শাটডাউনের শেষ দিন ছিল নিয়মহীন

শাটডাউনের শেষ দিন ছিল নিয়মহীন

বুধবার সকাল থেকেই নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে ছিল অতিরিক্ত যানবাহনের ভিড়। ব্যক্তিগত যানবাহনের ভিড়ে পুলিশের চেকপোস্ট পরিচালনাও বিঘ্নিত হয় বারবার। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকা চেকপোস্টগুলোতে টানা ১০ মিনিট গাড়ি চেক করার মতো পরিস্থিতিও ছিল না বলে জানান দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।

টানা ১৪ দিন শাটডাউনের শেষ দিন ছিল যেন নিয়মহীন, বাঁধনহারা। কোনো বিধিনিষেধেই কাউকে আটকে রাখা যায়নি।

বুধবার সকাল থেকেই নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে ছিল অতিরিক্ত যানবাহনের ভিড়। ব্যক্তিগত যানবাহনের ভিড়ে পুলিশের চেকপোস্ট পরিচালনাও বিঘ্নিত হয় বারবার।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকা চেকপোস্টগুলোতে টানা ১০ মিনিট গাড়ি চেক করার মতো পরিস্থিতিও ছিল না বলে জানান দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।

বিটিভি ভবনের সামনে রামপুরা ট্রাফিক বিভাগের চেকপোস্ট। সকাল থেকে যানবাহনের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে চেকপোস্টে থাকা পুলিশ সদস্যদের। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মশিউর রহমান বলেন, ‘সকাল থেকে গত যেকোনো দিনের তুলনায় ভিড় বেশি ছিল। ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশায় প্রচুর মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছেন।’

বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, শাহবাগ, ধানমন্ডি, তেজগাঁও এলাকা ঘুরে একই রকম চিত্র দেখা গেছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে বরাবরের মতোই ছিল রিকশার আধিক্য। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সড়কে বেড়েছে অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, ট্রাক ও মোটরসাইকেল।

শাহবাগ এলাকায় টানা দশ মিনিট প্রতিটি গাড়ি চেক করে ছাড়ার সুযোগ পাননি চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। রমনা জোনের সহকারী কমিশনার রেফাতুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলমান শাটডাউনের শেষ দিন আজ। কারণে-অকারণে প্রচুর মানুষ রাস্তায় বেরিয়েছেন। আমরা টানা দশ মিনিট ধরে চেকপোস্টে প্রতিটি গাড়ি চেক করার সুযোগ পাইনি। দশ মিনিট একটা একটা করে গাড়ি চেক করলে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জ্যাম তৈরি হয়ে যাচ্ছে। আমাদেরকে ছেড়ে ছেড়ে চেক করতে হয়েছে।’

সরকারের নির্দেশনা না মানায় বুধবার মামলা ও জরিমানার পরিমাণ বেড়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন নিষিদ্ধ থাকলেও বুধবার সকাল থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মোটরসাইকেল যাত্রীসহ চলাচল করতে দেখা গেছে। দুপুরে সিটি কলেজের সামনের চেকপোস্টে একটি মোটরসাইকেল আটকাতে গিয়ে পার হয়ে যায় যাত্রীসহ আরেকটি মোটরসাইকেল। ওই মোটরসাইকেলকে থামানো হয় আনোয়ার খান মেডিক্যালের সামনে। মোটরসাইকেলটির চালকের নাম নাজিমউদ্দিন।

তিনি জানান, গত কয়েক দিন বের হননি। প্রথম তিন-চার দিন বের হয়েছিলেন। যত আয় হয়েছে তার বেশি মামলার জন্য জরিমানা দিতে হয়েছে।

আজকে রাস্তায় যাত্রী নিয়ে বের হওয়ার কারণ হিসেবে নাজিম বলেন, ‘কালকে থেইক্কা সব চলবে। তাই আজকে দেখতে বের হইছিলাম, চালান যায় কি না? চারটা ট্রিপ পাইছি, রাস্তায় পুলিশও কম আটকাচ্ছে। আটকাইলেই সারা দিনের ইনকাম শেষ।’

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ২১টি গরুর হাট বসার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এসব হাট ঘিরেও মানুষের চলাচল ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া হাটগুলোতে গরুর আনা-নেয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে।

হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। পরছেন না মাস্ক, মানা হচ্ছে না নিরাপদ দূরত্বে থাকার বিধি। হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ইজারাদারদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হলেও যারা মানছেন না তাদের সতর্ক করা বা ব্যবস্থা নেয়ার মতো কাউকে দেখা যায়নি।

বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিএমপিতে ৪৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১০৫ জনকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭৪৪টি গাড়ির চালকের ‍বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। সেখানে জরিমানা করা হয়েছে ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা।

করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ১ জুলাই থেকে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে লকডাউন দিয়েছে সরকার। ঈদ সামনে রেখে সেই বিধিনিষেধ ১৫ জুলাই রাত ১২টার পর থেকে শিথিল করা হয়েছে। শিথিল থাকবে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত। ঈদের ছুটি শেষে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টার পর্যন্ত আবার কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে সারা দেশে লকডাউন থাকবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য