‘যত ভোগান্তি সব আমাদের’

‘যত ভোগান্তি সব আমাদের’

লকডাউনে রাস্তায় রিকশার আধিক্য থাকলেও ভাড়া ছিল অনেক বেশি। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক মগবাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ভোগান্তি আর অসহায়ত্বে চিত্র দেখা গেছে অফিসগামীদের মধ্যে।

সারা দেশে আংশিক লকডাউন শুরুর প্রথম দিনে রাজধানীর সড়কে ছিল না কোনো গণপরিবহন। চলছে শুধু রিকশা। অবশ্য সিএনজিচালিত অটোরিকশাও চলতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে অফিসে যাচ্ছেন। সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহনের বিভিন্ন যানও ছিল রাস্তায়।

এতোসব গাড়ি চললেও গণপরিবহন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী যাত্রীরা।

রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক মগবাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ভোগান্তি আর অসহায়ত্বে চিত্র দেখা গেছে অফিসগামীদের মধ্যে।

অনেকে হেঁটে, কেউ বা রিকশায় অফিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাদের গুনতে হয়েছে বাড়তি টাকা।

এমন অবস্থা নিয়ে সবার মধ্যে ছিল তীব্র ক্ষোভ। অনেকে অফিস বন্ধ না করে গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।

কারওয়ান বাজার মোড়ে কথা হয় মতিঝিলের বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত আরশাদ হোসেনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘এটা কিছু হইলো বলেন, বাস না থাকলে আমরা অফিসে কি করে যাব। ১ ঘণ্টা থেকে এখানে দাঁড়িছে আছি রিকশার জন্য। কিন্তু অধিকাংশ রিকশা যেতেই চাচ্ছে না।

‘যে কয়েক জন রিকশাচালক যাওয়ার জন্য রাজি হলো, তারা কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিলের ভাড়া চাচ্ছে ২৫০ টাকা। রিকশা চালকদের কথা শুনলে মনে হয় দেশে মগের মুল্লুক চলছে।’

মগবাজার মোড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বনানীর একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কর্মরত ইসমাইল হোসেনকে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে দাঁড়িয়ে আছি। কোনো রিকশাচালকই এতো দূরের পথে যেতে চাচ্ছে না। যত ভোগান্তি সব আমাদের।’

রিকশা ভাড়া বেশি

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যাত্রীদের অন্যতম বাহন এখন রিকশা। তবে রিকশা ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না। প্রায়ই ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও রিকশাচালকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছে।

বাংলামোটর মোড়ে দেখা যায় অফিসগামী যাত্রী মারুফ উর রশিদের সঙ্গে এক রিকশাচালকের বাদানুবাদ। এগিয়ে যেতেই মারুফ উর রশিদ বলেন, ‘এরা এখন সুযোগ নিচ্ছে। ৫০ টাকার ভাড়া চাচ্ছে ২০০ টাকা। এর জন্য সরকার দায়ী। অফিস বন্ধ না করে কেন তারা গণপরিবহন বন্ধ করল।’

বাংলামোটর মোড়ে কথা হয় রিকশাচালক সুলতান মিয়ার সঙ্গে। এতো ভাড়া চাচ্ছেন কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অহন যাত্রী অনেক বেশি। যার মন চায় যাইব, যার মন চায় না যাইব না। এ কয়দিনই তো টাকা কামামো।’

চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার

সরকারের দেয়া প্রজ্ঞাপনে রিকশা ছাড়া কোনো গণপরিবহন না চলার কথা থাকলেও রাজধানীতে বেশ কয়েকটি সড়কে দেখা গেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলতে। শাহবাগ মোড়ে কথা হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আলতাফ মিয়ার সঙ্গে।

লকডাউনে সিএনজি নিয়ে বের হয়েছেন কেন এমন প্রশ্নে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। বলেন, ‘সরকার কি আমাগো খাওয়ায়? আগে আমাগো খাওয়ানোর ব্যবস্থা করুক তারপর সরকারের কথা শুনুম।’

ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ে অফিসে যাচ্ছেন রাজধানীর গুলশানের একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আল মামুন।

মগবাজার মোড়ে সিএনজি স্টেশনের সামনে তার সঙ্গে কথা হলে বলেন, ‘সরকার তো গাড়ি নিয়ে বের হতে বলেনি তাহলে গাড়ি নিয়ে বের হবো না কেন? আর গাড়ি ছাড়া অফিসে যাব কীভাবে?’

আরও পড়ুন:
আংশিক লকডাউনে দীর্ঘ যানজট
লকডাউন: ট্রাক-বাইকে বাড়ি ফেরার ধুম
লকডাউন তামাশায় পরিণত হয়েছে: বিএনপি
শাটডাউনে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী
সোমবার নয়, শাটডাউন বৃহস্পতিবার থেকে

শেয়ার করুন

মন্তব্য