তিন ধাপে মানব পাচার, সমন্বয়কসহ গ্রেপ্তার ৭

তিন ধাপে মানব পাচার, সমন্বয়কসহ গ্রেপ্তার ৭

গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে ইউরোপে মানব পাচারকারী চক্রের বাংলাদেশি এজেন্ট রুবেল সিন্ডিকেটের প্রধান সমন্বয়ক ইউরো আশিক রয়েছেন। তারা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে মানব পাচার করে আসছেন। চক্রের সদস্যরা তিন ধাপে কাজ করেন।

ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে মানব পাচার চলে তিন ধাপে। এ জন্য রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ রকম মানব পাচারের আন্তর্জাতিক চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। ধরা পড়েছেন সিন্ডিকেটের সমন্বয়ক ইউরো আশিক।

র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে রোববার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন মানব পাচারকারী চক্রের কৌশল ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

র‍্যাব জানায়, শনিবার রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-৮ যৌথ অভিযান চালায়। টানা অভিযানে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মোহাম্মদ আশিক, আজিজুল হক, মিজানুর রহমান মিজান, নাজমুল হুদা, সিমা আক্তার, হেলেনা বেগম ও পলি আক্তারকে।

তাদের কাছে পাওয়া গেছে ১৭টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্যাংকের ১৪টি চেক বই, দুটি এটিএম কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার ১৫টি বই, দুটি হিসাব নথি, দুটি এনআইডি, ১০টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫৬ হাজার ৬৭০ টাকা।

গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে ইউরোপে মানব পাচারকারী চক্রের বাংলাদেশি এজেন্ট রুবেল সিন্ডিকেটের প্রধান সমন্বয়ক ইউরো আশিক রয়েছেন। তারা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে মানব পাচার করে আসছেন। চক্রের সদস্যরা তিন ধাপে কাজ করেন।

ইউরোপ যেতে ইচ্ছুকদের নির্বাচন

প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষদের অল্প খরচে উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখান চক্রের সদস্যরা। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় অনেকেই তাদের প্রস্তাবে সাড়া দেন। এরপর বিদেশ গমনেচ্ছুকদের পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা সংগ্রহ, টিকিট ক্রয়সহ বিভিন্ন কাজ চলে সিন্ডিকেটের তত্ত্বাবধানে।

পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথি চক্রের সদস্যরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দেন। প্রার্থীদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক লেনদেনের কিস্তি ঠিক করা হয়। ইউরোপ যেতে ৭-৮ লাখ টাকার বেশি নিয়ে থাকেন চক্রের সদস্যরা। এর মধ্যে ৪-৫ লাখ টাকা দিতে হয় লিবিয়ায় যাওয়ার আগে। এরপর বাকি টাকা আদায় হয় আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে।

লিবিয়ায় প্রেরণ

গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাব জানতে পেরেছে, মানব পাচারে বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হয় লোকজনকে। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বিদেশি এজেন্টদের মাধ্যমে রাখা হয় ৭-৮ দিন। এরপর বেনগাজিতে (লিবিয়া) পাঠাতে চলে প্রক্রিয়া। ‘মারাকাপা’ নামের একটি ডকুমেন্ট দুবাইতে পাঠান চক্রের সদস্যরা, যা ইউরোপ গমনেচ্ছুকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এজেন্টদের সহায়তায় তাদের বেনগাজি পাঠানো হয়। এরপর তাদের ত্রিপলিতে স্থানান্তর করেন। যারা লিবিয়া পর্যন্ত টাকা পরিশোধ করেছেন তাদের স্বল্প সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রানজিট করিয়ে সরাসরি লিবিয়ায় পাঠানো হয়। এই চক্রের বাংলাদেশি সিন্ডিকেটের ‘রুবেল’ দুবাইতে অবস্থান করেন এবং সিন্ডিকেটের সব কাজ মনিটরিং করেন।

লিবিয়া থেকে ইউরোপ

ত্রিপলিতে পৌঁছানোর পর লোকজনকে লিবিয়ার এজেন্টদের সহায়তায় গ্রহণ করেন গাজী, কাজী ও বাবুল নামের তিনজন। ইউরোপে গমনেচ্ছুদের ত্রিপলিতে রেখেই বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রতিনিধির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় টাকা। এরপর ইউরোপে পাচারের উদ্দেশে তাদের হস্তান্তর করা হয়।

ইউরোপ যেতে লোকজনকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেয়া হয় সমুদ্রপথ অতিক্রমের প্রশিক্ষণ। নৌযান চালনা, দিক নির্ণয়যন্ত্র পরিচালনাসহ অনেক কিছু শেখানো হয়। এরপর নির্দিষ্ট দিনে ভোররাতে একসঙ্গে কয়েকটি নৌযান লিবিয়া হয়ে তিউনিসিয়া উপকূলীয় চ্যানেল হয়ে ইউরোপের পথে রওনা দেয়।

এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপ যেতে ভিকটিমরা ভূমধ্যসাগরে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হন। সেখানে জীবনাবসানের ঘটনা ঘটে থাকে। ভূমধ্যসাগরে নৌকায় ওঠাকে তারা ‘গেম’ বলে অবহিত করে থাকেন। এই চক্রের মাধ্যমে অনেকে অবৈধ পথে ইউরোপে গেছেন। আবার অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

র‍্যাবের হাতে ধরা পড়া চক্রটি ‘রুবেল সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত। তাদের নেতা রুবেল দুবাইতে অবস্থান করেন। রুবেল ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লিবিয়ায় ছিলেন। তখন একটি মানব পাচারকারী চক্রে জড়িয়ে যান। লিবিয়ায় অনেক অভিযোগ থাকায় রুবেল দুবাইয়ে অবস্থান করে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক চালান।

গ্রেপ্তার করা আসামিদের মধ্যে রুবেলের স্ত্রী সীমা, ভাগনে আশিক ও দুই বোন হেলেনা ও পলি রয়েছেন। তারা সিন্ডিকেটের হয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। দেশে অবস্থান করে সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আশিক। তিনি এসএসসি পাস করার পর দুই বছর মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন। এরপর ২০১৯ সাল থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থান করে অবৈধ মানব পাচারের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এই চক্রের বাংলাদেশি সিন্ডিকেটে ২০-২৫ জন সদস্য রয়েছেন।

র‍্যাব জানায়, চক্রটি প্রায় দুই বছর ধরে মানব পাচার কাজ করে আসছে। মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর এলাকায় তারা বিশেষভাবে সক্রিয়। এ ছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে এজেন্ট আছে।

গ্রেপ্তার করা সদস্যদের মধ্যে আজিজ মোবাইল ব্যাংকিং ও ইলেকট্রনিকস ব্যবসায় জড়িত। তিনি মাদারীপুরের মাঠপর্যায়ের বিদেশে গমনেচ্ছুকদের নির্বাচন করে থাকেন। গ্রেপ্তার মিজান এসএসসি পাস, তার ওয়ার্কশপ ব্যবসা আছে। তিনি মাঠপর্যায়ে এজেন্টের সঙ্গে আঞ্চলিক এজেন্টদের যোগাযোগ করিয়ে দেন। আরেক আসামি নাজমুলের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি কাজ করেন।

গ্রেপ্তার নাজমুল হুদা বিএ পাস, তিনি মোবাইল ব্যাংকিং ও কসমেটিকস ব্যবসায় জড়িত। তিনি মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মুকসুদপুর ও আশপাশের এলাকায় চক্রের কাজ তদারকি করেন।

আরও পড়ুন:
মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘মডেলদের’ দিয়ে অনৈতিক পার্টি করতেন মিশু

