তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাবে রাজধানী

তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে গত মঙ্গলবার রাজধানীর অনেক এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ফাইল ছবি

তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাবে রাজধানী

গত বছরের শেষে ওয়াসা থেকে খালগুলো বুঝে নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তখন বলা হয়েছিল, খালগুলো পরিষ্কার করা হলে ঢাকায় জলাবদ্ধতা থাকবে না। গত পাঁচ মাসে এ নিয়ে কাজ করেছে দুই সিটি করপোরেশন। তবে বর্ষার আগেই মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় নগরের রাস্তা।

তিন ঘণ্টা ধরে বৃষ্টি হলে রাজধানীতে বড় ধরনের জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন নগরবিদরা। মঙ্গলবার সকালে টানা তিন ঘণ্টার বৃষ্টির পর নগরের জলাবদ্ধতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠে এসেছে।

নগরবিদরা জানিয়েছেন, টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে হাঁটুপানির নিচে থাকবে রাজধানী। ঢাকায় এখন যে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা রয়েছে, তাতে দুই ঘণ্টার বৃষ্টির পানি বের করে দেয়ার সক্ষমতা নেই।

তবে ঢাকায় মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে পানি জমে থাকাকে জলাবদ্ধতা বলতে রাজি নন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাবদ্ধতার কোনো সংজ্ঞা নেই। ঢাকায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

গত বছরের শেষে ওয়াসা থেকে খালগুলো বুঝে নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তখন বলা হয়েছিল, খালগুলো পরিষ্কার করা হলে ঢাকায় জলাবদ্ধতা থাকবে না। গত পাঁচ মাসে এ নিয়ে কাজ করেছে দুই সিটি করপোরেশন। তবে বর্ষার আগেই বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় নগরের রাস্তা।

জলাবদ্ধতার কারণ

নিউজবাংলা থেকে জানার চেষ্টা করা হয়েছে ঢাকায় কেন জলাবদ্ধতা হয় বা এর কারণ কী।

শনিবারের আকস্মিক বৃষ্টিপাত নিয়ে স্থপতি ইকবাল হাবিব নিউজবাংলাকে বলেন, সাধারণত ১০০ মিলিমিটারের নিচে যদি বৃষ্টি হয়, আর তার ফলে জল জমে থাকাকে জলজোয়ার বলা হয়ে থাকে। এ ছাড়া ১০০ মিলিমিটারের উপরের দুই থেকে তিন ঘণ্টা টানা বৃষ্টিতে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাবে রাজধানী
গত মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে পানিতে ডুবে যায় রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকা। ফাইল ছবি

সিটি করপোরেশনগুলোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইকবাল হাবিব।

তিনি বলেন, এমন টানা বৃষ্টি হলে সেই পানি বের করে দেয়ার মতো সক্ষমতা বর্তমান দুই সিটির ড্রেনেজ পদ্ধতিতে নেই। এর থেকে বেশি বৃষ্টি হলে পুরো ড্রেনব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে নতুন করে ড্রেন প্রসারিত করতে হবে, যেটি এই মুহূর্তে সম্ভব না।

দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতার কারণ কী হতে পারে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এর আগে কেউ এ ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। নগরবাসী প্রতারিত হয়েছে। প্রকল্প নেয়া হলেও তা খণ্ডিতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে জনসংযোগ না থাকায় কাজ শেষে জনগণের স্বার্থে কিছুই হয়নি।

একই রকম কথা জানালেন আরেক নগরবিদ আখতার মাহমুদ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে জলাবদ্ধতার কোনো সংজ্ঞা নেই। তবে জল নিষ্কাশনের জন্য সময় ও বৃষ্টির পরিমাণটা বড় বিষয়।

‘মাত্র তিন ঘণ্টায় যদি ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, তবে ঢাকা শহরের যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা আছে, সেই পানি সঙ্গে সঙ্গে অপসারণের অবস্থা নেই। সে রকম ড্রেনেজ ক্যাপাসিটি এই মুহূর্তে নেই।’

