সরকার হটাতে প্রস্তুতির ডাক দিলেন ফখরুল

সরকার হটাতে প্রস্তুতির ডাক দিলেন ফখরুল

রাজধানীর গোড়ানে ফ্রেন্ডস কনভেনশন হলে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে ‘করোনা হেল্প সেল’ উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হবে, সোচ্চার হতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমেই এই ভয়াবহ সরকারকে পরাজিত করতে হবে। সে জন্য আমি আগাম আন্দোলনের প্রস্তুতির আহবান জানাচ্ছি।

সরকার হটানোর জন্য ‘আগাম প্রস্তুতির’ ডাক দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর গোড়ানে বৃহস্পতিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এ আহবান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে যদি সরাতে না পারি, তাহলে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব না। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব না। মিথ্যা মামলার শিকার হাজার হাজার মানুষকে মুক্ত করতে পারবে না।

‘আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হবে, রাস্তায় নেমে আসতে হবে, সোচ্চার হতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমেই এই ভয়াবহ সরকারকে পরাজিত করতে হবে। সে জন্য আমি আগাম আন্দোলনের প্রস্তুতির আহবান জানাচ্ছি।’

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে। জনগণ ভোট দিয়ে তার প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করবে, সরকার গঠন করবে। সেসব করতে হলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে। একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আমাদের এখন উঠে দাঁড়াতে হবে। আমরা ১০/১২ বছর ধরে সংগ্রাম করছি, লড়াই করছি। আমাদের ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, ৫০০-এর বেশি গুম হয়েছে, হাজারের বেশি মানুষ খুন হয়ে গেছে। সুতরাং আন্দোলন ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’

টিকার নামে গণসংক্রমণ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকাদান প্রক্রিয়ায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গণটিকার কথা বলে সরকার গণসংক্রমণ বাড়িয়েছে। তারা টিকা ঠিকমতো দিতে পারেনি, শুধু মুখেই বলে গেছে।

‘সরকারের অবহেলায় করোনার টিকা বাজারে বিক্রি হচ্ছে, ধরা পড়ছে। এখন তারা চীন থেকে টিকা আনছে, চুক্তি করছে। অথচ চীন অনেক আগেই এসেছিল। ভারত থেকে টিকা সংগ্রহে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন রাজি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের লোকজন টিকা নিয়ে দুর্নীতি করেছে, ব্যবসা করতে চেয়েছে। তারা মানুষের জীবনকে জিম্মি করে ব্যবসা করছে। যে টিকা ৩ ডলারে পাওয়া যায়, তারা কিনছে ১০ ডলারে।’

দিনাজপুরের ঘটনা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, একজন এএসপিসহ ৫ জন পুলিশ গ্রেপ্তার হয়েছেন নারী-শিশুকে অপহরণ করার দায়ে। তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? এর আগে কক্সবাজারে পুলিশ গুলি করে মেরেছে মেজর সিনহাকে। অমানবিক এসব ঘটনা ঘটে সরকারের আশকারায়। মানুষ বিচার চাইতে যে কোর্টে যাবে, সেখানেও দলীয়করণ করা হয়েছে।’

করোনার শুরু থেকে বিএনপি জনগণের পাশে আছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা প্রায় ৪ কোটি মানুষের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি। অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছি।

রাজধানীর গোড়ানে ফ্রেন্ডস কনভেনশন হলে বৃহস্পতিবার সকালে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা-১০ নির্বাচনি এলাকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সেখানে ‘করোনা হেল্প সেল’ উদ্বোধন করেন দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন খিলগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি ইউনুস মৃধা। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশীদ হাবিবসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

আরও পড়ুন:
সরকার গণতন্ত্রকে লুট করছে: ফখরুল
জনগণের অভ্যুত্থানের বিকল্প নেই: ফখরুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারপ্রধান সফল হননি অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এমনকি রোহিঙ্গাদের যে সমস্যা, সে সমস্যারও কোনো সমাধান তিনি নিয়ে আসতে পারেননি। আমরা যেটা মনে করি, এখানে সবচেয়ে বড় যে প্রবলেম দাঁড়িয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বলুন বা সরকার বলুন, তারা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি।’

রোহিঙ্গা সংকটকে জিইয়ে রেখে সরকার পশ্চিমা বিশ্বের সহানুভূতি আদায় করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে রোববার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নবগঠিত আংশিক কমিটির নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারপ্রধান সফল হননি অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এমনকি রোহিঙ্গাদের যে সমস্যা, সে সমস্যারও কোনো সমাধান তিনি নিয়ে আসতে পারেননি। আমরা যেটা মনে করি, এখানে সবচেয়ে বড় যে প্রবলেম দাঁড়িয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বলুন বা সরকার বলুন, তারা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি।

‘এটা জিইয়ে রেখে পশ্চিমাদের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে। যারা স্টেকহোল্ডার আছেন, যেমন: স্পেন, ভারত, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত যেতে পারেনি। এই সমস্যা সমাধানের কোনো পথ তারা বের করতে পারেনি।’

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়। মিয়ানমার সেনা ও দোসরদের এ নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের এ আগমনে রোহিঙ্গা সংকট নতুন মাত্রা পায়।

জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রীর অর্জন নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ফখরুল আরও বলেন, ‘অর্জন তার একটাই; আরও বেশি মিথ্যাচার কীভাবে করা যায়। আপনারা লক্ষ করবেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশে মানুষের অধিকারগুলো হরণ করা হয়েছে। দেশে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থার সাথে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন জাতিসংঘে দেয়া তার গোটা বক্তব্যের কোথাও তিনি তা উল্লেখ করেন নাই।’

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দলের নেতাদের সঙ্গে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মিথ্যাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় যেসব লেখালেখি হয়েছে তা খণ্ডানোর জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে তিনি অনেকগুলো নেতিবাচক কথা বলেছেন। আমরা তার এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

‘পাশাপাশি আমরা আশা করি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনি সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন, যাতে সত্যিকার অর্থে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে।’

বক্তব্য দেয়ার সময় ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
সরকার গণতন্ত্রকে লুট করছে: ফখরুল
জনগণের অভ্যুত্থানের বিকল্প নেই: ফখরুল

শেয়ার করুন

শুধু স্লোগান নয়, অনলাইনে সোচ্চার হোন

শুধু স্লোগান নয়, অনলাইনে সোচ্চার হোন

রাজধানীর আইডিইবি ভবনে রোববার বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ছবি: নিউজবাংলা

নওফেল বলেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মীকে অনলাইনে সোচ্চার হতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে সোচ্চার হতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

রাজধানীর আইডিইবি ভবনে রোববার বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

নওফেল বলেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মীকে অনলাইনে সোচ্চার হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটে অবশ্যই আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করব। তবে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে যখন প্রয়োজন হবে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক কর্মীরা দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’

বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান তুলে ধরে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন এক নম্বর হয়েছে। এটি শেখ হাসিনার অবদান। তাকে পুরস্কৃত করল জাতিসংঘ। অথচ একটি গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর কন্যার বিরুদ্ধে উদ্ভট কথা বলছে। এদের বিরুদ্ধে কথা না বলে শুধু স্লোগান দিয়ে লাভ নেই।’

নওফেল বলেন, ‘আফগানিস্তানে যখন তালেবান ক্ষমতায় আসল বাংলাদেশের একটি গোষ্ঠী আগেরবার সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে যায়, এদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে দেশে খুন করার পরিকল্পনা শুরু করে তারা।’

খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আহসান উল্লাহ মাস্টার সাহেবসহ অনেকেই তাদের হাতে খুন হয়েছেন। এ কারণে নেতা-কর্মীদের এসব বিষয়ে আরও সোচ্চার হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ফাল্গুনী হামিদসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
সরকার গণতন্ত্রকে লুট করছে: ফখরুল
জনগণের অভ্যুত্থানের বিকল্প নেই: ফখরুল

শেয়ার করুন

ফিরোজ রশীদের দুর্নীতি মামলা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

ফিরোজ রশীদের দুর্নীতি মামলা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। ফাইল ছবি

এর আগে হাইকোর্ট কাজী ফিরোজ রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলা বাতিলের রায় প্রত্যাহার করে আদেশ দেয়। এই আদেশ স্থগিত করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।

দুর্নীতির মামলা নিয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী ফিরোজ রশিদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

ফিরোজ রশীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এর আগে হাইকোর্ট কাজী ফিরোজ রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলা বাতিলের রায় প্রত্যাহার করে আদেশ দেয়। এই আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। কাজী ফিরোজ রশিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম কে রহমান।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক জুলফিকার আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯৫১ সালের ৩ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোডে অবস্থিত এক বিঘা আয়তনের সরকারি জমিসহ একটি বাড়ি (প্লট নম্বর ১০, বাড়ি নম্বর-৬৫), যা তৎকালীন কানাডার হাইকমিশনার মোহাম্মদ আলীর অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে মরহুম মোহাম্মদ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী বেগম আলিয়া মোহাম্মদ আলী, ছেলে সৈয়দ মাহমুদ আলী ও মেয়ে সৈয়দা মাহমুদা আলীর নামে হস্তান্তরে অনুমতিসহ ১৯৭০ সালের ৩০ মে মাসে নামজারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭০ সালের ২২ মে মন্ত্রণালয় থেকে তাদের হস্তান্তরের অনুমতি দেয়া হয়।

তবে ১৯৭৯ সালের ১৬ আগস্ট কাজী ফিরোজ রশীদের রেজিস্ট্রি করা ডেড অফ এগ্রিমেন্ট ফর সেল নম্বর-৩১১৫৪ দলিলে ভুয়া দাতা বেগম আলীয়া মোহাম্মদ আলী ও সাক্ষী কাজী আরিফুর রহমান সাজিয়ে এবং কাগজপত্রে দেখিয়ে ওই সময়ের তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার এম আহমেদের সহযোগিতায় ওই সম্পত্তি দখল করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

মামলার এজাহারে ঘটনার সময়কাল ধরা হয়েছে ১৯৭৯ সালের ৯ আগস্ট থেকে ওই একই বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত।

৯ সেপ্টেম্বর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানিয়েছিলেন, কাজী ফিরোজ রশীদ মামলাটি বাতিল চেয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্ট মামলা বাতিল করে রায় দেন।

এরপর দুদক মনে করে, আরও আইনগত কিছু তথ্য ও যুক্তি তুলে ধরা প্রয়োজন। এ কারণে রায় ঘোষণা করা হলে সই না হওয়ায় তা প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তা গ্রহণ করেন। এ রিটের ওপর পুনরায় শুনানির কথা বলা হয়।

এরপর হাইকোর্টের ৯ সেপ্টেম্বরের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে কাজী ফিরোজ রশীদ। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ রিকল করার আদেশ ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন।

মোহাম্মদ আলীর জন্ম বগুড়া জেলায়। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৩ সালে বগুড়াতেই মারা যান।

আরও পড়ুন:
সরকার গণতন্ত্রকে লুট করছে: ফখরুল
জনগণের অভ্যুত্থানের বিকল্প নেই: ফখরুল

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগের মেশকাতের পাশে ইশা ছাত্র আন্দোলন

ছাত্রলীগের মেশকাতের পাশে ইশা ছাত্র আন্দোলন

ছাত্রলীগ নেতা মেশকাতকে দেখতে বুধবার তার বাড়িতে যান ইশা ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

ইশা ছাত্র আন্দোলনের নেতা কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, ‘মেশকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ক্যাম্পাসে তিনি আমাদের সবার সঙ্গে মিশতেন, গল্প করতেন। এছাড়া উনি কোরআনের হাফেজ এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, যা ওনার সংগঠনে বিরল। এছাড়া কেউ অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারও। সেজন্যই আমরা ওনাকে দেখতে গিয়েছি।’  

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরও নিজ সংগঠন থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পেয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ জানান ছাত্রলীগের উপপ্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন।

অসুস্থতার খবর পেয়ে শয্যাশায়ী এই ছাত্রলীগ নেতাকে দেখতে গিয়েছিলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা।

বুধবার ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কেএম শরীয়াতুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আহসান মারজান ঢাকা থেকে মাদারীপুর পৌঁছান। মেশকাতের বাসায় গিয়ে তার জন্য দোয়ার আয়োজন করেন তারা।

এসময় সংগঠনটির মাদারীপুর জেলা সভাপতি রেজাউল করীম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও মাদারীপুর সদর থানা সভাপতি হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

দেখতে যাওয়ার বিষয়ে কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, ‘মেশকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ক্যাম্পাসে তিনি আমাদের সবার সঙ্গে মিশতেন, গল্প করতেন। এছাড়া উনি কোরআনের হাফেজ এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, যা ওনার সংগঠনে বিরল। এছাড়া কেউ অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারও। সেজন্যই আমরা ওনাকে দেখতে গিয়েছি।’

ইশা ছাত্র আন্দোলনের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আহসান মারজান বলেন, ‘উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমরা জানতে পেরেছি, তার অসুস্থতার খোঁজ নেয়ার কেউ ছিল না। শুধুমাত্র ওনার সেবার জন্য আমরা গিয়েছি। অসুস্থের সেবা নবী (সা.) এর সুন্নত।’

গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর নিজ দলের কেন্দ্রীয় দুই নেতা কোনো খোঁজ না নেয়ায় এবং ফোন না ধরার অভিযোগ তুলে ১৮ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে পোস্টে ক্ষোভ জানান মেশকাত।

অনুরোধ করেন, তার মৃত্যুর পর ছাত্রলীগ থেকে যেন কোনো দোয়ার আয়োজন করা বা প্রেস রিলিজ দেয়া না হয়।

এছাড়া ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যেন তার জানাজায় না আসেন সেই অনুরোধও জানান মেশকাত।

পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘জীবনটা নিভু নিভু, আল্লাহর কাছে স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করছিলাম। গত ১৪ তারিখে আমি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ি। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বারবার ফোন দিই কিছু একটা করার জন্য, কিন্তু তারা ফোন ধরেননি। এতে বুঝা যায়, আমরা মরলেও তাদের সমস্যা নাই।’

আক্ষেপ করে মেশকাত বলেন, ‘জীবনে যেই পার্টির জন্য এত সময় ব্যয় করলাম, সেই পার্টি আমার অসুস্থতারও খোঁজ নিতে পারে না। তারা খোঁজ নিত যদি তাদের দালালি করতাম। যাই হোক, আমার প্রতিবাদ থেমে গেলেও তৃণমূলের কোনো না কোনো কর্মী প্রতিবাদের কলম হাতে তুলে নেবে আশা রাখি।’

আরও পড়ুন:
সরকার গণতন্ত্রকে লুট করছে: ফখরুল
জনগণের অভ্যুত্থানের বিকল্প নেই: ফখরুল

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর: জি এম কাদের

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর: জি এম কাদের

শনিবার জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতারা।

জি এম কাদের বলেন, ‘এরশাদ শুভ জন্মাষ্টমীর দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। জাপার শাসনামলে প্রায় চার যুগ পরে রাজধানীতে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়া বিভিন্ন পূজা ও উৎসবে নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এরশাদ। তার হাতে গড়া হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট এখন শতকোটি টাকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’

যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে জাতীয় পার্টি (জাপা) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে আমাদের। যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে ষড়যন্ত্র করবে, তারা কখনোই সফল হতে পারবে না।’

শনিবার বনানীতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। সব ধর্মের অধিকার রক্ষায় পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

‘এরশাদ শুভ জন্মাষ্টমীর দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। জাপার শাসনামলে প্রায় চার যুগ পরে রাজধানীতে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়া বিভিন্ন পূজা ও উৎসবে নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এরশাদ। তার হাতে গড়া হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট এখন শতকোটি টাকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারে পল্লীবন্ধু বরাদ্দ রেখেছেন সব সময়।’

মতবিনিময় সভায় জাপা চেয়ারম্যানের হাতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা খসড়া আইন তুলে দেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতারা।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, দপ্তর সম্পাদক-২ এমএ রাজ্জাক খান, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি অনুপ কুমার দত্ত, সিলেট শাখার সভাপতি দীপক রায়, সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিত্র, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ মাছা, সিলেট জেলার সমন্বয়ক মলয় তালুকদার, সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি অমর চক্রবর্তী এবং পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্য শুভ্রদেব বড়াল।

আরও পড়ুন:
সরকার গণতন্ত্রকে লুট করছে: ফখরুল
জনগণের অভ্যুত্থানের বিকল্প নেই: ফখরুল

শেয়ার করুন

ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী

ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী

থ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়। আপনার একটি খারাপ আচরণ সরকারের সব অর্জন নষ্ট করে দেয়। আওয়ামী লীগ সবাই করতে পারবেন, তবে নেতৃত্বে আসবেন ত্যাগীরাই। দলের খারাপ সময়ে যারা মাঠে থাকবেন, তাদের মূল নেতৃত্বে আনতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সবাই করতে পারবেন, তবে ত্যাগীরাই নেতৃত্বে আসবেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়। আপনার একটি খারাপ আচরণ সরকারের সব অর্জন নষ্ট করে দেয়। আওয়ামী লীগ সবাই করতে পারবেন, তবে নেতৃত্বে আসবেন ত্যাগীরাই। দলের খারাপ সময়ে যারা মাঠে থাকবেন, তাদের মূল নেতৃত্বে আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের মানুষের ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূর করেছেন। আমরা এখন নানা দুর্যোগে বিভিন্ন দেশকে খাদ্যসহায়তা করি। তারপরও বিএনপি নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়।’

