ঢাকা ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা কারাগারে

ঢাকা ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা কারাগারে

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল ও কম পায়। আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে পৌনে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

শুক্রবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম মাসুদ-উর-রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার সিনিয়র অফিসার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক এবং ম্যানেজার অপারেশন এমরান আহম্মেদ।

এর আগে বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার সরকার ৫৪ ধারায় আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আসামিদের পক্ষে তাদের দুজন আইনজীবী জামিন আবেদন করেন।

বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন আদালতের বংশাল থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন।

এ ছাড়া বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে আগামী ২১ জুন জামিন শুনানির তারিখ ধার্য করেন।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, ‘আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল।

‘বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল ও কম পায়। ব্যাংকের ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে অডিট টিম টাকা গরমিলের হিসাব বিবরণী দাখিল করে। আবু বক্কর সিদ্দিক অডিট টিমের হিসাব বিবরণীর ভিত্তিতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।’

আবেদনে বলা হয়, ‘ব্যাংকের ম্যানেজার তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে অডিট টিমের সহায়তায় আসামিদের আটক করেন।

‘আসামিদের থানায় হাজির করে আবু বক্কর সিদ্দিক বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ করেন। অফিসার ইনচার্জ অভিযোগটি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, ঘটনাটি পেনাল কোডের ৪০৯ ধারার অপরাধ। যার তদন্তের ক্ষমতা দুর্নীতি দমন কমিশনের শিডিউলভুক্ত বিধায় দুদক মামলাটি তদন্তের ব্যবস্থা করবে।’

এ অবস্থায় আসামিদের আটক করে আদালতে না পাঠালে তারা চিরতরে পলাতক হতে পারেন। তা ছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিষয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগকারীর অভিযোগসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দুদককে অবহিত করা হয়েছে। দুদক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আগ পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ২৪ লাশ

রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ২৪ লাশ

ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার পর রূপগঞ্জে আগুনে পুড়ে মৃতদের লাশ হস্তান্তরের সময় স্বজনের ছবি নিয়ে এক নারীর আহাজারি। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, ‘আজ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে রাখা ২৪ শ্রমিকদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলো। বাকি লাশ শনিবার হস্তান্তর করা হবে।’

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডের সেজান জুসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে মারা যাওয়া ২৪ মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২১ মরদেহ শনিবার তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

৪৮ জনের মধ্যে যে তিনজনের ডিএনএ শনাক্ত করা যায়নি সেগুলো আবার পরীক্ষা করা হবে। তারপর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মর্গে বুধবার দুপুরে ইমাম হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘মামলার অনেক অগ্রগতি আছে। আগুন কীভাবে লেগেছে তার কাছাকাছি পৌঁছে গেছি আমরা। খুব শিগগির চার্জশিট দেব। বিদ্যুতের তার থেকে আগুন লেগেছে। নারায়ণগঞ্জে এডিসি এস এম মাহফুজুর রহমান ইতিমধ্যে নিহতদের পরিবারদের দাফন ও সৎকার বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে দেয়ার কথা জানিয়েছেন। পরে আরও দেয়া হবে।’

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, ‘আজ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে রাখা ২৪ শ্রমিকদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলো। বাকি লাশ শনিবার হস্তান্তর করা হবে।’

গত ৮ জুলাই রূপগঞ্জের হাসেম ফুড কারখানায় আগুনে পুড়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়। তিন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় তখনই স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

বাকি লাশগুলো শনাক্ত করার উপায় ছিল না। পরে লাশগুলো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা হয়। এরপর স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। নমুনায় যাদের মিল পাওয়া গেছে সেসব মরদেহ হস্তান্তর করা হচ্ছে।

যে ২৪ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে তারা আলাদা আলাদা অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

শ্রমিকদের মারামারি, চাল বিতরণ না করেই মেয়রের সভা ত্যাগ

শ্রমিকদের মারামারি, চাল বিতরণ না করেই মেয়রের সভা ত্যাগ

পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে গেলেও বিশৃঙ্খলার কারণে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মেয়র ফলজে নূর তাপস। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে বুধবার বেলা ১১টায় চাল বিতরণের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি থেকে মেয়র তাপসের পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরণ করার কথা ছিল। শ্রমিকরা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করলে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মেয়র।

কঠোর লকডাউনে কর্মহীন পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও বিশৃঙ্খলা দেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে বুধবার বেলা ১১টায় চাল বিতরণের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি থেকে মেয়র তাপসের পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরণ করার কথা ছিল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান।

বেলা ১১টায় চাল বিতরণ করার আগেই দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হতে থাকেন পরিবহন শ্রমিকরা। অল্প সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠানস্থল শ্রমিক সমাগমে পূর্ণ হয়ে ওঠে।

সেখানে চাল বিতরণের অনুষ্ঠানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। মাস্কহীন পরিবহন শ্রমিকদের জনসমাগম ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।

শাহজাহান খান ও পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতউল্লাহ শ্রমিকদের সুশৃঙ্খল হওয়ার আহ্বান জানালেও শৃঙ্খলা ফেরে না।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন মেয়র তাপস। তার আগেই এক দফা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেন শ্রমিকেরা। তখন শাহজাহান খান নিজে শ্রমিকদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান বিশৃঙ্খলা না করতে।

শ্রমিকদের মারামারি, চাল বিতরণ না করেই মেয়রের সভা ত্যাগ
পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র তাপস গিয়ে চেয়ারে বসার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা। এ সময় শ্রমিকরা একে অন্যের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারছিলেন।

এমন পরিস্থিতি দেখে পুলিশ এগিয়ে যায় শ্রমিকদের দিকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টার মধ্যেই পাঁচ মিনিট অবস্থান করে চাল বিতরণ না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মেয়র তাপস।

মেয়র ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শাহজাহান খান। তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, যারা এই ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে তাদের খুঁজে আইনের আওতায় আনা হবে।

শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরণ শুরুর পাঁচ মিনিট পরে তিনিও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রশ্ন করলে শাহজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সব ফাঁকা করেই চেয়ার দিয়েছিলাম। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা সেভাবে কাজ করেছিল, কিন্তু সেটা মানা হয়নি।’

শ্রমিকদের এমন বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব চক্রান্ত করা হয়েছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করে খুঁজে বের করব।’

শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা অনেকেই চাল বিতরণের স্লিপ পাননি। ফলে চাল বিতরণ হলেও তারা পাবেন না।

গত বৃহস্পতিবার পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয় ডিএসসিসি। এ ছাড়া কোভিড-১৯-এ ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়-দুস্থ, কর্মহীন পরিবহন শ্রমিকদের মানবিক সহায়তা হিসেবে ঢাকার ৯ জন সংসদ সদস্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন।

শেয়ার করুন

চার মামলায় আরও ১৪ দিনের রিমান্ডে হেলেনা

চার মামলায় আরও ১৪ দিনের রিমান্ডে হেলেনা

র‍্যাবের হাতে আটকের পর কয়েকটি মামলা হয়েছে ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

শুনানিতে হেলেনার আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হেলেনা জীবনে কখনও কোনো অন্যায় করেন নাই। তিনি ব্যবসা করে সৎ উপায়ে দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি অনুগত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তিনি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়েছেন।’

পল্লবী থানার দুই মামলায় আট দিনের রিমান্ডের পর এবার আলোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানার দুই মামলায় তিন দিন করে আরও ছয় দিন পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত। এ নিয়ে চার মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ড দেয়া হলো হেলেনাকে।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম নিভানা খায়ের জেসী এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর।

এদিন আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শেখ শাহানুর রহমান হেলেনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় দশ দিনের হেফাজতে নিতে আবেদন করেন। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা আরেক মামলায় হেলেনাকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ পাঁচ দিনের হেফাজতে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ।

বিচারক ওই আবেদন গ্রহণ করে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মঙ্গলবার গুলশান থানায় পুলিশের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হেলেনাকে বিকেলে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

রোববার গুলশান থানায় ওই মামলাটি করা হয়। শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদনটি আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় জমা দেন।

হেলেনা জাহাঙ্গীর গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। একারণে রিমান্ড থেকে ফেরার পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফের দশ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

আসামি পক্ষে আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘সাজানো ঘটনায় আসামিকে বারবার হয়রানির চেষ্টা হচ্ছে। তিনি একজন অসুস্থ মানুষ। তার ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পেয়ে এখন ২৪ এ দাঁড়িয়েছে। তাই তার রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আদেশ প্রার্থনা করছি। রিমান্ডের কোনো কারণ নাই ২৫, ২৯, ৩১ ধারা জামিনযোগ্য। যে মামলা করেছে তার মানহানি হয় নাই। এটা সুনির্দিষ্ট করে কোথাও বলা নাই।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই তিনটি ধারার কোনোটি রিমান্ডযোগ্য নয়। এর পরিষ্কার রেফারেন্স আছে ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায়। রিমান্ড হবে না এ মামলায়, আমি ন্যায়বিচারের স্বার্থে রিমান্ড বাতিল চাই।’

মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ মাদক লাইসেন্স থাকলে রাখা যায়।’

তখন বিচারক বলেন, ‘মদের লাইসেন্সটি কি আপনার কাছে আছে?’

আইনজীবী বলেন, ‘লাইসেন্সটি সঙ্গে নাই। তিনি একটি মহলের প্রতিহিংসার শিকার। তিনি একজন ভিভিআইপি ও সিআইপি। বিষয়টি বিবেচনা করে জামিনের আবেদন প্রার্থনা করছি। এ মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে পর্যাপ্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায় নাই।

‘তিনি একজন ব্যবসায়ী। দেশের প্রতি উনার অনেক অবদান আছে। তাই তার অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করে জামিনের আবেদন করছি এবং রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করছি। হেলেনা জাহাঙ্গীর কোনো মাদক সেবন বা বিক্রি করেন না। তিনি একজন সিআইপি ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকেও পুরস্কারপ্রাপ্ত। তাই দয়া করে রিমান্ড বাতিলপূর্বক যে কোনো শর্তে তার জামিন দেয়া হোক।’

হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইনজীবী আরও বলেন, ‘তিনি জীবনে কখনও কোনো অন্যায় করেন নাই। তিনি ব্যবসা করে সৎ উপায়ে দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি অনুগত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তিনি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়েছেন।’

মহানগর আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল রিমান্ডের আবেদন ও জামিনের বিরোধিতা করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, আসামির নিকট থেকে অনেক কিছু বিষয় জানার আছে। তিনি রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী অনেক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। অনেক নেতা, মন্ত্রী, এমপিকে তিনি হেয় প্রতিপন্ন করে ফেসবুক লাইভে এসে আপত্তিকর ভিডিও ও বক্তব্য প্রচার করেছেন। ফেসবুকের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তুলছেন। তার এই উদ্দেশ্যের বিষয়ে, ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানা প্রয়োজন, তাই তাকে পুনারায় দশ দিনের রিমান্ড দেয়া হোক।

এসময় গুলশান থানার মাদক মামলায়ও হেলেনার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

শুক্রবার হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান-২ এর ৩৬ নম্বর রোডে অবস্থিত হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

অভিযান শেষে সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, ‘নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় আমরা অভিযান চালিয়েছি। তার বাসা থেকে আমরা বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, বিদেশি মুদ্রা, চাকু ও হরিণের চামড়া জব্দ করেছি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হেলেনার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

এছাড়া হেলেনার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনসহ চারটি ধারায় আরেকটি মামলা হয়েছে।

গৃহবধূ থেকে ব্যবসায়ী হয়ে সিআইপির (কমার্শিয়ালি ইমপর্টেন্ট পারসন) স্বীকৃতি পাওয়া এই ব্যবসায়ী সম্প্রতি তুমুল আলোচিত হয়ে ওঠেন ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচার চালাতে গিয়ে। আওয়ামী লীগের এই নামে কোনো সংগঠন নেই। তিনি এই সংগঠনকে সামনে নিয়ে আসার পর ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছ থেকে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের পদ হারান হেলেনা। ক্ষমতাসীন দলের মহিলাবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যপদ ছাড়াও কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। ওই ঘটনায় পিছুটান দেন হেলেনা। বলেন, তিনি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে এই সংগঠনের কেউ না। তাকে সম্প্রতি সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১-এর অভিযানে ২৯ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫ নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। অভিযানে জব্দ করা হয় ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ১টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ১টি হরিণের চামড়া, ২টি মোবাইল ফোন, ১৯টি চেকবই ও বিদেশি মুদ্রা, ২টি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার সরঞ্জাম ৪৫৬টি চিপস। পরবর্তী সময়ে মধ্যরাতে তার জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

শেয়ার করুন

বস্তি থেকে ১৪ তলা ফ্ল্যাটে

বস্তি থেকে ১৪ তলা ফ্ল্যাটে

বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক ৩০০ ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়। ফাইল ছবি

মিরপুরের বাউনিয়াবাদ বস্তির বাসিন্দা উজ্জ্বল কুমার ফ্ল্যাট বুঝে নিয়ে বললেন, ‘এখানে ভাড়া বস্তির চেয়ে কম। আগে বস্তিতে থাকতাম এক রুম নিয়ে। এখন পরিবার নিয়ে কম ভাড়ায় ভালোভাবে থাকতে পারব।’

মিরপুরের বস্তিতে থাকেন পারুল আক্তার। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তার হাতে আধুনিক সেবাসম্পন্ন ফ্ল্যাটের চাবি যখন তুলে দেয়া হয়, তার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল।

বস্তিবাসীর জন্য ভাড়াভিত্তিক ৩০০ ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফ্ল্যাট পাওয়া বস্তিবাসী পারুল আক্তার বলেন, ‘আগেও টাকা দিয়ে বস্তিতে থাকতে হইত, কিন্তু কম টাকায় এখন ফ্ল্যাটে থাকার সুযোগ পাইছি। এ জন্য আমরা খুশি।’

ফ্ল্যাট পাওয়া বস্তিবাসী জানান, বস্তিতে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা খুবই সীমিত। ঝড়বৃষ্টিতে কষ্টের সীমা থাকে না, অথচ ভাড়া দিতে হয় বেশি। সেদিক দিয়ে স্বচ্ছন্দ জীবন হবে তাদের জন্য বরাদ্দ ফ্ল্যাটগুলোতে।

তবে ফ্ল্যাট বুঝে পাওয়া অনেকেই জানান, ভাড়া আরও কম হলে ভালো হতো।

মিরপুরের বাউনিয়াবাদ বস্তিতে থাকেন উজ্জ্বল কুমার। ফ্ল্যাট বুঝে পেয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানে ভাড়া বস্তির চেয়ে কম।

আগে বস্তিতে থাকতাম এক রুম নিয়ে। এখন পরিবার নিয়ে কম ভাড়ায় ভালোভাবে থাকতে পারব।’

উজ্জ্বল কুমার বলেন, ‘২২ বছর ধরে ওই বস্তিতে আছি। সরকার আমাদের জন্য এই যে প্রজেক্ট নিছে, তাতে আমরা খুশি। সরকার আমাদের মতো গরিবদের জন্য যে কাজ করতেছে, এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। তয় সরকার যদি আমাদের নামে এই ফ্ল্যাটগুলো দিয়ে দেয়, তাহলে ভালো হয়। আর ভাড়া আরেকটু কম করলে ভালো হইত।’

২০ বছর ধরে মিরপুরের কলাবাগান বস্তিতে থাকেন লিপি আক্তার। তিনি বলেন, ‘স্বামী নাই। তিন মেয়েরে নিয়া থাকি। তাদের নিয়া ভালোভাবে থাকতে পারব।’

লিপি বলেন, ‘ফ্ল্যাটে আমাদের ভাড়া দিতে হবে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। আমি আগে আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতাম দুইটা রুম নিয়া। তাতে আমাগো ১০ হাজার টাকা চইলা যাইত।’

বস্তি থেকে ১৪ তলা ফ্ল্যাটে
ফ্ল্যাটের কাজগপত্র পেয়ে উৎফুল্ল বস্তিবাসী। ছবি: নিউজবাংলা

লিফট, জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ, প্রশস্ত ওয়াকওয়ে, বিদ্যুতের সাবস্টেশন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লাইটিং ভবন আবাসিক ভবন এলাকায়। দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক- এই চার ক্যাটাগরিতে বস্তিবাসী ভাড়া দিতে পারবেন। দৈনিক ১৫০ টাকা, সাপ্তাহিক ১ হাজার ৫০ টাকা, পাক্ষিক ২ হাজার ২৫০ টাকা ও মাসিক ৪ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া দেয়া যাবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যোগ দেন। এর আগে বাসে করে প্রাপকদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনে প্রায় ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ফ্ল্যাটের প্রকল্প নেয়া হয় ২০১৮ সালে। ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাটের মধ্যে ৩০০ ফ্ল্যাট মঙ্গলবার বস্তিবাসীর হাতে তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হয়ে বস্তিবাসীর হাতে ফ্ল্যাটের কাগজপত্র হস্তান্তর করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্রে বেশ কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভাড়াগ্রহীতা ফ্ল্যাটে বসবাস করতে না চাইলে ন্যূনতম ১৫ দিন আগে লিখিতভাবে অবহিত করবেন এবং ফ্ল্যাটের দখল জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে দায়মুক্তি গ্রহণ করবেন।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে নগদে অথবা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে মানি রসিদ/চালানের মাধ্যমে অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করা যাবে। ফ্ল্যাটের ভাড়াসহ প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জ ও ইউটিলিটি বিল প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

শেয়ার করুন

ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন

ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি ঝুমন দাশের জামিন আবেদন নাকচের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

ঝুমন দাশের জামিন আবেদন নাকচের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা ঝুমন দাশের মুক্তি দাও, মুশতাক হত্যার বিচার চাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করো, জান ও জবানের স্বাধীনতা চাইসহ আরও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন৷

হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি ঝুমন দাশের জামিন আবেদন নাকচের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠন। এসময় তারা ঝুমন দাশসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার সবার মুক্তির দাবি জানান।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ঝুমন দাশের মুক্তি দাও, মুশতাক হত্যার বিচার চাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করো, জান ও জবানের স্বাধীনতা চাইসহ আরও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন৷

মানববন্ধনে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সহসভাপতি সাইদুল হক নিশান বলেন, এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে তাদের কিন্তু আগে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তারপর গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সংবিধান বিরোধী। আমার শত্রুর বিরুদ্ধেও যদি এই আইনে মামলা হয় আমি সেটির বিরোধীতা করবো৷ কারণ এই আইন জনগণের মতামতকে ক্ষুণ্ণ করার আইন। এসময় তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং এ আইনে গ্রেপ্তার ঝুমন দাশসহ সকলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের প্রচার সম্পাদক রাকিব জামান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বানিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। এ আইন শেখ হাসিনার গদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে৷ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এটা ভুল কথা। একদিকে এরা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে আর অন্যদিকে সবচেয়ে জগন্যভাবে মৌলবাদী শক্তিকে তোষণ করে।

ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসাধারণ সম্পাদক মেঘমল্লার বসু বলেন, ঝুমন দাশ লিখেছিলেন মামুনুল হক এমন একজন লোক যিনি হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ কথা যদি অপরাধ হয় তাহলে অনেক মন্ত্রী এমপিদের আজ কারাগারে থাকার কথা। জনগনের ঐক্যকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করছে। গত পঞ্চাশ বছর ধরে জনগণকে বিভক্ত করে আমাদের লুটেপুটে খাওয়ার রাজনীতি চলছে। সেই রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত আওয়াজ তুলতে হবে।

নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক মার্জিয়া প্রভা মানববন্ধনের সঞ্চালনা করেন। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার বক্তব্য রাখেন।

সুনামগঞ্জের শাল্লার যুবক ঝুমন দাশের এক ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেই গত ১৭ মার্চ শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হামলা চালায় হেফাজতে ইসলামের অনুসারীরা। এ সময় গ্রামের বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়। অন্তত ৯০টি বাড়িতে হামলা করা হয়। হামলাকারীদের অভিযোগ, ঝুমন দাশ হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন। এরপর ঝুমন দাশকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন

দর্জি মনিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

দর্জি মনিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

ফটোশপ করে নিজের ছবি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশে বসিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন দর্জি মনির। ছবি: সংগৃহীত

দর্জি মনির তার সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং রাজনৈতিক প্রধানের নাম করে টাকা দাবি, চাকরি দেয়া এবং পদায়নের কথা বলে অনেক লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে আলোচনার মধ্যেই আরেক ভুঁইফোঁড় সংগঠন ‘বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের’ খোঁজ পাওয়া গেছে। এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনির খান বা দর্জি মনির।

তিনি তার সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং রাজনৈতিক প্রধানের নাম করে টাকা দাবি, চাকরি দেয়া এবং পদায়নের কথা বলে অনেক লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

মঙ্গলবার এই দর্জি মনিরের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় ঈসমাইল হোসেন নামে এক ব্যক্তি মামলা করেন।

মঙ্গলবার মামলার এজাহার আদালতে আসে। ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম নিভানা খায়ের জেসী এজাহারটি গ্রহণ করে আগামি ২৩ সেপ্টেম্বর কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায়কে মামলাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন।

এজাহারে বলা হয়, একটি ছোট দর্জির দোকানের চাকরি করতো মনির। হঠাৎ করে তিনি নিজেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।

ক্রমেই বাড়তে থাকে তার রাজৈনতিক পদ-পদবীর সংখ্যা। একেক সময়ে একেক রাজনৈতিক পদবী ব্যবহার করে নিজের পরিচয় দেন তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমডি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি—প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও আরও অনেক মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে নিজের ছবি কম্পিউটার সফটওয়্যার মাধ্যমে এডিট করে বসিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন।

তিনি এবং তার সহযোগীরা ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কমিটি দেয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেন।

ঈসমাইল হোসেন বলেন, গত ৩০ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানার মাদবর বাজার ৫৭ নং ওয়ার্ডের একজন জানান, তার সংগঠনের পদ প্রদানের ও বিভিন্ন বড় বড় নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক করে দেয়ার নাম করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, মনির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যবহার করে তিনি নিজেকে ঢাকা ২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার করে এলাকার মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সৃষ্টি করেন।

শেয়ার করুন

জরিমানা সাড়ে ১৩ লাখ টাকা, গ্রেপ্তার ৩৫৪

জরিমানা সাড়ে ১৩ লাখ টাকা, গ্রেপ্তার ৩৫৪

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণ রুখতে চলমান ‘শাটডাউন’ আরও পাঁচদিন বাড়িয়েছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

ঈদের পরে শাটডাউনের ১২তম দিন মঙ্গলবারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর সড়কে ৫৩২টি গাড়িকে জরিমানা করা হয়েছে ১১ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

এ ছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১২০ জনকে জরিমানা করা হয় ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

এ সময় ৩৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিধিনিষেধ না মানায় মোট গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৫৪ জনকে। এ ছাড়া মোবাইল কোর্ট ১২০ জনকে জরিমানা করা হয় ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। সড়কে ৫৩২টি গাড়িকে জরিমানা করা হয়েছে ১১ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণ রুখতে চলমান ‘শাটডাউন’ আরও পাঁচদিন বাড়িয়েছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে সভার সভাপতি মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘১১ আগস্ট থেকে যানবাহন চলবে। সেটা রোটেশন মাফিক। জেলা প্রশাসন স্থানীয়ভাবে এটির ব্যবস্থা করবে। ১০ আগস্ট পর্যন্ত বিধিনিষেধ চলমান থাকবে।’

বর্তমানে দেশে ঈদুল আজহা পরবর্তী ১৪ দিনের শাটডাউন চলছে, যা শেষ হবে ৫ আগস্ট। এর আগেই তা আরও পাঁচদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এলো সরকার থেকে।

শেয়ার করুন