সামাজিক আন্দোলন দিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলা চান মন্ত্রী

সামাজিক আন্দোলন দিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলা চান মন্ত্রী

‘মন্ত্রী, মেয়র, কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে ঢাকাকে মশামুক্ত করে জনজীবনে স্বস্তি এনে দেয়া সম্ভব নয়। জনগণের অংগ্রহণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যেমন সিটি করপোরেশনের মৌলিক দায়িত্ব তেমনি নাগরিকদেরও নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অবহেলা না করে সুনাগরিকের ভুমিকা পালন করতে হবে।’

সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষকে ঐকবদ্ধ্য করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ডেঙ্গু নির্মূল করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তার মতে, জনসম্পৃক্ততাই ডেঙ্গু মোকাবেলার উত্তম উপায়। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সহজ হবে না বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশনের নগরভবনে আয়োজিত ‘সুস্থতার জন্য সামাজিক আন্দোলন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মন্ত্রী, মেয়র, কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে ঢাকাকে মশামুক্ত করে জনজীবনে স্বস্তি এনে দেয়া সম্ভব নয়। জনগণের অংগ্রহণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যেমন সিটি করপোরেশনের মৌলিক দায়িত্ব তেমনি নাগরিকদেরও নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অবহেলা না করে সুনাগরিকের ভুমিকা পালন করতে হবে।’

এডিস মশা কীভাবে এবং কোথায় জন্ম নেয়- এসব বিষয়ে নগরবাসীকে বিভিন্নভাবে সচেতন করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যদি সচেতন হয়ে এই বিষয়গুলোতে নজর দেয় তাহলে এডিস মশা নির্মূল করা সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণ করে সহনীয় পর্যায়ে আনা অসম্ভব নয়।’

নির্মাণাধীন বাসাবাড়িতে এডিস মশার প্রজনন বেশি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাসাবাড়ির ছাদে, বেজমেন্টে অথবা ফুলের টবে জমানো স্বচ্ছ পানি নিয়মিত পরিস্কার করতে বা ফেলে দিতে না পারলে সেখানে লার্ভিসাইড অথবা কেরোসিন তেল ঢেলে বা স্প্রে করে এডিস মশার লার্ভা নষ্ট করতে হবে।

সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের ডেঙ্গুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর মশার প্রভাব বেশি—একথা সত্য। কিন্তু আমরা কেউ বসে নেই, সবাই সর্বাত্মকভাবে যার যার অবস্থান থেকে নিরলসভাবে কাজ করছি।’

গত বছর শুধু জলবায়ুর প্রভাবে ডেঙ্গু কম ছিল বলে যে কথা প্রচলিত, সেটা সত্য নয় বলে মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, নগরবাসী সবার সমন্বিত উদ্যোগ ছিল বলেই সম্ভব হয়েছে। এবারও আমরা সফল হবো।’

পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ যারা ডেঙ্গু মোকাবেলায় সফল হয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সেখানে প্রচুর এডিসের লার্ভা প্রজনন হচ্ছে। এ ছাড়া, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ উদ্যোগে এসব স্থাপনায় মশক নিধন অভিযান চালানোর নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, ‘মশা মারতে গিয়ে এমন কীটনাশক ব্যবহার করা যাবে না যার জন্য পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি হয়। সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, সিভিল এভিয়েশন এবং রেলওয়েসহ অন্যান্য সরকারি আবাসন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিটি করপোরেশন সঙ্গে সমন্বয় করে অথবা নিজেদেরকে মশা নিধনের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

এডিস মশা নিধনে একটি ‘ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী সারাদেশে কাজ শুরু হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ-কানাডা যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ

নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ-কানাডা যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে কানাডিয়ান হাই কমিশনার প্রফনটেইন।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করতে এরইমধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ ট্রেড কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে কানাডিয়ান দূতাবাস।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদার করতে ২০১৭ সালে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করতে সম্মত হয়েছিল বাংলাদেশ ও কানাডা। এ লক্ষ্যে একটি কর্মপরিধিও তৈরি হলেও এখনও বাস্তব রূপ লাভ করেনি।

সেই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ নভেম্বরের মধ্যে চালু করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাই কমিশনার বেনোই প্রফনটেইন।

বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রফনটেইন।

তিনি জানান, এই ওয়াকিং গ্রুপ কার্যকর করতে ইতোমধ্যেই কানাডার পক্ষ থেকে বেসরকারি খাতের চার প্রতিনিধি মনোনীত করা হয়েছে।

কানাডিয়ান হাই কমিশনারের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানান, চলতি মাসেই যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআই সভাপতি কানাডিয়ান হাই কমিশনারকে জানান, বাংলাদেশে নির্মাণাধীন ১০০টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে অনেকগুলো দেশ বিনিয়োগ করেছে। কানাডার বিনিয়োগকারীদের জন্যও এসব অঞ্চল আকর্ষণীয় হতে পারে। প্রাইমারি টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, সিরামিকস, আসাবাব শিল্প, অবকাঠামো ও ব্লু ইকোনমি খাতে বিনিয়োগের জন্য কানাডিয়ান উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান জসিম উদ্দিন।

এ সময় বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে কানাডিয়ান হাই কমিশনার বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজারের বিকাশসহ আর্থ সামাজিক নানা সূচকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল অর্থনীতির দেশ হয়েও, কানাডার বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ এখনও অনেকটাই অপরিচিতি।’

এ কারণেই নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিবেচনা করছে না কানাডার উদ্যোক্তারা। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করতে এরইমধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ ট্রেড কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে কানাডিয়ান দূতাবাস।

সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি এম এ মোমেন বলেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা নানা কারণে বিনিয়োগের জন্য চীনের বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিবেচনা করতে পারে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য কানাডার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি হাবীব উল্লাহ ডন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

শেয়ার করুন

সাংবাদিক কাজলের ৩ মামলার চার্জ শুনানি পেছাল

সাংবাদিক কাজলের ৩ মামলার চার্জ শুনানি পেছাল

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল। ফাইল ছবি

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের তিন মামলায় পুলিশ চার্জশিট দিয়েছে। ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে বৃহস্পতিবার এসব মামলার চার্জ শুনানির দিন ধার্য ছিল। বিচারক ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইকবাল হোসেন পরবর্তী তারিখ ঠিক করেন ৮ নভেম্বর।

ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পৃথক তিন মামলায় চার্জ শুনানির তারিখ পিছিয়ে ৮ নভেম্বর ঠিক করেছে আদালত।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে বৃহস্পতিবার চার্জ শুনানির দিন ধার্য ছিল। বিচারক ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইকবাল হোসেন চার্জ শুনানির পরবর্তী তারিখ ঠিক করেন ৮ নভেম্বর।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায় করা মামলা তিনটির চার্জ শুনানির জন্য জামিনে থাকা আসামি কাজল আদালতে উপস্থিত হন। তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন।

কাজলের আইনজীবী জাহেদুর রহমান এসব তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

যুব মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়াকে জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করায় গত বছরের ৯ মার্চ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় কাজলসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন মাগুরা-১ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ সাইফুজ্জামান শেখর। এরপর ১০ ও ১১ মার্চ হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও দুটি মামলা হয়।

প্রথম মামলার পরই ১০ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর হাতিরপুলের ‘পক্ষকাল’ অফিস থেকে বের হওয়ার পর পত্রিকাটির সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজল নিখোঁজ হন। এ বিষয়ে পরদিন চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়ন। পরে ছেলে মনোরম পলক ১৮ মার্চ রাতে চকবাজার থানায় মামলা করেন কাজলকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে।

ঢাকা থেকে নিখোঁজের ৫৩ দিন পর ২ মে রাতে যশোরের বেনাপোলের ভারতীয় সীমান্ত সাদিপুর থেকে অনুপ্রবেশের দায়ে শফিকুল ইসলাম কাজলকে আটক করে বিজিবি। পরদিন বিজিবির করা মামলায় আদালতে সাংবাদিক কাজলের জামিন মঞ্জুর হয়। পরে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৫৪ ধারায় একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রায় সাড়ে আট মাস কারাভোগের পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পান কাজল। তার বিরুদ্ধে করা তিন মামলায় পুলিশ আদালতে চার্জশিট দিয়েছে।

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু রোগী ২২ হাজার ছাড়াল

ডেঙ্গু রোগী ২২ হাজার ছাড়াল

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩৯ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৭০ জন। এই নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৮৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে বৃহস্পতিবার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩৯ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩১ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ০৭ জন। এর মধ্যে শুরুর ছয় মাস ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন। এ বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৬ জন। এই মাসে মারা যায় ১২ জন।

আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন। এই মাসে মারা যায় ৩৪ জন। সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন।

এই মাসে মৃত্যু হয় ২৩ জনের। চলতি মাসে ৩ হাজার ৮১০ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৫ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২২ হাজার ৭ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২১ হাজার ১৩১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৭৯২ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪৬টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬২৪ ডেঙ্গু রোগী। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শেয়ার করুন

যুবলীগের চিঠি সংকলন ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ প্রকাশ

যুবলীগের চিঠি সংকলন ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ প্রকাশ

‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ বইয়ের প্রচ্ছদ।

‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ চিঠি সংকলন গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রকাশক যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও নির্বাহী সম্পাদক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও প্রচ্ছদ করেছেন ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়।

বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশে লেখা প্রতীকী চিঠি নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সম্পাদনায় রচিত গ্রন্থটির নাম রাখা হয়েছে ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’।

১৭ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। তারই অংশ ছিল এই চিঠি লেখা কর্মসূচি। সারাদেশ থেকে আসা শতাধিক চিঠি থেকে বাছাইকৃত চিঠি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে গ্রন্থটি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ অক্টোবর আইইবি মিলনায়তনে যুবলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আশ্রয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ চিঠি সংকলন গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রকাশক যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও নির্বাহী সম্পাদক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও প্রচ্ছদ করেছেন ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়।

সম্পাদনা সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম মিল্টন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মোস্তাফিজ, উপ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ নবীরুজ্জামান বাবু এবং উপ প্রচার সম্পাদক আদিত্য নন্দী।

গ্রন্থটির সম্পাদক শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রজন্মের ভাবনা, আবেগ, ভালোবাসা প্রকাশিত হোক- এমন ইতিবাচক উদ্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ আয়োজন করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রতীকী চিঠি লেখা কর্মসূচি। সারাদেশ থেকে প্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠিগুলো থেকে বাছাইকৃত চিঠি নিয়ে প্রকাশিত হলো চিঠি সংকলন গ্রন্থ ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’।’

প্রিয় বঙ্গবন্ধু গ্রন্থটি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও শাহাবাগের পাঠক সমাবেশে পাওয়া যাবেও বলে জানান তিনি। এর শুভেচ্ছা মূল্য ধরা হয়েছে ৩২০ টাকা।

শেয়ার করুন

জামিন পেলেন কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জর দাস

জামিন পেলেন কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জর দাস

সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাস। ফাইল ছবি

শুনানিতে চিত্তরঞ্জন দাসের পক্ষে আইনজীবী শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আসামি একজন জনপ্রতিনিধি যাকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত একজন স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি। যে কোনো শর্তে তাকে জামিন দেয়া হোক, আসামি এই মামলার ট্রায়াল ফেস করবে। তিনি আইনী ব্যত্যয় করবেন না, পলাতক হবেন না।’ বাদীপক্ষের আইনজীবী মিনু রাণী রায় জামিনের বিরোধিতা করেন।

সাত দিন কারাভোগের পর শ্লীলতাহানির মামলায় জামিন পেলেন সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাস।

২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

গত ১৪ অক্টোবর বাদীকে হুমকি দেয়ার অভিযোগে চিত্তরঞ্জন দাসকে জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার চিত্তরঞ্জন দাসের পক্ষে আইনজীবী শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া জামিন আবেদন করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘আসামি একজন জনপ্রতিনিধি যাকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত একজন স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি। যে কোনো শর্তে তাকে জামিন দেয়া হোক, আসামি এই মামলার ট্রায়াল ফেস করবে। তিনি আইনী ব্যত্যয় করবেন না, পলাতক হবেন না।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী মিনু রাণী রায় জামিনের বিরোধিতা করেন।

আইনজীবী মিনু রাণী রায় বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। এরআগে জামিন পাওয়ার পর লোকজনের মাধ্যমে বাদীকে পুনরায় ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির হুমকি দেন। এ অবস্থায় তার জামিনের বিরোধিতা করছি।’

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৫শ টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কাউন্সিলরের অন্তবর্তীকালিন জামিন আদেশ দেয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর শ্লীলতাহানির একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই নারী সবুজবাগ থানায় চিত্তরঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলায় করেন। এজাহারে তিনি নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী বলে উল্লেখ করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, সবুজবাগ কালীবাড়ি রাস্তা সংলগ্ন একটি দোকান ওই নারীর শ্বশুরের। তার পাশের চা দোকানদার নিজের দোকান সংস্কার করতে চাইলে কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাস গরীব চা দোকানদারের কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন।

চাঁদার ব্যাপারে সত্যতা যাচাই করার জন্য ওই নারী রাত পৌনে ৮টার দিকে চিত্তরঞ্জন দাসকে মোবাইলে ফোন দেন। চিত্তরঞ্জন দাস তাকে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তার রাজারবাগ কালীবাড়ি কার্যালয়ে যেতে বলেন।

রাত পৌনে ১০টার দিকে ওই নারী স্বামীসহ সেখানে যান। চাঁদার বিষয়ে জানতে চাইলে চিত্তরঞ্জন দাস দুই চারটি কথা বলে তাকে পাশের কক্ষে বসতে বলেন। এর একটু পর চিত্তরঞ্জন দাস ওই কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন এবং ওই নারীকে বসা থেকে উঠে দাঁড়ানোর জন্য বলেন। ওই নারী উঠে দাঁড়ালে চিত্তরঞ্জন দাস তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। নানা রকম অঙ্গভঙ্গি করে তাকে কুপ্রস্তাব দেন।

এ সময় মান-সম্মানের ভয়ে ওই নারী কোনো চিৎকার করেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন

মামলা দেয়ায় বাইক পোড়ালেন আরও এক চালক

মামলা দেয়ায় বাইক পোড়ালেন আরও এক চালক

নিজের বাইকে আগুন লাগানোর পর। ছবি: নিউজবাংলা

ওই চালকের নাম ইলিয়াস মিয়া। তিনি পাঠাও বাইকচালক। পলাশী থেকে ব্যানবেইসের দিকে যাওয়ার সময় সার্জেন্ট সিগন্যাল দিয়ে তাকে থামান।

ট্রাফিক সার্জেন্ট ডেট ফেল-এর মামলা দেয়ায় নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন আরও এক ব্যক্তি।

বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ১০ মিনিটে রাজধানীর পলাশী মোড়ের কাছাকাছি এলাকায় ব্যানবেইসের আগে একটি সেলুনের দোকানের পাশে ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী তাজমহল নামে এক রিকশাওয়ালা বলেন, ‘আমি যাত্রী নিয়ে পলাশী থেকে ব্যানবেইসের দিকে যাচ্ছি। এরপর দেখি একজন সার্জেন্ট বাইকওয়ালার কাছ থেকে কিছু কাগজ নিয়ে পলাশীর দিকে আসছিলেন। সার্জেন্ট পেছন ফিরে একটু আগাতেই বাইকওয়ালা তার বাইকে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর আমি চলে যাই। আর কিছু জানি না।’

ঘটনাস্থলের পাশে সেলুনের মালিক বলেন, ‘আমি কাজে ছিলাম, তাই পুরো ঘটনা দেখিনি। তবে আগুন লাগার পর পলাশীর দিক থেকে কয়েকজন ট্রাফিক সদস্য আর একজন সার্জেন্ট দৌড়ে আসেন। তারা আমার কাছে থাকা পানি দিয়ে আগুন নেভাতে চাইলে বাইকওয়ালা পানি দিতে নিষেধ করেন। এরপর আর কেউ পানি দেননি। পরে বাইকটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।’

ঘটনার বিষয়টি ভিডিও করে ফেসবুকে প্রথম প্রকাশ করেন রনি তালুকদার। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ ঘটনা দেখিনি। ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি থেকে ভিডিওটা করি। দেখি, বাজাজ ডিসকভার মডেলের একটি বাইক পুড়ছে, ট্রাফিক পুলিশও ভিডিও করছে। তবে আমি ড্রাইভারকে খোঁজার চেষ্টা করলেও তাকে দেখিনি।’

বর্তমানে বাইকচালক লালবাগ থানায় আছেন জানিয়ে লালবাগ থানার পরিদর্শক (ওসি) বলেন, ‘ঘটনাটা শুনেছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।’

তিনি জানান, ওই চালকের নাম ইলিয়াস মিয়া। তিনি পাঠাও বাইকচালক। পলাশী থেকে ব্যানবেইসের দিকে যাওয়ার সময় সার্জেন্ট সিগন্যাল দিয়ে তাকে থামান। কিন্তু তার কাগজের ডেট ফেল থাকায় সার্জেন্ট একটি মামলা দেন। এরপর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।

ওসি বলেন, ‘মোটরসাইকেলের কাগজ প্রতিবছর রিনিউ করতে হয়। তার কাগজ রিনিউ করা ছিল না। সার্জেন্ট ফোরকান মামলাটা দিয়েছিলেন।’

শেয়ার করুন

বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা ২ দিনের রিমান্ডে

বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা ২ দিনের রিমান্ডে

বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ফটক। ফাইল ছবি

রুমাকে আদালতে হাজির করে রমনা থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগে গ্রেপ্তার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রুমা সরকারকে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম মাসুদ-উর-রহমান বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. শফিকুল ইসলাম এ রুমাকে আদালতে হাজির করে সংশ্লিষ্ট থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, রুমা সরকার সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোয়াখালীর যতন সাহার হত্যার শিরোনামে একটি অন্য ঘটনার ভিডিও আপলোড করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল দ্বারা গুজব সৃষ্টির করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপপ্রয়াস চালান, যা বিভ্রান্তিমূলক।

এতে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটি ১৬ মে বিকেল ৪টার সময় ঢাকার পল্লবী থানার ডি-ব্লকের শাহিন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ভিডিও। এ সময়ে সনাতন ধম্বালম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজাকেন্দ্রিক সহিংসতাকে ঘিরে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ঘটনা ঘটানো হচ্ছিল।

রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, দেশের এ সময়ে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রুমা সরকার ১৯ অক্টোবর দুপুর ২টা ৩৫ মিনিট থেকে ২টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত ফেসবুক লাইভে আসেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি ভুল করে যতন সাহার মৃত্যুর দৃশ্য দেখে ফেলেছিলাম। গরুর মাংস যে ভাবে কুপিয়ে বানায়, আহা হিন্দুদের প্রতি তোর এত ক্ষোভ। তোরা অমানুষ, হত্যার পর এই ভাবে কুপালি ক্যান?’

আবেদনে আরও বলা হয়, দেশের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে নাজুক পরিস্থিতিতে তার লাইভ ভিডিওটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গুজব ও ভয়ভীতি ছড়াতে সাহায্য করে।

এতে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় রুমা সরকার রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম বিনষ্ট করার অভিপ্রায়ে ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে, মিথ্যা অপপ্রচার, হিন্দু সম্প্রদায়কে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে দেশে বিরাজমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

কী উদ্দেশ্যে, কার ইন্ধনে, কোন পরিকল্পনা সামনে রেখে কার পরামর্শে ফেসবুক লাইভে রুমা এ ভিডিওর মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়েছেন সেটি যাচাই এবং ওই ঘটনার অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে কি না সেটি উদঘাটনের লক্ষ্যে তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আসামির পক্ষে লিটন কুমার সাহা ও সুব্রত বিশ্বাস শুভ্র রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রুমা সরকারের দুই দিনের রিমান্ড অনুমোদন দেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই নিজাম উদ্দিন ফকির।

বুধবার সকালে রাজধানীর বেইলি রোডের বাসা থেকে রুমা সরকারকে আটক করে র‍্যাব।

রাজধানী পল্লবীর সাহিনুদ্দীন হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোয়াখালীর যতন সাহা হত্যাকাণ্ডের বলে অপপ্রচারের অভিযোগে তাকে আটক করে বাহিনীটি। পরে রুমাকে র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বুধবার র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে একটি ভিডিও ভাইরাল করেন রুমা সরকার, যে ভিডিও অনেক আগের এবং সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার সঙ্গে মিল নেই।

‘এ ছাড়া তিনি ফেসবুক লাইভে এসে উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়েছেন। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। এ জন্য তাকে আমরা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রুমার নামে মামলা করে র‌্যাব।

শেয়ার করুন