‘মডেলদের’ দিয়ে অনৈতিক পার্টি করতেন মিশু

প্রবাসীদের জন্য দুবাই-আমেরিকায় প্লেজার ট্রিপ

‘মডেলদের’ দিয়ে অনৈতিক পার্টি করতেন মিশু

মঙ্গলবার রাতে আটক হন মিশু ও জিসান। ফাইল ছবি

প্রতিটি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশগ্রহণ করে। এছাড়া বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করা হয়। একইভাবে বড়লোক প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করা হয়। তারা ক্লাইন্টদের গোপন ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।

রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীতে পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে নিয়মিত বসানো হতো মাদকের আসর। এসব পার্টিতে অংশ নিতেন পিয়াসা-মৌদের মতো অর্ধশত ‘মডেল’। এরা পার্টিতে অংশ নেয়া অভিজাত শ্রেণির লোকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও তুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব মডেলের নাম-পরিচয় জেনেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

এই ‘মডেল’ ও টিভি কর্মীদেরকে টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করতো শরফুল হাসান বা মিশু হাসান। দেশের বাইরে দুবাই বা ইউরোপ-আমেরিকার প্রবাসীদের জন্য এরা বিদেশে গিয়ে পার্টির ব্যবস্থা করত।

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ মিশু ও তার এক সহযোগী জিসানকে আটকের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

বুধবার বিকেল পৌনে ৬টায় সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা যায়। র‌্যাব এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর অভিযানে মঙ্গলবার রাতে বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মিশু ও জিসানকে আটক করা হয়।

এ সময় জব্দ করা হয় ১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬ রাউন্ড গোলাবারুদ, ইয়াবা ১৩ হাজার ৩০০ পিস, একটি বিলাসবহুল ফেরারি মডেলের গাড়ি, শিশার সরঞ্জামাদি, ২টি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও এটিএম কার্ড, পাসপোর্ট এবং ভারতীয় জালমুদ্রা ৪৯ হাজার ৫০০ রুপি।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, আটকরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রের সদস্য প্রায় ১০-১২ জন। তারা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করে থাকে। পার্টিতে তারা অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে। অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য।

প্রতিটি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশগ্রহণ করে। এছাড়া বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করা হয়। একইভাবে বিত্তবান প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করা হয়। তারা ক্লায়েন্টদের গোপন ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।

পার্টি আয়োজনের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের চাহিদা/পছন্দে গুরুত্ব দেয়া হতো। এই অবৈধ আয় থেকে অর্থ নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসায় (গাড়ির ব্যবসা, আমদানি ও গরুর ফার্ম) বিনিয়োগ করেছে মিশু ও জিসান। এই ব্যবসায় তাদের গ্রুপের সদস্যদের অবৈধ আয়েরও বিনিয়োগ রয়েছে।

র‍্যাব জানায়, আটক মিশু বাংলাদেশে নামিদামি ব্রান্ডের বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবসা করেন। তিনি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। তিনি নিজেও দামি ব্রান্ডের গাড়ি ব্যবহার করত। তার ব্যক্তিগত ২টি রেঞ্চ রোভার, অ্যাকুয়া, ভক্স ওয়াগন ও ফেরারিসহ ৫টি গাড়ি রয়েছে। সে অত্যন্ত সুকৌশলে গাড়ির ট্যাক্স জালিয়াতি করেছে বলে প্রমাণ মিলেছে।

খন্দকার আল মঈন বলেন, আটক জিসানের এলাকায় একটি গরুর ফার্ম রয়েছে। মিশু ইতিপূর্বে বিভিন্ন মামলায় তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছিল। তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীদের যোগাযোগ রয়েছে।

‘উচ্চবিত্ত শ্রেণির লোকদের টার্গেট করে আসর বসানো হতো। এই চক্রের ক্লাইয়েন্টের তালিকায় পিয়াসা-মৌসহ দেশি-বিদেশি ৫০ ক্লায়েন্টের নাম পেয়েছি। যাদেরকে বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করে পাঠানো হতো। একইভাবে উচ্চবিত্তের প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করে পিয়াসা-মৌদের মতো কথিত মডেলদের পাঠানো হতো।’

আটকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে, মাদক আইনে, ভারতীয় জালমুদ্রার রাখা ও অননুমোদিত গাড়ি আমদানি ও ব্যবহারে বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ আলাদা আলাদা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গাড়িতে বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা দেন ডিআইজি মিজান

গাড়িতে বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা দেন ডিআইজি মিজান

বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। ছবি: সংগৃহীত

সাক্ষ্যতে কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন জানান, ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি মিজান স্যার ওই লোককে (দুদক কর্মকর্তা বাছির) বলেন, ব্যাগে ২৫ লাখ ঠিক আছে। পরে ওই লোকটাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের গলিতে নামিয়ে দেয়া হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি মিজান স্যারের বাসা থেকে একটি শপিং ব্যাগ ও একটি হ্যান্ডব্যাগ গাড়িতে তুলে দিই আমি। ব্যাগে টাকা ছিল। মিজান স্যার জানান, ব্যাগে ১৫ লাখ টাকা আছে। তারা সেদিনও রমনা পার্কের সামনে আসেন। গাড়িতে বসে এনামুল বাছিরের সঙ্গে কথা বলেন মিজান স্যার।

৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের মামলায় বরখাস্ত পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে আরও দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২৬ সেপ্টেম্বর রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীরা হলেন ডিআইজি মিজানের অর্ডারলি কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন এবং ডিআইজি মিজানের স্ত্রীর মালিকানাধীন দোকান কর্মচারী রফিকুল ইসলাম। তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ১২ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ঠিক করেন।

জবানবন্দিতে কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি ডিআইজি মিজানের উত্তরার বাসা থেকে আমি দুটি ব্যাগ সন্ধ্যার আগমুহূর্তে গাড়িতে তুলে দিই। ব্যাগে ২৫ লাখ টাকা ও কিছু বই ছিল। পরে আমাকে রাজারবাগ নামিয়ে দেয়ার জন্য গাড়িতে তোলেন ডিআইজি মিজান। কিন্তু ডিআইজি মিজান আমাকে রমনা পার্কের সামনে নিয়ে আসেন এবং বলেন, তার সঙ্গে কথা বলার জন্য একজন লোক আসবে। তার সঙ্গে কথা শেষে আমাকে যাওয়ার অনুমতি দেন ডিআইজি মিজান।

‘কিছুক্ষণ পরে লোকটি পার্কে আসেন। তারা দুজন পার্কে গিয়ে কথা বলেন। এরপর তারা গাড়িতে ওঠেন। ডিআইজি মিজান চালককে ওই ব্যক্তিকে রাজারবাগ মোড়ের সামনে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের গলিতে নামিয়ে দিতে বলেন। যাতায়াতের মধ্যবর্তী সময়ে তারা অনেক কথা বলেন। মিজান স্যার ওই লোককে বলেন, ব্যাগে ২৫ লাখ ঠিক আছে। তখন ওই লোক প্রশ্ন করেন যে সব ঠিক আছে ভাই?

‘মিজান স্যার বলেন, সব ঠিক আছে। পরে ওই লোকটাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের গলিতে নামিয়ে দেয়া হয়। লোকটি যাওয়ার পর আমি মিজান স্যারকে জিজ্ঞাসা করি, সে কে? তখন স্যার আমাকে বলেন, লোকটি দুদক কর্মকর্তা এনামুল বাছির। পরে আমি রাজারবাগ ব্যারাকে চলে যাই।’

সাক্ষ্যতে সাদ্দাম হোসেন আরও বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি মিজান স্যারের বাসা থেকে একটি শপিং ব্যাগ ও একটি হ্যান্ডব্যাগ গাড়িতে তুলে দিই আমি। ব্যাগে টাকা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে মিজান স্যার জানান, ব্যাগে ১৫ লাখ টাকা আছে। তারা সেদিনও রমনা পার্কের সামনে আসেন। গাড়িতে বসে এনামুল বাছিরের সঙ্গে কথা বলেন মিজান স্যার। তাকে রমনা পার্কের সামনে আসতে বলেন। এনামুল বাছির পার্কের সামনে এলে তারা দুজন ভেতরে যান। কথা শেষে তারা আবার গাড়িতে ওঠেন। এনামুল বাছিরকে শান্তিনগর মোড়ে নামিয়ে দিতে বলেন মিজান স্যার।’

সেদিনও গাড়িতে কথা বলেন তারা। এনামুল বাছির ডিআইজি মিজানকে বলেন, ‘আপনার মামলায় কিছু নেই। আপনার কিছু হবে না।’ পরে তাকে শান্তিনগর মোড়ে নামিয়ে দেন ডিআইজি মিজান। এনামুল বাছির টাকাসহ ব্যাগটি নিয়ে চলে যান।

সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘৩০ মে গুলশান পুলিশ প্লাজায় ডিআইজি মিজান যান। এনামুল বাছির সেখানে আসেন। তারা সেখানে কথা বলেন। এনামুল বাছির ডিআইজি মিজানকে বলেন, আপনার মামলায় কোনো কাগজপত্র নেই। আপনার কিছু হবে না।’

