বিস্ফোরণের চার ঘণ্টা পর খুলল ফ্লাইওভার

বিস্ফোরণের চার ঘণ্টা পর খুলল ফ্লাইওভার

মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় চার ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়া হয়েছে মগবাজার ফ্লাইওভার। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলামোটর আর ওয়্যারলেসকে সংযুক্ত করা ফ্লাইওভারের ওপর যানজটে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ওই বিস্ফোরণে। যার কারণে চার ঘণ্টার বেশি সময় পর্যন্ত বন্ধ ছিল যান চলাচল। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার তৎপরতা শেষ হওয়ার পর রাত ১২টার আগে আগে ফ্লাইওভারটি খুলে দেয়া হয়।

মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়া হলো মগবাজার ফ্লাইওভার।

রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মগবাজার ওয়্যারলেস এলাকার আড়ংয়ের শোরুম ও রাশমনো হাসপাতালের উল্টো দিকের মূল সড়ক লাগোয়া একটি তিনতলা ভবনে বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণ এত ভয়াবহ ছিল যে, শত ফুট দূরত্বে থাকা রাস্তার উল্টো পাশের আড়ংয় ভবনের পাঁচতলা পর্যন্ত যত কাঁচ ছিল সব ভেঙে পড়েছে।

পাশের তিন তলা বিশাল সেন্টারের কোনো কাঁচ অক্ষত নেই।

ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

বাংলামোটর আর ওয়্যারলেসকে সংযুক্ত করা ফ্লাইওভারের ওপর যানজটে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ওই বিস্ফোরণে।

যার কারণে চার ঘণ্টার বেশি সময় পর্যন্ত বন্ধ ছিল যান চলাচল। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার তৎপরতা শেষ হওয়ার পর রাত ১২টার আগে আগে ফ্লাইওভারটি খুলে দেয়া হয়।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মূল সরকার মগবাজার থেকে মৌচাকমুখী অংশ দ্রুত খুলে দেয়া সম্ভব হবে। তবে যে অংশে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেই অংশ খুলে দিতে কিছুটা সময় লাগবে।

ইতিমধ্যে রেকার ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসগুলো সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।

যে ভবনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে তার পেছনে দেখা যায়, দেয়াল ভেঙে গেছে। বিস্ফোরণের আঘাতে ভবনের কিছু অংশ বেরিয়ে আসে। উপরের তলায় থাকা সিঙ্গার শোরুমের স্তূপ করে রাখা ফ্রিজগুলো বেশ অরক্ষিত অবস্থায় সেখানে আটকে আছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বলছে, পুরো ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ।

অপর প্রান্তে গোটা সড়ক জুড়ে সব ভাঙা কাঁচ। সাধারণ পথচারীদের হাঁটা চলা বন্ধ রেখেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তারা বলছেন, আড়ং ভবন থেকে এখনো ভাঙা কাঁচের টুকরো ঝরে পড়ছে। ফলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনাস্থল ঘুরে গেছেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম। মগবাজার বিস্ফোরণকে নাশকতা হিসেবে দেখছে না বাহিনীটি। তারা বলছে, জমে থাকা গ্যাস থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

উদ্ধার কাজে নেতৃত্ব দেয়া ফায়ার সার্ভিস বলছে, এটা বোমাসদৃশ বিস্ফোরণ। তারা বলছে, এটা অনেক বড় বিস্ফোরণ ছিল; শব্দ হয়েছে বোমা ফাটার মতো।

তবে ঠিক কী কারণে এ বিস্ফোরণ তার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রকৃত কারণ জানতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের কমিটি। সাত কার্য দিবসে প্রতিবেদন জমা দেবে তারা।

আরও পড়ুন:
‘আমি এতিম হয়ে গেলাম’
‘মউতরে নিজের চক্ষে দেখছি’
‘যা আছিল, সব কাইপ্যা গেছে’
‘আগুনের একটা গোলা দেখছি, এরপর কিছু মনে নাই’
বিস্ফোরণ জমে থাকা গ্যাস থেকে: পুলিশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য