× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রাজধানী
চাকরির কথা বলে প্রতারণা আটক ৫
google_news print-icon

চাকরির কথা বলে প্রতারণা, আটক ৫

চাকরির-কথা-বলে-প্রতারণা-আটক-৫
দালালির অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, এই দালালরা চাকরির প্রলোভনে টাকা নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।

লোভনীয় চাকরির অফার দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্নজনের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ৫ প্রতারককে আটক করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোমবার গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ৫ জনকে দালালির অভিযোগে আটক করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের নির্দেশে তাদের শাহবাগ থানায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, এই দালালরা চাকরির প্রলোভনে টাকা নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।

৫ প্রতারক হলো কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ভালুকা গ্রামের উজ্জ্বল, গাজীপুর সদরের জয়দেবপুরের ভূরুলিয়ার ইয়াকুব ইসমাইল, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার রায়চন্দ্রপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন, যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার বাসুদেবপুরের রবিউল ইসলাম এবং টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইলের ফিরোজ।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদারকে বলেন, ‘আমাদের হেফাজতে তাদেরকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযোগের বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রাজধানী
Mirpur battlefield police box fire

মিরপুর রণক্ষেত্র, পুলিশ বক্সে আগুন

মিরপুর রণক্ষেত্র, পুলিশ বক্সে আগুন মিরপুর ১০ নম্বরে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
দুপুরের পর থেকে মিরপুর ১০, ১১, ১৩, ১৪ সহ আশপাশের পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় চেষ্টা করেও সফল হয়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

রাজধানীর মিরপুর যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একের পর এক সংঘর্ষ আর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়েছে।

দুপুরের পর থেকে মিরপুর ১০, ১১, ১৩, ১৪ সহ আশপাশের পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় চেষ্টা করেও সফল হয়নি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মিরপুর-১০ নম্বর গোল চক্করের পুলিশ বক্সে এ সময় আগুন দেয় শিক্ষার্থীরা। পুরো এলাকাতে বিরাজ করছে আতংক। কয়েক জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রায় সব ধরনের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না তারা।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে দুপুর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মেট্রো ট্রেন চলাচল। এতদিন আন্দোলনের মধ্যে মেট্রো ট্রেন চলাচল করলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশনে হামলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরের পর মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে দেখা যায় এক ভূতুড়ে পরিবেশ।। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। তাদের কন্ঠে শোনা যায় নানামুখী স্লোগান।

মিরপুর ১০ নম্বরে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ন্যায্য অধিকারের জন্য এভাবে রাজপথে আন্দোলন করতে হবে তা কখনও কল্পনাও করিনি। কেন আমার ভাইদের হত্যা করা হলো? কেন আমার বোনদের পেটানো হলো? এসব প্রশ্নের উত্তর কে দেবে আমাদের?’

রিফাত নামক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এর আগে কোনোদিন এত ভয়াবহ আন্দোলন হয়নি। এই আন্দোলন এতদূর আসতো না যদি তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের ওপর হামলা না করত। এখন কই তারা?’

আরও পড়ুন:
বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে হামলা আগুন, সম্প্রচার বন্ধের শঙ্কা
ভৈরবে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ গুলি, মহাসড়ক অবরোধ
খুলনায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর
অবরোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

মন্তব্য

রাজধানী
The attack on BTVs head office the fire the fear of stopping broadcasting

বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে হামলা আগুন, সম্প্রচার বন্ধের শঙ্কা

বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে হামলা আগুন, সম্প্রচার বন্ধের শঙ্কা বৃহস্পতিবার বিকেলে রামপুরায় বিটিভি প্রধান কার্যালয় প্রবেশ করে ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
বিটিভির মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কিছু লোক দুপুর ২টার পর বিটিভি কার্যালয়ে হামলা করে। তারা রিসিপশনে ভাঙচুর করে, পাশে থাকা বেশকিছু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ঢাকা কেন্দ্র এবং ডিজাইন শাখায়ও আগুন ধরিয়ে দেয়। সন্ধ্যা ৬ টায়ও আগুন জ্বলছে। ডিজাইন শাখা পুড়ে গেছে। এখন মূল কেন্দ্র জ্বলে গেলে বিটিভির প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে।’

রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রধান কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিটিভি কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এক দল লোক। পরে তারা ভেতরে থাকা দুটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

বিটিভির মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার চার ঘণ্টাতেও ফায়ার সার্ভিস বিটিভি ভবনে আসেনি। আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘কিছু লোক দুপুর ২টার পর বিটিভি কার্যালয়ে হামলা করে। তারা রিসিপশনে ভাঙচুর করে, পাশে থাকা বেশকিছু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ঢাকা কেন্দ্র এবং ডিজাইন শাখায়ও আগুন ধরিয়ে দেয়।

‘সন্ধ্যা ৬ টায়ও আগুন জ্বলছে। ডিজাইন শাখা পুড়ে গেছে। এখন মূল কেন্দ্র জ্বলে গেলে বিটিভির প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেল ৩টার দিকে শতাধিক লোক প্রধান ফটক ভেঙে বিটিভি কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় প্রধান ফটকের বাইরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় বিটিভি কার্যালয়ে অবস্থানরত কর্মকর্তা–কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

বিক্ষুব্ধদের তৎপরতার মুখে বিটিভি কার্যালয়ের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা মালিবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন। তারা কিছুক্ষণ পরপর বিক্ষোভকারীদের দিকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়েন।

পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বিটিভি ভবনের সামনে এসে অভিযান শুরু করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিটিভি কার্যালয়ের ওপর দিয়ে টহল দেয়। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে র‌্যাবের একটি হেলিকপ্টারও টহল দেয় সেখানে।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে একটি পোস্টে বলা হয়, ‘বিটিভিতে ভয়াবহ আগুন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করছি। ভেতরে আটকা পড়েছেন অনেকে।’

আন্দোলনকারীরা এর আগে দুপুরে রামপুরা ব্রিজের পাশে ট্রাফিকের সহকারী পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে একটি পুলিশ ফাঁড়ির ফটকে থাকা তিনটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
ভৈরবে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ গুলি, মহাসড়ক অবরোধ
খুলনায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর
অবরোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক

মন্তব্য

রাজধানী
Metro train closed from Mirpur 12 to Agargaon due to fire in police box

মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো ট্রেন বন্ধ, পুলিশ বক্সে আগুন

মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো ট্রেন বন্ধ, পুলিশ বক্সে আগুন মিরপুর-১০ নম্বরে জ্বলছে আগুন। এর উপরেই রয়েছে মেট্রো রেললাইন। ছবি: সংগৃহীত
মেট্রোরেলের পরিচালক (অপারেশন) মো. নাসির উদ্দিন জানান, দুপুরে গোলচত্বরে একটি পুলিশ বক্সে আগুন দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুর ২টায় মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ইউএনবি জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

মেট্রোরেলের পরিচালক (অপারেশন) মো. নাসির উদ্দিন জানান, দুপুরে গোলচত্বরে একটি পুলিশ বক্সে আগুন দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুর ২টায় মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

এছাড়া পুরাতন মিরপুর-১০ নম্বরে ট্রাফিক পুলিশের একটি বক্স ভাঙচুর করা হয়।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার
কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর
সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শাবি শিক্ষার্থীদের
গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আন্দোলনকারীদের
ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক

মন্তব্য

রাজধানী
The image that was seen in the shutdown is the Bankpara of Motijheel

শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার

শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউনের মধ্যে বৃহস্পতিবার মতিঝিলের শাপলা চত্বরের পাশ দিয়ে ভ্যানে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ছবি: আহমেদ সুলতান/নিউজবাংলা
মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় গ্রাহক উপস্থিতি অনেক কম, যার কারণে লেনদেনের পরিমাণও কম, তবে শাখার নিরাপত্তার জন্য আমাদের নিয়োগকৃত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পার্শ্ববর্তী থানাকেও অবহিত করে রেখেছি।’

কোটা সংস্কার আন্দেলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির মধ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকার অন্যান্য অংশের মতো বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত মতিঝিলেও দেখা গেছে থমথমে পরিস্থিতি।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও অনেকটা গ্রাহকশূন্য ছিল ব্যাংকগুলো।

ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংকপাড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানান ব্যাংকাররা।

তারা জানান, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ব্যাংক লেনদেন নেই বললেই চলে। লেনদেনে ভাটা পড়েছে অবশ্য ঢাকার প্রায় সব ব্যাংকের শাখাতেই। আন্দোলন আর বুলেটের শব্দে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারাও।

রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, ফকিরাপুল ও গুলিস্তান এলাকার কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে একই চিত্র পাওয়া যায়। খুব প্রয়োজনে দুই-একজন গ্রাহক ব্যাংকে আসেন। তারাও শঙ্কার মধ্যে লেনদেন করে দ্রুত ব্যাংক ত্যাগ করেছেন।

মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় গ্রাহক উপস্থিতি অনেক কম, যার কারণে লেনদেনের পরিমাণও কম, তবে শাখার নিরাপত্তার জন্য আমাদের নিয়োগকৃত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী রয়েছে।

‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পার্শ্ববর্তী থানাকেও অবহিত করে রেখেছি।’

সোনালী ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘সকালে ঝুঁকি নিয়ে অফিসে এসেছি। পরিস্থিতি এত খারাপ হবে জানলে আজকের জন্য ছুটি নিতাম।’

সকাল থেকে মতিঝিলে গণপরিবহন ছিল না বললেই চলে। পুরো এলাকায় চলাচলের প্রধান বাহন ছিল রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা। মাঝে মাঝে চলাচল করছিল প্রাইভেট কার।

যারা গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন, তাদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক আতঙ্ক।

নিজাম নামের একজন প্রাইভেটকারচালক জানান, তার বস একটি প্রাইভেট ব্যাংকে টাকা তুলতে এসেছেন।

গাড়ি নিয়ে বের হয়ে কোনো সমস্যায় পড়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আরামবাগ থেকে এসেছি। তাই এখনও কোনো ঝামেলায় পড়িনি, তবে মালিক বলেছে, কোন গ্যাঞ্জাম দেখলে সাথে সাথে গাড়ি কোথাও পার্কিং করে নিজেকে সেভ রাখতে।’

এদিকে ভয় আর শঙ্কা নিয়ে জীবনের তাগিদে কাজে নেমেছেন রিকশাচালকরা, যাদের একজন জানান, তাদের পেটের দায়ে আয় না করলে চলবে না বলেই রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন।

মতিঝিল এলাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গণপরিবহনের খোঁজ পাচ্ছিলেন না সাধারণ মানুষ। যারা উত্তরা, মিরপুর এলাকার দিকে যাবে, তারা শুধু মেট্রোরেলে করে অনায়াসে যেতে পারছিলেন।

অন্য সব গন্তব্যের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফকিরাপুলের বাসস্ট্যান্ডেও কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি।

ফকিরাপুলের জনতা ব্যাংকের লেনদেনের চিত্রেও ফুটে উঠেছে ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব। নিয়মিত যেখানে ১৫ থেকে ২০ জন গ্রাহক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন সেখানে কাউন্টারে মাত্র দুই একজন গ্রাহক চোখে পড়েছে। তবে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন লেনদেন স্বাভাবিক।

দিলকুশা এলাকার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শাখা ইসলামী ব্যাংকের লোকাল অফিস। সেখানেও ফুটে উঠেছে কমপ্লিট শাটডাউনের ছাপ।

গতকাল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করার কারণে পুরো এলাকা প্রায় ফাঁকা ছিল। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের লোকাল অফিসে লেনদেন করতে আসতে কাউকে দেখা যায়নি।

ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অন্যান্য দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ একেবারেই কম। স্বাভাবিক দিনে যেখানে লম্বা লাইন হয়ে থাকে, সেখানে প্রতিটি কাউন্টারে একজন-দুইজনের বেশি উপস্থিতি নেই।

‘কারণ বাইরে লক্ষ করলেই দেখতে পাবেন সাধারণ জনগণের চেয়ে পুলিশের সংখ্যা বেশি। সারাক্ষণ বাজছে পুলিশের সাইরেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘থেমে থেমেই গোলাবারুদের শব্দ। এসব কারণে শাখায় লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর
সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শাবি শিক্ষার্থীদের
গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আন্দোলনকারীদের
ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক
কোটা আন্দোলন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র: মিলার

মন্তব্য

রাজধানী
The prime minister has assigned two ministers to negotiate with the quota protesters
সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী

কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান। ফাইল ছবি
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আমাকে, মানে আইনমন্ত্রীকে এবং শিক্ষামন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা তাদের সাথে বসব এবং আমরা এটাও বলতে চাই যে, তারা যখনই বসতে রাজি হবে, এটা যদি আজকে হয়, আজকেই আমরা বসতে রাজি আছি।’

দেশজুড়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দেশব্যাপী কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনের টানেল গেটে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের (কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী) সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আমাকে, মানে আইনমন্ত্রীকে এবং শিক্ষামন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

‘আমরা তাদের সাথে বসব এবং আমরা এটাও বলতে চাই যে, তারা যখনই বসতে রাজি হবে, এটা যদি আজকে হয়, আজকেই আমরা বসতে রাজি আছি।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঘোষণা দিতে বলেছেন যে, আগামী ৭ অগাস্ট, ২০২৪ সালে যে মামলাটা শুনানির কথা ছিল, সে মামলাটার শুনানি এগিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা নিতে।

‘আমি সেই মর্মে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছি যে, আগামী রবিবার তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে আবেদন করবেন, যাতে মামলাটার শুনানির তারিখ তারা এগিয়ে আনেন।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তৃতীয়ত হচ্ছে যে, আপনারা জানেন যে গতকালকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির কথা ঘোষণা দিয়েছিলেন।

‘সেই প্রেক্ষিতে আমরা একজন বিজ্ঞ বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জনাব খন্দকার দিলীরুজ্জামানকে এই কমিটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের দায়িত্ব দেয়ার জন্য কমিটি তৈরি করেছি।’

আরও পড়ুন:
কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানির প্রতিবাদে টরন্টোতে বিক্ষোভ
শাটডাউন: দেশজুড়ে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি
ঢাবি ক্যাম্পাস এলাকায় রাতেও শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ
নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না
কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’

মন্তব্য

রাজধানী
Considering the situation mobile internet is off blink

ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক

ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিসিসি অডিটোরিয়ামে আইসিটি বিভাগের ‘দীক্ষা-দক্ষতা উন্য়নে শিক্ষা অনলাইনে’ প্রকল্পের আওতায় নিয়মিত কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইন্টারনেট নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: ফেসবুক
মোবাইল ইন্টারনেট নিয়ে জানতে চাইলে পলক বলেন, ‘একদিকে যে রকম পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তারা চেষ্টা করছে, তাদের নিরাপত্তাটা রক্ষা করা। আমরা সাইবার নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করার জন্য সাইবার প্ল্যাটফর্মে আমরা চেষ্টা করছি। যে জায়গায় যে ধরনের ভূমিকা নেয়া উচিত বা প্রয়োজন, সেটাই আমরা চেষ্টা করছি এবং সেটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখেই আমরা সকলের সহযোগিতা পাচ্ছি এবং আমি আপনদেরও সহযোগিতা কামনা করব।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সাইবার প্ল্যাটফর্মে সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিসিসি অডিটোরিয়ামে আইসিটি বিভাগের ‘দীক্ষা-দক্ষতা উন্য়নে শিক্ষা অনলাইনে’ প্রকল্পের আওতায় নিয়মিত কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মোবাইল ইন্টারনেট নিয়ে জানতে চাইলে পলক বলেন, ‘এটা আসলে আমরা পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে, আমাদের যে গোয়েন্দা সংস্থার যে রিপোর্ট এবং সবকিছু মিলিয়ে একটা তো ছিল ধরেন যখন আন্দোলন হয়, তখন একটা জায়গায় যখন বেশি মানুষের আরকি উপস্থিতি হয়, তখন কিন্তু টেকনোলজির একটা প্রবলেম তৈরি হয়, কিন্তু বর্তমানে আমরা খেয়াল করছি যখন আমরা লক্ষ করলাম যে, এই সোশ্যাল মিডিয়াটাকে প্ল্যাটফর্মটাকে ব্যবহার করে গুজব, মিথ্যা, অপপ্রচার করাটাকে একটা অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে একটা গোষ্ঠী এবং শুধু দেশের ভেতরে না, দেশের বাইরে থেকে কিছু কনটেন্ট বুস্ট করা হচ্ছে, তার মানে টাকা দিয়ে মিথ্যা খবরটা সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার যে অপকৌশল বা ষড়যন্ত্র, এটা আমরা যখন দেখছি, তথ্য-উপাত্ত এবং গোয়েন্দা সংস্থার সকল বিশ্লেষণ, তখন আমরা মনে করেছি যে, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের যার যতটুকু সক্ষমতা আছে, সেটা করা দরকার।

‘একদিকে যে রকম পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তারা চেষ্টা করছে, তাদের নিরাপত্তাটা রক্ষা করা। আমরা সাইবার নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করার জন্য সাইবার প্ল্যাটফর্মে আমরা চেষ্টা করছি। যে জায়গায় যে ধরনের ভূমিকা নেয়া উচিত বা প্রয়োজন, সেটাই আমরা চেষ্টা করছি এবং সেটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখেই আমরা সকলের সহযোগিতা পাচ্ছি এবং আমি আপনদেরও সহযোগিতা কামনা করব।’

আরও পড়ুন:
কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’
যৌথ অভিযানে চার ঘণ্টা পর মুক্ত রাবি উপাচার্য
বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ মামলা, আসামি কয়েক হাজার
জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, সংঘর্ষে আহত ১২

মন্তব্য

রাজধানী
Quota movement led by BNP Jamaat Quader

কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত: কাদের

কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত: কাদের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মা-বাবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আপনাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদের এই ধরনের আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখুন। কারণ বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডাররা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব তারা নিজেরাই গ্রহণ করেছে। এই সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা চরিতার্থ করার জন্য হত্যা, গুপ্তহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।’

দেশজুড়ে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে বুধবার দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ঢাকা জেলা ও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অস্তিত্বের প্রতি হামলা এসেছে, হুমকি এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই হবে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে কাদের বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন রাস্তাঘাট দখল করতে যাবে? সহিংসতায় জড়াবে? এই আন্দোলনের নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে অশুভ শক্তির হাতে চলে গেছে। সেই অবস্থায় আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করি, লালন করি, বিশ্বাস করি, সেই চেতনা বিশ্বাসীরা আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। আমাদের অস্তিত্বের প্রতি হামলা এসেছে, হুমকি এসেছে।

‘এই পরিস্থিতি মোকাবিলা আমাদের করতেই হবে। কাজেই আপনারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুত হয়ে যান। এখানে বেশিক্ষণ আপনাদের ধরে রাখতে চাই না। যার যার এলাকায় যান, আজকেও তাদের ভয়াবহ তাণ্ডব সৃষ্টির এজেন্ডা আছে, বিধ্বংসী এজেন্ডা আছে।’

কাদের বলেন,‘ এখানে শুধু পুলিশের শক্তি নয়, আমাদের দল, দলের যে শক্তি, যে শক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ করেছে, যে শক্তি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে শৃঙ্খল মুক্ত করেছে, সেই শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমাদের এই শক্তিকে আজ কাজে লাগাতে হবে। আমাদের যার যার দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।’

দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের সারা দেশের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে আমাদের নেত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশ দিচ্ছি, সারা দেশে সতর্ক হয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে এই অশুভ অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।’

বিএনপি নির্বাচিত সরকারকে হটাতে চায় অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ক্ষমতা দখলের জন্য কতটা মরিয়া হলে তারা শিশু-কিশোরদের মিছিল ব্যবহার করে। ছাত্রদল ও শিবিরের কর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ট্যাটাস আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করেছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির এক নেতার ফোনালাপের অডিও ক্লিপ থেকে বোঝা গেছে ছাত্রদলের ক্যাডারদের সংঘর্ষ হামলার নির্দেশ দিচ্ছে। এতে প্রমাণ হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে বিএনপি-জামায়াত আবারও সহিংসতার প্রতি হাঁটছে।

‘তারা তাদের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী সারা বাংলাদেশ থেকে এনে এই শহরে গুপ্তহত্যা করা শুরু করেছে। আরও অনেক বাজে পরিস্থিতি, ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির আহ্বান জানাচ্ছে, উসকানি দিচ্ছে।’

বিএনপি সারাদেশ থেকে ক্যাডার বাহিনী, প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের ঢাকায় এনেছে অভিযোগ করে কাদের বলেন, ‘নাশকতা ও নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপির পল্টন কার্যালয়ে গতকাল রাতে পাঁচ-ছয় বোতল পেট্রল, বিপুলসংখ্যক লাঠিসোঁটা, ৬০টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র, শতাধিক ককটেল জড়ো করেছিল, যা পুলিশের তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয়।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মা-বাবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আপনাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদের এই ধরনের আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখুন। কারণ বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডাররা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব তারা নিজেরাই গ্রহণ করেছে।

‘এই সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা চরিতার্থ করার জন্য হত্যা, গুপ্তহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সবসময় ছাত্রসমাজের দাবির প্রতি সহনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের রাষ্ট্রের অভিভাবক। সকলের যৌক্তিক দাবি তার বিবেচনায় রয়েছে। আমরা আন্দোলনকারীদের বলব, আইনের পাশে থাকুন।

‘সর্বোচ্চ আদালতের নির্ধারিত তারিখের শুনানির জন্য অপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধারণ করুন। কোনো অপশক্তির উসকানি বা ষড়যন্ত্রে পা দেবেন না। ফাঁদে পা না দিয়ে অপেক্ষা করুন। তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করি।’

আরও পড়ুন:
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ক্রাইম সিন ফিতা
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাবি, হল ছাড়তে হবে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন
ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে ঢাবির হলগুলোকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা আন্দোলনকারীদের
আবাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা, পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা রাতে

মন্তব্য

p
উপরে