মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর ওয়ারিতে র‍্যাবের অভিযানে মানব পাচারকারী সন্দেহে গ্রেপ্তারকৃতদের ৩ জন। পৃথক অভিযানে আরও ২ জনকে আটক করা হয়। ছবি:সংগৃহীত

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বেশ কিছুদিন ধরে পরস্পর যোগসাজসে সংঘবদ্ধভাবে ও প্রতারণা করে অবৈধ পথে বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে পতিতাবৃত্তি ও যৌন কাজে ব্যবহার করে আসছিল।

রাজধানীর ওয়ারিতে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য সন্দেহে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ সময় ১৬ ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওয়ারির রায়সাহেব বাজার মোড়ের নবাবপুর রোড এলাকার ‘দি নিউ ঢাকা বোডিং’ আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে ১০ জন ভিকটিমসহ মানব পাচারকারী চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১০।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জুবায়ের আহসান ও সজল বেপারী।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন ও ২ হাজার ৯৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া শুক্রবার আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে একই এলাকার হোটেল ইব্রাহীমে অপর একটি অভিযান চালিয়ে ৬ ভিকটিমসহ মানব পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জয়নাল মিয়া, জান মিয়া ও আরমান।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি মোবাইল ফোন ও ৫ হাজার ১৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি এনায়েত কবীর সোয়েব ঘটনা ২টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বেশ কিছুদিন ধরে পরস্পর যোগসাজসে সংঘবদ্ধভাবে ও প্রতারণা করে অবৈধ পথে বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে পতিতাবৃত্তি ও যৌন কাজে ব্যবহার করে আসছিল।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জরিমানা সোয়া ১২ লাখ টাকা, গ্রেপ্তার ৩৮৫

জরিমানা সোয়া ১২ লাখ টাকা, গ্রেপ্তার ৩৮৫

সরকার ঘোষিত শাটডাউন চলবে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত। ছবি: সাইফুর ইসলাম

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিধিনিষেধ না মানায় ৩৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। এ ছাড়া মোবাইল কোর্টে ১২৬ জনকে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ডিএমপি ট্রাফিক ৫৩৮টি গাড়িকে জরিমানা করেছে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা।

ঈদের পরে শাটডাউনের ১৪তম দিন বৃহস্পতিবার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর সড়কে ৫৩৮টি গাড়িকে জরিমানা করা হয়েছে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা।

এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১২৬ জনকে জরিমানা করা হয় ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫০ টাকা। এ সময় ৩৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিধিনিষেধ না মানায় ৩৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। এ ছাড়া মোবাইল কোর্টে ১২৬ জনকে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ডিএমপি ট্রাফিক ৫৩৮টি গাড়িকে জরিমানা করেছে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা।

বর্তমানে দেশে ঈদুল আজহা পরবর্তী ১৪ দিনের শাটডাউন চলছে, যা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট)। তবে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণ রুখতে চলমান ‘শাটডাউন’ আরও পাঁচদিন বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন দিয়েছে সরকার।

শেয়ার করুন

পরীমনির মদের লাইসেন্স ছিল, তবে...

পরীমনির মদের লাইসেন্স ছিল, তবে...

পরীমনির বাসা থেকে জব্দ করা মদের বোতল। ছবি: নিউজবাংলা

‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনসিদ্ধ পদ্ধতিতে গতানুগতিক নিয়ম অনুযায়ী পরীমনির বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়। যা একটি লাইসেন্সে কাভার করে না। পাশাপাশি তার বাসায় লাইসেন্সের একটি কপি পেয়েছি, তবে তা আইনসিদ্ধ নয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল।’

পরীমনির বাসায় তার একটি মদের লাইসেন্সের কপি পেয়েছে র‍্যাব। তবে সেটি আইনসিদ্ধ ছিল না বলে জানিয়েছেন এলিট বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে র‍্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনসিদ্ধ পদ্ধতিতে গতানুগতিক নিয়ম অনুযায়ী পরীমনির বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়। যা একটি লাইসেন্সে কাভার করে না। পাশাপাশি তার বাসায় লাইসেন্সের একটি কপি পেয়েছি, তবে তা আইনসিদ্ধ নয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল।’

