয়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে গেলে তাদের দেয়া হয় নানা রকম হুমকি। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় মামলা করেন।

প্রধান শিক্ষক রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘গত ২৯ মে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় জমিদাতার স্বজনরা বিদ্যালয়কে ৩১ শতক জমি সাফকবলা দলিল করে দেবেন। বিনিময়ে তাদের তিন লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু এখন তারা জমি লিখে দেয়ার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে পাঠদানের জন্য একমাত্র টিনশেড ঘরটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, মাঠ থেকে কলাগাছ সরানো হয়নি। এ অবস্থায় গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়।’

জমিদাতা পিয়ারজান বিবির নাতি আবুল ইসলাম জানান, তারা তিন লাখ টাকা পেয়েছেন। তবে জমি লিখে দিতে হলে আগের দলিল বাতিল করতে হবে।

পিয়ারজান বিবির আরেক নাতি সুরুজ আলী বলেন, ‘আগের দলিল বাতিল করা না হলে নতুন করে জমি লিখে দেব না। গাছগুলো সরানোর বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক বলেন, ‘একটি মীমাংসিত বিষয়কে জটিল করে তুলেছেন জমিদাতার স্বজনরা। ঘটনাটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
৪২তম বিসিএস থেকেই ৪ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ চায় উত্তীর্ণরা

শেয়ার করুন