‘মামলা আমাদের করার কথা, আমরাও টাকা দিয়েছি’

‘মামলা আমাদের করার কথা, আমরাও টাকা দিয়েছি’

সম্প্রতি হেলেনা জাহাঙ্গীরকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

‘টাকাপয়সা যা লেনদেন করার হেলেনা জাহাঙ্গীর করেছে। আমরা কেনো এসবের দায় নিতে যাব। আমরা যখন দেখেছি জয়যাত্রা টিভির কোনো বৈধ কাগজপত্র নাই, তখন আমরা অব্যাহতি নিয়ে চলে এসেছি। মামলা তো আমাদের করার কথা, আমরাও হেলেনাকে টাকা দিয়েছি।’

‘আমরাও ভিকটিম, আমরাও চাকরি করতাম জয়যাত্রা টিভিতে, টাকা পয়সা যা নেয়ার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিয়েছেন। তার জন্য তিনি তিন দিনের রিমান্ড ফেরত এসে আবারও রিমান্ডে গেছেন। আমরা তো শুধু ম্যানেজার আর রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম, তাও অনেক আগে চাকরি ছেড়ে অব্যহতি নিয়ে চলে এসেছি।’

‘টাকাপয়সা যা লেনদেন করার হেলেনা জাহাঙ্গীর করেছে। আমরা কেনো এসবের দায় নিতে যাব। আমরা যখন দেখেছি জয়যাত্রা টিভির কোনো বৈধ কাগজপত্র নাই, তখন আমরা অব্যাহতি নিয়ে চলে এসেছি। মামলা তো আমাদের করার কথা, আমরাও হেলেনাকে টাকা দিয়েছি।’

এভাবেই শুনানি করেন জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম এবং জয়যাত্রা টিভির জিএম (অ্যাডমিন) হাজেরা খাতুন অনির আইনজীবী মো. ফিরোজুর রহমান মন্টু এবং জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি সমন্বয়ক সানাউল্লাহ নুরীর পক্ষের আইনজীবী আমানুল করিম লিটন।

শুনানির একপর্যায়ে তারা আদালতকে বলেন, ‘যদি কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার থাকে তাহলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিন। দয়া করে রিমান্ড দিবেন না। এই মামলার আসল আসামি হেলেনা জাহাঙ্গীর তিন দিনের রিমান্ড ফেরত এসে গতকাল আবারও রিমান্ডে গেছেন।’

শুনানিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা নিজেরা যেখানে ভিকটিম, আমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কী থাকতে পারে?’

বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে হাজেরা খাতুন অনি ও সানাউল্লাহ নূরীকে হাজির করা হয়।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আল হেলাল দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ এ দুই আসামি ও অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে সরকারের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও জয়যাত্রা টিভি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল দাবি করে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি নিয়োগ করে মোটা অংকের টাকা জামানত হিসেবে গ্রহণ করে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। তারা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছিল।

সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তার, আসামিদের কাছ থেকে জয়যাত্রা টিভির সকল নিয়োগপত্র, প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আত্মসাৎ ও আদায় করা চাঁদার টাকা উদ্ধারের জন্য তাদের রিমান্ড নেয়র জরুরি বলে মন্তব্য করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

হাজেরা খাতুনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফিরোজুর রহমান মন্টু এবং সানাউল্লাহ নূরীর পক্ষে অ্যাডভোকেট আমানুল করিম লিটন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করে।

রাষ্ট্রপক্ষে তাপস কুমার পাল এর বিরোধিতা করেন।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এ মামলায় মঙ্গলবার হেলেনা জাহাঙ্গীরকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায়ও তার তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া গুলশান থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড আবার তিন দিন এবং মাদক মামলায়ও তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর অভিযানে ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনা করে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ১ টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ১টি হরিণের চামড়া, ২টি মোবাইলফোন, ১৯টি চেক বই ও বিদেশি মুদ্রা, ২টি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার সরঞ্জামাদি- ৪৫৬টি চিপস জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে তার জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে রাতেই র‌্যাব-৪ বিটিআরসির সহযোগিতায় মিরপুরে অবস্থিত হেলেনা জাহাঙ্গীরের অনুমোদনহীন জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশন সিলগালা করে এবং অবৈধ মালামাল জব্দ করে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের পোস্টার ভাইরাল হলে আলোচনায় উঠে আসেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। পোস্টারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীর আর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মনিরের নাম উল্লেখ করা হয়। এরপরই আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদ হারান হেলেনা জাহাঙ্গীর।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা

ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও সিইও মো. রাসেল। ফাইল ছবি

ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার কামরুল ইসলাম নামে একজন মার্চেন্ট মামলা করেছেন। তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।’

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার কামরুল ইসলাম নামে একজন মার্চেন্ট মামলা করেছেন। তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।’

ইকরাম আলী আরও বলেন, ‘আমরা শোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছি। রিমান্ডের আবেদনও করা হয়েছে। গুলশানে রিমান্ড শেষে আমাদেরকে দিবে।’

ধানমন্ডি থানার মামলায় রাসেল, শামীমাসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত আসামি আছে আরও কয়েকজন।

মামলার নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন সিইও রাসেল, চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, ভাইস চেয়ারম্যান আকাশ, ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম হেময়, সিনিয়র কী অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার তানভীর আলম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কমার্শিয়াল জাওয়াদুল হক চৌধুরী, হেড অব অ্যাকাউন্ট সেলিম রেজা, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার জুবায়ের আল মাহমুদ, অ্যাকাউন্ট শাখার সোহেল, আকিবুর রহমান তূর্য, পিএস টু সিইও রেজওয়ান, বাইক বিভাগের সাকিব রহমান।

অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫ থেকে ২০ জনকে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক। ওই দিন বিকেলেই রাসেলের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

অভিযানে রাসেল ও শামীমাকে আটক করা হয়। পরের দিন গুলশান থানা পুলিশে দুজনকে হস্তান্তর করা হয়। ওই থানা পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানকে তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।

শেয়ার করুন

ফখরুলসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

ফখরুলসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

আদালত প্রাঙ্গণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

এই মামলার একজন আসামি মারা যাওয়ায় মামলাটির অভিযোগ গঠন করা সম্ভব হয়নি বলে নিউজবাংলাকে জানান আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

বিস্ফোরক ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন থানায় ২০১৮ সালে করা মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৫১ আসামির অভিযোগ গঠনের তারিখ ফের পিছিয়েছে আদালত। অভিযোগ গঠনের জন্য ২১ নভেম্বর তারিখ রাখা হয়েছে।

অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৫ এর ফাতেমা ফেরদৌসের আদালত রোববার সকাল ১১টায় এ আদেশ দেন।

তানভীর আহমেদ খান নামে এই মামলার একজন আসামি মারা যাওয়ায় মামলাটির অভিযোগ গঠন করা সম্ভব হয়নি বলে নিউজবাংলাকে জানান ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও এই মামলাটিতে আসামি পক্ষের অন্যতম আইনজীবী মো. ইকবাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো আসামির মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদিসহ একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হয়। এজন্য আসামি পক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আমরা বিধি মোতাবেক আবেদন করেছি, কিন্তু আসামির মৃত্যু সংক্রান্ত প্রতিবেদন এখনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদালতে জমা দেন নাই। তাই আদালত অভিযোগ গঠনের তারিখ পিছিয়ে দিয়ে আগামী ২১ নভেম্বর ধার্য করেছে।’

একই তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর এ এফ এম রিয়াজির রহমান রুমেলও।

আসামি পক্ষে হাজিরা গ্রহণের পর আদালতে শুনানি করেন মো. জিয়া উদ্দিন জিয়া ও ইকবাল হোসেন। এসময় প্রায় অর্ধ শতাধিক আইনজীবী তার সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

পরে আইনজীবী মো. জিয়া উদ্দিন জিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, আজ আদালতে ৫১ জন আসামির মধ্যে ৩৫ জন তাদের হাজিরা দিয়েছেন। তবে আরও কয়েকজন হাজিরা দিতে আসতে পারে। এ ছাড়া, কিছু আসামি পলাতক আছেন।

শেয়ার করুন

আদালতে বিএনপি মহাসচিব

আদালতে বিএনপি মহাসচিব

ছবি: সংগৃহীত

বিস্ফোরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় হাজিরা দিতে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৫ ফাতেমা ফেরদৌসের আদালতে রোববার সকাল সোয়া ১০টার সময় উপস্থিত হন মির্জা ফখরুল ও অন্যান্য আসামিরা। তাদের হয়ে লড়ার জন্য আদালতে উপস্থিত হয়েছেন অর্ধ শতাধিক আইনজীবী।