অপর সাক্ষী দোকান কর্মচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে গুলশান পুলিশ প্লাজায় আসেন এনামুল বাছির। তখন ডিআইজি মিজান বলেন, ‘টাকা দিলাম, তারপরও আমার নামে কেস হলো।’ এই কথোপকথনের পর তারা বের হয়ে যান।

এ নিয়ে মামলাটিতে ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

এদিন কারাগারে থাকা মিজানুর রহমান ও এনামুল বাছিরকে আদালতে হাজির করা হয়।

সাক্ষীদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।

তিনি নিউজবাংলাকে দুজনের সাক্ষ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন। গত ১৯ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন শেখ মো. ফানাফিল্লাহ।

৯ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। এরপর আদালত চার্জ গঠনের তারিখ ঠিক করে মামলা ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এ বদলির আদেশ দেন। গত ১৮ মার্চ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

শেয়ার করুন

সাবরিনার বিরুদ্ধে সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ ওসিকে শোকজ

সাবরিনার বিরুদ্ধে সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ ওসিকে শোকজ

করোনাভাইরাসের ভুয়া নমুনা পরীক্ষা এবং রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার চিকিৎসক সাবরিনা চৌধুরী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য ছিল রোববার। তিন জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুই সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। তাই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শোকজ করেছে আদালত।

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় চিকিৎসক সাবরিনা চৌধুরীসহ ৯ জনের মামলায় সাক্ষী হাজির করতে না পারায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শোকজ করেছে আদালত।

ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী রোববার এ আদেশ দেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান।

তিনি বলেন, ‘রোববার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য ছিল। তিন জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়। এর মধ্যে মশিউর রহমান নামে এক সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। অপর দুই সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। দুই সাক্ষী হাজির করতে না পারায় আদালত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির কাছে, কেন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়নি সে (শো-কজ) ব্যাখ্যা চেয়েছ আদালত।’

সেই সঙ্গে আগামী ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছে আদালত। ওই দিন সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। মাঝে করোনার কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি৷

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয় জেকেজি হেলথকেয়ার। এর বেশির ভাগই ভুয়া বলে ধরা পড়ে।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাবরিনা চৌধুরী, তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরী এই প্রতিষ্ঠানের সিইও।

ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গত বছর ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে জেকেজি সিলগালা করে দেয় পুলিশ। পরে সাবরিনা, আরিফুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় জালিয়াতির মামলা করা হয়।

অপর আসামিরা হলেন সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী, জেকেজির নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইন্সেসের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা, বিপ্লব দাস ও মামুনুর রশীদ। তারা সবাই কারাগারে রয়েছেন।

গত বছর ৫ আগস্ট এ মামলায় ঢাকা সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ডিবি পুলিশ। ২০ আগস্ট সাবরিনাসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বিচার শুরু হয় আদালতে।

জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্ণধার আরিফুল চৌধুরীর স্ত্রী সাবরিনা চৌধুরী জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক। মামলার পর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অভিযোগ, জেকেজির কর্ণধার স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করেছেন। প্রতিটি টেস্টের জন্য জনপ্রতি নিয়েছেন সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি তারা নিতেন ১০০ ডলার।

শেয়ার করুন

রেইনট্রি ধর্ষণ মামলায় পেছাল যুক্তিতর্ক

রেইনট্রি ধর্ষণ মামলায় পেছাল যুক্তিতর্ক

বনানীর রেইনট্রি হোটেল। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ প্রতিবেদনে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। অপর আসামি সাদমান সাকিফ, রহমত আলী ও বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওই আইনের ৩০ ধারায় সহযোগিতার অভিযোগ করা হয়।

রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ ৫ আসামির যুক্তিতর্কের তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার অসুস্থ থাকায় রোববারের নির্ধারিত যুক্তিতর্ক হয়নি। এদিন যুক্তিতর্কের তারিখ পরিবর্তন করে ৩ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে বলে জানান আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইশতিয়ার আলম জনি।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে অস্ত্রের মুখে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।

পুলিশ প্রতিবেদনে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। অপর আসামি সাদমান সাকিফ, রহমত আলী ও বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওই আইনের ৩০ ধারায় সহযোগিতার অভিযোগ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৭ জুন অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত সে বছর ১৩ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এরপর গত ২২ আগস্ট মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। অভিযোগপত্রে ৪৭ সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

গত ২৯ আগস্ট আত্মপক্ষ শুনানিতে সাফাতসহ ৫ আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। আসামিরা সকলেই জামিনে রয়েছেন।

শেয়ার করুন

বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে জখম

বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে জখম

প্রতীকী ছবি

আহত টিপুর ভাই আকাশ জানান, তার ভাই মাছের আড়তে কাজের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। সকালে স্থানীয় জুবায়ের, বাদু, শামসুদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, দানেশ, শুকুরসহ ৮ থেকে ১০ জন আলাপের কথা বলে টিপুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। তারা তাকে মাদক কারবারের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তারা দোলাইরপার কবরস্থান রোড এলাকায় টিপুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।

রাজধানীর কদমতলীতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

দোলাইরপাড় কবরস্থান রোড এলাকায় রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। অবস্থা সংকটপূর্ণ হওয়ায় আহতকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তার আত্মীয়রা।

আহত যুবকের নাম মোহাম্মদ টিপু। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। দোলাইরপাড় বাজার এলাকায় স্ত্রী শীমলা বেগম ও দুই মাসের ছেলেসন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকেন তিনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২৬ বছর বয়সী আহত টিপুর ভাই আকাশ জানান, টিপু মাছের আড়তে কাজের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। সকালে স্থানীয় জুবায়ের, বাদু, শামসুদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, দানেশ, শুকুরসহ ৮ থেকে ১০ জন আলাপের কথা বলে টিপুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। তারা টিপুকে মাদক কারবারের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তারা দোলাইরপার বাজারের লালমিয়ার গলি কবরস্থান রোড এলাকায় টিপুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।

পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

আকাশ আরও বলেন, ‘টিপুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক আমাদের ৪ ব্যাগ রক্ত জোগাড় করে রাখতে বলেছেন।’

পুলিশ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। আহত যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।

শেয়ার করুন

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ

বিমানবন্দর থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস ঢাকার প্রভেনটিভ টিম বিমানবন্দরে নজরদারি করতে থাকে। রাত ১১টার দিকে দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করলে আনোয়ার হোসেনকে শনাক্ত করা হয়। তল্লাশি করে তার কাছ থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ করা হয়।

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ ও একজনকে আটক করেছে শুল্ক কর্মকর্তারা।

অভিযান চালিয়ে শনিবার রাত ১১টার দিকে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম মো. আনোয়ার হোসেন। তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জে।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানের খবর পেয়ে কাস্টম হাউস ঢাকার প্রতিরোধ টিম বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় ও নজরদারি করতে থাকে। রাত ১১টার দিকে দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-৫৮৪ ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে।

এ সময় আনোয়ার হোসেনকে শনাক্ত করে তল্লাশি করলে তার হাতব্যাগ ও পায়ুপথ থেকে এক হাজার ১০ গ্রাম পেস্টসদৃশ গোল্ড, ৪৬৪ গ্রাম ওজনের ৪টি সোনার বার এবং ১১০ গ্রাম সোনার গয়না জব্দ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জব্দকৃত সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। তার বিরুদ্ধে শুল্ক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

উত্তরায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু

উত্তরায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু

ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত ব্যক্তির মরদেহ রাখা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। ছবি: বুলবুল চৌধুরী/নিউজবাংলা

ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক আলী আকবর জানান, উত্তরার আজমপুরে চট্টগ্রাম থেকে কমলাপুরগামী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওই ব্যক্তির নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। তার বয়স ৬৫ বছর বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী আকবর জানান, আজমপুরে চট্টগ্রাম থেকে কমলাপুরগামী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ওই ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

শেয়ার করুন

মুনিয়া হত্যা: এক আসামির আগাম জামিন

মুনিয়া হত্যা: এক আসামির আগাম জামিন

জামিন শর্তে আদালত বলেছে, আসামি রিপনকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে, বিদেশ যেতে পারবেন না। সেই সঙ্গে তদন্তকাজে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।

রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার বোনের করা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের মামলা থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন এক আসামি।

বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর, তার বাবা, মা, স্ত্রীসহ এই মামলার আসামি আটজন। এর মধ্যে ইব্রাহিম আহমেদ রিপনকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

জামিন শর্তে আদালত বলেছে, রিপনকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে, বিদেশ যেতে পারবেন না। সেই সঙ্গে তদন্তকাজে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।

আদালতে ইব্রাহিম আহমেদ রিপনের পক্ষে শুনানি করেন নাহিদ সুলতানা যুথি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

পরে জামিনের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর।

কলেজ ছাত্রী মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এ গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলাটি করেন তার বড় বোন নুশরাত জাহান তানিয়া।

মামলাটিতে আট আসামি হলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, আনভীরের মা আফরোজা সোবহান, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনাসহ শারমিন, সাইফা রহমান মিম, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও ইব্রাহিম আহমেদ রিপন।

মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর আগে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের দিনই আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে বসুন্ধরার এমডি আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তার বোন নুশরাত। গত ১৮ আগস্ট ওই মামলা থেকে অব্যাহতি পান আনভীর।

শেয়ার করুন