আরেক রিকশাচালককে নির্যাতন

আরেক রিকশাচালককে নির্যাতন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, সুমন কিছু না বলে রিকশায় উঠেই টিপু সুলতান রোডে যাওয়ার জন্য রিকশাচালককে একপ্রকার হুকুম করছেন। রিকশাচালক বৃষ্টিতে ভিজে মাত্রই একজন যাত্রী নিয়ে এসেছেন। তিনি তাই যেতে চাচ্ছিলেন না। যাত্রীকে তিনি অন্য একটি রিকশায় যেতে বলেন। কিন্তু সুমন তার রিকশাতেই যাবেন। এক-দুই কথায় তিনি রিকশাচালককে বিশ্রী ভাষায় গালি দিতে থাকেন এবং একই সঙ্গে নির্বিচারে তার মাথায় ও গালে জোরে জোরে ঘুষি মারতে থাকেন।

রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকায় দরিদ্র এক রিকশাচালককে বিনা কারণে মারধর করার অপরাধে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্য‌ক্তির নাম মো. সুমন। তিনি ওই এলাকার স্থানীয় বা‌সিন্দা।

বাংলা‌দেশ পু‌লিশের এআই‌জি (মি‌ডিয়া অ্যান্ড পাব‌লিক রি‌লেশন্স) সো‌হেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, সুমন কিছু না বলে রিকশায় উঠেই টিপু সুলতান রোডে যাওয়ার জন্য রিকশাচালককে একপ্রকার হুকুম করছেন। রিকশাচালক বৃষ্টিতে ভিজে মাত্রই একজন যাত্রী নিয়ে এসেছেন। তিনি তাই যেতে চাচ্ছিলেন না। যাত্রীকে তিনি অন্য একটি রিকশায় যেতে বলেন। কিন্তু সুমন তার রিকশাতেই যাবেন। এক-দুই কথায় তিনি রিকশাচালককে বিশ্রী ভাষায় গালি দিতে থাকেন এবং একই সঙ্গে নির্বিচারে তার মাথায় ও গালে জোরে জোরে ঘুষি মারতে থাকেন। উপস্থিত দু-একজন এর বিরোধিতা করলেও সুমন তাদের কথা শোনেন না।

এআই‌জি সো‌হেল রানা জানান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সংবাদকর্মী আলী আজম বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংকে জানান। বিষয়টি জানার পরপরই মিডিয়া উইং সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে।

ঘটনাস্থলটি সূত্রাপুর ও ওয়ারী থানার সীমান্তবর্তী একটি জায়গা। দ্রুততম সময়ে সুমনকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করার জন্য উভয় থানাকেই নির্দেশ দেয় মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং।

ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান এবং সূত্রাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্নেহাশীষ রায়ের প্রচেষ্টায় দুই দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার বিকেলে লালমোহন সাহা স্ট্রিটের একটি বাড়ি থেকে সুমনকে আটক করা হয়।

আটক সুমনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এর আগে গত ৪ মে বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওলিংক পাঠান একজন সংবাদকর্মী।

ভিডিওতে দেখা যায়, ৪ মে বেলা দেড়টার দিকে বংশালে একজন রিকশাচালকের নাকে-মুখে চড়-থাপ্পড় মারছেন এবং গালিগালাজ করছেন সুলতান আহমেদ নামের স্থানীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। নির্যাতনের একপর্যায়ে রিকশাচালক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ও মূর্ছা যান। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় পরে সুলতানকে গ্রেপ্তার করে বংশাল থানার পুলিশ।

৫ মে সুলতান আহমেদের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। পরে তিন দফায় তার জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত।

গত ১৯ মে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছিল। কিন্তু রিকশাচালক আব্দুল হামিদ ওই দিনই সুলতানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় তার জামিন আটকে যায়।

পরদিন রিকশাচালকের করা মামলায় সুলতানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।

আবার একই বিষয়ে ভার্চুয়াল আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শুনানি করে তার জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে তিনি মুক্তি পান।

আরও পড়ুন:
জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক ৩
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দুই বাসের পাল্লায় পিষে গেল তরুণের মাথা

দুই বাসের পাল্লায় পিষে গেল তরুণের মাথা

পুলিশ জানিয়েছে, মেহেদী তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে করে যাচ্ছিলেন। তিনি বাসের পেছনের দিকে জানালার পাশের এক সিটে ছিলেন। তার মাথা বাসের জানালার বাইরে ছিল। এ সময় আকাশ পরিবহনের একটি বাস তুরাগের বাসটির সঙ্গে পাল্লা দেয়। আকাশ পরিবহনের বাসটি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মেহেদীর মাথা পিষে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রাজধানীর মালিবাগের চৌধুরীপাড়া এলাকায় তুরাগ ও আকাশ পরিবহনের দুটি বাসের পাল্লায় মাঝে পড়ে মাথা পিষে গেছে মেহেদী হাসান নামের এক তরুণের।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই ওই তরুণের মৃত্যু হয়। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকের দুটি বাসই জব্দ করা হয়েছে।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানতে চাইলে হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান নিউজবাংলাকে বলেন, মেহেদী তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে করে যাচ্ছিলেন। তিনি বাসের পেছনের দিকে জানালার পাশের এক সিটে ছিলেন। তার মাথা বাসের জানালার বাইরে ছিল। এ সময় আকাশ পরিবহনের একটি বাস তুরাগের বাসটির সঙ্গে পাল্লা দেয়। আকাশ পরিবহনের বাসটি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মেহেদীর মাথা পিষে দেয়। ঘটনার পর থেকে বাস দুটির চালক ও তাদের সহকারীরা পলাতক রয়েছেন।

তিনি বলেন, নিহত তরুণের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসেছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান এসআই শাহজাহান।

২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল রাজধানীর সার্ক ফোয়ারার কাছে দুই বাসের রেষারেষিতে ডান হাত হারান মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। এর কয়েকদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

আরও পড়ুন:
জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক ৩
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২

শেয়ার করুন

মদের ‘কারবারেও’ নাসির

মদের ‘কারবারেও’ নাসির

পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির ইউ আহমেদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নাসির মাহমুদকে গ্রেপ্তারের পর ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ জানান, ‘আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি, তাদের কাজই মদের ব্যবসা করা। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন নাসির। তিনি এই কাজই করেন। তিনি বিভিন্ন ছোট ছোট মেয়েকে রক্ষিতা রাখেন। আমরা এখনও তদন্ত করছি।’

চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী পরীমনিকে হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় আটক নাসির ইউ মাহমুদ মদের ব্যবসা করেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ। তা ছাড়া যৌনকাজে ব্যবহারের জন্য তিনি ভাড়া করা মেয়েদের সঙ্গে রাখতেন বলেও অভিযোগ করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

পরীমনির ঘটনায় সোমবার দুপুরে নাসির ইউ মাহমুদসহ পাঁচজনকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ।

গ্রেপ্তারের পর সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হারুন-অর-রশিদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি, তাদের কাজই মদের ব্যবসা করা। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন নাসির। তিনি এই কাজই করেন। তিনি বিভিন্ন ছোট ছোট মেয়েকে রক্ষিতা রাখেন। আমরা এখনও তদন্ত করছি।’

যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ আরও বলেন, ‘আমরা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। প্রয়োজন হলে তাদের রিমান্ডে আনব। যেহেতু আমরা মাদক পেয়েছি, সেই কারণে আমরা মাদকের একটি মামলা করব ডিএমপি থেকে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু সাভারে একটি স্বাভাবিক মামলা হয়েছে, আমরা সাভার থানা পুলিশকে জানাব।’

হারুন-অর-রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শনিবার রাত থেকেই খোঁজখবর রাখছিলাম। যেহেতু মামলা হয়নি তাই গ্রেপ্তার করতে পারিনি। এখন মামলা হয়েছে, আমরা তাকে আজ ৩টার সময় উত্তরার বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছি। তবে এই বাসায় অমি থাকে। নাসির এই বাসায় এসে পালিয়ে ছিলেন। সাথে তিনজন রক্ষিতাকে নিয়ে এসেছিলেন। তার আগের অভিযোগের আমরা তদন্ত করছি।’

মদের ‘কারবারেও’ নাসির
নাসির ইউ মাহমুদ

হারুন বলেন, ‘পরীমনি স্বনামধন্য নায়িকা। তিনি সেখানে যেতেই পারেন। তার মানে তো এই না যে তাকে হ্যারাস করবে। আবার আসলেই সেখানে কী ঘটেছে সেটিও দেখতে হবে।’

শনিবার পরীমনি যে অভিযোগ করেছিলেন, সেটি থানায় আমলে নেয়া হয়নি– এই বিষয়ে কী করবেন জানতে চাইলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা পরীমনির সাথে কথা বলব। আমরা প্রতিটি অভিযোগকে খতিয়ে দেখছি। আমরা তো এদের সাভার থানার মামলা থেকেই গ্রেপ্তার করেছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নাসির ইউ মাহমুদ বা নাসির উদ্দিন মাহমুদ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান। ছিলেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান। গ্রেপ্তার অপর চারজনের নাম জানা যায়নি।

পরীমনি রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টা পর বিষয়টির বিস্তারিত নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসেন।

পরীমনি জানান, ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরা বোট ক্লাবে। নাসির উদ্দিন নামে একজন তাকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন।

মদের ‘কারবারেও’ নাসির
নাসির ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন নায়িকা পরীমনি

যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘যারা এভাবে রাতের বেলা বিভিন্ন ক্লাবে গিয়ে উঠতি বয়সী মেয়েদের ব্যবহার করে, অসামাজিক কার্যকলাপ চালায়, তাদের বিরুদ্ধে এখন থেকে আমাদের অভিযান চলবে। ঢাকা শহরের গুলশান, বনানী স্থানে রাত ৮টা-৯টার দিকে উঠতি বয়সী মেয়ে ক্লাবে গিয়ে ডিজে পার্টির নামে অনাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

বোট ক্লাবে অভিযান চালানো হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে হারুন বলেন, ‘যেহেতু মামলা হয়েছে সাভার থানায়, আমরা একটা রিকুইজিশন পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এখন যেহেতু একটা মামলা আমাদের এখানে আছে, মাদকের মামলা, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বোট ক্লাবে যাব। আরও কোনো আসামি যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখব।’

এই ঘটনায় এত তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার হলেও সাম্প্রতিক অপর একটি ঘটনায় সায়েম সোবহান আনভির কেন গ্রেপ্তার হননি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যখন আমাদেরকে রিকুইজিশন দেবে, আমরা তখন তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নিচ্ছি। আনভিরের মামলা যদি গুলশান থানা পুলিশ আমাদের রিকুইজিশন দেয়, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেব।’

পরীমনি কীভাবে সেখানে গিয়েছিলেন, সেটি জানতে পেরেছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা যেহেতু গ্রেপ্তার করেছি, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। আমরা পরীমনিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করব। তখন আমরা জানাব।’

আসামিকে সাভার থানায় পরে হস্তান্তর করা হবে জানিয়ে হারুন বলেন, ‘আমরা যেহেতু মাদক পেয়েছি, সেহেতু এখানে একটি মামলা হবে। এরপর সাভার থানা পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক ৩
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২

শেয়ার করুন

ঢাকা মেডিক্যালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত শনাক্ত

ঢাকা মেডিক্যালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত শনাক্ত

রোগীটি করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার মাথাব্যথা, সাইনোসাইটিস এবং ডানচোখে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসক শাহরিয়ার আহমেদ সৌরভের অধীনে চিকিৎসা চলছে তার। চোখে যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ছড়িয়েছে এটা রিমুভ করার সুযোগ নেই।

খুলনা থেকে ডানচোখে সমস্যা নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগীটি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীটি দুই দিন আগেই শনাক্ত হয় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. ফরহাদ হাছান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে একজন পুরুষ শনাক্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে খুলনা চিকিৎসা নিতে হাসপতালে ভর্তি হন। এর আগে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।’

এই রোগীর চিকিৎসা চলছে জানিয়ে ফরহাদ হাছান বলেন, ‘আমি তাকে ফাঙ্গাস ইনফেকশন সন্দেহ করি এবং নাক কান গলা বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে সাইনাস অপারেশন করি। তারপর ওখানকার স্যাম্পল নিয়ে ফাঙ্গাস টেস্ট করতে দিই। রোগীর হিস্টোপ্যাথলজি, মাইক্রোস্কপি আর কালচার তিনটাতেই মিউকর মাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়। বর্তমানে রোগীর এম্ফোটেরিসিন-বি দিয়ে চিকিৎসা চলছে। মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষাগুলো করেন বারডেম হাসপাতালের প্রফেসর লাভলি বাড়ৈ।

তিনি জানান, রোগীটির মাথাব্যথা, সাইনোসাইটিস এবং ডানচোখে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। চিকিৎসক শাহরিয়ার আহমেদ সৌরভের অধীনে চিকিৎসা চলছে। চোখে যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ছড়িয়েছে এটা রিমুভ করার সুযোগ নেই।

চোখ ফেলে দেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জাবাবে ফরহাদ হাছান বলেন, ‘আমরা চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিচ্ছি। আমরা আশা করছি, ওনি সুস্থ হয়ে যাবেন।’

আর আগে গত ২৫ মে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছিল বারডেম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘোষণার তিনদিন আগে ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ব্ল্যাকফাঙ্গাস শনাক্ত হয়েছে তিনজনের শরীরে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে নতুন আতঙ্কের নাম এখন ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। মহামারিতে নাজেহাল ভারতে ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে এই ছত্রাকের সংক্রমণ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশেও রোগটি শনাক্তের খবর আসছে।

গত এক-দেড় মাসে ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তদের প্রায় সবাই করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠার কিছুদিনের মধ্যে ছত্রাকটিতে আক্রান্ত হন।

আরও পড়ুন:
জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক ৩
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২

শেয়ার করুন

বোট ক্লাব বলল, বারে সিসি ক্যামেরা ছিল না

বোট ক্লাব বলল, বারে সিসি ক্যামেরা ছিল না

সাভারের বিরুলিয়ায় বোট ক্লাবের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

 ঢাকা বোট ক্লাবের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বারে ছোটখাটো দুয়েকটা ইন্সিডেন্স হয়। অনেক সম্মানিত সদস্য হয়তো স্বাভাবিকের চেয়ে এক পেগ বেশি ড্রিঙ্ক করে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন না। তখন তাদের আমাদের লোকজন সম্মানের সাথে গাড়িতে তুলে দেন। অথবা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ওই দিনের ঘটনাকে বারের লোকজন হয়তো এ রকম একটা ঘটনা মনে করেছিলেন।’

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাস্থল ঢাকা বোট ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরীমনি ওই দিন ক্লাবে এসেছিলেন, এটি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে সেখানে অপরাধমূলক কিছু ঘটেছে কি না এটা তারা ঘটনার সময় বুঝতে পারেননি।

ক্লাবের পক্ষ থেকে এটির এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য (অ্যাডমিন) বখতিয়ার আহমেদ খান সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যিনি অভিযুক্ত, তিনি এই ক্লাবের একজন সদস্য। আমাদের ক্লাবে প্রায় ২ হাজার সদস্য রয়েছেন।

‘পরীমনি এই ক্লাবের সদস্য না। তিনি কোনো সদস্যের সঙ্গে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। ওই দিন পরীমনি এসেছিলেন, এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ঠিক কী ঘটেছে তা বলতে পারছি না। এখানে একটা লাইসেন্সড বার রয়েছে। সদস্যদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বারের ভিতরে কোনো সিসি ক্যামেরা রাখা হয়নি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব সদস্য বারে প্রবেশ করতে পারেন না। সাধারণত যাদের ড্রিঙ্কিং লাইসেন্স রয়েছে, তারা প্রবেশ করেন। হয়তো দু-একজন অতিথিও সেখানে প্রবেশ করেন।

‘বারে ছোটখাটো দুয়েকটা ইন্সিডেন্স হয়। অনেক সম্মানিত সদস্য হয়তো স্বাভাবিকের চেয়ে এক পেগ বেশি ড্রিঙ্ক করে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন না। তখন তাদের আমাদের লোকজন সম্মানের সাথে গাড়িতে তুলে দেন। অথবা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ওই দিনের ঘটনাকে বারের লোকজন হয়তো এ রকম একটা ঘটনা মনে করেছিলেন।

‘তবে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ দেখে আমরা বুঝতে পারলাম, এটা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। তবে তা ক্লাবের নির্দিষ্ট সময়ের পর বা রাত ১১টার পর ঘটেছে।

এই ঘটনা নিয়ে আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তদন্ত করছে, তাই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’

বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, এই ঘটনা ক্লাবের ভাবমূর্তির সাথে যায় না।

আরও পড়ুন:
জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক ৩
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২

শেয়ার করুন

আরমানের জেল খাটার দায় সাত পুলিশের

আরমানের জেল খাটার দায় সাত পুলিশের

মো. আরমান। ফাইল ছবি

ভুল পরিচয়ে মিরপুরের পল্লবী থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর পাঁচ বছর জেল খাটতে হয় তাকে। পিবিআই তদন্ত করে দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ রকম ভুল এড়াতে চার দফা সুপারিশ করেছে।

পাঁচ বছর আগে রাজধানীর পল্লবী থেকে নিরাপরাধ মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় পল্লবী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ সাত পুলিশ সদস্যকে দায়ী করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এই তদন্ত প্রতিবেদনে চার দফা সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটির প্রতিবেদন সোমবার হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনে পল্লবী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম, আরেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. দাদন ফকির, মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (বর্তমানে পরিদর্শক) সিরাজুল ইসলাম খান, আরমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনাকারী টিম প্রধান এসআই (বর্তমানে পরিদর্শক) মো. রাসেল, এএসআই (বর্তমানে এসআই) হযরত আলী, ডিউটি অফিসার এসআই (বর্তমানে পরিদর্শক) মনিয়ারা আক্তার এবং এএসআই (বর্তমানে অবসরে) খান ইমদাদুল হককে দায়ী করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আরমান যেন আরেক জাহালম

এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রতিবেদনে চার দফা সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম দফায় বলা হয়েছে, আসামির নামের সঙ্গে তার পিতা-মাতার নাম সঠিকভাবে লিখতে হবে। দ্বিতীয় সুপারিশে আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার ছবি ধারণ করার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় সুপারিশে বলা হয়েছে, আসামির সঠিক নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধান স্লিপের (ই/এস) সঙ্গে আসামির ছবি সংযুক্ত করতে হবে। বর্তমানে প্রচলিত অনুসন্ধান স্লিপের পরিবর্তে তদন্ত কমিটির প্রস্তাবিত ফরম ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য ওই ফরম ছাপিয়ে সব থানায় সরবরাহ করতে হবে।

চার নম্বর সুপারিশে আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট (যদি থাকে), ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে) এবং জন্মনিবন্ধন সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

আরমানকে বেআইনিভাবে আটকের ঘটনায় দায় নিরূপণে পিবিআইকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পিবিআইয়ের উপ-মহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) গত বছর ৩১ ডিসেম্বর নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সেই নির্দেশের আলোকে পিবিআই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে। কমিটির প্রতিবেদন সোমবার হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব।

‘কারাগারে আরেক জাহালম’ শিরোনামে ২০১৯ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে প্রথমে ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন একটি রিট আবেদন করে।

কিন্তু সেই আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয় আদালত। পরবর্তীতে এ নিয়ে আরমানের মা বানু পৃথক একটি রিট আবেদন করেন। এই রিট আবেদনে শুনানি নিয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দীন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়। রায়ে আরমানকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩০ আগস্ট রাতে পল্লবীর ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ৮ নম্বর লেনের ৭ নম্বর ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ শাহাবুদ্দিন এবং তার দুই সহযোগী সোহেল মোল্লা ও মামুন ওরফে সাগরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

এরপর তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় দুই বছর কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান শাহাবুদ্দিন।

আরও পড়ুন: অবশেষে মুক্তি পেলেন আরমান

মামলায় বিচার শেষে ২০১২ সালের ১ অক্টোবর রায় দেয় ঢাকার একটি আদালত। রায়ে শাহাবুদ্দিনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের দিন শাহাবুদ্দিন পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এ মামলায় ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি পুলিশ বেনারসি কারিগর মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করে। সেই থেকে কারাবন্দি ছিলেন তিনি। গত ডিসেম্বরে হাইকোর্ট তাকে মুক্তির নির্দেশ দেয়।

মামলার মূল আসামি শাহাবুদ্দিনের পিতার নাম ইয়াসিন ওরফে মহিউদ্দিন। আর আরমানের পিতার নামও ইয়াসিন। উভয় ইয়াসিনই ছিলেন মৃত।

পিতার নামের এমন মিলের কারণে শাহাবুদ্দিন বিহারি হিসেবে মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক ৩
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২

শেয়ার করুন

সাংবাদিক পরিচয়ে মাদক কারবার, গ্রেপ্তার ৩

সাংবাদিক পরিচয়ে মাদক কারবার, গ্রেপ্তার ৩

পুলিশ বলছে, তারা সাংবাদিক পরিচয়ে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১২ কেজি গাঁজা এবং মাদক কারবারে ব্যবহৃত একটি বেসরকারি টিভির লোগো সম্বলিত টয়োটা এক্স করোলা প্রাইভেটকার ও একটি ভিডিও ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়।

রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন মাদক কারবারীকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়া, মহিদুল ইসলাম ও সাদ্দাম হোসেন।

পুলিশ বলছে, তারা সাংবাদিক পরিচয়ে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন। রোববারের অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১২ কেজি গাঁজা এবং মাদক কারবারে ব্যবহৃত একটি বেসরকারি টিভির লোগো সম্বলিত টয়োটা এক্স করোলা প্রাইভেটকার ও একটি ভিডিও ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিবির মিরপুরের জোনাল টিম দারুস সালাম কোর্টবাড়ী এলাকায় এ বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় একটি বেসরকারি টিভির লোগো সম্বলিত প্রাইভেটকারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গাড়িটি তল্লাশি করে ১২ কেজি গাঁজা ও টিভিটির লোগো সম্বলিত ভিডিও ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়।

এডিসি ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ওই টিভির সাংবাদিক পরিচয়ে লোগো সম্বলিত প্রাইভেটকার ও ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধোঁকা দিয়ে মাদক কারবার চালিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছেন। তারা কেউই সাংবাদিক নন। শুধু মাদকের কারবারের জন্য ওই টিভির নাম সম্বলিত গাড়ি ও প্রাইভেট কার ব্যবহার করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক ৩
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২

শেয়ার করুন

গুলশানে সুইমিংপুলের পাশে নারীর মরদেহ

গুলশানে সুইমিংপুলের পাশে নারীর মরদেহ

গুলশান থানার এসআই রনি নিউজবাংলাকে জানান, গুলশান-২-এর ৬৯ নম্বর রোডের, ৯ নম্বর বাড়ির সুইমিংপুলের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, ‘ভবনটি ১২তলা। আমরা যতটুকু দেখলাম তিনি ওপর থেকে নিচে পড়েছেন। কীভাবে পড়েছেন তার তদন্ত চলছে। ইসরাত জেবিন মিতুর স্বামী নাইম আহম্মেদ একটা ডেভেলপার কোম্পানির ডিরেক্টর। মিতুও ওই কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন।’

রাজধানীর গুলশানের একটি বহুতল ভবনের সুইমিংপুলের পাশ থেকে ইসরাত জেবিন মিতু নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মিতু একটি আবাসন কোম্পানির পরিচালক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রনি নিউজবাংলাকে জানান, সোমবার বেলা পৌনে ২টার দিকে গুলশান-২-এর ৬৯ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়ির সুইমিংপুলের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

রনি বলেন, ‘ভবনটি ১২তলা। আমরা যতটুকু দেখলাম তিনি ওপর থেকে নিচে পড়েছেন। কীভাবে পড়েছেন তার তদন্ত চলছে। ইসরাত জেবিন মিতুর স্বামী নাইম আহম্মেদ একটা ডেভেলপার কোম্পানির ডিরেক্টর। মিতুও ওই কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন।’

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটতে পারে বলে মনে হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই রনি বলেন, ‘এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে।’

তিনি জানান, মিতুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ঘটনার সময় তার স্বামী বাসায় ছিলেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই নারীর স্বামীর নাম নাজ রাজন নাইম আহমেদ। তার বাবার নাম আব্দুল মুকিত দেওয়ান। যতদূর শুনেছি আব্দুল মুকিত হোটেল লা মেরিডিয়ানের মালিকের একজনের ভাই। তারা ৭ ভাই। তিনি তাদের একজন। তবে বড় ভাই নাকি ছোট ভাই সেটা জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মৃতের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আছে। আমাদের পুলিশ সেখানে আছে। এখনও মামলা হয় নাই।’

ভবনটির সিকিউরিটি গার্ড হুমায়ুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ম্যাডামকে গতকাল সন্ধার আগে দেখেছি নিচ দিয়ে ঘুরাঘুরি করতে। তার বান্ধবীরা আসছিলেন। তাদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে ডিউটিতে এসে আগের ডিউটিতে যারা ছিলেন তাদের কাছ থেকে শুনলাম, সুইমিংপুলের পাশে ম্যাডামকে পাওয়া গেছে। এও শুনলাম, উনি নাকি উপর থেকে পড়েছেন। ম্যাডাম স্বামীর সঙ্গে ৯ তলায় থাকতেন। সুইমিংপুল বাড়ির পেছনের দিকে।’

আরও পড়ুন:
জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক ৩
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২

শেয়ার করুন