বিদেশি মুদ্রাসহ আটক তুরস্কগামী যাত্রী রিমান্ডে

বিদেশি মুদ্রাসহ আটক তুরস্কগামী যাত্রী রিমান্ডে

সোমবার টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে তুরস্ক যাওয়ার সময় জাহাঙ্গীর গাজীকে আটক করে বিমানবন্দরে নিয়োজিত আর্মড পুলিশ। তার ব্যাগের ভেতরে লুকানো আটটি দেশের মুদ্রা পাওয়া যায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এসবের বাজার মূল্য ২ কোটি ৫২ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩০ টাকা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আড়াই কোটি টাকার বেশি মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রাসহ গ্রেপ্তার তুরস্কগামী যাত্রী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর গাজীকে দুদিনের জন্য রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আসামিকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে ১০ দিনের জন্য রিমান্ডে পেতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কবির হোসেন।

এসময় আদালতে আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

শুনানি শেষে ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম আশেক ইমাম দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেন বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন আদালতে বিমানবন্দর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এএসআই বেলাল উদ্দিন।

সোমবার টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে তুরস্ক যাওয়ার সময় জাহাঙ্গীর গাজীকে আটক করে বিমানবন্দরে নিয়োজিত আর্মড পুলিশ।

পুলিশ জানায়, এই যাত্রী আগে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। সোমবার ভোর সাড়ে ৬টায় ইমিগ্রেশন শেষে উড়োজাহাজে ওঠার আগ মুহূর্তে তাকে আটক করা হয়।

তার সঙ্গে মুদ্রা থাকার কথা জিজ্ঞাসা করলে জাহাঙ্গীর গাজী অস্বীকার করেন। পরে তল্লাশি করা হলে তার ব্যাগের ভেতরে লুকানো আটটি দেশের মুদ্রা পাওয়া যায়। এরমধ্যে ১১ লাখ ৬৫ হাজার সৌদি রিয়াল ছিল।

এ ছাড়া ইউএস, মালয়েশিয়া, ইউরো, ওমান, কুয়েত, থাইল্যান্ড, দুবাইয়ের মুদ্রা ছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এসবের বাজার মূল্য ২ কোটি ৫২ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩০ টাকা।

আরও পড়ুন:
স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার সৌদিফেরত যাত্রী রিমান্ডে
সৌদিফেরত যাত্রীর কাছে ৩ কোটি টাকার সোনা
স্ক্যানে বেরিয়ে এলো রিয়াল, ইউরো, দিরহাম
তুরস্ক থেকে আসা ফ্লাইটে ১৪ কেজি তরল স্বর্ণ
৬ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৫৪ মাসেও

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রামপুরায় বাস চাপায় নিহত মাইনুদ্দীনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রামপুরায় বাস চাপায় নিহত মাইনুদ্দীনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

বাস চাপায় নিহত শিক্ষার্থী মাইনুদ্দীন।

রামপুরা থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ছয়টার দিকে মাইনুদ্দীনের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হয়। সুরতহাল শেষে, দুপুরে ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল নাঈমা মরদেহ ময়নাতদন্ত করেন।

রাজধানীর রামপুরায় বাস চাপায় নিহত শিক্ষার্থী মো. মাইনুদ্দীন ইসলামের (দুর্জয়) মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ রামপুরা তিতাস রোডে তার বাড়িতে নেয়া হয়েছে।

রামপুরা থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ছয়টার দিকে মাইনুদ্দীনের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হয়। সুরতহাল শেষে, দুপুরে ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল নাঈমা মরদেহ ময়নাতদন্ত করেন।

নিহতের ভাই মনির জানান, তিতাস রোড এলাকায় জানাজা শেষে তার ভাইকে গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার হালুয়াপাড়া গ্রামে নেয়া হচ্ছে। সেখানে দ্বিতীয় বার জানাজা শেষে এলাকার কবরস্থানে ভাইকে দাফন করা হবে।

তিনি বলেন, সোমবার তার ভাইয়ের ১৮ তম জন্মদিন ছিল। রাতে সে রামপুরার পলাশবাগে এক শিক্ষকের বাসায় যায় দেখা করতে। এর কিছুক্ষণ পরেই তাদের কাছে ফোন করে একজন জানান, মাইনুদ্দীন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তার ওপর ভাইয়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি জানান, দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মাইনুদ্দীন ছিল সবার ছোট।

রাজধানীর রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় নিহত মাইনুদ্দীন একরামুন্নেসা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে তারা বেশ কয়েকটি বাসে আগুন দেয় এবং ভাঙচুর করে।

আরও পড়ুন:
স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার সৌদিফেরত যাত্রী রিমান্ডে
সৌদিফেরত যাত্রীর কাছে ৩ কোটি টাকার সোনা
স্ক্যানে বেরিয়ে এলো রিয়াল, ইউরো, দিরহাম
তুরস্ক থেকে আসা ফ্লাইটে ১৪ কেজি তরল স্বর্ণ
৬ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৫৪ মাসেও

শেয়ার করুন

সাবেক পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রীর ৪ বছরের কারাদণ্ড

সাবেক পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রীর ৪ বছরের কারাদণ্ড

সাজাপ্রাপ্ত মাহমুদা খানম স্বপ্না পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সম্পদের তথ্য গোপন, জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রীকে আলাদা দুইটি ধারায় চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করে।

সাজাপ্রাপ্ত মাহমুদা খানম স্বপ্না পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার শরীফুল ইসলাম।

তিনি জানান, রায়ে মাহমুদা খানম স্বপ্নাকে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৭ (১) ধারায় তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২১ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৫ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অবৈধভাবে অর্জিত ২১ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৫ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয় আদালত।

২০১৫ সালের ১৪ মে দুদকে হিসাবের বিবরণী জমা দেন মাহমুদা। সেখানে তিনি ১৭ লাখ ৬২ হাজার ১৮৩ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন এবং এক কোটি ৭১ লাখ তিন হাজার ৪৫ টাকার সম্পদের মধ্যে ৪১ লাখ ৪১ হাজার ২৬৯ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন করে তা দখলে রাখেন।

এ অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক আবুবকর সিদ্দিক ২০১৬ সালের ২৯ জুন রমনা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে কমিশনের উপসহকারী পরিচালক নাজিম উদ্দিন ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

আরও পড়ুন:
স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার সৌদিফেরত যাত্রী রিমান্ডে
সৌদিফেরত যাত্রীর কাছে ৩ কোটি টাকার সোনা
স্ক্যানে বেরিয়ে এলো রিয়াল, ইউরো, দিরহাম
তুরস্ক থেকে আসা ফ্লাইটে ১৪ কেজি তরল স্বর্ণ
৬ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৫৪ মাসেও

শেয়ার করুন

নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: রাহুল শর্মা/নিউজবাংলা

বিআরটিএ ভবনের সামনে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘ছাত্ররা মরবে কেন প্রশাসন জবাব চাই’য়ের মতো বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

সড়কে নিরাপত্তা বাড়াতে ৯ দফা দাবিতে রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে বিআরটিএ ভবনের সামনে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেয় তারা।

ওই সময় শিক্ষার্থীরা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘ছাত্ররা মরবে কেন প্রশাসন জবাব চাই’য়ের মতো বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

৯ দফা দাবি

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবি জানান।

নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

১. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শিক্ষার্থীসহ সব সড়ক হত্যার বিচার করতে হবে ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

২. ঢাকাসহ সারা দেশে সকল গণপরিবহনে (সড়ক, নৌ, রেলপথ ও মেট্রোরেল) শিক্ষার্থীদের হাফ পাস নিশ্চিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

৩. গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য যথাস্থানে ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুততর সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সব যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিকের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

৫. পরিকল্পিত বাস স্টপেজ ও পার্কিং স্পেস নির্মাণ ও যথাযথ ব্যাবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।

৬. দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ও যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মহলকে নিতে হবে।

৭. বৈধ ও অবৈধ যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধতার আওতায় আনতে হবে এবং বিআরটিএর সব কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

৮. আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঢাকাসহ সারা দেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অবিলম্বে স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিকায়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৯. ট্রাফিক আইনের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে হবে।

বাস ভাড়া অর্ধেকসহ নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের এ আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি জানায়, ঢাকা মহানগরে কিছু শর্তসাপেক্ষে হাফ ভাড়ায় চলতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার সৌদিফেরত যাত্রী রিমান্ডে
সৌদিফেরত যাত্রীর কাছে ৩ কোটি টাকার সোনা
স্ক্যানে বেরিয়ে এলো রিয়াল, ইউরো, দিরহাম
তুরস্ক থেকে আসা ফ্লাইটে ১৪ কেজি তরল স্বর্ণ
৬ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৫৪ মাসেও

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অচল ঢাকায় চরম দুর্ভোগ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অচল ঢাকায় চরম দুর্ভোগ

দীর্ঘ সময় বাসে বসে থেকে এক সময় নেমে হেঁটেই রামপুরা থেকে আমিজপুর রওনা দেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। ছবি: নিউজবাংলা

সকাল ১০টার দিকে রামপুরা ব্রিজ এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। নিরাপদ সড়ক, শিক্ষার্থী নিহতের বিচার দাবি, গণপরিবহনে হাফ ভাড়া দাবিসহ বেশ কিছু দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করেন।

রাজধানীর রামপুরায় সোমবার রাতে বাসের চাপায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল থেকে সেখানে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সে সঙ্গে বিক্ষোভ হয়েছে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মতিঝিল, সায়েন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড এলাকায়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ পথচারীরা।

নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি অনেকেই। গাড়িতে অপেক্ষা করে যখন আর চলছিলই না তখন অনেকেই হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন।

ভোগান্তির এমন দৃশ্য ছিল সারা ঢাকাতেই।

সকাল ১০টার দিকে রামপুরা ব্রিজ এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। নিরাপদ সড়ক, শিক্ষার্থী নিহতের বিচার দাবি, গণপরিবহনে হাফ ভাড়া দাবিসহ বেশ কিছু দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করেন।

রামপুরায় অবরোধের পর সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে রামপুরা থেকে কোনো দিকেই কোনো গাড়ি আর চলতে পারছে না।

বনশ্রী-রামপুরা, রামপুরা-মালিবাগ, মেরুল বাড্ডা, গুলশান লিংকরোড, উত্তর বাড্ডা-শাহাজাদপুর, হাতিরঝিল এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বিক্ষোভের প্রভাবে। যার রেশ পড়েছে প্রগতি সরণিসহ উত্তরার রাস্তাতেও।

সড়ক অবরোধ করে যানবাহনের ফিটনেস সনদ ও চালকদের লাইসেন্সও যাচাই করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।

কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে তাদের ট্রাফিক পুলিশের কাছে নিয়ে মামলা দিতে বলছেন তারা।

রামপুরা এলাকায় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সড়কে জরুরি কাজে নিয়োজিত গাড়িগুলোর জন্য রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছেন।

রামপুরা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক পায়ে হেঁটে পাড়ি দিচ্ছেন সাধারণরা।

হেঁটে বাড্ডা থেকে রামপুরা ব্রিজ পার হচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব শ্যামল দাস। তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন বারিধারায়। সেখান থেকে আজিমপুরের বাসায় ফিরতে গিয়ে বাড্ডায় ভয়াবহ যানজটে পড়েছেন। উপায় না দেখে স্ত্রীকে নিয়ে হাঁটা শুরু করেন।

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অচল ঢাকায় চরম দুর্ভোগ

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আজিমপুর যাব। আমি আর আমার স্ত্রী বয়স্ক মানুষ, হাঁটতে পারি না। আবার রাস্তাও চিনি না। কিন্তু ছাত্ররা আমাদের গাড়ি যেতে দেবে না, তাই নেমে হাঁটছি। কিন্তু কোনদিকে যাব বুঝতে পারছি না।’

পরে প্রতিবেদকের সহযোগিতায় তারা হাতিরঝিল থেকে আজিমপুর চলে যান।

অসুস্থ্য ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন নাজমা বেগম। ছেলের প্রচণ্ড জ্বর। তাকে নিয়ে বনশ্রী এলাকার একটি হাসপাতালে যাচ্ছেন তিনি।

বলেন, ‘আমি একটা সিএনজি করে যাচ্ছিলাম, কিন্তু জ্যামের কারণে এগুতে পারছিলাম না। এর মধ্যে ছেলেটা বমিও করেছে। তাই বাধ্য হয়ে কিছুটা হেঁটে রামপুরা ব্রিজ পার হয়ে একটা রিকশা নিলাম।’

পুরো সড়কে কোন যানবাহন না থাকায় পায়ে হেঁটেই রামপুরা মালিবাগ সড়ক পাড়ি দিচ্ছেন সাধারণরা। মাঝে কিছু রিকশা পাওয়া গেলেও আকাশ ছোঁয়া ভাড়া চাওয়ায় অনেকেই আর তাতে যাচ্ছেনও না।

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অচল ঢাকায় চরম দুর্ভোগ

রামপুরা পুলিশ বক্সের সামনে এক রিকশাচালকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে তর্কে জড়াতে দেখা গেল একজন চাকরিজীবীকে। তিনি রামপুরা থেকে গুলিস্তান যাবেন। রিকশাচালক ভাড় চাইলেন ২৫০ টাকা। আরেকজন সেখান থেকে মালিবাগ পর্যন্ত ভাড়া হাঁকছেন ১০০ টাকা।

বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে মিরপুর-নিউমার্কেট সড়কে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি শুরু করেন। এতে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

মিরপুর-নিউমার্কেট সড়কের জটের প্রভাব পড়ে সংসদ ভবনের সামনের রাস্তা মানিক মিয়া এভিনিউয়ে। সেখানেও গাড়ির সারি দেখা যায়।

লোকজন বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন।

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিলেও রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পর শাপলা চত্বর এলাকায় নেমে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবির পাশাপাশি নটর ডেম, একরামুন্নেছার শিক্ষার্থী নিহতের বিচার দাবি করেন।

এসময় শিক্ষার্থীরা মিডলাইন পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুর করেন।

শিক্ষার্থীরা মোহাম্মদপুর এলাকাতেও রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। নিরাপদ সড়ক চাই, শিক্ষার্থী নিহতের বিচারসহ কয়েকটি দাবি জানান তারা।

সহপাঠী হত্যার বিচার চেয়ে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও নীলক্ষেত এলাকায়ও বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

সেখানে শিক্ষার্থীদের উই ওয়ান্ট জাস্টিস; নিরাপদ সড়ক চাইসহ নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করলে কলেজের শিক্ষকরা তাদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বাধ্য করেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানান, তারা বিক্ষোভ শুরু করলে কিছু পরেই তাদের শিক্ষকরা গিয়ে মারমুখী আচরণ করে তাদের সরে যেতে বাধ্য করেন। পরে অবশ্য অন্য কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে তারা তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

এদিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে নিরাপদ সড়কসহ ৯ দফা দাবিতে বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বেলা ১টা ২৫ মিনিটে বনানীর বিআরটিএ ভবনের সামনে ছাত্ররা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অচল ঢাকায় চরম দুর্ভোগ

এ সময় ছাত্ররা নিরাপদ সড়ক চাই; ছাত্ররা মরবে কেন, প্রশাসন জবাব চাইসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিআরটিএর কাছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন নিয়ে আবদুল কাদের নামের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর হয়েছে তাহলে আবার আন্দোলন কেন? এসব করে সাধারণদের ভোগান্তি বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই মিলবে না।’

তনিমা হামিদ নামের একজন চিকিৎসক বলেন, ‘ছাত্রদের দাবি সবার আগে প্রাধান্য দেয়া উচিত সরকারের। তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো সাথে সাথে মেনে নিলেইতো হয়। ছাত্রদের রাস্তায় কেন থাকতে হবে।’

আরও পড়ুন:
স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার সৌদিফেরত যাত্রী রিমান্ডে
সৌদিফেরত যাত্রীর কাছে ৩ কোটি টাকার সোনা
স্ক্যানে বেরিয়ে এলো রিয়াল, ইউরো, দিরহাম
তুরস্ক থেকে আসা ফ্লাইটে ১৪ কেজি তরল স্বর্ণ
৬ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৫৪ মাসেও

শেয়ার করুন

নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ, সতর্ক পুলিশ

নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ, সতর্ক পুলিশ

নয়া পল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতা-কর্মীদের সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে নয়াপল্টনে দুপুর ১টায় সমাবেশ শুরু হয়। নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন বেলা ১১টা থেকেই।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করছে দলটির নেতা-কর্মীরা। সমাবেশের চার পাশে সতর্ক অবস্থান নিয়ে আছে পুলিশ।

পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে নয়াপল্টনে দুপুর ১টায় সমাবেশ শুরু হয়। নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন বেলা ১১টা থেকেই।

দলীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ বানানো হয়েছে। সমাবেশের সভাপতিত্বে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান। প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সমাবেশ ঘিরে পল্টন ও আশপাশে বাড়তি পুলিশ মোতায়েত রয়েছে। সমাবেশ থেকে যেন কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য এই প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানান মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার আ. আহাদ।

সমাবেশ ঘিরে পল্টন ও আশপাশে বাড়তি পুলিশ মোতায়েত রয়েছে। সমাবেশ থেকে যেন কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য এই প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানান মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার আ. আহাদ।

নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ, সতর্ক পুলিশ

তিনি বলেন, ‘সড়কের ওপর সমাবেশ হওয়ায় সকাল থেকেই বিএনপি কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ। বিপরীত পাশের সড়কে অল্প কিছু যান চলাচল করছে। আমাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছে। সাদা পোশাকেও গোয়েন্দারা আছেন।’

বিএনপি থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকার পাশাপাশি নেত্রীর মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশ দেয়ার দাবিতে দেশের অন্য বিভাগগুলোতেও নেতাকর্মীরা সমাবেশ করছেন।

আরও পড়ুন:
স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার সৌদিফেরত যাত্রী রিমান্ডে
সৌদিফেরত যাত্রীর কাছে ৩ কোটি টাকার সোনা
স্ক্যানে বেরিয়ে এলো রিয়াল, ইউরো, দিরহাম
তুরস্ক থেকে আসা ফ্লাইটে ১৪ কেজি তরল স্বর্ণ
৬ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৫৪ মাসেও

শেয়ার করুন

রামপুরায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় হবে একাধিক মামলা

রামপুরায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় হবে একাধিক মামলা

রামপুরায় বাসচাপায় স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চালককে গতরাতে গুরুতর আহত অবস্থায় আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। আমার তার সাথে কথা বলার সুযোগ পাইনি, সে অল্প সময়ের মধ্যেই জ্ঞান হারান। তবে ওই সময় তার নাম জানতে চাওয়ায় সে অস্পষ্ট স্বরে জানায় তার নাম সোহেল। এরপর আর কথা বলেনি। প্রাথমিকভাবে তার বয়স জানা গেছে ৩৫ বছর।’

রামপুরায় অনাবিল বাস চাপায় শিক্ষার্থী মঈনুদ্দিন নিহতের ঘটনা ও পরে নাশকতার ঘটনায় একাধিক মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

এর মধ্যে সড়ক পরিবহন আইনের ধারায় একটি ও নাশকতার একটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন রামপুরা থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘সোমবার রাতে বাসচাপায় ছাত্র নিহতের ঘটনাটি সেখানেই থেমে থাকেনি। এই ঘটনার জেরে পরে বেশ কয়েকটি বাসে আগুন দেয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এখানে নাশকতার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

কয়টি মামলা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাসচাপায় ছাত্র মারা যাওয়ায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা হবে। সেটা ওই ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে হতে পারে। এই মামলায় চালক-হেলপার ও তদন্ত সাপেক্ষে মালিককেও আসামি করা হতে পারে।’

নাশকতার ঘটনায় একটি মামলা পুলিশ বাদী হয়ে করবে বলে জানান তিনি।

এই ঘটনায় বাসচালক সোহেল রানা ও হেলপার চাঁন মিয়াকে আটক করা হয়েছে।

বাসচালক গণপিটুনির শিকার হয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাসের সহকারী চাঁন মিয়াকে সকালে সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৩।

তাদের দুইজন সম্পর্কে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চালককে গতরাতে গুরুতর আহত অবস্থায় আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। আমার তার সাথে কথা বলার সুযোগ পাইনি, সে অল্প সময়ের মধ্যেই জ্ঞান হারান। তবে ওই সময় তার নাম জানতে চাওয়ায় সে অস্পষ্ট স্বরে জানায় তার নাম সোহেল। এরপর আর কথা বলেনি। প্রাথমিকভাবে তার বয়স জানা গেছে ৩৫ বছর।’

তিনি আরও বলেন, ‘হেলপার চান মিয়াকে র‍্যাব আটক করেছে বলে আমরা শুনেছি, যাচাই বাছাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে আমরা গ্রেপ্তার দেখাব।’

আরও পড়ুন:
স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার সৌদিফেরত যাত্রী রিমান্ডে
সৌদিফেরত যাত্রীর কাছে ৩ কোটি টাকার সোনা
স্ক্যানে বেরিয়ে এলো রিয়াল, ইউরো, দিরহাম
তুরস্ক থেকে আসা ফ্লাইটে ১৪ কেজি তরল স্বর্ণ
৬ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৫৪ মাসেও

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অচল রামপুরা

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অচল রামপুরা

বাসচাপায় ছাত্র নিহতের ঘটনায় রামপুরা ব্রিজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

রামপুরা থানা ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলন করতে ছাত্ররা রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।’

রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকালে রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুলের ছাত্ররা।

তাদের সঙ্গে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হচ্ছে। এতে রামপুরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের তথ্য নিশ্চিত করেছেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অচল রামপুরা
রামপুরায় বাসচাপায় ছাত্র নিহতের বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন করতে ছাত্ররা রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ইয়াছিন বলেন, ‘আমাদের দাবি নির্দিষ্ট, যেসব গাড়ি চলে সেগুলোর ফিটনেস থাকতে হবে। তারা যেন সর্বনিম্ন এসএসসি পাস হন। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়োগ দিতে হবে। এমনকি মাদকাসক্ত কিনা সেটা পরীক্ষা করতে হবে।’

এসব দাবি মানা না হলে সারা দিন এমনকি আগামীকালও আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।

সোমবার রাতে রামপুরায় বাসের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর অন্তত ৮টি বাস পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে আরও চারটি বাস।

রাজধানীতে বেশ কিছুদিন থেকেই হাফ ভাড়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম। তার নিহতের ঘটনার বিচার দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আসছিলেন।

আরও পড়ুন:
স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার সৌদিফেরত যাত্রী রিমান্ডে
সৌদিফেরত যাত্রীর কাছে ৩ কোটি টাকার সোনা
স্ক্যানে বেরিয়ে এলো রিয়াল, ইউরো, দিরহাম
তুরস্ক থেকে আসা ফ্লাইটে ১৪ কেজি তরল স্বর্ণ
৬ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৫৪ মাসেও

শেয়ার করুন