শাটডাউন

জরিমানা সোয়া ১২ লাখ টাকা, গ্রেপ্তার ৩৮৫

জরিমানা সোয়া ১২ লাখ টাকা, গ্রেপ্তার ৩৮৫

সরকার ঘোষিত শাটডাউন চলবে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত। ছবি: সাইফুর ইসলাম

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিধিনিষেধ না মানায় ৩৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। এ ছাড়া মোবাইল কোর্টে ১২৬ জনকে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ডিএমপি ট্রাফিক ৫৩৮টি গাড়িকে জরিমানা করেছে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা।

ঈদের পরে শাটডাউনের ১৪তম দিন বৃহস্পতিবার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর সড়কে ৫৩৮টি গাড়িকে জরিমানা করা হয়েছে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা।

এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১২৬ জনকে জরিমানা করা হয় ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫০ টাকা। এ সময় ৩৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিধিনিষেধ না মানায় ৩৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। এ ছাড়া মোবাইল কোর্টে ১২৬ জনকে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ডিএমপি ট্রাফিক ৫৩৮টি গাড়িকে জরিমানা করেছে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা।

বর্তমানে দেশে ঈদুল আজহা-পরবর্তী ১৪ দিনের শাটডাউন চলছে, যা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট)। তবে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণ রুখতে চলমান ‘শাটডাউন’ আরও পাঁচ দিন বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন দিয়েছে সরকার।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রাকৃতিক হাসপাতাল ধ্বংস করে বাণিজ্যিক নয়

প্রাকৃতিক হাসপাতাল ধ্বংস করে বাণিজ্যিক নয়

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে আনু মুহাম্মদ।

খাদক ও ঘাতক চক্রের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে সিআরবি রক্ষার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে বলেও মনে করেন আনু মুহাম্মদ।

দেশে হাসপাতাল দরকার। কিন্তু সেটা প্রাকৃতিক হাসপাতালকে ধ্বংস করে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নয় বলে মনে করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘মানুষের প্রাকৃতিক জায়গাকে নষ্ট করে ব্যবসা করে মুনাফার জন্য কিছু লোককে হাসপাতালের নামে দখলের বৈধতা দেয়া হচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে আমাদের কঠিন প্রতিরোধ অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।’

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে চট্টগ্রামের ফুসফুস-খ্যাত সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে আয়োজিত এক ‘প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে’ এসব কথা বলেন তিনি।

সাংস্কৃতিক সংগঠন সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ, বটতলা, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, লীলা ব্যান্ড, মাদল এবং শিল্পী কফিল আহমেদ যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, শুধু সিআরবি নয়, বরং সারা দেশই এ ধরনের লুণ্ঠন, আগ্রাসন, দখল, উন্নয়নের নামে বিকৃত উন্মাদনার শিকারে পরিণত হয়েছে। বলা হয়, হাসপাতাল মানুষের অসুস্থতার জন্য। কিন্তু ঢাকা শহরের বুড়িগঙ্গা নদী যদি নর্দমায় পরিণত না হতো, ঢাকা শহরে যদি গাছপালা ও উন্মুক্ত জায়গা থাকত তাহলে মানুষের এত অসুস্থতা তৈরি হতো না।

লুটতরাজদের স্বার্থই সরকারের স্বার্থ দাবি করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা এমন একটি দেশ পেয়েছি, যেখানে জীবন-জীবিকা সবকিছুর জন্য আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। সরকার বধির, কালা, অন্ধ। তার সামনে শুধু মুনাফা, লুটেরা, লুটতরাজ কোটিপতিরাই রয়েছে।’

খাদক ও ঘাতক চক্রের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে সিআরবি রক্ষার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে বলেও মনে করেন আনু মোহাম্মদ।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন লেখক ও গবেষক রেহনুমা আহমেদ, শিল্পী কফিল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল প্রমুখ।

উন্মুক্ত এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে গান ও নাটক পরিবেশন করে লীলা ব্যান্ড, সহজিয়া, মাদল, বক্ররেখা, ভাটিয়াল শহুরে, সমগীত, বটতলা, প্রাচ্যনাট, থিয়েটার বায়ান্ন, বনফুল এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

এ ছাড়া এককভাবে গান, নাচ, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, পারফর্মিং আর্টসহ নানান সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন শিল্পী সুমন হালদার, আশরাফুল হাসান, জিয়া শিকদার, নাসির আহমেদ, হাবিবুল্লাহ পাপ্পু, অমল আকাশ, ইয়াসমিন জাহান নূপুর, ফারহা নাজ মুন, ইশরাত শিউলি এবং অনন্যা লাবণী।

শেয়ার করুন

জন্মনিরোধক পিলও নকল

জন্মনিরোধক পিলও নকল

প্রতীকী ছবি

নকল জন্মনিরোধক পিলের মধ্যে আছে আইপিল। অরক্ষিত শারীরিক সম্পর্কের পর এটি জরুরি ভিত্তিতে হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের পিলের দাম স্বাভাবিক জন্মনিরোধক পিলের তুলনায় বেশি।

ভেজাল ওষুধ হিসেবে এবার জব্দ হলো জন্মনিরোধক পিল।

শনিবার রাজধানীর বাবুবাজারে সুরেশ্বরী মেডিসিন প্লাজায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ জব্দ করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে জন্মনিরোধক পিলও রয়েছে।

নকল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তারা হলেন- মেডিসিন ওয়ার্ল্ডের ফয়সাল আহমেদ, লোকনাথ ড্রাগের সুমন চন্দ্র মল্লিক ও রাফসান ফার্মেসির লিটন গাজী।

গোয়েন্দা পুলিশের লাগবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ নিউজাবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, নকল জন্মনিরোধক পিলের মধ্যে আছে আইপিল। অরক্ষিত শারীরিক সম্পর্কের পর এটি জরুরি ভিত্তিতে হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের পিলের দাম স্বাভাবিক জন্মবিরোধ পিলের তুলনায় বেশি।।

ডিবির অতিরিক্ত উপ কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, ‘জড়িতরা অধিক লাভের আশায় দীর্ঘদিন ধরে এসব দেশি ও বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের ওষধ ও ক্রিম উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। পলাতক কয়েকজন আসামির কাছ থেকে এগুলো সংগ্রহ করে মিটফোর্ড এলাকায় বাজারজাত করত।’

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

ব্যাংক হিসাব তলব সাংবাদিকদের মাঝে ‘ভীতি ছড়াতে’

ব্যাংক হিসাব তলব সাংবাদিকদের মাঝে ‘ভীতি ছড়াতে’

ব্যাংক হিসাব তলবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদ সম্মেলনে আসেন ১১ সাংবাদিক নেতা। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান বলেন, ‘বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কেন, কী কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে নানা ধরনের আশঙ্কারও সৃষ্টি করেছে। অনেকে বিএফআইইউর এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল বলেও মনে করছেন।’

সাংবাদিকদের মাঝে ভীতি ছড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ ১১ নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বলে মনে করছেন এসব নেতা।

ব্যাংক হিসাব তলবের নামে সম্মানহানির প্রতিবাদে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ১১ সাংবাদিক নেতা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

সারা দেশের সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নাম ও প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব তলবে সাংবাদিকদের মনে গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

মসিউর রহমান বলেন, ‘দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব এভাবে তলব করা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে কোনো দিন এ রকম ঘটনা ঘটেনি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নামে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক বলে আমরা মনে করি।

‘নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কেন, কী কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে নানা ধরনের আশঙ্কারও সৃষ্টি করেছে। অনেকে বিএফআইইউর এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল বলেও মনে করছে।’

বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় দেশের ভাবমূর্তিও বিনষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন মসিউর রহমান। বলেন, ‘কারণ, গোটা বিশ্বে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দেশের সরকার ও সচেতন সমাজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি কিংবা কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল মেনে নেয় না, নিতে পারে না।’

বিএফআইইউ সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে যে চিঠি দিয়েছে তাতে তথ্য পাওয়ার আগেই তথ্য চাওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়ার উদ্দেশ্যও জানতে চাওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

মসিউর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএফআইইউর দেয়া চিঠি গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় সমাজের মানুষের কাছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তথা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রতিকার দাবি করছি। কেননা, এতে করে সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার প্রয়াস চালানো হয়েছে, যা কারও কাম্য নয়।’

সাংবাদিক সমাজ ও দেশবাসীর সামনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন বলে জানান মসিউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের ভোটে নির্বাচিত। তাই আপনাদের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করি। সে বিবেচনায় আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, আমাদের নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাবে যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন কিংবা কোনো ধরনের মানি লন্ডারিং কিংবা জঙ্গি অর্থায়নের তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায় তা যেন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আর যদি তা না হয়, তবে সেটাও যেন যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।’

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমাজকে পাশে চেয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লড়াই-সংগ্রাম, নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন সংকটে আপনারা আমাদের পাশে থেকেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আমরা আপনাদের পাশে চাই। সাংবাদিকদের সুরক্ষা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের হুমকি-ধমকিতে আমরা অতীতে যেমন পিছপা হইনি, ভবিষ্যতেও হব না।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ইন্টেলিজেন্স ইউনিট যে কারণে ব্যাংক হিসাব তলব করে তার কিন্তু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন থাকে বা জঙ্গি অর্থায়নে সাস্পেক্ট করা হয়…তবে আমাদের এমন কোনো অভিযোগের কারণ নেই। আমি সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছে তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না। তথ্যমন্ত্রী ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলনে এসেছিলেন। ওনাকে জিজ্ঞেসা করেছি। উনিও বলছেন উনি কিছুই জানেন না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিকে উদ্দেশ্যমূলক উল্লেখ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ‘আমরা বিস্মিত যে এভাবেও কোনো চিঠি হয়। তারা ১২ তারিখে চিঠি জারি করেছে। আমরা জেনেছি গণমাধ্যমে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএনপিপন্থি) বিএফইউজে সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএনপিপন্থি) ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী।

শেয়ার করুন

বিদেশে চাকরির নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ

বিদেশে চাকরির নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করে ডিবি। ছবি: অনির্বাণ বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ডিবি জানায়, ‘ড্রিম জবস ইন কানাডা’ নামে কথিত প্রতিষ্ঠানের হয়ে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন গ্রুপে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। চক্রের একটি গ্রুপ প্রথমে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করে নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। পরে ফেসবুকে বিদেশে চাকরির অফার দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমেইলে যোগাযোগ করে।

বিদেশে চাকরি দেয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবির লালবাগ বিভাগের একটি দল।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন কবির হোসেন, শামসুল কবীর ও ইয়াছিন আলী। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ২৫৭টি চেক বই, ২৩৪টি ডেবিট কার্ড, আটটি মোবাইল ও ১১টি সিম জব্দ করা হয়।

ওই তিনজনের নামে কদমতলী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

বিদেশে চাকরির নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ

যেভাবে প্রতারণা

তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে শনিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিবি।

এতে ডিবির প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, ‘ড্রিম জবস ইন কানাডা’ নামে কথিত প্রতিষ্ঠানের হয়ে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন গ্রুপে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। চক্রের একটি গ্রুপ প্রথমে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করে নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। পরে ফেসবুকে বিদেশে চাকরির অফার দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমেইলে যোগাযোগ করে।

তিনি জানান, চক্রের সদস্যরা চাকরিপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন ফির জন্য ব্যাংকে টাকা জমা দিতে বলে। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরও দেয় তারা।

ডিবি জানায়, চক্রের প্রথম গ্রুপের সদস্যরা ফেসবুকে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উপহার পাঠানোর কথা বলে। পরে কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে ফোন করে।

দ্বিতীয় গ্রুপের বিষয়ে ডিবি বলে, তাদের কাজ হলো বিভিন্ন নামে ব্যাংক হিসাব খোলা। এসব সদস্য কমিশনের বিনিময়ে নিজের বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব খুলতে থাকে। পরে তারা বারবার বাসা ও মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে।

ডিবির কর্মকর্তা হাফিজ জানান, চক্রের তৃতীয় গ্রুপ এসব ব্যাংক হিসাবধারীদের স্বাক্ষরিত চেক বইয়ের পাতা, এটিএম কার্ড এবং কার্ডপিন কুরিয়ারের মাধ্যমে সংগ্রহ করে।

তিনি জানান, চতুর্থ গ্রুপ প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যক্তির জমাকৃত টাকা চেক বা কার্ডের মাধ্যমে উঠিয়ে একজন ম্যানেজানের হাতে তুলে দেয়। ম্যানেজার এ টাকা তাদের কথিত বসের হাতে পৌঁছায়। এভাবে সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।

গ্রেপ্তার কে, কী করতেন

ডিবি জানায়, গ্রেপ্তার কবীর হোসেনের কাজ যাবতীয় অর্থ সংগ্রহ করে ম্যানেজারের হাতে পৌঁছে দেয়া। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন ইয়াসিন। আর শামসুল কবীর হলেন ব্যাংক হিসাবধারী।

তারা সবাই মাসিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতনে বিভিন্ন স্তরে কাজ করেন। তারা জানান, অন্য কোনো পেশা নেই তাদের।

ডিবির ভাষ্য, চক্রটিতে জড়িতরা একে অপরকে চেনেন না। ফোনে ফোনে বা হোয়াটসঅ্যাপে তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়। অনেকটা কাটআউট পদ্ধতি ব্যবহারে অপকর্ম করছে তারা।

চক্রের হোতা মূলত যোগাযোগ দক্ষতাকে ব্যবহার করছে। এতে করে কাটআউট পদ্ধতিতে ভুক্তভোগীরা যেমন প্রতারণার শিকার হচ্ছে, তেমনি চক্রের অন্য সদস্যদের অপকর্মে জড়ানো সহজ হচ্ছে।

বস অধরা

চক্রটির কথিত বসকে শনাক্ত করা গেছে কি না জানতে চাইলে হাফিজ আক্তার বলেন, ‘আমরা এখনও বসকে শনাক্ত করতে পারিনি, তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে চাইছি যাতে নতুন করে আর কেউ প্রতারিত না হোন।’

তিনি বলেন, ‘কারও প্রলোভনে পড়ে প্রতারিত হওয়ার আগে খোঁজ নিন। চাকরি কখনো এভাবে মেলে না, সেটা আগে বুঝুন। আর কুরিয়ার পার্সেল, উপহার প্রতারণার বিষয়ে ডিবি পুলিশ অনেক অভিযান পরিচালনা করেছে।’

শেয়ার করুন

সৌদিগামী যাত্রীর ব্যাগে ১৮ হাজার ইয়াবা

সৌদিগামী যাত্রীর ব্যাগে ১৮ হাজার ইয়াবা

সৌদিগামী যাত্রীর ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবা।

নির্বাহী পরিচালক তৌহিদ-উল আহসান বলেন, ‘শনিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বিমানবন্দরে রো ডিতে দায়িত্বে থাকা স্ক্যানার নুরুজ্জামান (আনসার) ও ইউনুস আলী (এএসজি) একজন যাত্রীর ব্যাগ স্ক্যানিং মেশিনে তল্লাশি করতে গিয়ে ইয়াবার সন্ধান পান। ওই যাত্রী বিজি ৪০৪৯ ফ্লাইটে দাম্মাম যাচ্ছিলেন।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৮ হাজার ইয়াবাসহ সৌদি আরবগামী এক যাত্রীকে আটক করেছে বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স (এভসেক)।

আটক যাত্রীর নাম স্বপন মাতব্বর।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদ-উল আহসান।

তিনি বলেন, ‘শনিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বিমানবন্দরে রো ডিতে দায়িত্বে থাকা স্ক্যানার নুরুজ্জামান (আনসার) ও ইউনুস আলী (এএসজি) একজন যাত্রীর ব্যাগ স্ক্যানিং মেশিনে তল্লাশি করতে গিয়ে ইয়াবার সন্ধান পান। ওই যাত্রী বিজি ৪০৪৯ ফ্লাইটে দাম্মাম যাচ্ছিলেন।’

আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি

ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি

ইভ্যালির লোগো। ফাইল ছবি

ডিবির প্রধান হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না, তারা মূলত প্রতারণা করছে।’

ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের মতো যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ডিবির প্রধান বলেন, ‘ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না, তারা মূলত প্রতারণা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের প্রতারকদের বেশি বেশি ধরা হলে ধীরে ধীরে প্রতারণা কমে আসবে।’

অর্থ আত্মসাতের মামলায় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে শুক্রবার তিন দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।

ওই দিন দুপুরে র‌্যাব সদরদপ্তরে তাদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়। পরে তাদের গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রাহকের করা মামলার পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

শেয়ার করুন

হেফাজত নেতা মুফতি রিজওয়ান গ্রেপ্তার

হেফাজত নেতা মুফতি রিজওয়ান গ্রেপ্তার

হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি রেজওয়ান রফিকী। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে ডিবির মতিঝিল বিভাগের একটি দল রিজওয়ানকে গ্রেপ্তার করে। তার নামে নাশকতার মামলা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি রিজওয়ান রফিকীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে ডিবির মতিঝিল বিভাগের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিবির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম বলেন, হেফাজতের সাম্প্রতিক নাশকতার মামলার আসামি রিজওয়ান রফিকী। তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, মতিঝিল, পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় কয়েকটি মামলা হয়েছে। সেসব মামলায় সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন।

তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন হেফাজত নেতা রিজওয়ান রফিকী। সে কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউবে পরিচিত বক্তা রিজওয়ান রফিকী। শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে হেফাজতের সাবেক আমির শাহ আহমদ শফীসহ কয়েকজনের স্মরণে যে আলোচনা সভা হওয়ার কথা, তার আয়োজকদের একজন ছিলেন তিনি।

শেয়ার করুন