দুইটি সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মূলত জলনিষ্কাশন ও কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন বেশি জরুরি। সেটি অবশ্য সিটি করপোরেশনের দায়। আজকে অনেকগুলো পকেট জায়গাতে পানি জমে ছিল। আর এর কারণ ড্রেনগুলো বন্ধ থাকে। ফলে পানি খালে গিয়ে পৌঁছাতে পারে না। যদি তারা এটি পরিষ্কার করতে পারে, তবে পানি সহজে নেমে যাবে। মূলত নালাগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।’

খালগুলো নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকাতে যে খাল ও ড্রেন আছে তা অপরিষ্কার থাকার কারণে বৃষ্টির পানি খালে যেতে দেরি হয়। অনেক বেশি পানি হলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সিটি করপোরেশনের এই খালগুলো পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব। তাদের কাজ হবে দুইটি। জলাবদ্ধতা নিরসন ও কঠিন বর্জ্য সরানো। এটি যদি সময়মতো করা হয়, তবে অনেক বেশি পানি না হলে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে না।

ঢাকার খালগুলোর কী অবস্থা

গত বছর ঢাকার খালগুলো নিয়ে গবেষণা করেছে গবেষণা সংস্থা রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার। তাদের দুটি জরিপে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, স্বাধীনতারকালেও ঢাকা জেলায় নদীর সংখ্যা ছিল ১৫। ঢাকা মহানগরী এলাকায় খাল ছিল ৭৫টি। এর মধ্যে আঁটি, কনাই, দোলাই, পান্ডো ও নড়াই নদীর কোনো হদিস বর্তমানে পাওয়া যায় না।

ঢাকাকে ঘিরে রাখা বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও টঙ্গী নদীর মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী ১৭টি খালও হারিয়ে গেছে। গত ৫০ বছরে এসব নদী ও খালের বুকের ওপর গড়ে উঠেছে বড় বড় অট্টালিকা।

তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাবে রাজধানী
বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি পেতে যাত্রীদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকার জলাবদ্ধতার প্রথম কারণ অপরিকল্পিতভাবে ঢাকার ওয়েট ল্যান্ডগুলো (জলাভূমি) ভরাট করা হয়। যতগুলো হাউজিং করা হয়েছে এর কোনোটাই ওয়াটার মডেলিং করা হয়নি। এটি না করার কারণে পানির জায়গাটা ভরাট হয়ে গিয়েছে।’

নতুন নতুন হাউজিং প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে এই গবেষক বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি হাউজিংগুলো ওয়েট ল্যান্ড ও খাল দখল করে করা হয়েছে। ঢাকার খালগুলো এখন অধিকাংশ ভরাট হয়ে গেছে। বাকি যেগুলো আছে তার ৭০ ভাগ দখল হয়ে আছে। বৃষ্টির পানি খালে যেতে না পারার কারণে জলাবদ্ধতা হচ্ছে।’

খাল উদ্ধারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনই দ্রুত খাল দখলমুক্ত করতে ডিমার্কেশন প্লান দিতে হবে। তা না হলে ঢাকাতে বসবাস করা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। খালগুলো বক্স কালভার্ট করা হয়েছে, যার ফলে সেখানে বোতল ও পলিথিন জমে পানি আটকে থাকে।’

জলাবদ্ধতা নিরসনের অংশ হিসেবে গত বছর ঢাকা ওয়াসা শহরের ২৬টি খাল (প্রায় ৮০ কিলোমিটার) এবং প্রায় ৩৮৫ কিলোমিটার বড় আকারের নালা ও চারটি পাম্প স্টেশন দুই সিটিকে বুঝিয়ে দিয়েছে। আগে থেকেই দুই সিটি করপোরেশন প্রায় ২ হাজার ২১১ কিলোমিটার নালা দেখাশোনা করে আসছে।

কী বলছে কর্তৃপক্ষ

গত শনিবারের জলাবদ্ধতার পর ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ওয়াসার কাছ থেকে খালগুলোর দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর ২ জানুয়ারি থেকে জিরানি, মান্ডা, শ্যামপুর, কালুনগর খালসহ এগুলোর শাখা-প্রশাখা এবং পান্থপথ ও সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট থেকে আমরা বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছি।’

মেয়র বলেন, ‘ইতোমধ্যে এসব খাল ও বক্স কালভার্ট থেকে আমরা ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনের বেশি বর্জ্য ও ৬ লাখ ৭৯ হাজার মেট্রিক টন পলি অপসারণ করেছি। এ ছাড়া ওয়াসার কাছ থেকে বুঝে পাওয়া অচল দুটি পাম্প স্টেশনের তিনটি পাম্প মেশিন সচল করতে সক্ষম হয়েছি এবং বাকি তিনটি সচল করতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া ওয়াসার কাছ থেকে পাওয়া বদ্ধ নর্দমা ও আমাদের উন্মুক্ত নর্দমাগুলো পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে এবং এই জুনের মধ্যেই তা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।’

মেয়র বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রমের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেটগুলো দ্রুত আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হোক। তা এখনও হয়নি। এ ছাড়া ডিএনডি বাঁধ, হাতিরঝিল প্রকল্প, মেট্রোরেলের কার্যক্রমের ফলে জলাবদ্ধতার সম্পূর্ণ সমাধান এখন পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব না হলেও অতীতের মতো ঢাকাবাসীকে কোথাও কোমরপানি বা গলাপানিতে নাজেহাল হতে হয়নি।’

এ সময় তাপস জলাবদ্ধতার সংজ্ঞা হিসেবে বলেন, ‘সাধারণত কোনো স্থানে তিন ঘণ্টার বেশি পানি জমে থাকাকে জলাবদ্ধতা হিসেবে চিত্রিত করা হয়। আজকের বৃষ্টিতে আমরা তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রায় শতভাগ পানি নিষ্কাশন করতে সক্ষম হয়েছি।’

জলাবদ্ধতা নিয়ে নিউজবাংলার পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাকে মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠালেও কোনো জবাব আসেনি।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে মানতে নারাজ তাপস
বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চাঁন-জাদু ও ব্যান্ডেজের ৫ জন গ্রেপ্তার

চাঁন-জাদু ও ব্যান্ডেজের ৫ জন গ্রেপ্তার

কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে পুলিশের মতিঝিল বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতরা গ্যাং কালচারের নামে নিজেদের হিরোইজম প্রদর্শন করতো। তারা পরিবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সমাজে অরাজকতা তৈরি করতো। দল বেঁধে চলাফেরা করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাদের নির্দিষ্ট গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারিতে লিপ্ত হতো। মেয়েদের ইভটিজিং করতো।

রাজধানীর মুগদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা মুগদা এলাকার ‘চাঁন-জাদু’ ও ‘ব্যান্ডেজ’ গ্রুপের সদস্য।

মুগদা থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার এ নিয়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয় বিস্তারিত।

গ্রেপ্তার কিশোররা হলেন চাঁন-জাদু গ্রুপের নেতৃত্বদানকারী মো. জাদু, মো. রবিন ও নয়ন ইসলাম শুভ এবং ব্যান্ডেজ গ্রুপের মো. হিরা ও মো. রিপন।

ব্রিফিংয়ে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার আবদুল আহাদ জানান, জাদু-চাঁন ও ব্যান্ডেজ গ্রুপ ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের দুটি সক্রিয় গ্যাং। তাদের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে একটা তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত সবাইকে গ্রেপ্তারে মতিঝিল বিভাগ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা গ্যাং কালচারের নামে নিজেদের হিরোইজম প্রদর্শন করতো। তারা পরিবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সমাজে অরাজকতা তৈরি করতো। দল বেঁধে চলাফেরা করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। বিভিন্ন স্থানে তাদের নির্দিষ্ট গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারিতে লিপ্ত হতো। মেয়েদের ইভটিজিং করতো।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্যাং দুটির সদস্যরা বিভিন্ন অনলাইন গেমের নামে সমবয়সী কিশোরদের সংঘবদ্ধ করে জুয়া খেলার ব্যবস্থা করতো। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও সিঁধেল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হওয়ার তথ্য আছে পুলিশের হাতে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মুগদা থানায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে বলে জানান আবদুল আহাদ।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে মানতে নারাজ তাপস
বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হলে গরুর গাড়ি দিয়ে রাজপথ বন্ধের হুমকি দিয়েছে সিপিবি। ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভ সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব। রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে না দিলে রাজপথে গরুর গাড়ি চালানোর হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সমানে বুধবার রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ হুমকি দেন।

সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সরকারি ঘোষণার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এতে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, পরিবহন শ্রমিকনেতা হযরত আলী, রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাদৎ খাঁ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম নাদিমসহ অনেকে।

বিক্ষোভ সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব।

‘রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

আরও পড়ুন: সারা দেশে বন্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান

তিনি বলেন, ‘রিকশার গতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ব্রেক কীভাবে আরেকটু উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমাকে দায়িত্ব দিলে রিকশাচালক ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করে সেসব ব্যবস্থা করে দেব। কিন্তু অহেতুক অজুহাত তুলে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ইজিবাইক বন্ধ করা চলবে না।’

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

সমাবেশে বলা হয়, সারা দেশে লাখ লাখ রিকশাচালক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে অথবা সম্পত্তি বন্ধক রেখে ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনেছেন। এই রিকশা শ্রমিকদের অমানবিক শ্রম লাঘব করেছে। গণপরিবহন হিসেবে দেশের শহর কিংবা গ্রামে রিকশা অপরিহার্য। এ অবস্থায় সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করে চালকদের পথে বসিয়ে দিতে চাইছে।

এতে এক বক্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাহন বলে আমরা রিকশা নিয়ে গর্ব করে থাকি। দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে পাঁচ তারকাবিশিষ্ট হোটেলগুলোতে রিকশার ঝলমলে প্রদর্শনী হয়।

‘প্রবাসী বাঙালিরা পরিবেশবান্ধব যানটিকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন।’

শ্রমিকনেতারা বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তে সারা দেশে অন্তত পাঁচ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হয়ে যাবে। ‘অমানবিক’ এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

তাদের ভাষ্য, বুয়েট প্রস্তাবিত রিকশাবডি, এমআইএসটি উদ্ভাবিত গতি নিয়ন্ত্রক, উন্নত ব্রেকসহ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন দিতে হবে। রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স দিতে হবে। সমস্যার যুক্তিসংগত সমাধানে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে মানতে নারাজ তাপস
বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার পথে আগা খানও

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার পথে আগা খানও

ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া আগা খান মিন্টু

ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মোস্তাকুর রহমান, বিএনএফের কে ওয়াই এম কামরুল ইসলাম ও জাসদের আবু হানিফ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে আগা খান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৪ আসনে উপনির্বাচনে তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আগা খান মিন্টু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহজালাল বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মোস্তাকুর রহমান, বিএনএফের কে ওয়াই এম কামরুল ইসলাম ও জাসদের আবু হানিফ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে আগা খান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ জুলাই।

এর মধ্যে কুমিল্লা-৫ আসনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেম খান। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় আসনটিতে আর ভোট হচ্ছে না।

তবে ২৮ তারিখের উপনির্বাচনে ভোট হবে সিলেট-৩ আসনে। সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে লড়বেন জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) আতিকুর রহমান আতিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে মানতে নারাজ তাপস
বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

ঢাকায় নতুন বিধিনিষেধের পরিকল্পনা নেই

ঢাকায় নতুন বিধিনিষেধের পরিকল্পনা নেই

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে সারা দেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার সংক্রমণের মাত্রা কমে আসবে। ফাইল ছবি

