সিগারেটে কখনও একটা টান দেইনি: একা

সিগারেটে কখনও একটা টান দেইনি: একা

অভিনেত্রী একা

গৃহকর্মীকে নির্যাতন এবং বাসায় নেশাজাতীয় দ্রব্য রাখার অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক অভিনেত্রী একা বলেন, ‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার কাছে প্রমাণ আছে। আমাকে ফাঁসানোর জন্য গৃহকর্মী আমার ঘরে মাদক রেখে দিয়েছে। আমি কখনও সিগারেটে পর্যন্ত একটা টান দেইনি।’

গৃহকর্মী নির্যাতন এবং বাসায় মাদক রাখার অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী একা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। দাবি করেন, জীবনে সিগারেটে একটা টানও দেননি তিনি।

গৃহকর্মীকে নির্যাতন বিষয়ে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে হাতিরঝিলের উলন এলাকার বন্ধু নিবাস ভবনে নিজের ফ্ল্যাট থেকে একাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে ৫ পিস ইয়াবা, পঞ্চাশ গ্রাম গাঁজা এবং অর্ধেক বোতল কেরু মদ জব্দ করা হয়।

হাতিরঝিল থানাতেই একা সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে সব মিথ্যা বলা হচ্ছে।

এসব ঘটনা গৃহকর্মীর ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার কাছে প্রমাণ আছে। আমাকে ফাঁসানোর জন্য গৃহকর্মী আমার ঘরে মাদক রেখে দিয়েছে। আমি কখনো সিগারেটে পর্যন্ত একটা টান দেইনি।’

গৃহকর্মী কেন ফাঁসাতে চায়, জানতে চাইলে একা বলেন, ‘সেটা জানি না। তবে আমার মেঝ বোন আছে, সে আমার ক্ষতি করতে চায়। সেজন্য আমি সম্প্রতি রামপুরায় (হাতিরঝিলের উলন এলাকা) চলে আসি।’

আর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে একা বলেন, ‘এগুলো মিথ্যা। আমি অসুস্থ। আমাকে স্যালাইন দিতে হয়। আমার হাতে শক্তি নেই। আমি তাকে কীভাবে নির্যাতন করব।’

একার বাসার গৃহকর্মী হাজেরা বেগমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাতিরঝিল থানায় নিয়ে আসা হয়।

হাজেরা জানান, তার বয়স ৩৫, বাড়ি ময়মনসিংহে। পাঁচ হাজার টাকা বেতনে একার বাসায় কাজ নেন। প্রায়ই তাকে বকাবকি করত একা।

সিগারেটে কখনও একটা টান দেইনি: একা

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিনেত্রী একাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাতিরঝিল থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝেই একার বাসায় অনেকে আসত। তাদের বন্ধু-ভাই বলে পরিচয় দিত একা। সিগারেটের মধ্যে কী যেন ভরে খেত তারা। আমি সেগুলা দেখতাম না। আমার কাজ করার কথা, আমি কাজ করতাম। তার স্বামী পরিচয়ে কাউকে দেখিনি।

‘ঘরে ফালাইয়া আমারে একলা পাইয়া মারছে। কাইলা আমারে ঘর থেইকা বাইর কইরা দিছে। আইজকা আইছি বেতনের লাইগা। কইছি আমি আর কাজ করতাম না। কয় তুই কাজ করোস না ক্যা? কইয়া গালাগালি পাড়ছে আর মাইর দিছে।’

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ বলেন, পুলিশের মোবাইল টিমের সদস্যরা ওই বাসায় গিয়ে দেখে, গৃহকর্মী হাজেরা বাসার নিচে বসে কান্নাকাটি করছে। এলাকার লোকজন বাসা ঘেরাও করে রেখেছে। পুলিশ দরজা ভেঙে একার বাসায় ঢোকে।

পুলিশ জানায়, প্রায় তিন মাস ধরে ওই বাসায় কাজ করতেন হাজেরা। বকেয়া বেতন দেয়া নিয়ে মেয়েটিকে মারধর করা হয়েছে। তার হাতে, পায়ে, মাথায় আঘাতের চিহ্ন।

একার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিগারেটে কখনও একটা টান দেইনি: একা

৯৯৯-এ ফোন পেয়ে অভিনেত্রী একার বাসা থেকে গৃহকর্মী হাজেরা বেগমকে উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত রঙিন ‘রাখাল রাজা’ সিনেমার মাধ্যমে ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক ঘটে একার। ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কাজী হায়াৎ পরিচালিত ধর ও তেজি সিনেমায় অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। ছবি দুটিতে মান্না ছিলেন তার নায়ক। পরে রুবেল, আমিন খান, আলেকজান্ডার বো, অমিত হাসান ও শাকিব খানের সঙ্গে জুটি হয়ে অনেক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।

সবশেষ ২০০৮ সালে তাকে বাহাদুর সন্তান সিনেমায় দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ছিলেন দেশের বাইরে। তিনি ৩০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

আরও পড়ুন:
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ওই দিন তো আমার সারা রাত ঘুম নাই: শাবনূর

ওই দিন তো আমার সারা রাত ঘুম নাই: শাবনূর

৯০ দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূর। ছবি: সংগৃহীত

শাবনূর বলেন, ‘আমি যখন প্রথম সিনেমায় শুটিং করতে যাচ্ছি, ওই দিন তো আমার সারা রাত ঘুম নাই। সারা রাত আমি চোখ বন্ধ করতে পারছি না। ওহ মাই গড, সকালে আমার শুটিং হবে।’

১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া চাঁদনী রাতে সিনেমার মধ্য দিয়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দায় ভেসে ওঠে এক মায়াবী মুখ- শাবনূর। প্রথম সিনেমাটি সুপারহিট না হলেও তার রূপ-গুণ আর অভিনয়ে মুগ্ধ হন দর্শক ও নির্মাতারা।

এরপর একসময় পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠেন শাবনূর। দীর্ঘ অনেক বছর হলো অভিনয় থেকে দূরে শাবনূর। তবে তার সেই জনপ্রিয়তা আর দর্শকের ভালোবাসা যেন আজও অটুট।