প্রবাসীদের জন্য দুবাই-আমেরিকায় প্লেজার ট্রিপ

‘মডেলদের’ দিয়ে অনৈতিক পার্টি করতেন মিশু

মঙ্গলবার রাতে আটক হন মিশু ও জিসান। ফাইল ছবি

প্রতিটি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশগ্রহণ করে। এছাড়া বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করা হয়। একইভাবে বড়লোক প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করা হয়। তারা ক্লাইন্টদের গোপন ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।

রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীতে পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে নিয়মিত বসানো হতো মাদকের আসর। এসব পার্টিতে অংশ নিতেন পিয়াসা-মৌদের মতো অর্ধশত ‘মডেল’। এরা পার্টিতে অংশ নেয়া অভিজাত শ্রেণির লোকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও তুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব মডেলের নাম-পরিচয় জেনেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

এই ‘মডেল’ ও টিভি কর্মীদেরকে টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করতো শরফুল হাসান বা মিশু হাসান। দেশের বাইরে দুবাই বা ইউরোপ-আমেরিকার প্রবাসীদের জন্য এরা বিদেশে গিয়ে পার্টির ব্যবস্থা করত।

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ মিশু ও তার এক সহযোগী জিসানকে আটকের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

বুধবার বিকেল পৌনে ৬টায় সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা যায়। র‌্যাব এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর অভিযানে মঙ্গলবার রাতে বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মিশু ও জিসানকে আটক করা হয়।

এ সময় জব্দ করা হয় ১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬ রাউন্ড গোলাবারুদ, ইয়াবা ১৩ হাজার ৩০০ পিস, একটি বিলাসবহুল ফেরারি মডেলের গাড়ি, শিশার সরঞ্জামাদি, ২টি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও এটিএম কার্ড, পাসপোর্ট এবং ভারতীয় জালমুদ্রা ৪৯ হাজার ৫০০ রুপি।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, আটকরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রের সদস্য প্রায় ১০-১২ জন। তারা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করে থাকে। পার্টিতে তারা অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে। অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য।

প্রতিটি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশগ্রহণ করে। এছাড়া বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করা হয়। একইভাবে বিত্তবান প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করা হয়। তারা ক্লায়েন্টদের গোপন ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।

পার্টি আয়োজনের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের চাহিদা/পছন্দে গুরুত্ব দেয়া হতো। এই অবৈধ আয় থেকে অর্থ নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসায় (গাড়ির ব্যবসা, আমদানি ও গরুর ফার্ম) বিনিয়োগ করেছে মিশু ও জিসান। এই ব্যবসায় তাদের গ্রুপের সদস্যদের অবৈধ আয়েরও বিনিয়োগ রয়েছে।

র‍্যাব জানায়, আটক মিশু বাংলাদেশে নামিদামি ব্রান্ডের বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবসা করেন। তিনি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। তিনি নিজেও দামি ব্রান্ডের গাড়ি ব্যবহার করত। তার ব্যক্তিগত ২টি রেঞ্চ রোভার, অ্যাকুয়া, ভক্স ওয়াগন ও ফেরারিসহ ৫টি গাড়ি রয়েছে। সে অত্যন্ত সুকৌশলে গাড়ির ট্যাক্স জালিয়াতি করেছে বলে প্রমাণ মিলেছে।

খন্দকার আল মঈন বলেন, আটক জিসানের এলাকায় একটি গরুর ফার্ম রয়েছে। মিশু ইতিপূর্বে বিভিন্ন মামলায় তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছিল। তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীদের যোগাযোগ রয়েছে।

‘উচ্চবিত্ত শ্রেণির লোকদের টার্গেট করে আসর বসানো হতো। এই চক্রের ক্লাইয়েন্টের তালিকায় পিয়াসা-মৌসহ দেশি-বিদেশি ৫০ ক্লায়েন্টের নাম পেয়েছি। যাদেরকে বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করে পাঠানো হতো। একইভাবে উচ্চবিত্তের প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করে পিয়াসা-মৌদের মতো কথিত মডেলদের পাঠানো হতো।’

আটকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে, মাদক আইনে, ভারতীয় জালমুদ্রার রাখা ও অননুমোদিত গাড়ি আমদানি ও ব্যবহারে বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ আলাদা আলাদা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন:
মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা

শেয়ার করুন

আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন

আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন

ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার পর রূপগঞ্জে আগুনে পুড়ে মৃতদের লাশ হস্তান্তরের সময় স্বজনের ভিড়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

২৪ জনের মরদেহ আলাদা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যান স্বজনরা। নিহতদের দাফনের জন্য জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রতিটি মৃতদেহ বুঝে নেয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ঘনিষ্ঠজনরা।

মায়ের পুড়ে যাওয়া দেহ বুঝে নিতে এসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমাইয়া আক্তার। তার বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে এলাকা।

১২ বছর বয়সী সুমাইয়া আর ফিরে পাবে না মায়ের কোল। রূপগঞ্জের হাশেম ফুডের সেজান জুস কারখানায় কাজ করার সময় গত ৮ জুলাই পুড়ে অঙ্গার হয়েছেন তার মা ফিরোজা বেগম।

কিশোরগঞ্জের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মো. মুন্নাও এখন হারিয়ে যাওয়া এক নাম। পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছিল মুন্না। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত পরিবারকে সাহায্য করতে বড় তিন ভাইবোনের সঙ্গে সেও ঢুকেছিল জুস ফ্যাক্টরিতে। তবে আগুনে পুড়ে থেমে গেছে কিশোর মুন্নার জীবন।

ডেমরার বাসিন্দা নাজমা ও তার ছেলে নাজমুল হোসেন কাজ করতেন হাশেম ফুডের কারখানায়। সেদিন মায়ের আগেই নাজমুলের ছুটি হয়েছিল, বিকেল ৪টায় বের হয়েছিলেন তিনি। তাই প্রাণে বেঁচে যান, তবে মা নাজমা চলে গেছেন অন্তিম ছুটিতে।

ফিরোজা, মুন্না, নাজমার মতো ২৪ জনের পোড়া দেহ স্বজনের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বুধবার দুপুরে। অন্যরা হলেন মো. আয়াত হোসেন, মো. নাঈম ইসলাম, নুসরাত জাহান টুকটুকি, হিমা আক্তার, মোসাম্মৎ সাগরিকা শায়লা, খাদেজা আক্তার, মোহম্মদ আলী, তাকিয়া আক্তার, শাহানা আক্তার, মিতু আক্তার, জাহানারা, ফারজানা, ফাতেমা আক্তার, নাজমা খাতুন, ইশরাত জাহান তুলি, মো. রাশেদ, মো. রাকিব হোসেন, মো. তারেক জিয়া, মো. রিপন মিয়া, শাহানা আক্তার ও রিয়া আক্তার।

২৪ জনের মরদেহ আলাদা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যান স্বজনরা। নিহতদের দাফনের জন্য জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রতিটি মৃতদেহ বুঝে নেয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ঘনিষ্ঠজনরা।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড প্রোডাক্টসের জুস কারখানায় গত ৮ জুলাই ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ৫১ জন প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় পুড়ে অঙ্গার ৪৮ জনের দেহ উদ্ধারের পর ডিএনএ পরীক্ষায় ৪৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি। তাদের মধ্যে ২৪ জনের দেহ বুধবার হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দেহগুলো হস্তান্তর করা হবে শনিবার।

আরও পড়ুন:
মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা

শেয়ার করুন

মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে পাকস্থলিতে ইয়াবা পাচার

মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে পাকস্থলিতে ইয়াবা পাচার

আটকদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবা।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইয়াবার বড় একটি চালান কক্সবাজার থেকে পাকস্থলিতে করে রাজধানীর দিকে নিয়ে আসছে। চক্রটিকে আটকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব। পরে গতিবিধি অনুসরণ করে তাদের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা এলাকা থেকে আটক করা হয়।’

মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের বেইজ টাওয়ার বসানোর নামে চট্রগ্রাম থেকে পাকস্থলিতে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে র‍্যাব।

এরা হলেন ইমন হোসেন, আজিজুল ইসলাম, শাহিন মণ্ডল, মামুনুর রশিদ, হাসিবুর রহমান ইয়াছিন ও মো. ইমরান।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‍্যাব জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইয়াবার বড় একটি চালান কক্সবাজার থেকে পাকস্থলিতে করে রাজধানীর দিকে নিয়ে আসছে। চক্রটিকে আটকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব। পরে গতিবিধি অনুসরণ করে তাদের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা এলাকা থেকে আটক করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্রের সক্রিয় সদস্য। এরা কক্সবাজার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকায় আসত। পরে ইয়াবার চালানগুলো বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে রাজধানীসহ সারা দেশে মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করত।’

তিনি জানান, আটকরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তারা পেশায় শ্রমজীবী। তিন মাস ধরে তারা পাকস্থলিতে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসতেন। এর আগে ইয়াবার ১০-১২টি চালান রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেছেন তারা।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা

শেয়ার করুন

‘মামলা আমাদের করার কথা, আমরাও টাকা দিয়েছি’

‘মামলা আমাদের করার কথা, আমরাও টাকা দিয়েছি’

সম্প্রতি হেলেনা জাহাঙ্গীরকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

‘টাকাপয়সা যা লেনদেন করার হেলেনা জাহাঙ্গীর করেছে। আমরা কেনো এসবের দায় নিতে যাব। আমরা যখন দেখেছি জয়যাত্রা টিভির কোনো বৈধ কাগজপত্র নাই, তখন আমরা অব্যাহতি নিয়ে চলে এসেছি। মামলা তো আমাদের করার কথা, আমরাও হেলেনাকে টাকা দিয়েছি।’

‘আমরাও ভিকটিম, আমরাও চাকরি করতাম জয়যাত্রা টিভিতে, টাকা পয়সা যা নেয়ার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিয়েছেন। তার জন্য তিনি তিন দিনের রিমান্ড ফেরত এসে আবারও রিমান্ডে গেছেন। আমরা তো শুধু ম্যানেজার আর রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম, তাও অনেক আগে চাকরি ছেড়ে অব্যহতি নিয়ে চলে এসেছি।’

‘টাকাপয়সা যা লেনদেন করার হেলেনা জাহাঙ্গীর করেছে। আমরা কেনো এসবের দায় নিতে যাব। আমরা যখন দেখেছি জয়যাত্রা টিভির কোনো বৈধ কাগজপত্র নাই, তখন আমরা অব্যাহতি নিয়ে চলে এসেছি। মামলা তো আমাদের করার কথা, আমরাও হেলেনাকে টাকা দিয়েছি।’

এভাবেই শুনানি করেন জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম এবং জয়যাত্রা টিভির জিএম (অ্যাডমিন) হাজেরা খাতুন অনির আইনজীবী মো. ফিরোজুর রহমান মন্টু এবং জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি সমন্বয়ক সানাউল্লাহ নুরীর পক্ষের আইনজীবী আমানুল করিম লিটন।

শুনানির একপর্যায়ে তারা আদালতকে বলেন, ‘যদি কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার থাকে তাহলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিন। দয়া করে রিমান্ড দিবেন না। এই মামলার আসল আসামি হেলেনা জাহাঙ্গীর তিন দিনের রিমান্ড ফেরত এসে গতকাল আবারও রিমান্ডে গেছেন।’

শুনানিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা নিজেরা যেখানে ভিকটিম, আমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কী থাকতে পারে?’

বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে হাজেরা খাতুন অনি ও সানাউল্লাহ নূরীকে হাজির করা হয়।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আল হেলাল দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ এ দুই আসামি ও অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে সরকারের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও জয়যাত্রা টিভি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল দাবি করে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি নিয়োগ করে মোটা অংকের টাকা জামানত হিসেবে গ্রহণ করে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। তারা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছিল।

সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তার, আসামিদের কাছ থেকে জয়যাত্রা টিভির সকল নিয়োগপত্র, প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আত্মসাৎ ও আদায় করা চাঁদার টাকা উদ্ধারের জন্য তাদের রিমান্ড নেয়র জরুরি বলে মন্তব্য করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

হাজেরা খাতুনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফিরোজুর রহমান মন্টু এবং সানাউল্লাহ নূরীর পক্ষে অ্যাডভোকেট আমানুল করিম লিটন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করে।

রাষ্ট্রপক্ষে তাপস কুমার পাল এর বিরোধিতা করেন।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এ মামলায় মঙ্গলবার হেলেনা জাহাঙ্গীরকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায়ও তার তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া গুলশান থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড আবার তিন দিন এবং মাদক মামলায়ও তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর অভিযানে ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনা করে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ১ টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ১টি হরিণের চামড়া, ২টি মোবাইলফোন, ১৯টি চেক বই ও বিদেশি মুদ্রা, ২টি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার সরঞ্জামাদি- ৪৫৬টি চিপস জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে তার জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে রাতেই র‌্যাব-৪ বিটিআরসির সহযোগিতায় মিরপুরে অবস্থিত হেলেনা জাহাঙ্গীরের অনুমোদনহীন জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশন সিলগালা করে এবং অবৈধ মালামাল জব্দ করে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের পোস্টার ভাইরাল হলে আলোচনায় উঠে আসেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। পোস্টারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীর আর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মনিরের নাম উল্লেখ করা হয়। এরপরই আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদ হারান হেলেনা জাহাঙ্গীর।

আরও পড়ুন:
মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা

শেয়ার করুন

হেলেনার জয়যাত্রায় ‘জিনের বাদশা’র প্রসার

হেলেনার জয়যাত্রায় ‘জিনের বাদশা’র প্রসার

প্রতারক চক্রটি চট্রগ্রামের এক নারীর কাছ থেকে কয়েক ধাপে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। জয়যাত্রা আইপি টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল চক্রটি।

প্রতারণার দায়ে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দেয়া আল আমিন ও তার দুই সহযোগীকে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেছে, হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইপি টিভি জয়যাত্রায় প্রতারণায় সহায়ক বিজ্ঞাপন দিতেন।

রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয় কথিত জিনের বাদশার প্রতারণার কৌশলসহ নানা তথ্য। প্রতারক চক্রটি চট্রগ্রামের এক নারীর কাছ থেকে কয়েক ধাপে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘জয়যাত্রা আইপি টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল প্রতারক চক্রটি। তাদের বিজ্ঞাপনে মোবাইল নম্বর দেয়া হয়। তার মাধ্যমেই যোগাযোগ ও প্রতারণা।’

সিআইডি জানায়, মঙ্গলবার ভোলায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারক চক্রের হোতা আল আমিনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার ভোররাতে অভিযান চলে রাজধানীর ডেমরা এলাকায়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তার দুই সহযোগী রাসেল ও সোহাগকে।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট, তিনটি সিমকার্ড, পাসপোর্ট, চেক বইসহ নানা উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।

হেলেনার জয়যাত্রায় ‘জিনের বাদশা’র প্রসার
প্রতারণার অভিযোগে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে তিনজনকে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতারক চক্রটির বিরুদ্ধে ছয় মাসে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারকদের জব্দ করা ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।

সিআইডি জানায়, চট্টগ্রামের এক নারীর স্বামী থাকেন বিদেশে। তিনি জটিল রোগ থেকে মুক্তির আশায় টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন দেখে ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। যোগাযোগ করলে জিনের বাদশার মাধ্যমে তার রোগ সারানোর কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু হয়।

বিশ্বাস তৈরির জন্য প্রতারকরা প্রথমে ৯৯৯ টাকা নেয় গরিব মানুষদের খাওয়ানো হবে জানিয়ে। এরপর ধাপে ধাপে প্রায় ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রিয়জনের ক্ষতি করা ভয় দেখাত কথিত জিনের বাদশা।

প্রতারণার শিকার নারী চট্টগ্রামের খুলশি থানায় মামলা করলে সিঅআইডি তদন্তে নামে। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারক চক্রের হোতা আল আমিনসহ তিনজনকে। প্রায় অভিন্ন কৌশলে চক্রটি গত ছয় মাসে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে সিআইডি জানতে পেরেছে।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, প্রতারকরা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নানা রকম সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিত। এর মধ্যে রয়েছে জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষকে সুস্থ করা, বিদেশে যাওয়ার সুব্যবস্থা করা, মামলা-মোকাদ্দমা থেকে মুক্তি, দাম্পত্যকলহ দূর করা, বিয়ের বাধা দূর করা, অবাধ্যকে বাধ্য করা ও চাকরিতে পদোন্নতি। সাধারণ মানুষ একবার তাদের ফাঁদে পা দিলে আর বের হতে পারতেন না।

আরও পড়ুন:
মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা

শেয়ার করুন

১০ দিনের রিমান্ডে পিয়াসার দুই সহযোগী

১০ দিনের রিমান্ডে পিয়াসার দুই সহযোগী

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে বুধবার দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুজনই মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক দুই মামলায় মডেল ও অভিনেত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার দুই সহযোগী শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে ১০ দিনের জন্য রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম মামনুর রশিদের আদালত বৃহস্পতিবার দুপুরে এ আদেশ দেয়।

অস্ত্র আইনের মামলায় জিসানকে ১০ দিনের জন্য এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় মিশুকে ১০ দিনের জন্য রিমান্ডে পেতে আবেদন করেন ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান খান।

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে বুধবার দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুজনই পিয়াসার সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

এর আগে রোববার রাজধানীতে আলাদা অভিযান চালিয়ে মডেল পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাহিনীটি বলছে, দুই মডেল সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা উচ্চবিত্তদের ব্ল্যাকমেইল করতেন।

আরও পড়ুন:
মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা

শেয়ার করুন

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করতে তৈরি নাসির

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করতে তৈরি নাসির

নাসির উদ্দিন মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাকে জনসমক্ষে সে (পরীমনি) হেয় করেছে। আমি অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, মামলা করব।’

র‍্যাবের অভিযানে আটক আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে শিগগিরই মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদ।

পরীমনির বাসায় র‍্যাবের অভিযানের মধ্যে বুধবার বিকেলে তিনি নিউজবাংলাকে এ কথা জানান।

পরীমনি গত ৯ জুন রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে যাওয়ার পর ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে সারা দেশে তোলপাড় ফেলেন।

এরপর ১৪ জুন তিনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিন ও অমির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন নাসির।

১ জুলাই জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান নাসির উদ্দিন মাহমুদ। শুরু থেকেই তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

পরীমনির বাসায় বুধবার র‌্যাবের অভিযানের সময় নাসির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার সম্পর্কে সে (পরীমনি) মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল, যা সত্য নয় তা বলেছিল। ভিডিও ফুটেজ এবং তার কথাবার্তা সবকিছুতেই অসংগতি ছিল। বাস্তবে এর কোনো মিল ছিল না।

‘এই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাকে জনসমক্ষে সে হেয় করেছে। আমি অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, মামলা করব।’

তিনি বলেন, ‘আমার মানহানি হয়েছে, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছে, ফেসবুকে মিথ্যাচার করেছে, বোট ক্লাবে ড্রিংক নিয়ে জোরাজুরি করেছে। আমি মামলা তো করবই। তাকে তো ছাড় দেয়া যায় না। আমি আমার মতো করে লিখে রেখেছি, যেকোনো সময় বিমানবন্দর থানায় পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করব।’

আরও পড়ুন:
মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা

শেয়ার করুন