আবরার হত্যা: আদালতে নির্দোষ দাবি দুই আসামির

আবরার হত্যা: আদালতে নির্দোষ দাবি দুই আসামির

বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী। ফাইল ছবি

সাক্ষ্য দেয়া দুই আসামি হলেন বুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মিফতাহুল ইসলাম জীওন এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল। পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন জীওন আর ঘটনাস্থলে না থাকার দাবি করেন রাসেল।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪০(৩) ধারায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন দুই আসামি।

এই ধারায় আইনী অধিকার বলে আসামিদের সাক্ষ্য দেয়ার বিধান রয়েছে।

সাক্ষ্য দেয়া দুই আসামি বুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মিফতাহুল ইসলাম জীওন এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

আসামি মিফতাহুল ইসলাম জীওন আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তাকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। আরেক আসামি মেহেদী হাসান রাসেল সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, ঘটনার দিন তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাস্থলে গিয়েছিলেন।

মিফতাহুল ইসলাম জীওনের সাক্ষ্য

মিফতাহুল ইসলাম জীওন আদালতকে জানান, এই মামলার ঘটনা তার জানা নাই। এই মামলার অন্য কোনো আসামিদের সঙ্গে তার কোনো যোগসাজশ ছিল না। অত্র মামলার ঘটনা কালিন সময় আমি বুয়েটের শেরেবাংলা হলের মেস ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলাম। আমি ঘটনার দিন মেসের সকল দায়িত্ব পালন শেষে, এসময় হলেই ছিলাম।

বিগত ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে আমি আমার কক্ষে যাওয়ার সময় বুয়েটের কয়েক জন ছাত্র, কয়েক জন পোষাকধারী এবং সাদা পোষাকে পুলিশ দেখতে পাই। ছাত্রদের মধ্যে থেকে একজন আমাকে দেখিয়ে পুলিশকে ইঙ্গিত করেন। একজন পুলিশ অফিসার আমাকে জিজ্ঞাসা করেন আমি ছাত্রলীগ করি কি না? উত্তরে আমি বলি হ্যাঁ আমি ছাত্রলীগের কর্মী। তখন তিনি আমাকে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। আমাকে নিয়ে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে একটি সেলে আটকে রাখেন।

এরপর জামিল নামে একজন অফিসার আমার কাছে আবরারের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। আমি তাকে জানাই আবরার নামে কাউকে চিনিনা এবং কোনোদিন দেখি নাই। তখন জামিল রেগে গিয়ে আমার পায়ে আঘাত করেন, কিল-ঘুষি ও চড় থাপ্পড় মারতে থাকেন, আমি তখন খুব অসুস্থ বোধ করি।

এরপরদিন আমাকে আদালতে নেয়া হয়। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড দেয়। এরপর বিগত ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর রাজিব নামে এক অফিসারের রুমে আমাকে নেয়া হয়। তিনিও আমাকে আবরারের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। আমি একই উত্তর দিলে তিনি আমাকে চড়থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি দিয়ে গলা চেপে ধরে দেয়ালের দিকে ছুড়ে মারেন। আমি পড়ে যাই। এরপর আবার পরদিন আমাকে রাজিব সাহেবের রুমে নেয়া হয়। সেখানে প্রচুর মারপিঠ ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় ।

খাবার-দাবার এমন কি পানি পর্যন্ত দেয়া হয় নাই। এতটাই মারপিঠ করা হয় যে, সোজা হয়ে দাঁড়ানো বা হাতে পায়ের যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারিনি।

এরপর আমার চোখ এবং হাত-পা বেঁধে সেল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে নিয়ে আমার বুকের ওপর চাপ দিয়ে মাথায় একটি নল ঠেকিয়ে বলেন তুই যদি কথামত কাজ না করিস, তাহলে তোকে ক্রস ফায়ার দিয়ে দিব। আজকেই হবে তোর জীবনের শেষ দিন। আর যদি কথামত কাজ করিস তাহলে আর টর্চার করা হবে না। খাবার, ওষুধ সব পাবি। তখন আমি জীবন বাঁচাতে খাবার ও ওষুধ পাওয়ার জন্য তাদের কথায় রাজি হই।

এরপর আমার হাতের ও পায়ের বাঁধন খুলে অন্য এক যায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে নিয়ে আমার চোখের বাঁধন খুলে দিলে আমি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামানকে দেখতে পাই। তিনি কিছু কাগজে আমাকে সই করতে বলেন। আমি ভয়ে সই করি। এরপর বলেন কাল যেখানে নিয়ে যাব সেখানে গিয়ে একই কথা বলবি এবং একই কাজ করবি।

ম্যাজিস্ট্রেটকে যদি বলিস যে, আবরার হত্যার বিষয়ে জানিস না, তাহলে তোকে আবার রিমান্ডে নিয়ে ক্রসফায়ারে দিব। চার-পাঁচ দিন এভাবে রাখার পর আমাকে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আনা হয়। সেখানে এনে আইও সাহেবের প্রিন্ট করা একটি কাগজ দেখে ম্যাজিস্ট্রেট আবার প্রিন্ট করেন। তারপর আমাকে সই করতে বলেন। আমি ভয় পেয়ে ইচ্ছের বিরুদ্ধে সই করি।

আমি এই হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। এই ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই।

মেহেদী হাসান রাসেলের সাক্ষ্য

মেহেদী হাসান রাসেল তার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, ঘটনার দিন সে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাস্থলে ছিলেন।

এই ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

তার সারা দিনের কাজ শেষে হলে রাতে নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে ওই কর্মকর্তাকে জানান রাসেল।

তিনি আদালতকে আরও জানান রাত ৩ টা ২০ মিনিটের সময় একজন ছাত্র এসে জানান একটি ছেলেকে কারা যেনো পিটিয়েছে, খুব সমস্যা হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যাই, গিয়ে দেখি একটি নিথর দেহ পড়ে আছে, পাশে ডাক্তার দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

এ ঘটনায় সকাল ৭টার দিকে চকবাজার থানায় যাই। সেখানে আমাকে আটক রাখা হয়।

পরদিন আমাকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখান থেকে আদালতে আনা হয়, আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড দেয়।

আমাকে কিছুই জিজ্ঞাসাবাদ না করে ৪/৫ দিন পর আদালতে আনা হয়। আদালত আমাকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

আমি এই ঘটনার আদ্যোপান্ত কিছুই জানি না। তিনি আদালতকে বলেন যে ওইদিন রাত ৩ টা ২০ মিনিটের আগে আমাকে আবরার হত্যাকাণ্ডের কোনো ভিডিও ফুটেজের কোথাও পাবেন না।

এরপর প্রমাণ হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের সভাস্থলে থাকার ছবি আদালতে জমা দেন মেহেদী হাসান রাসেলের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

তিনি দুই আসামিকে সাক্ষ্য দেয়ার সময় আদালতে সহায়তা করেন। আগামীকাল ২৩ আগস্ট মেহেদী হাসান রাসেলের পক্ষে তার পিতা রুহুল আমিনসহ চার জনের সাফাই সাক্ষী দেয়ার কথা রয়েছে।

গত ১৪ মার্চ মামলার ২৫ আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছেন। এরপর থেকে মামলাটি সাফাই সাক্ষ্যের জন্য রয়েছে।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়। এরপর ৫ অক্টোবর আবরারের বাবা বরকতউল্লাহর জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলার সাক্ষ্য শুরু হয়।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ছাত্রলীগের কিছু উশৃঙ্খল নেতাকর্মীর হাতে নির্দয় পিটুনির শিকার হয়ে মারা যান বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা বরকতউল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন।

গত বছর ১৩ নভেম্বর মামলায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন গোয়েন্দা পু‌লিশের (ডি‌বি) লালবাগ জোনাল টিমের প‌রিদর্শক মো. ওয়া‌হিদুজ্জামান।

মামলার তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আরও পড়ুন:
আবরারের ‘খুনি’র সঙ্গে ক্লাস নয়: বুয়েটে মানববন্ধন
আবরার হত্যা: পেছাল সাফাই সাক্ষ্য
আবরার হত্যা: আদালতে নির্দোষ দাবি ছাত্রলীগ কর্মীদের
আবরার হত্যা: আসামিদের বক্তব্য ১৪ মার্চ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সেই নুরুল কারাগারে

সেই নুরুল কারাগারে

টেকনাফ স্থলবন্দরে দালালি, চোরাকারবারিসহ কয়েকটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের হোতা নুরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

র্যাব জানায়, নুরুল ২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে কম্পিউটার অপারেটর থাকার সময় চোরাকারবারি, শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ পণ্য খালাস, দালালির কৌশল রপ্ত করেন। পরে তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি সিন্ডেকেট গড়ে ওঠে। গত ২০ বছরে তিনি ৪৬০ কোটি টাকার মালিক বনে যান।

অবৈধভাবে ৪৬০ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া কম্পিউটার অপারেটর নুরুল ইসলামকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে নুরুলকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করেন। আবার রিমান্ড আবেদন না দিয়ে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে নুরুল ইসলামকে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় তার কাছ থেকে তিন লাখ ৪৬ হাজার টাকার জাল নোট, মিয়ানমারের ৩ লাখ ৮০ হাজার মুদ্রা, চার হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ও ২ লাখ ১ হাজার ১৬০ টাকা জব্দ হয়।

এ ঘটনায় র্যাব-৩ এর নায়েক সুবেদার ফিরোজ খান মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করেন। এসব মামলায় দু’দফায় চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে নুরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

র্যাব জানায়, নুরুল ২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে কম্পিউটার অপারেটর থাকার সময় চোরাকারবারি, শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ পণ্য খালাস, দালালির কৌশল রপ্ত করেন। পরে তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি সিন্ডেকেট গড়ে ওঠে। গত ২০ বছরে তিনি ৪৬০ কোটি টাকার মালিক বনে যান।

আরও পড়ুন:
আবরারের ‘খুনি’র সঙ্গে ক্লাস নয়: বুয়েটে মানববন্ধন
আবরার হত্যা: পেছাল সাফাই সাক্ষ্য
আবরার হত্যা: আদালতে নির্দোষ দাবি ছাত্রলীগ কর্মীদের
আবরার হত্যা: আসামিদের বক্তব্য ১৪ মার্চ

শেয়ার করুন

বিরিয়ানি খেয়ে দম্পতি হাসপাতালে

বিরিয়ানি খেয়ে দম্পতি হাসপাতালে

হাসপাতালে নেয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মী জিল্লুর রহমান ও তার স্ত্রী পারুল বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

নিরাপত্তাকর্মী জিল্লুর রহমান ও তার স্ত্রী পারুল বেগম দুপুরে বিরিয়ানি খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। সে খাবার বাড়ির এক ভাড়াটিয়া তাদের দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এক প্রতিবেশী তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

বাড়ির ভাড়াটিয়ার রান্না করা বিরিয়ানি দেয়া হয়েছিল নিরাপত্তাকর্মীকে। সে খাবার খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন নিরাপত্তাকর্মী ও তার স্ত্রী। তাদের ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।

ঘটনাটি রাজধানীর আদাবর থানাধীন মুনসুরাবাদ আবাসিক এলাকার। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে অসুস্থ জিল্লুর রহমান ও তার স্ত্রী পারুল বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাদেরকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) স্থানান্তর করা হয়েছে।

প্রতিবেশী বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘মনসুরাবাদ ৪ নম্বর সড়কের ২৫ নম্বর বাসার নিচতলায় পড়েছিলেন জিল্লুর ও তার স্ত্রী। অচেতন অবস্থায় তাদেরকে হাসপাতালে এনেছি। ওই বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড জিল্লুর ঘটনার আগে স্ত্রীকে নিয়ে বিরিয়ানি খেয়েছেন বলে শুনেছি, ওপর তলার ভাড়াটিয়া দুপুরে তাদের এ খাবার দেন।’

বাড়িটির অন্য কেউ অসুস্থ হওয়ার তথ্য জানা যায়নি। ঘটনা জেনে পুলিশ বাড়িটিতে বসবাস করা কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আদাবর থেকে অচেতন অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
আবরারের ‘খুনি’র সঙ্গে ক্লাস নয়: বুয়েটে মানববন্ধন
আবরার হত্যা: পেছাল সাফাই সাক্ষ্য
আবরার হত্যা: আদালতে নির্দোষ দাবি ছাত্রলীগ কর্মীদের
আবরার হত্যা: আসামিদের বক্তব্য ১৪ মার্চ

শেয়ার করুন

সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন না: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন না: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: পিআইডি

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আমি তাদের বলেছি অহেতুক যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি দেখব।

অহেতুক কোনো সাংবাদিক হয়রানির শিকার হবেন না বলে আশ্বস্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ আশ্বাস দেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আমি তাদের বলেছি অহেতুক যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি দেখব।

‘সে সঙ্গে এই হিসাব চাওয়ার প্রেক্ষিতে কেউ যাতে সরকারের সঙ্গে সাংবাদিকদের দূরত্ব সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বৈঠকে সংবাদ সংস্থা বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, নিউজ চ্যানেল ডিবিসির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া এবং ওমর ফারুক, ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ এবং সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে সারা দেশে ২৩ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে।

গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতেই এটা করা হয়েছে অভিযোগ করে কর্মসূচিতে বলা হয়, এর সন্তোষজনক সমাধান না হলে আন্দোলন চলবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ।

অন্য যাদের হিসাব দিতে বলা হয়েছে তারা হলেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী উল্লেখ করে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে।

গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে করে এই ১১ নেতা জানান, সাংবাদিকদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়ানোর কৌশল হতে পারে এই আদেশ। সে দিনই রোববার মানববন্ধনের ডাক দেয়া হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ‘যেভাবে হিসাব চাওয়া হয়েছে তা নজিরবিহীন। আমরা রাষ্ট্রের কাছে এর ব্যাখা চাই। এর নিরসন চাই। উৎকণ্ঠা দূর করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
আবরারের ‘খুনি’র সঙ্গে ক্লাস নয়: বুয়েটে মানববন্ধন
আবরার হত্যা: পেছাল সাফাই সাক্ষ্য
আবরার হত্যা: আদালতে নির্দোষ দাবি ছাত্রলীগ কর্মীদের
আবরার হত্যা: আসামিদের বক্তব্য ১৪ মার্চ

শেয়ার করুন

গৃহকর্ত্রী হত্যায় ২ কাঠমিস্ত্রির মৃত্যুদণ্ড

গৃহকর্ত্রী হত্যায় ২ কাঠমিস্ত্রির মৃত্যুদণ্ড

গৃহকর্ত্রী মরিয়মের সঙ্গে ফোনে আলাপ করেই ৬ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাসাটিতে যান অমিত ও ইউসুফ। চাকুর ভয় দেখিয়ে তারা মরিয়মকে টাকাপয়সা ও স্বর্ণালংকার বের করে দিতে বলেন। এ সময় গৃহকর্ত্রী চিৎকার দিলে আসামিরা চাকু দিয়ে তার গলা ও পেটে পোঁচ দেন। ঘটনাস্থলেই মারা যান মরিয়ম খাতুন।

ঢাকা মেডিক্যালের নার্সিং কলেজের হাউসকিপার মরিয়ম খাতুন হত্যা মামলার রায় হয়েছে। এতে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফাতিমা ইমরোজ ক্ষণিকা মঙ্গলবার এ রায় দেন।

হত্যার সাড়ে তিন বছর পর মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন অমিত হাসান ও ইউসুফ আলী ওরফে ঠান্ডা। তারা পেশায় কাঠমিস্ত্রি। বাসার ফার্নিচার ঠিক করার সময় তারা মালামাল লুটের চেষ্টাকালে মরিয়ম খাতুনকে হত্যা করেন বলে মামলার অভিযোগে জানা যায়।

ঢাকা নার্সিং কলেজের হাউসকিপার মরিয়ম খাতুন ও তার স্বামী আব্দুল হান্নান ২০১৮ সালের ৬ মার্চ সকালে অফিসে যেতে রাজধানীর দারুস সালাম এলাকার বাসা থেকে বের হন। বিকেলে অফিস শেষে মরিয়ম বাসায় ফেরেন। এর কিছুক্ষণ পর বাসায় ফিরে আব্দুল হান্নান দেখতে পান স্ত্রী মরিয়মের গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে।

এ ঘটনায় মরিয়মের ছোট ভাই রেজাউল করিম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন।

তদন্তকালে পুলিশ মরিয়মের মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্রে কাঠমিস্ত্রি অমিত হাসান ও ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যায় দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা জবানবন্দি দেন।

আসামিদের স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, মরিয়ম খাতুন ৪ মার্চ ফোন করেছিলেন কাঠমিস্ত্রি অমিত হাসানকে। বাসার কাপড়চোপড় রাখার আলনা ঠিক করে দিতে বলেন তিনি। ৬ মার্চ আলনা ঠিক করার জন্য সময় ঠিক করেন অমিত। এরপর আসামিরা পরিকল্পনা করেন মরিয়মকে চাকুর ভয় দেখিয়ে টাকাপয়সা আদায় ও মালামাল লুটের। এ জন্য তারা দুটি চাকু কেনেন।

মরিয়মের সঙ্গে ফোনে আলাপ করেই ৬ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাসাটিতে যান অমিত ও ইউসুফ। চাকুর ভয় দেখিয়ে তারা মরিয়মকে টাকাপয়সা ও স্বর্ণালংকার বের করে দিতে বলেন। এ সময় গৃহকর্ত্রী চিৎকার দিলে আসামিরা চাকু দিয়ে তার গলা ও পেটে পোঁচ দেন। ঘটনাস্থলেই মারা যান মরিয়ম খাতুন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার পুলিশের উপপরিদর্শক মো. যোবায়ের ২০১৮ সালের ৩১ মে দুজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। একই বছরের ১৩ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত। মামলাটির বিচার চলাকালে ১৭ জন সাক্ষ্য দেন।

বিচারিক কাজ শেষে মঙ্গলবার আসামিদের ফাঁসির রায় হয়। এর আগে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে আসামিদের কারাগারে নেয়া হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) দেলোয়ার হোসেন।

আরও পড়ুন:
আবরারের ‘খুনি’র সঙ্গে ক্লাস নয়: বুয়েটে মানববন্ধন
আবরার হত্যা: পেছাল সাফাই সাক্ষ্য
আবরার হত্যা: আদালতে নির্দোষ দাবি ছাত্রলীগ কর্মীদের
আবরার হত্যা: আসামিদের বক্তব্য ১৪ মার্চ

শেয়ার করুন

আদালতে মহামারিকে ঢাল করছেন ইভ্যালির আইনজীবী

আদালতে মহামারিকে ঢাল করছেন ইভ্যালির আইনজীবী

ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে মঙ্গলবার জামিন শুনানির জন্য আদালতে নেয়া হয়। ছবি: সাইফুল ইসলাম

আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মনিরুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারায় এই মামলা হতে পারে না। কারণ, দেশে অতিমারি ও এই প্যান্ডেমিক অবস্থায় পণ্য সরবরাহ করার জন্য আসামিরা সময় চেয়েছিলেন। সে সময় এখনও শেষ হয়নি। আমরা মালামাল দিতে অস্বীকার করি নাই। আমাদেরকে যে টাকা দেয়া হয়েছে আমরা তা ফেরত দিয়ে দেব। উনাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে তো অবস্থা আরও খারাপ হবে, কোনো সমাধান পাওয়া যাবে না।’

পণ্য সরবরাহ দেরির কারণ চলমান করোনাভাইরাস মহামারি। এই মহামারিতে পণ্য ডেলিভারিতে ইভ্যালির কর্মকর্তারা সময় চেয়েছিলেন। সেই সময় শেষ হয়নি। মালামাল গ্রাহকে দেয়ার বিষয়টি চলমান ছিল এবং অনেক গ্রাহককে এরই মধ্যে টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

তাই এমন অবস্থায় কার্যক্রম চালাতে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের জামিন চেয়েছেন তাদের আইনজীবী। একই সঙ্গে তাদের রিমান্ডে না দেয়ারও আবেদন জানান তিনি।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. হাসিবুল হকের আদালতে ইভ্যালির দুই কর্মকর্তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে শুনানিতে এমন যুক্তি তুলে ধরেন তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মনিরুজ্জামান আসাদ।

জামিন শুনানিতে তিনি আরও বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারায় এই মামলা হতে পারে না। কারণ, দেশে অতিমারি ও এই প্যান্ডেমিক অবস্থায় পণ্য সরবরাহ করার জন্য আসামিরা সময় চেয়েছিলেন। সে সময় এখনও শেষ হয়নি। আমরা মালামাল দিতে অস্বীকার করি নাই। আমাদেরকে যে টাকা দেয়া হয়েছে আমরা তা ফেরত দিয়ে দেব। উনাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে তো অবস্থা আরও খারাপ হবে, কোনো সমাধান পাওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীক চুক্তি হয়েছে, উনারা সেই অনুযায়ী অন্য কোম্পানির সঙ্গে পণ্যের জন্য চুক্তি করেছেন। করোনায় পণ্য সরবরাহে দেরি হয়েছে। এখানে তো ওনাদের কোনো হাত ছিল না, এ ছাড়া ওনারা তো কোনো চুক্তি বা পণ্য সরবরাহের কথা অস্বীকার করছেন না।’

এ ছাড়া রিমান্ড বাতিল ও জামিন শুনানিতে ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘আমার ক্লায়েন্ট শামীমা নাসরিন গ্রেপ্তারের পর থেকে এক কাপড়ে আছেন। এরই মধ্যে তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তার একটি মানসিক প্রতিবন্ধী ১৫ বছরের বাচ্চা আছে, সে মা ছাড়া থাকতে পারে না।

‘তার মায়ের কাছে যাব, মা মা বলে আকুতি শুনলে চোখে পানি আসে বিজ্ঞ আদালত; আপনি নিশ্চয়ই বুঝবেন তার বাচ্চাটিন এ সময় মা খুব প্রয়োজন। একজন নারী হিসেবে তার জামিনটা দয়া করে মঞ্জুর করুন।’

জামিন শুনানি চলার সময় আসামি শামীমা নাসরিন তার স্বামী রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

এ ছাড়া এজলাস কক্ষের বাইরে রাসেলের পিতা আল আহাম্মাদকে উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করে হাত নাড়তে দেখা যায়।

পরে পুলিশ তাকে সরিয়ে নেন।

কামরুল ইসলাম চকদার নামের এক মাচেন্টের ধানমন্ডি থানায় করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় মঙ্গলবার ইভ্যালির সিইও রাসেলের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক নাজমুল হুদা।

পরে আদালত তাকে এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

মো. রাসেল ও শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে চারটি কোম্পানির নামে পণ্য সরবরাহের চুক্তি ভাঙাসহ ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৮ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় ওই মামলা হয়।

আরও পড়ুন:
আবরারের ‘খুনি’র সঙ্গে ক্লাস নয়: বুয়েটে মানববন্ধন
আবরার হত্যা: পেছাল সাফাই সাক্ষ্য
আবরার হত্যা: আদালতে নির্দোষ দাবি ছাত্রলীগ কর্মীদের
আবরার হত্যা: আসামিদের বক্তব্য ১৪ মার্চ

শেয়ার করুন

১১২ কারা চিকিৎসক নিয়োগ

১১২ কারা চিকিৎসক নিয়োগ

বিভিন্ন সময় কারাগারে চিকিৎসকের অভাবে কয়েদির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ফাইল ছবি

রিটের পক্ষের আইনজীবী জে আর খান রবিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৪১ পদের বিপরীতে আদালতের নির্দেশে ১১২ জন নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে আগে ছিল ২৪ জন। বাকি ২৯ জনকে দ্রুত নিয়োগ দিতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।’

দেশের ৬৮টি কারাগারে ১৪১ পদের বিপরীতে ১১২ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাকি ২৯ জন চিকিৎসক দ্রুত নিয়োগ দিতে বলেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মৌখিকভাবে মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

রিটের পক্ষের আইনজীবী জে আর খান রবিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৪১ পদের বিপরীতে আদালতের নির্দেশে ১১২ জন নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে আগে ছিল ২৪ জন। বাকি ২৯ জনকে দ্রুত নিয়োগ দিতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রতিবেদন দেয়া হয়। সেটা আজ আদালতে জমা দেয়া হয়।’

আদালতের নির্দেশের পরও কারাগারে চিকিৎসক নিয়োগ না দেয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কারা অধিদপ্তরের ডিজিকে গত ৭ মার্চ আইনি নোটিশ দেন রিটকারী আইনজীবী জে আর খান রবিন।

নোটিশে বলা হয়, দেশের ৬৮টি কারাগারে ৪০ হাজার ৬৬৪ কারাবন্দির ধারণক্ষমতা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়ে ২-৩ গুণ বেশি বন্দি কারগারে অবস্থান করেন।

অন্যদিকে ১৪১টি কারা ডাক্তারের পদের বিপরীতে ডাক্তার ছিল ৯ জন। এতে করে কারাবন্দিদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন জনস্বার্থে একটি রিট করেন।

ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ২৩ জুন বিচারপতি এ এফ এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে। রুলে কারাবন্দিদের বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চায় এবং কারা কর্তৃপক্ষকে সার্বিক বিষয়ে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেয়।

পরে কারা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন তারিখে হলফনামার মাধ্যমে দেশের সব কারাগারে ২৪ জন ডাক্তার থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করে, সঙ্গে অবশিষ্ট খালি ১১৭টি পদে ডাক্তার নিয়োগের ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় আদেশ চান। এর ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট অনতিবিলম্বে শূন্যপদে ১১৭ জন ডাক্তার নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে নির্দেশ দেয়।

চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি কারা কর্তৃপক্ষ হলফের মাধ্যমে আদালতকে জানায়, ‘১৪১ পদের বিপরীতে ১২২ জন ডাক্তার দেশের বিভিন্ন কারাগারে নিয়োজিত আছে। তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬, রাজশাহী বিভাগে ১৮, রংপুর বিভাগে ১১, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭, সিলেট বিভাগে ১৭, খুলনা বিভাগে ১৬, বরিশাল বিভাগে ১০ জন নিয়োজিত আছেন। ১২২ জনের মধ্যে ৭ জন ডেপুটেশনে এবং ১০৫ জন পর্যায়ক্রমে সংযুক্ত আছেন।’

আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন বলেন, ‘একই বিষয়ে গত ৪ মার্চ দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এখনও কারাগারে ১৩৪টি ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। সেহেতু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি আদালতের আদেশ অনুসারে কারাগারে ডাক্তার নিয়োগ না দেয়ায় আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন।

‘একই সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষ ডাক্তার নিয়োগের বিষয়ে সঠিক তথ্য সরবরাহ না করায় তাদের কাজও আদালত অবমাননার শামিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ দেয়া হয়।’

আরও পড়ুন:
আবরারের ‘খুনি’র সঙ্গে ক্লাস নয়: বুয়েটে মানববন্ধন
আবরার হত্যা: পেছাল সাফাই সাক্ষ্য
আবরার হত্যা: আদালতে নির্দোষ দাবি ছাত্রলীগ কর্মীদের
আবরার হত্যা: আসামিদের বক্তব্য ১৪ মার্চ

শেয়ার করুন

জাফরুল্লাহর প্রশংসায় বিব্রত বিচারপতি শুনলেন না রিট

জাফরুল্লাহর প্রশংসায় বিব্রত বিচারপতি শুনলেন না রিট

গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ফাইল ছবি

জাফরুল্লাহর করা রিট আবেদনটি শুনানির জন্য এলে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেব, আপনি আমার অনেক প্রশংসা করেছেন। আমি এ মামলায় যদি আদেশ দিই, তাহলে কেউ ভিন্ন মন্তব্য করতে পারেন। সে জন্য আপনি অন্য আদালতে যান। আমরা আউট অফ লিস্ট করে দিচ্ছি।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছ থেকে নানা প্রশংসা আসার পর তার করা একটি রিট আবেদনের শুনানি নিলেন না বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। তিনি বলেছেন, এই আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত দিলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাকে তিনি অন্য বেঞ্চে আবেদনটি নিয়ে যেতে বলেছেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজে আসন বাড়ানোর বিষয়ে রিট আবেদনটি করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে এর শুনানি হওয়ার কথা ছিল।

এই রিট আবেদন করার পর রাজধানীতে নানা আয়োজনে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের প্রশংসা করে বক্তব্য রেখেছেন জাফরুল্লাহে চৌধুরী। তিনি সাহসী রায় দেন- এমন কথা বলেছেন একাধিকবার।

জাফরুল্লাহর করা রিট আবেদনটি শুনানির জন্য এলে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেব, আপনি আমার অনেক প্রশংসা করেছেন। আমি এ মামলায় যদি আদেশ দিই, তাহলে কেউ ভিন্ন মন্তব্য করতে পারেন। সে জন্য আপনি অন্য আদালতে যান। আমরা আউট অফ লিস্ট করে দিচ্ছি।’

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ফখরুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজে ২০০৩ সালে ৮০ জন ছাত্র ভর্তির অনুমতি পায়। পরে ২০১০ সালে ১১০ জন ভর্তির অনুমতি পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পরে তারা চিঠি দিয়ে বলে ৫০ জনের বেশি ভর্তি করা যাবে না। এ বিষয়ে আপিলের ভিত্তিতে ১০ জন বাড়িয়েছিল। অথচ গণস্বাস্থ্যের অবকাঠামো হলো ১১০ জনের।

‘তাই গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার ১১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন।’

আরও পড়ুন:
আবরারের ‘খুনি’র সঙ্গে ক্লাস নয়: বুয়েটে মানববন্ধন
আবরার হত্যা: পেছাল সাফাই সাক্ষ্য
আবরার হত্যা: আদালতে নির্দোষ দাবি ছাত্রলীগ কর্মীদের
আবরার হত্যা: আসামিদের বক্তব্য ১৪ মার্চ

শেয়ার করুন