জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক ৩

জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক ৩

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় বাংলাদেশি এক হাজার ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের মোট ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকার জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির বিপুলসংখ্যক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

রাজধানীর মিরপুর থেকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা, টাকা জাল করার অত্যাধুনিক সরঞ্জামসহ জাল টাকা তৈরি চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে তাদের আটক করে র‍্যাব-২।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- ইমাম হাসান সাইফী, তৌহিদুল ইসলাম ও সাব্বির হোসাইন।

র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় বাংলাদেশি এক হাজার ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের মোট ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকার জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির বিপুলসংখ্যক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আটক ব্যক্তিদের প্রাথামিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা জাল টাকা তৈরির সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা পরস্পর যোগসাজসে মিরপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কম্পিউটার ফটোশপ সফট্ওয়্যার ও বিভিন্ন প্রকার সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মূল্যমানের টাকার জাল নোট তৈরি করে আসছিলো। এই জাল টাকা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ এবং বিক্রি করে আসছিল।

তিনি আরও বলেন, এ কাজে তারা অত্যাধুনিক কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন, স্ক্রিন প্রিন্ট, ধাতব প্লেট (ডাইস), উন্নতমানের কাগজ, বিভিন্ন প্রকার কালি, বিভিন্ন ধাতব পাউডারসহ অনেক সরঞ্জাম ব্যবহার করত। এ কাজ তারা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছিল। আটক ইমাম হাসান সাইফী ও তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন:
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২
অপহরণের অভিযোগে আটক নারীসহ ৬

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন

ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি ঝুমন দাশের জামিন আবেদন নাকচের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

ঝুমন দাশের জামিন আবেদন নাকচের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা ঝুমন দাশের মুক্তি দাও, মুশতাক হত্যার বিচার চাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করো, জান ও জবানের স্বাধীনতা চাইসহ আরও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন৷

হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি ঝুমন দাশের জামিন আবেদন নাকচের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠন। এসময় তারা ঝুমন দাশসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার সবার মুক্তির দাবি জানান।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ঝুমন দাশের মুক্তি দাও, মুশতাক হত্যার বিচার চাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করো, জান ও জবানের স্বাধীনতা চাইসহ আরও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন৷

মানববন্ধনে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সহসভাপতি সাইদুল হক নিশান বলেন, এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে তাদের কিন্তু আগে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তারপর গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সংবিধান বিরোধী। আমার শত্রুর বিরুদ্ধেও যদি এই আইনে মামলা হয় আমি সেটির বিরোধীতা করবো৷ কারণ এই আইন জনগণের মতামতকে ক্ষুণ্ণ করার আইন। এসময় তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং এ আইনে গ্রেপ্তার ঝুমন দাশসহ সকলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের প্রচার সম্পাদক রাকিব জামান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বানিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। এ আইন শেখ হাসিনার গদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে৷ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এটা ভুল কথা। একদিকে এরা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে আর অন্যদিকে সবচেয়ে জগন্যভাবে মৌলবাদী শক্তিকে তোষণ করে।

ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসাধারণ সম্পাদক মেঘমল্লার বসু বলেন, ঝুমন দাশ লিখেছিলেন মামুনুল হক এমন একজন লোক যিনি হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ কথা যদি অপরাধ হয় তাহলে অনেক মন্ত্রী এমপিদের আজ কারাগারে থাকার কথা। জনগনের ঐক্যকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করছে। গত পঞ্চাশ বছর ধরে জনগণকে বিভক্ত করে আমাদের লুটেপুটে খাওয়ার রাজনীতি চলছে। সেই রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত আওয়াজ তুলতে হবে।

নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক মার্জিয়া প্রভা মানববন্ধনের সঞ্চালনা করেন। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার বক্তব্য রাখেন।

সুনামগঞ্জের শাল্লার যুবক ঝুমন দাশের এক ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেই গত ১৭ মার্চ শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হামলা চালায় হেফাজতে ইসলামের অনুসারীরা। এ সময় গ্রামের বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়। অন্তত ৯০টি বাড়িতে হামলা করা হয়। হামলাকারীদের অভিযোগ, ঝুমন দাশ হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন। এরপর ঝুমন দাশকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২
অপহরণের অভিযোগে আটক নারীসহ ৬

শেয়ার করুন

জরিমানা সাড়ে ১৩ লাখ টাকা, গ্রেপ্তার ৩৫৪

জরিমানা সাড়ে ১৩ লাখ টাকা, গ্রেপ্তার ৩৫৪

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণ রুখতে চলমান ‘শাটডাউন’ আরও পাঁচদিন বাড়িয়েছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

ঈদের পরে শাটডাউনের ১২তম দিন মঙ্গলবারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর সড়কে ৫৩২টি গাড়িকে জরিমানা করা হয়েছে ১১ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

এ ছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১২০ জনকে জরিমানা করা হয় ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

এ সময় ৩৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিধিনিষেধ না মানায় মোট গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৫৪ জনকে। এ ছাড়া মোবাইল কোর্ট ১২০ জনকে জরিমানা করা হয় ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। সড়কে ৫৩২টি গাড়িকে জরিমানা করা হয়েছে ১১ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণ রুখতে চলমান ‘শাটডাউন’ আরও পাঁচদিন বাড়িয়েছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে সভার সভাপতি মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘১১ আগস্ট থেকে যানবাহন চলবে। সেটা রোটেশন মাফিক। জেলা প্রশাসন স্থানীয়ভাবে এটির ব্যবস্থা করবে। ১০ আগস্ট পর্যন্ত বিধিনিষেধ চলমান থাকবে।’

বর্তমানে দেশে ঈদুল আজহা পরবর্তী ১৪ দিনের শাটডাউন চলছে, যা শেষ হবে ৫ আগস্ট। এর আগেই তা আরও পাঁচদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এলো সরকার থেকে।

আরও পড়ুন:
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২
অপহরণের অভিযোগে আটক নারীসহ ৬

শেয়ার করুন

ডেঙ্গুতে আরও ২৬৪ জন হাসপাতালে

ডেঙ্গুতে আরও ২৬৪ জন হাসপাতালে

ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশা। ছবি: কবিরুল বাশার

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৭২ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১ হাজার ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। গত এক দিনে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৬৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে মঙ্গলবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হন ২৪৮ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হন ১৬ জন।

চলতি বছর এ নিয়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৬ জনের দেহে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৮৬ জন ছিলেন গত মাসেই।

এসব রোগীর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ হাজার ৩৭০ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৭২ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর এই বিস্তার নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে সরকার। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র এডিস মশা নির্মূলে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। নগরীর বিভিন্ন ভবনে অভিযান চালিয়ে এডিস বিস্তারের পরিবেশ থাকায় জরিমানা করা হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে চলছে প্রচার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায় মশার মাধ্যমে। আর অন্য মশার সঙ্গে ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী এডিস মশার পার্থক্য আছে। মূলত এই মশার জন্ম হয় আবদ্ধ পরিবেশে। ফলে নাগরিকরা সচেতন না হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা কঠিন।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু রোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর গত বছর সতর্ক অবস্থানে ছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তারপরও ২০২০ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৪০৫ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন মারা যান।

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারে আক্রান্ত হয় ১ লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের। গত বছর সংক্রমণের মাত্রা অনেকটা কম থাকলেও এ বছর পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। শহরের মানুষ ঈদের জন্য গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় ৬৪টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। ঢাকা শহরের সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এখন লকডাউনের কারণে বন্ধ, এগুলো এডিস মশার প্রজননের বড় ক্ষেত্র।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে মশা নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে, এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে পারে।’

নির্দিষ্ট হচ্ছে হাসপাতাল

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ডেঙ্গু রোগীদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিতে কয়েকটি হাসপাতাল নির্দিষ্ট করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের এমন পরিস্থিতিতে নতুন সংকট তৈরি করেছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই হাসপাতালের বারান্দায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ‌্যা বাড়ছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের অনেকেই হাসপাতালে এসে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ডেঙ্গু রোগীদের জন‌্য সুনির্দিষ্ট হাসপাতালের ব‌্যবস্থা করার পরিকল্পনা নিচ্ছি।’

সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ, শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, লালকুঠি হাসপাতাল, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালকে ডেঙ্গু চিকিৎসায় ‘ডেডিকেটেড’ করা হবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২
অপহরণের অভিযোগে আটক নারীসহ ৬

শেয়ার করুন

বস্তি থেকে ১৫ তলা ফ্ল্যাটে

বস্তি থেকে ১৫ তলা ফ্ল্যাটে

বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক ৩০০ ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়। ফাইল ছবি

মিরপুরের বাউনিয়াবাদ বস্তির বাসিন্দা উজ্জ্বল কুমার ফ্ল্যাট বুঝে নিয়ে বললেন, ‘এখানে ভাড়া বস্তির চেয়ে কম। আগে বস্তিতে থাকতাম এক রুম নিয়ে। এখন পরিবার নিয়ে কম ভাড়ায় ভালোভাবে থাকতে পারব।’

মিরপুরের বস্তিতে থাকেন পারুল আক্তার। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তার হাতে আধুনিক সেবাসম্পন্ন ফ্ল্যাটের চাবি যখন তুলে দেয়া হয়, তার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল।

বস্তিবাসীর জন্য ভাড়াভিত্তিক ৩০০ ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফ্ল্যাট পাওয়া বস্তিবাসী পারুল আক্তার বলেন, ‘আগেও টাকা দিয়ে বস্তিতে থাকতে হইত, কিন্তু কম টাকায় এখন ফ্ল্যাটে থাকার সুযোগ পাইছি। এ জন্য আমরা খুশি।’

ফ্ল্যাট পাওয়া বস্তিবাসী জানান, বস্তিতে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা খুবই সীমিত। ঝড়বৃষ্টিতে কষ্টের সীমা থাকে না, অথচ ভাড়া দিতে হয় বেশি। সেদিক দিয়ে স্বচ্ছন্দ জীবন হবে তাদের জন্য বরাদ্দ ফ্ল্যাটগুলোতে।

তবে ফ্ল্যাট বুঝে পাওয়া অনেকেই জানান, ভাড়া আরও কম হলে ভালো হতো।

মিরপুরের বাউনিয়াবাদ বস্তিতে থাকেন উজ্জ্বল কুমার। ফ্ল্যাট বুঝে পেয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানে ভাড়া বস্তির চেয়ে কম।

আগে বস্তিতে থাকতাম এক রুম নিয়ে। এখন পরিবার নিয়ে কম ভাড়ায় ভালোভাবে থাকতে পারব।’

উজ্জ্বল কুমার বলেন, ‘২২ বছর ধরে ওই বস্তিতে আছি। সরকার আমাদের জন্য এই যে প্রজেক্ট নিছে, তাতে আমরা খুশি। সরকার আমাদের মতো গরিবদের জন্য যে কাজ করতেছে, এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। তয় সরকার যদি আমাদের নামে এই ফ্ল্যাটগুলো দিয়ে দেয়, তাহলে ভালো হয়। আর ভাড়া আরেকটু কম করলে ভালো হইত।’

২০ বছর ধরে মিরপুরের কলাবাগান বস্তিতে থাকেন লিপি আক্তার। তিনি বলেন, ‘স্বামী নাই। তিন মেয়েরে নিয়া থাকি। তাদের নিয়া ভালোভাবে থাকতে পারব।’

লিপি বলেন, ‘ফ্ল্যাটে আমাদের ভাড়া দিতে হবে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। আমি আগে আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতাম দুইটা রুম নিয়া। তাতে আমাগো ১০ হাজার টাকা চইলা যাইত।’

বস্তি থেকে ১৫ তলা ফ্ল্যাটে
ফ্ল্যাটের কাজগপত্র পেয়ে উৎফুল্ল বস্তিবাসী। ছবি: নিউজবাংলা

লিফট, জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ, প্রশস্ত ওয়াকওয়ে, বিদ্যুতের সাবস্টেশন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লাইটিং ভবন আবাসিক ভবন এলাকায়। দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক- এই চার ক্যাটাগরিতে বস্তিবাসী ভাড়া দিতে পারবেন। দৈনিক ১৫০ টাকা, সাপ্তাহিক ১ হাজার ৫০ টাকা, পাক্ষিক ২ হাজার ২৫০ টাকা ও মাসিক ৪ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া দেয়া যাবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যোগ দেন। এর আগে বাসে করে প্রাপকদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনে প্রায় ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ফ্ল্যাটের প্রকল্প নেয়া হয় ২০১৮ সালে। ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাটের মধ্যে ৩০০ ফ্ল্যাট মঙ্গলবার বস্তিবাসীর হাতে তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হয়ে বস্তিবাসীর হাতে ফ্ল্যাটের কাগজপত্র হস্তান্তর করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্রে বেশ কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভাড়াগ্রহীতা ফ্ল্যাটে বসবাস করতে না চাইলে ন্যূনতম ১৫ দিন আগে লিখিতভাবে অবহিত করবেন এবং ফ্ল্যাটের দখল জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে দায়মুক্তি গ্রহণ করবেন।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে নগদে অথবা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে মানি রসিদ/চালানের মাধ্যমে অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করা যাবে। ফ্ল্যাটের ভাড়াসহ প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জ ও ইউটিলিটি বিল প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২
অপহরণের অভিযোগে আটক নারীসহ ৬

শেয়ার করুন

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মন্ত্রীর সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মন্ত্রীর সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা

রাজধানীর মিরপুরে হেলেনা জাহাঙ্গীরের জয়যাত্রা টেলিভিশনের কার্যালয়।

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সম্পর্ক আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাজির করার চেষ্টা করতেন হেলেনা। আমরা দেখেছি সে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ব্যবহার করত, যেগুলো নিজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণার জন্য। আপনারা যেটা বলেছেন, সেটা এ ধরনের প্রতারণার অংশ কি না সেটি গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা খতিয়ে দেখছে।’

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সম্পর্ক প্রতারণার অংশ কি না সেটি খতিয়ে দেখছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নসহ (র‍্যাব) অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা।

মঙ্গলবার দুপুরে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সম্পর্ক আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘জয়যাত্রা টেলিভিশন আইপি টিভির নামে স্যাটেলাইট টিভি পরিচালনা করে আসছিল। স্যাটেলাইট টিভি সম্প্রচারের সমস্ত কিছু সেখানে ছিল। হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা টেলিভিশনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিয়ে আসতেন।’

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাজির করার চেষ্টা করতেন হেলেনা। আমরা দেখেছি সে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ব্যবহার করত, যেগুলো নিজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণার জন্য। আপনারা যেটা বলেছেন, সেটা এ ধরনের প্রতারণার অংশ কি না সেটি গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা খতিয়ে দেখছে।’

ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন আইপি টিভি জয়যাত্রা কার্যক্রম শুরু করে ২০১৮ সালে। টিভিতে কর্মরতদের বেতন দেয়ার বদলে উল্টো তাদের কাছ থেকেই চাঁদা নিতেন তিনি। এর বিনিময়ে জয়যাত্রা আইপিটিভির আইডি কার্ড ব্যবহার করতে পারত চাঁদাদাতারা।

মঙ্গলবার র‍্যাব জানিয়েছে আইপিটিভির নামে স্যাটেলাইটে সম্প্রচার চালাচ্ছিল জয়যাত্রা টিভি। ২০১৮ সাল থেকে হংকংয়ের একটি ডাউনলিংক চ্যানেল হিসেবে সম্প্রচার হয়ে আসছিল। যার ফ্রিকোয়েন্সি হংকং থেকে বরাদ্দ করা হয়। এর জন্য হংকংকে মাসে ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করত জয়যাত্রা।

জয়যাত্রা টিভির জিএম (এডমিন) হাজেরা খাতুন ও প্রতিনিধি সমন্বয়ক সানাউল্ল্যাহ নূরীকে গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পেরেছে র‍্যাব।

গৃহবধূ থেকে ব্যবসায়ী হয়ে সিআইপির (কমার্শিয়ালি ইমপর্টেন্ট পারসন) স্বীকৃতি পাওয়া জয়যাত্রা আইপি টিভির মালিক হেলেনা জাহাঙ্গীর সম্প্রতি তুমুল আলোচিত হয়ে ওঠেন ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচার চালাতে গিয়ে। আওয়ামী লীগে এই নামে কোনো সংগঠন নেই। তিনি এই সংগঠনকে সামনে নিয়ে আসার পর ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছ থেকে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের পদ হারান হেলেনা। ক্ষমতাসীন দলের মহিলা বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যপদ ছাড়াও কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। ওই ঘটনায় পিছুটান দেন হেলেনা। বলেন, তিনি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে এই সংগঠনের কেউ না। তাকে সম্প্রতি সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১-এর অভিযানে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫ নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়।

ওইদিন রাতেই জয়যাত্রার অফিসে যায় র‍্যাব। রাত দেড়টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বরে টেলিভিশনটির অফিসে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন র‍্যাব সদস্যরা।

প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযানের পর র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ জানান, জয়যাত্রা টেলিভিশনের কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। যদিও সম্প্রচার চ্যানেল হিসেবে যা যা থাকা দরকার, তার সবকিছুই রয়েছে।

জয়যাত্রার বিষয়ে পরে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন ওই র‍্যাব কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২
অপহরণের অভিযোগে আটক নারীসহ ৬

শেয়ার করুন

আরও ৮ দিন রিমান্ডে হেলেনা

আরও ৮ দিন রিমান্ডে হেলেনা

আরও দুই মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আট দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আনা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিন দিনের রিমান্ডে শেষে আদালতে তোলা হলে আরও দুই মামলায় আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে বহিষ্কৃত এই নেতাকে আটদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

আলোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আরও দুই মামলায় আট দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে চাঁদাবাজির মামলায় চারদিন এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ মামলায় চারদিন করে রিমান্ড দেয়া হয়েছে।

হেলেনার উপস্থিতিতে ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) শাহীনুর রহমান এ আদেশ দেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে তার গুলশানের বাসা থেকে আটক করে র‌্যাব। শুক্রবার রাতে তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং পল্লবী থানায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়।

এর মধ্যে গুলশান থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে এই মামলায় তাকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

হেলেনার বিরুদ্ধে সোমবার বিকেলে পল্লবী থানায় চাঁদাবাজির মামলা হয়। মামলাটি করেন আব্দুর রহমান তুহিন নামে ভোলার এক সাংবাদিক।

মামলাটির বিষয়ে পল্লবী থানা জানায়, হেলেনার মালিকানাধীন জয়যাত্রা টিভিতে ভোলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার নামে আব্দুর রহমান তুহিনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয় কর্তৃপক্ষ।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় সাতদিন এবং চাঁদাবাজি মামলায় সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

আসামি পক্ষে শফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল এবং জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আইনজীবী বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর একটি প্রতিহিংসার শিকার।

রাষ্ট্র পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

শুনানি শেষে দুই মামলায় চার দিন করে মোট আট দিনের রিমান্ড আদেশ দেন বিচারক।

আরও পড়ুন:
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২
অপহরণের অভিযোগে আটক নারীসহ ৬

শেয়ার করুন

হংকং থেকে ফ্রিকোয়েন্সি কিনে সম্প্রচার চলছিল জয়যাত্রার

হংকং থেকে ফ্রিকোয়েন্সি কিনে সম্প্রচার চলছিল জয়যাত্রার

গ্রেপ্তারের পর হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগীকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, স্যাটালাইট টেলিভিশনের অনুমতি না থাকলেও হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইপি টেলিভিশন জয়যাত্রা ২০১৮ সাল থেকে সম্প্রচার হয়ে আসছিল।

আইপিটিভির নামে স্যাটেলাইটে সম্প্রচার চালাচ্ছিল জয়যাত্রা টিভি। ২০১৮ সাল থেকে হংকংয়ের একটি ডাউনলিংক চ্যানেল হিসেবে সম্প্রচার হয়ে আসছিল। যার ফ্রিকোয়েন্সি হংকং থেকে বরাদ্দ করা হয়। এর জন্য হংকংকে মাসে ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করত জয়যাত্রা।

জয়যাত্রা টিভির জিএম (এডমিন) হাজেরা খাতুন ও প্রতিনিধি সমন্বয়ক সানাউল্ল্যাহ নূরীকে গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পেরেছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার দুপুরের র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, স্যাটালাইট টেলিভিশনের অনুমতি না থাকলেও হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইপি টেলিভিশন জয়যাত্রা ২০১৮ সাল থেকে সম্প্রচার হয়ে আসছিল।

এ ছাড়া দেশে সম্প্রচারের জন্য ক্যাবল ব্যবসায়ীদের কাছে রিসিভার দিয়ে ক্যাবল ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। প্রতিনিধিরা ক্যাবল ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সম্প্রচার নিশ্চিত করতে না পারলে চাকরিচ্যুত করা হতো বলেও জানান তিনি।

খন্দকার মঈন বলেন, দেশের প্রায় ৫০টি জেলায় সম্প্রচার হয় জয়যাত্রা টিভি। টিভি চ্যানেলটি রাজধানী ও জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনপ্রিয় করার লক্ষে ব্যাপক উদ্দেশ্য প্রণোদিত পরিকল্পনা নেয়া হয়। যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অধিকসংখ্যক প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা যায়।

মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর গাবতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরের অন্যতম সহযোগী হাজেরা খাতুন ও সানাউল্ল্যাহ নূরীকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

র‍্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার হাজেরা খাতুন ২০০৯ সালে কুমিল্লার একটি কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন মিরপুরের এক পোশাক কারখানায় অ্যাডমিন (এইচআর) পদে চাকরি শুরু করেন। তিনি হেলেনা জাহাঙ্গীরের নিকটাত্মীয় এবং একইসাথে কর্মদক্ষতা শুনে হেলেনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০১৬ সালে তিনি ‘জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন’ এর ডিজিএম হন। ২০১৮ সালে জয়যাত্রা টিভি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জিএম (অ্যাডমিন) পদে নিযুক্ত হন। হাজেরা মূলত দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ হেলেনার আর্থিক বিষয়াদি দেখভাল করতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, ‘হাজেরা খাতুন আমাদের জানান, অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিরা নিয়োগ পেয়েছেন জয়যাত্রা টিভিতে। হেলেনা জাহাঙ্গীরের পরিকল্পনা, উৎসাহে বা চাপে, নির্দেশনায় জয়যাত্রা টিভির কোনো কোনো প্রতিনিধি নেতিবাচক কর্মকাণ্ডেও জড়িত হন।’

এ ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যক্তির প্রচার, প্রার্থিতা প্রচার, সাক্ষাৎকার ইত্যাদির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ গ্রেপ্তার দুজনের মাধ্যমে হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রহণ করতেন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানান।

খন্দকার আল মঈন জানান, যেসব বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে প্রচার হতো না সেগুলো জয়যাত্রা টিভিতে প্রচার করা হতো। যেমন, তাবিজ-কবজ, টুটকা-ফাটকা, ভাগ্য বলে দিতে পারে, জ্বীনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, ফাঁড়া কেটে যাওয়া এবং গোপন সমস্যার সমাধান ইত্যাদি।

গ্রেপ্তার হাজেরা খাতুন জানান, হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা টিভিকে তিনি নিজ প্রচার ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ব্যবহার করতেন। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জয়যাত্রা টিভি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক প্রচার চালাতেন। তিনি তার প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুতদের একইভাবে হেনস্থা করতেন।

জয়যাত্রা টিভির বিশাল নেটওয়ার্ক নিয়ে তিনি নেতিবাচক উদ্দেশ্য চরিতার্থে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন। মূল মিডিয়া জগতের বিপরীতে তিনি একটি সংগঠন তৈরির পরিকল্পনা করেন, যেখানে ৫ হাজার সংবাদকর্মীর একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি হবে। তিনি দেশব্যাপী এই নেটওয়ার্ক ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেন। মাঝে মধ্যে তিনি ঢাকায় কর্মী সমাবেশ করতেন এবং ক্ষেত্র বিশেষে নিজের শো-ডাউনে তাদেরকে ব্যবহার করতেন বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন সম্পর্কে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ফাউন্ডেশনে ডোনার, জেনারেল মেম্বার, লাইফ টাইম মেম্বার ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। এই সংগঠনের প্রায় ২০০ সদস্য রয়েছেন। যাদের কাছ থেকে সদস্য পদ বাবদ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। যার অল্পকিছু মানবিক কাজে সহায়তা দিলেও অবশিষ্ট অর্থ তার সন্তানদের নামে সঞ্চয় করা হতো বলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান।

গ্রেপ্তার সানাউল্ল্যা নুরী জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি সমন্বয়ক ছিলেন। তিনি হেলেনা জাহাঙ্গীরের নির্দেশনায় প্রতিনিধিদের সমন্বয় করতেন। প্রতিনিধিদের কেউ মাসিক টাকা দিতে ব্যর্থ হলে বা গড়িমসি করলে তিনি ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতেন। এলাকাতে তার নামে চাঁদাবাজি অভিযোগ রয়েছে। তিনি গাজীপুর গার্মেন্টস সেক্টরে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে তার একটি অংশও জয়যাত্রা টিভিতে প্রদান করতেন বলে জানান।

এ ছাড়া তিনি গাজীপুর ও তদসংলগ্ন এলাকার অনুমোদনহীন জয়যাত্রা টিভির সম্প্রচার নিশ্চিত করতেন।

আরও পড়ুন:
সাড়ে ৫ লাখ চিংড়ির রেণু পোনাসহ আটক ২০
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১০ জনকে আটক
রেফারি সমিতির অফিস থেকে আটক ১৯ জুয়াড়ি
নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক ২
অপহরণের অভিযোগে আটক নারীসহ ৬

শেয়ার করুন