গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

ওই গৃহবধূর নাম সিহাবুন মুবিন মৌ। তাকে রোববার রাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

পারিবারিক কলহের জেরে রাজধানীর কাজীপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই গৃহবধূর নাম সিহাবুন মুবিন মৌ। তাকে রোববার রাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অগ্নিদগ্ধ মৌয়ের মামা শাহদাত নয়ন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ভাগনি ইফরান হাইউম নামে এক ছেলেকে পছন্দ করে বিয়ে করে। ওই ছেলের আগের পক্ষের একটা বউ আছে। আমার ভাগনিরও আগে একটা বিয়ে হইছিল। সেটা ডিভোর্স হয়ে গেছিল। ইফরান, তার আগের বউ ও বোন মিলে আমার ভাগনির শরীরে আগুন দিছে। এর পরে সে হাসপাতালে ভর্তি হইছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাগনির বাসা কাফরুল থানা এলাকায়। ইফরানের বাসা পড়েছে মিরপুর মডেল থানা এলাকায়। আমি মামলা করতে প্রথমে কাফরুল থানায় যাই। সেখান থেকে আমাকে মিরপুর মডেল থানায় পাঠানো হয়।’

মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই গৃহবধূর শরীরে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই নারীর মামা এসেছেন থানায়। তবে তিনি বাসার নম্বর ঠিকমতো বলতে পারছেন না।

‘প্রথমে আমাদের কাফরুল থানা থেকে জানিয়েছে। আমরা খোঁজ করছি। দেখি বাসা খুঁজে পাই কি না। না হলে ঢাকা মেডিক্যালে আমরা টিম পাঠাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘কে কীভাবে মৌয়ের শরীরে আগুন লাগিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
৩ মাস পর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী কারাগারে
যৌতুক: স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা
কৃষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর ওয়ারিতে র‍্যাবের অভিযানে মানব পাচারকারী সন্দেহে গ্রেপ্তারকৃতদের ৩ জন। পৃথক অভিযানে আরও ২ জনকে আটক করা হয়। ছবি:সংগৃহীত

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বেশ কিছুদিন ধরে পরস্পর যোগসাজসে সংঘবদ্ধভাবে ও প্রতারণা করে অবৈধ পথে বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে পতিতাবৃত্তি ও যৌন কাজে ব্যবহার করে আসছিল।

রাজধানীর ওয়ারিতে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য সন্দেহে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ সময় ১৬ ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওয়ারির রায়সাহেব বাজার মোড়ের নবাবপুর রোড এলাকার ‘দি নিউ ঢাকা বোডিং’ আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে ১০ জন ভিকটিমসহ মানব পাচারকারী চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১০।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জুবায়ের আহসান ও সজল বেপারী।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন ও ২ হাজার ৯৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া শুক্রবার আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে একই এলাকার হোটেল ইব্রাহীমে অপর একটি অভিযান চালিয়ে ৬ ভিকটিমসহ মানব পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জয়নাল মিয়া, জান মিয়া ও আরমান।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি মোবাইল ফোন ও ৫ হাজার ১৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি এনায়েত কবীর সোয়েব ঘটনা ২টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বেশ কিছুদিন ধরে পরস্পর যোগসাজসে সংঘবদ্ধভাবে ও প্রতারণা করে অবৈধ পথে বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে পতিতাবৃত্তি ও যৌন কাজে ব্যবহার করে আসছিল।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
৩ মাস পর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী কারাগারে
যৌতুক: স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা
কৃষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

গৃহকর্মীর গায়ে ফুটন্ত ভাত: জেলে বাড়িওয়ালার মেয়ে

গৃহকর্মীর গায়ে ফুটন্ত ভাত: জেলে বাড়িওয়ালার মেয়ে

প্রতীকী ছবি।

গত বুধবার গৃহকর্তার মেয়ে তানজিনা রহমান তার কাছে ভাত চেয়েছিলেন। ‘ভাত এখনো হয়নি, চুলায় রয়েছে’ জানালে তানজিনা ক্ষিপ্ত হয়ে চুলায় ফুটন্ত মাড়সহ ভাত নিয়াসার শরীরে ঢেলে দেন। মেয়েটির নির্যাতনের খবর প্রতিবেশীরা ৯৯৯-এ কল করে থানায় জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়াসাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসে।

রাজধানীর উত্তরায় নিয়াসা নামে এক গৃহকর্মীর গায়ে ফুটন্ত ভাতের মাড় ঢেলে দিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাড়িওয়ালার মেয়ে তানজিনা রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম আতিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাঞ্চন রায়হান আসামি তানজিনাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

এ সময় তানজিনার পক্ষে দুজন আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন।

নির্যাতনের শিকার ১৮ বছর বয়সী গৃহকর্মী নিয়াসার বাড়ি সিলেটের রূপনগর এলাকায়। তার বাবার নাম আরিকুল ইসলাম।

সংসারের অভাব-অনটনের কারণে গত এক বছর ধরে উত্তরা পশ্চিম থানার ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন নিয়াসা।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বুধবার গৃহকর্তার মেয়ে তানজিনা রহমান তার কাছে ভাত চেয়েছিলেন।

‘ভাত এখনো হয়নি, চুলায় রয়েছে’ জানালে তানজিনা ক্ষিপ্ত হয়ে চুলায় ফুটন্ত মাড়সহ ভাত নিয়াসার শরীরে ঢেলে দেন। এতে দগ্ধ হন নিয়াসা।

মেয়েটির নির্যাতনের খবর প্রতিবেশীরা ৯৯৯-এ কল করে থানায় জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়াসাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসে।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর বিকালে তাকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) রেফার করা হয়।

মেয়েটির শরীরের ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

বিষয়টি প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তিতে আমলে নিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে উত্তরার পশ্চিম থানায় পুলিশের করা একটি জিডিমূলে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার পুলিশ মামলা করে।

আরও পড়ুন:
৩ মাস পর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী কারাগারে
যৌতুক: স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা
কৃষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টে শতাধিক মরা মুরগি, আটক ৭

এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টে শতাধিক মরা মুরগি, আটক ৭

ছবি: সংগৃহীত

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অভিযানের সময় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার, মৃত মুরগির সাপ্লায়ার, রেস্টুরেন্টের বাবুর্চিসহ ৭ জনকে আটক করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে মুরগিগুলো রান্না করে তা ভোক্তাদের পরিবেশন করা হত। আটক অভিযুক্তদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউজের পাশে এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট থেকে ১১৯টি মরা মুরগি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় সাত জনকে আটক করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রেস্টুরেন্টটিতে এ অভিযান চালানো হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সাদা পোশাকের সদস্যরা মরা মুরগিগুলো হাতেনাতে আটক করে। দুপুর আড়াইটায় বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের একটি দল বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঢাকা কাস্টমস হাউজের পাশে অবস্থিত এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে ১১৯টি মুরগি আটক করে।’

জিয়াউল হক জানান, এ সময় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার, মৃত মুরগির সাপ্লায়ার, রেস্টুরেন্টের বাবুর্চিসহ ৭ জনকে আটক করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে মুরগিগুলো রান্না করে তা ভোক্তাদের পরিবেশন করা হত। আটক অভিযুক্তদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
৩ মাস পর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী কারাগারে
যৌতুক: স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা
কৃষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

‘ক্ষমতায় যেতে দিগ্বিদিকশূন্য বিএনপি’

‘ক্ষমতায় যেতে দিগ্বিদিকশূন্য বিএনপি’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নিজেরাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিএনপি ক্ষমতাপাগল, তারা এখন দিগ্বিদিকশূন্য। ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মোহে বিএনপি নেতারা এখন মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছেন। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তাদের চরিত্র এখন দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট।’

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা বিএনপি ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকায় নিজ বাসভবনে শনিবার সকালে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচনে বিজয়ের গ্যারান্টি দিলে নির্বাচন কমিশন তাদের ভাষায় নিরপেক্ষ আর তাদের পক্ষে রায় দিলেই বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিএনপি নেতাদের অপরাধ ও দুর্নীতির বিচার না করলে দুদক ভালো।

‘বিএনপি নিজেরাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিএনপি ক্ষমতাপাগল, তারা এখন দিগ্বিদিকশূন্য। ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মোহে বিএনপি নেতারা এখন মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছেন। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তাদের চরিত্র এখন দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট।’

বিএনপির সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতায় ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়, তারাই দেশকে অকার্যকর এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য। বিএনপিই বরং একের পর এক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত এবং বিশ্বসভায় সম্ভাবনাময় দেশ বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ পালন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের আগে কারা তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল দেশবাসী তা জানে। কারা হামলা ও এর পৃষ্ঠপোষক এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারা জড়িত তা ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট হয়েছে।

‘বিএনপি সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষক। তারা যতই অস্বীকার করুক সাম্প্রদায়িক অপশক্তির তোষণ নীতি থেকে বের হতে পারবে না। ২০১৩-১৪ সালে আগুন-সন্ত্রাস চালিয়ে এর দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছে বিএনপি। নিজেদের অপকর্ম ও ব্যর্থতা আড়াল করতে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো বিএনপির পুরোনো অভ্যাস।’

আরও পড়ুন:
৩ মাস পর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী কারাগারে
যৌতুক: স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা
কৃষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল আদালতে ৪০ দিনে হাজার শিশুর জামিন

ভার্চুয়াল আদালতে ৪০ দিনে হাজার শিশুর জামিন

ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে ৪০ দিনে জামিনে মুক্ত হয়েছে এক হাজার ১৭ শিশু। ফাইল ছবি

ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে ৪০ কার্যদিবসে সারাদেশের সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৫টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে ৬৩ হাজার ৭৫ জনকে জামিন দিয়েছেন। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে দেশে জারি করা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ৪০ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল আদালত থেকে ১ হাজার ১৭ শিশুকে জামিন দেয়া হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান শনিবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাকে সাইফুর রহমান বলেন, ‘কঠোর বিধিনিষেধের সময় বিগত ৪০ কার্যদিবসে দেশের বিভিন্ন আদালত থেকে ভার্চুয়ালি শুনানি করে ১ হাজার ১৭ শিশুকে জামিন দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থেকে তাদের মুক্তিও দেয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে ৪০ কার্যদিবসে সারাদেশের সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৫টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে ৬৩ হাজার ৭৫ জনকে জামিন দিয়েছেন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে দেশের সকল আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জরুরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য সীমিত পরিসরে কিছু কোর্ট খোলা রাখা হয়। যেখানে ভার্চুয়ালি শুনানি হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে কোর্ট সংখ্যা বাড়ানো হয়।

করোনার কারণে গত বছরের ২৬ মার্চ প্রথমে আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তার এক মাস পর ২৬ এপ্রিল ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ নেন প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী।

পরে ওই বছরের ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

এর দুই দিন পর ৯ মে ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সে বছরের ১০ মে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা প্রসঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ফুল কোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান বিচরপতির সভাপতিত্বে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন।

ফুলকোর্ট সভায় ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর আওতায় উচ্চ আদালত এবং নিম্ন আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুমোদিত হয়। পরে বিজ্ঞপ্তিত জারি করে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২০ সালের শেষের দিকে করোনা সংক্রমণ কমে আসলে ফের নিয়মিত আদালত শুরু হয়। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে আবারও আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে গত ১২ এপ্রিল থেকে ভার্চুয়াল আদালতে বিচার কাজ শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
৩ মাস পর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী কারাগারে
যৌতুক: স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা
কৃষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

‘বকশিশ আর টিপস আমাদের মজুরি’

‘বকশিশ আর টিপস আমাদের মজুরি’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে করোনাকালে পর্যটন খাতের বিপর্যয় তুলে ধরে শনিবার আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন।

‘বকশিশ আর টিপস দিয়ে নির্ধারণ করা হয় আমাদের মজুরি। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। মনে হয়, এ যেন বকশিশনির্ভর শিল্প।’

আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক রাশেদুর রহমান।

করোনাকালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাত হিসেবে উঠে এসেছে পর্যটন। দেশব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয় পর্যটন স্পটগুলো।

এমন অবস্থায় নিজেদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে করোনাকালে পর্যটন খাতের বিপর্যয় তুলে ধরে শনিবার আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন।

প্রস্তাবিত বাজেটে পর্যটন খাতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থকে অপ্রতুল মনে করে তা বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়।

রাশেদুর রহমান বলেন, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, এয়ারলাইনস, পর্যটক পরিবহন, ক্রুজিং, ট্যুর গাইড, বিচ হর্স রাইডার, বিচ ফটোগ্রাফার সার্ফিং অ্যাসিস্টেন্ট, বিচ রাইডার, ঝিনুকের কারুপণ্য বিক্রেতাসহ পর্যটন খাতের সাথে যুক্ত ১২টি উপখাতের ১১৯ ধরনের কাজের কর্মী ও ছোট-বড় ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা।

‘বকশিশ আর টিপস আমাদের মজুরি’
পর্যটনকে আলাদা মন্ত্রণালয় করার দাবি জানিয়েছে খাতসংশ্লিষ্টরা। ছবি: নিউজবাংলা

পর্যটনশিল্পের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে পর্যটনের একটি উপখাত পর্যটন পরিবহনের অংশ বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নামে বরাদ্দের ৮০ শতাংশের বেশি খরচ করা হয় বিমান রক্ষণাবেক্ষণে।

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে মোট ৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঘোষিত সাধারণ ছুটি আর বিধিনিষেধের ফলে ২০২০ সালে বাংলাদেশের পর্যটন খাত প্রায় ৫ মাস সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল, বাকি ৫ মাস চলেছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

সংগঠনটির নেতারা বলছেন, পর্যটন খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই সময়ে বরাদ্দকৃত বাজেটের ২ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু সে অর্থ বিমান আর পর্যটন করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটনের উন্নয়নে কোথায় ব্যয় হয়েছে তা পর্যটনসংশ্লিষ্টদের কাছে দৃশ্যমান নয়।

পর্যটনশিল্প-সংশ্লিষ্ট কোনো খাতের বিনিয়োগকারী, কিংবা শ্রমিক-কর্মচারী কেউ এক টাকাও সহায়তা পাননি বলে জানান সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন।

তিনি বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৪ হাজার ৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বাজেট বরাদ্দে পর্যটন খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ দক্ষ শ্রমিক-কর্মচারী যারা প্রায় বছরব্যাপী কর্মহীন হয়ে, বেতন ছাড়া বাধ্যতামূলক ছুটিতে থেকে উপার্জনহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

লিপন বলেন, ‘১৯৯৯ সালে পর্যটনকে আবশ্যকীয় শিল্প বলে উল্লেখ করা হলেও করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রায় সোয়া ১ লাখ কোটি টাকার প্যাকেজে পর্যটন খাতের স্থান হয়নি। বিমান মন্ত্রণালয় বিমানের ঘাটতি পূরণে বাজেট থেকে বরাদ্দ নিতে যে পরিমাণ ব্যস্ত থাকে, সে তুলনায় পর্যটনের বাকি খাতগুলো থাকে উপেক্ষিত।’

সংগঠনের পক্ষ থেকে দেয়া সাতটি দাবি হলো-

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে পর্যটনের জন্য স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন করা।

পর্যটন খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের শ্রম অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান শ্রম আইনের শিল্প তালিকায় উপঘাতসহ পর্যটনশিল্পকে যুক্ত করা এবং পর্যটন খাতে শ্রম আইনের বাস্তবায়ন করা।

পর্যটনকেন্দ্রিক জেলাসমূহে শ্রম আদালত, শ্রম পরিচালক ও শ্রম পরিদর্শকের দপ্তর চালু করা। মজুরি কাঠামো এবং বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মজুরি পুনর্নির্ধারণের পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট করা।

পর্যটন খাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে হোটেল-রেস্তোরাঁ আইন ২০১৪-এর বাস্তবায়ন এবং বিদেশি বা স্বজনপ্রীতি নয়, পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন বাংলাদেশিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রধিকার দেয়া।

করোনায় চরমভাবে বিপর্যস্ত পর্যটন খাতের পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা এবং পর্যটন শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা দিতে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ দেয়া।

করোনার টিকা প্রদানে সরাসরি পণ্য এবং সেবা উৎপাদনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেয়া।

যেকোনো দুর্যোগে পর্যটনশিল্প ও শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের অবসরকালীন নিরাপত্তায় ভবিষ্য তহবিল গঠন করা। রাষ্ট্রের সকল অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় পর্যটন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা।

আরও পড়ুন:
৩ মাস পর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী কারাগারে
যৌতুক: স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা
কৃষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

জবির বেঁচে যাওয়া অর্থে শিক্ষাবৃত্তি দেয়ার দাবি

জবির বেঁচে যাওয়া অর্থে শিক্ষাবৃত্তি দেয়ার দাবি

পরিবহন খাতে প্রতি মাসে ভাড়ায় চালিত বিআরটিসির বাস এবং নিজস্ব বাসের তেল, গ্যাস বাবদ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়। তবে করোনা মহামারির কারণে দেড় বছর ধরে এই ব্যয় সংকোচন হয়েছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাত নয়, এমন অনেক সেবা বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় সংকোচন হয়েছে। এসব খাতে বেঁচে যাওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয়ের দাবি উঠেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের পরিবহনসহ নানা খাতে বেঁচে যাওয়া অর্থে শিক্ষাবৃত্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাসহ অনেকেই।

পরিবহন খাতে প্রতি মাসে ভাড়ায় চালিত বিআরটিসির বাস এবং নিজস্ব বাসের তেল, গ্যাস বাবদ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়।

তবে করোনা মহামারির কারণে দেড় বছর ধরে এই ব্যয় সংকোচন হয়েছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাত নয়, এমন অনেক সেবা বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় সংকোচন হয়েছে। এসব খাতে বেঁচে যাওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয়ের দাবি উঠেছে।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সংক্রমণ রোধে ১৮ মার্চ থেকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ রয়েছে। চলছে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজকর্ম। তবে জুলাইয়ে বিভিন্ন বর্ষের আটকে থাকা পরীক্ষা সশরীরে হতে পারে। আগামী ১৩ জুন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জগন্নাথের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মেসে কিংবা ভাড়া বাসায় থাকেন। করোনাকালে অনেক শিক্ষার্থীই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু হলে নতুন করে ঢাকায় এসে মেস ভাড়া নেয়া, পরীক্ষা ফি, সেশন ফি দেয়াসহ নানা ধরনের খরচের মুখে পড়বেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫-এর ২৭(৫) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকার বা অন্যান্য বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত অনুদান বা আয় হইতে প্রয়োজনের নিরিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি বা ক্ষেত্রমতে উপবৃত্তি প্রদান করিতে পারিবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছাত্রনেতারা জানান, বিভিন্ন খাতের বেঁচে যাওয়া অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কাজে ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।

রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের বেঁচে যাওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও গবেষণা খাতে ব্যয় করা যেতে পারে। করোনার সময়ে শিক্ষার্থীরা গ্রামে চলে যাওয়ায় টিউশনি হারিয়েছে, আর্থিক সংকটে আছে। এখন যতজন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়, বৃত্তির সংখ্যাটা তার থেকে যদি আরও বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জবিশিস) সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আবদুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ফি মওকুফের জন্য বলা হবে।’

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে ইউজিসি থেকে অনুমোদন নিয়ে এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করতে পারে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ রায় বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে করোনার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্পূরক বৃত্তির ব্যবস্থা করতে দাবি জানিয়েছিলাম। যা-ই হোক, এখন যেহেতু ক্যাম্পাস খুলবে শিক্ষার্থীরা ঢাকায় আসবে মেস নেবে, আরও খরচ আছে। বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন খাতের বেঁচে যাওয়া অর্থ সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করতে পারে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্র অধিকার পরিষদের আবু বকর বলেন, ‘প্রশাসন চাইলেই বিভিন্ন খাতে খরচ না হওয়া অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো ইমদাদুল হক বলেন, ‘এসব ফান্ড করতে একা কোনো সিদ্ধান্ত তো নেয়া যায় না, সিন্ডিকেট মিটিং কিংবা কাউন্সিল মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আর আমি যোগদান করলাম তো বেশি দিন হয়নি। ফান্ডে কত টাকা আছে তাও জানি না।’

আরও পড়ুন:
৩ মাস পর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী কারাগারে
যৌতুক: স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা
কৃষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন