ঢাকা ছাড়তে মরিয়া রিকশাচালকরা

ঢাকা ছাড়তে মরিয়া রিকশাচালকরা

ট্রাকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে বাড়ি ফিরতে উন্মুখ রিকশাচালকরা। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকায় শাটডাউনের কড়াকড়ি থাকায় মানুষ বাইরে বের হচ্ছে কম। রিকশাচালকরা দিনভর ঘুরে ট্রিপ পাচ্ছেন হাতেগোনা। যে রোজগার হচ্ছে তা দিয়ে ব্যয়বহুল শহর ঢাকায় জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই যে কোনো মূল্যে ঢাকা ছাড়তে চাচ্ছেন পেশায় রিকশাচলক এমন শত শত মানুষ। যাদের সবার বাড়ি দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়।

নাজমুল ইসলাম ঢাকায় রিকশা চালান। শাটডাউনে লোকে ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। আরোহীও পাচ্ছেন না। এখন রংপুরে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে চান তিনি। পণ্য আনা ট্রাকে করে ফিরতে চান। ভাড়ায় বনছে না।

ঢাকা ছাড়তে চাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ইনকাম নাই’।

শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বসুন্ধরা শপিং মলের বিপরীত পাশে ফার্নিচার মার্কেটের সামনে শতাধিক মানুষকে ট্রাক দেখতেই দৌঁড়ে উঠার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তারা সবাই ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ঢাকায় শাটডাউনের কড়াকড়ি থাকায় মানুষ বাইরে বের হচ্ছে কম। রিকশা চালকরা দিনভর ঘুরে ট্রিপ পাচ্ছে হাতেগোনা। যে রোজগার হচ্ছে তা দিয়ে ব্যয়বহুল শহর ঢাকায় জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই যে কোনো মূল্যে ঢাকা ছাড়তে চাচ্ছেন পেশায় রিকশাচলক এমন শত শত মানুষ। যাদের সবার বাড়ি দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়।

সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ। শাটডাউনের প্রথমদিন থেকেই এই শ্রমজীবী মানুষ খবর পাচ্ছিলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকগুলোতে চড়ে উত্তরাঞ্চলে যাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু তারা দেখতে চাচ্ছিলেন, শাটডাউন শুরু হলে কেমন মানুষ বের হয়, দিন পার করার মতো রোজগার হয় কিনা?

বৃহস্পতিবার থেকে শাটডাউন শুরু হওয়ার পর দিন যাচ্ছে আর কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। অকারণে বের হওয়ার কারণে গ্রেপ্তার হচ্ছে শতশত মানুষ।

এমন পরিস্থিতে সামনে আরও কঠিন সময় আসছে বলে মনে করছেন নিম্ন আয়ের এই মানুষগুলো।

ঢাকা ছাড়তে মরিয়া রিকশাচালকরা

এদেরই একজন নাজমুল। আরেকজন বগুড়ার জাকির হোসেন। বলছিলেন, ‘ঢাকা থাইকা কী না খাইয়া মরুম? তিনদিন খাইয়া, না খাইয়া আছি। বাড়িত যাবার চাও, গাড়ি নাই।’

রংপুরের ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘লোক না বারাইলে ভাড়া কই পামু?’

কোনো ট্রাক সার্ক ফোয়ারা হয়ে পান্থপথ সড়কে ঢুকলেই দৌঁড়াচ্ছেন, যে কোনো মূল্যে বাড়ি ফিরতে চাওয়া এই মানুষগুলো। কিন্তু ট্রাকগুলো থামছে না। দুয়েকটা ট্রাকে মানুষ উঠাচ্ছে। কিন্তু ভাড়া বেশি। ৫০-১০০ টাকার ভাড়া ৪০০- ৬০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।

ধলপুর থেকে কালীহাতি যাওয়ার জন্য আনোয়ার হোসেন প্রথম এসেছেন মগবাজার। কোনো ট্রাক না পেয়ে আসেন সাতরাস্তা। সেখান থেকে কারওয়ান বাজার। এরপর পান্থপথ। এত পথ ঘুরে এসেও ট্রাকে উঠতে পারছেন না ভাড়া বেশি হওয়ার কারণে।

তিনি জানান, বগুড়া পর্যন্ত নিচ্ছে ৬০০ করে, টাঙ্গাইল কালীহাতী পর্যন্তও নিচ্ছে ৬০০।

অপেক্ষা করছেন আর কিছুটা কম ভাড়ায় যদি যাওয়া যায়।

ভাড়া বেশি চাওয়ার কারণ হিসেবে কয়েকটি ট্রাকের চালক-হেল্পার বলেন, রাস্তায় পুলিশ আটকায়, টাকা দিয়ে ছাড়াতে হয়। এজন্যই ভাড়া বেশি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য