ঢাকাকে আশপাশের জেলাগুলো থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছে। ফলে ঢাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে এসেছে। কিন্তু সংক্রমণ বাড়তে থাকলে আবারও বিধিনিষেধ দেয়া হতে পারে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে সারা দেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। রাজধানীকে ঘিরে রাখা সাত জেলায় চলছে কঠোর লকডাউন। বন্ধ রাখা হয়েছে সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন।

এই লকডাউন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ঢাকাতে নতুন করে লকডাউন দেয়ার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে বুধবার এ কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকার চারপাশে যেসব জেলা থেকে করোনা রোগী আসার আশঙ্কা ছিল, সেই স্থানগুলোতে লকডাউন দেয়া হয়েছে। সেই সব জেলা থেকে যদি ঢাকাতে রোগী আসা আমরা বন্ধ করতে পারি, তাহলে ঢাকায় লকডাউন দেয়ার দরকার হবে না।

‘তবে পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঢাকার চারপাশ থেকে যদি রোগী আসতে থাকে, তাহলে এমন না-ও হয়ে পারে। ঢাকার করোনা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে লকডাউনের প্রয়োজন হবে। বর্তমান সময়ে ঢাকাকে রক্ষা করতে আশপাশে জেলাগুলোতে লকডাউনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে করে ঢাকামুখী মানুষের চাপ একটু হলেও কমে আসছে।’

বর্তমানে করোনা দ্বিতীয় না তৃতীয় ঢেউ চলছে, এমন প্রশ্নের জবাবে রোবেদ আমিন বলেন, ‘আমরা এখনও করোনা দ্বিতীয় ঢেউ শেষ করেতে পারিনি। কিন্তু আমরা যদি সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে রেখে দিতে পারতাম, তাহলে করোনা পরিস্থিতি ভালো থাকতো। এমন পরিস্থিতি যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহ রেখে দিতে পারতাম, তাহলে ভালো হতো। কিন্তু আমার সেটা পারিনি। যে কারণে এটাকে দ্বিতীয় ঢেউ অথবার তৃতীয় ঢেউ যা-ই বলেন না কেন, সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে—এটা ভালো খবর নয়।’

সারা দেশে লকডাউনের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনা গঠিত কারিগরি কমিটি এখন সারা দেশ নতুন করে লকডাউনের পরার্মশ দেয়নি। সারা দেশে লকডাউন তখনই দেয়া হবে যখন সারা দেশে সংক্রমণের হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হবে। এটা এখনও হয়নি। এ ছাড়া কোনো স্থানে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে স্থানীয়ভাবে সেই সব এলাকায় লকডাউন দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ঢাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে মানতে নারাজ তাপস
বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

‘নর্দমার পানি সরাসরি খালে নিতে নকশা তৈরি করব’

‘নর্দমার পানি সরাসরি খালে নিতে নকশা তৈরি করব’

নর্দমার পানি সরাসরি খালে নিয়ে যেতে মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র বলেন, ‘নর্দমাগুলোর নকশা যেভাবে করা হয়েছে, তাতে ঢাকায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়, তার ধারণক্ষমতা সেগুলোর নেই। আমরা যে মহাপরিকল্পনা করছি, তার আওতায় সেভাবেই নকশা তৈরি করব, যাতে করে বৃষ্টির পানি সরাসরি খালে চলে যেতে পারে। পানি সরাসরি খালে চলে গেলে ইনশাল্লাহ আমাদের আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। এটা সম্ভব কিন্তু অত্যন্ত কঠিন কাজ।’

নর্দমার পানি সরাসরি খালে নিয়ে যেতে নকশা তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় নর্দমাগুলোর পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

সাপ্তাহিক নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার নগরীর মৌচাক-মালিবাগ রেলগেটের মাঝামাঝি ফরচুন শপিং মলের কাছে নর্দমা পরিষ্কারকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মেয়র বলেন, ‘আজ আমি যেখানে আসলাম, আপনারা দেখেছেন এখানে যেভাবে নর্দমা করা হয়েছে, তাতে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা যে মহাপরিকল্পনা করছি, তার আওতায় সেভাবেই নকশা তৈরি করব, যাতে করে বৃষ্টির পানি সরাসরি খালে চলে যেতে পারে। পানি সরাসরি খালে চলে গেলে ইনশাল্লাহ আমাদের আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। এটা সম্ভব কিন্তু অত্যন্ত কঠিন কাজ।’

ব্যারিস্টার শেখ তাপস আরও বলেন, ‘নর্দমাগুলোর নকশা যেভাবে করা হয়েছে, তাতে ঢাকায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়, তার ধারণক্ষমতা সেগুলোর নেই। সুতরাং আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম হাতে নিতে হবে, বন্দোবস্ত করতে হবে এবং মূল নর্দমা, নালা, প্রশাখাগুলো- সবগুলো নতুনভাবে নকশা করতে হবে।’

‘বৃষ্টির পানি ধারণক্ষমতা আমাদের বাড়াতে হবে। আমরা এখন যে ধারণক্ষমতা দেখি, তাতে এক পশলা বৃষ্টি হলেই পানি যাওয়ার সুযোগ থাকে না, নর্দমাগুলো উপচে পড়ে।’ এমন মন্তব্য করেন ডিএসসিসি মেয়র।

‘নর্দমার পানি সরাসরি খালে নিতে নকশা তৈরি করব’

নগরীর মৌচাক-মালিবাগ রেলগেট এলাকায় নর্দমা পরিষ্কারকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ছবি: নিউজবাংলা

মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কীটনাশক ও তেল চুরিরোধে কর্মপরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং তদারকি জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস ।

এরপরে ঢাকা সিটি মেয়র খিলগাঁও রেলগেট কাঁচাবাজার, বিনত বিবি'র মসজিদ, সিক্কা টুলি পার্ক পরিদর্শন করেন। তার আগে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন তিনি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের ও মুন্সি আবুল হাশেমসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে মানতে নারাজ তাপস
বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

জামিন পেলেও বিদেশ যেতে পারবেন না ডিআইজি পার্থ

জামিন পেলেও বিদেশ যেতে পারবেন না ডিআইজি পার্থ

ঘুষের ৮০ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়েন পার্থ বণিক। ছবি: নিউজবাংলা

ঘুষের ৮০ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনায় করা মামলায় গত ১৮ জুন জামিন পেয়েছেন পার্থ বণিক। দুদকের আবেদনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ বিচারাধীন। তিনি বিদেশ চলে যেতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ঘুষ গ্রহণ ও অর্থপাচার মামলার পর সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) পার্থ গোপাল বণিকের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে বুধবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ইকবাল হোসেন এ আদেশ দেন। পার্থর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদনটি করেন দুদকের বিশেষ পিপি মোশারফ হোসেন কাজল ।

ঘুষের ৮০ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনায় করা মামলায় গত ১৮ জুন জামিন পেয়েছেন পার্থ বণিক।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ বিচারাধীন। তিনি বিদেশ চলে যেতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি যাতে বিদেশ যেতে না পারেন সেজন্য পুলিশের বিশেষ শাখাকে (এসবি) নির্দেশ দেয়া জরুরি।

শুনানি শেষে আদালত এসবিকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের নির্দেশ দেয়। সেইসঙ্গে সব বন্দরের ইমিগ্রেশনকে আদেশের অনুলিপি দিতে বলে।

পার্থ গোপাল বণিক গত ১৭ জুন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ইকবাল হোসেনেরই ভার্চুয়াল আদালত থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। পরদিন সকালে মুক্তি পান।

এরপর ২১ জুন দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, পার্থ বণিকের জামিন বাতিলে উচ্চ আদালতে যাবে দুদক।

তিনি বলেন, ডিআইজি প্রিজন্স থাকা অবস্থায় পার্থ বণিকের বাড়িতে ৮০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে টাকাটা অবৈধ বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। সেই মামলার বিচারকাজ চলছে।