তিনিও চান দর্শকদের সেই ভালোবাসা ধরে রাখতে। সেই লক্ষ্যে কিছুদিন আগে নিজের নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন তিনি। তৈরি করছেন নানা রকমের ভিডিও কনটেন্ট।

শুধু তাই নয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সক্রিয় হয়েছেন অভিনেত্রী। গত ২১ সেপ্টেম্বর ইউটিউবের এক ভিডিও বার্তায় শাবনূর জানিয়েছিলেন, শুক্রবার বেলা ৩টায় ফেসবুক লাইভে আসবেন তিনি। এসেছিলেনও অভিনেত্রী।

সেই লাইভে নানা গল্পের মাঝে দর্শকদের এক প্রশ্নের জবাবে জানালেন তার প্রথম সিনেমার শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা।

শাবনূর বলেন, ‘আমি যখন প্রথম সিনেমায় শুটিং করতে যাচ্ছি, ওই দিন তো আমার সারা রাত ঘুম নাই। সারা রাত আমি চোখ বন্ধ করতে পারছি না। ওহ মাই গড, সকালে আমার শুটিং হবে।’

অন্য আর দশজন মানুষের মতো নতুন কিছু পাওয়ার উচ্ছ্বাস ছিল তারও। সে কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ রকম রাত থেকে আমার মনে হচ্ছে সকালে আমার শুটিং হবে, আমি উঠব। আমার মেকআপম্যানকে আমি জ্বালায়ে মারছি। ভোর পাঁচটার আগে থেকে তাকে একটু পরপর বলছি, আমার মেকআপ কখন দিবা। সবার মেকআপ হয়ে যাবে, আমি লেট, আমার লেট হয়ে যাবে, প্লিজ প্লিজ এটা কর। অ্যাটলাস্ট আমার মেকআপ দেয়া হলো, শুটিং স্পষ্টে গেলাম, শুটিং করলাম। এই ছিল আমার শুটিংয়ের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা।’

সবশেষ ২০১৫ সালে মুক্তি পায় শাবনূর অভিনীত সিনেমা পাগল মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করছেন অভিনেত্রী। সেখান থেকেই আজ লাইভে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

হইচইয়ের পঞ্চম বছরে দেশের ৫ অরিজিনাল

হইচইয়ের পঞ্চম বছরে দেশের ৫ অরিজিনাল

হইচই তাদের পঞ্চম বর্ষে নির্মাতা অমিতাভ রেজা (বাঁয়ে), আশফাক নিপুণ (মাঝে) এবং চৌধুরী, সৈয়দ আহমেদ শাওকি (ডানে) পরিচালনায় নতুন অরিজিনাল সিরিজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ায় হইচই তাদের পঞ্চম বর্ষে বাংলাদেশ থেকে শঙ্খ দাশগুপ্ত, তানিম নূর, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, সৈয়দ আহমেদ শাওকি এবং আশফাক নিপুণের পরিচালনায় ৫টি নতুন অরিজিনাল সিরিজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই তাদের পঞ্চম বর্ষে পা দিয়েছে। বছরজুড়ে কী কী কনটেন্ট দেখা যাবে তার নাম প্রকাশ করেছে হইচই। শুক্রবার বিকেলে একটি ভিডিওর মাধ্যমে এ ঘোষণা আসে।

বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ায় হইচই তাদের পঞ্চম বর্ষে বাংলাদেশ থেকে শঙ্খ দাশগুপ্ত, তানিম নূর, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, সৈয়দ আহমেদ শাওকি এবং আশফাক নিপুণের পরিচালনায় ৫টি নতুন অরিজিনাল সিরিজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে।

অরিজিনালগুলো হলো -

বলি-সোহরাব–রুস্তম নাম দুটির সঙ্গে বাঙালির আবেগ জড়ানো। প্রাচীন এক লোককাহিনির ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে অ্যাকশন/থ্রিলার বলি। যেখানে মূল দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাকদীর দিয়ে দেশ মাতানো জুটি– চঞ্চল চৌধুরী ও সোহেল মণ্ডল। পরিচালনা করেছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত।

কাইজার- কাইজার একজন ভিডিও গেমে আসক্ত হোমিসাইড ডিটেকটিভ। অস্বাস্থ্যকর সব অভ্যাস তার ব্যক্তি ও পেশাজীবনে নানা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আরও শোনা যায়, কাইজার নাকি রক্ত ভয় পায়! পরিচালনায় তানিম নূর।

কারাগার- একটি জেল। সেল নাম্বার ৫০১। সেলটিতে রাখা বেশ কিছু কয়েদির আত্মহত্যার পর থেকে সেলটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এক সকালে সেলটিতে এক কয়েদিকে খুঁজে পাওয়া যায় যে দাবি করে সেলের ভেতরে সে ২০০ বছর ধরে বন্দি। তাকদীরের আকাশচুম্বী সাফল্যের পর সৈয়দ আহমেদ শাওকির নতুন ন্যারেটিভ থ্রিলার সিরিজ।

সাবরিনা- দুই বাংলা কাঁপানো ওয়েব সিরিজ মহানগরের পর আশফাক নিপুণ নিয়ে আসছেন সাবরিনা, যেখানে সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে নারীদের ওপর নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দুই নারীকে কেন্দ্র করে শিহরণ জাগানো একটি গল্প।

এই বিষয়ে হইচই বাংলাদেশের প্রধান সাকিব আর খান বলেন, ‘দেশজুড়ে দর্শকরা যেভাবে আমাদের সাদরে গ্রহণ করেছে তাতে আমি অভিভূত। তাদের এই ভালোবাসার কারণেই আমরা আমাদের পার্টনারশিপগুলোর মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছে যেতে পেরেছি। আরও একটি বছরের প্রারম্ভে আমরা দর্শকদের আরও চমকপ্রদ কনটেন্ট উপহার দিতে চাই এবং এই লক্ষ্যে আমরা দুই বাংলার সেরা নির্মাতাদের সাথে কাজ করছি।’

বাংলাদেশের অরিজিনালস ছাড়াও ভারতের সিরিজ পাওয়া যাবে হইচইয়ের পঞ্চম বছরে। সেগুলো হলো- মান্দার, গোরা, ইন্দু, ব্যোমকেশ ৭, একেন বাবু ৫, রুদ্রবীণার অভিশাপ, মন্টু পাইলট ২, ত্রৈলোক্য, টিকটিকি, বটতলার গোয়েন্দা, উত্তরণ।

আরও পড়ুন:
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

‘গলুই’তে অচেনা সাজপোশাকে পূজা

‘গলুই’তে অচেনা সাজপোশাকে পূজা

গলুই সিনেমার অভিনেত্রী পূজা চেরি। ছবি: সংগৃহীত

সিনেমায় শাকিব খান ও পূজাকে জুটি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। আসলেই কি তারা জুটি হয়ে কাজ করছেন, জানতে চাইলে পূজা বলেন, ‘সেটা সিনেমাতেই দেখবেন দর্শকরা।’

সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী পূজা চেরি। বৃহস্পতিবার থেকে টাঙ্গাইলের মহেরা জমিদারবাড়িতে শুরু হয়েছে সিনেমার দৃশ্যধারণ।

শুক্রবার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেত্রী পূজা চেরি। বিষটি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রী নিজেই।

পূজা বলেন, ‘গলুইতে শুটিংয়ের দুই দিন আগেই আরেকটি সিনেমার শুটিং করে এসেছি। একটা শুটিং আবহেই আছি।’

সিনেমায় পূজার চরিত্র কেমন, তা প্রকাশ করেননি তিনি। বলেছেন, ‘এটা এখনই প্রকাশ করতে চাই না বা গল্পটা নিয়েও ধারণা দিতে চাই না। শুধু এটা বলতে চাই, সিনেমার প্রেক্ষাপট আশির দশকের। তাই আমার সাজপোশাকে একটা ভিন্নতা আছে। এমন সাজপোশাকের সঙ্গে আমি পরিচিত নই।’

সিনেমার প্রেক্ষাপট আগের সময়ের হওয়ায় পূজার ওজন বাড়াতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিনেমায় আরও অভিনয় করছেন শাকিব খান। তিনি অংশ নেবেন ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে।

সিনেমায় শাকিব খান ও পূজাকে জুটি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। আসলেই কি তারা জুটি হয়ে কাজ করছেন, জানতে চাইলে পূজা বলেন, ‘সেটা সিনেমাতেই দেখবেন দর্শকরা।’

তবে যদি শাকিব-পূজা হয়ে থাকেন, তাহলে শাকিব ও পূজার বয়স ও সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য চিন্তিত নন পূজা।

তিনি বলেন, ‘শাকিব খান তো আমার পরের সময়ের নায়িকার সঙ্গেও কাজ করবেন বলে মনে হয়। আসলে এগুলো বিষয় না, মূল বিষয়টা হলো দর্শকের ভালো লাগল কি না। দর্শক পছন্দ করলে সবই হতে পারে।’

সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন খোরশেদ আলম খসরু এবং পরিচালনা করছেন এস এ হক অলিক।

আরও পড়ুন:
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

কলকাতায় চলছে ‘জে কে ১৯৭১’

কলকাতায় চলছে ‘জে কে ১৯৭১’

জে কে ১৯৭১ সিনেমার শুটিংয়ের কিছু দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

তরুণের নাম জ্যাঁ ইউজিন পল কুয়ে। ভারতে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে মারা যাওয়া মানুষের জন্য কিছু একটা করতে হবে- এই ভাবনা থেকেই বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন তিনি।

ভুবন মাঝিগণ্ডির পরিচালক ফাখরুল আরেফীন খানের নতুন সিনেমা জে কে ১৯৭১। এর শুটিং শুরু হয়েছে কলকাতায়। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলছে সিনেমার শুটিং, চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

সেপ্টেম্বরে শেষ হবে সিনেমার প্রথম লটের দৃশ্যধারণ। দ্বিতীয় লটের শুটিং কবে শুরু হবে তা এখনও চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন সিনেমাসংশ্লিষ্ট একজন।

মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিদেশে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে। সিনেমাটির চিত্রনাট্য করেছেন দেশের খ্যাতিমান নাট্যকার মাসুম রেজা। সম্প্রতি ফেসবুকে ছবি প্রকাশ পেয়েছে শুটিংয়ের।

জে কে মূলত ফরাসি শব্দ। এটি ফ্রান্সের একজনের নাম। তার ভূমিকায় অভিনয় করছেন কলকাতার শুভ্র সৌরভ দাস এবং পাইলটের চরিত্রে দেখা যাবে সব্যসাচীকে। এ ছাড়া সিনেমায় আরও অভিনয় করছেন দেশের আমান খান।

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর। প্যারিসের কাছে অরলি বিমানবন্দরে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের ৭২০ বি ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করতে যাচ্ছিল। এমন সময় বিমানের ককপিটে এক হাতে পিস্তল অন্য হাতে বোমার মতো দেখতে একটি ব্যাগ নিয়ে ঢুকে পড়েন এক ফরাসি যুবক।

তিনি দাবি করেন, ব্যাগের মধ্যে বোমা রয়েছে। এসব দেখিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করতে বলেন পাইলটকে।

খুবই অদ্ভুত তার দাবি। এই ফ্লাইটে করে ২০ টন চিকিৎসাসামগ্রী পাঠাতে হবে যুদ্ধপীড়িত বাংলাদেশে। নয়তো এই বিমান কোথাও যেতে দেবেন না তিনি।

তরুণের নাম জ্যাঁ ইউজিন পল কুয়ে। ভারতে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে মারা যাওয়া মানুষের জন্য কিছু একটা করতে হবে- এই ভাবনা থেকেই বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন তিনি।

বোমার মতো দেখতে সেই ব্যাগের মধ্যে ছিল একটা বাইবেল আর দুটি ডিকশনারি। এই দেখিয়ে কুয়ে সাত ঘণ্টা আটকে রাখেন বিমানটিকে।

ফরাসি সরকার তখন রাজি হয় এই জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী বিমানে লোড করার জন্য। কিন্তু একটা সময় ফরাসি পুলিশ ধরে ফেলে কুয়েকে।

পরবর্তী সময়ে ফরাসি সরকার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশকে সাহায্য করার। ভারতের আশ্রয় শিবিরে এসেছিল সেই ২০ টন ওষুধ আর চিকিৎসাসামগ্রী।

এই সত্য ঘটনা নিয়েই নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি। এটি প্রযোজনা করছে গড়াই ফিল্মস।

২০১৫ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন দেখে সিনেমাটি করার ইচ্ছা জাগে আরেফীনের। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে।

সব ঠিক থাকলে সিনেমাটি মুক্তি দেয়া হবে মার্চ মাসে। সিনেমায় একটি গান থাকবে, যেটি গাইবেন নাসিম আলী খান। এর সংগীত পরিচালনা করবেন পার্থ বড়ুয়া।

পরিচালক মনে করেন, এই সিনেমার মাধ্যমে অন্ধকারে থাকা একটি ইতিহাস দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারবেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের জো কুয়েকে ফ্রেন্ড অব বাংলাদেশ খেতাবের দাবি জানানো হবে।

আরও পড়ুন:
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

অচিনপুরী পরিচয়ে সিলেটি ভাষায় গান গেয়ে ভাইরাল চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

সমসাময়িক নানা ইস্যু ও সামাজিক অসংগতি নিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় চেনা সুরে গাওয়া তার গান ফেসবুকের মাধ্যমে এখন সিলেটে বেশ জনপ্রিয়। অচিনপুরী নিজেই গান লেখেন; সুরও করেন। গানে তেমন কোনো তালিম না নিলেও মরমী চেতনা তার মজ্জাগত।

কক্ষের আশপাশে ছড়িয়ে আছে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি। দেয়ালে ঝোলানো ওষুধ কোম্পানির ওয়ালম্যাট। সাদামাটা একটি চক্ষু চিকিৎসার চেম্বার। ভেতরে বসা ঝাকড়া চুলের মধ্যবয়স্ক এক লোক। পাশে কয়েকজন বসে বাদ্য বাজাচ্ছেন। গান গাইছেন মধ্যবয়সী ব্যক্তিটি।

এ রকম কয়েকটি গান ফেসবুকে এখন ভাইরাল। বিশেষত সিলেট অঞ্চলের শ্রোতা-দর্শকদের কাছে গানগুলো বেশ আলোচিত।

ওই চেম্বারে বসে যিনি গান গেয়েছেন তিনি চিকিৎসক, চক্ষু বিশেষজ্ঞ। নিজের সম্পর্কে তার মন্তব্য, ‘আমি আসলে গানের লোক, গান ছাড়া তৃপ্তি পাই না।’

এ ‘গানের লোক’ হলেন চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম। গানের ভনিতায় নিজেকে পরিচয় দেন ‘জহির অচিনপুরী’ হিসেবে। শ্রোতারা তাকে ‘অচিনপুরী’ নামেই সম্বোধন করেন।

ফেসবুক পেজে নিজের পরিচয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আমি, করি চোখের ডাক্তারি/গান আমার প্রাণের খোরাক, রচি সংগীত অচিনপুরী।’

সমসাময়িক নানা ইস্যু ও সামাজিক অসংগতি নিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় চেনা সুরে গাওয়া তার গান ফেসবুকের মাধ্যমে এখন সিলেটে বেশ জনপ্রিয়।

অচিনপুরী নিজেই গান লেখেন; সুরও করেন। গানের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না নিলেও মরমী চেতনা তার মজ্জাগত।

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

মরমী সাধনার এক উজ্জ্বল চারণভূমি সুনামগঞ্জ। হাসন রাজা, রাধারমণ, দুর্বিন শাহ, শাহ আবদুল করিমের মতো মরমী সাধকরা ঋদ্ধ করে গেছেন বাংলা সংগীতকে।

জহির অচিনপুরীর জন্ম এ জেলারই ছাতকে। তার বাবা ময়না মিয়াও মরমী ধারার লোক; গানও লিখেন। সেই সূত্রে তার মধ্যেও বহমান মরমী ধারা।

রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত জহির। এ ছাড়া ঢাকার রায়েরবাজারে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের জন্য চেম্বার আছে তার।

কাজের কারণে মূলত ঢাকাতেই থাকেন। প্রতি বৃহস্পতিবার চলে আসেন সিলেট। শনিবার পর্যন্ত তিন দিন নগরের লামাবাজারে ‘সালেহা আই কেয়ার সেন্টার’ নামে নিজের চেম্বারে বসেন।

শরতের এক তপ্ত দুপুরে লামাবাজারে চেম্বারে দেখা মেলে জহির অচিনপুরীর। বাদ্যযন্ত্র নিয়ে তার দলবলও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। তারা আবার ওই চেম্বারেই কাজ করেন।

চেম্বারটির ব্যবস্থাপক আব্দুল মনাফ বাজান পারকাশন, কর্মী সিজান বাজান হারমোনিয়াম। আর জুয়েল তাল তোলেন তবলায়।

চেম্বারের কাছে অচিনপুরীর স্টুডিও। যখন রোগী থাকে না তখন স্টুডিওতেই সময় কাটান তিনি। নিউজবাংলার এই প্রতিবেদককে দেখে চেম্বারেই গান শুরু করেন তিনি। এর ফাঁকে চলে গল্প।

অচিনপুরী বলেন, ‘ছোটবেলায় মজা করে গান করতাম। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে গাইতাম। গানের লোকদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম। তবে কখনো সেইভাবে গান শিখিনি।’

ছাতকে স্কুলে পড়াকালীন শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন জহির। এরপর সংগীতশিল্পী কেতকী আচার্যের কাছে কিছুদিন স্বরলিপি শিখেছেন।

অচিনপুরী বলেন, ‘সে সময় বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী গৌরি চৌধুরীসহ কয়েকজন কেতকী আচার্যের কাছে গান শিখতেন। আমিও তাদের সঙ্গে যেতাম; তাদের সঙ্গে গলা মিলাতাম। তবে তখন আমার আগ্রহ ছিল অভিনয়ে। যদিও গান শুনতাম প্রচুর।’

ছোটবেলার এক অভিজ্ঞতার কথা জানান অচিনপুরী। তিনি বলেন, ‘দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলে প্রথমবারের মতো একটি গানের প্রতিযোগিতায় নাম দেই। সেখানে তৃতীয় হই। তবে পড়াশোনার কারণে গানে মনোযোগ দিতে পারিনি। আর মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময় কবিতার প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়ি।’

এইচএসসি শেষে জহির ভর্তি হন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে। সেখানে পড়ার সময় আবার গানের ঝোঁক পেয়ে বসে তাকে। সংগীত শিক্ষক বিপ্রদাস ভট্টাচার্য বাপ্পুর কাছে কিছুদিন গানও শেখেন। সেই সঙ্গে চলে কবিতা লেখালেখি।

বন্ধুদের আড্ডায় জনপ্রিয় গানের প্যারোডি করতেন তিনি। আর সবসময় শুনতেন মরমী সাধকদের গান।

জহির বলেন, ‘হাসন রাজার গান আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। তার জীবনদর্শনও আমাকে টানে। হাসন রাজা জমিদার হয়েও জমির মায়ায় জড়াননি। তিনি দুনিয়ার ভেতরে থেকেও অন্য দুনিয়ায় ছিলেন। এসব কারণে তাকে ভালো লাগে।’

২০০৫ সালের দিকে যখন গান গাওয়া শুরু করলেন, তখন হাসন রাজাকে ভালোবেসে নিজের নাম বদলে রাখেন ‘জহির কানাই’। তখন সবে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। সেখানকারই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করতেন।

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

জহির গান লেখা শুরু করেন ২০১০ সালে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন আমার মাথায় দেশের বাইরে চলে যাওয়ার চিন্তা পেয়ে বসেছে। এর মধ্যে উচ্চতর প্রশিক্ষণে ভারতে যাই। সেখানে গিয়েই ভাবনা পাল্টে যায় আমার। ভারতে গিয়ে দেখি, অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিদেশের বিলাসী জীবনের হাতছানি উপেক্ষা করে নিজ দেশে থেকে মানুষের সেবা করছেন। আমিও তখন সিদ্ধান্ত নিই, দেশে থেকেই মানুষের চিকিৎসায় কাজ করব।’

তিনি বলেন, “এ রকম সময়ই আমার মাথায় হঠাৎ একটি গান আসে। মাকে নিয়ে গান, ‘আমি হব না দেশান্তরি, থাকিব থাকিব মায়ের চরণ ধরি।’ এরপর গানটি রেকর্ড করি। তখন আমার এক সহকর্মী আমার নাম দেন, ‘অচিনপুরী’। তার নামটি আমার পছন্দ হয়। নামের সঙ্গে অচিনপুরী জুড়ে দেই।”

২০১৩ সালে ইউটিউবে প্রথম অ্যাকাউন্ট খুলেন তিনি। নাম দেন ‘অচিনপুরী মিউজিক ভ্যালি’। এরপর ফেসবুকেও একই নামে পেজ খুলেন।

অচিনপুরী বলেন, “প্রথমে আমার ছাত্র, বন্ধু, সহকর্মীরাই কেবল আমার গান শুনত; বাইরের লোকজন তেমন শুনত না। তবে ২০১৬ সালে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় গাওয়া ‘মুই বালা নায়’ শিরোনামে একটি গান অনেক জনপ্রিয় হয়। এরপর ‘খাউজ্জানি’ নামে সিলেটের ভাষার আরেকটি গান করি। এটা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে; আমাকে পরিচিতি এনে দেয়।”

কথা বলতে বলতেই অচিনপুরী গেয়ে ওঠেন, ‘পরোর বালা দেখলে আমার গতরো উঠে খাউজ্জানি/ও বাবু বুঝছোনি, হায়রে মজার খাউজ্জানি।’

এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ গান লেখার কথা জানিয়ে অচিনপুরী বলেন, ‘সবগুলো রেকর্ড করা হয়নি। সংরক্ষণের অভাবে কিছু হারিয়েও গেছে। আমি অগোছালো মানুষ। সব সামলে রাখতে পারি না।’

‘চিকিৎসক হওয়ায় ব্যস্ত জীবন। তবু গানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া কেন?’

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

জবাবে অচিনপুরী বলেন, ‘আমি নিজের আত্মিক উন্নয়ন ও আত্মতুষ্টির জন্যই গান করি। নিজেকে পরিশুদ্ধ আত্মার অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। গানে গানে মানুষের আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে চাই। এ ছাড়া একটা মায়ার জগৎ গড়ার লক্ষ্যে গান করি, যেখানে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকবে না; সম্প্রীতি থাকবে, বন্ধন থাকবে।’

মরমী গানকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করতে চান জহির। নতুন প্রজন্মের কাছে সেগুলো নতুনভাবে সামনে আনতে চান।

গান গাইতে গিয়ে কিছু মানুষের কটূ কথার শিকার হতে হয়েছে বলে জানান অচিনপুরী। তিনি বলেন, ‘মানুষ আমার গান শুনলে ভালো লাগে, আনন্দ হয়। আমি চাই আমার সৃষ্টিগুলো মানুষ দেখুক, শুনুক। মানুষ যখন আমার গান শুনে প্রশংসা করে, তখন খুশি হই। আবার গান করায় ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকারও হতে হয়। অনেকে কটূ মন্তব্য করে।

‘এখন ফেসবুক বা ইউটিউবে আপ দেয়া গানের নিচের মন্তব্যগুলো আর পড়ি না। এগুলো পড়লে হতাশ হয়ে যাই। সব সৃজনশীল মানুষকে এই সমস্যায় পড়তেই হয়। ফলে এগুলো গায়ে মাখি না। আমি দেখি নিজের অবস্থানে-বিশ্বাসে ঠিক আছি কি না।’

জহির আরও বলেন, ‘আমার মধ্যে কৃত্রিমতা নাই। যা বিশ্বাস করি, যা ধারণ করি তাই কথা ও সুরে প্রকাশ করি।’

আরও পড়ুন:
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

সাহসী চরিত্রের জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছিল: মল্লিকা

সাহসী চরিত্রের জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছিল: মল্লিকা

বলিউড অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত। ছবি: সংগৃহীত

মল্লিকা বলেন, ‘ওরা আমার নামে মিথ্যা কথা লিখত; ঘটনা অতিরঞ্জিত করে লিখত। অনেক মূলধারার সাংবাদিক ছিলেন, যারা আমার নামের পাশে এমন উক্তি বসিয়ে দিতেন, যা আমি বলিনি। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির সঙ্গে আমার নাম জড়ানো হয়েছিল।’

বলিউডে প্রায় দুই দশকের পথচলা মল্লিকা শেরাওয়াতের। ২০০৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল তার প্রথম সিনেমা খোয়াইশ

এর পরের বছরই মার্ডার সিনেমায় অভিনয় দিয়ে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান মল্লিকা। এর পরে দুই ডজনের বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

প্রায় সব সিনেমায় চুম্বন ও খোলামেলা দৃশ্যের জন্য ‘সাহসী’ অভিনেত্রীর তকমা পেলেও মানসিক হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে জানান মল্লিকা।

তিনি জানান, হেনস্তার মাত্রা এতই বেড়ে গিয়েছিল যে, তাকে দেশ পর্যন্ত ছাড়তে হয়েছে।

মল্লিকা সম্প্রতি এক সংবাদ সংস্থাকে এসব কথা জানান বলে ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সাহসী চরিত্রের জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছিল: মল্লিকা
বলিউড অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত। ছবি: সংগৃহীত

কীভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলেছেন, সে বিষয়ে মল্লিকা বলেন, ‘আমি দেশ ছেড়ে চলে যাই। এইভাবেই সামলাই নিজেকে।’

মল্লিকার কথায়, সংবাদমাধ্যম এবং জনসাধারণের একটি অংশের কাছে অপদস্থ ও হেনস্তা হতে হয় তাকে। তিনি স্রেফ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

সেই সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, অসম্ভব মানসিক চাপ তিনি নিতে পারেননি। তার মন ভেঙে গিয়েছিল।

সাহসী চরিত্রের জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছিল: মল্লিকা
বলিউড অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত। ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরও বলেন, মানসিক সুস্থতা ফিরে পাওয়ার জন্য তাকে দেশ ছাড়তেই হতো।

মল্লিকার দাবি, সে সময় সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি অংশের কাছে তিনি সমর্থনও পেয়েছেন। আরেকটি অংশ যথেষ্ট অনৈতিক ছিল।

অভিনেত্রী বলেন, ‘ওরা আমার নামে মিথ্যা কথা লিখত; ঘটনা অতিরঞ্জিত করে লিখত। অনেক মূলধারার সাংবাদিক ছিলেন, যারা আমার নামের পাশে এমন উক্তি বসিয়ে দিতেন, যা আমি বলিনি। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির সঙ্গে আমার নাম জড়ানো হয়েছিল।’

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় বলে জানান মল্লিকা।

সাহসী চরিত্রের জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছিল: মল্লিকা
বলিউড অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে নারীদের জন্য পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে বলে মনে করেন মল্লিকা। তার মতে, আগের তুলনায় অনেক বেশি যৌন দৃশ্য এখন সিনেমায় দেখা যায়। সাহসী চরিত্রের জন্য অভিনেত্রীদের এখন আর নিচু চোখে দেখা হয় না।

আরও পড়ুন:
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

কোনো চরিত্র সহজ বা কঠিন লাগে না: মনোজ

কোনো চরিত্র সহজ বা কঠিন লাগে না: মনোজ

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত

মনোজ বলেন, ‘অনেক ক্র্যাশ কাজ তো আমারও আছে। সবারই আছে। কোনো কাজ খাটো করে বলছি না। এটা আমাদের করতে হয়। আমরা যারা অভিনয় করি, সবাই আসলে চাই অভিনয়টা ভালো করে করতে এবং এমন কোনো অভিনয় করতে, যেটাতে দর্শক আমাদেরকে ভালোবাসবে; দর্শকের ভালো লাগবে।’

ছোট পর্দার পরিচিত মুখ মনোজ কুমার প্রামাণিক। ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফর্মেও বিচরণ বাড়ছে তার। এর বাইরেও পরিচয় আছে তার। ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে পড়ান তিনি।

এ মুহূর্তে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য বেশ কিছু কাজে ব্যস্ত মনোজ। ওয়েব ফিল্মের পাশাপাশি সম্প্রতি একটি ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছেন। তবে কোন প্ল্যাটফর্মের জন্য কাজ করছেন, তা বড় বিষয় নয় মনোজের কাছে। তার আগ্রহের বিষয় শুধু অভিনয়।

অভিনয় ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান মনোজ।

কোন চরিত্র কেমন লাগে

এ পর্যন্ত অনেক চরিত্রেই অভিনয় করেছেন মনোজ। এর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি কঠিন লেগেছে, তা জানতে চাওয়া হয় অভিনেতার কাছে।

জবাবে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কোনো চরিত্রই কঠিন বা সহজ লাগে না। সব একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে যায়। সবগুলো সম্পর্কে একটু গবেষণার দরকার আছে; চিন্তাভাবনার দরকার আছে। কখনো সেটা করতে পারি, কখনো সেটা সঠিকভাবে করতে পারি না সময়ের অভাবে। সব চরিত্র আমার কাছে একই রকম মনে হয়।’

বেছে বেছে কাজ করেন কি না, জানতে চাইলে মনোজ বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে এত বাছাই করে কাজ করার সুযোগ আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও তৈরি হয়নি। আমাদের কাজের পরিমাণ বাড়ছে, কিন্তু ভালো কাজের পরিমাণ আসলে এখনও অনেক কম। বিশেষ করে টেলিভিশনে আমরা যারা কাজ করি, আমাদের বাজেট-সময় সবকিছু মিলিয়ে আসলে বেছে...

কোনো চরিত্র সহজ বা কঠিন লাগে না: মনোজ
অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত

‘অনেকেই আমরা বলি বেছে বেছে কাজ করছি, কিন্তু সত্যিকার অর্থে এত বেছে কাজ করার সুযোগ থাকে না। এখন দেখা যাচ্ছে, যদি ৮০-৯০ পারসেন্ট গল্পই খারাপ হয়, ডিরেকশন খারাপ হয় বা ৮০-৯০ পারসেন্টই যদি আমাদের অল্প সময়, অল্প বাজেটের মধ্যে করতে হয়, তাহলে এর মধ্যে যদি আমি বাদ দিয়ে যাই, বেছে করতে হয়, তাহলে বেশির ভাগই বাদ পড়ে যাবে। যদি ভাবি শুধু ভালোগুলো করব, তখন তো পেট চলবে না। তো এত বেছে আমাদের কাজ করা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘অনেক ক্র্যাশ কাজ তো আমারও আছে। সবারই আছে। কোনো কাজ খাটো করে বলছি না। এটা আমাদের করতে হয়। আমরা যারা অভিনয় করি সবাই আসলে চাই অভিনয়টা ভালো করে করতে এবং এমন কোনো অভিনয় করতে যেটাতে দর্শক আমাদেরকে ভালোবাসবে; দর্শকের ভালো লাগবে।’

‘টেলিভিশন নাটকের অবস্থা খুবই খারাপ’

নাটকের সার্বিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনপ্রিয় ও প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা মনোজ বলেন, ‘আমাদের নাটকের বাজেট নাই। আমাদের নাটকের যারা ডিরেকশন দিচ্ছেন তাদের কোয়ালিটি যথেষ্ট ভালো না। সবার না; বেশির ভাগেরই। এমন অল্প আয়োজনের মধ্যে তাদের কাজ করতে হয়। ডিরেক্টর যদি ভালো করতে চানও, যদি টাইম দিতে চান, তাহলে সেই বাজেট নেই। একটা প্রোডাকশনের পেছনে সময় এক মাস, দুই মাস, পাঁচ মাস যে দেবেন, চলবে কীভাবে। সো এই কন্ডিশনের মধ্যে টেলিভিশন নাটকের অবস্থা খুবই খারাপ।

কোনো চরিত্র সহজ বা কঠিন লাগে না: মনোজ
অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত

‘তারপরও আমরা করে যাচ্ছি। কারণ আমাদের জীবিকা; এটা প্রয়োজন। এর মধ্যে থেকেই কিছু কাজ হয়তো ভালোও হচ্ছে। বাজারে ১০টা হলে তার মধ্যে হয়তো তিনটা-চারটা ভালো হচ্ছে। আর বাকি সাতটাই হয়তো সে রকমভাবে মানের হচ্ছে না।’

‘সিনেমার ডিরেক্টরদের আরও টেকনিক্যাল হতে হবে’

নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপের একপর্যায়ে সিনেমা নিয়ে নিজ ভাবনার কথা জানান মনোজ।

তিনি বলেন, ‘সিনেমার ক্ষেত্রে আমি বলব, লকডাউনের কারণে সিনেমা দেড়-দুই বছর যাবৎ বন্ধই আছে। আমরা কোনো সিনেমা দেখতে পাচ্ছি না। সিনেমার ক্ষেত্রে আমি বলব যে, টেকনিক্যালি আরও ডেভেলপ করতে হবে। আমার তাই মনে হয়। আমাদের আইডিয়া আছে অনেক ভালো। তারপরে ডিরেক্টরিয়াল হেড আছে, ক্রিয়েটিভ আছে, অভিনেতা-অভিনেত্রী আছে, কিন্তু টেকনিক্যাল ক্রু টিম যেটা সেইটা নাই বা ডিরেক্টরদেরকেও আরও টেকনিক্যাল হতে হবে। অনেক ম্যাথমেটিক্যাল হতে হবে।

‘ম্যাথমেটিক্স বলছি। অবশ্যই এটা একটা টেকনিক্যাল কাজ, কিন্তু একই সাথে অনেক কিছুর ম্যাথমেটিক্সের ফলে ফিল্ম তৈরি হয়। তো সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয় তাদেরকে আরও টেকনিক্যাল হওয়া উচিত। ফিল্ম ল্যাঙ্গুয়েজটা সম্পর্কে আরও বোঝা উচিত, জানা উচিত এবং ওই প্র্যাকটিসটা হওয়া উচিত। তাহলে আরও ভালো সিনেমা এখানে হবে। হচ্ছে না, তা না। অনেকেই খুব ভালো করছেন। কান, বুসান লেগেই আছে। আমাদের অনেক সিনেমা অনেক দেশে প্রশংসিত হচ্ছে।’

‘অভিনেতাদের কাছে ওটিটি, টেলিভিশন, ফিল্মের পার্থক্য নাই’

মনোজের কথায় উঠে আসে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিষয়টি। তিনি মনে করেন, অভিনেতাদের কাছে প্ল্যাটফর্ম নয়, অভিনয়ই মুখ্য বিষয়।

‘একসময় মানুষ তো মাঠেঘাটে অভিনয় করত, একসময় মঞ্চ তৈরি করে সেখানে অভিনয় করেছে। তারপরে টেলিভিশন বা ফিল্মের ক্যামেরার সামনে অভিনয় করেছে। অভিনয় দেখানো হয়েছে প্রজেক্টরে; টেলিভিশনে দেখেছি আমরা। তারপর আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেখছি’, বলেন মনোজ।

কোনো চরিত্র সহজ বা কঠিন লাগে না: মনোজ
অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত

‘আসলে মাধ্যমটা সব সময় চেঞ্জ হয়। যারা অভিনয় করেন তাদের কাছে ওটিটি, টেলিভিশন, ফিল্ম—এগুলোর কোনো পার্থক্য নাই। যদি কাজটা ভালো হয় তাহলে ভালো, যদি ভালো না হয় ভালো না। ওটিটি মানেই যে সব ভালো হয়ে যাবে বা হচ্ছে তা নয়’, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘অনেক ওটিটি এখন দেখা যায় যে, কোয়ালিটি অ্যাচিভ করতে পারি নাই। আবার অনেকগুলো বেশ ভালো যাচ্ছে আরকি। তো অভিনেতাদের কাছে কোনো প্ল্যাটফর্ম কোনো বিষয় না।’

ওটিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এ অভিনেতা বলেন, ‘এখন যদি বলেন ওটিটির ভবিষ্যৎ কী? ডেফিনেটলি, একসময় মহাকাব্য রচিত হতো; মাঝখানে কোনো মহাকাব্য রচিত হয়নি। অনুকাব্য হয়ে গেছে, অনুকবিতা হয়ে গেছে। এখন কিন্তু আবার দেখবেন ওয়েব সিরিজ নামের যা হচ্ছে, এটা আবার এপিসোডি মহাকাব্যিক। তাই না? এটা আসলে ঘুরে ঘুরে আসে। ওটিটি এখন আছে, এখন ওটিটিতেই সবাই কাজ করবে। জানি না বিজ্ঞান কী আবিষ্কার করবে তারপরে।’

‘নীতিমালা দিয়ে কাকে আটকাবেন?’

ওটিটির নীতিমালা নিয়ে মনোজ বলেন, ‘নীতিমালা দিয়ে মানুষের নীতিকে, বিবেককে আসলে বেঁধে রাখা যায় না বা মানুষের খারাপ কোনো কিছুকে নীতি দিয়ে বাঁধা যায় না। তাহলে এত এত যে আইনের বই তৈরি হইছে পৃথিবীতে বা এত এত যে নীতি তৈরি হইছে পৃথিবীতে, কই আমি দেখি না যে পৃথিবীর মানুষ খুন করা বন্ধ রাখছে। ইন অ্যা ওয়ে দ্য কিল, ইন অ্যা ওয়ে দ্য লাভ টু।

‘সো যিনি শিল্পী, যিনি কিছু বানাচ্ছেন, ধরেই নিতে হবে যে তিনি শুদ্ধ একজন মানুষ। তিনি ভালোর জন্য, মঙ্গলের জন্যই কিছু করছেন। তাকে আসলে নীতিমালা দিয়ে বাঁধা যাবে না। যদি নীতিমালা দিয়ে বাঁধতেই হয় তাহলে তো সিনেমায় এখন…।’

নীতিমালা সব ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য কি না, সে প্রশ্নও তোলেন মনোজ।

তিনি বলেন, ‌‌‘এটা আসলে খুব কনফিউজিং একটা ব্যাপার। নীতিমালা দিয়ে বলা হলো যে, ধরেন সিগারেট খাওয়ার দৃশ্য দেখানো যাবে না। কোনো চরিত্র যদি সিগারেটখোর হয়, তখন কী করবেন? সো তখন নীতিমালাটা কীভাবে অ্যাপ্লাই করবেন বা ধরেন অনেক ক্ষেত্রে আছে যৌনতা দেখানো যাবে না বলা হয়। যৌনতা তো জীবনের একটা অংশ। সেটা কেন দেখানো যাবে না? আর মানুষ কি ইন্টারনেটে পর্নো মুভি দেখতেছে না? ইন্টারনেটে ঢুকলে তারা যেকোনো ধরনের যৌন দৃশ্য দেখতে পাচ্ছে।

‘তো কাকে আটকাবেন এই নীতিমালা দিয়ে? আমি বলতেছি না যে এ ধরনের দৃশ্যে গল্প ভরে দাও। তা না। কিন্তু এই দৃশ্যগুলো আমাদের জীবনের অংশ। এই দৃশ্যগুলো দেখানোই যাবে না, এটা আসলে মুশকিল।’

কোনো চরিত্র সহজ বা কঠিন লাগে না: মনোজ
অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত

নীতিমালার অসুবিধা তুলে ধরে মনোজ বলেন, ‌‌‘এই প্রতিবন্ধকতা কীভাবে উতরানো যাবে? প্রথমত, আমি মনে করি নীতিমালা দিয়ে কোনো লাভ হয় না। দ্বিতীয়ত, নীতিমালা যতই কঠিন হোক না কেন, যিনি ক্রিয়েটিভ, যার মাথায় সৃষ্টিশীলতা আছে, তিনি কোনো না কোনো ওয়ে আউট করে নেন। সমস্যাটা এই দৃশ্য দেখানো যাবে বা এই দৃশ্য দেখানো যাবে না, এটাতে না; সমস্যা হচ্ছে একটা মানুষ কী বলতে চায়, সেটা সে কোনো না কোনোভাবে বলার ওয়ে খুঁজে নিতে পারে বুদ্ধি থাকলে।

‘এখন কী বলতে চাই সেটাকে থামানোই হচ্ছে নীতিমালার কাজ। কী দেখানো হচ্ছে এটা গুরুত্বপূর্ণ না, যখন মূলে গিয়ে আঘাত লাগে তখন আসলে নীতিমালার প্রয়োজন হয়। আমি সরকারকে, দেশের নিয়মকে কোনো কিছুকে খাটো করে বলছি না। কিন্তু জাস্ট একজন শিল্পী যে জায়গা থেকে অনুভব করে, সে জায়গা থেকে বলছি।’

তিনি বলেন, ‘‌নীতিমালার কোনো প্রয়োজন আছে মনে করি না। আবার নীতিমালা যদি দেয়ও, শিল্পীর তাতে কিছু যায় আসে না। সে একটা ওয়ে খুঁজে নিবে।’

অভিনয় নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান এ অভিনেতা।

তিনি বলেন, ‌‘অভিনয় নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। ভালো ভালো কাজ করতে চাই, ভালো গল্পে, ভালো ডিরেক্টরদের সঙ্গে। আর চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে চাই।’

আরও পড়ুন:
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন