টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ছাত্রলীগে মারামারি

কবি নজরুল সরকারি কলেজে মারধরে আহত ছাত্রলীগ নেতা।

টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ছাত্রলীগে মারামারি

‘আমি একটি কাজে কলেজে গেছিলাম প্রিন্সিপাল ম্যাডামের কাছে। এতে চাঁদাবাজরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর হামলা করে। প্রথমে আমাকে জহিরুল ইসলাম রাকিব হামলা করে। এরপর চাঁদাবাজির সাথে জড়িতরা সবাই হামলা করে।’

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কবি নজরুল সরকারি কলেজে গাছ লাগানোর জন্য অধ্যক্ষের কাছ থেকে আনা টাকার ভাগাভাগি নিয়ে মারামারি হয়েছে কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে।

এতে আহত হয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শিমুল মোল্লা।

রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

তারা জানান, কলেজে গাছ লাগানোর জন্য টাকা নেয়া হয় অধ্যক্ষ আমেনা বেগমের কাছ থেকে। এ টাকার ভাগ ভাটোয়ারার সময় এসে উপস্থিত হন সহসভাপতি শিমুল।

শিমুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হলে প্রথমে কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রাকিব আমাকে ফুলের টব দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এ সময় পাশে থাকা সহসভাপতি সজল মজুমদার, উপ পাঠাগার সম্পাদক ইয়াসিন আল অনিক, সহসভাপতি ফারুক হোসেন সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন সাগর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সহসভাপতি রিফাত শিমুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে আমার মাথা ফেটে গেলে প্রথমে তাকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়। এতে মাথায় আটটি সেলাই লাগে।’

টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ছাত্রলীগে মারামারি

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জানান, গত দুই বছর ধরে কলেজের আশপাশের ফুটপাত থেকে শুরু করে কলেজের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দিয়ে টাকা আদায় করে আসছেন ছাত্রলীগের নেতারা।

কলেজ ছাত্রলীগের একাধিক পদ প্রত্যাশী জানান, গত রোজার ঈদে এই সিন্ডিকেট অধ্যক্ষের কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা নিয়েছিল। সে টাকার ভাগ খুঁজতে গেলে সহসভাপতি টুটুল আরেক সহসভাপতি হিমুর উপর হামলা করে কলেজ থেকে বের করে দেয়।

কিছুদিন আগেও কলেজ সাজাতে রং করানোর কাজ পাওয়া ঠিকাদারের কাছ থেকেও টাকা নেয়া হয় জোর করে। সে টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়েও ঝামেলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের ঘটনা।

ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য থাকা অবস্থায় শিমুল বলেন, ‘আমি একটি কাজে কলেজে গেছিলাম প্রিন্সিপাল ম্যাডামের কাছে। এতে চাঁদাবাজরা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হামলা করে। প্রথমে আমাকে জহিরুল ইসলাম রাকিব হামলা করে। এরপর চাঁদাবাজির সাথে জড়িতরা সবাই হামলা করে।’

শিমুল যাকে অভিযুক্ত করছেন তাদের একজন কলেজ ছাত্রলীগের উপ-পাঠাগার সম্পাদক ইয়াসিন আল অনিক বলেন, ‘আজ ক্যাম্পাসে একটি মারামারি হয়।’

টাকা ভাগাভাগির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার সামনেই শিমুলকে রাকিবসহ অন্যান্যরা মেরেছে।’

নিজে জড়িত ছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।

আরেক অভিযুক্ত ফারুক বলেন, ‘হামলা করেছে জহিরুল ইসলাম রাকিব।’

নিজে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ আমেনা বেগম চাঁদাবাজির কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এমন একটি ঘটনা শুনেছি। একজন ছেলে নাকি আহতও হয়েছে। তবে আমি অফিস থেকে নেমে কাউকে পাইনি। আগামি কাল অফিসে গিয়ে ঘটনা জেনে তদন্ত কমিটি করে দেব।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের উপস্থিতিতে পণ্ড হল চালুর বিক্ষোভ
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা
জীবন পাল্টে যাচ্ছে রিকশা চালানো ছাত্রলীগের ফারুকের
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ঘুষের ৮০ লাখ টাকা’: ডিআইজি পার্থের জামিন

‘ঘুষের ৮০ লাখ টাকা’: ডিআইজি পার্থের জামিন

সিলেটের সাময়িক বরখাস্ত কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিক। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৯ সালের ২৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুদকের সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফের নেতৃত্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পার্থ গোপাল বণিককে। ঘুষ ও দুর্নীতির কয়েক লাখ নগদ টাকা তার বাসায় রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পার্থ গোপাল বণিকের বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৮০ লাখ টাকা জব্দ এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজধানীর নর্থ রোডের (ভূতেরগলি) ফ্ল্যাট থেকে ৮০ লাখ টাকা জব্দের দুর্নীতির মামলায় সাময়িক বরখাস্ত সিলেটের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিককে জামিন দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেনের ভার্চুয়াল আদালতে শুনানি করে তার জামিনের আনুমোদন করেন।

শনিবার দুদকের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মো. জুলফিকার নিউজবাংলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

ওইদিন পার্থ গোপালের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন (অস্থায়ী) জামিনের এ আদেশ দেন।

গত বছর গত ৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।

এরপর ১৫ ডিসেম্বর এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়৷

গত বছর ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ডিআইজি প্রিজনস পার্থের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন।

ওই অভিযোগপত্রে মোট ১৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, পার্থ গোপালের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৮০ লাখ টাকার কোনো বৈধ উৎস তিনি তদন্ত কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে দেখাতে পারেননি।

অর্থাৎ তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ৮০ লাখ টাকা বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ, ‍দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপার্জন করে অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে নিজ বাসায় লুকিয়ে রেখেছেন মর্মে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালে তিনি ৩১,২৫০ টাকা বেতন স্কেলে কারা উপ-মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

তার এই বেতন স্কেলের সঙ্গে এতো টাকা অর্থ উপার্জন অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি তার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তা উত্তোলন করেননি বা তিনি কখনও এই অর্থ আয়কর বিবরণীতেও দেখাননি।

যা দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

২০১৯ সালের ২৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুদকের সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফের নেতৃত্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পার্থ গোপাল বণিককে।

ঘুষ ও দুর্নীতির কয়েক লাখ নগদ টাকা তার বাসায় রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পার্থ গোপাল বণিকের বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ৮০ লাখ টাকা জব্দ এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা মো. সালাউদ্দিন তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সিলেটে দায়িত্ব পালনের আগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে দায়িত্ব পালন করেন পার্থ গোপাল বণিক।

চট্টগ্রাম কারাগারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাকে এবং চট্টগ্রামের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

তারপরই অভিযানে যায় কমিশন।

পরে ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পার্থ গোপাল বণিককে গ্রেফতারের দিন থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের উপস্থিতিতে পণ্ড হল চালুর বিক্ষোভ
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা
জীবন পাল্টে যাচ্ছে রিকশা চালানো ছাত্রলীগের ফারুকের
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ভল্টের টাকা উধাও: ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ভল্টের টাকা উধাও: ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

আসামি দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার শুক্রবারই দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বংশাল থানা পুলিশ।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা ব্যাংক বংশাল শাখার সিনিয়র ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক ও ম্যানাজার অপারেশন এমরান আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

আসামি দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার শুক্রবারই দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বংশাল থানা পুলিশ।

কারাগারে আটক রাখার পুলিশের আবেদনে বলা হয়, আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল। বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল ও কম পায়।

‘ব্যাংকের ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে অডিট টিম টাকা গরমিলের হিসাব বিবরণী দাখিল করে। আবু বক্কর সিদ্দিক অডিট টিমের হিসাব বিবরণীর ভিত্তিতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।’

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঢাকা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আইসিসি ডিভিশনের ইন্টারন্যাল অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন ইউনিটের একটি দল বার্ষিক নিরীক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৭ জুন ব্যাংকটির বংশাল শাখা পরিদর্শনে যায়। এ সময় ভল্টে থাকা নগদ টাকার মধ্যে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে পরিদর্শনকারী দলের কর্মকর্তারা সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ ইনচার্জ) রিফাতুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি এবং ম্যানেজার (অপারেশন) এমরান আহম্মেদ লোভের বশবর্তী হয়ে গত বছরের ২০ জুন থেকে চলতি বছরের ১৬ জুন পর্যন্ত ওই টাকা অল্প অল্প করে সরিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রিফাতুল হক ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর ক্যাশ ইনচার্জ হিসেবে যোগ দেন ওই ব্যাংকে। সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ ইনচার্জ) রিফাতুল হক এবং এফভিপি ও ম্যানেজার (অপারেশন) এমরান আহম্মেদের কাছে ভোল্টের একটি চাবি থাকতো। তারা যৌথভাবে ভল্টের রক্ষক। তারা পরস্পর যোগসাজশে এ টাকা আত্মসাৎ করেন।

ভল্টের টাকা জুয়ায়

আশ্চর্যজনক, বিশ্বাসযোগ্য না হলেও স্বীকারোক্তিতে এটিই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে খেলা হয়েছে জুয়া। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বংশাল শাখার ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাতুল হক জিজ্ঞাসাবাদে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন পুলিশ।

ঢাকা ব্যাংক বংশাল শাখার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক জানান, ২০১৮ সাল থেকে ব্যাংকের ক্যাশে হাত দেয়া শুরু। সময় সুযোগ বুঝে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেয়া হয় বড় অঙ্কের অর্থ। গেল ১৭ জুন ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওঠে আসে টাকা সরানোর ঘটনা।

অডিট কমিটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে বলা হয়, ভল্টে রাখা ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকার নোট দিয়ে বাকি নোট সরিয়ে নেয়া হয়। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে একাই এই কাজ করতেন রিফাতুল। খরচ করতেন জুয়ার আসরে।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের উপস্থিতিতে পণ্ড হল চালুর বিক্ষোভ
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা
জীবন পাল্টে যাচ্ছে রিকশা চালানো ছাত্রলীগের ফারুকের
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ঢাকা ব্যাংকের ভল্টের টাকা জুয়ায়

ঢাকা ব্যাংকের ভল্টের টাকা জুয়ায়

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে গায়েব হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যাংক কর্মকর্তাই স্বীকার করেছেন, ধারাবাহিকভাবে টাকা তুলে জুয়ার বিনিয়োগ করেন তিনি।

টাকা সংরক্ষণের জন্য মানুষের নিরাপদ স্থান ব্যাংক। কষ্টার্জিত আমানত ভল্টেই রাখা হয়। কিন্তু সেই ভল্ট কি নিরাপদ? দেখা যাচ্ছে ভল্ট থেকে হাওয়া হচ্ছে টাকা। আর এই কাজে যুক্ত হচ্ছে খোদ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। এই অর্থ নিয়ে খেলা হচ্ছে জুয়া, যা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে গায়েব হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যাংক কর্মকর্তাই স্বীকার করেছেন, ধারাবাহিকভাবে টাকা তুলে জুয়ার বিনিয়োগ করেন তিনি।

শুধু বংশাল শাখাই নয়, এর আগে গেল বছর প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহীর শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে সরিয়ে ফেলেন ৩ কোটি ৪৫ কোটি টাকা। তিনিও পুলিশি জেরায় স্বীকার করেন, একটি অ্যাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়িচক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। সেখানেই এই অর্থ খোয়া গেছে।

ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমরানুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকের ইন্টারনাল অডিটে এটা ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শাখায় ইন্টারনাল অডিটে ক্যাশ কম পাওয়া যায়। পরে আবারও ইনভেস্টিগেশন করা হয়।

‘পৌনে ৪ কোটি টাকার মত কম ছিল। এরপর দায়িত্বে থাকা ক্যাশ-ইনচার্জের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রাথমিকভাবে ক্যাশ সরিয়ে ফেলার বিষয় স্বীকার করেন। ব্রাঞ্চের ক্যাশ-ইনচার্জ ও ম্যানেজার (অপারেশন) দুইজনকে থানায় দেয়া হয়েছে। এ দুইজনের কাছে ভল্টের চাবি থাকে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তারা টাকা সরানো একটা বিপজ্জনক প্রবণতা। আমানতকারীদের অর্থ সরিয়ে তারা বিনিয়োগ করবে এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য না। এটা বন্ধ করতে হবে। যারা এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের অতিসত্ত্বর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিলে হবে না। অভিযুক্ত কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্ত এটা সমাধান নয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে জেল-জরিমানা করতে হবে।

‘একের পর এক এসব ঘটনা ঘটছে মানে এতে বোঝা যায় অধিকাংশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খুব দুর্বল। সুপারভিশন ও মনিটরিংও ঠিকমতো হয় না। যে যার মতো ছেড়ে দিয়েছে। জনগণের টাকা নিয়ে এ ধরনের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা মোটেও ঠিক না।’

জুয়ায় ঢাকা ব্যাংকের টাকা

আশ্চর্যজনক, বিশ্বাসযোগ্য না হলেও স্বীকারোক্তিতে এটিই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে খেলা হয়েছে জুয়া। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বংশাল শাখার ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাতুল হক জিজ্ঞাসাবাদে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন পুলিশ।

ঢাকা ব্যাংক বংশাল শাখার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক জানান, ২০১৮ সাল থেকে ব্যাংকের ক্যাশে হাত দেয়া শুরু। সময় সুযোগ বুঝে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেয়া হয় বড় অঙ্কের অর্থ। গেল ১৭ জুন ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওঠে আসে টাকা সরানোর ঘটনা।

অডিট কমিটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে বলা হয়, ভল্টে রাখা ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকার নোট দিয়ে বাকি নোট সরিয়ে নেয়া হয়। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে একাই এই কাজ করতেন রিফাতুল। খরচ করতেন জুয়ার আসরে।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

জুয়ায় গেছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের টাকাও

গেল বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা উধাওয়ের আরও একটি ঘটনা ঘটে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহীর শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরাতেন। ভল্টে সব সময় প্রায় ১৫ কোটি টাকা থাকতো। তিনি টাকার বান্ডেলের সামনের লাইন ঠিক রেখে পেছনের লাইন থেকে টাকা সরাতেন, যাতে কারও সন্দেহ না হয়। এভাবে তিনি ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে সরিয়ে ফেলেন।

এরপর এই টাকা দিয়ে শামসুল জুয়া খেলেন। একটি অ্যাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়িচক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। জবানবন্দিতে তখন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, লোভে পড়ে তিনি ২০১৮ সাল থেকে কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে জুয়া খেলতে শুরু করেন।

পিছিয়ে নেই অন্য ব্যাংকও

কিছু দিন আগে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে ওই ব্যাংকের একজন আইটি অফিসারের ২ কোটি ৫৭ লাখ সরিয়ে ফেলেন। ব্যাংকের ইন্টারনাল ও পুলিশি তদন্তে জানা যায়, তিন বছরে ৬৩৭টি অ্যাকাউন্টের ১৩৬৩টি লেনদেনের মাধ্যমে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কিন্তু ধরা পড়ার আগেই ওই কর্মকর্তা দেশের বাইরে চলে যান। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মোট ৬ জনকে আসামি করে মামলা করে। ওই ঘটনার চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বড় অঙ্কের অর্থ জুয়ায় ব্যবহার হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভল্টের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জুয়ার এমন নেশায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে, রক্ষক ভক্ষক হলে কোথায় যাবে মানুষ। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের হাতেই ব্যাংকের টাকা এখন নিরাপদ নয়।

শুধু জুয়াতেই বিনিয়োগ নয়, ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভল্টের অর্থ তছরুপের ঘটনা ঘটে। নিরীক্ষাতে এমন অনিয়ম অহরহ উঠে আসছে।

টাকা নিয়ে গ্রাহকের উদ্বেগ

একের পর এক বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা খোয়া যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমানতকারীরা। তারা বলছেন, ব্যাংকের ভল্টে যদি টাকা সুরক্ষিত না থাকে তাহলে তারা টাকা কোথায় রাখবেন!

ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে লোপাট করা টাকা গ্রাহকের আমানত। তাই যেসব গ্রাহক এই ব্যাংকে অর্থ জমা রেখেছেন, তাদের অর্থ পেতে সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে ব্যাংক। তারপরেও গ্রাহকের উদ্বেগের শেষ নেই।

ঢাকা ব্যাংকের এমডি এমরানুল হক বলেন, ‘খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কারণ, টাকা তো উদ্ধার করতে হবে। যারা এ টাকা নিয়েছে তাদেরকে এ টাকা ফেরত দিতে হবে। যতদিন না পাওয়া যাবে, ততদিন প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে।’

ঢাকা ব্যাংকে কমিটি গঠন রোববার

কীভাবে, কতদিনে এত টাকা সরানো হয়েছে সে বিষয়ে একটি কমিটি করবে ঢাকা ব্যাংক। ব্যাংকের এমডি এমরানুল হক বলেন, ‘এটা এখন আইনিভাবেই এগিয়ে গেছে। ক্রিমিনাল কেস সুতরাং, পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যাংক থেকে একটা তদন্ত কমিটি করা হবে।

‘বৃহস্পতিবারের ঘটনা কিন্তু পরের দুইদিন শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন। রোববারে কমিটি করা হবে। এজন্য কয়েকদিন সময় লাগবে। কমিটি গঠন করার পর পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের উপস্থিতিতে পণ্ড হল চালুর বিক্ষোভ
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা
জীবন পাল্টে যাচ্ছে রিকশা চালানো ছাত্রলীগের ফারুকের
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

জানালার পাশে চুপচাপ বৃষ্টি দেখার দিন আজ ঢাকায়

জানালার পাশে চুপচাপ বৃষ্টি দেখার দিন আজ ঢাকায়

রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে আয়েশি সময় কাটছে অনেকের। ছবি: নিউজবাংলা

ছুটির আয়েশি দিনে তাই বেশির ভাগ মানুষের সময় কাটছে ঘরের ভেতরে। উপভোগ করছেন বর্ষার নান্দনিক রূপ। আবহাওয়া অফিস বলছে, এমন বৃষ্টি চলতে পারে আরও একদুই দিন। সেই সঙ্গে ভারী বর্ষণ হতে পারে দেশের চারটি বিভাগে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন, অফিসে ছোটার তাড়া নেই। তার মধ্যে ভোর থেকে ঢাকায় ঝরছে বৃষ্টি। একটানা এই বর্ষণ কখনও খানিকটা ভারী, কখনও মাঝারি, আবার কখনও মৃদুমন্দ। বুধবার আষাঢ় শুরুর পর এই প্রথম দিনভর টানা বৃষ্টিতে ভিজছে রাজধানী।

ছুটির আয়েশি দিনে তাই বেশির ভাগ মানুষের সময় কাটছে ঘরের ভেতরে। উপভোগ করছেন বর্ষার নান্দনিক রূপ।

আবহাওয়া অফিস বলছে, এমন বৃষ্টি চলতে পারে আরও একদুই দিন। সেই সঙ্গে ভারী বর্ষণ হতে পারে দেশের চারটি বিভাগে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, এমন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আরও একদিন স্থায়ী হবে। এরপর কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে সারা দেশেই এখন কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। আরও দুদিন এমন বৃষ্টি হওয়ার পর আবার একটু কমতে থাকবে। তারপর আবার আষাঢ়ের রূপ ফিরতে থাকবে নগরে।’

ঢাকায় সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশেই হচ্ছে বৃষ্টি। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ঈশ্বরদীতে ১৬৪ মিলিমিটার।

এ বছর গত ৩০ বছরের গড় বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এবার আমরা যেমন বৃষ্টি আগে থেকে আশা করেছিলাম সেটি পাব। গড় বৃষ্টিপাত ৪৩৫ মিলিমিটারের বেশি বা কাছাকাছি থাকতে পারে। আষাঢ়ে এমন বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।’

জানালার পাশে চুপচাপ বৃষ্টি দেখার দিন আজ ঢাকায়

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের উপস্থিতিতে পণ্ড হল চালুর বিক্ষোভ
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা
জীবন পাল্টে যাচ্ছে রিকশা চালানো ছাত্রলীগের ফারুকের
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

অমির ২ সহযোগীর জামিন

অমির ২ সহযোগীর জামিন

১৫ জুন তুহিন সিদ্দিকী অমির দুটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ২ শতাধিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। পাসপোর্ট জব্দের পর অমিসহ তিন জনের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় পাসপোর্ট আইনে মামলা হয়।

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি তুহিন সিদ্দিকী অমির দুই সহযোগী বাছির মিয়া ও মশিউর রহমানকে জামিন দিয়েছে আদালত।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মন্ডলের আদালত শুনানি শেষে জামিনের আদেশ দেন।

এ দিন দুই দিনের রিমান্ড শেষে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় দক্ষিণখান থানায় করা পাসপোর্ট আইনে মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন।

আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। যা তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই করা হচ্ছে। তবে ভিসাবিহীন পাসপোর্টগুলোর উৎস বা সরবরাহকারী সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নাই। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আসামিদের পক্ষে ঢাকা বারের সভাপতি আবদুল বাতেন জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

শুনানি শেষে আদালত ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় তাদের জামিনের আদেশ দেন।

গত ১৬ জুন এ দুই আসামির দুই দিন করে রিমান্ড দেয় আদালত।

এর আগে গত ১৫ জুন তুহিন সিদ্দিকী অমির দুটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ২ শতাধিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। পাসপোর্ট জব্দের পর অমিসহ তিন জনের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় পাসপোর্ট আইনে মামলা করেন সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের উপস্থিতিতে পণ্ড হল চালুর বিক্ষোভ
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা
জীবন পাল্টে যাচ্ছে রিকশা চালানো ছাত্রলীগের ফারুকের
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেলের বাসার গেটে সন্তান কোলে পুত্রবধূ

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেলের বাসার গেটে সন্তান কোলে পুত্রবধূ

শনিবার বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাসান আরিফের ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডের ২৩ নম্বর বাসার সামনে ১২ দিন বয়সী অসুস্থ কন্যাকে নিয়ে অপেক্ষা করেন নিলা। এরপরও কেউ গেটের তালা না খুললে ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফের পুত্রবধূ নিলা আরিফ শিশুসন্তান কোলে নিয়ে তিন ঘণ্টা গেটে অপেক্ষা করেও বাসায় ঢুকতে পারেননি। একনজর দেখতেও পাননি তার প্রথম সন্তানের মুখ, যে শিশুকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন নিলা।

শনিবার বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাসান আরিফের ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডের ২৩ নম্বর বাসার সামনে ১২ দিন বয়সী অসুস্থ কন্যাকে নিয়ে অপেক্ষা করেন নিলা। এরপরও কেউ গেটের তালা না খুললে ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি।

নিউজবাংলার কাছে অভিযোগ করে নিলা বলেন, ‘আমার দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে তারা (হাসান আরিফের পরিবার) আটকে রেখেছে। তাকে দেখার জন্যই সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ বাসায় ঢুকতে দেননি। পরে বাসার নিরাপত্তা প্রহরীর মাধ্যমে ইন্টারকমে ১৫ থেকে ২০ বার ফোন করা হয়েছে। তাতেও তাদের মন গলেনি।

‘তারা আমার বড় মেয়েকে দেখতে দেননি। আমি বারান্দাতে অনেকক্ষণ তাকিয়েছিলাম একনজর দেখার জন্য। সে ব্যবস্থাও করেননি তারা। দারোয়ান দিয়ে মুখের ওপর না করে দিয়েছেন। পরে ক্যামেরা দেখে একটি ছেলেকে পাঠিয়ে বলেছেন মেয়েকে দেখতে চাইলে কোর্টে যেতে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে বাসার গেটে তালা মেরে রেখেছিলেন। গেটের ভেতরেই ঢুকতে দিচ্ছিলেন না। পরে লোকজন ও ক্যামেরা দেখে ইন্টারকম পর্যন্ত গিয়েছিলাম। তারপরও তারা দেখা দেননি। কন্যাকেও দেখাননি।’

নিলা অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা সবাই বাসায়ই আছেন। অথচ পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না।’

গত বুধবার রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় স্বামী মোয়াজ আরিফ, শ্বশুর হাসান আরিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন নিলা আরিফ।

মামলায় তিনি বলেছেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী মোয়াজ আরিফ, শ্বশুর হাসান আরিফ, শাশুড়ি পারভীন আরিফ ও ননদ উম্মে হানি তার ওপর নির্যাতন করতেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জেল খাটিয়েছেন। তার দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে আটকে রেখে নির্যাতন করেছেন। নবজাতক দ্বিতীয় কন্যাসন্তান নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।

মামলায় তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে আমার পেটে লাথি মেরে তিন মাসের একটা বাচ্চা মেরে ফেলেছেন, যা আমাকে ডিঅ্যান্ডসি করতে হয়েছে। আমাকে নির্যাতন করে চুল কেটে দিয়েছেন। আমার গাড়িসহ সবকিছু আটকে রেখেছেন। আমার সিম, মোবাইল ফোন ও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছেন। আমাকে ও আমার দ্বিতীয় কন্যাসন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।’

এ বিষয়ে জানতে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। মোয়াজ আরিফের মোবাইলে ফোন করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এর আগে বিকেল ৫টার দিকে নিলা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডের ২৩ নম্বরে আমার শ্বশুরবাড়ি। বেলা ৩টা থেকে সেখানে অবস্থান করছি, কিন্তু গেটে তালা। ভেতরে ঢুকতে পারছি না। আপনেরা সাংবাদিক, আমার জন্য কিছু করেন।’

মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়াছিন আলী শনিবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তদন্ত চলছে। প্রধান আসামি মোয়াজ আরিফের বাসায় অভিযান চালিয়েছি। তাকে পাওয়া যায়নি।’

মোয়াজ আরিফের যে মামলায় জেল খাটেন অন্তঃসত্ত্বা নিলা

গত ২৮ এপ্রিল নিলার বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন মোয়াজ আরিফ। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা নিলা এক মাস চার দিন জেল খাটেন। কারাগারেই নিলার দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। গত ৭ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান।

নিলা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি যাতে তাদের পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খুলতে না পারি, সে জন্যই তারা কৌশলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে আমার শ্বশুরের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক দিনের মধ্যেই আমাকে গ্রেপ্তার করান। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে না নিয়েই কারাগারে পাঠান।

‘এখন তারা নতুন করে হুমকি দিচ্ছেন। বলছেন, মামলার চার্জশিট দিলে নাকি আমার ১০ বছরের জেল হবে। এই হুমকি আইনজীবী ও বিভিন্ন মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে।’

নিলার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার এসআই মিলন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে মোয়াজকে মারধরের তথ্য পাওয়া গেছে। মেডিক্যাল সার্টিফিকেট পাওয়া গেলে আদালতে চার্জশিট দেয়া হবে।’

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফের ছেলে মোয়াজ আরিফ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গত ২৮ এপ্রিল নিউমার্কেট থানায় মামলাটি করেন।

এজাহারে তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে মাধবী আক্তার ওরফে নিলা ইসরাফিলকে বিয়ে করেন। তারপর জানতে পারেন, তিনি নিলার তৃতীয় স্বামী। বিয়ের পর নিলার বদমেজাজী চেহারা ফুটে ওঠে। প্রতিনিয়ত টাকার জন্য সে চাপ দিতে থাকে। না দিলে শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে।

‘এমনকি সে আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতাকেও অপমান-অপদস্থ করে। এমন পরিস্থিতিতে ৮১ বছরের বৃদ্ধ বাবা ও ৭০ বছর বয়সী মা ধানমন্ডির বাসায় চলে যান। এতে আমার ওপর নিলার নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। বাসার গৃহকর্মীদেরও অসংখ্যবার মেরে রক্তাক্ত করে সে। তার টাকার চাহিদা পূরণ করতে না পারলে দুই বছর দুই মাস বয়সী কন্যাকেও মেরে আহত করে।’

মোয়াজ আরিফ আরও অভিযোগ করেন, নিলা ২৮ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে বাসার গৃহকর্মীদের নির্যাতন করতে থাকলে তিনি বাধা দেন। এতে নিলা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে একটি ছোরা নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চোখে আঘাত করেন। পরে বাসায় থাকা গৃহকর্মীদের সহায়তায় উদ্ধার হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

মধ্যরাতে হাইকোর্টের আদেশে বাবার বাড়ি ফিরেছিল দুই শিশু

গত বছরের ৩ অক্টোবর মধ্যরাতে আদালতের নির্দেশে বাসায় ফিরেছিল সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কে এস নবীর দুই নাতি।

এ ব্যাপারে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ পরদিন জানান, ধানমন্ডিতে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কে এস নবীর রেখে যাওয়া চারতলা বাড়িতে ঢুকতে পারছিলেন না তার দুই নাতি কাজী আদিয়ান নবী ও কাজী নাহিয়ান নবী।

ভাতিজাদের বাবার বাড়িতে ঢুকতে দেননি বড় চাচা কাজী রেহান নবী। পরে ফুফু যোগাযোগ করেন থানায়। সেখানে সহযোগিতা পাননি। পরে একাত্তর টিভির এক অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। সেই অনুষ্ঠান দেখেই আদালতের আদেশ আসে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকরাম মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা রাতেই কোর্টের আদেশ পেয়ে দুই শিশুকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি। আদালতকেও এ বিষয়ে অবহিত করেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের উপস্থিতিতে পণ্ড হল চালুর বিক্ষোভ
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা
জীবন পাল্টে যাচ্ছে রিকশা চালানো ছাত্রলীগের ফারুকের
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ঘরে বাবা মা বোনের লাশ, বড় মেয়ে আটক

ঘরে বাবা মা বোনের লাশ, বড় মেয়ে আটক

রাজধানীর কদমতলীর মুরাদপুর এলাকা থেকে স্বামী, স্ত্রী ও মেয়ের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

কদমতলীর উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে জানান, সকালে মেহেজাবিন নিজেই ৯৯৯ এ ফোন করেন। তিনি জানান, তার পরিবারের সদস্যরা গুরুতর অসুস্থ। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে কদমতলী থানা পুলিশ।

রাজধানীর কদমতলীর মুরাদপুর হাজী লাল মিয়া সরকার রোড এলাকা থেকে স্বামী, স্ত্রী ও মেয়ের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন ৫০ বছর বয়সী মাসুদ রানা। এই সৌদি প্রবাসী ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। অপর দুজন মাসুদের স্ত্রী মৌসুমি ইসলাম এবং তাদের ছোট মেয়ে ২১ বছর বয়সী জান্নাতুল মহিনী।

হত্যায় জড়িত সন্দেহে মাসুদ রানার বড় মেয়ে মেহেজাবিন মুনকে আটক করেছে পুলিশ।

কদমতলীর উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে জানান, সকালে মেহেজাবিন নিজেই ৯৯৯ এ ফোন করেন। তিনি জানান, তার পরিবারের সদস্যরা গুরুতর অসুস্থ। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে কদমতলী থানা পুলিশ।

অভিযুক্ত মেহেজাবিনের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও ৫ বছরের সন্তান তিপ্তকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, শুক্রবার রাতে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তিনজনকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা মরদেহগুলো হাত পা বাঁধা অবস্থায় পেয়েছি। মাসুদ রানার বড় মেয়েই (মেহেজাবিন) তাদের হত্যা করেছে। তাকে আটক করা হয়েছে।’

মহানগর পুলিশের ওয়ারি বিভাগের ডিসি শাহ ইফতেখার জানান, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে মেহজাবীন মুন। মা-বাবাসহ ছোট বোনকে হত্যা করে ৯৯৯ এ ফোন দেন তিনি। মুন থাকেন আলাদা বাসায়। এখানে মায়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের উপস্থিতিতে পণ্ড হল চালুর বিক্ষোভ
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা
জীবন পাল্টে যাচ্ছে রিকশা চালানো ছাত্রলীগের ফারুকের
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন