২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দ্রুত বিচার দাবি

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দ্রুত বিচার দাবি

গ্রেনেড হামলার দ্রুত বিচার দাবিতে '২১ আগস্ট বাংলাদেশ' নামের সংগঠন জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজন করে আলোচনা সভা। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘একাত্তরে পরাজিত শক্তির দোসররা বারবার আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এরাই ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল শেখ হাসিনাকে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার দ্রুত বিচার ও সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান।

২১ আগস্ট বাংলাদেশ নামের সংগঠন আয়োজিত আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথসহ আওয়ামী লীগের মহানগর নেতাদের অনেকে।

আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘একাত্তরে পরাজিত শক্তির দোসররা বারবার আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এরাই ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল শেখ হাসিনাকে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিরোধী দলের নেতাকে হত্যাচেষ্টার এমন নজির ইতিহাসে নেই।

‘মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নান গ্রেনেড হামলার আগে তারেক জিয়ার সঙ্গে হাওয়া ভবনে দুইবার আলোচনা করে, যা জবানবন্দিতে উল্লেখ আছে। ঘটনার পর সমস্ত আলামত নষ্ট করা হয়েছে। এমনকি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতরা চিকিৎসা নিতে গেলে ড্যাপের ডাক্তাররা তা না দিয়ে সরে পড়েন।’

কামরুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার পরিবারসহ হত্যার ঘটনায় প্রত্যাশিত প্রতিবাদ হয়নি। তখন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেকে খুনি মোশতাকের সরকারে যোগ দিলে আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি।

‘একাত্তরে জিয়া ছিলেন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট। ১৫ আগস্টের হত্যায় তার হাত ছিল। এরপর তার ছেলে চেষ্টা করেছে শেখ হাসিনাকে হত্যার। আমরা দীর্ঘদিন সেই একই শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার শেষের পথে: কাদের
তারেকের ফাঁসির রায় না হওয়ায় জাতি অসন্তুষ্ট: নাছির

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামী লীগের

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামী লীগের

রোববার গাজীপুরে জাহাঙ্গীর বিরোধী বিক্ষোভে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ। ছবি: নিউজবাংলা

বিগত বিক্ষোভ সমাবেশে সরাসরি কোনো সমালোচনা না করলেও রোববার মেয়র জাহাঙ্গীরের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানসহ এক ডজন নেতা।

মেয়র জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে গাজীপুর আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ। মধ্যরাতে নিজ বাসায় বসে জাহাঙ্গীরের কথোপকথনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিনও জাহাঙ্গীরের বিচার দাবিতে গাজীপুরে বিক্ষোভ হয়েছে। এ নিয়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরের ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধও করেন তারা। অবরোধের কারণে টঙ্গী-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে হঠাৎ থমকে যায় গাড়ির চাকা। প্রভাব পড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।

রোববার বিকেল ৪টায় টঙ্গীর শিলমুন ও টিএন্ডটি বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে ৪৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ, মহানগর তাঁতীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আমান, ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মনির হোসেন সাগর, ছাত্রলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুজনসহ কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় টিএন্ডটি বাজার এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘন্টা টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।

একই সময়ে ৫৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আহবায়ক আলী আফজাল খান দুলুর নেতৃত্বে আরও একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক কামরুজ্জামান জামান, এনতাজ মোড়ল, হাজী কাশেম সরকার, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম স্বপন, যুবলীগ নেতা সেতু সরকার, রুমি সরকার, রাসেল, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান পিংকু প্রমুখ।

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামী লীগের
বিক্ষোভকারীদের অবরোধে বন্ধ হয়ে যায় সড়কে যান চলাচল

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা

বিগত বিক্ষোভ সমাবেশে সরাসরি কোনো সমালোচনা না করলেও রোববার মেয়র জাহাঙ্গীরের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানসহ এক ডজন নেতা।

২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ও পুরস্কারপ্রাপ্তি উপলক্ষে গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগ জনসভা করবে। ওই জনসভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র জাহাঙ্গীরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ওই জনসভায় মেয়র বিরোধীরা ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। আর এ জন্যই রোববার সন্ধ্যায় টঙ্গী থানা আওয়মীলীগের দলীয় কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই মেয়রের সমালোচনায় সরব হন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মেয়র জাহাঙ্গীরের পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেন তারা।

সভায় মহানগর তাঁতীলীগের সভাপতি শাহ আলম জাহাঙ্গীরের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারকে নিয়ে সমালোচনা করে মেয়র জাহাঙ্গীর লাই পেয়েছে। লাই পাওয়ার কারণে সে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সমালোচনা করার সাহস পেয়েছে। তার জিহ্বা লম্বা হয়ে গেছে, সেই জিহ্বা এখনই কেটে দিতে হবে। জামাত-বিএনপির সঙ্গে গোপন বৈঠক করতে করতে তার অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে বিপক্ষে বলে ফেলে।’

টঙ্গী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী মঞ্জুর বলেন, ‘ব্যক্তি জাহাঙ্গীর বা মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আমাদের কোন আক্রোশ নেই। আমরা সবাই মুজিব আদর্শের সন্তান। জাহাঙ্গীর আলম বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ন্যাক্করজনক যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জন্য অবশ্যই তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। নয়তো টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ সহিংস কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

৫৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম হোসেন মেয়র জাহাঙ্গীরকে নাবালক উল্লেখ করে বলেন, ‘নাবালক একটি ছেলে এসে মাত্র সোয়া তিন বছরে বঙ্গবন্ধুর নৌকাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। সেই নৌকাটি সংস্কার করবে আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আমরা যেন সবাই মিলে একটি নৌকায় উঠে আমাদের গন্তব্যে যেতে পারি।’

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটুক্তির কারণে মেয়র জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার ও মেয়র পদ থেকে পদত্যাগেরও দাবি জানান সেলিম।

সভায় মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘মেয়র জাহাঙ্গীর শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি কটুক্তি করেননি, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি, চেতনার প্রতি সে কটুক্তি করেছেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে ৬৪টি জেলায় ৪৫ হাজার করে লোক মারা গেছে। অত্যন্ত সুচতুরভাবে তিনি এই গাণিতিক হিসেবটি দিয়েছেন। ৩০ লক্ষ শহীদকে তিনি কটাক্ষ করেছেন। এই হিসেবটি তার একটি প্রমাণ। খালেদা জিয়া বলেছেন, ত্রিশ লক্ষ লোক মারা যায় নাই, আর সে একটা গাণিতিক হিসেব দিয়ে দেখিয়ে দিল ২৮ লক্ষ ৮০ হাজার লোক মারা গেছে। সুতরাং এটা স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের আওয়াজের প্রতিধ্বনি।’

আজমত বলেন, ‘ইতোমধ্যে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আমি স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রতি কটাক্ষ যিনি করবেন তার সাথে রাজনৈতিক কোন সম্পর্ক তো নয়ই, কোন সামাজিক সম্পর্কও রাখা যাবেনা।’

তিনি জানান, গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি দেশের বাইরে অবস্থান করেও তার নির্বাচনী এলাকায় একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে দিয়েছেন, জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সামাজিক এবং রাজনৈতিক সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তার কোন মিছিল মিটিংয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যাবেনা।

আজমত বলেন, ‘আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যে কথা বিএনপি জামাত বলতে পারে নাই, এই ধরণের বক্তব্য জাহাঙ্গীর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার পর এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।’

আজমত উল্লাহ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আমাদের মনে যে দুঃখ, সেই দুঃখের বহিঃপ্রকাশ একদিন করে, দুইদিন করে বন্ধ রাখলে চলবে না। এটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।’

২৮ তারিখের জনসভায় তাই গণজোয়ার সৃষ্টির আহবান জানান তিনি।

প্রস্তুতি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, সহ-সভাপতি ওসমান আলী খান, কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন, টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুল হক, অধ্যক্ষ জাহিদ আল মামুন, ৫১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য আব্দুল আলিম মোল্লা, শ্রমিক নেতা মতিউর রহমান বিকম, ৪৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু, কৃষকলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন হেলাল, ৫৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লা, ৫০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবু বক্কর সিদ্দিক, মহানগর যুবলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন মোল্লাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার শেষের পথে: কাদের
তারেকের ফাঁসির রায় না হওয়ায় জাতি অসন্তুষ্ট: নাছির

শেয়ার করুন

বিএনপি খালি কলসি, বাজে বেশি: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি খালি কলসি, বাজে বেশি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালি কলসি যেমন বেশি বাজে, বিএনপিও ঠিক সেরকম। কয়েকদিন মির্জা ফখরুল বাজেন, বিরতি দিয়ে রিজভী সাহেব, আবার কয়েকদিন গয়েশ্বর বাবু তালে-বেতালে বাজেন। তাদের নিয়ে জনগণের মাঝে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের বাগাড়ম্বর শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।’

রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে খালি কলসি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। কথিত ঐক্য করে পরের নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপির ফের ভরাডুবি হবে বলে তিনি মনে করেন।

চট্রগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রোববার আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনের খুব বেশি দিন বাকি নেই। সেই নির্বাচনে আমরা পুরো সাংগঠনিক শক্তিতে অংশ নিলে ২০১৮ সালের মতোই বিজয় হবে। সে সময় ডান, বাম, অতিবাম সবাইকে নিয়ে বিএনপি যে ঐক্য করেছিল, তাদের সেই ঐক্যের শক্তি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। আবারও তাদের ভরাডুবি হবে।

‘খালি কলসি যেমন বেশি বাজে, বিএনপিও ঠিক সেরকম। কয়েকদিন মির্জা ফখরুল বাজেন, বিরতি দিয়ে রিজভী সাহেব, আবার কয়েকদিন গয়েশ্বর বাবু তালে-বেতালে বাজেন। তাদের নিয়ে জনগণের মাঝে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের বাগাড়ম্বর শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যাদের নিয়ে ঐক্য করে, তাদের মধ্যেই প্রচণ্ড অনৈক্য। কয়েকদিন ধরে বিএনপি বলছে, সর্বশক্তি নিয়োগ করে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তারা শুধু কাগুজে ঐক্য করতে পারে। যা এর আগে হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল। আবারও তারা ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’ নামে কিছু একটা শুরু করেছে।

‘বিশ্বনেতারা এখন শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। জাতিসংঘ পুরস্কৃত করেছে প্রধানমন্ত্রীকে। শুধু বিএনপি নেতারাই ভিন্ন কথা বলছেন। তারা শুনেও শোনেন না, বুঝেও বোঝেন না।’

রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাছান মাহমুদ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল মোনাফ সিকদারের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার।

বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা জহির আহমদ চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, পৌর মেয়র শাহজাহান সিকদার, আবুল কাশেম চিশতিসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার শেষের পথে: কাদের
তারেকের ফাঁসির রায় না হওয়ায় জাতি অসন্তুষ্ট: নাছির

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারপ্রধান সফল হননি অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এমনকি রোহিঙ্গাদের যে সমস্যা, সে সমস্যারও কোনো সমাধান তিনি নিয়ে আসতে পারেননি। আমরা যেটা মনে করি, এখানে সবচেয়ে বড় যে প্রবলেম দাঁড়িয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বলুন বা সরকার বলুন, তারা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি।’

রোহিঙ্গা সংকটকে জিইয়ে রেখে সরকার পশ্চিমা বিশ্বের সহানুভূতি আদায় করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে রোববার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নবগঠিত আংশিক কমিটির নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারপ্রধান সফল হননি অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এমনকি রোহিঙ্গাদের যে সমস্যা, সে সমস্যারও কোনো সমাধান তিনি নিয়ে আসতে পারেননি। আমরা যেটা মনে করি, এখানে সবচেয়ে বড় যে প্রবলেম দাঁড়িয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বলুন বা সরকার বলুন, তারা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি।

