প্রস্তুতি থাকছে, করোনা বাড়লে হবে না পশুর হাট 

প্রস্তুতি থাকছে, করোনা বাড়লে হবে না পশুর হাট 

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বরাবরের মতো এবারও পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ফাইল ছবি

ঢাকায় দুই সিটি করপোরেশনে ২৪টি কোরবানির পশুর হাট বসে প্রতি বছর। এবারও ইজারাসহ সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে করোনার সংক্রমণ বাড়লে হাট না বসানোর নির্দেশও আসতে পারে। 

কোরবানি ঈদে রাজধানীতে গবাদিপশুর হাট বসবে কি না, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। দুই সিটি করপোরেশন হাটের সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। তবে করোনা মহামারি পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে যদি হাট বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়, তবে বন্ধ হবে হাট।

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে। রাজধানীতে কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য এবার দুটি স্থায়ীসহ ২৪টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন।

এসব হাটে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

রোববার সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, এখনও দুই সিটিতে সবগুলো হাটের ইজারা দেয়ার কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০টি হাট রয়েছে। এর ৯টি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪টি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। যার মধ্যে ১১টির ইজারা দেয়া হয়ে গেছে। তিনিটি এখনও বাকি রয়েছে।

করোনা মহামারির মধ্যেও গত বছর দুই সিটি করপোরেশন রাজধানীতে ২৪টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে করোনা সংক্রমণ বিবেচনায় উত্তর সিটিতে ১০টির পরিবর্তে ৬টি এবং দক্ষিণে ১৪টির পরিবর্তে ১১টি হাট বসায় কর্তৃপক্ষ।

ঢাকার হাটের পশু সাধারণত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসে। দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণের মধ্যে এসব হাটে বিক্রেতা ও ক্রেতার স্বাস্থ্যবিধি কীভাবে নিশ্চিত হবে, সেটি এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লেলিন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সামনের দুই সপ্তাহ আমাদের কেমন যাবে, বিষয়টি তার ওপর নির্ভর করছে। যদি সংক্রমণ বাড়ার ধারাবাহিকতা থাকে, বা আমরা থামাতে না পারি, তাহলে হাটের বিকল্প চিন্তা করতে হবে। আর যদি বর্তমান অবস্থা চলতে থাকে, তবে সেখানেও আমাদের পরিবর্তন আনতে হবে।’

কী পরিবর্তন আনতে হবে, জানতে চাইলে এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘গত বছর আমরা অনলাইনে গবাদিপশু কেনাবেচা করেছি। সেটি ছিল প্রায় ২৫ ভাগ। এবার সেটি ৫০ শতাংশ করা উচিত। আর যদি হাট বসাতেই হয়, তবে বড় শহরের বাইরের খোলা জায়গায় সেটি বসাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এর জন্য টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ অথবা সদরঘাট থেকে মোহাম্মদপুরের যে রাস্তা, সেগুলোকে মাথায় আনতে হবে। যারা ভ্যাক্সিন নিয়েছেন, তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে যাবেন। তবে আগের মতো এত হাট এবার বসানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।’

প্রস্তুতি থাকছে, করোনা বাড়লে হবে না পশুর হাট

কী বলছে সিটি করপোরেশন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল বাসার বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত ১০টি হাটের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি স্থায়ীসহ বাকিগুলো অস্থায়ী। এখন পর্যন্ত হাট বন্ধের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে অনলাইনে হাট পরিচালনা করার একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে আজ (রোববার)।’

ঢাকা উত্তরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জোবায়দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা মূলত এখন অনলাইন হাটের ব্যাপারে বেশি উৎসাহিত করছি। গতবারের মতো এবারও আমরা অনলাইনে ১ লাখ গরু বেচার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে শুধু ১ লাখ গরু বিক্রি করলেই তো আর হবে না। দেশে গরুর চাহিদা ১কোটি ১৯ লাখ।’

তিনি বলেন, ‘এই সিটি করপোরেশনে ১০টি হাট রয়েছে। এটি লকডাউন পিরিয়ডে কোনোভাবেই কার্যকর হবে না। লকডাউন শেষ হলে তখন হাটের কার্যক্রম শুরু হবে।’

স্বাস্থ্যবিধি কীভাবে মানা হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১০টি গরুর হাটের জন্য আমার ১১টি ভ্যাটেরিনারি টিম কাজ করবে। এর মধ্যে দুইটি টিম সার্বক্ষণিক স্থায়ী হাট গাবতলীতে থাকবে। আমাদের মনিটরিং টিম থাকবে। মোবাইল কোর্ট থাকবে। তারা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা, সেটি লক্ষ্য রাখবে।

‘এ ছাড়া আমাদের একটা বড় উদ্যোগ আছে। সেটি হলো গণমাস্কিং। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি, দেশের ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও শক্তি ফাউন্ডেশন মিলে সেটি পরিচালনা করছি। আমরা ৯টি স্পটকে চিহ্নিত করেছি। যেখানে জনসমাগম বেশি হয়। সেখানে মাস্ক বিতরণ করব।’

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত সব সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করছে। যদি করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি হয়, আর সে ক্ষেত্রে যদি হাট বন্ধের সিদ্ধান্ত আসে, তবে আমাদের সেটা মানতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত সরকার থেকে হাটের ওপর কোনো নিষেধ আসেনি। হাট নিয়ে পরিকল্পনা এখনও আগের মতোই আছে।’

স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলনে, ‘আমরা আমাদের ইজারাদারদের বলে দিয়েছি, তারা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটের কার্যক্রম পরিচালনা করে। যদি আমাদের কোনো বিধিনিষেধ দেয়া হয়, তবে সেটি মেয়র মহাদয় পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেবেন।’

এই সিটির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতবারও করোনার মধ্যেই হাটের কার্যক্রম চলেছে। আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা পেয়েছি, সেইভাবে কাজ করছি। এবার একটু বেশি সতর্ক থেকে হাট পরিচালনা করা হবে। আমাদের প্রায় সব হাট ইজারা দেয়া হয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য