বিস্ফোরক ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন থানায় ২০১৮ সালে করা মামলায় মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দিতে এসেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আসামিরা।

অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৫ ফাতেমা ফেরদৌসের আদালতে রোববার সকাল সোয়া ১০টার সময় উপস্থিত হন তারা। তাদের পক্ষে লড়ার জন্য প্রায় অর্ধ শতাধিক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত রয়েছেন।

বেলা ১১টার সময় মামলাটির অভিযোগ গঠন হবে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর এ এফ এম রিয়াজির রহমান রুমেল।

আসামি পক্ষে হাজিরা গ্রহণ করেছেন আইনজীবী মো. জিয়া উদ্দিন জিয়া। নিউজবাংলাকে তিনি জানান, আজ আদালতে ৫১ জন আসামির মধ্যে ৩৫ জন তাদের হাজিরা দিয়েছেন। তবে আরও কয়েকজন হাজিরা দিতে আসতে পারেন। এছাড়াও কিছু আসামি পলাতক আছেন।

শেয়ার করুন

ছাদ থেকে পড়ে মেট্রোরেলের কর্মী নিহত

ছাদ থেকে পড়ে মেট্রোরেলের কর্মী নিহত

ঢাকা মেডিক্যালে শান্তর মৃতদেহ

মেট্রোরেলের শেওড়াপাড়া আট নম্বর স্টেশনে কাজ করতেন ২৩ বছর বয়সী শান্ত। আগারগাঁও তালতলার একটি বাসায় কয়েকজন মিলে থাকতেন।

রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা এলাকার একটি ভবনের ছয় তলার ছাদ থেকে অসাবধানতায় পড়ে গিয়ে আরিফুল ইসলাম শান্ত নামে এক মেট্রোরেল কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ৯টায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের চাচা আব্দুল হান্নান জানান, মেট্রোরেলের শেওড়াপাড়া আট নম্বর স্টেশনে কাজ করতেন ২৩ বছর বয়সী শান্ত। আগারগাঁও তালতলার একটি বাসায় কয়েকজন মিলে থাকেন। ওই বাসার ছয় তলার ছাদে মোবাইলে কথা বলতে বলতে অসাবধানবশত নিচে পড়ে যান শান্ত।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শান্তর মৃত্যু হয়। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের আবু সালেকের সন্তান তিনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকেও জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রতারক চাকরিদাতারা রিমান্ডে

প্রতারক চাকরিদাতারা রিমান্ডে

গ্রেপ্তার হওয়া তিন প্রতারক

ড্রিম জবস ইন কানাডা নামে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতারণা করে আসছে। চক্রের একটি অংশ প্রথমে ভিকটিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জার, ভয়েস-ওভার-আইপি সার্ভিস ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার তিন প্রতারককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে একদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

শনিবার প্রতারণায় অভিযুক্ত মো. কবির হোসেন, শামসুল কবীর ও ইয়াছিন আলীকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। পরে কদমতলী থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম আসামিদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শুক্রবার রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের একটি দল। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ২৫৭টি চেকবই, ২৩৪টি ডেবিট কার্ড, ৮টি মোবাইল ফোন ও ১১টি মোবাইলের সিম জব্দ করা হয়।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার ডিবির প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।

হাফিজ জানান, ড্রিম জবস ইন কানাডা নামে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতারণা করে আসছে। চক্রের একটি অংশ প্রথমে ভিকটিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। আবার ফেসবুকে বিদেশে চাকরির অফার দিয়ে আগ্রহীদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ই-মেইলে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ফির বাহানায় ব্যাংকে টাকা জমা দিতে বলে প্রতারকরা। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রদান করে। এভাবে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় তাদের।

শেয়ার করুন

প্রাকৃতিক হাসপাতাল ধ্বংস করে বাণিজ্যিক নয়

প্রাকৃতিক হাসপাতাল ধ্বংস করে বাণিজ্যিক নয়

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে আনু মুহাম্মদ।

খাদক ও ঘাতক চক্রের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে সিআরবি রক্ষার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে বলেও মনে করেন আনু মুহাম্মদ।

দেশে হাসপাতাল দরকার। কিন্তু সেটা প্রাকৃতিক হাসপাতালকে ধ্বংস করে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নয় বলে মনে করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘মানুষের প্রাকৃতিক জায়গাকে নষ্ট করে ব্যবসা করে মুনাফার জন্য কিছু লোককে হাসপাতালের নামে দখলের বৈধতা দেয়া হচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে আমাদের কঠিন প্রতিরোধ অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।’

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে চট্টগ্রামের ফুসফুস-খ্যাত সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে আয়োজিত এক ‘প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে’ এসব কথা বলেন তিনি।

সাংস্কৃতিক সংগঠন সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ, বটতলা, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, লীলা ব্যান্ড, মাদল এবং শিল্পী কফিল আহমেদ যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, শুধু সিআরবি নয়, বরং সারা দেশই এ ধরনের লুণ্ঠন, আগ্রাসন, দখল, উন্নয়নের নামে বিকৃত উন্মাদনার শিকারে পরিণত হয়েছে। বলা হয়, হাসপাতাল মানুষের অসুস্থতার জন্য। কিন্তু ঢাকা শহরের বুড়িগঙ্গা নদী যদি নর্দমায় পরিণত না হতো, ঢাকা শহরে যদি গাছপালা ও উন্মুক্ত জায়গা থাকত তাহলে মানুষের এত অসুস্থতা তৈরি হতো না।

লুটতরাজদের স্বার্থই সরকারের স্বার্থ দাবি করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা এমন একটি দেশ পেয়েছি, যেখানে জীবন-জীবিকা সবকিছুর জন্য আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। সরকার বধির, কালা, অন্ধ। তার সামনে শুধু মুনাফা, লুটেরা, লুটতরাজ কোটিপতিরাই রয়েছে।’

খাদক ও ঘাতক চক্রের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে সিআরবি রক্ষার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে বলেও মনে করেন আনু মোহাম্মদ।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন লেখক ও গবেষক রেহনুমা আহমেদ, শিল্পী কফিল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল প্রমুখ।

উন্মুক্ত এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে গান ও নাটক পরিবেশন করে লীলা ব্যান্ড, সহজিয়া, মাদল, বক্ররেখা, ভাটিয়াল শহুরে, সমগীত, বটতলা, প্রাচ্যনাট, থিয়েটার বায়ান্ন, বনফুল এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

এ ছাড়া এককভাবে গান, নাচ, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, পারফর্মিং আর্টসহ নানান সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন শিল্পী সুমন হালদার, আশরাফুল হাসান, জিয়া শিকদার, নাসির আহমেদ, হাবিবুল্লাহ পাপ্পু, অমল আকাশ, ইয়াসমিন জাহান নূপুর, ফারহা নাজ মুন, ইশরাত শিউলি এবং অনন্যা লাবণী।

শেয়ার করুন

জন্মনিরোধক পিলও নকল

জন্মনিরোধক পিলও নকল

প্রতীকী ছবি

নকল জন্মনিরোধক পিলের মধ্যে আছে আইপিল। অরক্ষিত শারীরিক সম্পর্কের পর এটি জরুরি ভিত্তিতে হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের পিলের দাম স্বাভাবিক জন্মনিরোধক পিলের তুলনায় বেশি।

ভেজাল ওষুধ হিসেবে এবার জব্দ হলো জন্মনিরোধক পিল।

শনিবার রাজধানীর বাবুবাজারে সুরেশ্বরী মেডিসিন প্লাজায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ জব্দ করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে জন্মনিরোধক পিলও রয়েছে।

নকল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তারা হলেন- মেডিসিন ওয়ার্ল্ডের ফয়সাল আহমেদ, লোকনাথ ড্রাগের সুমন চন্দ্র মল্লিক ও রাফসান ফার্মেসির লিটন গাজী।

গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ নিউজাবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, নকল জন্মনিরোধক পিলের মধ্যে আছে আইপিল। অরক্ষিত শারীরিক সম্পর্কের পর এটি জরুরি ভিত্তিতে হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের পিলের দাম স্বাভাবিক জন্মবিরোধ পিলের তুলনায় বেশি।।

ডিবির অতিরিক্ত উপ কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, ‘জড়িতরা অধিক লাভের আশায় দীর্ঘদিন ধরে এসব দেশি ও বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের ওষধ ও ক্রিম উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। পলাতক কয়েকজন আসামির কাছ থেকে এগুলো সংগ্রহ করে মিটফোর্ড এলাকায় বাজারজাত করত।’

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

শেয়ার করুন