ছাত্রলীগের উপস্থিতিতে পণ্ড হল চালুর বিক্ষোভ

ছাত্রলীগ উপস্থিত হলে রাজু ভাস্কর্য থেকে সরে যান বিক্ষোভকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্রলীগের উপস্থিতিতে পণ্ড হল চালুর বিক্ষোভ

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সাড়ে ১১টায় ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তারা সেখানে প্রোগ্রাম করবে বলে জানায়। তারপর আমরা সরে আসি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে হল চালুর দাবিতে অবস্থান নেয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হলে আন্দোলনরত অন্য শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্য এলাকা ছেড়ে চলে যান।

তবে ওই সময় সংঘর্ষ অথবা অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

শিক্ষার্থীরা জানান, রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে তারা রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেয়। একই সময় ভিন্ন ব্যানার নিয়ে উপস্থিত হন ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতা-কর্মী। ছাত্রলীগের অবস্থান ও গতিবিধি দেখে চলে যেতে বাধ্য হন অন্য শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সাড়ে ১১টায় ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তারা সেখানে প্রোগ্রাম করবে বলে জানায়। তারপর আমরা সরে আসি।’

ছাত্রলীগ যে ব্যানার নিয়ে সমাবেশ করতে এসেছিল, তাতে লেখা ছিল, ‘মাদক, সন্ত্রাস ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাবেশ’। আয়োজক হিসেবে দেখানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

হঠাৎ কর্মসূচি পালন সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন সম্পাদক সাকিব আল হাসান বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে কর্মসূচি তো আর ঘোষণা দিয়ে হবে না। এসব কর্মসূচি যেকোনো সময় করা যায়।’

জিয়া হল ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘কর্মসূচি পূর্বঘোষিত কি না জানি না। কর্মসূচির আহ্বায়ক ছিলের তানজীন আল আমিন। তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

ঘটনা সম্পর্কে জানতে এএফ রহমান হল ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক তানজীন আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই কর্মসূচি পূর্বঘোষিত ছিল না। আমরা হঠাৎ এসেছি।’

হল খোলার আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি না; এ রকম কিছু না।’

জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সত্যজিৎ দেব নাথ বলেন, ‘এটি পূর্বঘোষিত কর্মসূচিই ছিল। আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) হয়তো জানেন না।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা তাদের (ছাত্রলীগ) বলি, এটা আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি। আমরা স্বল্প সময় কথা বলেই মিছিল নিয়ে চলে যাব। কিন্তু সে বিষয়ে সম্মতি দেননি। উল্টো আমাদের জানান, ‘আমাদের ভিসি স্যারের অনুমতি আছে। আমরা এখনই কর্মসূচি পালন করব।’”

আসিফ জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজু ভাস্কর্য থেকে সরে যান। এরপর টিএসসির বাইরে অপেক্ষা করেন। ছাত্রলীগ নেতারা কর্মসূচি পালন না করেই দাঁড়িয়ে থাকেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় ছাত্রলীগের মহানগর ও ঢাকা কলেজের নেতাকর্মীরা।

তিনি আরও জানান, ছাত্রলীগ টিএসসির আশেপাশে মোটরবাইক নিয়ে মহড়া দেয়াসহ ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করলে আন্দোলনে অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীরা চলে যান।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই সুপরিচিত। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক ইবনুল এম হাসান, এএফ রহমান হলের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ সাজু, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সহসভাপতি তানভীর শিকদার, কর্মী নাবিল হায়দার, বিজয় একাত্তর হলের সহসভাপতি রবিউল হাসান রানা, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখার সহসভাপতি কামাল উদ্দিন রানা।

আরও পড়ুন:
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

থেমে থেমে বৃষ্টি আরও কয়েক দিন

থেমে থেমে বৃষ্টি আরও কয়েক দিন

রাজধানীসহ সারাদেশেই আষাঢ়ের বৃষ্টি হচ্ছে থেমে থেমে। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে সারাদেশেই এখন কমবেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আরও দুই দিন এমন বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তারপর কমতে শুরু করবে বর্ষণ।

থেমে থেমে বৃষ্টি দিয়ে আষাঢ়ের শুরু হলেও বর্ষার রূপ দেখতে শুরু করেছে নগরবাসী। গত দুই দিন ধরে সারাদিনই ঝরেছে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। এটি আরও একদুই দিন স্থায়ী হতে পারে। সেই সঙ্গে ভারী বর্ষণ হতে পারে দেশের চারটি বিভাগে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে সারাদেশেই এখন কমবেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আরও দুই দিন এমন বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তারপর কমতে শুরু করবে বর্ষণ।