‘এটা জিইয়ে রেখে পশ্চিমাদের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে। যারা স্টেকহোল্ডার আছেন, যেমন: স্পেন, ভারত, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত যেতে পারেনি। এই সমস্যা সমাধানের কোনো পথ তারা বের করতে পারেনি।’

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়। মিয়ানমার সেনা ও দোসরদের এ নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের এ আগমনে রোহিঙ্গা সংকট নতুন মাত্রা পায়।

জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রীর অর্জন নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ফখরুল আরও বলেন, ‘অর্জন তার একটাই; আরও বেশি মিথ্যাচার কীভাবে করা যায়। আপনারা লক্ষ করবেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশে মানুষের অধিকারগুলো হরণ করা হয়েছে। দেশে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থার সাথে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন জাতিসংঘে দেয়া তার গোটা বক্তব্যের কোথাও তিনি তা উল্লেখ করেন নাই।’

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দলের নেতাদের সঙ্গে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মিথ্যাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় যেসব লেখালেখি হয়েছে তা খণ্ডানোর জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে তিনি অনেকগুলো নেতিবাচক কথা বলেছেন। আমরা তার এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

‘পাশাপাশি আমরা আশা করি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনি সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন, যাতে সত্যিকার অর্থে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে।’

বক্তব্য দেয়ার সময় ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার শেষের পথে: কাদের
তারেকের ফাঁসির রায় না হওয়ায় জাতি অসন্তুষ্ট: নাছির

শেয়ার করুন

শুধু স্লোগান নয়, অনলাইনে সোচ্চার হোন

শুধু স্লোগান নয়, অনলাইনে সোচ্চার হোন

রাজধানীর আইডিইবি ভবনে রোববার বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ছবি: নিউজবাংলা

নওফেল বলেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মীকে অনলাইনে সোচ্চার হতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে সোচ্চার হতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

রাজধানীর আইডিইবি ভবনে রোববার বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

নওফেল বলেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মীকে অনলাইনে সোচ্চার হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটে অবশ্যই আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করব। তবে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে যখন প্রয়োজন হবে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক কর্মীরা দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’

বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান তুলে ধরে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন এক নম্বর হয়েছে। এটি শেখ হাসিনার অবদান। তাকে পুরস্কৃত করল জাতিসংঘ। অথচ একটি গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর কন্যার বিরুদ্ধে উদ্ভট কথা বলছে। এদের বিরুদ্ধে কথা না বলে শুধু স্লোগান দিয়ে লাভ নেই।’

নওফেল বলেন, ‘আফগানিস্তানে যখন তালেবান ক্ষমতায় আসল বাংলাদেশের একটি গোষ্ঠী আগেরবার সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে যায়, এদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে দেশে খুন করার পরিকল্পনা শুরু করে তারা।’

খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আহসান উল্লাহ মাস্টার সাহেবসহ অনেকেই তাদের হাতে খুন হয়েছেন। এ কারণে নেতা-কর্মীদের এসব বিষয়ে আরও সোচ্চার হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ফাল্গুনী হামিদসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার শেষের পথে: কাদের
তারেকের ফাঁসির রায় না হওয়ায় জাতি অসন্তুষ্ট: নাছির

শেয়ার করুন

ফিরোজ রশীদের দুর্নীতি মামলা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

ফিরোজ রশীদের দুর্নীতি মামলা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। ফাইল ছবি

এর আগে হাইকোর্ট কাজী ফিরোজ রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলা বাতিলের রায় প্রত্যাহার করে আদেশ দেয়। এই আদেশ স্থগিত করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।

দুর্নীতির মামলা নিয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী ফিরোজ রশিদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

