বানকোর চেয়ারম্যান মুহিত কারাগারে

বানকোর চেয়ারম্যান মুহিত কারাগারে

গত ২৯ জুন রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী বানকো সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন।

বিনিয়োগকারীদের ‘সম্মিলিত গ্রাহক অ্যাকাউন্ট’ থেকে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ ১৯ হাজার ১৩৩ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় করা মামলায় বানকো সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ আদেশ দেয়।

আদালতে দুদকের সাধারণ নিবন্ধন শাখার উপপরিদর্শক জুলফিকার হোসেন নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আমি আব্দুল মুহিতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৯ জুন রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে।

গত মঙ্গলবার সকালে দেশত্যাগের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী বানকো সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন।

ওই সময় বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে দেশত্যাগে বাধা দেয় এবং তাকে আটকে রাখে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) অবহিত করে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ।

জানা গেছে, বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে বানকো সিকিউরিটিজ ও তার সাতজন পরিচালকের বিরুদ্ধে গত ১৪ মে মতিঝিল থানায় অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ মে ও ৬ জুন বানকো সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়। পরে ৭ জুন কোম্পানিটিতে বিশেষ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে ডিএসই। ওই সময় ব্রোকারেজ হাউসটির সম্মিলিত গ্রাহক অ্যাকাউন্টে চলতি বছরের ৬ জুনের হিসাবে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ ১৯ হাজার ১৩৩ টাকার ঘাটতি পায় ডিএসই। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ডিএসই কোম্পানির কাছ থেকে ওই সম্মিলিত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের ঘাটতির ‘গ্রাহকের পরিশোধযোগ্য সমন্বয়সাধন বিবরণ’ গ্রহণ করে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, বানকো সিকিউরিটিজ ও তাদের মালিকপক্ষ বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও শেয়ার আত্মসাৎ করেছে। এ অর্থ সমন্বয় না করেই তাদের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কোম্পানিটির এমন কর্মকাণ্ড শেয়ারবাজারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত করে তুলেছে।

এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলার রক্ষায় ডিএসই বানকো সিকিউরিটিজসহ কোম্পানিটির চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিত, পরিচালক মো. শফিউল আজম, ওয়ালিউল হাসান চৌধুরী, নুরুল ঈশান সাদাত, এ মুনিম চৌধুরী, জামিল আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪০৯ ধারায় প্রতারণামূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অর্থ আত্মসাৎকারীরা যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য ডিএসইর অনুরোধে গত ১০ জুন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

শেয়ার করুন

মন্তব্য