ঢাকায় শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ঈশ্বরদীতে ১৬৪ মিলিমিটার, টেকনাফে ১৬৩ মিলিমিটার, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল কালাম মল্লিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন তো পুরোদমে আষাঢ় মাস চলছে। আমাদের দেশে কাগজে-কলমে জুনের মাঝামাঝিতে আষাঢ় আসলেও আমরা জুনের শুরু থেকেই আষাঢ় মাস বা বর্ষাকাল ধরে থাকি, যা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হয়।’

এমন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নগরে থাকবে জানিয়ে আব্দুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘আষাঢ়ের শুরুতে টানা বৃষ্টি না হলেও এখন আরও এক দুই দিন এমন বৃষ্টি থাকতে পারে।

‘এরপর একটু একটু করে কমতে শুরু করবে বৃষ্টি। তবে যেহেতু মৌসুমি বায়ুর প্রভাব রয়েছে তাই ঢাকাসহ সারা দেশেই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।’

থেমে থেমে বৃষ্টি আরও কয়েক দিন
রাজধানীতে শনিবার সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

এ বছর গত ৩০ বছরের গড় বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘এবার আমরা যেমন বৃষ্টি আগে থেকে আশা করেছিলাম সেটি পাব। গড় বৃষ্টিপাত ৪৩৫ মিলিমিটার এর বেশি বা কাছাকাছি থাকতে পারে। আষাঢ়েই এমন বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

থেমে থেমে বৃষ্টি আরও কয়েক দিন
রাজধানীতে কোথাও কোথাও হয়েছে মাঝারি ভারী বর্ষণও। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে।

সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

রাজধানীতে শুধু মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরাই পাচ্ছে সিনোফার্মের টিকা

রাজধানীতে শুধু মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরাই পাচ্ছে সিনোফার্মের টিকা

রাজধানীর বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভি। ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত কেন্দ্রে এরই মধ্যে যারা রেজিস্ট্রেশন করে টিকা পাননি তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা ছিল। তবে রাজধানীতে টিকাকেন্দ্রগুলোতে শুধু মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে এই টিকা। বাকিদের অনেকের এসএমএস এলেও টিকা পাননি।

চীনের সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভি দিয়ে শনিবার সকাল থেকে স্বল্পপরিসরে শুরু হয়েছে গণটিকাদান।

এ টিকা শুরুতে ১০ শ্রেণি-পেশার মানুষকে দেয়ার কথা থাকলেও রাজধানীতে শুধু মেডিক্যাল-শিক্ষার্থীদের ডোজটি দিতে দেখা গেছে।

নির্ধারিত কেন্দ্রে এরই মধ্যে যারা রেজিস্ট্রেশন করে টিকা পাননি তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা ছিল। তবে রাজধানীতে টিকাকেন্দ্রগুলোতে শুধু মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে এই টিকা। বাকিদের অনেকের এসএমএস এলেও টিকা পাননি।

টিকা-সংকটের কারণে রাজধানীর চারটি হাসপাতালে এই টিকা দেয়া শুরু হয়েছে।

শনিবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি করে টিকাকেন্দ্রে দুটি বুথে সিনোফার্মের টিকা দেয়া হচ্ছে। তবে মেডিক্যাল শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে এখনও সিনোফার্মের টিকা দেয়া হয়নি।

ফাইজারের টিকা দেয়া হচ্ছে না

সিনোফার্মের টিকার সঙ্গেই কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া ফাইজারের টিকা প্রয়োগের কথা একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা। তবে এ টিকাদান এখনই শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র।

ওই সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর চারটি কেন্দ্রে এ টিকা প্রয়োগের প্রস্তুতি ছিল। তাপমাত্রা জটিলতার কারণে ঢাকার বাইরে এই টিকা দেয়া হবে না।

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে এ টিকা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে এর প্রয়োগ দেখা যায়নি।

টিকা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ডা. শামসুল হক বলেন, ‘কবে ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুরু হবে এটা বলতে পারছি না। সিনোফার্মের টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এটা শুধু জানুন। বাকিটা পরে জানলেও চলবে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. টিটু মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চীনের টিকা দেয়া অনেক আগ থেকে শুরু হয়েছে আমাদের এই হাসপাতালে। আজও প্রায় ৪০০ জনকে এই টিকা দেয়া হবে, যারা সবাই মেডিক্যাল শিক্ষার্থী।’

টিকা প্রয়োগের বিষয়ে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশিদ উন নবী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে ৪ হাজার ১৮৭ জনের একটি তালিকা আসছে। এরা সবাই ৭টি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। পরবর্তী সময়ে আরও তালিকা বাড়বে।

‘সকাল ৯টা থেকে (সিনোফার্ম) টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। ৩৫০ জন শিক্ষার্থীকে এই টিকা দেয়ার কথা রয়েছে।’

১০ শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই টিকা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। বাকিরা কবে থেকে টিকা পাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে রশিদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এমন কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে এখনও আসেনি। আসলে আমরা শুরু করতে পারব। তবে আমাদের হাসপাতালে এখনও সিরামের টিকা দিয়ে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া চলছে।’

রাজধানীর মুগদার ৫০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. অশিন কুমার নাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিনোফার্মের টিকা দেয়া সকাল থেকেই শুরু হয়েছে। আজ ৪০০ মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে এই টিকা দেয়া হবে। তবে অন্য জনগোষ্ঠীকে কবে টিকা দেয়া যাবে, এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারেননি। নির্দেশনা পরে অবশ্যই দেয়া হবে।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. খলিলুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধুমাত্র মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের এই টিকা দেয়া শুরু করেছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী শনিবার থেকে হয়তো সবার জন্য টিকা দেয়া শুরু হবে।’

যাদের পাওয়ার কথা সিনোফার্মের টিকা

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পাবেন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সদস্য, সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী, নার্স, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থী, সরকারি মেগা প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী কর্মী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এ ছাড়া করোনায় মৃতদেহ সৎকারে নিয়োজিত ব্যক্তি, দেশে বসবাসরত চীনা নাগরিক ও এর বাইরেও বিদেশি নাগরিকরা সিনোফার্মের টিকায় অগ্রাধিকার পাবেন।

আরও পড়ুন:
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

ধানমন্ডির সড়কে প্রাণ গেল কনস্টেবলের

ধানমন্ডির সড়কে প্রাণ গেল কনস্টেবলের

কনস্টেবল বশিরের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ফাইল ছবি

ধানমন্ডি থানার এসআই মো. মামুন নিউজবাংলাকে জানান, বশির মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনারের গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। দায়িত্ব শেষে বাইসাইকেলে চড়ে বাসায় ফেরার পথে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উল্টো পাশের সড়কে কোনো বাস বা ট্রাকের চাপায় তিনি গুরুতর আহত হন।

রাজধানীর ধানমন্ডি ৭ নম্বর সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন।

দায়িত্ব শেষে বাড়ি ফেরার পথে শুক্রবার রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম বশির উদ্দিন তালুকদার। তিনি কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগে।

বশিরের বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকিতে। তিনি ঢাকায় কোথায় থাকতেন, তা জানা যায়নি।

ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মামুন নিউজবাংলাকে জানান, বশির মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনারের গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। দায়িত্ব শেষে বাইসাইকেলে চড়ে বাসায় ফেরার পথে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উল্টো পাশের সড়কে কোনো বাস বা ট্রাকের চাপায় তিনি গুরুতর আহত হন।

এসআই আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বশিরকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বশিরের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, কোন বাস বা ট্রাকের চাপায় কনস্টেবল বশির মারা গেছেন, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। নিহত ব্যক্তির ভাইয়ের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ হয়েছে। তিনি আসার পর মামলাসহ অন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

নুসরাতের মৃত্যু: ভুয়া বিসিএস ক্যাডার মিল্লাত কারাগারে

নুসরাতের মৃত্যু: ভুয়া বিসিএস ক্যাডার মিল্লাত কারাগারে

সুসময়ের ছবি। স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে নুসরাত জাহান। ছবি: সংগৃহীত

মামলায় অভিযোগ বলা হয়, মামুন মিল্লাত নিজেকে বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে নুসরাত জাহানকে প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৯ সালে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে মিল্লাত নুসরাতকে শারীরিক আঘাত ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন।

রাজধানীর আগারগাঁয়ে সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টারে নুসরাত জাহানের আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় স্বামী মিল্লাত মামুনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম বাকী বিল্লাহ শুক্রবার শুনানি শেষে আদেশ দেন।

একদিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিল হোসাইন (নিরস্ত্র) আসামি মিল্লাত মামুনকে আদালতে হাজির করেন। কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

মিল্লাত মামুনের পক্ষে পীযূষ কান্তি রায় জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধীতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নাকচ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকা থেকে র‌্যাব-২ এর একটি দল মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে একদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা রত্ম কান্তি রোয়াজা ১২ জুন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ বলা হয়, মামুন মিল্লাত নিজেকে বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে নুসরাত জাহানকে প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৯ সালে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করেন।

বিয়ের কিছুদিন পর থেকে মিল্লাতকে শারীরিক আঘাত ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন, যা নুসরাত তার বাবাকে জানান।

মিল্লাত জুয়া খেলাসহ, নেশা এবং বিভিন্ন পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, গত ১২ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নুসরাত তার বাবাকে ফোন দিয়ে জানায়, মিল্লাত তাকে শারীরিক নির্যাতনসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। তাকে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন, না গেলে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

ওইদিন বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ রত্ম কান্তি রোয়াজাকে নুসরাতের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানায়।

আরও পড়ুন:
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

ঢাকা ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা কারাগারে

ঢাকা ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা কারাগারে

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল ও কম পায়। আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে পৌনে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

শুক্রবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম মাসুদ-উর-রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার সিনিয়র অফিসার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক এবং ম্যানেজার অপারেশন এমরান আহম্মেদ।

এর আগে বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার সরকার ৫৪ ধারায় আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আসামিদের পক্ষে তাদের দুজন আইনজীবী জামিন আবেদন করেন।

বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন আদালতের বংশাল থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন।

এ ছাড়া বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে আগামী ২১ জুন জামিন শুনানির তারিখ ধার্য করেন।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, ‘আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল।

‘বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল ও কম পায়। ব্যাংকের ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে অডিট টিম টাকা গরমিলের হিসাব বিবরণী দাখিল করে। আবু বক্কর সিদ্দিক অডিট টিমের হিসাব বিবরণীর ভিত্তিতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।’

আবেদনে বলা হয়, ‘ব্যাংকের ম্যানেজার তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে অডিট টিমের সহায়তায় আসামিদের আটক করেন।

‘আসামিদের থানায় হাজির করে আবু বক্কর সিদ্দিক বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ করেন। অফিসার ইনচার্জ অভিযোগটি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, ঘটনাটি পেনাল কোডের ৪০৯ ধারার অপরাধ। যার তদন্তের ক্ষমতা দুর্নীতি দমন কমিশনের শিডিউলভুক্ত বিধায় দুদক মামলাটি তদন্তের ব্যবস্থা করবে।’

এ অবস্থায় আসামিদের আটক করে আদালতে না পাঠালে তারা চিরতরে পলাতক হতে পারেন। তা ছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিষয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগকারীর অভিযোগসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দুদককে অবহিত করা হয়েছে। দুদক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আগ পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার।

আরও পড়ুন:
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

চাকা না ঘুরলেও ঢাবি নিচ্ছে পরিবহন ফি

চাকা না ঘুরলেও ঢাবি নিচ্ছে পরিবহন ফি

ভর্তির রসিদে দেখা যায়, আবাসিক হল ফি ছাড়া মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোট নেয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৭১৫ টাকা, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪ হাজার ২৮৫ টাকা এবং বাণিজ্য বিভাগ থেকে নেয়া হচ্ছে ৪ হাজার ৮৫ টাকা। এর মধ্যে ‘পরিবহন ফি’ হিসেবে নেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৮০ টাকা। এ ছাড়া আবাসিক হলভেদে শিক্ষার্থীদের দিতে হবে গত বছরসহ এই বছরের ‘সিট ভাড়া’।

দেড় বছর ধরে বন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল। সচল হয়নি পরিবহন ব্যবস্থা। তবুও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে পরিবহন ফি। এমনকি বন্ধ হলের ‘সিট ভাড়া’ হিসেবে দুই বছরের ফি জমা দিতেও বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে গত বছরের মার্চে বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বন্ধ হয়ে যায় আবাসিক হলগুলোও। এ অবস্থায় প্রায় দেড় বছর আবাসিক হলে না থেকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে না চড়লেও হল এবং পরিবহন ফি নেয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘আমাদের সাথে অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব দেখার কেউ নেই। শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জিম্মি।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের স্পষ্ট জবাব না দিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সেবা কার্যক্রম সীমিত পরিসরে হলেও ক্রিয়াশীল রাখতে হয়। তবে এগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না, এটা সত্য। অল্প কিছু পয়সা শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও আমরা বুঝি।’

এসব ফি মওকুফ করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আর্থিক বিষয় হওয়ার কারণে এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কিছু বলা কঠিন। হুটহাট সিদ্ধান্ত নিলে প্রতিষ্ঠিত সেক্টরে বড় আকারের ধাক্কা পড়ে কি না সেটিও আমাদের দেখতে হবে। শিক্ষার্থীরা কিছু সুবিধা পেলে সেটিই তো আমাদের পাওয়া হয়।’

করোনাকালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বলা হয়েছিল শিক্ষার্থীদের এসব ফি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিলে উপাচার্য বলেন, ‘সেটি দেখা যাক। এখনো সেগুলো দেখার সুযোগই হয়নি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই মাস থেকে শিক্ষার্থীদের স্বশরীরের বা অনলাইনে পরীক্ষা শুরুর কথা রয়েছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হয়। আর ভর্তি হতে গিয়েই সামনে এসেছে ‘অযাচিত ফি’ আদায়ের এসব বিষয়।

ভর্তির রসিদে দেখা যায়, আবাসিক হল ফি ছাড়া মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বমোট নেয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৭১৫ টাকা, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪ হাজার ২৮৫ টাকা এবং বাণিজ্য বিভাগ থেকে নেয়া হচ্ছে ৪ হাজার ৮৫ টাকা। এর মধ্যে ‘পরিবহন ফি’ হিসেবে নেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৮০ টাকা। এ ছাড়া আবাসিক হলভেদে শিক্ষার্থীদের দিতে হবে গত বছরসহ এই বছরের ‘সিট ভাড়া’।

এ বিষয়ে ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘করোনা মহামারিতে আমাদের পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় টিউশনি নেই বললেই চলে। হল বন্ধ থাকায় অনেককে মেস ভাড়া নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। ঠিক সে সময়ে শিক্ষার্থীদের থেকে অযাচিত ফি আদায়ের চেষ্টা দুঃখজনক।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুব রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনাকালীন ছাত্রদের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক। অনেক শিক্ষার্থীর উপার্জন ছিল টিউশননির্ভর। দেড় বছর ধরে তা বন্ধ। এ সময়ে বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে আমরা কোনো সেবা নিইনি, হলে না থেকে কেন আমাদের চার্জগুলো দিতে হবে? শিক্ষার্থীদের ডাবল খরচ করার সামর্থ্য নেই।’

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চাই পরিবহন ফিসহ যাবতীয় অন্যায্য ফি বাতিল করা হোক। অন্যসব ঘটনায় বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষকরা সরব থাকলেও শিক্ষার্থীদের সমস্যায় তারা নীরব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ডাকসুর সাবেক সহসম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘হল বন্ধ থাকা অবস্থায় আবাসিক ফি, পরিবহন ফি গ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের সাথে তামাশারই নামান্তর। এই সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা উচিত।’

হলের সিট ভাড়া ও পরিবহন ফি প্রত্যাহারে হলগুলোর কিছু করার নেই বলে জানান প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবদুল বাছির। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আবাসিক হলগুলো স্বতন্ত্র কোনো বিষয় না, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অঙ্গ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনার বাইরে হল কোনো কিছুই করতে পারে না। আমরা যদি শিক্ষার্থীদের থেকে এক টাকা কম নিই তাহলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জবাবদিহি করতে হবে ৷ তবে বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমাদের ফি মওকুফ বা কম নেয়ার কোনো নির্দেশনা দেয় অবশ্যই আমরা সেভাবে চলব।’

রেগে গেলেন কোষাধ্যক্ষ

গাড়িতে না চড়েও ভাড়া গোনার বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে রেগে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘বিআরটিসির ভাড়া কে দেবে, তুমি দিবা? শিক্ষার্থীরা পরিবহনে না চড়লেও বিআরটিসিকে ভাড়া দিতে হচ্ছে। তাই এসব টাকা নেয়া হচ্ছে।’

তিনি জানান, পরিবহন ফি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে নেয়া হচ্ছে ১০৮০ টাকা করে। বছরে চালু থাকা সময় ২৫০ দিন ধরলে পরিবহন বাবদ দৈনিক ব্যয় ৪ টাকা ৩২ পয়সা। এ সামান্য টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি বিস্মিত।

তবে কোষাধ্যক্ষের বক্তব্যের সাথে মিল নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ম্যানেজার আতাউর রহমানের বক্তব্যে। আতাউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিআরটিসির সাথে আমাদের চুক্তি বাস হিসেবে না, ট্রিপ হিসেবে। যত ট্রিপ বাস চলবে সে অনুযায়ী টাকা। ট্রিপ না দিলে টাকা নেই। এখন যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, তাই ট্রিপ বন্ধ। সুতরাং তাদের টাকা দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

‘গাড়ি না চললে ভাড়া নেই’ এমন বিষয় সম্পর্কে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি পরিবহন ম্যানেজারের বক্তব্যকে সমর্থন করেন। তবে শিক্ষার্থীদের পরিবহন ফি প্রত্যাহারের ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করেননি উপাচার্য।

আরও পড়ুন:
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হচ্ছে মহামারি করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ; আরেকটি হচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হলে দলকে আরও শৃঙ্খল করতে হবে।

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে দুটি বিষয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তা হলো ‘করোনাভাইরাস মহামারি’ ও ‘উগ্র সাম্প্রদায়িকতা’।

রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে শুক্রবার সকালে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হচ্ছে মহামারি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ; আরেকটি হচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। করোনা প্রতিরোধের পাশাপাশি উগ্র সাম্প্রদায়িকতার চ্যালেঞ্জকেও আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। আর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হলে দলকে আরও শৃঙ্খল করতে হবে।’

দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তিতে জোর দেয়া হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলকে আরও সুসংগঠিত, আরও সুশৃঙ্খল করে গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। দেশের সকল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের যেখানে ছোটখাটো বিরোধ আছে, তার সমাধান করতে হবে। এ ব্যাপারে নিজ নিজ বিভাগে যেখানে সাংগঠনিক সমস্যা রয়েছে, তার সমাধানে কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

আওয়ামী লীগের গঠিত কমিটিগুলো নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের কাছে জমা দেয়ার পরামর্শও দেন কাদের।

‘বিএনপি ক্ষমতা পেলে রক্তের বন্যা’

বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক ও সহিংসতার পৃষ্ঠপোষক উল্লেখ করে দলটির রাজনীতিকে ‘ভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর’ বলে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক ও সহিংসতার পৃষ্ঠপোষক বিএনপির হাতে এ দেশ ও দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। বিএনপির রাজনীতি ভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর। বিএনপির হত্যা, খুন ও সন্ত্রাসের রাজনীতি দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল।

‘এখন বিএনপি নেতাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, বাংলাদেশের মানুষ নরক যন্ত্রণার মধ্যে আছে। অথচ বৈশ্বিক শান্তি সূচকে বাংলাদেশ গতবারের চেয়ে সাত ধাপ এগিয়েছে। এ দেশে গণতান্ত্রিক, প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ বিনষ্টের মূল কুশীলব এবং কারিগর হচ্ছে বিএনপি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তি, স্থিতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপির হাতে ক্ষমতা গেলে দেশ আবার অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। তারা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ আবার লাশের পাহাড় হবে। প্রতিশোধপরায়ণ বিএনপি ক্ষমতা হাতে পেলে দেশে রক্তের বন্যা বইয়ে দেবে।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি

আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামী বুধবার (২৩ জুন)। দিনটি উদযাপনে দলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে আয়োজনকে সীমিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মহামারি করোনার কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করতে পারছি না। ঘরোয়াভাবে সীমিত পরিসরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে আমাদের কর্মসূচি কাটছাঁট করতে হয়েছে।’

২৩ জুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তেলন করা হবে।

এদিন সকাল ৯টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে আওয়ামী লীগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২৩ জুন বেলা ৩টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছি। সভায় গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।’

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। দলটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানোর পাশাপাশি বিশেষ ওয়েবিনারের আয়োজন করবে।

কর্মীদের উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
‘খুনি’ জিয়ার কোনো প্রোগ্রাম ঢাবিতে নয়: ছাত্রলীগ
সেই রিকশাচালক ছাত্রলীগ নেতার পাশে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন