সাত হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া করে মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায়

সাত হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া করে মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায়

সাত হাজার টাকায় ভাড়া করা নৌকায় পরিবারের চার সদস্যসহ ১১জন মানিকগঞ্জের বাচামারা ইউনিয়ন থেকে গাবতলী হয়ে ঢাকায় ফিরেন চাকরিজীবী আব্দুস সালাম। ফাইল ছবি

চাকরিজীবী আবদুস সালাম বলেন, ‘মানিকগঞ্জের বাচামারা ইউনিয়ন ঘাট থেকে সাত হাজার টাকা নৌকা ভাড়া নিছে। নৌকায় আমরা ১১ জন আছিলাম। নৌকা থাইকা গাবতলী নামছি। আমরা একলা না, আমাগো মতো আরও ১০-১২টা নৌকা ছাড়ছে ঘাট থাইকা। এখন রিকশা লইয়া শনির আখড়ায় যামু।’

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ বা শাটডাউনের যত দিন যাচ্ছে, ততই ঢাকামুখী মানুষের চাপ বাড়ছে। ঢাকায় আসার জন্য তাদের আছে নানা যুক্তি। দীর্ঘ পথে নানা কষ্ট স্বীকার করেও তারা ঢাকায় আসছেন। কেউবা সড়কে, কেউ আবার আসছেন নৌকা ভাড়া করে। কেউ আসছেন দীর্ঘ পথ হেঁটে বা মোটরসাইকেলে চড়ে।

শুক্রবার দেশের উত্তরের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার অন্যতম প্রবেশমুখ গাবতলীতে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বেড়াতে গিয়ে মানিকগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে আটকা পড়েছিলেন চাকরিজীবী আবদুস সালাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। শাটডাউনের কারণে আসতে না পারলেও আর কত দিন থাকা যায়? তাই শাডডাউন মাথায় নিয়ে ঢাকায় রওনা দেন। তবে অন্যদের মতো সড়কপথে নয়। ভাড়া করা (রিজার্ভ) নৌকায় পরিবারের চার সদস্যসহ মানিকগঞ্জের বাচামারা ইউনিয়ন থেকে নৌপথে গাবতলী হয়ে ঢাকায় ফেরেন তিনি।

আবদুস সালাম বলেন, ‘বাচামারা ইউনিয়ন ঘাট থেকে সাত হাজার টাকা নৌকা ভাড়া নিছে। নৌকায় আমরা মোট ১১ জন আছিলাম। সকাল সাড়ে ৭টায় নৌকায় উঠছি। সাড়ে চার ঘণ্টার মতো সময় লাগছে। রাস্তায় আইলে তো অনেক কষ্ট। গাড়ি নাই, রিকশা-ভ্যানে কইরা ভাইঙ্গা ভাইঙ্গা আইতে হয়। নৌকায় বইচি আর কষ্ট নাই। নৌকা থাইকা গাবতলী নামছি। আমরা একলা না, আমাগো মতো আরও ১০-১২টা নৌকা ছাড়ছে ঘাট থাইকা। এখন রিকশা লইয়া শনির আখড়ায় যামু।’

১ জুলাই থেকে চলমান শাটডাউনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কারও বাড়ির বাইরে আসা নিষেধ। রিকশা ছাড়া বন্ধ সব ধরনের গণপরিবহন। তবে ঈদুল আজহায় চলাচলের সুবিধার জন্য মাঝে সপ্তাহখানেক বিরতি দিয়ে ২৩ জুলাই থেকে আবারও শুরু হয়েছে দুই সপ্তাহব্যাপী বিধিনিষেধ। চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। তবে বিধিনিষেধ আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

কড়া বা ‘কঠোরতম’ এ বিধিনিষেধে রাজধানী ঢাকায় ঢুকতে ও বের হওয়ার মুখে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে কড়া নজরদারি। তারপরও জরুরি প্রয়োজনের পাশাপাশি নানা অজুহাতে ঢাকায় আসছে-যাচ্ছে মানুষ। তবে পথে যানবাহন না থাকায় তাদের চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

গাবতলীতে প্রবেশপথে পুলিশের চেকপোস্টে দায়িত্বরত ডিএমপির উপপুলিশ পরিদর্শক মো. বায়েজিদ মোল্লা বলেন, ‘আমরা শতভাগ গাড়িই তল্লাশি ও নজরদারিতে রেখেছি। যেসব গাড়ি জরুরি সেবার মধ্যে রয়েছে, সেগুলো যাতে নির্বিঘ্নে যেতে পারে তার ব্যবস্থা করছি। এর বাইরে যেসব গাড়ি আসছে, তাদের যাত্রীর যুক্তিসংগত কারণ দিতে পারলে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে।

‘তবে আজ বেশির ভাগই আসছেন চিকিৎসা নিতে, না হয় প্রবাসী যারা করোনা পরীক্ষা করতে আসছেন। আমরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যৌক্তিক কারণ ছাড়া বের হওয়ায় দুটি গাড়ির মালিককে জরিমানা করেছি।

‘তবে অনেকেই বিনা কারণেও আসছে। এর মধ্যে পায়ে হেঁটে ঢুকছে এমন মানুষের কিছুটা চাপ রয়েছে। কিন্তু যারা হেঁটে আসছে তাদের তো আর আটকানো যাচ্ছে না। আমাদের তা করার অনুমতি দেয়া হয়নি।’

সাত হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া করে মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায়

লকডাউনে গাবতলী হয়ে হেঁটেই রওনা হয়েছেন ঢাকামুখী বহু মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পাবনা থেকে গাড়িতে করে নানা বিপত্তি পেরিয়ে গাবতলী পর্যন্ত এসেছেন রিয়াজুল আলম। যাত্রাকালীন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পাবনা থেকে সকাল ৭টায় হাই-এইচ (মাইক্রোবাস) গাড়িতে উঠছি। জনপ্রতি ১২০০ টাকা ভাড়া নিছে। পথে তেমন কোনো সমস্যা না থাকলেও রাস্তায় চারবার নামায় দিছে। সামনে গিয়া আবার উঠছি। চেকপোস্টের আগেই ড্রাইভার বইলা দেয়। আমিনবাজার ব্রিজের আগেই নামায় দিছে। আমাদের গাড়িতেই ১১ জন যাত্রী ছিল।’

অনেক যাত্রী আবার বিভিন্ন পণ্যবোঝাই গাড়িতেও যাতায়াত করেছেন। সিঙ্গাইর থেকে আসা যাত্রী সাইফুল বলেন, ‘আমাগো এলাকা থেকে দুধের গাড়ি ঢাকায় আসে। তাগোর লগেই আসছি। অনেকেই এমন করেন। যাইবার দরকার হইলে তাগো কল করলেই তারা কখন আসবো কইব। দরকার পড়রে আবার যামুগা।’

তবে অনেকেই বেশ কষ্ট করেই বিভিন্ন পথ ভেঙে ভেঙে এসেছেন। তাদের একজন সিরাজগঞ্জের সোবহান। তিনি বলেন, ‘সকালে মোটরসাইকেলে রওনা করছি। ঢাকা পর্যন্ত জনপ্রতি ১৫০০ টাকা ভাড়া। কিন্তু টাঙ্গাইলে পুলিশ মোটরসাইকেল ধরে মামলা দিছে। তারপর আমার কষ্ট শুরু। কখনও অটোরিকশা, কখনও হেঁটে। আবার কখনও রিকশায় গাবতলী আসছি। অফিস মেসেজ দিয়েছে, কাল থেকে খুলতে পারে। খুললে অবশ্যই অফিসে থাকতে হবে।’

পাবনা থেকে আসা আনোয়ার বলেন, ‘কষ্ট কমানোর জন্য পাবনা থেকে কাজিরহাট-আরিচা হয়ে ঢাকায় আসছি। ফেরি খোলা আছে, তবে অনেক কড়াকড়ি। আরিচা থেকে মোটরসাইকেল আর রিকশায় করে গাবতলী আসছি। পুলিশ অন্তত ১০ জায়গায় চেক করছে। অনেক কষ্ট হইছে আসতে।’

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের আগে ঢাকায় ফেরা যাবে কি
ঢাকাগামী গাড়ির জট: কাজিপুরে শতাধিক বাস আটক
‘বাড়ি গেলে সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে’
মাছ ধরার ট্রলারে পদ্মা পাড়ি, জব্দ ১৩ ট্রলার
ফেরি বন্ধে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দ্বিগুণ গাড়ি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গাড়িতে বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা দেন ডিআইজি মিজান

গাড়িতে বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা দেন ডিআইজি মিজান

বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। ছবি: সংগৃহীত

সাক্ষ্যতে কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন জানায়, ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি মিজান স্যার ওই লোককে (দুদক কর্মকর্তা বাছির) বলেন, ব্যাগে ২৫ লাখ ঠিক আছে। পরে ওই লোকটাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের গলিতে নামিয়ে দেয়া হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি মিজান স্যারের বাসা থেকে একটি শপিং ব্যাগ ও একটি হ্যান্ডব্যাগ গাড়িতে তুলে দেই আমি। ব্যাগে টাকা ছিল। মিজান স্যার জানান, ব্যাগে ১৫ লাখ টাকা আছে। তারা সেদিনও রমনা পার্কের সামনে আসেন। গাড়িতে বসে এনামুল বাছিরের সঙ্গে কথা বলেন মিজান স্যার।

৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের মামলায় বরখাস্ত পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে আরও দুই জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২৬ সেপ্টেম্বর রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীরা হলেন ডিআইজি মিজানের অর্ডারলি কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন এবং ডিআইজি মিজানের স্ত্রীর মালিকানাধীন দোকান কর্মচারী রফিকুল ইসলাম। তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আগামি ১২ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ঠিক করেন।

জবানবন্দিতে কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি ডিআইজি মিজানের উত্তরার বাসা থেকে আমি দুইটি ব্যাগ সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে গাড়িতে তুলে দেই। ব্যাগে ২৫ লাখ টাকা ও কিছু বই ছিল। পরে আমাকে রাজারবাগ নামিয়ে দেয়ার জন্য গাড়িতে তোলেন ডিআইজি মিজান। কিন্তু ডিআইজি মিজান আমাকে রমনা পার্কের সামনে নিয়ে আসেন এবং বলেন, তার সঙ্গে কথা বলার জন্য একজন লোক আসবে। তার সঙ্গে কথা শেষে আমাকে যাওয়ার অনুমতি দেন ডিআইজি মিজান।

কিছুক্ষণ পরে লোকটি পার্কে আসেন। তারা দুজন পার্কে গিয়ে কথা বলেন। এরপর তারা গাড়িতে ওঠেন। ডিআইজি মিজান চালককে ওই ব্যক্তিকে রাজারবাগ মোড়ের সামনে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের গলিতে নামিয়ে দিতে বলেন। যাতায়াতের মধ্যবর্তী সময়ে তারা অনেক কথা বলেন। মিজান স্যার ওই লোককে বলেন, ব্যাগে ২৫ লাখ ঠিক আছে। তখন ওই লোক প্রশ্ন করেন যে সব ঠিক আছে ভাই?

‘মিজান স্যার বলেন, সব ঠিক আছে। পরে ওই লোকটাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের গলিতে নামিয়ে দেয়া হয়। লোকটি যাওয়ার পর আমি মিজান স্যারকে জিজ্ঞাসা করি, সে কে? তখন স্যার আমাকে বলেন, লোকটি দুদক কর্মকর্তা এনামুল বাছির। পরে আমি রাজারবাগ ব্যারাকে চলে যাই।’

সাক্ষ্যতে সাদ্দাম হোসেন আরও বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি মিজান স্যারের বাসা থেকে একটি শপিং ব্যাগ ও একটি হ্যান্ডব্যাগ গাড়িতে তুলে দেই আমি। ব্যাগে টাকা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে মিজান স্যার জানান, ব্যাগে ১৫ লাখ টাকা আছে। তারা সেদিনও রমনা পার্কের সামনে আসেন। গাড়িতে বসে এনামুল বাছিরের সঙ্গে কথা বলেন মিজান স্যার। তাকে রমনা পার্কের সামনে আসতে বলেন। এনামুল বাছির পার্কের সামনে এলে তারা দুই জন ভিতরে যান। কথা শেষে তারা আবার গাড়িতে ওঠেন। এনামুল বাছিরকে শান্তিনগর মোড়ে নামিয়ে দিতে বলেন মিজান স্যার।’

সেদিনও গাড়িতে কথা বলেন তারা। এনামুল বাছির ডিআইজি মিজানকে বলেন, ‘আপনার মামলায় কিছু নেই। আপনার কিছু হবে না।’ পরে তাকে শান্তিনগর মোড়ে নামিয়ে দেন ডিআইজি মিজান। এনামুল বাছির টাকাসহ ব্যাগটি নিয়ে চলে যান।

সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘৩০ মে গুলশান পুলিশ প্লাজায় ডিআইজি মিজান যান। এনামুল বাছির সেখানে আসেন। তারা সেখানে কথা বলেন। এনামুল বাছির ডিআইজি মিজানকে বলেন, আপনার মামলায় কোনো কাগজপত্র নেই। আপনার কিছু হবে না।’

অপর সাক্ষী দোকানকর্মচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে গুলশান পুলিশ প্লাজায় আসেন এনামুল বাছির। তখন ডিআইজি মিজান বলেন, ‘টাকা দিলাম, তারপরও আমার নামে কেস হলো।’ এই কথোপকথনের পর তারা বের হয়ে যান।

এনিয়ে মামলাটিতে ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

এদিন কারাগারে থাকা মিজানুর রহমান ও এনামুল বাছিরকে আদালতে হাজির করা হয়।

সাক্ষীদেরকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি।

তিনি নিউজবাংলাকে দুইজনের সাক্ষীর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন। গত ১৯ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন শেখ মো. ফানাফিল্লাহ।

৯ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। এরপর আদালত চার্জ গঠনের তারিখ ঠিক করে মামলা ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বদলির আদেশ দেন। গত ১৮ মার্চ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের আগে ঢাকায় ফেরা যাবে কি
ঢাকাগামী গাড়ির জট: কাজিপুরে শতাধিক বাস আটক
‘বাড়ি গেলে সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে’
মাছ ধরার ট্রলারে পদ্মা পাড়ি, জব্দ ১৩ ট্রলার
ফেরি বন্ধে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দ্বিগুণ গাড়ি

শেয়ার করুন

সাবরিনার বিরুদ্ধে সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ ওসিকে শোকজ

সাবরিনার বিরুদ্ধে সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ ওসিকে শোকজ

করোনাভাইরাসের ভুয়া নমুনা পরীক্ষা এবং রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার চিকিৎসক সাবরিনা চৌধুরী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য ছিল রোববার। তিন জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুই সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। তাই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শোকজ করেছে আদালত।

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় চিকিৎসক সাবরিনা চৌধুরীসহ ৯ জনের মামলায় সাক্ষী হাজির করতে না পারায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শোকজ করেছে আদালত।

ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী রোববার এ আদেশ দেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান।

তিনি বলেন, ‘রোববার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য ছিল। তিন জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়। এর মধ্যে মশিউর রহমান নামে এক সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। অপর দুই সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। দুই সাক্ষী হাজির করতে না পারায় আদালত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির কাছে, কেন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়নি সে (শো-কজ) ব্যাখ্যা চেয়েছ আদালত।’

সেই সঙ্গে আগামী ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছে আদালত। ওই দিন সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। মাঝে করোনার কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি৷

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয় জেকেজি হেলথকেয়ার। এর বেশির ভাগই ভুয়া বলে ধরা পড়ে।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাবরিনা চৌধুরী, তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরী এই প্রতিষ্ঠানের সিইও।

ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গত বছর ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে জেকেজি সিলগালা করে দেয় পুলিশ। পরে সাবরিনা, আরিফুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় জালিয়াতির মামলা করা হয়।

অপর আসামিরা হলেন সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী, জেকেজির নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইন্সেসের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা, বিপ্লব দাস ও মামুনুর রশীদ। তারা সবাই কারাগারে রয়েছেন।

গত বছর ৫ আগস্ট এ মামলায় ঢাকা সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ডিবি পুলিশ। ২০ আগস্ট সাবরিনাসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বিচার শুরু হয় আদালতে।

জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্ণধার আরিফুল চৌধুরীর স্ত্রী সাবরিনা চৌধুরী জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক। মামলার পর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অভিযোগ, জেকেজির কর্ণধার স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করেছেন। প্রতিটি টেস্টের জন্য জনপ্রতি নিয়েছেন সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি তারা নিতেন ১০০ ডলার।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের আগে ঢাকায় ফেরা যাবে কি
ঢাকাগামী গাড়ির জট: কাজিপুরে শতাধিক বাস আটক
‘বাড়ি গেলে সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে’
মাছ ধরার ট্রলারে পদ্মা পাড়ি, জব্দ ১৩ ট্রলার
ফেরি বন্ধে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দ্বিগুণ গাড়ি

শেয়ার করুন

রেইনট্রি ধর্ষণ মামলায় পেছাল যুক্তিতর্ক

রেইনট্রি ধর্ষণ মামলায় পেছাল যুক্তিতর্ক

বনানীর রেইনট্রি হোটেল। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ প্রতিবেদনে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। অপর আসামি সাদমান সাকিফ, রহমত আলী ও বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওই আইনের ৩০ ধারায় সহযোগিতার অভিযোগ করা হয়।

রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ ৫ আসামির যুক্তিতর্কের তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার অসুস্থ থাকায় রোববারের নির্ধারিত যুক্তিতর্ক হয়নি। এদিন যুক্তিতর্কের তারিখ পরিবর্তন করে ৩ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে বলে জানান আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইশতিয়ার আলম জনি।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে অস্ত্রের মুখে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।

পুলিশ প্রতিবেদনে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। অপর আসামি সাদমান সাকিফ, রহমত আলী ও বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওই আইনের ৩০ ধারায় সহযোগিতার অভিযোগ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৭ জুন অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত সে বছর ১৩ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এরপর গত ২২ আগস্ট মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। অভিযোগপত্রে ৪৭ সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

গত ২৯ আগস্ট আত্মপক্ষ শুনানিতে সাফাতসহ ৫ আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। আসামিরা সকলেই জামিনে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের আগে ঢাকায় ফেরা যাবে কি
ঢাকাগামী গাড়ির জট: কাজিপুরে শতাধিক বাস আটক
‘বাড়ি গেলে সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে’
মাছ ধরার ট্রলারে পদ্মা পাড়ি, জব্দ ১৩ ট্রলার
ফেরি বন্ধে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দ্বিগুণ গাড়ি

শেয়ার করুন

বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে জখম

বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে জখম

প্রতীকী ছবি

আহত টিপুর ভাই আকাশ জানান, তার ভাই মাছের আড়তে কাজের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। সকালে স্থানীয় জুবায়ের, বাদু, শামসুদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, দানেশ, শুকুরসহ ৮ থেকে ১০ জন আলাপের কথা বলে টিপুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। তারা তাকে মাদক কারবারের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তারা দোলাইরপার কবরস্থান রোড এলাকায় টিপুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।

রাজধানীর কদমতলীতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

দোলাইরপাড় কবরস্থান রোড এলাকায় রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। অবস্থা সংকটপূর্ণ হওয়ায় আহতকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তার আত্মীয়রা।

আহত যুবকের নাম মোহাম্মদ টিপু। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। দোলাইরপাড় বাজার এলাকায় স্ত্রী শীমলা বেগম ও দুই মাসের ছেলেসন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকেন তিনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২৬ বছর বয়সী আহত টিপুর ভাই আকাশ জানান, টিপু মাছের আড়তে কাজের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। সকালে স্থানীয় জুবায়ের, বাদু, শামসুদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, দানেশ, শুকুরসহ ৮ থেকে ১০ জন আলাপের কথা বলে টিপুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। তারা টিপুকে মাদক কারবারের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তারা দোলাইরপার বাজারের লালমিয়ার গলি কবরস্থান রোড এলাকায় টিপুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।

পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

আকাশ আরও বলেন, ‘টিপুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক আমাদের ৪ ব্যাগ রক্ত জোগাড় করে রাখতে বলেছেন।’

পুলিশ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। আহত যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের আগে ঢাকায় ফেরা যাবে কি
ঢাকাগামী গাড়ির জট: কাজিপুরে শতাধিক বাস আটক
‘বাড়ি গেলে সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে’
মাছ ধরার ট্রলারে পদ্মা পাড়ি, জব্দ ১৩ ট্রলার
ফেরি বন্ধে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দ্বিগুণ গাড়ি

শেয়ার করুন

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ

বিমানবন্দর থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস ঢাকার প্রভেনটিভ টিম বিমানবন্দরে নজরদারি করতে থাকে। রাত ১১টার দিকে দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করলে আনোয়ার হোসেনকে শনাক্ত করা হয়। তল্লাশি করে তার কাছ থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ করা হয়।

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ ও একজনকে আটক করেছে শুল্ক কর্মকর্তারা।

অভিযান চালিয়ে শনিবার রাত ১১টার দিকে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম মো. আনোয়ার হোসেন। তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জে।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানের খবর পেয়ে কাস্টম হাউস ঢাকার প্রতিরোধ টিম বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় ও নজরদারি করতে থাকে। রাত ১১টার দিকে দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-৫৮৪ ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে।

এ সময় আনোয়ার হোসেনকে শনাক্ত করে তল্লাশি করলে তার হাতব্যাগ ও পায়ুপথ থেকে এক হাজার ১০ গ্রাম পেস্টসদৃশ গোল্ড, ৪৬৪ গ্রাম ওজনের ৪টি সোনার বার এবং ১১০ গ্রাম সোনার গয়না জব্দ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জব্দকৃত সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। তার বিরুদ্ধে শুল্ক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের আগে ঢাকায় ফেরা যাবে কি
ঢাকাগামী গাড়ির জট: কাজিপুরে শতাধিক বাস আটক
‘বাড়ি গেলে সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে’
মাছ ধরার ট্রলারে পদ্মা পাড়ি, জব্দ ১৩ ট্রলার
ফেরি বন্ধে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দ্বিগুণ গাড়ি

শেয়ার করুন

উত্তরায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু

উত্তরায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু

ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত ব্যক্তির মরদেহ রাখা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। ছবি: বুলবুল চৌধুরী/নিউজবাংলা

ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক আলী আকবর জানান, উত্তরার আজমপুরে চট্টগ্রাম থেকে কমলাপুরগামী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওই ব্যক্তির নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। তার বয়স ৬৫ বছর বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী আকবর জানান, আজমপুরে চট্টগ্রাম থেকে কমলাপুরগামী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ওই ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের আগে ঢাকায় ফেরা যাবে কি
ঢাকাগামী গাড়ির জট: কাজিপুরে শতাধিক বাস আটক
‘বাড়ি গেলে সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে’
মাছ ধরার ট্রলারে পদ্মা পাড়ি, জব্দ ১৩ ট্রলার
ফেরি বন্ধে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দ্বিগুণ গাড়ি

শেয়ার করুন

মুনিয়া হত্যা: এক আসামির আগাম জামিন

মুনিয়া হত্যা: এক আসামির আগাম জামিন

জামিন শর্তে আদালত বলেছে, আসামি রিপনকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে, বিদেশ যেতে পারবেন না। সেই সঙ্গে তদন্তকাজে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।

রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার বোনের করা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের মামলা থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন এক আসামি।

বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর, তার বাবা, মা, স্ত্রীসহ এই মামলার আসামি আটজন। এর মধ্যে ইব্রাহিম আহমেদ রিপনকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

জামিন শর্তে আদালত বলেছে, রিপনকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে, বিদেশ যেতে পারবেন না। সেই সঙ্গে তদন্তকাজে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।

আদালতে ইব্রাহিম আহমেদ রিপনের পক্ষে শুনানি করেন নাহিদ সুলতানা যুথি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

পরে জামিনের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর।

কলেজ ছাত্রী মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এ গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলাটি করেন তার বড় বোন নুশরাত জাহান তানিয়া।

মামলাটিতে আট আসামি হলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, আনভীরের মা আফরোজা সোবহান, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনাসহ শারমিন, সাইফা রহমান মিম, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও ইব্রাহিম আহমেদ রিপন।

মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর আগে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের দিনই আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে বসুন্ধরার এমডি আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তার বোন নুশরাত। গত ১৮ আগস্ট ওই মামলা থেকে অব্যাহতি পান আনভীর।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের আগে ঢাকায় ফেরা যাবে কি
ঢাকাগামী গাড়ির জট: কাজিপুরে শতাধিক বাস আটক
‘বাড়ি গেলে সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে’
মাছ ধরার ট্রলারে পদ্মা পাড়ি, জব্দ ১৩ ট্রলার
ফেরি বন্ধে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দ্বিগুণ গাড়ি

শেয়ার করুন