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদক সেবন করতেন। এমনকি ভয়ংকর মাদক এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন তিনি। তার বাসায় একটি মিনি বারও রয়েছে। তিনি বাসায় নিয়মিত মদের পার্টি করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ পরীমনির বাসায় এসব মাদক সাপ্লাই (সরবরাহ) করতেন।’

পরীমনির মদের লাইসেন্স ছিল, তবে...
পরীমনিকে আটকের বিষয়ে ব্রিফিংয়ের পর তাকে বনানী থানায় নিয়ে যায় র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

শেয়ার করুন

আদালতের পথে পরী-রাজ, ৭ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

আদালতের পথে পরী-রাজ, ৭ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

পরীমনি-রাজকে আদালতে আনা হচ্ছে, এমন খবরে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি ও প্রযোজক-পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজকে আদালতে তোলা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলায় তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিন করে রিমান্ড চাইবে পুলিশ।

আদালত প্রাঙ্গণে থাকা নিউজবাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সামদানী হক নাজুম জানিয়েছেন, পরীমনি ও রাজকে আদালতে তোলাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। আসামিদের বিচারক মামুনুর রশীদের ৩৪ নম্বর আদালতে তোলা হতে পারে।

আদালতে পরীমনির পক্ষে লড়বেন নীলাঞ্জনা রেফাত সুরভীসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী। তারা রিমান্ড বাতিল এবং জামিন চেয়ে আবেদন করবেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বনানী থানায় পরীমনি, রাজ ও আরও দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করে র‌্যাব।

এর আগে র‌্যাব কার্যালয়ে পরীমনি ও রাজকে আটকের বিষয়ে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানোর পর বনানী থানায় নিয়ে আসা হয়।

র‌্যাব জানায়, অ্যালকোহলের চাহিদা মেটাতে পরীমনি নিজ বাসায় ‘মিনি বার’ স্থাপন করেছিলেন।

ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘পরীমনির বাসার মিনি বারে বিভিন্ন বিদেশি মদ, ইয়াবা, এলএসডি ও আইস পাওয়া গেছে। পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এ তথ্য জেনেছি।

‘আমরা জেনেছি, ২০১৬ সালে অ্যালকোহলে আসক্ত হন তিনি। চাহিদা মেটাতেই এই মিনি বার স্থাপন করেন। বিভিন্ন সময় তার বাসায় ডিজে পার্টির আয়োজন করতেন। এই মিনি বারে অ্যালকোহল সরবরাহ করতেন নজরুল ইসলাম রাজ।’

আদালতের পথে পরী-রাজ, ৭ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

পরীমনিকে আটকের বিষয়ে ব্রিফিংয়ের পর তাকে বনানী থানায় নিয়ে যায় র‌্যাব। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান শেষে বুধবার রাতে তাকে নিজেদের জিম্মায় র‌্যাবের হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই অভিনেত্রীর বাসায় অভিযান শেষ হতেই বনানীতেই অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় প্রযোজক-পরিচালক রাজকে।

র‍্যাব জানায়, পরীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে আট বোতল প্লাটিনাম লেভেল, তিনটি ব্ল্যাক লেভেল, দুটি সিভাস সিগ্যাল, দুটি ফক্স গ্রোভ, একটি ব্লু লেভেল, দটি গ্ল্যানলিভেট, একটি গ্ল্যানফিডিচ বোতল।

এ ছাড়া এই অভিনেত্রীর বাসা থেকে জব্দ হয়েছে চিার গ্রাম আইস ও এক স্লট ভয়ংকর মাদক এলএসডি। জব্দতালিকায় একটি বং পাইপের কথাও বলা হয়েছে।

আর চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজের অফিস থেকে বিপুল মদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। জব্দতালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে তার বাসায় মিলেছে সাত বোতল গ্ল্যানলিভেট, দুটি গ্ল্যানফিডিচ, চারটি ফক্স গ্রোভ, একটি প্লাটিনাম লেভেল।

এর বাইরে সিসায় ব্যবহৃত চারকোলের একটি প্যাকেট, দুই সেট সিসার সরঞ্জাম, দুই ধরনের সিসা তামাক, সিসা সেবনের জন্য ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের একটি রোল, ৯৭০ পিস ইয়াবার কথাও বলা হয়েছে জব্দতালিকায়।

এ ছাড়া যৌনাচারের জন্য ব্যবহৃত ১৪টি বেআইনি সরঞ্জাম, একটি সাউন্ড বক্স ও দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

ডিজে পার্টি থেকে বিপুল অর্থ পেতেন রাজ

ডিজে পার্টি থেকে বিপুল অর্থ পেতেন রাজ

প্রযোজক-পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজ। ছবি: সংগৃহীত

রাজের আয়োজিত ডিজে পার্টিতে কারা থাকতেন সেই তথ্যও র‍্যাব পেয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানায়নি তারা। র‍্যাবের ভাষ্য, এ নিয়ে তাদের বিশ্লেষণ চলছে।

প্রযোজক-পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজের বাসায় ডিজে পার্টিসহ নানা রকম আয়োজন চলত নিয়মিত। সেই সব পার্টি থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে র‍্যাব।

এসব পার্টিতে কারা থাকতেন সেই তথ্যও র‍্যাব পেয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানায়নি তারা। র‍্যাবের ভাষ্য, এ নিয়ে তাদের বিশ্লেষণ চলছে।

বুধবার রাতে বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান শেষ না হতেই চলচ্চিত্র পরিচালক রাজের বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। ওই বাসা থেকে ইয়াবা, মদ ও যৌনাচারের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানিয়েছে, রাজের বিরুদ্ধে মাদক ও ডিজিটাল কনটেন্টসংক্রান্ত আইনে মামলা করা হবে।

রাজের অফিস থেকে বিপুল মদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার বাসায় মিলেছে সাত বোতল গ্ল্যানলিভেট, দুটি গ্ল্যানফিডিচ, চারটি ফক্স গ্রোভ, একটি প্লাটিনাম লেভেল।

এর বাইরে সিসায় ব্যবহৃত চারকোলের একটি প্যাকেট, দুই সেট সিসার সরঞ্জাম, দুই ধরনের সিসা তামাক, সিসা সেবনের জন্য ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের একটি রোল, ৯৭০ পিস ইয়াবার কথাও বলা হয়েছে জব্দতালিকায়।

এ ছাড়া যৌনাচারের জন্য ব্যবহৃত ১৪টি বেআইনি সরঞ্জাম, একটি সাউন্ড বক্স ও দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এসএমএস ছাড়াই টিকার গুজবে ভোগান্তি

এসএমএস ছাড়াই টিকার গুজবে ভোগান্তি

রাজধানীর একটি কেন্দ্রে করোনাভাইরাসের টিকা নিচ্ছেন এক ব্যক্তি। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

এসএমএস ছাড়াই টিকা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে এতজন অহেতুক ঘোরাফেরা করে। তারা যদি একবার করে এসে বলে যে কারা নিতে পারবে, কারা না তাইলে এতক্ষণ দাঁড়ায় থাকা লাগে না। প্রথমে বলল, এসএমএস নাই টিকা দিব না। এখন বলতেছে টিকাই নাই।’

‘আড়াইশ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে আইছি। সকাল ১০টা থেকে আইসা লাইনে দাঁড়াইছি। এখন কয় টিকা শেষ। টিভিতে দেখায় কত টিকা আইছে। এরা কয় টিকা নাই। কয়, এসএমএস আসলে আসেন। এসএমএস ছাড়াই তো সবাই দিতাছে। এরা টিকা কী করছে?’

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এভাবেই রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে টিকা সমন্বয়কারীর সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায় টিকা নিতে আসা রফিকুল ইসলামকে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে নিবন্ধনের টিকা নেয়ার তারিখ জানিয়ে ফিরতি একটি এসএমএস পাঠানো হয় নিবন্ধনকারীর ফোনে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওই এসএমএস আসতে ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগছে এমনকি মাসও পেরিয়ে যাচ্ছে।

এসএমএস ছাড়াই শুধু নিবন্ধন কপি নিয়ে গিয়ে টিকা পাওয়া যাবে এমন তথ্যে টিকা কেন্দ্রে গিয়ে টিকা না পেয়ে হতাশ রফিকুল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বাসার কেউ বাইরে বের হয় না। বাচ্চা দুইটা জেলখানার মতোই বন্দি দুইটা বছর ধরে। আমিই একমাত্র বাইরে বের হই। আমার টিকা নেয়াটা জরুরি। রেজিস্ট্রেশন করছি এক মাস হয়ে গেছে। পরে এলাকায় অনেকে বলল, এখন আর মেসেজ লাগেনা। নিবন্ধন কপি নিয়া গেলেই পাওয়া যায় টিকা। তারাও নাকি এভাবেই দিছে।

‘সেটা শুনেই আমি আসছি। আগারগাঁও থেকে ২৫০ টাকা দিয়ে। যেতে আবার ২৫০ টাকা বা তার চেয়ে বেশিই লাগবে। এর উপর এই গরমে এতক্ষণ ধরে দাঁড়ায় আছি। এখানে এতজন অহেতুক ঘোরাফেরা করে। তারা যদি একবার করে এসে বলে যে কারা নিতে পারবে, কারা না তাইলে এতক্ষণ দাঁড়ায় থাকা লাগে না। প্রথমে বলল, এসএমএস নাই টিকা দিব না। এখন বলতেছে টিকাই নাই।’

রফিকুল ইসলামের মতোই আরও অনেকেই এসএমএস ছাড়াই এসেছেন। ভিড় করে হট্টগোল করে টিকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

এ বিষয়ে কেন্দ্রের টিকা সমন্বয়কারী আবু বকর সিদ্দীকি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসএমএস ছাড়া কাউকেই টিকা দেয়া হচ্ছেনা। এটা গুজব। প্রতিদিনই এমন অনেকে আসতেছেন। তাদেরকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। অনেকেই না জেনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে গিয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন। অনেকে অনুরোধ করছেন।

‘এমন কোনো নির্দেশনা থাকলে আমরা তো দিতাম। আমাদের তো কিছু করার নেই।’

শুধু ডেন্টাল কলেজে নয়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে নিবন্ধনের পর এসএমএস আসার আগেই টিকা নেয়া যাবে এমন বিশ্বাসে বিভিন্ন টিকা কেন্দ্রে গিয়ে ফেরত আসছেন সাধারণ মানুষ।

এমনকি ‘এসএমএস লাগবে না, নিবন্ধন করে কপি প্রিন্ট করে নিয়ে গেলে টিকা মিলবে’ এমন বিশ্বাসে আগের দিন রেজিস্ট্রেশন করে পরের দিনই টিকা কেন্দ্রে হাজির হচ্ছেন অনেকে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে শেষে টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। কেউ কেউ বাগ-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন কেন্দ্রের টিকা সমন্বয়কারীদের সঙ্গে।

একই চিত্র কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে

টিকা নিতে আসা আসমা বেগম বুধবার টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। পাশের বাসার ভাবি এসএমএস ছাড়াই টিকা নিতে পেরেছেন এমন তথ্যে নিজেও এসেছেন টিকা নিতে।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে টিকা না পেয়ে হাসপাতালের সিঁড়িতে বসে একা একাই কথা বলছেন।

আসমা বেগম বলেন, ‘আমার শ্বাসকষ্টের সমস্যা। প্রতিদিন কত মানুষ মরে। সরকার বলে সবার টিকা দিছে। তাইলে আমারটা কই।’

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এসএমএস ছাড়া টিকা দিতাছেনা। আবার দিতাছেও। যাদের লাইনঘাট আছে তারা এসএমএস ছাড়াই দিতাছে। নার্সের দূর সম্পর্কের খালতো ভাই, তালতো ভাই তারাও পাইতেছে।’

অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রের টিকা সমন্বয়কারী আকবর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকা না দিলে মানুষ বের হইতে পারবে না। প্রতিদিনের মৃত্যুর সংখ্যা এগুলো মানুষকে খুব নাড়া দিচ্ছে। তারা তথ্যকে নিজেদের মতো করে নিয়ে ভাবছে। আমরা আমাদের মতো করে বোঝানোর চেষ্টা করছি। টিকা সবাই পাবে। একটা কেন্দ্রে একদিনে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টিকা দেয়ার সুযোগ থাকে।’

একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর আরও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকা নিবন্ধনের বয়স কমিয়ে আনার পর থেকেই ব্যাপকহারে টিকার নিবন্ধন হচ্ছে। নিবন্ধনের তালিকা অনেক লম্বা হয়ে আসছে।

‘এক কেন্দ্রে দৈনিক ২০০ জনের টিকা দেয়ার সক্ষমতা থাকলেও নিবন্ধন হচ্ছে অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে এসএমএস আসতে একটু দেরি হচ্ছে।’

উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিজানুর বলেন, ‘যারা নিবন্ধন করেছেন, তারা সবাই টিকা পাবেন। টুডে অর টুমরো (আজ বা কাল) এসএমএস আসবে। এতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

শেয়ার করুন

পরীমনির বাসা ছিল ‘মিনি বার’

পরীমনির বাসা ছিল ‘মিনি বার’

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আমরা জেনেছি, ২০১৬ সালে অ্যালকোহলে আসক্ত হন তিনি। চাহিদা মেটাতেই এই মিনি বার স্থাপন করেন। বিভিন্ন সময় তার বাসায় ডিজে পার্টির আয়োজন করতেন। এই মিনি বারে অ্যালকোহল সরবরাহ করতেন নজরুল ইসলাম রাজ।’

অ্যালকোহলের চাহিদা মেটাতে পরীমনি নিজ বাসায় ‘মিনি বার’ স্থাপন করেছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

ঢাকাই সিনেমার এই অভিনেত্রীকে আটকের পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানায় বাহিনীটি।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘পরীমনির বাসার মিনি বারে বিভিন্ন বিদেশি মদ, ইয়াবা, এলএসডি ও আইস পাওয়া গেছে। পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এ তথ্য জেনেছি।

‘আমরা জেনেছি, ২০১৬ সালে অ্যালকোহলে আসক্ত হন তিনি। চাহিদা মেটাতেই এই মিনি বার স্থাপন করেন। বিভিন্ন সময় তার বাসায় ডিজে পার্টির আয়োজন করতেন। এই মিনি বারে অ্যালকোহল সরবরাহ করতেন নজরুল ইসলাম রাজ।’

পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান শেষে বুধবার রাতে তাকে নিজেদের জিম্মায় র‌্যাবের হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই অভিনেত্রীর বাসায় অভিযান শেষ হতেই বনানীতেই অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় প্রযোজক-পরিচালক রাজকে।

র‍্যাব জানায়, পরীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে আট বোতল প্লাটিনাম লেভেল, তিনটি ব্ল্যাক লেভেল, দুটি সিভাস সিগ্যাল, দুটি ফক্স গ্রোভ, একটি ব্লু লেভেল, দুটি গ্ল্যানলিভেট, একটি গ্ল্যানফিডিচ বোতল।

এ ছাড়া এই অভিনেত্রীর বাসা থেকে জব্দ হয়েছে চার গ্রাম আইস ও এক স্লট ভয়ংকর মাদক এলএসডি। জব্দ তালিকায় একটি বং পাইপের কথাও বলা হয়েছে।

আর চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজের অফিস থেকে বিপুল মদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। জব্দতালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে তার বাসায় মিলেছে সাত বোতল গ্ল্যানলিভেট, দুটি গ্ল্যানফিডিচ, চারটি ফক্স গ্রোভ, একটি প্লাটিনাম লেভেল।

এর বাইরে সিসায় ব্যবহৃত চারকোলের একটি প্যাকেট, দুই সেট সিসার সরঞ্জাম, দুই ধরনের সিসা তামাক, সিসা সেবনের জন্য ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের একটি রোল, ৯৭০ পিস ইয়াবার কথাও বলা হয়েছে জব্দতালিকায়।

এ ছাড়া যৌনাচারের জন্য ব্যবহৃত ১৪টি বেআইনি সরঞ্জাম, একটি সাউন্ড বক্স ও দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

যেসব পাওয়া গেল পরী-রাজের বাসায়

যেসব পাওয়া গেল পরী-রাজের বাসায়

চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের সঙ্গে চিত্রনায়িকা পরীমনি।

পরীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে আট বোতল প্লাটিনাম লেভেল, তিনটি ব্ল্যাক লেভেল, দুটি চিভাস রিগাল, দুটি ফক্স গ্রোভ, একটি ব্লু লেভেল, দুটি গ্ল্যানলিভেট, এক বোতল গ্ল্যানফিডিচ। তার বাসা থেকে আরও জব্দ হয়েছে চার গ্রাম আইস ও এক স্লট এলএসডি। এর ছাড়া জব্দ তালিকায় একটি বং পাইপের কথাও বলা হয়েছে।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি এবং চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাসায় পাওয়া পণ্যের জব্দতালিকা করেছে র‍্যাব। এই তালিকায় বিপুল পরিমাণ মদের পাশাপাশি রাখা হয়েছে নিষিদ্ধঘোষিত মাদকদ্রব্য আইস ও এলএসডির নাম।

র‍্যাব জানায়, পরীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে আট বোতল প্লাটিনাম লেভেল, তিনটি ব্ল্যাক লেভেল, দুটি চিভাস রিগাল, দুটি ফক্স গ্রোভ, একটি ব্লু লেভেল, দুটি গ্ল্যানলিভেট, এক বোতল গ্ল্যানফিডিচ।

তার বাসা থেকে আরও জব্দ হয়েছে চার গ্রাম আইস ও একটি স্লট এলএসডি। এর ছাড়া জব্দ তালিকায় একটি বং পাইপের কথাও বলা হয়েছে।

চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজের অফিস থেকেও বিপুল মদ জব্দ করার কথা জানিয়েছে র‍্যাব। জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার বাসায় মিলেছে সাত বোতল গ্ল্যানলিভেট, দুটি গ্ল্যানফিডিচ, চারটি ফক্স গ্রোভ, একটি প্লাটিনাম লেভেল।

এর বাইরে সিসায় ব্যবহৃত চারকোলের একটি প্যাকেট, দুই সেট সিসার সরঞ্জাম, দুই ধরনের সীমা তামাক, সিসা সেবনের জন্য ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের একটি রোল, ৯৭০ পিস ইয়াবার কথাও বলা হয়েছে জব্দতালিকায়।

এ ছাড়া যৌনাচারের জন্য ব্যবহৃত ১৪টি বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম, একটি সাউন্ড বক্স ও দুটি মোবাইল ফোন সেট এবং একটি মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। এ সময় অবৈধ মাদকদ্রব্য আইস ও এলএসডি এবং বিপুল মদ জব্দ করা হয়। রাত সোয়া ৯টার দিকে এই অভিনেত্রীকে র‍্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরীমনির বাসায় অভিযান শেষ না হতেই বনানী ৭ নম্বর সড়কে আরেকটি বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা। ওই বাসা থেকে ইয়াবা, মদ এবং যৌনাচারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। রাজকেও আটক দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় র‍্যাব কার্যালয়ে।

সেখানেই পরীমনি ও রাজকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে ব্রিফিং শেষে তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন