বুড়িগঙ্গাপাড়ের জীবিকায় টান

বুড়িগঙ্গাপাড়ের জীবিকায় টান

চলমান শাটডাউনে নদীর ঘাটে এখন যাত্রীর চেয়ে নৌকা বেশি। ছবি: নিউজবাংলা

সোয়ারীঘাটের ডিঙিনৌকার মাঝি সেকন্দার আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এরম লকডাউন থাকলে মারাই যামু। সাহায্য-সহযোগিতা না পাইলে আমাদের মরণ ছাড়া রাস্তা নাই।’

রাজধানীর কোলঘেঁষা বুড়িগঙ্গা নদী ঘিরেই কয়েক হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা। নৌকা, ট্রলার চালিয়ে জীবন চলে বেশির ভাগের। কেউবা ঘাটশ্রমিক। দৈনিক উপার্জনেই চলে তাদের সংসার। চলমান শাটডাউনে এ রকম প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারঘোষিত বিধিনিষেধে এখন প্রাণচাঞ্চল্যহীন বুড়িগঙ্গা তীর। যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ। জরুরি প্রয়োজনে স্বল্প দূরত্বে নৌকায় যাতায়াত করছেন অল্পসংখ্যক মানুষ। আগে অফিস কর্মী ও শ্রমিকদের ভিড় লেগে থাকত এসব নৌঘাটে। এখন বিপরীত চিত্র, নৌঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীর তুলনায় নৌকা বেশি।

করোনার প্রভাবে সড়কপথের মতোই নৌপথে মানুষের যাতায়াত এখন নিতান্তই কম। আর তাই সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নৌশ্রমিকরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে জীবন যাপন করছেন তারা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়লেও সরকার বা কোনো জনপ্রতিনিধি দিচ্ছেন না সহায়তা। অসহায় সময় কাটছে তাদের।

পুরান ঢাকা ওয়াইজঘাটের ট্রলারশ্রমিক আবদুল আলিম জানান, সেখানে ৩০টি ট্রলার রয়েছে, কিন্তু যাত্রী নেই। প্রতিটি ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কাজ করেন অন্তত দুজন করে শ্রমিক। কর্মহীন অবস্থায় শত শত শ্রমিকের পরিবারে এখন হাহাকার। অনেক নৌশ্রমিক এখন ট্রলারের মধ্যেই ঘুমিয়ে থাকছেন। উপার্জন না থাকায় ঘরে ফেরার আগ্রহ কম তাদের।

আবদুল আলিম বলেন, ‘ঘাটের আশপাশে থেকে, মানুষের কাছ থেকে দশ-বিশ টাকা চেয়ে নিয়ে জীবন চালাচ্ছি। করোনার এ সময়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

প্রতিদিন অন্তত ৩০টি ট্রলার বিভিন্ন সময়ে ওয়াইজঘাট থেকে ছেড়ে যায়। সেগুলোর যাতায়াত নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও কামরাঙ্গীরচরের কিছু এলাকায়।

সোয়ারীঘাট, মাদবর বাজার, জিঞ্জিরা ফেরিঘাট, টোটা, পাগলা, ফতুল্লাসহ বেশ কিছু স্থানের মানুষ অল্প ভাড়ায় নৌকায় যাতায়াত করেন। বুড়িগঙ্গা নদী ঘিরেই রোজগারনির্ভর প্রায় এক হাজার ডিঙিনৌকার মাঝি বা পাটনির। তারা এখন কষ্টের সময় পার করছেন।

সোয়ারীঘাটের ডিঙিনৌকার মাঝি সেকন্দার আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এরম লকডাউন থাকলে মারাই যামু। সাহায্য-সহযোগিতা না পাইলে আমাদের মরণ ছাড়া রাস্তা নাই।’

তিনি জানান, যাত্রী না থাকায় অনেকে নৌকা ঘাটে রেখে বাড়িতে বসে আছেন। এখন অনেক কষ্টে যে আয়-রোজগার হয়, তার মধ্যে দুই পারে খাজনা দিতে হয় দুই শ টাকা। এরপর বাজার করার টাকা থাকে না।

প্রায় একই অবস্থা কুড়ারঘাট, মাদবর বাজার, মান্দাইল, বরিসুর, টোটার ঘাট, চুনওয়ালা ঘাট, আলীর ঘাট, সোয়ারীঘাট, মাছঘাট, পানঘাট, রাজারঘাট, মিটফোর্ড ঘাট, বাবুবাজার ব্রিজঘাট, ওয়াইজঘাট, ইমামগঞ্জ ঘাট, আলম মার্কেট ঘাট, জিঞ্জিরা, টিনপট্টির ঘাট, জিঞ্জিরা ফেরিঘাট ও কালীগঞ্জ ঘাটসহ আরো কয়েকটি এলাকায়। কয়েক শ মাঝি কর্মহীন হয়ে ঘাটেই ঘোরাঘুরি করেন। তারা কী করবেন বুঝতে পারছেন না।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: ১৮ পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ
আটঘরে জমেছে ডিঙির হাট

শেয়ার করুন

মন্তব্য