শাটডাউনে হাতিরঝিলে জন্মদিন

শাটডাউনে হাতিরঝিলে জন্মদিন

রাতের শাটডাউন দেখতে অনেকেই যাচ্ছেন হাতিঝিল এলাকায়। সেখানে পুলিশের চেকপোস্ট থাকায় অনেকেই শাস্তির মুখে পড়ছেন। ছবি: সংগৃহীত

সার্জেন্ট রাসেল জানান, শাটডাউনে রাতের ঢাকা দেখতে অনেকেই বের হচ্ছেন। বিশেষ করে আসছেন হাতিরঝিল এলাকায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাদেরকে রাস্তায় পাওয়া যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

শাটডাউনের মধ্যেই হাতিরঝিলে জন্মদিন উদযাপন করতে গিয়ে পুলিশের চেকপোষ্টে ধরা পড়েছেন কয়েকজন যুবক। সরকারি বিধিনিষেধ না মেনে রাতে বের হওয়ায় তাদের জরিমানা গুনতে হয়েছে।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে হাতিরঝিলে এ ঘটনা ঘটে।

শুধু দিনে নয় রাতেও যেন কেউ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় চলাচল করতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাবও চেকপোস্ট পরিচালনা করছে।

হাতিরঝিল রামপুরা অংশে চেকপোস্ট বসিয়েছে তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগ।

সার্জেন্ট রাসেল জানান, শাটডাউনে রাতের ঢাকা দেখতে অনেকেই বের হচ্ছেন। বিশেষ করে আসছেন হাতিরঝিল এলাকায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাদেরকে রাস্তায় পাওয়া যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাতে পাঁচটি গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন বলে জানান ট্রাফিকের এই কর্মকর্তা।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও ব্যক্তিদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা গেছে।

শাহবাগ এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শাটডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রাশেদ নিউজবাংলাকে বলেন, শাহবাগ এলাকায় এই রাতে যারা চলাচল করছেন তাদের অধিকাংশই হাসপাতালে যাচ্ছেন বা হাসপাতাল থেকে ফিরছেন। এর বাইরে আর তেমন কোনো সাধারণ মানুষের চলাচল নেই।

শাহবাগ থেকে কাঁটাবন যাওয়ার পথে চেকপোস্ট বসিয়েছে র‍্যাব-৩। ভোর ৬টা পর্যন্ত তাদের এই চেকপোস্ট চলবে বলে জানান র‍্যাব-৩ এর ডিএডি মো. ফিরোজ খান।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার যে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে তা নিশ্চিত করার জন্য রাতেও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোত চেকপোস্ট রাখা হয়েছে বলে জানান ডিএমপির মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

উত্তরায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু

উত্তরায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু

ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত ব্যক্তির মরদেহ রাখা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। ছবি: বুলবুল চৌধুরী/নিউজবাংলা

ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক আলী আকবর জানান, উত্তরার আজমপুরে চট্টগ্রাম থেকে কমলাপুরগামী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওই ব্যক্তির নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। তার বয়স ৬৫ বছর বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী আকবর জানান, আজমপুরে চট্টগ্রাম থেকে কমলাপুরগামী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ওই ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

শেয়ার করুন

মুনিয়া হত্যা: এক আসামির আগাম জামিন

মুনিয়া হত্যা: এক আসামির আগাম জামিন

জামিন শর্তে আদালত বলেছে, আসামি রিপনকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে, বিদেশ যেতে পারবেন না। সেই সঙ্গে তদন্তকাজে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।

রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার বোনের করা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের মামলা থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন এক আসামি।

বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর, তার বাবা, মা, স্ত্রীসহ এই মামলার আসামি আটজন। এর মধ্যে ইব্রাহিম আহমেদ রিপনকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

জামিন শর্তে আদালত বলেছে, রিপনকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে, বিদেশ যেতে পারবেন না। সেই সঙ্গে তদন্তকাজে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।

আদালতে ইব্রাহিম আহমেদ রিপনের পক্ষে শুনানি করেন নাহিদ সুলতানা যুথি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

পরে জামিনের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর।

কলেজ ছাত্রী মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এ গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলাটি করেন তার বড় বোন নুশরাত জাহান তানিয়া।

মামলাটিতে আট আসামি হলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, আনভীরের মা আফরোজা সোবহান, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনাসহ শারমিন, সাইফা রহমান মিম, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও ইব্রাহিম আহমেদ রিপন।

মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর আগে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের দিনই আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে বসুন্ধরার এমডি আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তার বোন নুশরাত। গত ১৮ আগস্ট ওই মামলা থেকে অব্যাহতি পান আনভীর।

শেয়ার করুন

এবার কবরের সন্ধানে শম্পার বাবা

এবার কবরের সন্ধানে শম্পার বাবা

শম্পা বেগম। ছবি: সংগৃহিত

শম্পার মরদেহ দাফন করেছিল আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। সংস্থাটির কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, ছয় বছর পরে কবরের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। বেওয়ারিশ কবর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও চিহ্নিত করে রাখা হয় না। তবে কোন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে, তা মামলার নথি দেখে বের করা যাবে।

নিখোঁজ মেয়ের জন্য অপেক্ষার পালা শেষ। খুনের ছয় বছর পর বাবা জেনেছেন, মেয়ে শম্পা বেঁচে নেই। মরদেহ দাফন হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় তরুণী হিসেবে। সেই কবর চিহ্নিত করতে এখন ছুটছেন বাবা ইলিয়াস শেখ।

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে শম্পার হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে। গ্রেপ্তার করেছে তার কথিত স্বামী রেজাউল করিম স্বপনকে। আসামির স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, শম্পাকে হত্যা ও মরদেহ গুমের নানা চেষ্টার তথ্য।

পিবিআই সদর দপ্তরে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার তুলে ধরেন শম্পা বেগমকে হত্যা ও তার কথিত স্বামী স্বপনকে গ্রেপ্তারের তথ্য।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ। ব্রিফিংয়ের সময় বড় পর্দায় মেয়ের ছবি দেখে ঢুকরে কেঁদে উঠেন তিনি।

পরে নিউজবাংলাকে তিনি জানান, ছয় বছর আগে মেয়ে নিখোঁজ হলেও আবার দেখা পাবেন, এমন আশায় ছিলেন এতদিন। গত বুধবার পিবিআই সদস্যরা তাকে জানান, শম্পা হত্যার শিকার হয়েছেন। এখন মেয়েকে জীবিত দেখার আশা ছেড়ে মরদেহ বা কবরের চিহ্নটুকু খুঁজতে খুলনা থেকে তিনি ছুটে এসেছেন ঢাকায়।

পিবিআই জানায়, শম্পা চট্টগ্রামে হত্যার শিকার হলেও অজ্ঞাত তরুণী হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার হয় ঢাকায়। এরপর ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে দাফনের কাজ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ২০১৫ সালের ২ মে গভীর রাতে খুনের শিকার হন খুলনা দৌলতপুরের তরুণী শম্পা বেগম। কথিত স্বামী রেজাউল করিম স্বপন তাকে হত্যার পর মরদেহ ট্রাঙ্কবন্দি করে একটি বাসে তুলে দেন। যা ঢাকার গাবতলীতে উদ্ধার হয়।

হত্যার আগের রাতে মোবাইল ফোনে বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল শম্পার। পরদিন খুলনায় যাবেন বলে বাবাকে জানান। তারপর থেকে অপেক্ষায় বাবা ইলিয়াস শেখ।

মেয়ের মরদেহ দেখার জন্য ইলিয়াসের শেষ ইচ্ছা এখন পূরণ হবার নয় বলেই জানান মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। যেখানে শম্পাকে দাফন করা হয়েছিল, সেই চিহ্নটুকু এখন খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ, অজ্ঞাত পরিচয়ের কবর দীর্ঘদিন চিহ্নিত করে রাখার ব্যবস্থা নেই। তবে যে করবস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে, যারা ব্যবস্থাপনা করেছেন তাদের কাছে শুধুমাত্র নথি পাওয়া যেতে পারে।

মরদেহ দাফন করেছিল আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। সংস্থাটির কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, ‘ছয় বছর পরে কবরের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। বেওয়ারিশ কবর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও চিহ্নিত করে রাখা হয় না। তবে কোন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে, তা মামলার নথি দেখে বের করা যাবে।

‘কবরের জায়গায় মরদেহের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে জুরাইন কবরস্থানে মাটি ভরাট করা হয়েছে, সেখানে দাফন হলে তো কিছুই করার থাকবে না। অন্য কবরস্থানে হলেও দাফনের তিন মাস পরই মরদেহ পাওয়া যায় না। নথি যাচাই করে শম্পার মরদেহ সম্পর্কে যতোটুকু জানা যায় তা তার বাবাকে বলা যাবে।’

আলোচিত মামলাটির তদন্ত হয়েছে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমের তত্বাবধানে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক ও অন্যতম লক্ষ্য ছিল তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করা। এরপর ছিল আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়। এ দুটিই আমাদের কর্মকর্তারা সফলভাবে করতে পেরেছেন। এখন মামলার স্বার্থেই যাচাই করা হবে কবর কোথায় হয়েছিল, সেই তথ্য।’

শেয়ার করুন

ইভানার স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা

ইভানার স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা

ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মানের (বাঁয়ে) নামে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেছে তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

মামলায় ইভানার স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মান ও ইমপালস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মুজিবুল হক মোল্লাকে আসামি করা হয়েছে।

স্কলাসটিকার ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেছে তার পরিবার।

ইভানার বাবা আমান উল্লাহ চৌধুরী শনিবার রাতে শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন।

মামলায় ইভানার স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মান ও ইমপালস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মুজিবুল হক মোল্লাকে আসামি করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদূত হাওলাদার নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ইভানার স্বামীর পাশাপাশি চিকিৎসককে আসামি করার কারণ হলো, তিনি কোনো ডায়গানোসিস ছাড়াই ইভানাকে উচ্চমাত্রার মানসিক ভারসাম্যহীন রোগের ওষুধ দিয়েছিলেন। যে জন্য ইমপালস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মুজিবুল হক মোল্লাকেও আসামি করা হয়েছে।’

ইভানের বাবার অভিযোগ, রুম্মানের বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। যা নিয়ে পারিবারিক কলহ ছিল। বিষয়টি নিয়ে ইভানাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাহবাগের নবাব হাবিবুল্লাহ রোডে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পেছনে) দুই ভবনের মাঝখান থেকে ইভানা লায়লা চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়।

ইভানা লায়লা চৌধুরী দুই সন্তানের জননী ছিলেন। ছেলের বয়স ৮ আর মেয়ের বয়স ৬।

শেয়ার করুন

তরুণীর মৃতদেহ ট্রাঙ্কে ভরে বাসে তুলে দেন কথিত স্বামী

তরুণীর মৃতদেহ ট্রাঙ্কে ভরে বাসে তুলে দেন কথিত স্বামী

চট্টগ্রাম শহরে ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে ঢাকাগামী একটি টিকেট কেটে শম্পা বেগমের মৃতদেহভর্তি ট্রাঙ্কটি তারই কথিত স্বামী রেজাউল করিম স্বপন তুলে দেন বাসের লকারে। ছবি: নিউজবাংলা

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার জানান, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য দেখা দিলে আসামি রেজাউল করিম স্বপন ২০১৫ সালে ২ মে গভীর রাতে শম্পাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। মৃতদেহ গোপন করার জন্য একটি ট্রাঙ্কে ভরে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের একটি বাসে তুলে দেন এবং সুচতুরভাবে ভিকটিমের বাবাকে স্বপন জানান, শম্পাকে খুলনার বাসে তুলে দেয়া হয়েছে।

ছয় বছর আগে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের বাসে রেখে যাওয়া একটি ট্রাঙ্ক থেকে এক তরুণীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে খুলনার দৌলতপুরের তরুণী শম্পা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ট্রাঙ্কে ভরে বাসে তুলে দেন তারই কথিত স্বামী নৌবাহিনীর তৎকালীন মেডিক্যাল সহকারী রেজাউল করিম স্বপন।

পিবিআই এর একটি দল শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা ইপিজেড থেকে রেজাউল করিম স্বপনকে গ্রেপ্তার করে। স্বপন আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পিবিআই-এর উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার শনিবার ধানমন্ডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তরুণীর মৃতদেহ ট্রাঙ্কে ভরে বাসে তুলে দেন কথিত স্বামী

পিবিআই উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার ধানমন্ডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ছবি: নিউজবাংলা

বাসের লকারে ট্রাঙ্কবন্দি মৃতদেহ

২০১৫ সালের ২ মে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার একটি বাসায় শম্পাকে ওড়না দিয়ে পেছিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজের দায় এড়াতে পরিকল্পনা করেন স্বপন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শম্পার মরদেহ তারই একটি হলুদ ট্রাঙ্গে ঢুকিয়ে ৩ মে শহরের এ কে খান মোড়ে রিকশায় করে নিয়ে আসেন স্বপন। সেখানে ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে ঢাকাগামী একটি টিকেট কেটে ট্রাঙ্কটি তুলে দেন বাসের লকারে।

স্বপন বাসের হেলপারকে বলেন, সামনের ভাটিয়ারী কাউন্টার থেকে এই টিকেটের মহিলা যাত্রী উঠবেন। তাকে যেন ভালোভাবে ঢাকা নামিয়ে দেয়। কিন্তু পরবর্তী কাউন্টারে যাত্রী না উঠায় বাসটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে এবং বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে গাবতলীতে পৌঁছায়। শেষ গন্তব্যে সকল যাত্রী যে যার মতো তাদের জিনিসপত্র নিয়ে নেমে যায়।

হেলপার দেখতে পান, একটি ট্রাঙ্ক বাসের লকারে মালিকবিহীন পড়ে আছে। তখন বাসের চালক ও হেলপার মিলে ট্রাঙ্কটি লকার থেকে বের করেন এবং বুঝতে পারেন এটি খুবই ভারী। তাদের সন্দেহ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে দারুসসালাম থানায় খবর দিলে থানা পুলিশ হাজির হয়ে ট্রাঙ্কটি খুলে এবং মরদেহ দেখতে পান। অজ্ঞাত হিসেবে মৃতদেহটির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়।

কেউ বাদী না হওয়ায় থানা পুলিশের পক্ষে উপপরিদর্শক (এসআই) জাহানুর আলী বাদী হয়ে আসামি অজ্ঞাত উল্লেখ করে দারুস সালাম থানায় মামলা করেন।

তদন্তে থানা ও সিআইডি ব্যর্থ হলেও সফল পিবিআই

মামলাটি হওয়ার পর থেকে শুরুতে প্রায় তিন মাস থানা পুলিশ তদন্ত করে। থানা পুলিশের পরে সিআইডি দীর্ঘ চার বছর তদন্ত করে। কিন্তু মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যা রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলার তদন্ত করে।

ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের নির্দেশে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) উক্ত মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। ঢাকা মেট্রো (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমের তত্বাবধানে পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান মামলাটি তদন্ত করেন।

যেভাবে শনাক্ত হয় তরুণীর পরিচয়

পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার জানান, ভিকটিমকে শনাক্ত করার জন্য প্রচলিত সকল পদ্ধতি প্রয়োগ করে। চট্টগ্রাম মেট্রো এবং জেলা এলাকার সকল থানায় বিগত ২০১৫ সালে করা নিখোঁজ জিডিগুলো অনুসন্ধান করে তথ্য নিয়ে আসার জন্য পাঠানো হয় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এক সপ্তাহ নিরলস পরিশ্রম করে ঐ সময়ের কাছাকাছি প্রায় ১০-১২টি নিখোঁজ জিডির তথ্য উদঘাটন করেন। জিডিগুলোর মধ্যে ২০১৫ সালের ১০ জুন করা একটির সন্ধান পান তিনি। যাতে দেখা যায়, শম্পা বেগম নামে এক তরুণী চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের ঘটনায় শম্পা বেগমের ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান পাহাড়তলী থানায় জিডিটি করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জিডিকারী আব্দুল মান্নান এবং শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখের (অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য) সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ২০১৩ সালে রেজাউল করিম স্বপন (অবসরপ্রাপ্ত নৌ বাহিনী সদস্য) খুলনা তিতুমীর নৌঘাঁটিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় শম্পা বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয়। এই পরিচয়ের সূত্রে প্রথমে প্রেম এবং পরে ভিকটিম তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে স্বপন বদলি হয়ে চট্টগ্রামে চলে যান।

ভিকটিম শম্পাও কিছুদিন পরে চট্টগ্রামে চলে যান। চট্টগ্রামে শম্পার এক ফুপুর বাসায় কিছুদিন থাকেন দুজন। এরপর ফয়েজ লেক এলাকায় একটি হোটেলে কিছুদিন অবস্থান করে এই যুগল। পরে পাহাড়তলীর উত্তর গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেনের টিনশেড বাড়ির একটি বাসায় সাবলেট নিয়ে তারা বসবাস শুরু করেন।

এভাবে তারা ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত একত্রে বসবাস করেন। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করলেও বিয়ে করেননি।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার জানান, পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য দেখা দিলে আসামি রেজাউল করিম স্বপন শম্পাকে ২০১৫ সালে ২ মে গভীর রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। মৃতদেহ গোপন করার উদ্দেশে একটি ট্রাঙ্কে ভরে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের একটি বাসে তুলে দেন স্বপন এবং সুচতুরভাবে ভিকটিমের বাবাকে জানান, শম্পাকে খুলনার বাসে তুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে না পৌঁছলে তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ভিকটিমের ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান পাহাড়তলী থানায় নিখোঁজ জিডিটি করেন।

এই জিডির সূত্র ধরেই নিহতের পরিচয় ও আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান পিবিআই প্রধান বনজ কুমার।

আসামি রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে নৌবাহিনী চট্টগ্রাম অফিসে শম্পার বাবা একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তবে সে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলা হয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে। দ্বিতীয় দফায় নৌবাহিনীতে আবার অভিযোগ করেন শম্পার বাবা। তখন চাকরির বয়স ১৯ পার হওয়ায় ২০১৯ সালে স্বপনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় নৌবাহিনী। তবে মেয়ে নিখোঁজের সুরাহা পাননি শম্পার বাবা।

শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ বলেন, ‘ছয় বছর ধরে আমার মেয়ে নিখোঁজ ছিল। কোথায়, কী হয়েছে, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমার মেয়ে স্বপনকে বিয়ে করার কথা জানিয়েছিল। কয়েকদিন আগে পিবিআই জানিয়েছে, আমার মেয়ের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল গাবতলীতে। কালকে (শুক্রবার) শুনলাম স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে। আমার মেয়েকে হত্যার বিচার চাই।’

শেয়ার করুন

গুলশান-বারিধারায় গাড়ি চালাতে লাগবে ট্যাক্স

গুলশান-বারিধারায় গাড়ি চালাতে লাগবে ট্যাক্স

অভিজাত এলাকায় গাড়ি চালাতে অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হবে। ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার বাড়িয়ে যানজট এবং বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব।

রাজধানীর গুলশান ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় গাড়ি চালাতে অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

শনিবার সকালে রাজধানীর মালিবাগ-খিলগাঁও এলাকায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওয়াকাথন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মেয়র।

ঢাকা উত্তর সিটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার সিটি করপোরেশনের বোর্ড মিটিং হবে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ওই কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, 'যেহেতু এটি মেয়র মহোদয়ের একটি পরিকল্পনা, এটি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। কাল সভার পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

২০২১ সালের হিসাবে দেশে নিবন্ধিত মোটরযান আছে ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৯৩টি। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে ১৬ লাখের বেশি গাড়ি। ২০২০ সাল থেকে প্রায় ২ লাখের বেশি গাড়ি এক বছরে নিবন্ধিত হয়েছে।

মেয়র বলেন, এবার দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘গণপরিবহনে ও হেঁটে চলি, ব্যক্তিগত গাড়ি সীমিত করি’, যা সময়োপযোগী ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

গুলশান-বারিধারায় গাড়ি চালাতে লাগবে ট্যাক্স

শনিবার রাজধানীর মালিবাগ-খিলগাঁও এলাকায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওয়াকাথন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার বাড়িয়ে যানজট এবং বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব বলে মনে করেন মেয়র।

তিনি বলেন, ‘নগরীতে বড় বড় ফুটপাত নির্মাণ করা হলেও বিভিন্ন কায়দায় সেগুলো দখল হয়ে যায়, আর ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে না পেরে জনগণকে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়, ফলে যানজট বৃদ্ধি পায়।’

সুস্থতার জন্য লোকজন যাতে নির্দিষ্ট জায়গায় সাইকেল চালাতে পারে এবং ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারে, সে জন্য সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মনে করেন মেয়র।

মেয়র কিংবা কাউন্সিলর কার‌ও একার পক্ষে শহরকে রক্ষা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দলমতনির্বিশেষে সবাইকে জনকল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতেই হবে।’

রুট পারমিট এবং ফিটনেসবিহীন কোনো গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন মেয়র।

নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চাঁদামুক্তভাবে ফুটপাতে ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই মিলে দখল, দূষণ ও দুষ্ট লোকের কবল থেকে ঢাকাকে মুক্ত করে একটি সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক, ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

বিএফইউজের প্রতিনিধি সভা স্থগিতের নিন্দা

বিএফইউজের প্রতিনিধি সভা স্থগিতের নিন্দা

বিবৃতিতে বলা হয়, বিএফইউজে এবং সাংবাদিক সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার চক্রান্ত হিসেবেই সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এই কাজটি করেছেন।

বিএফইউজের ত্রিবার্ষিক প্রতিনিধি সভা স্থগিত করার নিন্দা জানিয়েছেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও অঙ্গ ইউনিয়নের নেতারা।

শনিবার বিএফইউজের দপ্তর সম্পাদক বরুন ভৌমিক নয়ন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট ফেডারেল নির্বাহী পরিষদের সভায় সর্বসম্মতভাবে ২৫ সেপ্টেম্বর ত্রিবার্ষিক প্রতিনিধি সভা এবং ২৩ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ভোটার তালিকা সংগ্রহ করেন। দফায় দফায় প্রতিনিধি সভার প্রস্তুতি নেয়া হয়। অসুস্থতার অজুহাতে সভাপতি কোনো কোনো সভায় অনুপস্থিত থাকলেও সব প্রস্তুতি তাকে অবহিত করা হয়।

আরও বলা হয়, এক দিন পিছিয়ে প্রতিনিধি সভা ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকতে সম্মতি দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ। সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব উপস্থিত থেকে সব বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং প্রস্তুতি কাজে অংশ নেন। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সহসভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কার প্ররোচনায় কোনো কারণ না দর্শিয়ে কেন প্রতিনিধি সভা স্থগিত করলেন, তা আমাদের কাছে অজ্ঞাত। এফইসির কোনো সিদ্ধান্ত কোনো কর্মকর্তা এককভাবে বদল বা বাতিল করতে পারেন না।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিএফইউজে এবং সাংবাদিক সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার চক্রান্ত হিসেবেই সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এই কাজটি করেছেন।

বিএফইউজের বর্তমান নির্বাহী কমিটির মেয়াদ গত ৩০ জুলাই শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে বলা হয়, ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। কাজেই বর্তমান সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি আর দায়িত্বে নেই।

শেয়ার করুন