বিষাক্ত কেমিক্যালে নামীদামি কোম্পানির শিশুখাদ্য

বিষাক্ত কেমিক্যালে নামীদামি কোম্পানির শিশুখাদ্য

ভেজাল পণ্য তৈরির দায়ে সিআইডি দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। ছবি: সংগৃহীত

‘আসামিরা প্রাণ কোম্পানি, কোকা-কোলা কোম্পানি, আকিজ কোম্পানির লোগো ব্যবহার করে নকল ও ভেজাল পণ্য তৈরি করে একদিকে ওই সব কোম্পানির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, অন্যদিকে এসব ভেজাল ও নিম্নমানের কোমল পানীয় তৈরি করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। সাধারণত শিশুরা এসব পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট থাকে। এসব ভেজাল পণ্য পান করলে ক্যানসারসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় নিম্নমানের বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে প্রাণ, কোকা-কোলা, আকিজ কোম্পানির কোমল পানীয় ও শিশুখাদ্য তৈরি এবং বাজারজাত করার অপরাধে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মিরাজ হোসেন ও আল আমিন। এ ছাড়া আসামি মো. জাহাঙ্গীর পলাতক রয়েছেন।

সোমবার বেলা সোয়া ৩টায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রতন কৃষ্ণ নাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কামরাঙ্গীরচর পশ্চিম মোমিনবাগ ৩৩ নম্বর বাড়ির তিন তলা বিল্ডিংয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে বাড়ির ভেতরে প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কক্ষে বসে গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন নামীদামি কোম্পানির পণ্য নকল ও ভেজাল করে আসছিলেন।’

‘এ ছাড়া তারা এসব পণ্য মজুত ও নিজ হেফাজতে রেখে বাজারজাত করে আসছিলেন বলে তথ্য পায় সিআইডি। এরপর ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল খাদ্য এবং এইসব খাদ্য তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়।’

বিষাক্ত কেমিক্যালে নামীদামি কোম্পানির শিশুখাদ্য
নামীদামি কোম্পানির ভেজাল পণ্য তৈরি করছিলেন গ্রেপ্তারকৃতরা। ছবি: সংগৃহীত

সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রতন কৃষ্ণ নাথ বলেন, ‘আসামিরা তাদের কার্যক্রমসংক্রান্ত কোনো সন্তোষজনক জবাব কিংবা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। আসামিরা প্রাণ কোম্পানির নকল কোমল পানীয় রোবো আইস ললি, কোকা-কোলা কোম্পানির নকল কোমল পানীয় কোকা-কোলা আইস ললি, আকিজ কোম্পানির নকল স্পিড আইস ললিতে নিম্নমানের বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে তৈরি করে আসছিল। এই নিম্নমানের পণ্য চকবাজারের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করছিল তারা। পরবর্তীতে চকবাজারের দোকানগুলো থেকে সারা বাংলাদেশে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পাইকারিভাবে সরবরাহ করে তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসামিরা প্রাণ কোম্পানি, কোকা-কোলা কোম্পানি, আকিজ কোম্পানির লোগো ব্যবহার করে নকল ও ভেজাল পণ্য তৈরি করে একদিকে ওই সমস্ত কোম্পানির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, অন্যদিকে এসব ভেজাল ও নিম্নমানের কোমল পানীয় তৈরি করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। সাধারণত শিশুরা এসব পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট থাকে। এসব ভেজাল পণ্য পান করলে ক্যানসারসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

আসামিদের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় পুলিশ বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা করেছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য