শাটডাউন: সড়কে গাড়ি কম, দাপট রিকশার

শাটডাউন: সড়কে গাড়ি কম, দাপট রিকশার

রামপুরা বিটিভি ভবনের সামনের চেকপোস্টে পুলিশি তৎপরতা। ছবি: নিউজবাংলা

রামপুরা বিটিভি ভবন সংলগ্ন চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট মীর শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞেস করছি, কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন। তার বের হওয়ার কারণ যৌক্তিক মনে হলে যেতে দিচ্ছি। নয়তো সরকারের নির্দেশনা অমান্য করায় মামলাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশে শাটডাউনের নবম দিন চলছে। শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল কিছুটা কম দেখা গেছে। তবে সড়কে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রিকশা চোখে পড়ছে। ভাড়াও দ্বিগুণ। তারপরও রিকশা করে গন্তব্যে যেতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

মোহাম্মদপুরে একটি বায়িং হাউজে চাকরি করেন মগবাজারের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবারেও অফিসে কিছু কাজ আছে। শাটডাউনের কারণে রিকশাই ভরসা। ১০০ টাকার পথ ২০০ টাকায় যাচ্ছি। তবুও যাওয়া যাচ্ছে। নয়ত হেঁটে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।’

মগবাজার মোড়ে কথা হয় রিকশাচলক জয়নালের সঙ্গে। আগের থেকে বেশি ভাড়া নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। তবে যাত্রী কম থাকায় বেশি ভাড়া নিয়ে দিনের খরচ বাদ দিয়ে সংসার চালানোর টাকা রোজগার হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘রিকশারতো অভাব নাই, যাত্রী কই? সকাল থেইক্কা ঘুইরা একটা ভাড়া পাইছি। পাশের একজন চালককে দেখিয়ে বলেন, সেতো এহনো যাত্রী পায় নাই।’

শুক্রবার হওয়ায় অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় সড়কে মানুষের চলাচল কম বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যরা।

রামপুরা বিটিভি ভবন সংলগ্ন চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট মীর শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞেস করছি, কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন। তার বের হওয়ার কারণ যৌক্তিক মনে হলে যেতে দিচ্ছি। নয়তো সরকারের নির্দেশনা অমান্য করায় মামলাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

বিটিভি চেকপোস্টে মোটরসাইকেলে দুজন চড়ে আসতে দেখে থামান দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। জিজ্ঞাসাবাদে চালক জানান, জরুরি কাজে ঢাকা মেডিক্যাল যাচ্ছেন। তবে প্রয়োজনটা পেছনে বসা ব্যক্তির। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ সদস্যরা বুঝতে পারেন, মোটরসাইকেলটি ভাড়ায় চলছে। চালকের বিরুদ্ধে মামলা দেন চেকপোস্টে থাকা সার্জেন্ট।

এরই মধ্যে চালক মোবাইল ফোনে কোনো একজনের সঙ্গে সার্জেন্টকে কথা বলার অনুরোধ করেন। কথা বললেও মামলা দেয়া থেকে বিরত থাকেননি তিনি।

সার্জেন্ট শহীদুল বলেন, ‘আমরা সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি। এক মোটরসাইকেলে দুজন চড়া নিষেধ। একজন চলতে পারবে, যদি তার বের হওয়ার অনুমতি থাকে। এর বাইরে কারও চলাচল করতে হলে রিকশায় যেতে বলা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা যারা মানছে না তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, মগবাজার, শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রধান সড়কগুলোতে সাধারণ মানুষের চলাচল কম থাকলেও অলিগলিতে মানুষে ভরা। অধিকাংশের দাবি, বাজার করতে বের হয়েছেন তারা।

বাজারের প্রয়োজন ছাড়াও চায়ের দোকান বা ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারদের ঘিরে জটলা দেখা গেছে সর্বত্র।

মোহাম্মদপুর জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাহিন ফরায়েজী বলেন, ‘মূল সড়কের বাইরে গলি পথে কেউ যেন অযথা ঘুরাফেরা করতে না পারে সে জন্য আমরা টহল দিচ্ছি।

‘যারা জরুরি প্রয়োজনে বের হচ্ছেন তারা যেন মাস্ক পরে সে ব্যাপারে সচেতন করছি। এ ছাড়া অহেতুক ঘোরাফেরা করতে যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের আটক করা হচ্ছে।’

অকারণে ঘর থেকে বের হওয়া ও মাস্ক না পরার অভিযোগে শাটডাউনের অষ্টম দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ১ হাজার ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

এ সময় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জরিমানা করেছে সাড়ে ২১ লাখ টাকা।

করোনা প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা অমান্য করায় তাদের মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাটডাউন শুরুর পর থেকে গত আটদিনে রাজধানীতে ৫ হাজার ২৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সন্ত্রাস ছেড়ে পাঠাও চালক, তারপর শাটডাউন
শাটডাউন: রাজধানীতে গ্রেপ্তার আরও ১০৭৭
পুরান ঢাকার অলিগলিতে যানজট
রিকশার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গাড়ি, শিথিল নজরদারি
সন্তানের দুধের জন্য কর্মহীন বাবার কান্না  

শেয়ার করুন

মন্তব্য