গৃহকর্মীকে নির্যাতন: ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে

গৃহকর্মীকে নির্যাতন: ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে

‘২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ভাটারা এলাকার আসাদুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে ভিকটিম। কাজে সামান্য ভুল-ত্রুটি হলেই ভিকটিমকে লাঠি দিয়ে মারধর, প্লাস দিয়ে মাথায় আঘাত করা, চুল টানা, গায়ের ওপর গরম পানি ঢেলে দেয়া, গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়াসহ নানা ধরনের অমানুষিক নির্যাতন করতেন মাহফুজা।’

রাজধানীর ভাটারায় ১৪ বছর বয়সী গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আরিফকে রিমান্ড ফেরত কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম দেবব্রত বিশ্বাসের আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন আসামি আরিফকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আসামির পক্ষে তার আইনজীবী জামিন আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেন নারী ও শিশু আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা (এসআই) রিফাত আরা সুলতানা।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

ভাটারা থানার নারী ও শিশু আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই রাফাত আরা সুলতানা নিউজবাংলাকে এ তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

২ জুলাই আসাদুর রহমান আরিফকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

এরপর রোববার তার স্ত্রী মাহফুজা রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুই দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে দেয়া হয়।

গত ১ জুলাই ভিকটিমকে নির্যাতনের অভিযোগে তার বড় বোন ফাতেমা বেগম ভাটারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলায় আসাদুর রহমান আরিফ এবং তার স্ত্রী মাহফুজা রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ভাটারা এলাকার আসাদুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে ভিকটিম।

কাজে সামান্য ভুল-ত্রুটি হলেই ভিকটিমকে লাঠি দিয়ে মারধর, প্লাস দিয়ে মাথায় আঘাত করা, চুল টানা, গায়ের ওপর গরম পানি ঢেলে দেয়া, গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়াসহ নানা ধরনের অমানুষিক নির্যাতন করতেন মাহফুজা।

সর্বশেষ ১৫ জুন ঘর পরিষ্কার করতে দেরি হওয়ায় তাকে বেধড়ক মারধর করেন আরিফ ও মাহফুজা।

এমনকি গরম পানি দিয়ে তার শরীর ঝলসে দেয়া হয় এবং গ্যাসের চুলায় রড গরম করে তার পায়ে চেপে ধরা হয়।

এছাড়া, ভিকটিমের মুখ, হাত, পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন আছে।

পরে অসুস্থতার কথা বলে ৩০ জুন ভিক্টিমকে তার বড় বোন ফাতেমা আক্তারের বাসায় রেখে আসেন আসাদুর রহমান আরিফ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য