৬ বছর পর শনিবার সকালে থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলন উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে এম হোসেন আলী হাসান।

দলীয় কার্যালয় চত্বরে সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, হাইব্রিডদের দিন শেষ। এখন ত্যাগী ও দলের দুর্দিনের কর্মীদের মূল্যায়নের সময় এসেছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী, যিনি জাতিসংঘে সবচেয়ে বেশিবার বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ১৭ বার বক্তব্য রেখে রেকর্ড গড়েছেন। তার সুযোগ্যে নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো ষড়যন্ত্র শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মণ্ডল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা, আব্দুল আওয়াল শামীম, বনানী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর মোশারফ হোসেন,
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রহমান, বিমল দাস, আবু ইউসুফ সূর্যসহ অনেকে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী।

পরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ভোটে ডা. আবদুল হাই সরকার এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আজগর আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:
সরকার গণতন্ত্রকে লুট করছে: ফখরুল
জনগণের অভ্যুত্থানের বিকল্প নেই: ফখরুল

শেয়ার করুন

কামাল হোসেনকে নেতা মানায় নিথর বিএনপি: এনপিপি চেয়ারম্যান

কামাল হোসেনকে নেতা মানায় নিথর বিএনপি: এনপিপি চেয়ারম্যান

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ন্যাশনাল পিপলস যুব পার্টির দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় সম্মেলনে অতিথিরা।

ছালাউদ্দিন ছালু বলেছেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে এবং ড. কামাল হোসেনকে নেতা মেনে যে নির্বাচন করেছে এর মধ্য দিয়ে বিশ দলীয় জোট নিস্তব্ধ ও মৃতপ্রায় একটি সংগঠনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখনও বাংলার জনগণ বিএনপিকে বিরোধী দল মনে করে। জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল মনে করে না।’

বিএনপি ও বিশ দলীয় জোট নির্বাচনে না যাওয়ায় ২০১৪ সাল থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু। একই সঙ্গে ড. কামাল হোসেনকে নেতা মানায় দলটি মৃতপ্রায় সংগঠনে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ছালাউদ্দিন ছালু বলেছেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে এবং ড. কামাল হোসেনকে নেতা মেনে যে নির্বাচন করেছে এর মধ্য দিয়ে বিশ দলীয় জোট নিস্তব্ধ ও মৃতপ্রায় একটি সংগঠনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখনও বাংলার জনগণ বিএনপিকে বিরোধী দল মনে করে। জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল মনে করে না।’

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির অঙ্গ সংগঠন ন্যাশনাল পিপলস যুব পার্টির দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ছালাউদ্দিন বলেন, ‘বিরোধীদল আজ রাজনৈতিক ভাবে অনেকটাই অকার্যকর। আপনারা দেখেছেন বিএনপি গত তিন দিন ধরে ধারাবাহিক ভাবে মিটিং করছে, যাতে আন্দোলন করতে পারে। আমি বলতে চাই, একটা নিথর ও নিস্তব্ধ দল দ্বারা আন্দোলন সংঘটিত করা সম্ভব না। এনপিপি ও এনডিএফের নেতাদের কাছে আবেদন, আসুন সময় অপচয় না করে এখনই দলকে সংগঠিত করি ও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তৎপর হই।’

তিনি বলেন, ‘এনপিপি ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ৮২টি আসনে নির্বাচন করেছে। এনপিপি আগামী ২০২৩ সালের নির্বাচনে যাতে ২০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছালু বলেন, ‘আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম এবং দূর্নীতি, টেন্ডারবাজিসহ সব অনাচারের লাগাম টেনে ধরতে হবে। আপনারা জানেন, আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল সাহেব আমলাতন্ত্রের কথা সংসদে তুলে ধরেছিলেন। সে কথা কোনো কাজে আসেনি। এই আমলাতন্ত্রের দৌরাত্মের কারণে দুর্নীতি ও মাদক বাণিজ্য বেড়ে দেশ ধ্বংসের দিকে পৌঁছেছে।’

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনপিপির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাই মণ্ডল, ন্যাশনাল পিপলস যুব পার্টির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার কে এম শামছুল আলম মিশুক, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব রহুল আমিন রাহুল ও এনপিপির খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক শেখ ইকবাল হাসান স্বপনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
সরকার গণতন্ত্রকে লুট করছে: ফখরুল
জনগণের অভ্যুত্থানের বিকল্প নেই: ফখরুল

শেয়ার করুন