ফিরোজ রশীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এর আগে হাইকোর্ট কাজী ফিরোজ রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলা বাতিলের রায় প্রত্যাহার করে আদেশ দেয়। এই আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। কাজী ফিরোজ রশিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম কে রহমান।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক জুলফিকার আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯৫১ সালের ৩ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোডে অবস্থিত এক বিঘা আয়তনের সরকারি জমিসহ একটি বাড়ি (প্লট নম্বর ১০, বাড়ি নম্বর-৬৫), যা তৎকালীন কানাডার হাইকমিশনার মোহাম্মদ আলীর অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে মরহুম মোহাম্মদ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী বেগম আলিয়া মোহাম্মদ আলী, ছেলে সৈয়দ মাহমুদ আলী ও মেয়ে সৈয়দা মাহমুদা আলীর নামে হস্তান্তরে অনুমতিসহ ১৯৭০ সালের ৩০ মে মাসে নামজারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭০ সালের ২২ মে মন্ত্রণালয় থেকে তাদের হস্তান্তরের অনুমতি দেয়া হয়।

তবে ১৯৭৯ সালের ১৬ আগস্ট কাজী ফিরোজ রশীদের রেজিস্ট্রি করা ডেড অফ এগ্রিমেন্ট ফর সেল নম্বর-৩১১৫৪ দলিলে ভুয়া দাতা বেগম আলীয়া মোহাম্মদ আলী ও সাক্ষী কাজী আরিফুর রহমান সাজিয়ে এবং কাগজপত্রে দেখিয়ে ওই সময়ের তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার এম আহমেদের সহযোগিতায় ওই সম্পত্তি দখল করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

মামলার এজাহারে ঘটনার সময়কাল ধরা হয়েছে ১৯৭৯ সালের ৯ আগস্ট থেকে ওই একই বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত।

৯ সেপ্টেম্বর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানিয়েছিলেন, কাজী ফিরোজ রশীদ মামলাটি বাতিল চেয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্ট মামলা বাতিল করে রায় দেন।

এরপর দুদক মনে করে, আরও আইনগত কিছু তথ্য ও যুক্তি তুলে ধরা প্রয়োজন। এ কারণে রায় ঘোষণা করা হলে সই না হওয়ায় তা প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তা গ্রহণ করেন। এ রিটের ওপর পুনরায় শুনানির কথা বলা হয়।

এরপর হাইকোর্টের ৯ সেপ্টেম্বরের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে কাজী ফিরোজ রশীদ। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ রিকল করার আদেশ ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন।

মোহাম্মদ আলীর জন্ম বগুড়া জেলায়। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৩ সালে বগুড়াতেই মারা যান।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার শেষের পথে: কাদের
তারেকের ফাঁসির রায় না হওয়ায় জাতি অসন্তুষ্ট: নাছির

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগের মেশকাতের পাশে ইশা ছাত্র আন্দোলন

ছাত্রলীগের মেশকাতের পাশে ইশা ছাত্র আন্দোলন

ছাত্রলীগ নেতা মেশকাতকে দেখতে বুধবার তার বাড়িতে যান ইশা ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

ইশা ছাত্র আন্দোলনের নেতা কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, ‘মেশকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ক্যাম্পাসে তিনি আমাদের সবার সঙ্গে মিশতেন, গল্প করতেন। এছাড়া উনি কোরআনের হাফেজ এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, যা ওনার সংগঠনে বিরল। এছাড়া কেউ অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারও। সেজন্যই আমরা ওনাকে দেখতে গিয়েছি।’  

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরও নিজ সংগঠন থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পেয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ জানান ছাত্রলীগের উপপ্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন।

অসুস্থতার খবর পেয়ে শয্যাশায়ী এই ছাত্রলীগ নেতাকে দেখতে গিয়েছিলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা।

বুধবার ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কেএম শরীয়াতুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আহসান মারজান ঢাকা থেকে মাদারীপুর পৌঁছান। মেশকাতের বাসায় গিয়ে তার জন্য দোয়ার আয়োজন করেন তারা।

এসময় সংগঠনটির মাদারীপুর জেলা সভাপতি রেজাউল করীম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও মাদারীপুর সদর থানা সভাপতি হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

দেখতে যাওয়ার বিষয়ে কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, ‘মেশকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ক্যাম্পাসে তিনি আমাদের সবার সঙ্গে মিশতেন, গল্প করতেন। এছাড়া উনি কোরআনের হাফেজ এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, যা ওনার সংগঠনে বিরল। এছাড়া কেউ অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারও। সেজন্যই আমরা ওনাকে দেখতে গিয়েছি।’

ইশা ছাত্র আন্দোলনের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আহসান মারজান বলেন, ‘উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমরা জানতে পেরেছি, তার অসুস্থতার খোঁজ নেয়ার কেউ ছিল না। শুধুমাত্র ওনার সেবার জন্য আমরা গিয়েছি। অসুস্থের সেবা নবী (সা.) এর সুন্নত।’

গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর নিজ দলের কেন্দ্রীয় দুই নেতা কোনো খোঁজ না নেয়ায় এবং ফোন না ধরার অভিযোগ তুলে ১৮ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে পোস্টে ক্ষোভ জানান মেশকাত।

অনুরোধ করেন, তার মৃত্যুর পর ছাত্রলীগ থেকে যেন কোনো দোয়ার আয়োজন করা বা প্রেস রিলিজ দেয়া না হয়।

এছাড়া ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যেন তার জানাজায় না আসেন সেই অনুরোধও জানান মেশকাত।

পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘জীবনটা নিভু নিভু, আল্লাহর কাছে স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করছিলাম। গত ১৪ তারিখে আমি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ি। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বারবার ফোন দিই কিছু একটা করার জন্য, কিন্তু তারা ফোন ধরেননি। এতে বুঝা যায়, আমরা মরলেও তাদের সমস্যা নাই।’

আক্ষেপ করে মেশকাত বলেন, ‘জীবনে যেই পার্টির জন্য এত সময় ব্যয় করলাম, সেই পার্টি আমার অসুস্থতারও খোঁজ নিতে পারে না। তারা খোঁজ নিত যদি তাদের দালালি করতাম। যাই হোক, আমার প্রতিবাদ থেমে গেলেও তৃণমূলের কোনো না কোনো কর্মী প্রতিবাদের কলম হাতে তুলে নেবে আশা রাখি।’

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার শেষের পথে: কাদের
তারেকের ফাঁসির রায় না হওয়ায় জাতি অসন্তুষ্ট: নাছির

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর: জি এম কাদের

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর: জি এম কাদের

শনিবার জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতারা।

জি এম কাদের বলেন, ‘এরশাদ শুভ জন্মাষ্টমীর দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। জাপার শাসনামলে প্রায় চার যুগ পরে রাজধানীতে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়া বিভিন্ন পূজা ও উৎসবে নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এরশাদ। তার হাতে গড়া হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট এখন শতকোটি টাকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’

যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে জাতীয় পার্টি (জাপা) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে আমাদের। যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে ষড়যন্ত্র করবে, তারা কখনোই সফল হতে পারবে না।’

শনিবার বনানীতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। সব ধর্মের অধিকার রক্ষায় পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

‘এরশাদ শুভ জন্মাষ্টমীর দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। জাপার শাসনামলে প্রায় চার যুগ পরে রাজধানীতে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়া বিভিন্ন পূজা ও উৎসবে নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এরশাদ। তার হাতে গড়া হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট এখন শতকোটি টাকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারে পল্লীবন্ধু বরাদ্দ রেখেছেন সব সময়।’

মতবিনিময় সভায় জাপা চেয়ারম্যানের হাতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা খসড়া আইন তুলে দেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতারা।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, দপ্তর সম্পাদক-২ এমএ রাজ্জাক খান, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি অনুপ কুমার দত্ত, সিলেট শাখার সভাপতি দীপক রায়, সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিত্র, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ মাছা, সিলেট জেলার সমন্বয়ক মলয় তালুকদার, সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি অমর চক্রবর্তী এবং পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্য শুভ্রদেব বড়াল।

আরও পড়ুন:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার শেষের পথে: কাদের
তারেকের ফাঁসির রায় না হওয়ায় জাতি অসন্তুষ্ট: নাছির

শেয়ার করুন