‘গত বৃহস্পতিবার পার্থর হিয়ারিং হয়েছে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে জামিন হয়েছে। আমি মনে করি, তার জামিনের বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নেয়া উচিত এবং জামিনটা যাতে বাতিল করা যায় সেজন্য আমাদের কার্যক্রম চলছে।’

কার্যক্রমটা কীভাবে করবেন জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পার্থর যে জামিন হয়েছে, সেটা বাতিলের জন্য আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ৪ নভেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১৫ ডিসেম্বর।

চার্জশিটে বলা হয়, পার্থ বণিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন বলে দুদকের অনুসন্ধান টিম তথ্য পায়। ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই পার্থ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এসে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য দেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ জানান, তার বাসায় নিজ হেফাজতে ৩০ লাখ টাকা রয়েছে। তবে অর্থের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। তাৎক্ষণিকভাবে পার্থকে নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান টিম ঢাকার কলাবাগান গ্রিন রোডে আবাসিক এলাকায় তার বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরদিন পার্থ বণিকের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে সেদিনই দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) পার্থর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চার্জশিটে ১৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে মানতে নারাজ তাপস
বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

রুমমেটকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা

রুমমেটকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা

নদীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার রুমমেট মারিয়াম খানম। তিনি জানান, নদী ও তিনি মালিবাগের বাসায় সাবলেট ভাড়া থাকেন। তারা দুজনই বনশ্রী এলাকায় একটি বোরকা হাউসে চাকরি করতেন। আজ তিনি কাজে গেলেও নদী যাননি। বেলা ৩টার দিকে নদী তাকে ভিডিও কল দিয়ে বাসায় আসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর ভিডিও কলে রেখেই নদী ফ্যানের সঙ্গে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে তিনি নিজেই বাসায় এসে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

রাজধানীর মালিবাগের গুলবাগ এলাকার একটি বাসায় রুবিনা ইয়াছমিন নদী নামের এক তরুণীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার তথ্য মিলেছে।

তার রুমমেট জানান, তাকে ভিডিও কলে রেখে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস দেন ২২ বছর বয়সী নদী।

বুধবার বেলা ৩টার দিকে মালিবাগের গুলবাগের একটি বাসায় ঘটনাটি ঘটে। অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নদীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার রুমমেট মারিয়াম খানম। তিনি জানান, নদী ও তিনি মালিবাগের বাসায় সাবলেট ভাড়া থাকেন। তারা দুজনই বনশ্রী এলাকায় একটি বোরকা হাউসে চাকরি করতেন। আজ তিনি কাজে গেলেও নদী যাননি।

বেলা ৩টার দিকে নদী তাকে ভিডিও কল দিয়ে বাসায় আসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর ভিডিও কলে রেখেই নদী ফ্যানের সঙ্গে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে তিনি নিজেই বাসায় এসে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

মারিয়াম জানান, দুই বছর আগে সম্পর্ক করে সামিউল নামে একটি ছেলেকে বিয়ে করেন নদী। কিন্তু তার পরিবার এ বিয়েতে রাজি ছিল না। কিছুদিন পরেই তার বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

এর পর থেকে পরিবারের সঙ্গে নদীর তেমন সম্পর্ক ছিল না। আর বিষয়টি নিয়ে তিনি ভীষণ বিরক্ত ছিলেন।

নদীর খালাতো বোন তামান্না আক্তার জানান, তাদের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলায়। বাবার নাম রফিকুল ইসলাম। নদীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে আসেন।

কিন্তু কী কারণে নদি গলায় ফাঁস দিয়েছেন, তা বলতে পারেনি তিনি।

এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে নদী ছিলেন বড়।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহজাহানপুর থানাকে জানানো হয়েছে।

শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক তমা বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে এসেছি। লাশ কী অবস্থায় ছিল, কীভাবে ঘটেছে, তা জানার চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন:
ঢাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে মানতে নারাজ তাপস
বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সড়ক, সাভারে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন