লবণের ট্রাকে ইয়াবা: আটক ২

লবণের ট্রাকে ইয়াবা: আটক ২

জব্দ করা ইয়াবা। ছবি: সংগৃহীত

‘আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ার শেরপুর থেকে ১৪ থেকে ১৫ টন চাল কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যেত। ফেরার পথে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকা, গাজিপুর, রাজশাহী, রংপুর ও বগুড়া অঞ্চলের ইয়াবা কারবারীদের কাছে পৌঁছে দিত। এবার নাপিতখালি, টেকনাফ থেকে ১৩.৫ টন লবণ নিয়ে আসার সময় এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কৌশলে বহন করে নিয়ে আসে।’

লবণ ভর্তি ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।

আটককৃতরা হলেন—বাচ্চু মিয়া ও সুলতান মাহমুদ।

এরা সম্পর্কে দুলাভাই ও শ্যালক। তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান জানান, ‘আন্তঃজেলায় চলাচলকারী একটি লবণভর্তি ট্রাকের মধ্যে ইয়াবা নিয়ে আসছে বলে তথ্য পাই।’

‘এ তথ্যের ভিত্তিতে খিলক্ষেত কুরাতলী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে ট্রাকটি আটক করে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে ট্রাকের বিভিন্ন পার্টসের মধ্যে ও সিটের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ জনকে আটক করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ার শেরপুর থেকে ১৪ থেকে ১৫ টন চাল কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যেত। ফেরার পথে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকা, গাজিপুর, রাজশাহী, রংপুর ও বগুড়া অঞ্চলের ইয়াবা কারবারীদের কাছে পৌঁছে দিত। এবার নাপিতখালি, টেকনাফ থেকে ১৩.৫ টন লবণ নিয়ে আসার সময় এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কৌশলে বহন করে নিয়ে আসে।’

মশিউর রহমান বলেন, ‘আসন্ন ঈদুল আযহার সময় চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রচুর পরিমাণে লবণের দরকার হয়। সেজন্য ঈদুল আযহার সময় লবণ একটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ বিবেচনা করে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা এবং মেট্রোর ট্রাফিক পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে থাকে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আটককৃতরা বিশাল এই চালান নিয়ে আসছিল।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা এর আগে তিনটি চালান কৌশলে পৌঁছে দেয়ার কথা স্বীকার করেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও গোয়েন্দা এই কর্মকর্তা জানান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আইস পাচারে নতুন কৌশল, ধরা পড়লে টাকা মাফ

আইস পাচারে নতুন কৌশল, ধরা পড়লে টাকা মাফ

আইস পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার খোকন ও রফিক। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আইসের চালান যদি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে তাহলে মিয়ানমারের কারবারিরা তার দাম নেয় না। নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানোর পর হুন্ডির মাধ্যমে আইসের চালানের দাম পাঠানো হতো মিয়ানমারে। কখনও চায়ের প্যাকেটে, কখনও আচারের প্যাকেটে করে নানা কৌশল ব্যবহার করে আনা হয় আইস।’

ইয়াবার পর বাংলাদেশে অবৈধ দামি মাদক ক্রিস্টাল মেথের (আইস) বাজার ধরতে নতুন কৌশল নিয়েছে মিয়ানমারের মাদক কারবারিরা। বাংলাদেশের মাদক কারবারিদের উৎসাহিত করতে অগ্রিম টাকা ছাড়াই আইসের চালান পাঠিয়ে দিচ্ছে তারা।

চালান নিরাপদে বাংলাদেশের মাদক কারবারির হাতে পৌঁছানোর পরই তারা টাকা নিচ্ছে। আইসের চালান যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধরে ফেলে তাহলে এর দামও নেয় না মিয়ানমারের কারবারিরা।

এই কৌশলের কারণে সম্প্রতি আইসের চাহিদা ও সরবরাহ বেড়েছে বাংলাদেশে। প্রায়ই ধরা পড়ছে মাদকটির ছোট ছোট চালান৷

তবে র‍্যাবের অভিযানে ক্রিস্টাল মেথের (আইস) সবচেয়ে বড় চালানটি ধরা পড়েছে শনিবার। এদিন ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের আইস জব্দ করেছে বাহিনী। বিদেশি অস্ত্র ও গুলিসহ টেকনাফ আইস সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হোছেন খোকন ও তার সহযোগী মোহাম্মদ রফিককে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছে র‍্যাব।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বাহিনীটি। সেখানে আইসের ব্যবসা ও এর সিন্ডিকেট সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তারা অবৈধভাবে নৌপথ ব্যবহার করে মিয়ানমারে গিয়ে সেখানকার মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলছে। মিয়ানমারের কারবারিরাও বাংলাদেশের কারবারিদের যুক্ত করতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল নিয়েছে।

‘আইসের চালান যদি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে তাহলে মিয়ানমারের কারবারিরা তার দাম নেয় না। নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানোর পর হুন্ডির মাধ্যমে আইসের চালানের দাম পাঠানো হতো মিয়ানমারে। কখনও চায়ের প্যাকেটে, কখনও আচারের প্যাকেটে করে নানা কৌশল ব্যবহার করে আনা হয় আইস।’

আইস পাচারে নতুন কৌশল, ধরা পড়লে টাকা মাফ
গ্রেপ্তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচ কেজি আইস। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাবের এই মুখপাত্র জানান, গ্রেপ্তার খোকন নৌপথে নিয়মিত মিয়ানমার যেতেন। তিনি ও তার সহযোগী পাঁচ বছর ধরে ইয়াবা কারবারে সঙ্গে জড়িত। তবে বেশি লাভের কারণে কয়েক মাস ধরে আইসের কারবারে জড়িয়ে পড়েন তারা। খোকন টেকনাফকেন্দ্রিক মাদক কারবারে জড়িত সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘এই সিন্ডিকেটে ২০ থেকে ২৫ জন রয়েছেন। প্রথমে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার সমুদ্রপথ দিয়ে মাদকের চালান মিয়ানমার থেকে টেকনাফ নিয়ে আসে খোকন। সেখান থেকে অটোরিকশার চালকের ছদ্মবেশে থাকা রফিক মাদকটি এনে তার বাসায় প্রাথমিকভাবে রাখতো। পরে ছোট ছোট ভাগে সেগুলো চট্টগ্রামে পাঠানো হতো। সুযোগমতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হতো মাদকের চালান।’

তিনি বলেন, ‘রাজধানীর গুলশান, বনানী, মিরপুর, মোহাম্মদপুরকেন্দ্রিক আইসের চাহিদা তৈরি হয়েছে। এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারা শহরে সরবরাহের জন্যই আইসের এই বড় চালানটি নিয়ে আসা হয়। চালানটি দেয়ার পর তারা টাকা সংগ্রহ করত। তবে এর আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে জড়িতরা।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আমরা এই সিন্ডিকেটের অনেকের নাম পেয়েছি। এদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে।’

গ্রেপ্তার খোকনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলছে বলেও র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন।

শেয়ার করুন

নাইটিঙ্গেলে পুলিশের ওপর হামলা: আটক ৬, মামলা হচ্ছে

নাইটিঙ্গেলে পুলিশের ওপর হামলা: আটক ৬, মামলা হচ্ছে

বায়তুল মোকাররম থেকে বের হয়ে স্লোগান দেয়া মুসল্লিদের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আ. আহাদ বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের হামলায় আমাদের ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলার অপরাধে পল্টন থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।’

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের আগে গেট বন্ধকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ছয় জনকে আটক করা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আ. আহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের হামলায় আমাদের ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলার অপরাধে পল্টন থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।’

জুমার নামাজের আগে গেট বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা শুরু হয়।

নাইটিঙ্গেলে পুলিশের ওপর হামলা: আটক ৬, মামলা হচ্ছে
বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের আগে গেট বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বেলা ১টা ২৫ মিনিটে মসজিদের উত্তর পাশের একটি গেট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ওই সময় একজন নিরাপত্তারক্ষী গেটটি বন্ধ করে দিলে নামাজ পড়তে আসা একদল মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ওই নিরাপত্তারক্ষীকে ধাওয়া দেন উত্তেজিত লোকজন। ইসলামী ফাউন্ডেশনের গেটের দিকে ছুটলে নিরাপত্তারক্ষীকে রক্ষা করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। পরে বন্ধ করে দেয়া গেটের তালা ইট দিয়ে ভেঙে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা।

নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই একটি দল মিছিল নিয়ে পল্টন মোড় হয়ে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা নানা স্লোগান দিতে থাকেন। নাইটিঙ্গেল মোড়ে পুলিশের বাধায় পড়তে হয় তাদের।

এর পরপরই বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস।

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার বায়েজিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের একটি দল মিছিল নিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে পল্টন হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে আসে। এ সময় তাদের পুলিশ ব্যারিকেড দেয়।’

‘পুলিশি বাধা অতিক্রম করতে তারা ইটপাটকেল ও লাঠি দিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালান। আক্রমণ প্রতিহত করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।’

তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের হামলায় অন্তত ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে তিন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি পল্টন মোড় থেকেও একজনকে আটক করা হয়।

নাইটিঙ্গেলে পুলিশের ওপর হামলা: আটক ৬, মামলা হচ্ছে
জুমার নামাজের আগে গেট বন্ধকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ছয় জনকে আটক করা হয়েছে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে বেলা আড়াইটা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। যান চলাচলও শুরু হয় বন্ধ থাকা সড়কটিতে।

কুমিল্লার ঘটনা ও দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেন পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।

শেয়ার করুন

প্রার্থীর পরিচয় গোপনকারীদের শাস্তি চান নানক

প্রার্থীর পরিচয় গোপনকারীদের শাস্তি চান নানক

জাহাঙ্গীর কবির নানক।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দিরে হামলার ঘটনায় চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন বলে বেরিয়ে আসে। পরে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

আওয়ামী লীগের যেসব নেতা বিতর্কিত প্রার্থীদের পরিচয় গোপন করে মনোনয়ন বোর্ডে ইউপি প্রার্থীদের তালিকা পাঠিয়েছেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা কথা বলেন তিনি। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অভিযুক্ত দলের বিতর্কীত প্রার্থীদের প্রসঙ্গও টেনে আনেন নানক।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দিরে হামলার ঘটনায় চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন বলে বেরিয়ে আসে। পরে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

এ প্রসঙ্গে নানক বলেন, ‘এটি অবশ্যই শঙ্কার বিষয়। তবে আমার কথা হলো- আমাদের মনোনয়নের ব্যাপারে কতগুলি স্তর পার করে চূড়ান্ত তালিকা স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের কাছে আছে। কাজেই এদেরকে যারা চিহ্নিত করে নাই অথবা এদের পরিচয় যারা গোপন রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন সংবাদে এটাই প্রমাণ করে এরা ঢুকে পড়েছে। শুধু ঢুকেই পড়ে নাই, এরা বিভিন্ন নেতাদের কাঁধে সহায় হয়েছে। কাজেই, যে নেতার কাঁধে সহায় হয়েছে সে নেতাকে ঘাড় ধরে দল থেকে বের করে দেয়া উচিত।’

এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য দুর্গাপূজাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলেও দাবি করেন নানক।

কুমিল্লার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই কোরআন শরীফ রেখে কুমিল্লা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের কয়েকটি এলাকায় তারা হিন্দু সমাজের ওপর হামলা ও মূর্তি ভাঙচুর করেছে। এটি একটি সুগভীর ধর্মীয় উগ্রবাদী, মৌলবাদীদের ষড়যন্ত্র।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, অন্যায় করে কেউ পার পাবে না।’

শেয়ার করুন

বাসের সংঘর্ষে আহত দুই কাবাডি খেলোয়াড়

বাসের সংঘর্ষে আহত দুই কাবাডি খেলোয়াড়

কাবাডি ফেডারেশনের আহত দুই নারী সদস্য। ছবি: নিউজবাংলা

কাবাডি ফেডারেশনের টিম ম্যানেজার মনি আহাম্মেদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কাবাডি স্টেডিয়ামে খেলা শেষে আশিয়ান সিটির বাসে করে তারা নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। গুলিস্তান হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজার সামনে দুটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন যাত্রীসহ তারা দুজন আহত হন।

রাজধানীর গুলিস্তান ফ্লাইওভারের টোল বক্সের পাশে দুই বাসের সংঘর্ষে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের ২ নারী সদস্য আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন সোনিয়া আক্তার ও হাসনা আক্তার।

কাবাডি ফেডারেশনের টিম ম্যানেজার মনি আহাম্মেদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কাবাডি স্টেডিয়ামে খেলা শেষে আশিয়ান সিটির বাসে করে তারা নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। গুলিস্তান হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজার সামনে দুটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন যাত্রীসহ তারা দুজন আহত হন।

তাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান মনি আহাম্মেদ।

তিনি বলেন, ‘আজ তারা দুজন ছুটি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। যাত্রাপথে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গুলিস্তান হানিফ ফ্লাইওভার উপর টোল প্লাজার সামনে দুই বাসের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হকি ফেডারেশনের দুই নারী সদস্যকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন

আইস-ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার শাশুড়ি-জামাতা কারাগারে

আইস-ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার শাশুড়ি-জামাতা কারাগারে

তাদের গ্রেপ্তারের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ধানমন্ডি থানায় শুক্রবার মামলা করে। পরে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ।

রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে বিপুল পরিমাণে আইস, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার জামাই-শাশুড়িকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ওই দুজন হলেন শাশুড়ি আরাফা আক্তার ও জামাতা মো. রবিন।

তাদের গ্রেপ্তারের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ধানমন্ডি থানায় শুক্রবার মামলা করে। পরে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা মো. জুলফিকার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডি এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে আরাফা আক্তার ও তার জামাতা রবিনকে আটক করা হয়। এর আগে আরাফা আক্তারের স্বামীকে আইস মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

শেয়ার করুন

অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি হাফিজুল আলমকে নিয়োগ

অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি হাফিজুল আলমকে নিয়োগ

বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম।ছবি: সংগৃহীত

চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের সদস্য ছিলেন বিচারপতি আমির হোসেন ও বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার। এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি আমির হোসেন গত ২৪ আগস্ট মারা যান। এরপর পদটি খালি হয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম। এর ফলে বিচার কাজ আবার শুরু হওয়ার পথে বাধা কাটল

রাষ্ট্রপতির আদেশে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি আমির হোসেন এর মৃত্যুজনিত কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন (ট্রাইব্যুনাল) ১৯৭৩ এর ধারা ৬ (৪) এর বিধান অনুযায়ী সরকার উদস্য পদটি শূন্য ঘোষণাসহ পদটিতে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে, এম, হাফিজুল আলম-কে নিয়োগ দেয়।

বিচারক কে এম হাফিজুল আলম ২০০২ সালের ২৯ জানুয়ারি জেলা জজ আদালতে, ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

২০১৮ সালের ৩১ মে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। দুই বছর পর তার পদ স্থায়ী হয়।

চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের সদস্য ছিলেন বিচারপতি আমির হোসেন ও বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার।

এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি আমির হোসেন গত ২৪ আগস্ট মারা যান। এরপর পদটি খালি হয়ে যায়।

ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী তিন জন বিচারক যুক্ত না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বিচার কাজ বন্ধ ছিল।

শেয়ার করুন

কষ্ট ভুলে হাসিমুখে দেবীকে বিদায়

কষ্ট ভুলে হাসিমুখে দেবীকে বিদায়

পুরান ঢাকার সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির থেকে আসা প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

হিন্দু ধর্মালম্বীদের মতে, ‘বিজয়া দশমী’কথাটির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বাঙালির আবেগ ও মনখারাপ মিশ্রিত একটি অনুভূতি। দশমী এলেই বাঙালির মনে আসে মায়ের ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা। সাধারণত দুর্গাপূজার অন্ত হয় দশমীর মাধ্যমেই। এই দিনেই মা দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও একটি বছর।

সব অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে কৈলাসে স্বামী মহাদেবের কাছে ফিরে গেলেন দেবী দুর্গা। শুক্রবার বিজয়া দশমীর মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

বিকেল ৪টা থেকে পুরান ঢাকার সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির থেকে প্রতিমা আসতে শুরু করে। একে একে নিয়ম মেনে বিসর্জন দেয়া হয় বুড়িগঙ্গায়। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঘাটের চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ জনসাধারণ ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে।

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পূজার আগে থেকে মণ্ডপগুলো ঘিরে আমাদের কঠোর নিরাপত্তা ছিল। আজকেও আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। যেখানে যে ধরনের নিরাপত্তা দরকার, সেই প্রস্তুতিই আমরা নিয়েছি।’

কষ্ট ভুলে হাসিমুখে দেবীকে বিদায়

কড়া নিরাপত্তায় রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির থেকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

সোমবার ছিল ষষ্ঠী। এইদিন বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গতিনাশিনীর বন্দনা। এরপর মঙ্গলবার মহাসপ্তমী, বুধবার মহাষ্টমী, বৃহস্পতিবার মহানবমী ও শেষ দিন শুক্রবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে ধরনী থেকে সকল অশুভ শক্তি বিনাশ করে কৈলাশে ফিরে গেলেন দেবী।

হিন্দু ধর্মালম্বীদের মতে, ‘বিজয়া দশমী’কথাটির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বাঙালির আবেগ ও মনখারাপ মিশ্রিত একটি অনুভূতি। দশমী এলেই বাঙালির মনে আসে মায়ের ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা। সাধারণত দুর্গাপূজার অন্ত হয় দশমীর মাধ্যমেই। এই দিনেই মা দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও একটা বছর।

কষ্ট ভুলে হাসিমুখে দেবীকে বিদায়

দেবীর বিদায়বেলায় কষ্ট ভুলে হাসিমুখে বিদায় জানানোর জন্য সিঁদুর খেলা হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

দশমীর দিন সকালে দেবীর পূজা শেষে তাকে দর্পন বিসর্জন দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় সিঁদুর খেলা। ভক্তরা একে অপরের মুখে মেখে দেয় লাল সিঁদুর। দেবীর বিদায়বেলায় কষ্ট ভুলে হাসিমুখে বিদায় জানানোর জন্য এ সিঁদুর খেলা হয়। বিদায় বেলার আগে দেবীকে পান ও মিষ্টি মুখ করানো হয়। এটি হিন্দু সংস্কৃতির একটি অংশ। এরপর বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ঘাটে। সেখানে ধুপ দিয়ে আরতি করা হয়। এরপর নদীতে সাত পাকে দেবীকে জলে বিসর্জন দেয়া হয়।

কষ্ট ভুলে হাসিমুখে দেবীকে বিদায়

রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির থেকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

পঞ্জিকা অনুযায়ী এবার দেবী মর্ত্যে এসেছেন ঘোড়ায় চেপে। পুরাণ অনুযায়ী, দুর্গা ঘোড়ার পিঠে চড়ে এলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, ঝড়, রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। বিজয়া দশমীতে দেবী মর্ত্য ছাড়ছেন দোলায় চড়ে। দোলায় গমনেও বাড়বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্বিপাক।

পুরাণ অনুযায়ী, ব্রহ্মার বর পেয়ে মানুষ ও দেবতাদের অজেয় হয়ে উঠেছিলেন মহিষাসুর। ফলে তাকে পরাজিত করার জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর যে মহামায়ারূপী নারী শক্তি তৈরি করেন, তিনিই দেবী দুর্গা। দশভূজা দুর্গা টানা নয় দিন যুদ্ধ করে মহিষাসুরকে বধ করেন।

কষ্ট ভুলে হাসিমুখে দেবীকে বিদায়

শুক্রবার বিকেলে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মহিষাসুরের সঙ্গে নয় দিন নয় রাত যুদ্ধের পর দশম দিনে জয়ী হন দেবী দুর্গা। এ জন্যই বিজয়া দশমী। যুদ্ধ জয়ের আনন্দে সামিল হতে এই দিন হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাই মেতে ওঠে সিঁদুর খেলায়।’

শেয়ার করুন