এলএসডি উদ্ধার: সেই তিন ছাত্র শ্রীঘরে

এলএসডি উদ্ধার: সেই তিন ছাত্র শ্রীঘরে

তিন ছাত্র হলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব (রূপল) ও আসহাব ওয়াদুদ (তুর্য) এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির আদিন আশরাফ।

রাজধানীর একটি বাসা থেকে এলএসডি মাদক জব্দের মামলায় গ্রেপ্তার বেসরকারি দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম নিভানা খায়ের জেসী তাদের কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

তিন ছাত্র হলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব (রূপল) ও আসহাব ওয়াদুদ (তুর্য) এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির আদিন আশরাফ।

ধানমন্ডি থানায় করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সালাহউদ্দিন কাদের।

সাদমান সাকিব ও আদিন আশরাফের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করেন ধানমন্ডি থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই সাইফুর রহমান।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন এসআই সাইফুর রহমান। গত ৩০ মে আসামিদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নেমে এলএসডির সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

২৬ মে রাতে রাজধানীর একটি বাসা থেকে এলএসডি নামক (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড) মাদক জব্দ করে ঢাকা মহানগর ডিবির রমনা বিভাগ।

এলএসডি বিক্রির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এ তিন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এ সময় এই তিনজনের কাছ থেকে ২০০টি এলএসডি জব্দ করা হয়। প্রতিটি এলএসডি তারা তিন হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করতেন।

আরও পড়ুন:
এলএসডি: রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঁচ ছাত্র
এলএসডি: ৫ দিনের রিমান্ডে পাঁচজন
এলএসডিসহ গ্রেপ্তার পাঁচজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন
এলএসডিসহ আটক পাঁচজনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
এলএসডি বিক্রিতে ঢাকায় সক্রিয় ১৫ গ্রুপ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ধানমন্ডির সড়কে প্রাণ গেল কনস্টেবলের

ধানমন্ডির সড়কে প্রাণ গেল কনস্টেবলের

কনস্টেবল বশিরের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ফাইল ছবি

ধানমন্ডি থানার এসআই মো. মামুন নিউজবাংলাকে জানান, বশির মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনারের গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। দায়িত্ব শেষে বাইসাইকেলে চড়ে বাসায় ফেরার পথে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উল্টো পাশের সড়কে কোনো বাস বা ট্রাকের চাপায় তিনি গুরুতর আহত হন।

রাজধানীর ধানমন্ডি ৭ নম্বর সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন।

দায়িত্ব শেষে বাড়ি ফেরার পথে শুক্রবার রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম বশির উদ্দিন তালুকদার। তিনি কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগে।

বশিরের বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকিতে। তিনি ঢাকায় কোথায় থাকতেন, তা জানা যায়নি।

ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মামুন নিউজবাংলাকে জানান, বশির মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনারের গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। দায়িত্ব শেষে বাইসাইকেলে চড়ে বাসায় ফেরার পথে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উল্টো পাশের সড়কে কোনো বাস বা ট্রাকের চাপায় তিনি গুরুতর আহত হন।

এসআই আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বশিরকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বশিরের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, কোন বাস বা ট্রাকের চাপায় কনস্টেবল বশির মারা গেছেন, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। নিহত ব্যক্তির ভাইয়ের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ হয়েছে। তিনি আসার পর মামলাসহ অন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
এলএসডি: রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঁচ ছাত্র
এলএসডি: ৫ দিনের রিমান্ডে পাঁচজন
এলএসডিসহ গ্রেপ্তার পাঁচজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন
এলএসডিসহ আটক পাঁচজনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
এলএসডি বিক্রিতে ঢাকায় সক্রিয় ১৫ গ্রুপ

শেয়ার করুন

নুসরাতের মৃত্যু: ভুয়া বিসিএস ক্যাডার মিল্লাত কারাগারে

নুসরাতের মৃত্যু: ভুয়া বিসিএস ক্যাডার মিল্লাত কারাগারে

সুসময়ের ছবি। স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে নুসরাত জাহান। ছবি: সংগৃহীত

মামলায় অভিযোগ বলা হয়, মামুন মিল্লাত নিজেকে বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে নুসরাত জাহানকে প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৯ সালে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে মিল্লাত নুসরাতকে শারীরিক আঘাত ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন।

রাজধানীর আগারগাঁয়ে সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টারে নুসরাত জাহানের আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় স্বামী মিল্লাত মামুনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম বাকী বিল্লাহ শুক্রবার শুনানি শেষে আদেশ দেন।

একদিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিল হোসাইন (নিরস্ত্র) আসামি মিল্লাত মামুনকে আদালতে হাজির করেন। কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

মিল্লাত মামুনের পক্ষে পীযূষ কান্তি রায় জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধীতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নাকচ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকা থেকে র‌্যাব-২ এর একটি দল মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে একদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা রত্ম কান্তি রোয়াজা ১২ জুন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ বলা হয়, মামুন মিল্লাত নিজেকে বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে নুসরাত জাহানকে প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৯ সালে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করেন।

বিয়ের কিছুদিন পর থেকে মিল্লাতকে শারীরিক আঘাত ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন, যা নুসরাত তার বাবাকে জানান।

মিল্লাত জুয়া খেলাসহ, নেশা এবং বিভিন্ন পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, গত ১২ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নুসরাত তার বাবাকে ফোন দিয়ে জানায়, মিল্লাত তাকে শারীরিক নির্যাতনসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। তাকে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন, না গেলে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

ওইদিন বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ রত্ম কান্তি রোয়াজাকে নুসরাতের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানায়।

আরও পড়ুন:
এলএসডি: রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঁচ ছাত্র
এলএসডি: ৫ দিনের রিমান্ডে পাঁচজন
এলএসডিসহ গ্রেপ্তার পাঁচজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন
এলএসডিসহ আটক পাঁচজনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
এলএসডি বিক্রিতে ঢাকায় সক্রিয় ১৫ গ্রুপ

শেয়ার করুন

ঢাকা ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা কারাগারে

ঢাকা ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা কারাগারে

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল ও কম পায়। আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে পৌনে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

শুক্রবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম মাসুদ-উর-রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার সিনিয়র অফিসার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক এবং ম্যানেজার অপারেশন এমরান আহম্মেদ।

এর আগে বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার সরকার ৫৪ ধারায় আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আসামিদের পক্ষে তাদের দুজন আইনজীবী জামিন আবেদন করেন।

বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন আদালতের বংশাল থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন।

এ ছাড়া বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে আগামী ২১ জুন জামিন শুনানির তারিখ ধার্য করেন।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, ‘আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল।

‘বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল ও কম পায়। ব্যাংকের ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে অডিট টিম টাকা গরমিলের হিসাব বিবরণী দাখিল করে। আবু বক্কর সিদ্দিক অডিট টিমের হিসাব বিবরণীর ভিত্তিতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।’

আবেদনে বলা হয়, ‘ব্যাংকের ম্যানেজার তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে অডিট টিমের সহায়তায় আসামিদের আটক করেন।

‘আসামিদের থানায় হাজির করে আবু বক্কর সিদ্দিক বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ করেন। অফিসার ইনচার্জ অভিযোগটি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, ঘটনাটি পেনাল কোডের ৪০৯ ধারার অপরাধ। যার তদন্তের ক্ষমতা দুর্নীতি দমন কমিশনের শিডিউলভুক্ত বিধায় দুদক মামলাটি তদন্তের ব্যবস্থা করবে।’

এ অবস্থায় আসামিদের আটক করে আদালতে না পাঠালে তারা চিরতরে পলাতক হতে পারেন। তা ছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিষয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগকারীর অভিযোগসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দুদককে অবহিত করা হয়েছে। দুদক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আগ পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার।

আরও পড়ুন:
এলএসডি: রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঁচ ছাত্র
এলএসডি: ৫ দিনের রিমান্ডে পাঁচজন
এলএসডিসহ গ্রেপ্তার পাঁচজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন
এলএসডিসহ আটক পাঁচজনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
এলএসডি বিক্রিতে ঢাকায় সক্রিয় ১৫ গ্রুপ

শেয়ার করুন

চাকা না ঘুরলেও ঢাবি নিচ্ছে পরিবহন ফি

চাকা না ঘুরলেও ঢাবি নিচ্ছে পরিবহন ফি

ভর্তির রসিদে দেখা যায়, আবাসিক হল ফি ছাড়া মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোট নেয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৭১৫ টাকা, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪ হাজার ২৮৫ টাকা এবং বাণিজ্য বিভাগ থেকে নেয়া হচ্ছে ৪ হাজার ৮৫ টাকা। এর মধ্যে ‘পরিবহন ফি’ হিসেবে নেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৮০ টাকা। এ ছাড়া আবাসিক হলভেদে শিক্ষার্থীদের দিতে হবে গত বছরসহ এই বছরের ‘সিট ভাড়া’।

দেড় বছর ধরে বন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল। সচল হয়নি পরিবহন ব্যবস্থা। তবুও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে পরিবহন ফি। এমনকি বন্ধ হলের ‘সিট ভাড়া’ হিসেবে দুই বছরের ফি জমা দিতেও বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে গত বছরের মার্চে বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বন্ধ হয়ে যায় আবাসিক হলগুলোও। এ অবস্থায় প্রায় দেড় বছর আবাসিক হলে না থেকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে না চড়লেও হল এবং পরিবহন ফি নেয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘আমাদের সাথে অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব দেখার কেউ নেই। শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জিম্মি।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের স্পষ্ট জবাব না দিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সেবা কার্যক্রম সীমিত পরিসরে হলেও ক্রিয়াশীল রাখতে হয়। তবে এগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না, এটা সত্য। অল্প কিছু পয়সা শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও আমরা বুঝি।’

এসব ফি মওকুফ করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আর্থিক বিষয় হওয়ার কারণে এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কিছু বলা কঠিন। হুটহাট সিদ্ধান্ত নিলে প্রতিষ্ঠিত সেক্টরে বড় আকারের ধাক্কা পড়ে কি না সেটিও আমাদের দেখতে হবে। শিক্ষার্থীরা কিছু সুবিধা পেলে সেটিই তো আমাদের পাওয়া হয়।’

করোনাকালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বলা হয়েছিল শিক্ষার্থীদের এসব ফি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিলে উপাচার্য বলেন, ‘সেটি দেখা যাক। এখনো সেগুলো দেখার সুযোগই হয়নি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই মাস থেকে শিক্ষার্থীদের স্বশরীরের বা অনলাইনে পরীক্ষা শুরুর কথা রয়েছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হয়। আর ভর্তি হতে গিয়েই সামনে এসেছে ‘অযাচিত ফি’ আদায়ের এসব বিষয়।

ভর্তির রসিদে দেখা যায়, আবাসিক হল ফি ছাড়া মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বমোট নেয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৭১৫ টাকা, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪ হাজার ২৮৫ টাকা এবং বাণিজ্য বিভাগ থেকে নেয়া হচ্ছে ৪ হাজার ৮৫ টাকা। এর মধ্যে ‘পরিবহন ফি’ হিসেবে নেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৮০ টাকা। এ ছাড়া আবাসিক হলভেদে শিক্ষার্থীদের দিতে হবে গত বছরসহ এই বছরের ‘সিট ভাড়া’।

এ বিষয়ে ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘করোনা মহামারিতে আমাদের পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় টিউশনি নেই বললেই চলে। হল বন্ধ থাকায় অনেককে মেস ভাড়া নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। ঠিক সে সময়ে শিক্ষার্থীদের থেকে অযাচিত ফি আদায়ের চেষ্টা দুঃখজনক।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুব রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনাকালীন ছাত্রদের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক। অনেক শিক্ষার্থীর উপার্জন ছিল টিউশননির্ভর। দেড় বছর ধরে তা বন্ধ। এ সময়ে বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে আমরা কোনো সেবা নিইনি, হলে না থেকে কেন আমাদের চার্জগুলো দিতে হবে? শিক্ষার্থীদের ডাবল খরচ করার সামর্থ্য নেই।’

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চাই পরিবহন ফিসহ যাবতীয় অন্যায্য ফি বাতিল করা হোক। অন্যসব ঘটনায় বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষকরা সরব থাকলেও শিক্ষার্থীদের সমস্যায় তারা নীরব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ডাকসুর সাবেক সহসম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘হল বন্ধ থাকা অবস্থায় আবাসিক ফি, পরিবহন ফি গ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের সাথে তামাশারই নামান্তর। এই সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা উচিত।’

হলের সিট ভাড়া ও পরিবহন ফি প্রত্যাহারে হলগুলোর কিছু করার নেই বলে জানান প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবদুল বাছির। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আবাসিক হলগুলো স্বতন্ত্র কোনো বিষয় না, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অঙ্গ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনার বাইরে হল কোনো কিছুই করতে পারে না। আমরা যদি শিক্ষার্থীদের থেকে এক টাকা কম নিই তাহলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জবাবদিহি করতে হবে ৷ তবে বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমাদের ফি মওকুফ বা কম নেয়ার কোনো নির্দেশনা দেয় অবশ্যই আমরা সেভাবে চলব।’

রেগে গেলেন কোষাধ্যক্ষ

গাড়িতে না চড়েও ভাড়া গোনার বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে রেগে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘বিআরটিসির ভাড়া কে দেবে, তুমি দিবা? শিক্ষার্থীরা পরিবহনে না চড়লেও বিআরটিসিকে ভাড়া দিতে হচ্ছে। তাই এসব টাকা নেয়া হচ্ছে।’

তিনি জানান, পরিবহন ফি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে নেয়া হচ্ছে ১০৮০ টাকা করে। বছরে চালু থাকা সময় ২৫০ দিন ধরলে পরিবহন বাবদ দৈনিক ব্যয় ৪ টাকা ৩২ পয়সা। এ সামান্য টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি বিস্মিত।

তবে কোষাধ্যক্ষের বক্তব্যের সাথে মিল নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ম্যানেজার আতাউর রহমানের বক্তব্যে। আতাউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিআরটিসির সাথে আমাদের চুক্তি বাস হিসেবে না, ট্রিপ হিসেবে। যত ট্রিপ বাস চলবে সে অনুযায়ী টাকা। ট্রিপ না দিলে টাকা নেই। এখন যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, তাই ট্রিপ বন্ধ। সুতরাং তাদের টাকা দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

‘গাড়ি না চললে ভাড়া নেই’ এমন বিষয় সম্পর্কে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি পরিবহন ম্যানেজারের বক্তব্যকে সমর্থন করেন। তবে শিক্ষার্থীদের পরিবহন ফি প্রত্যাহারের ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করেননি উপাচার্য।

আরও পড়ুন:
এলএসডি: রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঁচ ছাত্র
এলএসডি: ৫ দিনের রিমান্ডে পাঁচজন
এলএসডিসহ গ্রেপ্তার পাঁচজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন
এলএসডিসহ আটক পাঁচজনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
এলএসডি বিক্রিতে ঢাকায় সক্রিয় ১৫ গ্রুপ

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হচ্ছে মহামারি করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ; আরেকটি হচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হলে দলকে আরও শৃঙ্খল করতে হবে।

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে দুটি বিষয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তা হলো ‘করোনাভাইরাস মহামারি’ ও ‘উগ্র সাম্প্রদায়িকতা’।

রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে শুক্রবার সকালে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হচ্ছে মহামারি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ; আরেকটি হচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। করোনা প্রতিরোধের পাশাপাশি উগ্র সাম্প্রদায়িকতার চ্যালেঞ্জকেও আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। আর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হলে দলকে আরও শৃঙ্খল করতে হবে।’

দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তিতে জোর দেয়া হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলকে আরও সুসংগঠিত, আরও সুশৃঙ্খল করে গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। দেশের সকল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের যেখানে ছোটখাটো বিরোধ আছে, তার সমাধান করতে হবে। এ ব্যাপারে নিজ নিজ বিভাগে যেখানে সাংগঠনিক সমস্যা রয়েছে, তার সমাধানে কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

আওয়ামী লীগের গঠিত কমিটিগুলো নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের কাছে জমা দেয়ার পরামর্শও দেন কাদের।

‘বিএনপি ক্ষমতা পেলে রক্তের বন্যা’

বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক ও সহিংসতার পৃষ্ঠপোষক উল্লেখ করে দলটির রাজনীতিকে ‘ভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর’ বলে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক ও সহিংসতার পৃষ্ঠপোষক বিএনপির হাতে এ দেশ ও দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। বিএনপির রাজনীতি ভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর। বিএনপির হত্যা, খুন ও সন্ত্রাসের রাজনীতি দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল।

‘এখন বিএনপি নেতাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, বাংলাদেশের মানুষ নরক যন্ত্রণার মধ্যে আছে। অথচ বৈশ্বিক শান্তি সূচকে বাংলাদেশ গতবারের চেয়ে সাত ধাপ এগিয়েছে। এ দেশে গণতান্ত্রিক, প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ বিনষ্টের মূল কুশীলব এবং কারিগর হচ্ছে বিএনপি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তি, স্থিতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপির হাতে ক্ষমতা গেলে দেশ আবার অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। তারা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ আবার লাশের পাহাড় হবে। প্রতিশোধপরায়ণ বিএনপি ক্ষমতা হাতে পেলে দেশে রক্তের বন্যা বইয়ে দেবে।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি

আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামী বুধবার (২৩ জুন)। দিনটি উদযাপনে দলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে আয়োজনকে সীমিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মহামারি করোনার কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করতে পারছি না। ঘরোয়াভাবে সীমিত পরিসরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে আমাদের কর্মসূচি কাটছাঁট করতে হয়েছে।’

২৩ জুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তেলন করা হবে।

এদিন সকাল ৯টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে আওয়ামী লীগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২৩ জুন বেলা ৩টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছি। সভায় গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।’

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। দলটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানোর পাশাপাশি বিশেষ ওয়েবিনারের আয়োজন করবে।

কর্মীদের উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
এলএসডি: রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঁচ ছাত্র
এলএসডি: ৫ দিনের রিমান্ডে পাঁচজন
এলএসডিসহ গ্রেপ্তার পাঁচজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন
এলএসডিসহ আটক পাঁচজনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
এলএসডি বিক্রিতে ঢাকায় সক্রিয় ১৫ গ্রুপ

শেয়ার করুন

মিরপুর থেকে ‘অপুর দল’-এর ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

মিরপুর থেকে ‘অপুর দল’-এর ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

কিশোর গ্যাং অপুর দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাবের একটি দল। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রেপ্তারকৃত কিশোররা মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মেয়েদের ইভ টিজিংসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

রাজধানীর মিরপুর এলাকার কিশোর গ্যাং ‘অপুর দল’-এর গ্যাং লিডার অপুসহ তিন কিশোর অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪-এর একটি দল।

মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয় বলে শুক্রবার দুপুরে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৪-এর অপারেশন্স অফিসার জিয়াউর রহমান চৌধুরী।

গ্রেপ্তার তিনজন হলো নাসির আহমেদ অপু, হৃদয় ও মো. আতিকুর রহমান।

তাদের কাছ থেকে একটি চায়নিজ কুড়াল, একটি ফোল্ডিং চাকু, একটি চাপাতি, ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত কিশোররা মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মেয়েদের ইভ টিজিংসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

বাহিনীটি বলছে, গ্রেপ্তার কিশোররা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাঘাটে পরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে সংঘাত সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। এ ছাড়া, ঐ এলাকায় কোনো অপরিচিত লোক গেলে তাকে জিম্মি করে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিত। এদের চলাফেরা বেপরোয়া। এরা কারও কাছ থেকে কিছু ছিনতাইয়ের পর দ্রুত সেই সামগ্রীটি পেছনে থাকা তাদের দলের অন্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য তারা সব সময় নিজেদের কাছে ধারালো দেশীয় অস্ত্র রাখে।

র‌্যাব-৪ অপারেশন্স অফিসার জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, এলাকায় ছিনতাই ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র প্রায়ই এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতো। এ ধরনের কিশোর গ্যাং গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন:
এলএসডি: রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঁচ ছাত্র
এলএসডি: ৫ দিনের রিমান্ডে পাঁচজন
এলএসডিসহ গ্রেপ্তার পাঁচজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন
এলএসডিসহ আটক পাঁচজনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
এলএসডি বিক্রিতে ঢাকায় সক্রিয় ১৫ গ্রুপ

শেয়ার করুন

এসএসসির সনদ বিতরণ শুরু ২০ জুন

এসএসসির সনদ বিতরণ শুরু ২০ জুন

নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ২০ জুন থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলবে ৭ জুলাই পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ৪ নং ভবনের ষষ্ঠতলা থেকে সনদ সংগ্রহ করা যাবে।

২০২০ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের মূল সনদ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

আগামী ২০ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (সনদ) মো. হেলাল উদ্দিনের সই করা একটি নির্দেশনায় এ কথা জানানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ২০ জুন থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলবে ৭ জুলাই পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ৪ নং ভবনের ষষ্ঠতলা থেকে সনদ সংগ্রহ করা যাবে।

এ ক্ষেত্রে ঢাকা বোর্ডের অধীনে উল্লিখিত দিনে নির্ধারিত জেলার সনদ প্রদান করা হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ২০ জুন, ফরিদপুর ২১ জুন, মুন্সিগঞ্জ ২২ জুন, রাজবাড়ী ২৩ জুন, গোপালগঞ্জ ২৪ জুন, নরসিংদী ২৭ জুন, মানিকগঞ্জ ২৯ জুন, শরীয়তপুর ২৯ জুন, মাদারীপুর ৩০ জুন, গাজীপুর ১ জুলাই, ঢাকা জেলা ৪ জুলাই, ঢাকা মহানগর ৪ জুলাই, টাঙ্গাইল ৬ জুলাই এবং কিশোরগঞ্জ ৭ জুলাই।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল সনদপত্র গ্রহণ করার জন্য কতজন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে, তার বিরবণসহ প্রধান শিক্ষক অথবা দায়িত্বশীল প্রতিনিধিকে প্রাধিকারপত্র দিয়ে তিনটি নমুনা স্বাক্ষর সত্যায়িতসহ সনদপত্র গ্রহণ করতে হবে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক নিজের পাঠানো প্রতিনিধির বেলায় অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের কপিসহ মূল সনদপত্র গ্রহণের জন্য আবেদনের ওপর উভয় স্তরের কমিটির সভাপতি ও চেয়ারম্যান অথবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর আনতে হবে। অন্যথায় সনদপত্র দেয়া হবে না।

আরও পড়ুন:
এলএসডি: রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঁচ ছাত্র
এলএসডি: ৫ দিনের রিমান্ডে পাঁচজন
এলএসডিসহ গ্রেপ্তার পাঁচজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন
এলএসডিসহ আটক পাঁচজনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
এলএসডি বিক্রিতে ঢাকায় সক্রিয় ১৫ গ্রুপ

শেয়ার করুন