ঢাকা মেডিক্যালে র‍্যাবের অভিযানে ২৪ দালাল আটক

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযানে ২৪ দালালকে আটক করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিক্যালে র‍্যাবের অভিযানে ২৪ দালাল আটক

ঢাকা মেডিক্যালে সারা দেশ থেকে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু কতিপয় দালাল তাদের সেবা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেন। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই র‌্যাব-৩ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আজ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দালাল নির্মূল অভিযানে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ২৪ দালালকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিক্যালে সারা দেশ থেকে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু কতিপয় দালাল তাদের সেবা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেন। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই র‌্যাব-৩ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আজ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি।

পলাশ কুমার বসু বলেন, এখানে যারা ভুক্তভোগী তারা অভিযোগ করেছেন। তারা এখানে বিভিন্ন সেবা নিতে আসেন। দালালেরা তাদের ব্রেইন ওয়াশ করে নিম্নমানের হাসপাতালে নিয়ে যান কম খরচে ভালো চিকিৎসা পাওয়ার কথা বলে। ওইসব নিম্নমানের প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীরা ভালো ডাক্তার, ভালো চিকিৎসা পান না বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ২৪ জনকে আটক করেছি এবং তারা স্বীকার করেছেন বেশকিছু দিন ধরে তারা সেবা গ্রহণকারীদের হয়রানি করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আটক ২৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভল্টের টাকা আত্মসাত: প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

ভল্টের টাকা আত্মসাত: প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ফাইল ছবি

রোববার মামলার এজাহার আদালতে আসে। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার এ নির্দেশ দেন। গত শনিবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার সিনিয়র অফিসার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক এবং ম্যানেজার অপারেশন এমরান আহম্মেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে পৌনে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ আগামি ২০ সেপ্টেম্বর ঠিক করেছে আদালত।

গত শনিবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার সিনিয়র অফিসার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক এবং ম্যানেজার অপারেশন এমরান আহম্মেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

রোববার মামলার এজাহার আদালতে আসে। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার এ নির্দেশ দেন।

এদিকে মামলায় অভিযোগ করা হয়, ব্যাংকটির বংশাল শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক গত ১৭ জুন বাদী হয়ে রিফাতুল হক ও এমরান আহম্মেদকে আসামি করে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর অভিযোগ করেন।

রিফাত বংশাল শাখায় ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে কর্মরত রয়েছেন।

গত ১৭ জুন আইসিসি ডিভিশনের ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন ইউনিট বার্ষিক নিরীক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বংশাল শাখা পরিদর্শনে যায়।

তদন্তে এ শাখার ভল্টে মোট ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার অসামঞ্জস্যতা বা ঘাটতি পায়।

তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে সত্যতা স্বীকার করেন রিফাতুল হক।

২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় অল্প অল্প করে টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেন তিনি।

গত ১৮ জুন ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভোল্ট থেকে তিন কোটি ৭৭ লাখ টাকা গায়েব হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনায় ইমরান ও রিফাতকে আটক করা হয়। মামলাটি দুদকের শিডিউলভূক্ত হওয়ায় আসামিদেরকে ১৮ জুন ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন

বোন-খালাসহ ৫ নারী ভারতে পাচার হলেন কীভাবে 

বোন-খালাসহ ৫ নারী ভারতে পাচার হলেন কীভাবে 

পুলিশ কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ আরও জানান, নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশের যে তরুণীর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তার সহায়তায় পালিয়ে এসেছেন দুই বান্ধবী। এ ছাড়া ভিন্ন কৌশলে পালিয়ে এসেছেন এক তরুণী। তবে সেই তরুণীর বড় বোন ও তাদের ছোট খালার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়ের চক্র তাদের পাচার করেছিল।

ভারতে পাচারের শিকার দুই বোন, তাদের ছোট খালাসহ পাঁচ তরুণীর নির্যাতিত হওয়ার ভয়ংকর বর্ণনা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দেশে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন এক বোন। পালিয়ে এসেছেন নির্যাতনের শিকার আরও দুই বান্ধবী। তাদের মধ্যে দুজন শনিবার রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন।

ওই দুই মামলায় পাচার হওয়ার প্রক্রিয়া এবং ভারতের নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ।

নিউজবাংলাকে তিনি জানান, ভারতে পাচার হওয়া আরও তিন তরুণী দেশে পালিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে দুজন মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে হাতিরঝিল থানায় পৃথক মামলা করেছেন। দুই মামলায়ই আসামি করা হয়েছে রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়কে।

পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ আরও জানান, নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশের যে তরুণীর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তার সহায়তায় পালিয়ে এসেছেন দুই বান্ধবী। এ ছাড়া ভিন্ন কৌশলে পালিয়ে এসেছেন এক তরুণী। তবে সেই তরুণীর বড় বোন ও তাদের ছোট খালার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়ের চক্র তাদের পাচার করেছিল। বিষয়টির বিশদ তদন্ত চলছে।

যেভাবে পাচার হন বড় বোন

একটি মামলার বাদী (ছদ্মনাম) সায়মা। তিনি জানান, চার বোনের মধ্যে তিনি মেজো। থাকতেন রাজধানীর মাতুয়াইলে। তার বাবা টাইলস মিস্ত্রি। ২০১৪ সালে বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মা আরেকজনকে বিয়ে করেন। মা ও সৎবাবার সঙ্গে চার বোন কাজলায় থাকতে শুরু করেন।

সায়মা বলেন, ‘আমাদের অভাব-অনটনের সংসার। ছয় মুখের উপার্জনকারী ছিলেন একমাত্র সৎবাবা। অর্থের অভাবে ক্লাস নাইনেই পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় বড় বোনের। ছোট একটি চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন তিনি। কোথাও হয়নি চাকরি। এরই মধ্যে ফেসবুকে ভারতপ্রবাসী নদীর সঙ্গে পরিচয় হয়। সে জানায়, বেঙ্গালুরুতে বিউটি পারলারে লোক নেবে। মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতন। ৫ জন মেয়ে নেবে।

‘নভেম্বরের মধ্যেই কাজে যোগ দিতে হবে। এই প্রস্তাব মাকে জানালে তিনি রাজি হননি। কিন্তু বড় বোন আমাদের অভাব-অনটনের কথা চিন্তা করে মাকে রাজি করান। কিন্তু পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া কীভাবে যাবেন? নদী জানান, ওসব কিছুই লাগবে না। তাদের লোকজন আছে, যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকলেই হবে।’

বোন-খালাসহ ৫ নারী ভারতে পাচার হলেন কীভাবে
মানবপাচারকারী নদী

সায়মা জানান, নদীর কথামতো যশোরের বেনাপোল এলাকার ইসরাফিল হোসেন খোকন তার বড় বোনকে ফোন করেন। খোকন ফোন করে জানান, বেশি দেরি করলে চাকরিটা না-ও হতে পারে।

সায়মা বলেন, ‘নদীর নির্দেশনামতো আমার বড় বোন ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর রাতে যশোরের উদ্দেশে বাসযোগে যাত্রা শুরু করেন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খোকনের নির্দেশনা মোতাবেক যশোরের শার্শা এলাকায় বাস থেকে নামে আমার বড় বোন।

‘সেখানে তরিকুল নামে খোকনের একজন লোক ইজিবাইক নিয়ে অপেক্ষায় ছিল। তরিকুল আমার বোনকে ইজিবাইকে আল-আমিন নামে একজনের বাসায় নিয়ে যায়।’

মামলায় এই নারী বলেছেন, ‘২১ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে খোকন, তরিকুল, আব্দুল হাই ওরফে সবুজ ও সাইফুল যায় আল-আমিনের বাসায়। খোকনের নির্দেশে রাত ১০টার দিকে তরিকুল, সবুজ ও সাইফুল আমার বোনকে নিয়ে বেনাপোল সীমান্তের দিকে হাঁটতে থাকে। এ সময় বড় বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আমার কথা হয়।

‘২২ নভেম্বর আমার বড় বোন ভারতীয় একটি নম্বর থেকে আমার ইমো নম্বরে ফোন করে জানায় নম্বরটি নদীর। নদীসহ তিনি বেঙ্গালুরুতে তাসলিমা ওরফে বিউটি আন্টির বাসায় আছে। তার বাড়ি যশোরে। তার মোবাইল নম্বর দেন। দুই-তিন দিনের মধ্যেই আমার বড় বোনকে বিউটি পারলারে কাজ দেবে বলে জানায়। বলে, প্রয়োজনে যেন নদী কিংবা বিউটি আন্টির নম্বরে যোগাযোগ করি। কিন্তু তিন-চার দিন পর বোনের খোঁজ নিতে নদীর ইমো নম্বরে ফোন দিয়ে বন্ধ পাই।’

ছোট বোন ও খালাকে পাচারের ফাঁদ

মামলায় তিনি বলেছেন, ‘তখন বিউটি আন্টির ইমো নম্বরে ফোন করলে তিনি জানান, আমার বোন নদীর সঙ্গে বিউটি পারলারে কাজে আছে। সে খুব ভালো আছে। ভারতীয় সিম কার্ড না পাওয়া পর্যন্ত তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকবে। এ কথা শুনে চিন্তামুক্ত হই।

‘১০-১২ দিন পর আবার নদীর ভারতীয় ইমো নম্বরে ফোন করে বন্ধ পাই। বিউটি আন্টির ইমো নম্বরে ফোন করলে জানায়, আমার বড় বোন অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি আছে। চিকিৎসা হচ্ছে। তবে সেখানে দেখাশোনা করার মতো লোক নাই। তার রক্তের সম্পর্কের কেউ থাকলে খুবই ভালো হতো। তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠত।’

সায়মা বলেন, ‘এ কথা শুনে আমার মা যেতে চাইলে অনাগ্রহ দেখানো হয়। নদী বলেন, আপনি নিজেই অসুস্থ। কীভাবে মেয়েকে দেখবেন। সে আমাকে যাওয়ার প্রস্তাব করে। বড় বোন সুস্থ হয়ে উঠলে আমরা দুই বোন বিউটি পারলারে কাজ নিলে অনেক টাকা উপার্জন করতে পারব বলে জানায়।

‘এ কথা শুনে আমাকে একা না পাঠিয়ে আমার ছোট খালাকে আমার সঙ্গে পাঠানোর প্রস্তাব করেন মা। এতে সে রাজি হয়।’

তিনি জানান, ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর মগবাজারের নূরজাহান আবাসিক হোটেলের সামনে নদীর সঙ্গে দেখা হয় তার ও ছোট খালার। নদী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সেখান থেকে তাদের কল্যাণপুরে নিয়ে যায়। এরপর যশোরের বেনাপোলের দুটি টিকিট করে বাসে উঠিয়ে দিয়ে জানায়, সকালের দিকে তার লোক এসে তাদের নিয়ে যাবে।

সায়মা বলেন, ‘সকাল ৬টার দিকে শার্শায় বাস থেকে নামার পর খোকনের নির্দেশে ইজিবাইকচালক তরিকুল আমাদের আল-আমিনের বাসায় নিয়ে যায়। আমাকে ও খালাকে রাতেই ভারতে পাঠানো হবে বলে আল-আমিন জানায়। রাত ১০টার দিকে আল-আমিনের বাসায় আসে খোকন।

‘এ সময় খোকনের সঙ্গে আল-আমিনের বাসায় আসে বিনাশ শিকদার, সবুজ, আমিরুল ও সাইফুল। বিনাশ শিকদার ও খোকন অন্য চারজনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে যে, মাত্র দুজন। আমি কী জবাব দেব? একটু পর আল-আমিনের বাসা থেকে বের হয়ে যায় বিনাশ শিকদার ও খোকন।’

স্থানীয় মেম্বার হয়েছিলেন ‘মামা’

তিনি বলেন, ‘আল-আমিন আমাদের দ্রুত রেডি হতে বলে। আমরা রেডি হই। রাত ১১টার দিকে আল-আমিন, সবুজ, তরিকুল ও সাইফুলের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করি। আধা ঘণ্টা হাঁটার পর ভারত সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছলে বিজিবি আমাকে ও খালাকে আটক করে। আল-আমিন, সবুজ, তরিকুল, সাইফুল পালিয়ে গিয়ে স্থানীয় মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

বোন-খালাসহ ৫ নারী ভারতে পাচার হলেন কীভাবে


‘তাদের শেখানো কথা অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে সেই মেম্বারের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আমরা ছাড়া পাই। মেম্বারসহ আল-আমিন, সবুজ, তরিকুল বিজিবির কাছে বলেছিল, আমরা পথ ভুল করে হাঁটতে হাঁটতে সীমান্ত এলাকায় এসেছিলাম। পরদিন বিজিবি সরল বিশ্বাসে মেম্বারের কাছে আমাদের ফিরিয়ে দিলে আবার আল-আমিনের বাসায় চলে যাই। সেখানে গিয়ে আমাদের শিখিয়ে দেয়া হয় বিজিবি ধরলে মেম্বারকে মামা বলে পরিচয় দিতে।’

সায়মা বলেন, ‘খালা ও আমি ভারতে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে বিউটি আন্টির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়া হয়। বিউটি আন্টি জানায়, আমার বড় বোন খুবই অসুস্থ। যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে খোকন ও বিনাশ শিকদার আল-আমিনের মাধ্যমে সাতক্ষীরা সীমান্তের আনিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে সেখানকার আলমগীরের বাসায় আমাদের নিয়ে যায়।’

২০২০ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেহেদী হাসান বাবু, মহিউদ্দীন ও সালাম তাদের দুজনকে নিয়ে বের হন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২-৩ ঘণ্টা হাঁটার পর একটি পাকা রাস্তায় পৌঁছাই। তখন মেহেদী হাসান বাবু পাকা রাস্তায় দাঁড়ানো একজনকে দেখিয়ে আমাদের রাস্তাটি পার হতে বলে।

‘সেই লোকটা আমাদের নিয়ে ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর আরেকজনের কাছে তুলে দেয়। সে ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর আমাদের একটা বাসায় পৌঁছে দেয়। বাসাটির মালিক বকুল ওরফে ছোট খোকন। সন্ধ্যায় বকুল ওরফে ছোট খোকনের বাসায় পলক মণ্ডল আসে।’

বড় বোনের সঙ্গে যেভাবে দেখা সায়মার

ভারতে যাওয়ার আগে বিউটি আন্টির ইমোতে তাদের নাম, ঠিকানা ও ছবি পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে জানান সায়মা।

মামলায় তিনি বলেছেন, ‘পলক মণ্ডল সেই ছবি দিয়ে আমাদের নামে আধার কার্ড বানিয়ে দেয়। পরদিন সকালে পলক মণ্ডল আমাদের দুজনকে নিয়ে ট্রেনে ওঠে। তিন দিন যাত্রার পর বেঙ্গালুরুতে পৌঁছাই। পলক মণ্ডল আমাদের দুজনকে বেঙ্গালুরুর ক্যাঙ্গারি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিউটি আন্টির বাসায় নিয়ে যায়।

‘এক দিন পর বিউটি পারলারে কাজের কথা বলে বেঙ্গালুরুর ইলেট্রনিক সিটির একটি বাসায় আমাকে এবং আমার খালাকে কেরালার একটি হোটেলে পাঠানো হয়। সেখানে আমাদের দুজনের ওপরই অমানবিক যৌন নির্যাতন চালানো হয়।’

সায়মা বলেন, ‘শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমাকে তিন দিন পর সেই বাসা থেকে বিউটি আন্টির বাসায় ফেরত পাঠানো হলে আমার বড় বোনকে দেখি। বড় বোন আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করেন। আমি বুঝতে পারি, আমার বড় বোনের অসুস্থতার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আমাকে ও আমার খালাকে ভারতে পাচার করা হয়েছে।

‘এ নিয়ে আমার বড় বোন বিউটি আন্টির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়লে, গায়ে হাত তুললে, বিউটি হৃদয় বাবুকে ফোন করে। ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে হৃদয় বাবু, সাগর, আখিল, রুবেল ওরফে রাহুল, সবুজ বিউটির বাসায় এসে আমার বোনকে খুব মারধর করে।’

টিকটক হৃদয়ের বাসায় খালাসহ ৩ তরুণী

সায়মা বলেন, ‘বিউটি আন্টির নির্দেশে হৃদয় বাবু আমাকে আনন্দাপুরা সার্কেলে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে আমার খালাসহ আরও তিন বাংলাদেশি তরুণীকে দেখি। পরে আমাকে চেন্নাই, কেরালা ও বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন হোটেলে ও ম্যাসেজ সেন্টারে পাঠানো হয়।’

একপর্যায়ে পেটে বাচ্চা আসে জানিয়ে সায়মা বলেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে বিউটি, হৃদয় বাবু, সাগরকে অনুরোধ করলে তারা আমার প্রেগন্যান্সি টেস্ট করায়। রেজাল্ট পজিটিভ আসে। এ সময় তারা আমার বাচ্চা নষ্ট করতে বলে। আমি তাদের কথায় রাজি হয়ে তাদের পা ধরে অনুরোধ করি দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য।

বোন-খালাসহ ৫ নারী ভারতে পাচার হলেন কীভাবে


‘ভেবেছিলাম, তারা আমাকে আর হোটেল বা ম্যাসেজ সেন্টারে পাঠাবে না। কিন্তু এরপরও তারা জোর করে আমাকে বিভিন্ন হোটেল ও ম্যাসেজ সেন্টারে পাঠায়। ২ মে বেঙ্গালুরুর একটি ম্যাসেজ সেন্টারের জানালা ভেঙে পালাতে সক্ষম হই। ট্রেনে কলকাতা এসে ৬ মে বাংলাদেশে আসি।’

পালিয়ে আসা এই তরুণী বলেন, ‘বেঙ্গালুরুতে অবস্থানকালে কৌশলে আমি সবার নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রাখি। দেশে এসে অসুস্থ বোধ করায় কর্তব্যরত টিকিৎসক জানান, আমার পেটের বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেছে।

‘আমার বড় বোন ও ছোট খালা বর্তমানে কোথায় আছে জানি না।’

২২ জন ও ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

সায়মার করা মামলায় ২২ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন নদী, ইসরাফিল হোসেন ওরফে খোকন, তরিকুল, আল-আমিন, আব্দুল হাই ওরফে সবুজ, সাইফুল, তাসলিমা ওরফে বিউটি, বিনাশ শিকদার, আমিরুল, মেম্বার, আনিস, আলম, মেহেদী হাসান বাবু, মহিউদ্দিন, সালাম, বকুল ওরফে ছোট খোকন, পলক মণ্ডল, রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, আখিল, সাগর, রুবেল ওরফে রাহুল ও সবুজ।

হাতিরঝিল থানায় করা আরেক মামলায় টিকটক হৃদয়সহ ১৪ আসামির নাম উল্লেখ আছে। অপর ১৩ জন হলেন ইসরাফিল হোসেন ওরফে খোকন, তরিকুল, আল-আমিন, আব্দুল হাই ওরফে সবুজ, আমিরুল, সাইফুল, পলক মণ্ডল, বকুল ওরফে ছোট খোকন, সাগর, সবুজ, রুবেল ওরফে রাহুল, আখিল ও ডালিম।

রাজধানীর আরও দুই বান্ধবী যেভাবে পাচার হন

এই মামলা এজাহারে দুই বান্ধবীর পাচার হওয়ার কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে।

মগবাজারের তরুণী সিনথিয়া (ছদ্মনাম) জানান, তার বান্ধবীর নাম স্বপ্নীল। ছোটবেলা থেকে দুজনেই একসঙ্গে মনের ভাবনা শেয়ার করতেন। দুজনই বিবাহিত। দুজনের স্বামীই মাদকাসক্ত ও বেকার ছিলেন। তাই তারা নিজেরাই স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য একসঙ্গে চাকরি খুঁজতে থাকেন। কোথাও পাননি। পরবর্তী সময়ে ফেসবুকের মাধ্যমে হৃদয় বাবুর সঙ্গে পরিচয়। সে বিদেশে বিউটি পারলারে কাজের প্রস্তাব দেয়।

সিনথিয়া বলেন, ‘তাতে রাজি হই নাই। এর মধ্যে মুম্বাই শহরে চাকরিরত আমার এক ফুফুর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভারতে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানাই। তিনি নিরুৎসাহিত করে দেশেই কিছু করার পরামর্শ দেন। পরবর্তী সময়ে স্বামীর নিগ্রহের মাত্রা বেড়ে গেলে দফায় দফায় হৃদয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ হয়।

‘সে কাগজপত্র তৈরির নামে ৮ হাজার টাকা নেয়। তারপর এক ব্যক্তির মাধ্যমে ১৮ মার্চ দুই বান্ধবীর নামে গ্রিন লাইন বাসের টিকিট কেটে যশোরের উদ্দেশে পাঠায়।’

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, একই চক্রের মাধ্যমে এই দুই বান্ধবীকে একই কৌশলে ভারতে পাচার করা হয়।

সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে জিম্মি করে রাখে। তারপর বিভিন্ন হোটেলে পাঠায়। পরবর্তী সময়ে পাচার হওয়া নিপীড়নের শিকার যে তরুণীর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তার সহযোগিতায় দুজনই পালিয়ে দেশে আসেন গত ৩ মে।

নারী পাচারে পাঁচ মামলা হাতিরঝিল থানায়

বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই ঘটনায় ভারতে করা মামলায় টিকটক হৃদয়সহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় বাংলাদেশেও মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ভারত থেকে পালিয়ে আসা দুই তরুণী পৃথক মামলা করেছেন। হাতিরঝিল থানার এই তিন মামলায় বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১২ জনকে।

এ বিষয়ে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাফিজ আল ফারুক নিউজবাংলাকে জানান, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে সর্বশেষ শনিবার রাতে আরও দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটি করেছেন ভারত থেকে পালিয়ে আসা আরও দুই তরুণী। সব কটি মামলায় টিকটক হৃদয়সহ তার চক্রের সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

হাজার কোটি টাকা পাচার মামলার আসামি গ্রেপ্তার

হাজার কোটি টাকা পাচার মামলার আসামি গ্রেপ্তার

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, তিনি হেনান আনহুই এগ্রো এলসি এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। এই দুই প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অস্তিত্ববিহীন নানা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে মেশিনারিজের ঘোষণায় মদ, সিগারেট ও টেলিভিশন আমদানি করে আসছিলেন তিনি।

পোল্ট্রি ফিডের ক্যাপিটাল মেশিনারিজের পরিবর্তে মিথ্যা ঘোষণায় মদ, সিগারেট ও টেলিভিশন আমদানির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় আব্দুল মোতালেব নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

রোববার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: আব্দুর রউফ।

এদিন বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আব্দুল মোতালেবের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে। তার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ১০১৩ কোটি টাকা। তিনি হেনান আনহুই এগ্রো এলসি এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, এই দুই প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অস্তিত্ববিহীন নানা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে মেশিনারিজের ঘোষণায় মদ, সিগারেট ও টেলিভিশন আমদানি করে আসছিলেন তিনি।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১২টি কন্টেইনারে পোল্ট্রি ফিডের ক্যাপিটাল মেশিনারিজের পরিবর্তে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য খালাসের চেষ্টা হচ্ছে- এমন তথ্যে ২০১৭ সালের ৫ ও ৬ মার্চ একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কন্টেইনারগুলো আটক করে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে খোলা হয়।

কন্টেইনারগুলোতে মেশিনারিজের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ সিগারেট, এলইডি টেলিভিশন, ফটোকপি মেশিন ও মদ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় হেনান আনহুই এগ্রো এলসি এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি নামের প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ১৪০ কোটি টাকা পাচার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) অনুসারে পল্টন থানায় একটি মামলা হয়।

পরবর্তীতে আরও অনুসন্ধানে জানা যায়, আমদানিকারকদ্বয় (হেনান আনহুই এগ্রো এলসি এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি) এর আগে ৭৮টি কন্টেইনারের মাধ্যমে মেশিনারিজ ঘোষণায় বিপুল পরিমাণ সিগারেট, এলইডি টেলিভিশন, ফটোকপি মেশিন ও মদ খালাস নিয়েছে। এ ঘটনায় ৮৭৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচারের তথ্য থাকায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) অনুসারে পল্টন থানায় আরও ১৫টি মামলা হয়।

হেনান আনহুই এগ্রো এলসি এবং এগ্রো বিডি এন্ড জেপি উভয় প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মোতালেব। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। রোববার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্যের তথ্য অন্য কোনো মন্ত্রণালয়কে না দেয়ার অনুরোধ

স্বাস্থ্যের তথ্য অন্য কোনো মন্ত্রণালয়কে না দেয়ার অনুরোধ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তথ্য বিভ্রান্তি এড়াতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য প্রদান ও পর্যালোচনা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করার লক্ষ্যে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সহযোগিতা আহ্বান করা হয়। বৈঠকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে সুপারিশ করা হয়।

করোনাভাইরাস মহামারি সময়ে তথ্য বিভ্রান্তি এড়াতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সকল তথ্য দেয়া ও পর্যালোচনার দায়িত্ব শুধু ওই মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত বলে মত দিয়েছে জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। তাই অন্য কোনো মন্ত্রণালয় যেন স্বাস্থ্যের কোনো তথ্য প্রকাশ না করে, সে জন্য অনুরোধ জানিয়েছে এই কমিটি।

রোববার সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির নবম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, আ ফ ম রুহুল হক, মো. আব্দুল আজিজ, সৈয়দা জাকিয়া নুর, রাহগির আলমাহি এরশাদ ও আমিরুল আলম মিলন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, তথ্য বিভ্রান্তি এড়াতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য প্রদান ও পর্যালোচনা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করার লক্ষ্যে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সহযোগিতা আহ্বান করা হয়। বৈঠকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে সুপারিশ করা হয়।

দেশের সকল জনগণকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দ্রুততার সঙ্গে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে কমিটি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা সহজতর প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠাতেও মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে কমিটি।

করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত কত টাকার মাস্ক ও কিট কেনা হয়েছে, টিকা সংকট মোকাবলায় কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, টিকা জিটুজি নাকি এজেন্টের মাধ্যমে আনা হচ্ছে, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আইসিইউ ও অক্সিজেনের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য সংকট থেকে উত্তরণ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরাসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

গলায় রশি প্যাঁচানো কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

গলায় রশি প্যাঁচানো কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন ফকির নিউজবাংলাকে জানান, শনিবার এই কিশোর নিখোঁজের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে পরিবার। সেটা তদন্ত করতে গিয়ে আজ বিকেলে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

রাজধানীর বংশালে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আগামসি লেন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় রোববার বিকেলে। পুলিশ বলছে, মরদেহটির গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল। নিহতের নাম ইমন।

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন ফকির নিউজবাংলাকে জানান, শনিবার এই কিশোর নিখোঁজের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে পরিবার। সেটা তদন্ত করতে গিয়ে আজ বিকেলে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক টিম আলামত সংগ্রহ করছে। সেই সঙ্গে হত্যায় জড়িতদের আটকে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান ওসি শাহিন ফকির।

শেয়ার করুন

নাসিরের তিন ‘সহযোগী’ নারীর জামিন নাকচ

নাসিরের তিন ‘সহযোগী’ নারীর জামিন নাকচ

মাদক আইনে করা মামলায় নাসির উদ্দিন মাহমুদের সহযোগী তিন নারীর জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত। ফাইল ছবি

ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের হাকিম মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন শুনানি শেষে নাসির উদ্দিন মাহমুদের সহযোগী তিন নারীর জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। জামিন বাতিল হওয়া ওই তিন নারী হলেন লিপি আক্তার, সুমি আক্তার ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মাহমুদের সহযোগী তিন নারীর জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত।

রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

জামিন বাতিল হওয়া ওই তিন নারী হলেন লিপি আক্তার (১৮), সুমি আক্তার (১৯) ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধা (২৪)।

শনিবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে মাদকের আইনে বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় তাদের কারাগারে পাঠিয়ে জামিন শুনানির দিন রোববার ধার্য করা হয়েছিল।

এদিন আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী মুহাম্মদ জুয়েল জামিন শুনানি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন বিমানবন্দর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুর রহমান।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন।

গত ১৯ জুন আসামিদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

ওই দিন নাসির উদ্দিন ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকেও সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ১৪ জুন দুপুরে সাভার থানায় মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।

মামলার পর অভিযানে নামে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের সদস্যরা।

ওই দিন রাতেই নাসির উদ্দিন আহমেদকে ওই তিন নারীসহ উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরে অমির বাসা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

অভিযানকালে ওই বাসা থেকে চার বোতল বিদেশি মদ, আট বোতল তরল সোডা, তিন ক্যান তরল সোডা ও এক হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

পরে ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার শিকদার বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করেন।

শেয়ার করুন

বিট কয়েন জালিয়াতির প্রশিক্ষণ দিতেন হামিম

বিট কয়েন জালিয়াতির প্রশিক্ষণ দিতেন হামিম

গ্রেপ্তার হামিম প্রিন্স খাঁন

র‍্যাব জানিয়েছে, এই চক্রের কয়েক হাজার সদস্য। প্রতি মাসে তারা বিট কয়েনের মাধ্যমে দেড় কোটি টাকা লেনদেন করেন। তারা অবৈধ সাইট থেকে পর্নোগ্রাফি ক্রয় করেন। এরপর সেগুলো বেশি অর্থের বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দেন।

রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে অবৈধ বিট কয়েন ক্রয়-বিক্রয় চক্রের অন্যতম হোতা হামিম প্রিন্স খাঁনসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, হামিম ২০১৩ সালে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কম্পিউটারের ওপর দক্ষতা লাভ করেন। এরপর নিজেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে বিট কয়েন জালিয়াতির প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলেন।

এই চক্রের কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে। প্রতি মাসে তারা বিট কয়েনের মাধ্যমে দেড় কোটি টাকা লেনদেন করতেন। তারা ভার্চুয়াল জগতের অবৈধ ডার্ক পর্নোসাইট থেকে পর্নোগ্রাফি ক্রয় করেন। এরপর সেগুলো বেশি অর্থের বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দেন।

রোববার দুপুরে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান বাহিনীর লিগাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, বিট কয়েন চক্রের অন্যতম হোতা হামিম প্রিন্স খাঁন। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- রাহুল সরকার, সঞ্জিব দে ওরফে তিতাস ও মো. সোহেল খান। তাদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ ও দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চক্রের সদস্যরা ভার্চুয়াল জগতে বা ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটে একাউন্ট খুলে বিট কয়েনসহ বিভিন্ন ভার্চুয়াল মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন। তারা মোবাইল ব্যাংকিং বা ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে বাংলাদেশি বেশ কিছু অসাধু ডোমেইন হোল্ডার ও ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে অর্থ লেনদেন করেন। তারা ভার্চুয়াল জগতের অবৈধ ডার্ক পর্নোসাইট থেকে পর্নোগ্রাফি ক্রয় করে। এরপর সেগুলো বেশি অর্থের বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিট কয়েনকে অত্যন্ত লাভজনক বলে প্রচারণা চালায়। এই প্রচারণার মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের অবৈধ লেনদেনে প্রলুব্ধ করে। আগ্রহীদের তারা অর্থের বিনিময়ে ক্রিপ্টো কারেন্সির ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এছাড়া ভার্চুয়াল মুদ্রা নিয়ে আগ্রহীদেরও নানাভাবে প্রলুব্ধ করে। তারা তাদের কাছ থেকে নেয়া কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গ্রুপের সঙ্গে এই চক্র জড়িত, আগ্রহীদের এই গ্রুপে যুক্ত করে তারা। সব মিলে এ গ্রুপে কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে। তারা প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেন করে।

বিট কয়েন জালিয়াতির প্রশিক্ষণ দিতেন হামিম


ইংরেজিতে বিএ পাস হামিম হয়ে ওঠেন জালিয়াতির প্রশিক্ষক

চক্রের অন্যতম হোতা হামিম প্রিন্স খাঁন ২০১৩ সালে ফরিদপুরের একটি কলেজ থেকে ইংরেজীতে বি.এ. (সম্মান) পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি ইউটিউবে ভিডিও দেখে কম্পিউটারের ওপর জ্ঞান নিতে থাকেন। পাশাপাশি একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলেন।

হামিম পরে ক্রিপ্টো কারেন্সির ওপর দক্ষতা লাভ করে ৫০ জনের বেশি প্রশিক্ষণার্থীকে বিট কয়েন লেনদেন প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বিট কয়েন ছাড়াও তিনি লিটকয়েন, ডগকয়েন, ইথারিয়াম, ব্রাস্ট, ন্যনো ইত্যাদি লেনদেনে জড়িত।

হামিম মূলত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ কার্যক্রম চালিয়ে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে অন্যের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে বিট কয়েন ক্রয় করে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। ভার্চুয়াল জগতে তার ১৫-১৬টি ওয়ালেট রয়েছে।

গ্রেপ্তার রাহুল সরকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে অধ্যয়নরত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামিমের সঙ্গে তার পরিচয়। পরে হামিমের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২০ সালের শেষদিকে তিনি বিট কয়েন লেনদেনে জড়িত হন। তার বিনান্স ওয়ালেটসহ বেশ কয়েকটি ওয়ালেট রয়েছে।

গ্রেপ্তার সঞ্জিব দে ওরফে তিতাস ফরিদপুরের স্থানীয় এক কলেজের শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের পর থেকেই হামিম তাকে লাভবান হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিট কয়েন লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি হামিমের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের নামে বিট কয়েনে ‘ক্লোনিক্স ওয়ালেট’ ও ‘বেটলেক্স ওয়ালেট’ নামে একাউন্ট খুলে অর্থ লেনদেন করে আসছিলেন।

গ্রেপ্তার সোহেল খান মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েভ ডেভেলপিং ও গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে অল্প কিছু অর্থ উপার্জন করতেন। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে চটকাদার বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পড়ে হামিমের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। পরে বিট কয়েনে নিজের নামে ওয়ালেট খুলে এই অবৈধ লেনদেন করে আসছিলেন।

অনলাইনে তার বিমান্স ওয়ালেটসহ বেশ কয়েকটি ওয়ালেট রয়েছে বলেও জানান র‍্যাবের লিগাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ দেশে বিট কয়েনের মাধ্যমে লেনদেন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। এটা অপরাধ হিসেবে ধরা হয়।

শেয়ার করুন