তিন প্রাণহানির পেছনে ‘বাড়িওয়ালার অবহেলা’

মালিবাগে বিদ্যুতায়িত হয়ে যে তিনজন মারা গেছে, তাদের মধ্যে ঝুমার মা এই নারী। ছবি: সাইফুল ইসলাম

তিন প্রাণহানির পেছনে ‘বাড়িওয়ালার অবহেলা’

‘আমি এই দুঃখ কেমনে ভুলুম কন? আমি দুপুরবেলা আমার মাইয়ারে খাওয়াইয়া থুইয়া গেছি। আমার মাইয়ার লগে আমি শয়তানি কইরা গেছি। আমি আইতে না আইতে, এক ঘণ্টা যাইতে না যাইতেই আমার মাইয়ার লাশ দ্যাখলাম আমি।’

রাজধানীর মালিবাগে একটি বস্তিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে যে তিনটি প্রাণ ঝরে গেল, তার পেছনে রয়েছে এক অবহেলা।

বস্তির সামনেই একটি খুঁটি থেকে নেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ-সংযোগ। সেই সংযোগটির তার অনেকটাই নড়বড়ে। ঝুলে পড়া এই তারটি বেশ পুরোনো। ওপরের আচ্ছাদন ছিঁড়ে গিয়েছিল আগেই।

ঝোড়ো হাওয়ায় এই তার প্রায়ই বাড়ি খায় লোহার ফটক আর টিনের চালে। তখন বিদ্যুতায়িত হয়ে যায় সেগুলো।

শনিবার বেলা আড়াইটার পর মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটিতে প্রথমে প্রাণ হারায় নয় বছরের ঝুমা। মৃত অবস্থায় সে পড়ে থাকার সময় পাশের ঘরে থাকা ১৩ বছরের পাখি এসে ঝুমাকে ছুঁলে সেও হয়ে যায় বিদ্যুতায়িত।

তার পাশের ঘরে থাকা ৬০ বছর বয়সী আবদুল হক এ অবস্থা দেখে দুটি শিশুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু বাঁচাতে পারেননি কাউকে, প্রাণ হারান নিজেও।

ঘটনাস্থল মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার সোনামিয়া গলিতে।

এলাকায় গেলে আবদুর রহিম নামে একজন বলেন, ‘তিনজন লোক কারেন্টে বাইজ্যা মইরা গেছে।’

রহিমই সেই ঘরটি দেখিয়ে দিলেন, যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

ঘটনাস্থল একটি বস্তি। সেখানে বেশ কিছু টিনশেড ঘর আছে। একটি লোহার ফটক। ছোট্ট একটি ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ল সারিবদ্ধ ছয়টি কক্ষ। দুই পাশেই আছে তিনটি করে।

তিন প্রাণহানির পেছনে ‘বাড়িওয়ালার অবহেলা’
মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর শুনে দলে দলে মানুষ ছুটে আসে বস্তিতে

বাম পাশের যে তিনটি কক্ষ রয়েছে। তার প্রথম কক্ষে থাকত ঝুমা। পরের পক্ষে থাকত পাখি। শেষ কক্ষে থাকতেন আবদুল হক।

সেখানে তখন শত শত মানুষের ভিড়। প্রাণহানির খবর শুনে দলে দলে আসতে থাকে মানুষ।

ঝুমার মা কাজ করেন পাশের একটি পোশাক কারখানায়। খবর পেয়ে সেই কারখানা থেকেও আসেন শ্রমিকরা। সবাই বস্তির মালিকের সমালোচনা করছিলেন।

বস্তিবাসী জানালেন, গেটের পাশে বিদ্যুতের একটি খুঁটি। সেখানে বিদ্যুতের তারগুলো ছিল দুর্বল। বাতাস এলে তার লোহার ফটক ও টিনের চালে প্রায়ই বাড়ি খায়। এর আগেও কয়েকবার ঝড়-বৃষ্টিতে এ ঘটনা ঘটেছে।

বাড়িওয়ালাকে বারবার জানানো হলেও তিনি পদক্ষেপ নেননি। তিনি করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ করছিলেন।

এমনকি দুর্ঘটনার পরেও তিনি ঘটনাস্থলে আসেননি। বারবার তাকে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

যেভাবে ঘটল ঘটনাটি

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি কীভাবে ঘটল তা জানালেন ঝুমার মা।

তিনি বলেন, ‘যহন আমার মাইয়া গেট ধরছে, তহন বইয়া পইড়া এক্কেবারে জবান বন্ধ হইয়া গ্যাছে গা। আরেকটা যে বাচ্চা মরছে ঢাকা মেডিক্যালে, হ্যায় আমার মাইয়ারে কইছে ঢং করোস। কইয়া একটা লাত্থি মারছে। লগে লগে যাইয়া আমার মাইয়ার উপরে পড়ছে। আবার হ্যারে আবার বাঁচাইতে আসছে যে বুইড়া কাকা, হ্যারো বাঁচাইতে গিয়ে হ্যায়ও তাগো উপড়ে পইড়া রইছে।’

এ কথা বলেই কাঁদতে থাকেন এই পোশাকশ্রমিক। বলেন, ‘আমি এই দুঃখ কেমনে ভুলুম কন? আমি দুপুরবেলা আমার মাইয়ারে খাওয়াইয়া থুইয়া গেছি। আমার মাইয়ার লগে আমি শয়তানি কইরা গেছি। আমি আইতে না আইতে, এক ঘণ্টা যাইতে না যাইতেই আমার মাইয়ার লাশ দ্যাখলাম আমি।’

তিন প্রাণহানির পেছনে ‘বাড়িওয়ালার অবহেলা’
লোহার ফটকের ওপরে বিদ্যুতের যে তার ঝুলছে, সেগুলো মেরামত করতে বস্তিবাসী বারবার তাগাদা দিয়েছে। কিন্তু কান দেননি বাড়িওয়ালা

তিনি বলেন, ‘একটা মেইন সুইচ নাই। বৃষ্টি আইলে কয়দিন পরে পরে আর্থইন করে বাসাবাড়ি।’

পেছন থেকে একজন বলেন, ‘সে কেমন বাড়িওয়ালা যে এত বড় বাড়িটা, তার বাড়ির মধ্যে মেইন সুইচ নাই?’

ঝুমার মা বলেন, ‘আর এর মধ্যে একটা ঘটনা ঘটল, করুণ ঘটনা। বাড়িওয়ালার কি কোনো প্রস্তুতির দরকার ছিল না? তিনডা মানুষ মারা গেল, সে কিমুন বাড়িওয়ালা? কেমন টাকাপয়সাওয়ালা যে দেখতে আইল না, ঘরে ঢুকল না?

‘তার কাছে কি টাকা চাই না পয়সা চাই? সে কে? আমার মাইয়ার জীবন বড় না, টাকা বড়? আমার মেয়ে তো মারাই গেছে গা।’

সেখানে ঝুমার সঙ্গে প্রাণ হারানো পাখি বা আবদুল হকের কোনো স্বজন ছিলেন না।

পাখিকে নিয়ে তার স্বজনরা তখন ঢাকা মেডিক্যালে। আর আবদুল হক তার কক্ষে নিথর পড়ে ছিলেন। লোকজন যারা দেখতে এসেছিলেন, তাদের গায়ে রাখা চাদর তুলে দেখাচ্ছিলেন এক প্রতিবেশী।

তিন প্রাণহানির পেছনে ‘বাড়িওয়ালার অবহেলা’

এই আবদুল হক সম্পর্কে খুব একটা তথ্যও পাওয়া গেল না। বস্তিতে থাকা একজন জানান, এই মানুষটি একাই থাকতেন সেখানে। তার সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য অন্যরা জানেন না।

একজন বলেন, ‘তার আত্মীয়স্বজন থাকলে তো চোখে দ্যাখতাম।’

পাখিদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে। তার মা কুলসুম বেগম গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তিনি জানান, দুপুরের দিকে বৃষ্টির সময় মালিবাগ চৌধুরীপাড়া আবুল হোটেলের পেছনে বস্তিতে জমে থাকা পানিতে ঘরের বিদ্যুতের সংযোগ এক হয়ে যায়। এতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এরপর মালিবাগ রেলগেটে একটি হাসপাতালে নেয়া হয় ঝুমা ও আবদুল হককে। আর পাখিকে তার বাবা-মা নিয়ে যান ঢাকা মেডিক্যালে।

ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার (খিলগাঁও) মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই বডি তিনটা হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। একটা মেয়ে প্রথমে বিদ্যুতায়িত হয়। তাকে ধরতে গিয়ে আরও দুজন আক্রান্ত হয়। বজ্রপাতের কারণেও বিদ্যুতায়িত হতে পারে। এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’

আরও পড়ুন:
বিদ্যুতায়িত হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
ট্রাক্টর বিদ্যুতায়িত হয়ে চালকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেড় কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ সাবরেজিস্ট্রার দম্পতির

দেড় কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ সাবরেজিস্ট্রার দম্পতির

১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে ইসরাত জাহানকে।

দেড় কোটি টাকার হিসাববহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পেয়ে এক সাবরেজিস্ট্রার দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার মামলাটি করা হয় বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক।

দুদকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান সরকার মামলাটি করেন।

দুদক সূত্র জানায়, ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে ইসরাত জাহানকে।

এজাহারে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ভূঁইঘর মৌজায় ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ, মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে ১০ শতাংশ এবং পটুয়াখালীর বাউফলে ২৯ শতাংশ জমি পাওয়া গেছে ইসরাতের নামে।

এ ছাড়া রাজধানীর জুরাইনের কেয়ারিনগর অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টে ১০১৬ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট (বিল্ডিং নম্বর-৭, ফ্ল্যাট নম্বর-ই ৪), একই প্রজেক্টে ১০৬৯ বর্গফুটের আরও একটি ফ্ল্যাট (বিল্ডিং নম্বর-৭, ফ্ল্যাট নম্বর-এ ৪) এবং ৫৮৩ বর্গফুটের পৃথক একটি ফ্ল্যাটের মালিক ইসরাত।

রয়েছে ৪৫ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র। ব্যাংকে থাকা টাকার পরিমাণ ৩৫ লাখ।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুতায়িত হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
ট্রাক্টর বিদ্যুতায়িত হয়ে চালকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

ব‌স্তি‌তে আগুনে ক্ষ‌তিগ্রস্তদের পাশে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন

ব‌স্তি‌তে আগুনে ক্ষ‌তিগ্রস্তদের পাশে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন

মহাখালীর সাততল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শ‌নিবার খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় প্রধান অতিথি হি‌সে‌বে উপ‌স্থিত ছি‌লেন ইসলামী শ্র‌মিক আ‌ন্দোল‌নের সে‌ক্রেটারি জেনা‌রেল হা‌ফেজ মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী শ্র‌মিক আ‌ন্দোল‌নের সে‌ক্রেটারি জেনা‌রেল হা‌ফেজ মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শে‌ষে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষ‌তিগ্রস্ত এলাকা প‌রিদর্শন ক‌রেন। চরমোনাই পীরের পক্ষ থেকে এ খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়।

মহাখালীর সাততলা ব‌স্তি‌তে অ‌গ্নিকা‌ণ্ডে ক্ষ‌তিগ্রস্ত প‌রিবা‌রের মধ্যে ইসলামী শ্র‌মিক আন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্ত‌রের উ‌দ্যো‌গে চর‌মোনাইয়ের পীরের পক্ষ থে‌কে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শ‌নিবার খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় প্রধান অতিথি হি‌সে‌বে উপ‌স্থিত ছি‌লেন ইসলামী শ্র‌মিক আ‌ন্দোল‌নের সে‌ক্রেটারি জেনা‌রেল হা‌ফেজ মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শে‌ষে প্রধান অ‌তিথি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষ‌তিগ্রস্ত এলাকা প‌রিদর্শন ক‌রেন।

এ সময় তি‌নি ক্ষ‌তিগ্রস্থ প‌রিবা‌রের খোঁজখবর নেন এবং তা‌দেরকে সঙ্গে নি‌য়ে মহান আল্লাহর কা‌ছে দোয়া ক‌রেন।

এ সময় অন্যান্যের ম‌ধ্যে উপ‌স্থিত ছি‌লেন ইসলামী শ্র‌মিক আ‌ন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্ত‌রের সভাপ‌তি মুহাম্মাদ জা‌কির হো‌সেন হাওলাদার, সে‌ক্রেটারি আলাউ‌দ্দিন হাওলাদার, ইসলামী যুব আন্দোল‌নের বনানী থানা সাধারণ সম্পাদক তা‌রিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুতায়িত হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
ট্রাক্টর বিদ্যুতায়িত হয়ে চালকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

ঢাকা উত্তরে এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায়

ঢাকা উত্তরে এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায়

এর মধ্যে ডিএনসিসির এক নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত ফেরদৌস পরিচালিত আদালত দুটি মামলায় আট হাজার টাকা, দুই নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম সফিউল আজম পরিচালিত আদালত পাঁচটি মামলায় ২০ হাজার টাকা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পারসিয়া সুলতানা প্রিয়াংকা পরিচালিত আদালত দুটি মামলায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বিস্তার রোধে শনিবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২১টি মামলায় মোট এক লাখ ৩৮ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এর মধ্যে ডিএনসিসির এক নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত ফেরদৌস পরিচালিত আদালত দুটি মামলায় আট হাজার টাকা, দুই নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম সফিউল আজম পরিচালিত আদালত পাঁচটি মামলায় ২০ হাজার টাকা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পারসিয়া সুলতানা প্রিয়াংকা পরিচালিত আদালত দুটি মামলায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে।

তিন নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল বাকী পরিচালিত আদালত পাঁচটি মামলায় ৭০ হাজার টাকা ও চার নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহা বিনতে সিরাজ পরিচালিত আদালত তিনটি মামলায় ২ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করে।

এ ছাড়া ৯ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরিচালিত আদালত চারটি মামলায় আট হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এভাবে মোট ২১টি মামলায় আদায়কৃত জরিমানার পরিমাণ এক লাখ ৩৮ হাজার ১০০ টাকা।

এ সময় মাইকিং করে জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হয়। এ ছাড়া ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে সবাইকে ডিএনসিসি মেয়রের আহ্বান ‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’ মানার পাশাপাশি ও করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনাসহ স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুতায়িত হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
ট্রাক্টর বিদ্যুতায়িত হয়ে চালকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর ওয়ারিতে র‍্যাবের অভিযানে মানব পাচারকারী সন্দেহে গ্রেপ্তারকৃতদের ৩ জন। পৃথক অভিযানে আরও ২ জনকে আটক করা হয়। ছবি:সংগৃহীত

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বেশ কিছুদিন ধরে পরস্পর যোগসাজসে সংঘবদ্ধভাবে ও প্রতারণা করে অবৈধ পথে বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে পতিতাবৃত্তি ও যৌন কাজে ব্যবহার করে আসছিল।

রাজধানীর ওয়ারিতে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য সন্দেহে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ সময় ১৬ ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওয়ারির রায়সাহেব বাজার মোড়ের নবাবপুর রোড এলাকার ‘দি নিউ ঢাকা বোডিং’ আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে ১০ জন ভিকটিমসহ মানব পাচারকারী চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১০।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জুবায়ের আহসান ও সজল বেপারী।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন ও ২ হাজার ৯৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া শুক্রবার আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে একই এলাকার হোটেল ইব্রাহীমে অপর একটি অভিযান চালিয়ে ৬ ভিকটিমসহ মানব পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জয়নাল মিয়া, জান মিয়া ও আরমান।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি মোবাইল ফোন ও ৫ হাজার ১৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি এনায়েত কবীর সোয়েব ঘটনা ২টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বেশ কিছুদিন ধরে পরস্পর যোগসাজসে সংঘবদ্ধভাবে ও প্রতারণা করে অবৈধ পথে বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে পতিতাবৃত্তি ও যৌন কাজে ব্যবহার করে আসছিল।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুতায়িত হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
ট্রাক্টর বিদ্যুতায়িত হয়ে চালকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

গৃহকর্মীর গায়ে ফুটন্ত ভাত: জেলে বাড়িওয়ালার মেয়ে

গৃহকর্মীর গায়ে ফুটন্ত ভাত: জেলে বাড়িওয়ালার মেয়ে

প্রতীকী ছবি।

গত বুধবার গৃহকর্তার মেয়ে তানজিনা রহমান তার কাছে ভাত চেয়েছিলেন। ‘ভাত এখনো হয়নি, চুলায় রয়েছে’ জানালে তানজিনা ক্ষিপ্ত হয়ে চুলায় ফুটন্ত মাড়সহ ভাত নিয়াসার শরীরে ঢেলে দেন। মেয়েটির নির্যাতনের খবর প্রতিবেশীরা ৯৯৯-এ কল করে থানায় জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়াসাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসে।

রাজধানীর উত্তরায় নিয়াসা নামে এক গৃহকর্মীর গায়ে ফুটন্ত ভাতের মাড় ঢেলে দিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাড়িওয়ালার মেয়ে তানজিনা রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম আতিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাঞ্চন রায়হান আসামি তানজিনাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

এ সময় তানজিনার পক্ষে দুজন আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন।

নির্যাতনের শিকার ১৮ বছর বয়সী গৃহকর্মী নিয়াসার বাড়ি সিলেটের রূপনগর এলাকায়। তার বাবার নাম আরিকুল ইসলাম।

সংসারের অভাব-অনটনের কারণে গত এক বছর ধরে উত্তরা পশ্চিম থানার ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন নিয়াসা।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বুধবার গৃহকর্তার মেয়ে তানজিনা রহমান তার কাছে ভাত চেয়েছিলেন।

‘ভাত এখনো হয়নি, চুলায় রয়েছে’ জানালে তানজিনা ক্ষিপ্ত হয়ে চুলায় ফুটন্ত মাড়সহ ভাত নিয়াসার শরীরে ঢেলে দেন। এতে দগ্ধ হন নিয়াসা।

মেয়েটির নির্যাতনের খবর প্রতিবেশীরা ৯৯৯-এ কল করে থানায় জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়াসাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসে।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর বিকালে তাকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) রেফার করা হয়।

মেয়েটির শরীরের ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

বিষয়টি প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তিতে আমলে নিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে উত্তরার পশ্চিম থানায় পুলিশের করা একটি জিডিমূলে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার পুলিশ মামলা করে।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুতায়িত হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
ট্রাক্টর বিদ্যুতায়িত হয়ে চালকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টে শতাধিক মরা মুরগি, আটক ৭

এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টে শতাধিক মরা মুরগি, আটক ৭

ছবি: সংগৃহীত

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অভিযানের সময় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার, মৃত মুরগির সাপ্লায়ার, রেস্টুরেন্টের বাবুর্চিসহ ৭ জনকে আটক করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে মুরগিগুলো রান্না করে তা ভোক্তাদের পরিবেশন করা হত। আটক অভিযুক্তদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউজের পাশে এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট থেকে ১১৯টি মরা মুরগি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় সাত জনকে আটক করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রেস্টুরেন্টটিতে এ অভিযান চালানো হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সাদা পোশাকের সদস্যরা মরা মুরগিগুলো হাতেনাতে আটক করে। দুপুর আড়াইটায় বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের একটি দল বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঢাকা কাস্টমস হাউজের পাশে অবস্থিত এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে ১১৯টি মুরগি আটক করে।’

জিয়াউল হক জানান, এ সময় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার, মৃত মুরগির সাপ্লায়ার, রেস্টুরেন্টের বাবুর্চিসহ ৭ জনকে আটক করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে মুরগিগুলো রান্না করে তা ভোক্তাদের পরিবেশন করা হত। আটক অভিযুক্তদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুতায়িত হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
ট্রাক্টর বিদ্যুতায়িত হয়ে চালকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

‘ক্ষমতায় যেতে দিগ্বিদিকশূন্য বিএনপি’

‘ক্ষমতায় যেতে দিগ্বিদিকশূন্য বিএনপি’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নিজেরাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিএনপি ক্ষমতাপাগল, তারা এখন দিগ্বিদিকশূন্য। ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মোহে বিএনপি নেতারা এখন মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছেন। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তাদের চরিত্র এখন দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট।’

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা বিএনপি ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকায় নিজ বাসভবনে শনিবার সকালে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচনে বিজয়ের গ্যারান্টি দিলে নির্বাচন কমিশন তাদের ভাষায় নিরপেক্ষ আর তাদের পক্ষে রায় দিলেই বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিএনপি নেতাদের অপরাধ ও দুর্নীতির বিচার না করলে দুদক ভালো।

‘বিএনপি নিজেরাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিএনপি ক্ষমতাপাগল, তারা এখন দিগ্বিদিকশূন্য। ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মোহে বিএনপি নেতারা এখন মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছেন। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তাদের চরিত্র এখন দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট।’

বিএনপির সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতায় ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়, তারাই দেশকে অকার্যকর এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য। বিএনপিই বরং একের পর এক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত এবং বিশ্বসভায় সম্ভাবনাময় দেশ বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ পালন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের আগে কারা তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল দেশবাসী তা জানে। কারা হামলা ও এর পৃষ্ঠপোষক এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারা জড়িত তা ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট হয়েছে।

‘বিএনপি সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষক। তারা যতই অস্বীকার করুক সাম্প্রদায়িক অপশক্তির তোষণ নীতি থেকে বের হতে পারবে না। ২০১৩-১৪ সালে আগুন-সন্ত্রাস চালিয়ে এর দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছে বিএনপি। নিজেদের অপকর্ম ও ব্যর্থতা আড়াল করতে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো বিএনপির পুরোনো অভ্যাস।’

আরও পড়ুন:
বিদ্যুতায়িত হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
ট্রাক্টর বিদ্যুতায়িত হয়ে চালকের মৃত্যু

শেয়ার করুন