বোতল কুড়াতে গিয়ে নিখোঁজ নর্দমায়

বোতল কুড়াতে গিয়ে নিখোঁজ নর্দমায়

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি মাসুদুল হক বলেন, ‘নর্দমাটি ১০ থেকে ১২ ফুট গভীর। তবে নিচে ময়লার স্তূপ জমে এখন গভীরতা ছয় থেকে সাত ফুট। নিচে ময়লার কয়েকটি লেয়ার থাকলেও ময়লার মধ্যে মানুষ আটকে থাকার সম্ভাবনা কম।’

রাজধানীর বাসাবোর ঝিলপাড়ের নর্দমায় পড়ে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন।

প্লাস্টিকের বোতল কুড়াতে গিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পা পিছলে নর্দমায় পড়ে যান তিনি। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ওই ব্যক্তির নাম আবুল। তার বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। তিনি খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান জীবনযাপন করেন।

নিখোঁজ ব্যক্তির বন্ধু জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থলে এসে আবুলের ময়লা কুড়ানোর বস্তা দেখে সেটা চিনতে পারেন।

তিনি জানান, আবুল সকালে ওই বস্তা নিয়ে ময়লা কুড়াতে বেরিয়েছিলেন। তার স্ত্রী সন্তান থাকলেও তারা আবুলের সঙ্গে থাকতেন না।

আবুলের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর।

মো. রফিক নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে জানান, তিনি সিটি করপোরেশনের হয়ে বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করেন। সকালে তিনি (রফিক) ময়লার ভ্যান নিয়ে কালভার্ট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন দেখেন আবুল নর্দমা থেকে প্লাস্টিকের বোতল কুড়াচ্ছেন। হঠাৎ তিনি পা পিছলে নর্দমায় পড়ে যান।

রফিক আরও জানান, তিনি ছুটে গিয়েছিলেন আবুলকে উদ্ধার করতে। কাছাকাছি গিয়ে দেখেন তার হাত পানিতে ভাসছে। এরপরই তলিয়ে যান আবুল।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, তারা নিখোঁজের খবরটি পায় ১০টা ১৩ মিনিটে। এর ভিত্তিতে নিখোঁজ আবুলকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের দুই ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর থেকে ডুবুরিদলও অভিযানে অংশ নিয়েছে।

নর্দমায় ডুবুরিরা ধারাবাহিকভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন খিলগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবদুল মান্নান।

নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে নর্দমায় নেমেছিলেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি মাসুদুল হক।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, ‘নর্দমাটি ১০ থেকে ১২ ফুট গভীর। তবে নিচে ময়লার স্তূপ জমে এখন গভীরতা ছয় থেকে সাত ফুট। নিচে ময়লার কয়েকটি লেয়ার থাকলেও ময়লার মধ্যে মানুষ আটকে থাকার সম্ভাবনা কম।

‘কারণ পানির অনেক স্রোত। আমার ধারণা, ওই ব্যক্তি স্রোতে ভেসে গেছে।’

এই ঘটনার পর বাসাবো ঝিলপাড় কালভার্ট এলাকায় স্থানীয়রা ভিড় করেছেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণসহ নিখোঁজ যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খুঁড়িয়ে চলছে ঢাকা-পঞ্চগড় আন্তনগর

খুঁড়িয়ে চলছে ঢাকা-পঞ্চগড় আন্তনগর

দেশের রেলওয়ের সবচেয়ে দীর্ঘ ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে সেবার বদলে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। ছবি: নিউজবাংলা

মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আন্তনগর ট্রেনে যে পানি সরবরাহ করা হয়, সেটি ব্যবহার অযোগ্য। পানির মধ্যে যে পরিমাণ আয়রন তাতে হাতমুখ ধোয়া যায় না। এছাড়াও যাত্রীদের জন্যে বরাদ্দ সাবান, এয়ার ফ্রেশনার, অ্যারোসল কিছুই থাকে না।’

অনেক অপেক্ষার পর চালু হয়েছিল পঞ্চগড়-ঢাকা আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস। যাত্রা শুরুর তিন বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর সেবা পাওয়ার বদলে নানা ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে যাত্রীসেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।

আন্তনগর ট্রেনের নিয়মিত যাত্রী সমাজকর্মী মো. শাহজালাল বলেন, ‘রেলসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। সেই তুলনায় সেবার মান বাড়ছে না। পঞ্চগড় থেকে ঢাকার সর্বোচ্চ দূরত্বের এই রুটে যাত্রীদের জন্যে বরাদ্দ হওয়া সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা দরকার।’

মো. শরিফুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আন্তনগর ট্রেনে যে পানি সরবরাহ করা হয়, সেটি ব্যবহার অযোগ্য। পানির মধ্যে যে পরিমাণ আয়রন তাতে হাতমুখ ধোয়া যায় না। এছাড়াও যাত্রীদের জন্যে বরাদ্দ সাবান, এয়ার ফ্রেশনার, অ্যারোসল কিছুই থাকে না।’

যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘আন্তনগর ট্রেন সার্ভিসের সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন যাত্রীরা। প্রতিনিয়ত এ স্টেশনে যাত্রীদের চাপ বাড়ছে। এতে আসন সংখ্যা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া যারা কালোবাজারে টিকেট বিক্রিতে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

পঞ্চগড় রেলস্টেশনের মেকানিক্যাল বিভাগের টিএক্সআর তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে মেকানিক্যাল সেকশনের জন্যে জরুরি অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। অল্প লোকজন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যাত্রীসেবা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। করোনা মহামারির সময়ে রেলকোচের সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্ট চলছে।’

দেশের রেলওয়ের সবচেয়ে দীর্ঘ রুট ঢাকা-পঞ্চগড় ৬৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ। একনেকে অনুমোদনের পর ২০১০ সালে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বতীপুর থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েল গেজে রূপান্তরের কাজ শুরু করে রেল মন্ত্রনালয়।

২০১৬ সালে রেলপথের আধুনিকায়ন শেষ হয়। পরে কোচ ও ইঞ্জিন স্বল্পতার কারণে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে কানেকটিং ট্রেন হিসেবে একটি শাটল ট্রেন চালু করেন রেলমন্ত্রী।

এ অঞ্চলের মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর লাল-সবুজ রঙের ইন্দোনেশিয়ান কোচ দিয়ে দুটি আন্তনগর ট্রেন চালু করা হয়।

বর্তমানে এই জেলা থেকে ঢাকা ও রাজশাহী রুটে চারটি আন্তনগর ট্রেন চলছে। পরে এই রেল বহরে যুক্ত হয় আরও দুটি ট্রেন।

আধুনিক রেল সার্ভিস চালুর পর উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি আর্থসামাজিক অবস্থা বদলাতে শুরু করে।

শেয়ার করুন

তৈরি হচ্ছেন মৃন্ময়ী দুর্গা

তৈরি হচ্ছেন মৃন্ময়ী দুর্গা

লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিককে নিয়ে স্বামী ভোলা মহেশ্বরের বাড়ি কৈলাশ থেকে মর্ত্যে বাপের বাড়ি আসবেন দশভুজা দুর্গা। সঙ্গে থাকবে তাদের প্রত্যেকের বাহন এবং মহিষাসুর।

দশভুজা দুর্গার মর্ত্যে আসতে বাকি আর ২০ দিন। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবীর আগমনের প্রস্তুতি।

এই দেবীর পূজা সাধারণত হয় বসন্তকালে। এ কারণে তাকে বাসন্তী নামেও ডাকা হয়।

তবে সনাতন ধর্মগ্রন্থ চণ্ডীতে উল্লেখ আছে, লঙ্কা জয়ের যুদ্ধের আগে শরৎকালে দেবীর অকালবোধন করেন শ্রী রামচন্দ্র। এ সময় ১০৮ নীলপদ্ম দিয়ে দেবীকে মর্ত্যে আবাহন করে তার কৃপাদৃষ্টি লাভ করেন রাম। সেই থেকেই বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হয়ে ওঠে শারদীয় দুর্গোৎসব।

সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পালন করা হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। এই পাঁচ দিন যথাক্রমে দুর্গা ষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। এই পক্ষটিকে দেবীপক্ষ নামেও জানা যায়। পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন এই দেবীপক্ষের সূচনা হয়, একে মহালয়াও বলা হয়ে থাকে।

লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিককে নিয়ে স্বামী ভোলা মহেশ্বরের বাড়ি কৈলাশ থেকে মর্ত্যে বাপের বাড়ি আসবেন দশভুজা দুর্গা। সঙ্গে থাকবে তাদের প্রত্যেকের বাহন এবং মহিষাসুর।

ষষ্ঠী থেকে দশমী, এই পাঁচ দিনে ফুল-বেলপাতা, ধান-দূর্বাসহ নানা উপকরণে এবং নানা আচার-উপাচার মেনে পূজিত হবেন দেবী। দশমীর দিন সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে, ঢাক-কাঁসর-ঘণ্টা বাজিয়ে তাকে বিদায় দেবেন ভক্তরা।

তৈরি হচ্ছেন মৃন্ময়ী দুর্গা

জেলার মণ্ডপগুলো ঘুরে দেখা যায়, শিল্পীর নিপুণ শৈলীতে বাঁশ, খড়ের কাঠামোতে মাটির আস্তরণে দেবীর অবয়ব তৈরির কাজ প্রায় শেষ। আর কিছুদিন পরেই রং-তুলির আঁচড়ে মৃন্ময়ী রূপ ফুটে উঠবে চিন্ময়ী দুর্গার।

প্রতিমা কারিগর পরান পাল বলেন, ‘২৫ বছর ধরে এই কাজ করছি। এবার ৯টা মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। সময়মতো এসব প্রতিমা পূজা উদযাপন কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি।

‘করোনার আগে প্রতিটি প্রতিমা তৈরি করতে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যেত, কিন্তু চলমান পরিস্থিতির কারণে মজুরি ২৫-৩০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।’

হরিসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করছেন কারিগর উত্তম পাল।

তিনি বলেন, ‘বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছি। আমার সন্তানরা অন্য পেশায় চলে গেছে। বর্তমানে জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় আমাদের আগের মতো পোষায় না।

‘আমি এবার ১৪ খানা প্রতিমা বানানোর কাজ পেয়েছি। বাড়িতেও কিছু প্রতিমা বানিয়ে রেখেছি কম দামে রেডিমেইড বিক্রি করার জন্য।’

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে ঝালকাঠির মদনমোহন আখড়াবাড়ি মণ্ডপে প্রতিমা বানাতে এসেছেন ভাস্কর শ্রীবাস গাইন।

তিনি বলেন, ‘হাতে সময় আছে ২০ দিন। এর মধ্যে মাটির কাজ, রং, পোশাক এবং অলংকার পরানোর কাজ শেষ করে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে হবে। তাই পাঁচজন মিলে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি।’

তৈরি হচ্ছেন মৃন্ময়ী দুর্গা

প্রতিমাশিল্পী সৈকত বিশ্বাস বলেন, ‘করোনায় গত বছর বাড়িতে বসা ছিলাম। এ বছর কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত, কারণ আমার আর্থিক জোগান হচ্ছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে, করোনার টিকা নিয়েই কাজে নেমেছি।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ঝালকাঠি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তরুণ কুমার কর্মকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত রাখতে ১৬৯টি মণ্ডপেই মণ্ডপ কমিটি প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘সব মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলায় রাতে নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশের মাধ্যমে এবারের শারদীয় উৎসব বর্ণিলভাবে পালন হবে বলে আশাবাদী তিনি।

তরুণ কুমার আরও বলেন, ‘পঞ্জিকা মতে এ বছর দেবী দুর্গা আসবেন গজে (হাতি), আর গমন করবেন দোলায়। এ বছর মায়ের কাছে মহামারি থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।’

শেয়ার করুন

দেশে পেট্রল পাম্প হবে ইউরোপ-আমেরিকার আদলে

দেশে পেট্রল পাম্প হবে ইউরোপ-আমেরিকার আদলে

দেশের পেট্রল পাম্পগুলো ইউরোপ-আমেরিকার আদলে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত মডেল পাম্পের জন্য জমির প্রয়োজন হবে দেড় থেকে সোয়া দুই একর। সেখানে থাকবে রেস্টুরেন্ট যার আয়তন হবে ২৭০ বর্গমিটার বা দুই হাজার ৯০৬ বর্গফুট। শিশুদের খেলার স্থান থাকবে ১৫০ বর্গফুটের। বেবি ফিডিং এরিয়া থাকবে ১০০ বর্গফুটের। টয়লেট জোন হবে এক হাজার ১৫৫ বর্গফুটের।

মহাসড়কের পাশে পেট্রল পাম্পে উন্নত বিশ্বের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার। এসব পাম্পে থাকবে রেস্টুরেন্ট, এটিএম বুথ, ওষুধের দোকান, টয়লেট, চালকদের গোসলের ব্যবস্থা, বিশ্রামাগার।

আরও থাকবে শিশুদের খেলার স্থান, বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ানোর আলাদা স্থাপনা। থাকবে শপিং ও গিফট কর্নারও।

একই স্টেশনে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি থাকবে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জের ব্যবস্থাও, থাকবে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জের সুযোগ। ব্যাটারি পরিবর্তন, পাম্পিংসহ গাড়ির টুকিটাকি কাজও সেরে নেয়া যাবে এসব পাম্পে।

সরকার এগুলোকে বলছে ‘হাইওয়ে মডেল ফিলিং স্টেশন’। এর একেকটির আয়তন হবে আড়াই একর।

এসব উদ্যোগ পাম্প মালিকের খরচ প্রাথমিকভাবে বাড়ালেও তার আয় বাড়বে বহুগুণ। কারণ, প্রতিটি সেবার বিপরীতে তারা টাকা নিতে পারবে।

প্রাথমিকভাবে যে হিসাব করা হয়েছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, একেকটি পাম্প স্থাপনে খরচ হবে ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা।

একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এই পরিকল্পনা, যা বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এগিয়ে নেয়া হবে।

প্রথমে তিনটি থেকে ছয়টি পাম্প স্থাপন করবে সরকারি তিনটি তেল বিপণনকারী কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল। পরে বেসরকারি খাতে করা হবে আরও।

সরকার বলছে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত পেট্রোল পাম্পগুলোর বিরুদ্ধে ভেজাল তেল বিক্রি, ওজনে কম দেয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে পাম্পগুলোর পরিবেশও উন্নত বিশ্ব তো দূরে থাকুক, এশিয়ার মানেরও নয়। তাই সরকার এইসব মাথায় রেখেই একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরকে তাই এ প্রকল্প গ্রহণের বছর হিসেবে নেয়া হয়ছে।

দেশে পেট্রল পাম্প হবে ইউরোপ-আমেরিকার আদলে
প্রস্তাবিত পেট্রল পাম্পগুলোর মডেল

যেমন হবে মডেল পাম্প

প্রস্তাবিত মডেল পাম্পের জন্য জমির প্রয়োজন হবে দেড় থেকে সোয়া দুই একর। এর মধ্যে হাইওয়ে ব্যবহারকারীদের সুযোগ সুবিধার জন্য বরাদ্দ থাকবে ৯৫৩ বর্গ কিলোমিটার বা ১০ হাজার ২৫৮ বর্গফুট জায়গা।

সেখানে থাকবে রেস্টুরেন্ট যার আয়তন হবে ২৭০ বর্গমিটার বা ২ হাজার ৯০৬ বর্গফুট। ৮২ জন এই রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। শিশুদের খেলার স্থান থাকবে ১৫০ বর্গফুটের। বেবি ফিডিং এরিয়া থাকবে ১০০ বর্গফুটের। নামাজের স্থান থাকবে ২৪০ বর্গফুট। রান্নাঘরের আয়তন হবে এক হাজার ৪৮৫ বর্গফুট।

পাম্প মালিকের কেবিন থাকবে ৩০০ বর্গফুটের। প্রক্ষালন (ওয়াশরুম) কক্ষের আয়তন হবে ৬৫ বর্গফুট। এটিএম বুথের জন্য থাকবে ২২৫ বর্গফুট।

টয়লেট জোন হবে ১ হাজার ১৫৫ বর্গফুটের। এর মধ্যে পুরুষ টয়লেট ৫৪৮ বর্গফুট (একসঙ্গে ২০ জনের ব্যবহার যোগ্য), নারীদের টয়লেট হবে ২৭০ বর্গফুটের (একসঙ্গে ৯ জন ব্যবহার যোগ্য)। প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকছে ৬৭ বর্গফুট এলাকা।

পাম্পের কাউন্টার এবং লুব্রিকেন্ট স্টোরেজের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৩১২ বর্গফুট জায়গা। আট জনের অফিস কক্ষের জন্য থাকছে ৪১৫ বর্গ ফুট, স্টাফ বিশ্রামের জন্য থাকছে ৪৬২ বর্গফুট।

এই পাম্প ব্যবহারকারীদের জন্য থাকছে মোবাইল ফোন চার্জিং পয়েন্ট। ওয়াটার বডি থাকছে ১ হাজার ৪০০ বর্গফুটের। থাকছে মেডিক্যাল ইউনিট।

পাম্প শেডের আয়তন হবে প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের। এতে একসঙ্গে ২২টি গাড়ি তেল ও গ্যাস নিতে পারবে। থাকবে রেস্টুরেন্টের মধ্যে ৫৫ বর্গফুটের খোলা স্থান।

সার্ভিস এরিয়া

সার্ভিস এরিয়ায় থাকবে বাস ও গাড়ি ওয়াশিং জোন। এর মধ্যে টুলস রুম থাকবে ২২৬ বর্গফুটের। সেখানে ব্যাটারি পরিবর্তন-চার্জিং ও টায়ার পাম্পিং সুবিধা থাকবে। থাকবে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থাও।

ড্রাইভার জোনের আয়তন হবে ২ হাজার ২৫৩ বর্গফুট। সেখানে ৯৪৩ বর্গফুটের রেস্টুরেন্ট, ৪৯০ বর্গফুটের কিচেন, ৩৮০ বর্গফুটের টয়লেট থাকছে। থাকছে চালকদের গোসলের ব্যবস্থা।

ট্যাংক স্টোরেজ ও পার্কিং ক্যাপাসিটি

হাইওয়ে মডেল পাম্পে অকটেন স্টোরেজ ক্যাপাসিটি থাকবে ১৮ হাজার লিটার। পেট্রোল স্টোরেজ ক্যাপসিটি থাকবে ১৩ হাজার লিটার। দুইটি হাইস্পিড ডিজেল স্টোরেজ ট্যাংকের মোট স্টোরেজ ক্যাপসিটি থাকবে ৬০ হাজার লিটার। অটো গ্যাস (এলপিজি) ক্যাপাসিটি হবে ২০ হাজার লিটার।

এই পাম্পে ১৩ টি ব্যক্তিগত গাড়ি, ২০টি বাস ও ট্রাক পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে। ফুয়েল আনলোডিং ক্যাপাসিটি থাকবে একটি। একই সঙ্গে চারটি ব্যাটারিচালিত গাড়ি চার্জের ব্যবস্থাও থাকছে।

কেন এই উদ্যোগ?

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (অপারেশন) ড. মহ. শের আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পেট্রল পাম্প নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা একটি জরিপ চালিয়েছিলাম। এই জরিপে মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। এতে দেখা যায় দেশের প্রচলিত পাম্পগুলোর ৬২ ভাগই তেল বিক্রি করে লাভ করতে তো পারেই না, উল্টো লোকসানে থাকে।

‘তারা ভেজাল তেল বিক্রি করে ও ওজনে কম দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখে বা সামান্য লাভও করে। এতে দেশের পাম্পগুলোর সেচ্ছ্বাচারিতা ও গ্রাহক ভোগান্তির এক করুণ চিত্র ফুটে ওঠে।’

নতুন ধরনের পাম্পে ভেজাল তেল বিক্রি বন্ধ হবে-এমন নিশ্চয়তা কী, এমন প্রশ্নে যুগ্মসচিব বলেন, ‘এসব পাম্পে ভেজাল বা ওজন কম দেয়ার প্রয়োজন পড়বে না। কারণ, তেল বেচে যদি লাভ নাও হয়, তাহলেও অন্যান্য যে সেবা থাকবে, তাতে মালিকের মুনাফা হবে অনেক বেশি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের পেট্রল পাম্পগুলোর ফ্রেশ রুমগুলো অত্যন্ত নোংরা। নেই কোনো রিফ্রেসমেন্ট ব্যবস্থাও। এতে নারী, শিশু ও প্রবীণরা ঝামেলায় পড়েন। চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকায়, দুর্ঘটনাও ঘটে।

‘এরপরই সরকার প্রতিকারের বিষয়ে চিন্তা করতে থাকে এবং নতুন করে পেট্রল পাম্পের অনুমোদন দেয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর আমরা একটি হাইওয়ে মডেল পাম্পের চিন্তা ও পরিকল্পনা করি। সেই মোতাবেকই একটি ডিজাইনও করা হয়।‘

শের আলী বলেন, ‘আমাদের দেশের অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। মহাসড়কগুলো দুই লেন থেকে চার লেন ও এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া ও ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিবিআইএন চুক্তি সাক্ষর হয়েছে। তারা চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করবে। ফলে আমাদের পাম্প গুলোও আন্তুর্জাতিক মানের হওয়া উচিত। আমরা সে ধরনেরই নকশা করেছি।

‘এই পাম্প বাস্তবায়ন হলে এমনিতেই প্রচলিত পাম্প বন্ধ হয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু নিউজবাংলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন, ভিশন-২০৪১; হাইওয়ে মডেল ফিলিং স্টেশন তারই একটা অংশ।

তিনি জানান, দেশের জ্বালানি সক্ষমতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে, কোয়ালিটি সার্ভিস নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য নেয়া হয়েছে বিশ্বমানের নানা কার্যক্রম ও প্রকল্প।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের আদলে পাম্পগুলো বদলে গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও পাম্প ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে গ্রাহকরা একই স্থানে অনেকগুলো সেবা পাবেন। মোট কথা অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, অটো গ্যাস ও সৌরবিদ্যুৎ চার্জিংয়ের মতো পাঁচটি সেবা, সেই সঙ্গে চাকা ও ব্যাটারি পরিবর্তন ও মেরামতের সুযোগ থাকছে।’

মালিকদের আগ্রহ কম যে কারণে

সরকার উচ্ছ্বসিত হলেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ এখন পর্যন্ত কম। এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সারা দেশে মডেল ফিলিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

পেট্রল পাম্প মালিকদের সংগঠন পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মডেল পেট্রল পাম্প করার প্রথম সমস্যা হচ্ছে এটি করতে প্রায় ১০ বিঘা জমি দরকার, যা ব্যয়বহুল। বিশাল বিনিয়োগ করতে হবে। এটি আমাদের দেশের জন্য উপযোগী নয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেক মালিক ঋণ করে পাম্প দেন। সেই ঋণের সুদ দিতেই তাদের গলদঘর্ম হতে হয়। এখন বাড়তি এত কিছুর পেছনে বিনিয়োগ করতে বলাটা অমানবিক বটে।

‘এদিকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও আমরা ভাবছি। এ রকম সুবিধা থাকলে অনেক লোকই পাম্পে আসবে। পাম্পে নগদ টাকা থাকে। সেটিও বিবেচনা করতে হবে। এ ছাড়া এ কাজের জন্য যে জমির কথা বলা হচ্ছে তা হাইওয়ের পাশে পাওয়া আরও কঠিন। জমির দামও বেশি পড়বে। এখন কারোরই এত বড় জমি নেই।’

এই অবস্থার মধ্যে বিপিসি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক সভায় বলছে, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ, পদ্মা সেতু এবং মিরেরসরাই বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক অঞ্চলে মডেল ফিলিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নিজস্ব অর্থায়নে এগুলো বাস্তবায়ন করবে।

জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান ওই সভায় বিপিসির এই উদ্যোগে সায় দেন এবং এই বিষয়ে কাজ শুরু করতে গুরুত্ব আরোপ করেন।

জ্বালানি সচিব আনিছুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ধরনের ফিলিং স্টেশন নির্মাণের খরচ বেশি। তাই উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কম। এই কারণেই এবার বিপিসির অধীন বিপণন সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব জায়গায় মডেল ফিলিং স্টেশন নির্মাণ করবে। এটা দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিপিসির জমি ছাড়াও পূর্বাচলে কয়েকটি স্টেশন নির্মাণের জন্য আমরা জমি চেয়েছি। পেলে সেখানেও নির্মাণ করা হবে।’

চ্যালেঞ্জটা কী?

জ্বালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়, তারা ৯টি মডেল পেট্রোল পাম্প স্থাপনের বিষয়ে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে। এর মধ্যে ৩টি তেল বিপণন কোম্পানির অর্থায়নে ৫টি আর ৬টি ডিলারের অর্থায়নে নির্মাণ করা হবে।

এর মধ্যে পদ্মা ও যমুনা অয়েলের মাধ্যমে দুটি করে এবং মেঘনা পেট্রলিয়ামের মাধ্যমে একটি মডেল পাম্প নির্মাণে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা প্রাথমিক সম্মতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে।

তবে বিপিসির চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘যতদূর জানি এ নিয়ে কাজ চলছে। আমি নতুন। তাই বেশি কিছু জানি না। তবে এটা এমন কোনও বড় বিষয় নয়।’

শেয়ার করুন

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

দিয়াবাড়ি থেকে মিরপুর হয়ে আগারগাঁও, ফার্মগেট দিয়ে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কার্জন হল, জাতীয় প্রেসক্লাব, পুরানা পল্টন হয়ে মতিঝিলে যাবে মেট্রোরেল। ছবি: সাইফুল ইসলাম

বিশ্ব ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গল্পে বলা হয়েছে, অপেক্ষাকৃত তরুণ দেশটির স্বাধীনতার বয়স মাত্র ৫০। এই অল্প সময়ে দারিদ্র্য কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। মানুষের ভাগ্য বদলাতে একে বলা হচ্ছে বড় অর্জন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে মুগ্ধ বিশ্বব্যাংক। আর সেই মুগ্ধতা থেকে সোমবার একটি প্রচ্ছদ গল্প প্রকাশ করেছে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল এই সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গল্পে বলা হয়েছে, অপেক্ষাকৃত তরুণ দেশটির স্বাধীনতার বয়স মাত্র ৫০। এই অল্প সময়ে দারিদ্র্য কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। মানুষের ভাগ্য বদলাতে একে বলা হচ্ছে বড় অর্জন।

‘একটি লক্ষ্যে রাষ্ট্র: বাংলাদেশের উন্নয়নের ঐতিহাসিক যাত্রা’ শিরোনামের এই গল্পের শুরুটা সাদিয়া আফরিন নামের এক ছাত্রীর স্বপ্ন দিয়ে।

সাদিয়ার স্বপ্ন পেশাদার গ্রাফিক্স ডিজাইনার হবেন। লক্ষ্যে পৌঁছাতে গ্রাফিক্স ডিজাইন, কার্টুন ও তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছেন। অথচ সাদিয়াদের আগের প্রজন্মের কাছে এমন ভাবনা ছিল কল্পনাতীত।

সাদিয়ার বাবা সৌদি প্রবাসী, মা গৃহিনী।

সাদিয়া বলেন, ‘প্রথম কম্পিউটার দেখার পর ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে তা চালানো শিখি।’

সেখানেই সাদিয়া প্রথম শেখেন কীভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্টুন তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন একদিন জাপান যাব, অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ করব।’

সাদিয়ার মতো দেশের নিম্ন আয়ের ৪০ হাজার ছাত্রী বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং অ্যানহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (এসটিইএফ) এর আওতায় ৪৫টি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে উঠছেন। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

সাদিয়ার কথা শেষ না হতেই গল্পে বাংলাদেশের জন্মের প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যখন স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়, তখন এটি ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় দরিদ্রতম দেশ। পরবর্তী ৫০ বছরে রূপান্তরের মাধ্যমে উন্নয়নের অনেক গল্প যুক্ত হয়েছে দেশটির ইতিহাসে।

সেই থেকে রেকর্ড গতিতে দেশের দারিদ্র্য কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। প্রাথমিক শিক্ষা এখন সবার নাগালে। লাখো নারী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের বিষয়ে দারুন অগ্রগতি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটি এখন অনেক দক্ষ।

বাংলাদেশের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনেক কিছু। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে দেশটি। শিল্প ও সেবা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, অবকাঠামোসহ অন্য খাতেও বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং অন্য সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এখন অনেকটাই প্রস্তুত বাংলাদেশ।

এর ফলে দেশের অর্থনীতি মজবুত একটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরির ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

বিশ্বব্যাংকের এই প্রচ্ছদ গল্পে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে (উন্নত দেশ) পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি তার জন্য এখন আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা সেই স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করব।’

বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার কথা স্বীকার করে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক অবশ্যই আমাদের এই উন্নয়ন যাত্রায় একটি ভালো অংশীদার।’

গল্পে বাংলাদেশের এই সাফল্যে বিশ্বব্যাংকের পাশে থাকার কথা বার বার উল্লেখ করা হয়। কোন খাতে কতো ঋণ-সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি সে বিষয়েও বিশদ আলোকপাত হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ঋণ-সহায়তা দিয়ে আসছে ১৯৭২ সাল থেকে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের প্রধান মার্শি টেম্বন বলেছেন, ‘যখন আমরা বাংলাদেশে কাজ শুরু করি তখন আইডিএ একটি তরুণ প্রতিষ্ঠান ছিল। আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। এই সম্পর্ককে অনেক দূর নিয়ে গেছি; বাংলাদেশ সফল হয়েছে।’

‘সেই অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান অন্য অনেক দেশে দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করেছে।’

গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। চমৎকার সব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার হয়েছে গল্পে।

বাংলাদেশকে নিয়ে প্রশংসা করে এমন কাহিনী বা গল্প এবারই প্রথম প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

শেয়ার করুন

বেঁচে থাকায় বিশ্ব রেকর্ড যমজ দুই বোনের

বেঁচে থাকায় বিশ্ব রেকর্ড যমজ দুই বোনের

উমেনো সুমিয়ামা ও কউমি কোডামা

বহু বছর ধরে দুই বোন বেঁচে থাকলেও শৈশবে প্রাথমিক স্কুল শেষ করার পরই একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা।

ক’দিন পরই ১০৮তম জন্মদিন উদযাপন করবেন জাপানি যমজ বোন উমেনো সুমিয়ামা ও কউমি কোডামা। তবে তার আগেই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বছর বাঁচা যমজ হিসেবে গিনেস বুকে নাম লিখেয়েছেন তারা।

গত ১ সেপ্টেম্বর ১০৭ বছর ৩৩০ দিন বয়সে তারা আগের রেকর্ড ভেঙ্গে দিলেও সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) তা ঘোষণা করেছে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ। কাকতালীয়ভাবে এদিনই ছিল জাপানের ‘বয়স্ক দিবস’। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সোমবার এই দিবসটিকে সসম্মানে পালন করে জাপানিরা।

ডেইলি মেইল জানায়, ১৯১৩ সালের ৫ নভেম্বর জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শোদোশিমা দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন উমেনো ও কোডামা। ১১ ভাই-বোনের মধ্যে তারা ছিলেন যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ।

বহু বছর ধরে দুই বোন বেঁচে থাকলেও শৈশবে প্রাথমিক স্কুল শেষ করার পরই একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা। কারণ সেই বয়সেই কোডামাকে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কাইশু দ্বীপে গৃহপরিচারিকার কাজে পাঠায় তার পরিবার। সেখানেই তিনি বড় হন এবং বিয়ে করেন। অন্যদিকে, উমেনো থেকে যান নিজ দ্বীপেই। তিনিও বিয়ে করে নিজের পরিবার গড়েন।

জীবনের শেষ বেলায় এসে ছোটবেলার কঠোর দিনগুলোর কথা তাদের মনে পড়ে। যমজ হওয়ার কারণে প্রায়ই তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের শিকার হতেন তারা। কারণ সেই আমলে জাপানে এ ধরনের জন্মকে ঘিরে নানা ধরনের কুসংস্কার প্রচলিত ছিল।

সমাজের কটু কথা থেকে বাঁচাতেই ছোটবেলায় আলাদা করে দেয়া হয়েছিল দুই বোনকে। ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত মাত্র হাতে গোনা কয়েকবার দেখা হয়েছে তাদের। জাপানের শিকোকু দ্বীপের কতগুলো বৌদ্ধ মন্দিরে তীর্থযাত্রী হয়ে একই সময়ে গেলেই কেবল তাদের দেখা হতো।

বেঁচে থাকায় বিশ্ব রেকর্ড যমজ দুই বোনের
৭০ বছর বয়স পর্যন্ত মাত্র হাতে গোনা কয়েকবার দেখা হয়েছে তাদের

বিগত বছরগুলোতে একত্র হলেই দুই বোন মজা করে বলতেন, যমজ বোন হিসেবে তারা সবচেয়ে বেশি বছর বেঁচে থাকা কিন নারিতা ও গিন কিনের রেকর্ড ভেঙ্গে দেবেন। উমিয়ো ও কোডামার আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন তারাই। কিন আর গিনও ছিলেন জাপানি যমজ বোন। ৯০-এর দশকে বেঁচে থাকা অবস্থায় জাপানে তারা বেশ সুপরিচিত ও সম্মানিত ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত উমেনো ও কোডামার হাসি তামাশাই সত্য হল। তারা সত্যি সত্যিই আগের রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে এখনও দিব্যি বেঁচে আছেন।

সম্প্রতি আলাদা আলাদা দুটি নার্সিং হোম থেকে নিজেদের জন্মসনদ গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছিলেন তারা।

শেয়ার করুন

হিসাব তলব সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর নতুন কৌশল: ফখরুল

হিসাব তলব সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর নতুন কৌশল: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভয়াবহ দুঃশাসনে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও সরকারি জুলুম-নির্যাতনে জর্জরিত। সম্প্রতি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের ঘোষণায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কোনো স্বাধীনতা নেই। বিভিন্ন কায়দায় সংবাদ মাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় কর্তৃত্ববাদী সরকার।’

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনাকে সাংবাদিকদের ভীতি প্রদর্শনের নতুন কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অবিলম্বে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সত্য প্রকাশে দেশের বিবেক তথা গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমের কর্মীদের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ আহ্বান জানান।

দলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সই করা বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিস্ট সরকার সারাদেশে যে দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে তা থেকে সাংবাদিকরাও রেহাই পাচ্ছেন না। সত্য প্রকাশে নির্ভীক সাংবাদিকদের বিভিন্ন উপায়ে টুটি চেপে ধরার পর এখন জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে, ডিইউজে ও ডিআরইউর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মাঝে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।’

এ ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মত প্রকাশে চরম হুমকি বলেও মনে করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘গোটা দেশ এখন আওয়ামী দুঃশাসনের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার খায়েশে বিভোর ভোটারবিহীন সরকার কেবল বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী ও বিরুদ্ধ মতের নাগরিকদের ওপরই জুলম-নির্যাতন চালাচ্ছে না, সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদেরও নির্যাতন শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভয়াবহ দুঃশাসনে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও সরকারি জুলুম-নির্যাতনে জর্জরিত। সম্প্রতি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের ঘোষণায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কোনো স্বাধীনতা নেই। বিভিন্ন কায়দায় সংবাদ মাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় কর্তৃত্ববাদী সরকার।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে অনৈতিক সরকার নির্ভীক সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের কলম চেপে ধরছে।’

শেয়ার করুন

ঋণ খেলাপ: ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এমডির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

ঋণ খেলাপ: ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এমডির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

গ্রেপ্তারের আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানি ও এডিবল ওয়েল রিফাইনারি ইউনিট-২ এর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, পরিচালক নুরুল আলম, কামরুন নাহার বেগম ও তাহমিনা বেগম।

১৮৩ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি মামলায় মেসার্স ইলিয়াছ ব্রাদার্স (এমইবি) গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামসুল আলমসহ ৫ পরিচালককে গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা শামসুল আলম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন।

গ্রেপ্তারের আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানি ও এডিবল ওয়েল রিফাইনারি ইউনিট-২ এর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, পরিচালক নুরুল আলম, কামরুন নাহার বেগম ও তাহমিনা বেগম।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখার করা মামলায় এ আদেশ দেয়া হয়।

তাদের বিরুদ্ধে ১৮৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগে মামলা করে ব্যাংকটি।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে এমইবি গ্রুপের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের আবেদন করে।
এমইবির এখন এক ডজন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে। প্রায় সব ঋণ এখন খেলাপি।

শেয়ার করুন